আজঃ শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪
শিরোনাম

মেহেরপুরে ভেজাল বীজে কপাল পুড়লো বাঁধাকপি চাষিদের

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
আব্দুল আলিম, মেহেরপুর

Image

মেহেরপুর সদর উপজেলার চকশ্যামনগর-বন্দর মাঠে ভেজাল বীজে ফলন বিপর্যয় ঘটেছে বাঁধাকপিতে। নিম্নমানের বীজ সরবরাহ করায় প্রায় একশ বিঘা জমির বাঁধাকপির পাতা না বাঁধায় মাথায় হাত চাষিদের। এতে অন্তত প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন কৃষকরা। জেবিটি সিডসের রাজাসান বাঁধাকপির বীজ কিনে এধরণের ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা।

সরেজমিনে চকশ্যামনগর-বন্দর মাঠে দেখা যায়, নিম্নমানের বীজ সরবরাহ করায় মাঠের পর মাঠ বাঁধাকপির আবাদ হলেও কপির পাতা বাঁধেনি। কপির পাতা কুকড়িয়ে ও পঁচে যাচ্ছে। জেবিটি সিডসের রাজাসান কপির বীজ কিনে চাষিরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কপির পাতা না বাঁধার কারণে অনেকে কপি নষ্ট করে জমি চাষ দিচ্ছেন অন্য ফসল আবাদ করার জন্য।

চাষিরা জানায়, স্থানীয় চকশ্যামনগর-বন্দর এলাকার সার ব্যবসায়ী আনারুলের কাছে থেকে জেবিটি সিডসের সরবরাহকৃত রাজাসান বীজ ব্যবহার করা হয়। বীজ থেকে গাছ জন্মালেও এখন পাতা বাঁধছে না। অন্যরা অন্যান্য কোম্পানির দেওয়া বীজ রোপন করে তারা বাঁধাকপি বাজারে তুলেছেন। অথচ জেবিটি কোম্পানির রাজাসান কপি আজও পাতা বাঁধেনি।

চাষিরা আরও জানান, একেকটি গাছের ৩-৪টি ডগা গজিয়েছে। আবার অনেকটা পাতা কোকড়ানো। পাতা পচে যাচ্ছে। সার বীজ দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। বিঘাপ্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এ কপি চাষে। চাষিদের দাবি বীজ ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসলে তাদের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে আসবে।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক কালু মন্ডল বলেন, স্থানীয় বীজ ডিলার আনারুলের কাছে রাজাসান জাতের  বীজ কিনে এক বিঘা জমিতে কপি রোপন করি। এতে আমার ১২ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। অন্যরা কপি বিক্রি করলেও আমার কপি এখনও পাতা বাঁধেনি। উপায় না পেয়ে সমস্ত চারা ভেঙ্গে জমি চাষ দিয়েছি। এখন অন্য জাতের বাঁধাকপি বা অন্য ফসল করতে হবে।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মিলন বলেন, ১৫ হাজার টাকায় জমি লীজ নিয়ে আনারুলের কাছ থেকে রাজাসান জাতের বীজ নিয়ে কপি আবাদ করেছিলাম। কপিতেও ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। এখন কপির পাতা বাঁধছেনা। কপির পাতা কুকড়ে যাচ্ছে, পচে যাচ্ছে। আনারুল আমাদের আসল রাজাসান বীজের কথা বললেও এখন দেখছি এগুলো ভেজাল বীজ। এমন অবস্থায় আমরা প্রতিকার চাই।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আনিছদ্দিন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে কপি চাষ করে আসছি। অন্যান্য জাতের কপি চাষ করি। এ বছরে আনারুল রাজাসান কপি ভালো বলে প্রচার প্রচারণা চালালে আমি আনারুলের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করি। ১ মাস ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কপির পাতা বাঁধেনি। এবিষয়ে আনারুলকে অবগত করলেও কোন ব্যবস্থা হচ্ছে না। মাঠে অন্য জাতের কপি বেচাকেনা চলছে। কিন্তু আমাদের কপি এখনও পাতাই বাঁধেনি। আমরা বড় ক্ষতির মধ্যে পড়েছি। কি করবো আমরা। এ অবস্থায় ক্ষতি পুরুন দাবী করেন ক্ষতিগ্রস্থ আবাদিরা।

আরেক ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক নাজের আলী বলেন, আমি গত চার বছর যাবৎ রাজাসান কপি চাষ করছি। গত বছরে ভালো ফলন পেয়েছিলাম। এবছরে মেহেরপুর বড়বাজারের সুমনা বীজ ভান্ডার থেকে বীজ সংগ্রহ করেছি। সুমন বলেছিল বীজের দাম একটু বেশি লাগবে কিন্তু বীজ ১ নম্বর হবে। তার কথামতো বীজ নিয়ে চারা দিই কিন্তু আজ ৩৭ দিন পার হলেও কপির পাতা বাঁধার কোন আকার দেখতে পাচ্ছি না। এই কপি চাষে আমি ৬০ হাজারের উপরে খরচ করেছি। আমি ধারদেনা করে কপিতে খরচ করেছি।

এ বিষয়ে আনারুল ইসলাম বলেন, মূলত সার ও বিষের ব্যবসা। মেহেরপুর বড় বাজারের সুমনা বীজ ভান্ডার থেকে বীজ এনে চাষীদের দিয়েছিলাম। কপির পাতা বাঁধেনি বিষয়টি শুনেছি। এবিষয়ে সুমনের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে কিন্তু তার কোন সাড়া মিলছে না। বিভিন্ন ভাবে সে সময় ক্ষেপন করছে।

সুমনা বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সুমন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কোন বীজ বিক্রিই করিনি। যে চাষী এ সব কথা বলেছে তাকে চিনি না।

মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, চাষিদের কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি। চাষিদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরও খবর



সাপে কামড়ের পর ওঝার ঝাড়ফুঁক, অতঃপর মৃত্যু

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
শাওন মিয়া (জাজিরা) শরীয়তপুর

Image

শরীয়তপুরের জাজিরায় বিষধর সাপের কামড়ে রহিমা বেগম (৬২) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ জুন) দুপুরে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের ইয়াসিন আকন কান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া বৃদ্ধা রহিমা বেগম একই এলাকার নুর মোহাম্মদ তালুকদারের স্ত্রী।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার দুপুরে পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার রান্না করছিলেন রহিমা বেগম। এসময় তার বাম পায়ে একটি বিষধর সাপ কামড় দেয়। তিনি চিৎকার দিলে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে আজিমউদ্দিন মোড়ল নামের এক স্থানীয় ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থা খারাপ হলে, জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছেলে রহমান তালুকদার বলেন, সাপে কামড় দিলে মাকে স্থানীয় ওঝা আজিমউদ্দিন মোড়লের কাছে নিয়ে যাই। তিনি ঝাড়ফুঁক দেওয়ার এক পর্যায়ে মায়ের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাপে কামড়ের সঙ্গে সঙ্গে যদি মাকে ওঝার কাছে না নিয়ে হাসপাতালে যেতাম, তাহলে হয়তো আমার মাকে বাঁচাতে পারতাম।

এ ব্যাপারে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ কবির আলম বলেন, সাপে কামড়ানো এক বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করি। তার বাম পায়ে সাপে কামড়ের ক্ষতস্থান দেখে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে রাসেলস ভাইপার সাপের কামড়ের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান বলেন, সাপের কামড়ে বৃদ্ধার মৃত্যুর বিষয়ে অপচিকিৎসা সংক্রান্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরও খবর



বেনজীর আর সময় পাবেন না: দুদক আইনজীবী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

পু‌লিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ আগামী রোববার (২৩ জুন) দুর্নী‌তি দমন ক‌মিশনে (দুদক) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির না হলে তাকে আর সময় দেওয়া হবে না। দুদক আইন ও বিধিতে দ্বিতীয়বার সময় দেওয়ার এখতিয়ার নেই।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন দুদকের প্রধান আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

তিনি বলেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান জোরেশোরে চলছে। তার বিরুদ্ধে আরও অপরাধলব্ধ সম্পদের প্রমাণ মিলেছে বলে জানান দুদক আইনজীবী।

গত ৬ জুন পু‌লি‌শের সা‌বেক মহাপরিদর্শক (আইজি‌পি) বেনজীর আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন তারিখ দেয় দুর্নী‌তি দমন ক‌মিশন (দুদক)। ২৩ জুন তাকে দুদকে হাজির হতে বলা হয়। দুদ‌কের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ‌্য জানান সংস্থাটির স‌চিব খোরশেদা ইয়াসমীন।

দুদক সচিব ব‌লেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুদক তলব করলেও শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় ২৩ জুন নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে দুদক।

গত ২৮ মে বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। সেই নোটিশে বেনজীরকে ৬ জুন এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের ৯ জুন দুদকে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ৫ জুন রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের কার্যালয়ে বেনজীরের পক্ষে তার আইনজীবী আরও ১৫ দিনের সময় চান। দুদকের উপ-পরিচালক বরাবর সময় চেয়ে আবেদনটি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন এ তারিখ দেওয়া হয়েছে।

বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায় ৬২১ বিঘা জমি, ঢাকার গুলশানে ৪টি ফ্ল্যাট, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব, ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ৩টি বিও হিসাব (শেয়ার ব্যবসা করার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) এবং ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের সন্ধান পেয়েছে দুদক। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব সম্পদ জব্দ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতের ওই আদেশ আসার আগেই গত ৪ মে বেনজীর আহমেদ দেশ ছেড়েছেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানিয়েছে।


আরও খবর



গোয়েন্দা নজরদারিতে টিকিট কালোবাজারিরা: র‍্যাব

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম বলেছেন, টিকিট কালোবাজারি চক্রের বিরুদ্ধে র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। এ বছরের পর কালোবাজারি আর থাকবে না। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সকালে ঈদযাত্রা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

র‍্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, এ বছর দূরপাল্লার (আন্তঃনগর) ট্রেনের শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া যাত্রার দিন ২৫ ভাগ আসনবিহীন টিকিট বিক্রি চলছে।

তিনি বলেন, ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে প্রতিটি স্টেশনে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মোবাইল ট্র্যাকিং চালু রাখা হয়েছে। বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে কাজ করছে র‍্যাব।

র‍্যাব জনগণের পাশে আছে জানিয়ে এরপর তিনি বলেন, প্রতিটি বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল, রেলস্টেশনে আমাদের ওয়াচ টাওয়ার, কন্ট্রোল রুম রয়েছে, মোবাইল টিম রয়েছে। যেকোনো ধরনের অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যাত্রীদের অনুরোধ করবো আপনাদের যেকোনো অভিযোগ থাকলে জানান, র‌্যাব আপনার পাশেই আছে।

এ র‍্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, রেল কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে আছেন। যাত্রীদের হয়রানি বিশেষ করে নারী হয়রানি যেন না হয় সে বিষয়ে র‌্যাব কাজ করে যাবে। বিভিন্ন অজ্ঞানপার্টি, মলম পার্টির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে। যাত্রাকালে আপনারা অপরিচিত কারও সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলবেন না।


আরও খবর



২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্য বাজেট কেমন হওয়া উচিত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ

Image

আমরা জানি, স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ না করলে স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান অবস্থার উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্নীতিমুক্ত করে চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসা সহায়কদের গুণগত মান উন্নয়ন করে স্বাস্থ্য সেবায় আমূল পরিবর্তন করা সম্ভব।

দ্যা শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ জাতিসংঘে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধিতে যথাসাধ্য অবদান রেখেছে। কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবার শক্ত ভিত গড়ে তুলতে পারলেই এই খাতে পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব। বাংলাদেশে গত দুই দশকে বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দ রয়েছে মোট জিডিপির ১ শতাংশেরও কম। যা মালদ্বীপে ৯.১৪% , ভারতে ১.১% , কিন্তু বাংলাদেশে ০.৪৭% । স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে সরকার জিডিপি ২% বরাদ্দ রাখলে ভালো হয়, তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সুপারিশ করেছে মোট জিডিপির ৫% -এ উন্নিত করা। অবশ্যই পাঁচটি মৌলিক অধিকারের একটি হচ্ছে স্বাস্থ্য। সরকারের কাছে এই স্বাস্থ্য যদি অগ্রাধিকার প্রাপ্ত হয়, তাহলে স্বাস্থ্য খাতে অবশ্যই বাজে বৃদ্ধি করা উচিত বলে আমি মনে করি।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪০০ বিলিয়ন টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হলেও তা অপ্রতূল। কারণ মূল বাজেট ৮ লাখ কোটি টাকা - এর ১০% এর থেকেও ৪০০ বিলিয়ন টাকা অনেক কম। বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন বাজেটে জনগণের স্বাস্থ্য উন্নয়নে ১০% বরাদ্দ রাখার দাবি করে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ। এমতাবস্থায় গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৯ হাজার কোটি টাকা স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ছিল এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেট এর পরিমাণ ছিল ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ইকুইপমেন্ট দেখাশোনার জন্য বায়ো মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন। এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিৎ। চিকিৎসা সেবা, মেডিকেল শিক্ষা ও গবেষণার জন্য আলাদা অতিরিক্ত বাজেট দেয়া প্রয়োজন। ব্যাসিক সাবজেক্টে শিক্ষক-স্বল্পতা কাটিয়ে উঠতে হবে। এক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্তদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা যেতে পারে।

দ্যা শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ কমিউনিটি ক্লিনিক এর ধারণা জাতিসংঘের প্রশংসা অর্জন করেছে। ৭০টি দেশে এই কমিউনিটি ক্লিনিকের ধ্যান-ধারণা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ৩০টি ওষুধ কমিউনিটি ক্লিনিকে বিনামূল্যে দেওয়া হয়। কমিউনিটি ক্লিনিকের এই স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহায়তা প্রদান করতে হবে। এছাড়া উপজেলা ও জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে। হেলথ কার্ড এবং স্বাস্থ্য বীমা প্রবর্তনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতকে আরো উন্নত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে অটোমেশনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি করা প্রয়োজন।

বাজেট বাড়ানো এবং তার ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পনা করে এবং বাজেট সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। অর্থাভাবে ইমার্জেন্সি সেবা দেওয়া না গেলেও স্বায়ত্তশাসন দেয়া প্রয়োজন। সীমিত বাজেট থাকা সত্ত্বেও, অপচয় ও দুর্নীতি রোধ করে দক্ষতা বাড়িয়ে বাজেটের অর্থ সর্বোচ্চ ব্যবহার করা সম্ভব - এ ব্যাপারে সামগ্রিক কৌশলগত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

আরও বেশি শক্তিশালী এবং গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতকে সুদৃঢ়করণ করে বাংলাদেশেই যেন সকল রোগীর চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব হয় তার ব্যবস্থা করতে হবে। সহজে যেন কেউ বিদেশে চিকিৎসা করার ব্যাপারে আগ্রহী না হয়, এ বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য কেউ যেন চিকিৎসা বঞ্চিত না হয় তার জন্য বিশেষ স্কিম চালু করা প্রয়োজন। এই বাজেটেই  এ সম্পর্কে নতুন নির্দেশনা আসলে ভালো হয়।

বারবার পাঁচবার নির্বাচিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সারা বিশ্বে এখন উন্নয়নের রোল মডেল। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, সমুদ্র বিজয়, মহাকাশ বিজয়, কর্ণফুলী টানেল, এক্সপ্রেসওয়ে, বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল এর ফলাফল পুরো জাতির কাছে দৃশ্যমান। তবে মানুষের চোখের আড়ালে রয়ে গেছে স্বাস্থ্য খাতে মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছরে উন্নিতকরণ। মাতৃমৃত্যু - শিশুমৃত্যুর হার কমেছে, MDG Award, Women Empowerment Award, South South Award সহ ১৬ টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার স্বাস্থ্যখাতে অর্জন করা গেছে, যা বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম সফলতা।  কমিনিটি ক্লিনিক "দ্যা শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ" হিসেবে জাতিসংঘে সমাদৃত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সহ ৫টি মেডিকেল স্থাপন করা হয়েছে, যাতে করে দেশের সকল রোগী দেশেই চিকিৎসা নিতে পারে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে লিভার, কিডনি, হৃদরোগ, ক্যান্সার, চক্ষু ও অন্যান্য সকল চিকিৎসা কম খরচে দেওয়া হয়। গ্রামাঞ্চলে ভিশন সেন্টার চক্ষু চিকিৎসায় অবদান রাখছে। কম খরচে মৌলিক চাহিদা পূরণ ও অসংক্রমুখ রোগ সমূহ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। পুষ্টি উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসূচক সমূহ ব্যাপক অগ্রগতি করা গেলে ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের পূর্বশর্ত স্মার্ট স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে হাসপাতালে কনসাল্টেন্ট নিয়োগ, উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে পর্যাপ্ত কন্সাল্টেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রান্তিক পর্যায়ে উন্নত করা প্রয়োজন।

সুস্থ জাতি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তোলার মূল চালিকাশক্তি। আগামী ২০২৪-২৫ বাজেটে মূল বাজেটের ১০% স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। যা চিকিৎসা সেবায়, স্বাস্থ্য শিক্ষায় ও গবেষণা উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে উপজেলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য প্রদান করা সম্ভব হবে। দেশের অগ্রগতি উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে, স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধির বিকল্প নাই।

লেখক: সদ্য সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়; ও সাবেক মহাসচিব, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন।


আরও খবর



ঈদের ছুটি শেষে আগামীকাল অফিস চলবে নতুন সময়সূচিতে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে আগামীকাল বুধবার খুলছে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। চাকরিজীবীরা প্রথম কর্মদিবস শুরু করবেন নতুন সময়সূচি অনুযায়ী।

বুধবার (১৯ জুন) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিস করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদনের পর গত ৬ জুন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, সরকার আগামী ১৯ জুন (পবিত্র ঈদুল আজহা পরবর্তী প্রথম কর্মদিবস) থেকে দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস সময়সূচি পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সরকার নির্ধারণ করল।

আরও বলা হয়, রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকারি অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। দুপুর ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি। শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, জরুরি পরিষেবাগুলো নতুন অফিস সময়সূচির আওতার বাইরে থাকবে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এবং ব্যাংক, বিমা ও অন্যান্য অর্থিক প্রতিষ্ঠানের সময়সূচি স্ব স্ব কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।

আগে সরকারি কর্মীরা সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিস করতেন। জ্বালানি সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে ২০২২ সালের ২৪ আগস্ট থেকে কর্মঘণ্টা কমিয়ে অফিস ও ব্যাংকের সময়সূচি বদলে দেয় সরকার। সে অনুযায়ী দুই বছরের বেশি সময় সব সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে।


আরও খবর
সাত নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে

বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24