আজঃ সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ জেলহত্যা দিবস

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৩ নভেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৩ নভেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
Image

জাতীয় চার নেতা বাঙালি জাতির ইতিহাসে এবং অন্তরের অন্তঃস্থলে চির জাগ্রত, চির অম্লান, চির ভাস্বর।

মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী চারনেতার হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই কেবল গুটিকতক অস্ত্রধারীর কাজ নয়, এটি ছিল জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করতে, দেশকে মুক্তি সংগ্রামের চেতনার বিপরীত দিকে নিয়ে যেতে স্বাধীনতার শত্রুদের ঘোরতর ষড়যন্ত্রের অংশ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেপ্তার করা হয় তার ঘনিষ্ঠ চার সহচর, মুক্তিযুদ্ধের শীর্ষ চার সংগঠক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে।

৩ নভেম্বর জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কময় দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী জাতীয় চারনেতা- স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

কারাগারের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন এই হত্যাকাণ্ড জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতা এবং তাদের হত্যার পেছনে ঘাতক চক্রের উদ্দেশ্য ছিল বাংলার মাটি থেকে আওয়ামী লীগের নাম চিরতরে মুছে ফেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস এবং বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা।

মহান মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস ক্রমাগত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জাতীয় চার নেতা। যুদ্ধের পাশপাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনাসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুনিপূন কূটনীতি চালিয়ে গিয়েছিলেন তারা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই সহচরদের  হাত ধরেই এসেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণার পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে।বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়ার কঠিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই চার নেতা। মুজিবনগর সরকারের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন তারা।

পৃথিবীর ইতিহাসে যে কোন যুদ্ধের ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করে তাদের নেতৃত্বের ওপর। হাইকমান্ডের সামান্য ভুলে পাল্টে যেতে পারে যুদ্ধের গতি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস ক্রমাগত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জাতীয় চার নেতা। যুদ্ধের পাশপাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনাসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুনিপূন কূটনীতি চালিয়ে গিয়েছিলেন তারা। তাদের হাত ধরেই এসেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

এই চার নেতা একই ভাগ্য বরণ করে মৃত্যুর পথে যাত্রা করেছিলেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর চার নেতাকে একইসঙ্গে কারাবন্দি করা হয় এবং সেবছরই ৩ নভেম্বর জেলখানার ভেতর একইসঙ্গে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আপোস নয়, সমঝোতা নয়, কাপুরুষতা নয়, হাসিমুখে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার নজিরবিহীন ইতিহাস তারা বিনির্মাণ করে আদর্শের রাজনীতির এক উজ্জ্বল অধ্যায় সৃষ্টি করেছেন বিশ্ব রাজনীতির দরবারে। ক্ষমতার লোভকে দুহাতে সরিয়ে এবং খুনীদের তীব্র ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে মরণের এই নিশ্চিত আহ্বান কজন জানাতে পারেন? বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর অনেক আওয়ামী লীগ নেতার নীরবতা ও আত্মসমর্পণের ঘটনায় যখন সমগ্র জাতি শোকে ও যন্ত্রণায় স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল, তখন ক্ষমতাকে প্রত্যাখ্যান করে এই জাতীয় চার নেতা ৩ নবেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে প্রমাণ করেছেন কাপুরুষের মতো বাঁচার চেয়ে মৃত্যতেও গৌরব।

আমরা জাতীয় এ চারনেতার মৃত্যুতে গভীর শোক ও তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।

জাতীয় চার নেতা বাঙালী জাতির ইতিহাসে এবং বাঙালীর অন্তরের অন্তঃস্থলে চির জাগ্রত, চির অম্লান, চির ভাস্বর।

লেখকঃ জুয়েল হোসেন শ্রাবণ

চেয়ারম্যান, স্মার্ট বাংলা ইন্জিনিয়ারিং লিমিটেড।

সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

(বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটি)

নিউজ ট্যাগ: জেলহত্যা দিবস

আরও খবর



পাকিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগামী ৯ মার্চ

প্রকাশিত:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

পাকিস্তানে আগামী ৯ মার্চ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল শনিবার ঘোষণা করতে পারে।

ইসিপির একাধিক সূত্র বলেছে, কেন্দ্র এবং প্রদেশগুলোতে সরকার গঠনের সিনেট নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। জাতীয় পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন), বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ও অন্যান্য কয়েকটি দল জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠন করছে। পিএমএল-এন ও পিপিপি জোটের শরিকদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হবেন আসিফ আলি জারদারি।

সূত্র বলছে, আগামী ৯ মার্চ পাকিস্তানের ১৪তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পিপিপি ও পিএমএল-এন তাদের ক্ষমতা ভাগাভাগির আলোচনার সময় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আসিফ আলি জারদারির নাম প্রস্তাবের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়। 

আরও পড়ুন>> গ্রিসে বৈধতা পেলেন ৩ হাজার ৪০৫ বাংলাদেশি

পাকিস্তানে গত ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও কোনও দলই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে কারাবন্দি নেতা ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) ৯২টি আসন। পিটিআইয়ের পর এই তালিকায় যথাক্রমে রয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএলএন) ৭৫টি আসন, পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৫৪টি আসন, মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) ১৭টি আসন, জামায়াতে উলামায়ে ইসলাম- ফজলুর (জেইউআইএফ)৪টি আসন এবং স্বতন্ত্রপ্রার্থীরা পেয়েছেন ৯টি আসন।

অর্থাৎ কোনো দলই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম আসন পায়নি। এই অবস্থায় জোট সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয় পিএমএলএন এবং পিপিপির মধ্যে। ১২ দিন ধরে আলোচনার পর ঐকমত্যে পৌঁছায় পিএমএলএন এবং পিপিপি। সিদ্ধান্ত হয় পিএমএলএনের চেয়ারম্যান শেহবাজ শরিফ পাকিস্তানের নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন, আর রাষ্ট্রপতি হবেন পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পিতা ও দলটির কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলী জারদারি।

এদিকে, নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন জমা দিয়েছে ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই)। শুক্রবার দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে পিটিআই এ সংক্রান্ত একটি পিটিশন জমা দিয়েছে। 

আরও পড়ুন>> চীনের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৫, আহত ৪৪

পিটিশনে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মোট ১৮০টি আসনে জয়ী হয়েছে পিটিআই। কিন্তু কারচুপি ও জালিয়াতির মাধ্যমে মাত্র ৯২টি আসনে পিটিআই প্রার্থীদের জয়ী দেখানো হয়েছে। দলটিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে এই ডাকাতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে পিটিশনে।


আরও খবর



আইসিজিতে মামলা

ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আজ ঐতিহাসিক শুনানি

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের ৫৭ বছরের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে সোমবার ঐতিহাসিক শুনানি শুরু হচ্ছে। ইহুদিবাদী দেশটির আগ্রাসনের মধ্যেই এ আদালতের ১৫ বিচারকের সিদ্ধান্ত সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। খবর এপির।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) টানা ছয় দিন শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে নজিরবিহীন সংখ্যক দেশ অংশগ্রহণ করবে। যদিও মামলাটি ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের পটভূমিতে করা হয়েছে। তবে এটি পশ্চিম তীর, গাজা এবং পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের উন্মুক্ত দখলদারিত্বের ওপর আলো ফেলবে।

ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিরা আজ প্রথমে কথা বলবেন। তারা যুক্তি দেবেন, ইসরায়েলি দখল অবৈধ। কারণ, এটি আন্তর্জাতিক আইনের তিনটি মূলনীতি লঙ্ঘন করেছে। ফিলিস্তিনি আইনি দল বুধবার সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছে।

তারা জানান, ফিলিস্তিনিদের ভূমির বিশাল অংশ দখল করে ইসরায়েল তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং জাতিগত বৈষম্য ও বর্ণবাদী ব্যবস্থা আরোপ করেছে। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘের সংস্থা বিভাগের প্রধান ওমর আওয়াদাল্লাহ বলেছেন, আমরা আদালত থেকে নতুন কিছু শুনতে চাই। আমরা চাই, আদালত বর্ণবাদের বিষয়টি বিবেচনা করুক। আওয়াদাল্লাহ বলেছেন, আদালতের পরামর্শমূলক মতামতও শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক আইনের ব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ দখলদারিত্ব মোকাবিলা করতে আমাদের বড় হাতিয়ার হবে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তা ফ্রান্সেসকা আলবানিজ বলেছেন, দশকের পর দশকের অন্যায় শেষ পর্যন্ত তদন্তের মুখোমুখি হবে।

আদালতের রায় পেতে কয়েক মাস সময় লাগবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও আন্তর্জাতিক আইন শাস্ত্র, ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং জনমতকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

ইসরায়েলের হিব্রু ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক এবং ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ইউভাল শ্যানি বলেছেন, চলমান যুদ্ধ এবং অত্যন্ত মেরূকৃত আন্তর্জাতিক পরিবেশের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি সম্ভবত ইসরায়েলের জন্য অস্বস্তিকর এবং বিব্রতকর হতে চলেছে।

শুনানির সময় ইসরায়েলের কথা বলার জন্য নির্ধারিত সময় নেই। তবে দেশটি লিখিত বিবৃতি জমা দিতে পারে। ফিলিস্তিন ও নেতৃস্থানীয় অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, ইসরায়েলি দখলদারিত্ব এখন আর প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি একটি বর্ণবাদী ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে। দখলকৃত জমিতে বসতি স্থাপনের মাধ্যমে এটি শক্তিশালী হয়েছে। এতে ফিলিস্তিনিদের দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা দেওয়া হয়। জর্ডান নদী থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত ইহুদি আধিপত্য বজায় রাখার জন্য এমনটা করা হয়েছে।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশাল ভোটের ব্যবধানে একটি প্রস্তাব পাস হয়। এতে উপদেশমূলক মতামত দেওয়া জন্য বিশ্ব আদালতকে অনুরোধ করা হয়। ফিলিস্তিনিদের এ প্রস্তাবে ইসরায়েল তীব্র বিরোধিতা করে। ৫০টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।

ফিলিস্তিনিদের যুক্তি উপস্থাপনের পর ৫১টি দেশ এবং তিনটি সংস্থা (লিগ অব আরব স্টেটস, ইসলামী সম্মেলন সংস্থা এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন) কাঠের প্যানেলযুক্ত গ্রেট হল অব জাস্টিসে বিচারক প্যানেলের উদ্দেশে ভাষণ দেবে।

১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরায়েল পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম এবং গাজা উপত্যকা দখল করে। ফিলিস্তিনিরা তাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য তিনটি এলাকাই ফেরত চায়। এ জন্য তারা অস্ত্র হাতে তুলে নিতেও দ্বিধা করেন না।

পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা পিস নাউর হিসাবে, ইসরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ১৪৬টি বসতি তৈরি করেছে এবং এতে ৫ লাখের বেশি ইহুদি বাস করে। পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের জনসংখ্যা গত পাঁচ বছরে ১৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইসরায়েলও পূর্ব জেরুজালেমকে সংযুক্ত করেছে এবং পুরো শহরটিকে তার রাজধানী বলে মনে করে। এ শহরের ফিলিস্তিনের বাসিন্দারা পদ্ধতিগত বৈষম্যের সম্মুখীন হযন। যার ফলে তাদের জন্য নতুন বাড়ি তৈরি করা বা বিদ্যমান বাড়ি সম্প্রসারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ বলে মনে করে। শহরটির সবচেয়ে সংবেদনশীল পবিত্র স্থানগুলোর আবাসস্থল পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের অধিগ্রহণ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়।

২০০৪ সালে আইসিজে বলেছিলেন, পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীরের কিছু অংশে ইসরায়েলের বসতি নির্মাণ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি। এটি অবিলম্বে নির্মাণ বন্ধ করার জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানালেও দেশটি এ রায় উপেক্ষা করে চলেছে।


আরও খবর



কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

প্রকাশিত:সোমবার ২৯ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৯ জানুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রবিউল বাশার খান, কুমিল্লা

Image

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আজ সোমবার বিকেলে মেঘনার চালিভাঙ্গা গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়। নিহত কামরুল ইসলাম (৪০) চালিভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ও জেলা পরিষদের সদস্য আবদুল কাইয়ুমের পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছে। এর জেরে আজ বিকেলে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে কাইয়ুমের পক্ষের কামরুল ইসলাম মারা যান। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, এলাকায় আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ করেছে। উভয়পক্ষের সংঘর্ষে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর চালিভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ছোট ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নিজাম টেঁটাবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আজ বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় শুনেছি কামরুল ইসলাম নামের একজন মারা গেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


আরও খবর



মেয়ের ছবিতে প্রতি মিনিটে রজনীকান্তের পারিশ্রমিক এক কোটি

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিনোদন ডেস্ক

Image

বর্ষীয়ান দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্ত এবার নতুন রূপে পর্দায় ফিরছেন। মেয়ে ঐশ্বর্যা রজনীকান্তের পরিচালনায় লাল সালাম ছবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে থালাইভাকে। রজনীকান্তকে বড় পর্দায় দেখার জন্য মুখিয়ে থাকেন অনুরাগীরা। গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই শুরু হয়েছিল এই ছবির শুটিং। ছবির প্রচার ঝলকেই প্রশংসা কুড়িয়ে নিয়েছে এই ছবি। আর যে সিনেমার সঙ্গে রজনীকান্তের নাম জড়িয়ে, সেই সিনেমা দর্শকের মনে প্রথম থেকেই একটা স্বাভাবিক উৎসাহ তৈরি করে। ১৬৩ মিনিটের এই ছবিতে রজনীকান্ত পর্দায় থাকবেন ৩০-৪০ মিনিট মতো। মেয়ের সিনেমা হলেও পারিশ্রমিক নিয়ে কোনও আপস করেননি রজনীকান্ত। প্রতি মিনিট শুটিংয়ের জন্য ১ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছেন তিনি।

রজনীকান্তের পারিশ্রমিক যে আকাশছোঁয়া হবে, তা অজানা নয়। দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্বের দরবারে তুলে আনার নেপথ্যে রজনীকান্তের অবদান অনস্বীকার্য। বিগত পাঁচ দশক ধরে দর্শকের মনোরঞ্জন করে আসছেন তিনি। দক্ষিণ ভারতের বিনোদন জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি। তার মতো জনপ্রিয় অভিনেতা পর্দায় থাকা মানেই ছবি হিট, তা ধরে নেওয়া যেতে পারে। ফলে তাকে অভিনেতা হিসাবে পেতে গেলে যে ছবি নির্মাতাদের বাজেট বৃদ্ধি করতে হবে, সেটা স্বাভাবিক।

লাল সালাম ছবিতেও একটি ক্যামিয়ো চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তবে পর্দায় তার উপস্থিতির সময় কম হলেও এই ছবি থেকে রজনীকান্ত মোট ৪০ কোটি টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছেন। এই ছবির সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছেন এ আর রহমান। লাল সালাম সিনেমার একটি গান থিমিরি ইয়েজুদা ইতোমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে। সেই গান কোনও জীবিত শিল্পীকে দিয়ে গাওয়াননি তিনি। কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির মাধ্যমে (এআই) প্রয়াত দুই শিল্পী বাম্বা বাক্য ও শাহুল হামিদের গলার স্বর তৈরি করে গান গাইয়েছেন। এই ঘটনা আলোড়ন ফেলেছিল সঙ্গীত জগতে। লাল সালাম মুক্তির আগেই চর্চা শুরু হয়েছিল এই ছবি নিয়ে। লাল সালাম মূলত একটি স্পোর্টস ড্রামা।


আরও খবর
ভারতীয় পরিচালক কুমার সাহানি আর নেই

রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




আজ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র লাইলাতুল বরাত

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ধর্ম ও জীবন

Image

হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলমানরা শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে থাকেন। এ রাতটি লাইলাতুল বরাত হিসেবেও পরিচিত। আজ রোববার রাতে দেশে পালিত হবে পবিত্র শবে বরাত। ফারসি শব্দগুচ্ছ শবে বরাতের বাংলা ভাগ্যরজনী। অনেক মুসলিমের বিশ্বাস, শাবানের ১৪ তারিখ রাতে পরবর্তী বছরের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। এ রাতকে মুসলিম উম্মাহ পালন করেন মহিমান্বিত ভাগ্যরজনী হিসেবে।

শবে বরাতের আরবি লাইলাতুল বরাত। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, এ রাতে রয়েছে পাপমোচনের সুযোগ। নির্ধারিত হয় পরবর্তী বছরের হায়াত, রিজিক, আমল। আল্লাহর সান্নিধ্য ও ক্ষমালাভে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আসকার, মিলাদ মাহফিল, নফল নামাজ আদায় ও কোরআন তিলাওয়াতে মশগুল থাকেন শবেবরাতে। অনেকে মৃত স্বজনের কবর জিয়ারত করেন।

আরোপড়ুন : শবে বরাতে যেসব কাজ থেকে বিরত থাকবেন

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। শবে বরাত সবার জন্য ক্ষমা, বরকত, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

শবে বরাত রমজানের আগমনী বার্তা। প্রস্তুতি হিসেবে অনেকে আজ রোজা রাখবেন। সন্ধ্যায় প্রতিবেশীর বাড়িতে ইফতার বিতরণের রেওয়াজও রয়েছে। অনেক পরিবারে শবেবরাত উপলক্ষে হালুয়া-রুটি খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। বিশেষত পুরান ঢাকায় রুটি-মাংস বিতরণের ধুম পড়ে শবেবরাতের সন্ধ্যায়।

শবে বরাত উপলক্ষে আজ বাদ মাগরিব জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের প্রতিটি মসজিদে বিশেষ ওয়াজ মাহফিল ও জিকির-আসকার অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবছরের মতো এবারও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম মসজিদে রাতে ওয়াজ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করেছে। বিশিষ্ট আলেমরা বায়তুল মোকাররমে রাতভর বয়ান করবেন। ফজরের পর হবে দোয়া। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে।

শবে বরাতের পবিত্রতা রক্ষায় রাজধানীতে বিস্ফোরক দ্রব্য, আতশবাজি, পটকা ও অন্যান্য ক্ষতিকারক দ্রব্য বহন এবং ফাটানো নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।


আরও খবর
শবে বরাত সম্পর্কে হাদিসে যা বলা হয়েছে

রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

শবে বরাতে যেসব কাজ থেকে বিরত থাকবেন

রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪