আজঃ রবিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২১
শিরোনাম

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৫ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৫ নভেম্বর ২০২১ | ৩৮৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে বিভক্ত করা ইংলিশ চ্যানেলে অভিবাসী ও আশ্রয় প্রার্থীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফরাসি কর্মকর্তারা প্রথমে ৩১ জনের মৃত্যুর কথা জানালেও পরে তারা ২৭ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় মাছ ধরা জেলের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সমুদ্র তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকার সুবিধা নিয়ে বুধবার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মানুষ ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল থেকে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা দেয়।

এক ব্যক্তি সমুদ্রে একটি খালি নৌকা এবং আশেপাশে নিথর মানুষ ভাসতে দেখে উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেয়। পরে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের একটি যৌথ দল তিনটি জাহাজ এবং তিনটি হেলিকপ্টার নিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন জানিয়েছেন, নৌকাডুবির ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে চার জনকে গ্রেফতার করেছে ফরাসি পুলিশ। তিনি এই ঘটনাকে তার দেখা সবচেয়ে বড় অভিবাসী ট্রাজেডি বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, মারাত্মত ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়া দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে নৌকায় আরোহীদের জাতীয়তা কিংবা পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

লন্ডনভিত্তিক টাইমস সংবাদপত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন আফগান সেনা রয়েছেন। তিনি ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর হয়ে কাজ করতেন। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সহায়তা পেতে দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর তারা ঝুঁকি নিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এই ঘটনাকে ২০১৪ সালের পর ইংলিশ চ্যানেলে সবচেয়ে বড় একক প্রাণহানির ঘটনা বলে অভিহিত করেছে।


আরও খবর
করোনায় আরও ৭ হাজারের বেশি মৃত্যু

শনিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২১




‘মিশন এক্সট্রিম’ দেখতে হলমুখী মানুষের ভিড়

প্রকাশিত:শনিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২১ | ৮৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দীর্ঘদিন ধরেই ইন্ডাস্ট্রিতে ধারাবাহিক সাফল্য দেখাতে পারছে না সিনেমাগুলো। হুট করে একটি সিনেমা সফল হওয়ার পর দেখা যায় লম্বা বিরতি। তবে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে একটা নতুন যাত্রা হতে যাচ্ছে ঢালিউডের। যেখানে নিয়মিত সফল হতে পারে এমন কিছু সিনেমার হাত ধরে আশাবাদী হয়ে উঠছেন অনেকেই।

সেই আশার যাত্রায় প্রথম পদক্ষেপ ছিলো মিশন এক্সট্রিম। বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে গতকাল ৩ ডিসেম্বর। বিগ বাজেটের ছবি। নানা প্রজন্মের জনপ্রিয় তারকারা রয়েছেন। দুর্দান্ত সফল পুলিশি থ্রিলার ঢাকা অ্যাটাকর একটা আমেজ আছে। এইসব ভাবনায় ছবিটি নিয়ে প্রত্যাশা ছিলো আকাশ ছোঁয়া।

সেই প্রত্যাশা পূরণে বলা চলে সফল একটি দিন কাটালো মিশন এক্সট্রিম। মুক্তির প্রথম দিনেই দর্শক টানতে সক্ষম হয়েছে সিনেমাটি। দেশের নানা প্রান্তের ৫০টির মতো হলে দেখা যাচ্ছে ছবিটি। প্রায় সবগুলো হলেই হাউজফুল শো চলার খবর মিলেছে। এমন তথ্য দিলেন ছবিটির পরিচালক সানী সানোয়ার।

এদিকে ঢাকার সিনেপ্লেক্সগুলোতে ভিড় ছিলো অনেক বেশি। দর্শক লাইন দিয়ে টিকিট কিনেছেন। অনেকে অগ্রিম টিকিট বুকিং করছেন। সিনেপ্লেক্সগুলোতে খোঁজ নিতে গিয়ে এই তথ্য পাওয়া গেল। তারা বলছেন, অনেকদিন পর দেশের সিনেমা দেখতে দর্শক লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। এই চিত্রটা নিয়মিত হলে ঢালিউডের চেহারটা বদলে যেত।

এদিকে করোনা প্রাদুর্ভাবের পর থেকে মিশন এক্সট্রিম সিনেমাই প্রচুর পরিমাণে দর্শক হলে টানতে সক্ষম হয়েছে।

ছবির পরিচালক সানী সানোয়ার বলেন, আমি কখনো চিন্তা করিনি যে করোনার বিপর্যয়ের পর দর্শক এমনভাবে আমাদের সিনেমাটা দেখতে হলে আসবেন। অভাবনীয় আসলে। গতকাল সারা দেশে মিশন এক্সট্রিম সিনেমাটি খুব ভালো চলেছে। অনেকদিন পর দর্শক দল বেঁধে সিনেমা দেখতে গেছেন। হল মালিকরা খুব খুশি ছবিটি নিয়ে। তারা আশাবাদী এই সিনেমা নিয়ে। তারা টানা দুই সপ্তাহ ছবিটি চালাতে চাইছেন।

তিনি আরও বলেন, গতকাল ঢাকার আশপাশে দুইটা হলে গিয়েছিলাম আমরা টিম নিয়ে। সেখানে রেসপন্স ছিলো খুবই আনন্দময়।

গতকাল দেশের প্রায় ৫০টি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে মিশন এক্সট্রিম। প্রায় সবগুলো সিনেমা হলে ছবিটি থাকবে পরের সপ্তাহেও। নতুন সপ্তাহে আরও প্রায় ৪০টি সিনেমা হল যুক্ত হবে। ছবিটি নিতে অনেক হল মালিকরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কিন্ত আমরা হলের পরিবেশকে গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ করোনার কারণে অনেকদিন অনেক হল বন্ধ ছিলো। বর্তমানে সেগুলোর কি অবস্থা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর যোগ্য কি না, দর্শকরা কোনো ভোগান্তিতে পড়বেন কি না এগুলো দেখছি- যোগ করেন সানী সানোয়ার।

ছবিটির আরেক পরিচালক ফয়সাল আহমেদও গতকাল তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বেশ কিছু হাউজফুল শোয়ের ছবি শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, আমরা অনেকে মিলে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে মিশন এক্সট্রিম নির্মাণ করেছি। প্রচার প্রচারণাতেও কমতি রাখিনি। কতোটা সফল হবো তা দর্শকদের উপর নির্ভর করছে। তবে প্রথমদিনের যা সাড়া এসেছে তাতে করে আশা জাগছে খুব ভালো কিছুর।

পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলার মিশন এক্সট্রিম সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন ঢাকাই সিনেমার মাসলম্যানখ্যাত অভিনেতা আরিফিন শুভ। এ ছবিতে তার অভিনয় নিয়েও প্রশংসা হচ্ছে। অ্যাকশনধর্মী সিনেমায় যেন ক্রমেই নিজেকে অতুলনীয় করে তুলছেন তিনি।

শুভ ছাড়াও এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন ঢাকা অ্যাটাকখ্যাত তাসকিন রহমান, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, সাদিয়া নাবিলা ও সুমিত সেনগুপ্ত।

কপ ক্রিয়েশনের ব্যানারে নির্মিত সিনেমাটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন- রাইসুল ইসলাম আসাদ, ফজলুর রহমান বাবু, শতাব্দী ওয়াদুদ, মাজনুন মিজান, ইরেশ যাকের, মনোজ প্রামাণিক, আরেফ সৈয়দ, সুদীপ বিশ্বাস দীপ, রাশেদ মামুন অপু, এহসানুল রহমান, দীপু ইমামসহ অনেকে।

ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন পুলিশ সুপার সানী সানোয়ার নিজেই। সিনেমাটির সহযোগী প্রযোজক হিসেবে রয়েছে মাইম মাল্টিমিডিয়া ও ঢাকা ডিটেকটিভ ক্লাব।

ছবিটি দেশের পাশাপাশি ইউরোপ আমেরিকার কয়েকটি দেশের সিনেমা হলেও মুক্তি পাবে।


আরও খবর
কৃষকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন কঙ্গনা

শনিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২১




‘ওমিক্রন’ বন্ধ হবে না এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত:সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১ | ৪৫৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টের কারণে এইচএসসি পরীক্ষা বন্ধ হবে না, স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথা সময়ে নেওয়া হবে

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন ধরা পড়ছে। করোনার নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট থেকে বাঁচতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেসহ বিভিন্ন দেশ। এমন অবস্থায় আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে এইচএসসি পরীক্ষা হবে কি না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টের কারণে এইচএসসি পরীক্ষা বন্ধ হবে না, স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথা সময়ে নেওয়া হবে।

সোমবার (২৯ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর নবাবগঞ্জ পার্কে ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিট সম্মেলনের উদ্বোধনের পর তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় ওমিক্রনকে অত্যন্ত বিধ্বংসী মন্তব্য করে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

উল্লেখ্য, এবারের পরীক্ষায় অংশ নেবেন ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৮ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫২ জন। সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষা দেবে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৭ জন। ছাত্র ৫ লাখ ৬৩ হাজার ১১৩ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৪ জন।

মাদরাসা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষা দেবে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৪৪ জন। ছাত্র ৬১ হাজার ৭৩৮ জন এবং ছাত্রী ৫১ হাজার ৪০৬ জন। এইচএসসি (বিএম/ ভোকেশনাল) পরীক্ষা দেবে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫২৯ জন। ছাত্র ১ লাখ ৪ হাজার ৮২৭ জন এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৬৪২ জন।


আরও খবর



শাকিব খানের ব্যাংক হিসাব তলব

প্রকাশিত:সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১ | ৩৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খানের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তার গত সাত বছরের লেনদেনের বিবরণ এনবিআরকে পাঠাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি ব্যাংকগুলোতে পাঠানো এনবিআরের এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণী এনবিআরে পাঠাতে হবে ব্যাংকগুলোকে। ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি শাকিব খানের নামে যেকোনো সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, ঋণ হিসাব, বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব, ক্রেডিট কার্ড, লকার বা ভল্ট, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার হিসাব থাকলে তার বিবরণীও জমা দিতে হবে। এছাড়া বন্ধ হয়ে গেছে এমন হিসাব থাকলেও তা জমা দিতে হবে।

সেইসঙ্গে শাকিব খান বা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের অন্য সদস্যদের একক বা যৌথ নামে ব্যাংক হিসাব বা তাদের মালিকানাধীন কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব থাকলে তার তথ্য জমা দিতে হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনবিআরের চিঠিতে শাকিব খান রানার পরিচয় দেওয়া হয়েছে অভিনেতা হিসেবে। আয়কর অধ্যাদেশের ১৯৮৪এর ১১৩ (এফ) ধারার ক্ষমতাবলে এ হিসাব তলব করেছে এনবিআর। আয়কর ফাঁকির অনুসন্ধানের জন্য এ ধারা ব্যবহার করে এনবিআর।

২০১৯ সালে অভিনয়শিল্পী ক্যাটাগরি থেকে তৃতীয় সর্বোচ্চ করদাতা হন শাকিব খান।

জানা গেছে, সিনেমার শুটিংয়ের কাজে শাকিব খান বর্তমানে আমেরিকায় অবস্থান করছেন।


আরও খবর



নতুন বছরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি রাজ পরিবারের ‘ধর্মযুদ্ধ’

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৫ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৫ নভেম্বর ২০২১ | ৩৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

২০১৯-এ ছবি তৈরির ঘোষণা। ২০২০-তে মুক্তির কথা ছিল। মহামারির সঙ্গে এক বছর যুদ্ধ চালিয়ে নতুন বছরের ২১ জানুয়ারি মুক্তি পেতে চলেছে রাজ চক্রবর্তীর ধর্মযুদ্ধ। রাজ মানেই এখন বিষয়নির্ভর ছবি। আর তাতে রাজ-ঘরনি শুভশ্রী নায়িকা কম অভিনেত্রী বেশি। পরিণীতা ছবি থেকেই চেনা ছক থেকে বেরিয়ে নিজেদের ভেঙেছেন রাজশ্রী। তারই যেন আরও পরিণত রূপ ধর্মযুদ্ধ

তারকা দম্পতির পাশাপাশি ছবির জোরালো খুঁটি এক ঝাঁক তারকা। রয়েছেন স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত, সপ্তর্ষি মৌলিক, পার্নো মিত্র, ঋত্বিক চক্রবর্তী, সোহম চক্রবর্তী। ২০২১ মঞ্চ, পর্দা সফল প্রবীণ অভিনেত্রী স্বাতীলেখাকে কেড়ে নিয়েছে। নতুন বছরে পর্দাজুড়ে তিনি নব রূপে। ধর্মযুদ্ধ ছাড়াও স্বাতীলেখা জীবন্ত হবেন উইনডোজ প্রোডাকশনের বেলাশুরু ছবিতে। সপ্তর্ষি এই ছবিতে শুভশ্রীর স্বামী। পেশায় অটোচালক। খবর, শুভশ্রীর পাশাপাশি তাঁর লুক-এও বড় পরিবর্তন এনেছেন পরিচালক। শ্যুট শুরুর আগে তাঁকে অটো চালানো শিখতে হয়েছিল

ছবি-মুক্তির খবর সপ্তর্ষি প্রথম জানলেন আনন্দবাজার অনলাইন থেকে। আনন্দের পাশাপাশি ছোট্ট আক্ষেপ তাঁর, রাজ যখন ছবিটি বানিয়েছিলেন সেই সময় দেশ-রাজ্যজুড়ে ধর্ম নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। ছবিটি সেই সময় মুক্তি পেলে আরও প্রাসঙ্গিক হত। এখন কি তা হলে ছবির প্রাসঙ্গিকতা তুলনায় কমে গিয়েছে? মানতে রাজি নন স্বাতীলেখা সেনগুপ্তের একমাত্র জামাই।

তাঁর কথায়, দেশ বা রাজ্যে ধর্মযুদ্ধ থিতিয়েছে। থেমে যায়নি। তা ছাড়া, দর্শক অত্যন্ত বুদ্ধিমান। তাঁরা ছবি দেখে বুঝবেন পরিচালক কী বলতে চাইছেন। আশা, তাঁরা খুশি মনেই ছবিটিকে গ্রহণ করবেন। শুভশ্রীর স্বামী হওয়ার অনুভূতি কেমন? অনবদ্য, দাবি সপ্তর্ষির। সারা ছবিতেই শুভ অন্তঃসত্ত্বা। সেই অনুভূতি ধরে রেখে ছবিতে অভিনয় করে যাওয়া সহজ নয়। এত দিন গ্ল্যামারাস নায়িকা হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরে 'পরিণীতা' থেকে শুভ জনপ্রিয় অভিনেত্রী। এ ভাবে ভেঙে নিজেকে প্রমাণ করতে যথেষ্ট সাহসের প্রয়োজনবক্তব্য অভিনেতার।


আরও খবর



দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের

এক লাখ মামলার জালে সরকার

প্রকাশিত:শনিবার ২৭ নভেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ২৭ নভেম্বর ২০২১ | ৪১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সরকারের মাথার ওপর বছরের পর বছর ঝুলছে প্রায় এক লাখ (৯৪ হাজার ১৫০) মামলা। এসব মামলায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বিষয়ের সঙ্গে রাষ্ট্রের কয়েক হাজার কোটি টাকার স্বার্থ জড়িত। রাষ্ট্রপক্ষের সক্রিয় উদ্যোগের অভাবে মামলাগুলো সহজেই নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এতে সুযোগ নিচ্ছে অনেক স্বার্থান্বেষী মহল। শুধু তাই নয়, অর্থসংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তারাও বিরোধী পক্ষকে সহযোগিতা করছেন-এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

এসব চক্র ভেঙে মামলা পরিচালনার যাবতীয় কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসাবে ইতোমধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয়ের কমিটি কাজ শুরু করেছে। কমিটির প্রথম বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সব মামলার তথ্য একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি তৈরির প্রাথমিক কাজ চলছে। এতে প্রত্যেকটি মামলার প্রথমে থেকে সর্বশেষ সব তথ্য-উপাত্ত সংযোজন করা হবে। সংশ্লিষ্ট মামলা নিয়ে আইন কর্মকর্তারা আপডেট থাকবেন। ফলে কেউ তথ্য গোপন করে আদালতকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।

সূত্র জানায়, সরকারের সব মন্ত্রণালয়-বিভাগ এবং ৬৪টি জেলার মামলা সম্পর্কিত সব তথ্য এখন মন্ত্রিপরিষদের হাতে। এর আগে সরকারি মামলা নিয়ে এত বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে ৮ সচিবের উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৯৪ হাজার ১৫০টি অনিষ্পন্ন মামলার তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় দুই হাজার মামলাকে অতি গুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ মামলা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি মানদণ্ড ঠিক করা হয়েছে। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তালিকায় রয়েছে-আইন, অধ্যাদেশ, রাষ্ট্রপতির আদেশ, বিধি, প্রবিধি এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পরিপত্র ও নীতিমালাকে চ্যালেঞ্জ। আরও আছে-ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থানগত গুরুত্ব বিবেচনার সরকারি সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা। জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প, কেপিআই সংক্রান্ত মামলা। গণমাধ্যমে বহুল আলোচিত মামলাগুলোকেও অতি গুরুত্বপূর্ণ তালিকার মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে ক্রয়, ইজারা, লিজ, নিলাম, ক্ষতিপূরণ, বকেয়া ও আর্থিক দাবি সংক্রান্ত মামলাগুলো সাধারণ তালিকায় থাকছে। তবে এগুলোর মধ্যে বিপুল আর্থিক মূল্য আছে-এমন মামলাকে গুরুত্বপূর্ণ তালিকায় রাখা হচ্ছে। এছাড়া চাকরি সংক্রান্ত ব্যক্তিগত প্রতিকার, উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর বিষয়ক মামলাগুলোকেও সাধারণ তালিকায় রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ১৬ হাজার ৭৩টি মামলার বেড়াজালে আছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। অন্যদিকে মাত্র ২টি মামলা নিয়ে সর্বনিম্নে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। আর এক হাজারের বেশি মামলা আছে এমন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংখ্যা ১৬টি। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের মামলা ১১ হাজার ৪০৫টি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১১ হাজার ৩৮৬টি, জননিরাপত্তা বিভাগের ৫ হাজার ৩৮টি, অর্থ বিভাগের পাঁচ হাজার ১০টি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪ হাজার ৬০৩টি। এর বাইরেও হাজারের বেশি মামলা থাকা দপ্তরগুলোর মধ্যে রয়েছে, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশন, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এতদিন সরকার সংশ্লিষ্ট মামলা ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় কোনো উদ্যোগ ছিল না। মন্ত্রণালয়গুলো নিজস্ব উদ্যোগে মামলা পরিচালনা করে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মামলা সংক্রান্ত জ্ঞানের অভাব, অবহেলা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মামলার বিপক্ষ পার্টির কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কেউ কেউ সরকারকে মামলায় হারিয়ে দেওয়ার মতো কাজ করছেন বলে অভিযোগ আছে। তাই মামলা সংক্রান্ত অব্যবস্থাপনা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আইন অনুবিভাগ। অন্যদিকে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে ফোকাল পয়েন্ট অফিসার ঠিক করে দেওয়া হবে। যিনি ওই মন্ত্রণালয়ের মামলা সংক্রান্ত সব কাজে সহযোগিতা করবেন। অন্যদিকে সলিসিটর উইংয়ে একেকজন অফিসারকে কয়েকটি করে জেলার দায়িত্ব দেওয়া হবে। যাতে মাঠ প্রশাসন থেকে আসা মামলার বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। অভিযোগ আছে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলার তথ্য সলিসিটর উইং থেকে উধাও হয়ে যায়।

আরও জানা গেছে, মামলার তথ্য পাওয়ার প্রক্রিয়াটিও অনেক কঠিন ছিল। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে আইন অনুবিভাগকে অগুরুত্বপূর্ণ করে রাখা হয়েছে। এই জায়গায় কাজ করা বেশির ভাগ অফিসারই ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেন না। অনেকে মামলা সংক্রান্ত কাজের প্রক্রিয়াও বোঝেন না। এ কারণে তথ্য পেতে সমস্যা হয়েছে। অবশেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আইন অনুবিভাগ তালিকা তৈরি করেছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এক হাজার ৯৯৭টি মামলাকে চিহ্নিত করে বিশেষ উদ্যোগের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গত বছর আগস্টে এ সংক্রান্ত উদ্যোগ প্রথম নেওয়া হয়েছিল। করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে তখন আর এগোয়নি।

জানা গেছে, পুরোনো অনেক মামলায় নতুন দায়িত্ব নেওয়া অফিসারদের বিব্রত হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি পক্ষের সঠিক উদ্যোগের অভাবে মন্ত্রণালয়ের সচিবদের আদালত অবমাননার মুখে পড়তে হয়। এগুলোর মূল কারণ মামলা সংক্রান্ত তথ্য ঠিকভাবে আদালতে না যাওয়া। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই উদ্যোগটিতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে মামলার হালনাগাদ তথ্য জানা থাকলে এসব ঘটনা ঘটবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ওই বৈঠকে কমিটির বেশির ভাগ সদস্য উপস্থিত থাকলেও অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন না। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে কোনো প্রতিনিধি পাঠানো হয়নি। সরকারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলা নিষ্পত্তির জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে এই অফিসের প্রতিনিধি না থাকায় বৈঠকে সংশ্লিষ্টরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল সরকারের প্রতিনিধি। তিনি বা তার অফিসের কোনো প্রতিনিধি বৈঠকে উপস্থিত থাকলে মামলা সংক্রান্ত কার্যক্রম নিষ্পত্তি বেগবান হতো।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলায় সরকার পক্ষে যারা আইনজীবী থাকেন তারা সামান্য সম্মানী পান। অন্যদিকে সরকারের বিপক্ষ পার্টি বিপুল টাকা বিনিয়োগ করেন। ফলে অনেক মামলায় সরকার পক্ষের আইনজীবী, অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অফিসের কেউ কেউ ম্যানেজ হয়ে যান। ফলে জনস্বার্থ রক্ষা পায় না। তাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ উদ্যোগটি সফল হলে এ ধরনের চাতুরতা ধরা পড়বে। অন্যদিকে সরকার পক্ষের আইনজীবীদের সম্মানী বাড়ানোর বিষয়েও মত দেন বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা।

নিউজ ট্যাগ: মামলার রায়

আরও খবর