আজঃ বুধবার ২৫ মে ২০২২
শিরোনাম
চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ

৫২ কিলোমিটার ডুয়েলগেজে রূপান্তরেই ১০,০৪৮ কোটি টাকা

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | ২৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কক্সবাজারের সঙ্গে রেলসংযোগ স্থাপনে নির্মাণ করা হচ্ছে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ। যতিও চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী অংশটি জরাজীর্ণই রয়ে গেছে। তাই মিটারগেজ এ রেলপথটি ডুয়েলগেজে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে অনেক বেশি। সমজাতীয় প্রকল্পের তুলনায় তা প্রায় তিনগুণ। এমনকি নতুন রেলপথ নির্মাণের চেয়েও ডুয়েলগেজ রূপান্তরে ব্যয় বেশি ধরা হয়েছে।

তথ্যমতে, বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার মিটারগেজ রেলপথ রয়েছে। এ পথটি ডুয়েলগেজে রূপান্তরের পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের সঙ্গে কানেক্টিং কার্ভও নির্মাণ করা হবে। এতে রেলপথটির দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে ৫২ কিলোমিটার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ১০৩ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। ডাবল লাইন হওয়ায় ১০৭ কিলোমিটার ট্র্যাক ডুয়েলগেজে রূপান্তর ছাড়াও ২৪টি মেজর ও ৯৫টি মাইনর সেতু পুনর্নির্মাণ করতে হবে প্রকল্পটির আওতায়। এ প্রকল্পের আওতায় দুটি স্টেশন নতুন করে নির্মাণ করতে হবে।

চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলার বা ১০ হাজার ৪৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় পড়ছে ১৯৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অথচ দোহাজারী থেকে কক্সবাজার হয়ে গুনদুম পর্যন্ত ১২৮ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে নতুন রেলপথ নির্মাণে ব্যয় পড়ছে কিলোমিটারপ্রতি ১৪০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

এদিকে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় পড়ছে ৬৪ কোটি ৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটির আওতায় ১৯৮ দশমিক ২৯ কিলোমিটার রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরে ব্যয় পড়ছে ১২ হাজার ৭০৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এ প্রকল্পটিতে ঋণ দিতে চায় জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। আজ এ প্রকল্পের পিডিপিপি নিয়েও ইআরডির সঙ্গে রেলওয়ের বৈঠক রয়েছে।

সূত্রমতে, চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরে এডিবির কাছে ঋণ চাওয়া হয়েছে ৭৬ কোটি ৭৬ কোটি ডলার বা ছয় হাজার ৬০১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বাকি তিন হাজার ৩৪৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা সরকারের তহবিল থেকে দেয়া হবে। যদিও প্রকল্পটির ব্যয় অনেক বেশি মনে করছে এডিবি। গত মার্চে রেলওয়ে ও এডিবির মাঝে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ মন্তব্য করেন এডিবির মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রেলওয়ের মহাপরিচালক ডিএন মজুমদার বলেন, চট্টগ্রাম-দোহাজারী মিটারগেজ রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তর প্রকল্পটির আওতায় ডাবল লাইন নির্মাণ করা হবে। ফলে প্রকল্পটির আওতায় ১০৭ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ করা হবে। তাই ব্যয় কিছুটা বেশি পড়ছে। এছাড়া জমি অধিগ্রহণেও প্রচুর ব্যয় হবে। তাই ব্যয় কিছুটা বেশি ধরা হয়েছে।

যদিও এ বক্তব্য সঠিক নয় বলে মনে করছেন রেলওয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তারা জানান, জমি অধিগ্রহণ বাদ দিলেও রেলপথটি ডুয়েলগেজে রূপান্তরে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় হবে ১৪৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আর ডাবল লাইন ধরলেও কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় পড়ে ৭১ কোটি ২১ লাখ টাকা। অথচ জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী মিটারগেজ রেলপথ ডুয়েলগেজ রূপান্তর প্রকল্পে ব্যয় পড়ছে আরও কম। আর ওই প্রকল্পেও ডাবল লাইন নির্মাণ করা হবে।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তর প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন শেষ হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকল্পটির পিডিপিপি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এতে দেখা যায়, প্রকল্পটির জমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৪২৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আর মূল ট্র্যাক (রেলপথ) নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৭৫৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং মাটির কাজে (আর্থ ওয়ার্ক) এক হাজার ৭২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এছাড়া উল্লেখযোগ্য ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে স্টেশন ও বিল্ডিং নির্মাণে ৭১১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণে এক হাজার ৩১৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, সিগন্যালিং ও টেলিকমে ৩০৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং প্ল্যান্ট ও ইক্যুইপমেন্টে ৩০৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর বাইরে পরামর্শক খাতে ৫৮৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। আর প্রাইস কনটিনজেন্সি খাতে ৭৩০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ও ফিজিকাল কনটিনজেন্সি খাতে ১৮২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।


আরও খবর



২ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ | ৩১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য দুই লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান নতুন এই এডিপি অনুমোদনের বিষয়টি জানান। নতুন এডিপিতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে জোগান হবে এক লাখ ৫৩ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। আর বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে বাকি ৯৩ হাজার কোটি টাকা।

এবারের এডিপিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্যে বরাদ্দ ৩৫ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জন্যে ৩১ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগের জন্যে ২৪ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জন্যে ১৬ হাজার ১১ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জন্যে ১৫ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জন্যে ১৪ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্যে ১৪ হাজার কোটি টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্যে ১১ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা, সেতু বিভাগের জন্যে ৯ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য সাত হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরের অনুমোদিত এডিপি ছিল দুই লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

নতুন এডিপিতে আগামী অর্থবছরে রূপপুর প্রকল্পের জন্যে বরাদ্দ ১৩ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৯ কোটি টাকা এবং গত মার্চ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৫০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা।


আরও খবর



বিয়ে করে স্ত্রীকে ভারতে বিক্রি, পাচারদলের ৩ সদস্য গ্রেফতার

প্রকাশিত:রবিবার ২২ মে 20২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২২ মে 20২২ | ৩৪৫জন দেখেছেন

Image

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

ফেসবুক থেকে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার সোহেলের সাথে প্রেমের সম্পর্কে নুর নাহার (ছদ্মনাম)। এরপর তাকেই কৌশলেই ভারতীয় পাচারকারীর হাতে তুলে দেন সোহেল। ভারতে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাকে একাধিকবার পাচারদলের সদস্যরা ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সেই নারী।

এ ঘটনায় পাটগ্রাম থানা পুলিশ শনিবার দিনভর অভিযান চালিয়ে পাচারদলের সদস্য আশরাফুল ইসলাম, মোকছেদুল হক, চম্পা বেগম নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছেন। রোববার (২২ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাটগ্রাম থানার ওসি ওমর ফারুক। তিনি বলেন, এ ঘটনার মুল হোতা সোহেল মিয়া হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বেতাপুর গ্রামের কিবরিয়ার পুত্র। তাকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।

পাটগ্রাম থানা সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ৩ বছরে পূর্বে টিকটক করতে গিয়ে পরিচয় ও প্রেম। তারপর প্রেমিক হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বেতাপুর গ্রামের কিবরিয়ার পুত্র সোহেল-প্রেমিকা নুর নাহার (ছদ্মনাম) অবৈধ ভাবে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। সেখানে প্রেমিকা নুর নাহারকে দিয়ে জোর পূর্বক দেহ ব্যবসা করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু নুর নাহার বিষয়টি বুঝতে পেয়ে সোহেলের সাথে ঝগড়া করেন। পরে ৮/৯ মাস পর ভারতের কলকাতা থেকে কৌশলে একই পথে দেশে পালিয়ে আসে প্রেমিকা নুর নাহার (ছদ্মনাম)। কিছু দিন পর দেশে আসেন সোহেলও। অনেক বুঝিয়ে তাকে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জ আদালতে সোহেল-প্রেমিকা নুর নাহার (ছদ্মনাম) বিয়ে করেন। কিছুদিন পর  নুর নাহার গর্ভবতী হন। কিন্তু সোহেল তারপর আবারও প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করেন প্রেমিক থেকে স্বামী হওয়া সোহেল। নুর নাহারকে পাচারের জন্য আবারও পাচারকারীদের সাথে যোগাযোগ করে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে পাঠিয়ে দেয় স্বামী সোহেল। গত ১৩ মে ভোরে পাচারকারীরা তাকে ওই উপজেলার দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করে দেয়। এ সময়  নুর নাহারকে ধর্ষণ করেন ওই পাচার দলের সদস্য মোকছেদুল। নুর নাহার ভারতে প্রবেশের পর বুঝতে পারেন তার স্বামী তাকে পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। (১৫ মে) রাতে আবারও  নুর নাহার কৌশলে দেশে দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর এবার আশরাফুল ইসলাম নামে অপর এক পাচারকারী দলের সদস্য তাকে ধর্ষণ করেন। টাকার জন্য নুর নাহার (১৫ মে) থেকে আটকিয়ে রাখেন পাচার দলের সদস্যরা। সেখান থেকেও কৌশলে পালিয়ে পাটগ্রাম থানায় আশ্রয় গ্রহণ করে নুর নাহার।

পাটগ্রাম থানার ওসি ওমর ফারুক এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ ইতোমধ্যে ৩ জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। ঘটনার মুল হোতা প্রেমিক থেকে স্বামী হওয়া সোহেলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


আরও খবর



ফের বিয়ে করেছেন শবনম ফারিয়া

প্রকাশিত:শনিবার ০৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০৭ মে ২০২২ | ৪৭০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

চলতি বছরের ভালোবাসা দিবসে নতুন প্রেমের আভাস দিয়েছিলেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। এবার জানা গেল, সেই প্রেমিকেই দুই মাস আগে বিয়ে করেছেন অভিনেত্রী।

ঘটনার সূত্রপাত, ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ফুপুর বাসার পারিবারিক এক আয়োজনের ছবি শেয়ার করেছেন ফারিয়া। সেই ছবিতে বিয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।

এরপর গণমাধ্যমকে শবনম ফারিয়ার বিয়ের খবর নিশ্চিত করে তাঁর ফুপু জেসমিন সুলতানা জানিয়েছেন, পারিবারিকভাবে ছোট আয়োজনে করে দুই মাস আগে বিয়ে হয়েছে ফারিয়ার। তবে এখনও শ্বশুরবাড়িতে থাকছেন না।

জানা গেছে, শবনম ফারিয়ার নতুন স্বামীর নাম জাহিন রহমান; তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

যদিও এ প্রসঙ্গে মন্তব্য জানতে শবনম ফারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর সাড়া মেলেনি।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হারুনুর রশীদ অপুকে বিয়ে করেছিলেন শবনম ফারিয়া। সেই সংসার টিকেছিল ১ বছর ৯ মাস।


আরও খবর



চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, স্বামী-স্ত্রীর যাবজ্জীবন

প্রকাশিত:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ২৮৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কুমিল্লায় যুবককে চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার মামলার ৭ বছর পর ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-৩ এর বিচারক রোজিনা খান এ আদেশ দেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জেলার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামের ময়নাল হোসেন ও তার স্ত্রী মোসা. নাছিমা আক্তার।

মামলার আইনজীবী রফিকুল জানান, ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল এলাকায় মোসলে উদ্দীন সরকারের ছেলে মো. শামছুল আলম মনিরকে (৩৫) চুরি করার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মোসলেহ উদ্দীন সরকার বাদী হয়ে সাত জনের নামে ও ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মুরাদনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় আদালত দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত আসামি মো. আবু হাসান, মো. আব্দুর রশিদ, শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশ ডালিম, মো. রুহুল আমিন, মো. আব্দুল কুদ্দুস, মো. শরিফ, নজরুল, মো. রবিউল, মো. এনামুল হক, মো. রাসেল, মো. ইকবাল, মো. বাহাদুর, মাহমুদ প্রকাশ মাসুদকে খালাস প্রদান করা হয়।


আরও খবর



খাদ্য জোগাতে মার খাচ্ছে লাভের ফসল সয়াবিন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | ১১২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দিগন্ত জোড়া মাঠ। যতদূর চোখ যায় কেবল সবুজ আর সবুজ। বিস্তীর্ণ কৃষিজমির অধিকাংশেই দোল খাচ্ছে সয়াবিনের গাছ। বলছি লক্ষ্মীপুর জেলার কথা। বিশেষ করে রায়পুর, রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় এখন ব্যাপক হারে সয়াবিনের চাষ হচ্ছে। কম খরচে ভালো উৎপাদনের পাশাপাশি দাম বেশি পাওয়ায় এই অঞ্চলের চাষিদের মধ্যে অন্যান্য রবিশস্যের পরিবর্তে তেল-ফসলটির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। যদিও চরাঞ্চলের এসব জমিতে এক সময় কেবল খেসারি, মরিচ,বাদাম, তিল, মিষ্টি আলু, তরমুজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হতো।

জানা গেছে, দেশে গড়ে ১ লাখ ১৫ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন সয়াবিনের উৎপাদন হয় প্রতি বছর। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশই উৎপাদন হচ্ছে লক্ষ্মীপুর জেলায়। তাই এই ফসলটিকে ব্র্যান্ডিং করছে জেলা প্রশাসন। লক্ষ্মীপুরের পর সবচেয়ে বেশি সয়াবিন চাষ হয় পাশের জেলা চাঁদপুরে। এ ছাড়াও নোয়াখালী, ফেনী, ভোলা, বরিশাল ও ফরিদপুর, নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, বগুড়া ও ঠাকুরগাঁওয়ে কিছু পরিমাণে সয়াবিনের চাষ শুরু হয়েছে লাভজনক ফসল হওয়ায়। কিন্তু সম্ভাবনা থাকলেও এর উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। কেননা দেশের সীমিত জমি থেকে বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণ করাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, সয়াবিনের উৎপাদন বাড়াতে পারলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় সম্ভব। তবে আমাদের চাষযোগ্য আবাদি জমির পরিমাণ খুবই সীমিত। আর এই সীমিত জমি থেকে দেশের বিশাল জনগণের খাদ্য চাহিদা পূরণ করাই বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে নতুন করে সয়াবিনের চাষের পরিমাণ খুব বেশি বাড়ানোর সুযোগ নেই। দেশের প্রধান ফসল ধান বাদ দিয়ে অন্য ফসলে গেলে খাদ্য সংকট দেখা দেবে। সে ক্ষেত্রে যদি সয়াবিনের চাষকে সম্প্রসারণ করা হয়, তা হলে এর বিপরীতে অন্য কোনো ফসলে ঘাটতি দেখা দেবে। এতে করে সুফলের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণটাও কম হবে না। তবে দেশের লবণাক্ত অঞ্চলে সয়াবিনের চাষ বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য পরিকল্পিতভাবে ফসলবিন্যাস নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হবে। দেশের বিভিন্ন জেলায় সয়াবিন চাষের উপযোগী জমি রয়েছে। ক্রমান্বয়ে কৃষকরাও ফসলটির প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। প্রয়োজনে সরকারি সহায়তার পরিমাণ বাড়বে।

কৃষি গবেষকরা বলছেন, লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনের আবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে এখানকার অপ্রতুল সেচব্যবস্থারও বড় ভূমিকা রয়েছে। কারণ সয়াবিন আবাদে খুব একটা সেচের প্রয়োজন নেই। ফলে জেলাটিতে এ শস্যের আবাদের উপযোগিতা অনেক বেশি। তা ছাড়া সার্বিকভাবে সয়াবিন উৎপাদন লাভজনক। এটি একটি পরিবেশবান্ধব ফসলও। এতে সারের পরিমাণ লাগে অনেক কম। শিম গোত্রের ফসল হওয়ায় সয়াবিনের শিকড়ে নডিউল তৈরি হয়, যা থেকে হেক্টরপ্রতি প্রায় ২৫০ কেজি নাইট্রোজেন (ইউরিয়া সার) সংবন্ধন হয়। এ নাইট্রোজেন সার গাছের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং একটি অংশ মাটিতে যুক্ত হয়ে পরবর্তী ফসলে অবদান রাখে। প্রতি হেক্টরে সর্বোচ্চ উৎপাদন খরচ পড়ে ২০ হাজার টাকা। ভালো ফসল ও দাম পাওয়া গেলে উৎপাদন খরচের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি লাভ করা সম্ভব সয়াবিন চাষ করে। যেখানে অন্য কোনো ফসল আবাদ করে এ পরিমাণ লাভ পাওয়া অসম্ভব।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের কৃষক মো. ইউছুফ বলেন, সয়াবিন আবাদে খরচ কম। রোগ ও পোকার আক্রমণও কম হয়। চাষাবাদ পদ্ধতি সহজ। বিক্রি করলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায় ধানের চেয়ে অনেক বেশি। আগে চরাঞ্চলে অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সেই জমিগুলো আর পড়ে থাকে না। পরিত্যক্ত জমিতেও সয়াবিন চাষ করা হচ্ছে। মৌমুমে প্রতি মণ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। আর মৌসুমের পর আড়াই হাজার থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়।

সংশ্লিষ্টরা অবশ্য জানান, বাংলাদেশে তেলের জন্য সয়াবিন আবাদ সেভাবে সম্ভব না। কারণ ৫ কেজি সয়াবিন বীজ ভাঙিয়ে তেল হয় এক কেজি। আর চার কেজি খৈল বা সয়া কেক হয়। খৈলটা হচ্ছে আসল আর তেলটা বাই-প্রোডাক্ট। খৈল থেকে সয়াবিস্কুট, সয়ামিল অনেক কিছুই তৈরি হয়, যাতে প্রচুর প্রোটিন রয়েছে। তবে দেশে উৎপাদিত খৈল কেবল মৎস্য বা প্রাণিখাদ্যে ব্যবহৃত হয়। অন্য দেশের মতো এখানেও সয়া কেকের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। কেননা কেবল তেল দিয়ে পোষাবে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭৯ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন উৎপাদন হয়েছে ১ দশমিক ৪১৯ লাখ মেট্রিক টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৭৭ হাজার ৩ হেক্টরে ১ দশমিক ৪৬৯ লাখ মেট্রিক টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭৯ হাজার হেক্টরে ১ দশমিক ৩৫২ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। এ ছাড়াও চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সয়াবিন চাষ হয়েছে ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে। আর লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৪৮ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়, ২০২০-২১ অর্থবছরে হয় ৪০ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সয়াবিন আবাদ হয়েছে ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে। গড় উৎপাদন ৮০ থেকে ৮৫ হাজার মেট্রিক টনের মতো।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, এ বছর লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনের উৎপাদন ভালো হয়েছে। কৃষকদের মাঝে উচ্চ ফলনশীল বিনা ৫ ও ৬ এবং বারি ৫ ও ৬ জাতের বীজ বিতরণ করেছি। তাই ফলন ভালো হয়েছে। আর আগে সোহাগ জাতের বীজ চাষ করত কৃষক, যার ফলন ছিল কম। এখন আর সেই সমস্যা নেই। এ ছাড়াও মন্ত্রণালায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সয়াবিন উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। উৎপাদিত সয়াবিন দিয়ে কী করা হয় জানতে চাইলে তিনি জানান, মাঠ থেকে আহরিত সয়াবিন আধুনিক অটোমেটিক মেশিনের মাধ্যমে সিদ্ধ করে শুকানোর পর তেলবীজ, ডালবীজ ও পোলট্রি শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে প্রক্রিয়াজাত হয়। পরে সেগুলো রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সরকারের ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে ২৭৮ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান। এর মাধ্যমে সরিষা, তিল, সূর্যমুখী, চিনাবাদাম, সয়াবিনসহ তেল ফসলের আবাদ এলাকা ২০ শতাংশ বাড়ানো এবং তেলজাতীয় ফসলের হেক্টরপ্রতি ফলন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

নিউজ ট্যাগ: সয়াবিনের গাছ

আরও খবর