আজঃ মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রে ধীর হয়েছে মূল্যস্ফীতির গতি

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ ডিসেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ডিসেম্বর ২০২২ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

যুক্তরাষ্ট্রে ভোগ ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির গতিও ধীর হয়েছে। গত মাসের মূল্যস্ফীতি ১৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও ফেডারেল রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দ্রুত ধীর হচ্ছে না মূল্যস্ফীতি। সুতরাং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ানোর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এসব তথ্য ঋণের পেছনে ক্রমবর্ধমান খরচের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির কার্যক্রম ধীর হয়ে পড়ার চিত্র তুলে ধরছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবাসন থেকে শ্রম পর্যন্ত সব কিছুর চাহিদা কমানোর চেষ্টা করছে। মুদ্রানীতি কঠোর করার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতিকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২ শতাংশে নামিয়ে আনতে হিমশিম খাচ্ছে ফেড। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান পিএনসি ফাইন্যান্সিয়ালের প্রধান অর্থনীতিবিদ গাস ফোচার বলেন, ফেডের দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনীতি সঠিক দিকে যাচ্ছে। কিন্তু সেটা অনেক ধীরে।

পরিসংখ্যান সংস্থা সেনসাস ব্যুরো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি অবদান রাখা ভোক্তা ব্যয় নভেম্বরে মাত্র দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। অক্টোবরেও এটি দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছিল। গত মাসে ভোক্তা ব্যয় বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়েও পিছিয়ে রয়েছে। রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা দশমিক ২ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

খুচরা বিক্রি ধীর হয়ে যাওয়ার এ পরিসংখ্যান ভোগ ব্যয় পণ্য থেকে পরিষেবায় পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করছে। কিছু পণ্যের মূল্য বাড়ার কারণে পরিমাণের হিসাবে কমলেও অর্থের হিসাবে ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গত মাসে টেকসই পণ্যের ব্যয় ২ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। বিশেষ করে গাড়ি বিক্রিতে পতন এসব পণ্যের বিক্রি কমাতে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া গৃহস্থালি আসবাব ও অন্যান্য সরঞ্জামের পাশাপাশি বিনোদনমূলক সামগ্রীর ব্যয় কমে গিয়েছে। নভেম্বরে দেশটির পরিষেবাগুলোয় ব্যয় আগের মাসের তুলনায় দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। আবাসন ও ইউটিলিটিগুলোর পাশাপাশি আর্থিক পরিষেবা ও বীমা এ খাতের ব্যয় বাড়াতে সহায়তা করেছে। এদিকে গত মাসে ব্যক্তি খরচের মূল্য সূচক দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। অক্টোবরে এটি দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল। এ সময়ে খাদ্যের দাম মাসভিত্তিক দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২১ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন। জ্বালানি পণ্য ও পরিষেবার মূল্য ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে ব্যক্তি খরচের বছরওয়ারি মূল্য সূচক নভেম্বরে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এ হার ২০২১ সালের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন। এর আগে অক্টোবরে এ হার ৬ দশমিক ১ শতাংশে ছিল।

ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রানীতির সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি খরচের মূল্য সূচক বিবেচনায় নিয়ে থাকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মূল্যস্ফীতি ধীর হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে আগামীতে তৈরি হওয়া প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। একটি বিবৃতিতে জো বাইডেন বলেন, আগামী বছর অর্থনীতিতে আরো উত্থান-পতন হবে। তবে বিপর্যয় থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে আমরা অনেক অগ্রগতি করেছি এবং আমি সামনের বছর নিয়ে আশাবাদী।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে গত সপ্তাহেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪ দশমিক ২৫ থেকে ৪ দশমিক ৫০ রেঞ্জে উন্নীত করেছে। এ হার ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ। ইনডিপেনডেন্ট অ্যাডভাইজর অ্যালায়েন্সের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ক্রিস জাকারেলি বলেন, মূল্যস্ফীতি মন্থর হতে চলেছে। এটি ফেডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর একটি। কিন্তু এটি এমন সময়ে ঘটছে, যখন ভোক্তারা ব্যয়ের ক্ষেত্রে লাগাম টানছেন। এটি কিন্তু অর্থনীতির জন্য মোটেও সুখকর নয়। মূলত মজুরি বৃদ্ধি ভোক্তা ব্যয় বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করছে। মহামারীর প্রভাব কমে যাওয়ায় পর থেকেই দেশটির শ্রমবাজার শক্তিশালী রয়েছে। গত মাসে ব্যক্তি আয় দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে ঋণের উচ্চ ব্যয়, ক্রমহ্রাসমান সঞ্চয় এবং পারিবারিক সম্পদের নিম্নমুখী প্রবণতা ভোক্তা ব্যয়কে স্তব্ধ এবং আগামী বছর অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


আরও খবর



নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ২১ জুন ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আগামী ২১ জুন (শুক্রবার) নয়াদিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট দুপুর ২টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ দ্বিপাক্ষিক সফর উপলক্ষ্যে ২১-২২ জুন সেখানে অবস্থান করবেন তারা।

বুধবার (১৯ জুন) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২২ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লীর ফোরকোর্টস্থ রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র সালাম গ্রহণ ও গার্ড অব অনার পরিদর্শন করবেন। এসময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হবে। ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ছবিও তোলা হবে এই সংবর্ধনা পর্বে। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজ ঘাটে অবস্থিত মহাত্মা গান্ধীর সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করবেন।

একইদিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক উপলক্ষ্যে হায়দ্রাবাদ হাউস গমন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হায়দ্রাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনা এবং দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এমওইউ ও চুক্তি বিনিময় এবং দুই নেতার প্রেস বিবৃতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে এখানে। এছাড়াও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্নভোজ আয়োজনের কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করবেন; প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে আনুষ্ঠানিক ছবি তোলার আয়োজনও থাকছে এই পর্বে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সফরের শুরুর দিন ২১ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবাসস্থলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর। ২২ জুন বিকেলে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখারের সঙ্গে তার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাক্ষাৎ করবেন। উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনরায় ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে গমন করবেন। এসময় ভারতের রাষ্ট্রপতি মিজ দ্রৌপদী মুর্মুর সাঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, দুই দিনের এ সফর শেষে ২২ জুন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


আরও খবর



কলকাতায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে দুই বাংলাদেশি নিখোঁজ

প্রকাশিত:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

চিকিৎসা করাতে কলকাতায় এসে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে নিখোঁজ হয়েছেন দুই বাংলাদেশি যুবক। কাকতালীয় হলেও মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে নিখোঁজের দুটি ঘটনাই ঘটেছে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মার্কুইস স্ট্রিট অঞ্চলে। ঘটনাটি কাকতালীয় হলেও রহস্য উন্মোচনের জন্য তদন্ত চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশ।

মা-বাবার সঙ্গে গত ১৮ জুন বাংলাদেশ থেকে কলকাতা আসেন পাবনার বাসিন্দা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। ১৯ জুন রাতেই হঠাৎ হোটেল থেকে দেলোয়ার উধাও হয়ে যান। এরপর ২০ জুন দিবাগত রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে কলকাতা পার্ক স্ট্রিট থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে মার্কুইস স্ট্রিটের প্যারামাউন্ট হোটেলে।

এ ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছে দেলোয়ারের পরিবার। এ বিষয়ে দেলোয়ারের বোন কামরুন্নাহার অমি জানান, আমার ভাই নার্ভের সমস্যায় আক্রান্ত। সে কিছুক্ষণ পরপরই সবকিছু ভুলে যায়। সহজেই কোনো কিছু মনে রাখতে পারে না। যে কারণে আমরা গত ১৯ জুন কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা করাই।

তিনি বলেন, ১৯ জুন রাতে আমি ও আমার স্বামী হোটেলের এক রুমে ছিলাম। পাশের রুমে ভাইকে নিয়ে বাবা-মা ছিলেন। রাত ১১টায় আমার বাবা-মা দেখতে পান হোটেলের রুমের দরজা খোলা। ঘরের মধ্যে ভাই নেই। সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের নিচে আসি। সেই রাতেই পথে অনেক খোঁজাখুঁজি করি। সেই রাতে না পেয়ে পরের দিন পার্ক স্ট্রিট থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করি।

কামরুন্নাহার অমি বলেন, ১৯ জুন রাতেই হোটেল সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায় দেলোয়ার রাত ১১টা ২৭ মিনিটে হোটেল ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে। খুব চিন্তায় আছি। ভাইকে সাত ঘণ্টা অন্তর অন্তর ওষুধ খেতে হয়। না হলে ভাইয়ের কথা আটকে যায় খাবারও গিলতে পারে না। কী হবে কিছুই বুঝতে পারছি না। যদিও পার্কস্ট্রিট থানার পাশাপাশি পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজার থানাও আমাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে।

একইভাবে গত ২৪ মে চিকিৎসা করাতে কলকাতায় এসে নিখোঁজ হন রাজশাহীর রাজপাড়া লক্ষীপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শিহাবুল ইসলাম শিহাব (২৪)। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। মা-বাবার সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে কলকাতা মানসিক রোগের চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন শিহাব। তার নামে লালবাজার থানায় মিসিং ডায়েরি হয়েছে, তবে এখনও তাকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। শিহাবের পরিবার উঠেছিলেন মার্কুইস স্ট্রিট সংলগ্ন কলিং স্ট্রিটের শামীমা হোটেলে।

শিহাবের বাবা শফিকুল ইসলাম কাঁদতে কাঁদতে জানান, ২২ মে চিকিৎসার কারণে কলকাতায় এসেছিলাম। ২৪ মে ছেলে হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। থানায় মিসিং ডায়েরি করেছিলাম। স্থানীয় সিসি টিভি ফুটেজেও দেখতে পাই ছেলে হোটেল থেকে একা বের হয়ে রাস্তার দিকে যাচ্ছে। এরপর কিছু জানি না। প্রায় একমাস হয়ে গেল। আর পারছি না। ছেলেকে নিয়েই দেশে ফিরতে চাই।

যদিও দুটি ঘটনার ক্ষেত্রেই পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি৷ তবে কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসের পক্ষে জানানো হয়েছে, তারা সব ঘটনাই পুলিশকে জানিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে তারা যোগাযোগ রেখে চলছে।


আরও খবর



রাজধানীতে নববধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৭

প্রকাশিত:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে এসে অপহরণ ও পরবর্তীতে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নববধূ। শনিবার (২৯ জুন) এ ঘটনার মূল হোতাসহ ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে খিলক্ষেত থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, নববধূকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে বনরূপা এলাকার ঝোপঝাড়ের মধ্যে নিয়ে মারধর করে এবং ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। একপর্যায়ে তারা ভিকটিমের স্বামীকে ছেড়ে দেয় মুক্তিপণের টাকা আনার জন্য। ভিকটিমের স্বামী ওই স্থান ত্যাগ করে ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশের সহায়তা চায়। এর মধ্যে আসামিরা ভিকটিমকে বিভিন্নভাবে মারধর করে ও শারীরিক নির্যাতন করে। ভিকটিম তাদেরকে কাঁদতে কাঁদতে না মারার জন্য বারবার অনুরোধ করে। আসামিরা ভিকটিমের আর্তনাদ কর্ণপাত না করে ভিকটিমের ওপর অমানুষিক অত্যাচার চালিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে আসামিরা ভিকটিমকে ধর্ষণ করে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালিয়ে যায়।

এসি ক্যান্টনমেন্ট জোন শেখ মুত্তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে খিলক্ষেত থানার কয়েকটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করেন।

শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, ওই নববধূ শুক্রবার সন্ধ্যায় তার স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে বের হন। তারা খিলক্ষেত থানা এলাকার ঢাকাময়মনসিংহ মহাসড়কের বনরূপা এলাকায় গেলে সেখানে আবুল কাশেম ওরফে সুমন নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে সাতজনের দল তাদের অপহরণ করে। ভুক্তভোগী নববধূ ও তার স্বামীকে বনরূপা এলাকার ঝোপঝাড়ের ভেতরে নিয়ে যান দুর্বৃত্তরা। পরে স্বামীর কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন তারা। মুক্তিপণের টাকা আনার জন্য ছেড়ে দিলে তিনি বেরিয়ে এসে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন। পুলিশ খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বনরূপা এলাকায় যায়। পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা ঝোপঝাড়ের ভেতরে বারবার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। ভোর ৪টার দিকে পুলিশ সেখান থেকে ভুক্তভোগী নববধূকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তা মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, ওই নারী পুলিশকে জানিয়েছেন, চারজন দুর্বৃত্ত তাকে ধর্ষণ করেন।

পুলিশের গুলশান বিভাগের ডিসি রিফাত রহমান শামীম বলেন, শুক্রবার রাতে ঘটনাটি জানানোর পরপরই অভিযান শুরু হয়। গ্রেপ্তাররা দলবদ্ধ ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। জড়িত একজন ওই নববধূর পূর্ব পরিচিত।

নিউজ ট্যাগ: দলবদ্ধ ধর্ষণ

আরও খবর



শুক্রবার নতুন কর্মসূচি দিলো কোটাবিরোধীরা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল এবং ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার (১২ জুলাই) দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমোবেশের ঘোষণা দিয়েছে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) চার ঘণ্টা বিক্ষোভের পর রাত ৯টার দিকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ হাসান।

তিনি বলেন, আমরা সব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাবো, নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব কিন্তু আপনাদের। আপনারা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। আমাদের ওপর হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনুন। আমাদের ওপর যে হামলা হয়েছে তার প্রতিবাদে আগামীকাল আমরা সারাদেশের সব ক্যাম্পাসে বিকেল ৪টায় বিক্ষোভ মিছিল করবো।

আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, হাইকোর্টের আংশিক রায়ে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছে। হাইকোর্টের আংশিক রায়ে বলা হয়েছে, সরকার চাইলে কোটার সংস্কার করতে পারে। এ বিষয়টিই আজ স্পষ্ট হয়েছে। যদি তাই হয়, তাহলে শেকৃবিতে কেন লাঠিচার্জ করা হলো? শাবিপ্রবিতে হামলা করা হয়েছে, চবিতে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর নারী পুলিশ হামলা করেছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা হয়েছে, রাবিতে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। মাভাবিপ্রবিসহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা করা হয়েছে। যারা হামলা করেছে তারা অতি উৎসাহী। সেই পুলিশদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, আমরা মনে করি, এতে সরকারেরই ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আপনারা এতদিন আমাদের বলেছেন, আদালতের প্রতি ভরসা রাখতে। এখন আদালত আপনাদের দায়িত্ব দিয়েছে সেটি আপনারা পালন করুন।

এর আগে আজ বিকেলে শাহবাগ মোড়ে দখল করেন তারা। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন। কোটা বাতিলের দাবিতে পূর্বঘোষিত বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালনের জন্য বিকেল ৩টা থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

এরপর সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা কলা ভবন, ভিসি চত্বর হয়ে শাহবাগে আসেন। শিক্ষার্থীরা আসার আগেই পুলিশ শাহবাগে ব্যারিকেড দিয়ে রাখে। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেড ভেঙে সেখানে অবস্থান নেন। এ সময় কিছু শিক্ষার্থীকে পুলিশের সাঁজোয়া যানের ওপর উঠে উল্লাস করতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রচলিত ছিল। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের জন্য ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিল।

ওই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে বড় বিক্ষোভ হয়। কোটাব্যবস্থার সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ কোটা থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। পরে সে বছরের ৪ অক্টোবর কোটাপদ্ধতি বাতিলবিষয়ক পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এর মাধ্যমে ৪৬ বছর ধরে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে যে কোটাব্যবস্থা ছিল, তা বাতিল হয়ে যায়। পরে ২০২১ সালে সেই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উচ্চ আদালতে রিট করেন। সেই রিটের রায়ে চলতি বছরের ৫ জুন পরিপত্রের ওই অংশ অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর চাকরিপ্রত্যাশী সাধারণ শিক্ষার্থীরা মাঠে নামেন।

টাকা কয়েক দিন আন্দোলনের পর গত ৯ জুলাই কোটা পুনর্বহাল নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। পরদিন হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর এক মাসের স্থিতাবস্থা জারি করেন আপিল বিভাগ। এ আদেশের ফলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র বহাল থাকছে। তবে শিক্ষার্থীরা আপিল বিভাগের এই আদেশ প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।


আরও খবর



হাসপাতালে নেই এন্টিভেনম

ঠাকুরগাঁওয়ে সাপের কামড়ে এক শিশুসহ দুইজনের মৃত্যু

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রেদওয়ানুল হক মিলন, ঠাকুরগাঁও

Image

সারা দেশে যখন রাসেলস ভাইপার নিয়ে এক প্রকার আতঙ্ক বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ে সাপের কামড়ে মারা গেছেন দুইজন। তবে তাদের কোন সাপ দংশন করেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রোববার (৭ জুলাই) ভোররাতে জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের চৌটাকী গ্রামের আকালু চন্দ্রের নয় বছর বয়সী শিশুকন্যা সুভাত্রা ও একই উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের বামুনিয়া নিটাল ডোবা এলাকার মো: জয়নালের স্ত্রী শাহারা বানু (৪০) কে সাপ দংশন করে।

নিহত সুভাত্রার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোররাতে ঘুমন্ত অবস্থায় বিছানায় সুভাত্রাকে সাপে কামড় দেয়। ব্যাথা অনুভব করায় সুভাত্রা তার মাকে জানান তাকে কি যেন কামড় দিয়েছে। পরে তার মা দেখে একটি সাপ ঘর থেকে বেড়িয়ে যাচ্ছে। তবে কোন সাপ তা বলতে পারে না তারা। তৎক্ষণাৎ সুভাত্রাকে চিকিৎসার জন্য ওঝা ডেকে আনা হয়। পরে তার অবস্থা অবনতির দিকে গেলে ভোর ৫ দিকে সুভাত্রার মৃত্যু হয়। সুভাত্রা চৌটাকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলো।

অন্যদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ সাপেড় কামড়ে আক্রান্ত হয় শাহারা বেগম নামে এক নারী। পরবর্তীতে রাত ৮টায় তাকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এবিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ আহাদুজ্জামান সজিব জানান, সাপের কামড়ে আক্রান্ত নারী হাসপাতালে আসতে দেরি করায় সময়মত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয়নি। সে কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালেও পর্যাপ্ত এন্টিভেনম ইনজেকশন নেই। তাই সবাইকে সচেতন হবার আহবান এই চিকিৎসকের।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ কবির মৃত্যু দুটির বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সাপের কামড়ে এক শিশু ও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলের দুই জায়গায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে।


আরও খবর