আজঃ মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২
শিরোনাম

যেসব খাবার নিমিষেই দূর করবে পেটের গ্যাস

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | ৪৬৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ছোট বড় সবাই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগে থাকেন। তৈলাক্ত ও ভারী খাবারই মূলত এর জন্য দায়ী। শুরুতে সচেতন না হলে এ সমস্যা পরবর্তী সময়ে আলসারে রূপান্তর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেকেই এটা থেকে মুক্তি পেতে ঝুঁকে পরেন ওষুধের দিকে। এতে সাময়িক সময়ের জন্য মুক্তি মিললেও আসলে এটি ক্ষতিকর। তবে এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো নিয়মিত খেলে খুব সহজেই আপনার গ্যাস্ট্রিক চিরতরে দূর করতে সাহায্য করবে। যেমন-

আদা: অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানসমৃদ্ধ খাবার আদা এ ক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী। পেট ফাঁপা ও পেটে গ্যাস হলে আদা কুচি করে লবণ দিয়ে খান, দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্যাসের সমস্যা ভালো হবে।

দই: দইয়ে ল্যাকটোব্যাকিলাস, অ্যাসিডোফিলাস ও বিফিডাসের মতো নানা ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে। এই সকল উপকারী ব্যাকটেরিয়া দ্রুত খাবার হজমে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে খারাপ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। তাই দই খেলে হজম ভালো হয়, গ্যাস কমে। এজন্য খাবারের পর দই খাওয়াটা বেশ কার্যকর।

রসুন: অ্যাসিডিটির সমস্যা হ্রাস করতে রসুনের কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। এ ক্ষেত্রে এক কোয়া রসুন খেয়ে ফেললেই স্টমাকে অ্যাসিড ক্ষরণের মাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ফলে গ্যাস সংক্রান্ত বিভিন্ন উপসর্গ ধীরে ধীরে কমে যেতে শুরু করে।

পুদিনা পাতার পানি: পুদিনা পাতা গরম পানিতে ফুটিয়ে খেলে পেট ফাঁপা, বমি ভাব দূর করতে সাহায্য করে।

পানি পান: পানি পানের সুফলের কথা সবাই জানেন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে দুই গ্লাস করে পানি পান করবেন, দেখবেন সারা দিন আর গ্যাস্ট্রিকের যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে না। কারণ পানি হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। তা ছাড়া পানি পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখতেও কাজ করে।

পেঁপে: পেঁপেতে রয়েছে পেপেইন নামক এনজাইম যা হজমশক্তি বাড়ায়। তাই নিয়মিত পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস করলে গ্যাসের সমস্যা কমতে থাকবে।

কলা: যারা বেশি করে লবণ খান, তাদের গ্যাস ও হজমে সমস্যা হতে পারে। কলায় যে পটাশিয়াম থাকে, তাতে শরীরের সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় থাকে। কলা হজমে সাহায্য করে। দেহ থেকে দূষিত পদার্থ দূর করে দেয়।

শসা: শসা পেট ঠাণ্ডা রাখতে অনেক বেশি কার্যকরী। এতে রয়েছে ফ্লেভানয়েড ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা পেটে গ্যাসের সমস্যা কমায়।

আনারস: আনারসে রয়েছে ৮৫ শতাংশ পানি এবং ব্রোমেলিন নামক হজমে সাহায্যকারী প্রাকৃতিক এনজাইম যা অত্যন্ত কার্যকরী একটি পাচক রস। এটি পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখে। এ ছাড়া আনারস ত্বকের জন্যও বেশ উপকারী।

হলুদ: হজম সংক্রান্ত সব ধরনের সমস্যা সমাধানে হলুদ বেশ কার্যকর। এটি চর্বিজাতীয় খাবার হজমে সাহায্য করে।

ডাবের পানি: ডাবের পানি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেকটাই দূর করতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে ফাইবার, যা হজমশক্তি বাড়ায় এবং পাশাপাশি অ্যাসিডিটি কমায়। এ ছাড়াও বুক জ্বালা পোড়া ও পেটে ব্যথা কমাতে ডাবের পানি অত্যন্ত কার্যকরী।

এই উপায়গুলো নিয়মিত মেনে চললে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। অবশ্যই সেইসঙ্গে খাবারে অনিয়ম ও তৈলাক্ত ভাজা পোড়া জাতীয় খাবার খাওয়া বন্ধ করতে হবে।


আরও খবর
বিফ সাসলিক তৈরির রেসিপি

সোমবার ২৭ জুন ২০২২




স্তন ক্যানসার কী, কেন হয় ও চিকিৎসা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৭ জুন ২০২২ | ৩৭৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

শরীরে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ক্যান্সার হলো স্তন ক্যান্সার। সারা বিশ্বে বর্তমানে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৫ হাজারের বেশি মানুষ স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এসব রোগীর মধ্যে ৯৮ শতাংশের বেশি নারী এবং অল্পসংখ্যক পুরুষ রয়েছেন। পুরুষের চেয়ে নারীদের এই  রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি। কারণ হিসেবে দেখা যায়, নারীরা তাদের নিজেদের  গোপনাঙ্গের রোগগুলো বা টিউমারের মতো অনুভূত হলেও এ নিয়ে সহজে কারও সঙ্গে কথা বলতে চান না। যে কারণে অজ্ঞানতা আর লজ্জার কারণেই নারীরা স্তন ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

স্তন ক্যান্সার কি?

চিকিৎসা পরিভাষায় স্তন ক্যান্সার বলতে স্তনের কিছু কোষ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়াকে  বোঝায়। কালক্রমে এই অনিয়মিত ও অতিরিক্ত  কোষগুলো বিভাজনের মাধ্যমে টিউমার বা পিণ্ডে পরিণত হলে রক্তনালির লসিকা ও অন্যান্য মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।

যেসব কারণে স্তন ক্যান্সার হতে পারে বলে মনে করা হয়:

স্তন ক্যান্সার হওয়ার নির্দিষ্ট  কোনো কারণ আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে সন্তানদের বুকের দুধ না খাওয়ানো মায়েদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি বলে তারা মনে করছেন। এ ছাড়া বংশগত বা হরমোনজনিত কারণে, অতিরিক্ত ওজন থাকলে, বেশি বয়সে বিয়ে করা, ৩০ বছরের পর নারীদের প্রথম বাচ্চা নেয়া, বারো বছরের আগে ঋতুস্রাব হওয়া এবং  দেরিতে মেনোপজ বা ঋতু বন্ধ হওয়াকেও ক্যান্সারের কারণ বলে গণ্য করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল বা হরমোনের ইনজেকশন নেয়া, ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়া, ডায়েটে শাকসবজি ও ফলমূল কম রাখা, প্রক্রিয়াজাত খাবার বা প্রিজারভেটিভ খাবার খাওয়ার অভ্যাস, কৃত্রিম মিষ্টি ও রংযুক্ত খাবার খাওয়া, অ্যালুমিনিয়াম  বেজড উপাদান সমৃদ্ধ ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করা, দীর্ঘদিন এয়ার ফ্রেশনার, কীটনাশক, অতিরিক্ত  কেমিক্যালযুক্ত কসমেটিকস, ডিওডোরেন্ট এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শে থাকাকে চিকিৎসকরা স্তন ক্যান্সারের কারণ বলে মনে করছেন।

লক্ষণগুলো:

স্তনে ক্যান্সার হলে এর কিছু লক্ষণ দেখা যায়। এগুলো হলো- স্তন বা বগলে চাকা বা দানা দেখা  দেয়া, স্তনের চামড়ার রং পরিবর্তন হওয়া বা চামড়া মোটা হওয়া, নিপল বা স্তনের বোঁটা  ভেতরে দেবে যাওয়া, নিপল দিয়ে রক্ত বা পুঁজ পড়া ইত্যাদি। তাই যদি এসব লক্ষণ স্তনে শরীরে  দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

পরীক্ষা বা টেস্টগুলো:

যদি স্তন ক্যান্সারের লক্ষণগুলো সন্দেহ হয় তাহলে চিকিৎসক আপনাকে দেখে সত্যিই শরীরে ক্যান্সার আছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য  মেমোগ্রাম, স্তন এবং বগলের আলট্রাসনোগ্রাম, এফএনএসি, কোর বায়োপসি বা ট্রুকাট বায়োপসি এবং হিস্টোপ্যাথলজির মতো পরীক্ষাগুলো করার জন্য বলে থাকেন।

চিকিৎসা ও প্রতিরোধ:

যদি স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ে তাহলে ধরন অনুযায়ী সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপি ও টার্গেটেড  থেরাপি এসব চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। কেবল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকই কোন চিকিৎসা করবেন তা নির্ধারণ করে থাকেন। তবে প্রতিরোধই হলো সর্বোৎতম চিকিৎসা। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত ব্রেস্ট ক্যান্সার স্ক্রিনিং।  সেই সঙ্গে সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এই ক্যান্সার জয় করা সম্ভব। স্তন ক্যান্সার জটিলতা বেড়ে গেলে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই লজ্জা নয়, প্রতিটি সমাজে এর সচেতনতা প্রয়োজন, যাতে স্তনে এর লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত প্রতিরোধি ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে সময়ক্ষেপণে স্তনে টিউমার বা পিণ্ডটি বড় হয়ে না যায় বা ছড়িয়ে না পড়ে। তাই স্তনে শুরুতে কিছুটা দানা বা পিণ্ড অনুভব করেন কোনো অবহেলা নয় দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। এর রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের হোমিও ওষুধ ও চিকিৎসা। যদি প্রাথমিক অবস্থায় স্তনে টিউমার দেখা যায় এবং সচেতনতার সহিত সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা করতে পারলে হোমিও চিকিৎসাতে  স্তন ক্যান্সার বা টিউমার আরোগ্য হয়। ভালো থাকুন, সুস্থ জীবনযাপন করুন।

নিউজ ট্যাগ: স্তন ক্যানসার

আরও খবর
বিফ সাসলিক তৈরির রেসিপি

সোমবার ২৭ জুন ২০২২




দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই ঘুরে দাঁড়ালো বাংলাদেশ

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ জুন ২০২২ | ২১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

প্রথম দিনটা হতাশারই কেটেছিল। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই ঘুরে দাঁড়ালো বাংলাদেশ। দারুণ বোলিং করলেন বোলাররা। বাংলাদেশ এক সেশনেই পেল চার উইকেট, দিল ম্যাচে ফেরার বার্তা।

সেন্ট লুসিয়ায় দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচের প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের চেয়ে ৯৭ রানে পিছিয়ে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ১৩৭ রান। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৩৪ রানে অলআউট হয় টাইগাররা।

কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ৩০ ও জন ক্যাম্পবেল অপরাজিত ছিলেন ৩২ রানে। দ্বিতীয় দিনে ইনিংসের ২৬তম ওভারে এসে এই দুজনের জুটি ভাঙেন শরিফুল ইসলাম। 

তার বাড়তি বাউন্সে করা শর্ট পিচ বল পুল করতে গিয়ে গতির কাছে হার মানেন ক্যাম্পবেল। ক্যাচ তুলে দেন উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো নুরুল হাসান সোহানের হাতে। এরপর ছোট একটি জুটি গড়ে ওঠেছিল ব্র্যাথওয়েট ও রেমন রাইফারের। 

ক্যারিবীয়ান অধিনায়ককে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। আর্ম বলে পরাস্ত হওয়ার আগে ৭৯ বলে ৪৫ রান আসে ব্র্যাথওয়েটের ব্যাট থেকে। ৩১ রানের জুটি ভাঙার পরই ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। 

২ রানের ভেতর তুলে নেয় তিন উইকেট। মিরাজ ব্র্যাথওয়েটকে ফেরানোর ঠিক পরের ওভারে বোলিংয়ে আসেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। ওই ওভারেই তিনি তুলে নেন দুই উইকেট। 

৪১ বলে ২২ রান করা রাইফার ও ৭ বলে ০ রান করা এনক্রুমাহ বোনার দুজনকেই বোল্ড করেন তিনি। মুহূর্তেই ধীরে ধীরে ছিটকে যেতে থাকা ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়ানদের হয়ে এখন ক্রিজে আছেন জার্মেইন ব্ল্যাকউড ও কাইল মেয়ার্স। যথাক্রমে তারা করেছেন ২ ও ৪ রান।


আরও খবর



পদ্মার পানি বৃদ্ধি : ফরিদপুরে তলিয়ে গেছে ২৬৪ হেক্টর বাদামক্ষেত

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:সোমবার ২০ জুন ২০22 | ৪০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ফরিদপুরে চরাঞ্চলের ২৬৪ হেক্টর জমির বাদামক্ষেত তলিয়ে গেছে। এতে ফরিদপুর সদরের পদ্মা নদী বেষ্টিত নর্থচ্যানেল, চরমাধবদিয়া এবং ডিক্রিরচর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে বাদাম চাষ করা কয়েকশ কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার লেভেল ৮ দশমিক ৬৫ সেন্টিমিটার। এখানে নতুন করে পদ্মা নদীতে ২৫ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৭ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মাসহ কয়েকটি নদীতে জেগে ওঠা চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে পাঁচ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়। এর মধ্যে পাঁচ হাজার এক হেক্টর জমির বাদাম ঘরে তুলতে পারলেও গত কয়েকদিনে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের ২৬৪ হেক্টর জমির বাদাম তলিয়ে গেছে।

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছেন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এতে নতুন করে আরও বাদামের জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. হজরত আলী বলেন, এ এলাকায় সারা বছরই বাদাম চাষ হয়। বাদাম চাষের ফলন পেতে পাঁচ মাস সময় লাগে। ফলে অনেক সময় কিছু নদীর চর জাগতে দেরি হওয়ায় কৃষকরা একটু দেরিতে বাদাম চাষ করেন। এ কারণে প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে বাদামের ফলন নির্ভর করে। ৯০ শতাংশ কৃষক এরই মধ্যে বাদাম ঘরে তুলতে পেরেছেন। বাকি কৃষকদের বাদাম ক্ষেত হয়তো তলিয়ে গেছে। তবে এ পানিতে বাদামচাষিদের বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে না বলে জানান তিনি।


আরও খবর



বাতাসে ‘বিষ’, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২ | ৩১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

জীবন ও জীবিকার তাগিদে ধারণক্ষমতার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি মানুষ বসবাস করছে ঢাকায়। সেই সঙ্গে পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে চলছে উন্নয়নকাজ। ফলে চাপ বাড়ছে ঢাকার পরিবেশের ওপর। সবচেয়ে বেশি দূষণ ঘটছে বায়ুর। ধুলোয় ধূসর ঢাকার বায়ুদূষণ দিন দিন বেড়েই চলছে। অক্সিজেনসমৃদ্ধ বাতাসে এখন ভাসছে বিষ, যা মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে ঢুকছে শরীরে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের কারণে সারাদেশে মানুষের গড় আয়ু কমেছে প্রায় পাঁচ বছর চার মাস। ঢাকায় কমছে প্রায় সাত বছর সাত মাস। তার মানে ঢাকায় বায়ুদূষণ না থাকলে একজন নাগরিক আরও প্রায় সাত বছর সাত মাস বেশি বাঁচতে পারতেন। সেই সঙ্গে বায়ুবাহিত রোগে প্রতি বছর দেড় লাখেরও বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। কিডনি, হৃদরোগসহ ক্যানসার রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। নষ্ট হচ্ছে নারী-পুরুষের প্রজনন ক্ষমতাও। অতি বায়ুদূষণের ফলে পরিবর্তন হচ্ছে জলবায়ুর। উত্তপ্ত হচ্ছে বায়ুমণ্ডলের ওজনস্তর। পরিবেশ দূষণরোধে আইন থাকলেও তা মানার বালাই নেই সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষেরই। নগরে মেগা উন্নয়নকাজে বায়ুদূষণরোধের কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। বেশির ভাগ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানই সরকারি। পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা এদের বিরুদ্ধে কঠোর না হওয়ায় কমছে না বায়ুদূষণ।

অন্যদিকে, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সড়কে পানি ছিটানোর কথা বললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। বায়ুদূষণ রোধে নির্মল বায়ু আইন-২০১৯ থাকলেও বাংলাদেশে তা যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে না। বায়ুদূষণ রোধে নজরদারি না বাড়ালে বসবাসের অযোগ্য ও বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে নগরবাসীর জীবনে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ু পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের ২০২১ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১১৭টি দেশের মধ্যে বায়ুদূষণের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। দূষিত বায়ুর শহর হিসেবে বিশ্বের ৬ হাজার ৪৭৫টি শহরের মধ্যে রাজধানী ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। ২০২১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রত্যাশিত বায়ুমানের প্রতিবেদনেও দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বাতাসের মান বিশ্বে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের আগের তুলনায় বাড়বে স্বাস্থ্যঝুঁকি। অন্যদিকে গত ১০ বছরে উন্নয়নকাজের ফলে রাজধানীতে বেড়েছে খোঁড়াখুঁড়ির পরিমাণ। বেশ কয়েকটি মেগাপ্রকল্প, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, নির্মাণাধীন স্থাপনা ও কলকারখানার বর্জ্য, নিয়মিত রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করাসহ নানা কারণে দূষিত হচ্ছে ঢাকার বাতাস।

স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিনিয়তই বাড়ছে ঢাকায় বায়ুদূষণ। ফলে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হৃদরোগ, অ্যাজমাসহ নানা ব্যাধি নিয়ে হাসপাতালে বাড়ছে রোগী। বাতাসে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন মনোক্সাইড, সিসা, নাইট্রোজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোকার্বন, বেনজিন, সালফার ও ফটোকেমিক্যাল অক্সিডেন্টস বায়ুতে মিশে যাচ্ছে। এতে উত্তপ্ত হচ্ছে বায়ু। আর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে ঢাকা নগরী। মেয়াদোত্তীর্ণ মোটরযানের অনিয়ন্ত্রিত কালো ধোঁয়ায় সৃষ্ট মিথেন গ্যাস, ইথেলিন বাতাসে মিশ্রিত হয়ে প্রাণীদেহে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করছে। গাছের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া বা সালোক সংশ্লেষণ অতিরিক্ত বায়ুদূষণের ফলে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এর প্রভাব পুরো প্রাণী জগতের ওপর পড়ছে। জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের এক গবেষণা অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যত শিশুকে অভিভাবকরা ঢাকা শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান, তাদের ৪৯ শতাংশ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত।

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার বাতাসে ধুলোবালি এবং শিল্পকারখানার ধোঁয়া বেড়ে যাওয়ায় বাতাসের মান দিন দিন খারাপ হচ্ছে। বর্তমানে দূষণের যে মাত্রা তাতে ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। বাতাসে ভাসছে বিষ। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময় ৬৪ জেলার তিন হাজার ১৬৩টি স্থানের গড় অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ১০২ দশমিক ৪১ মাইক্রোগ্রাম, যা দৈনিক আদর্শ মানের (৬৫ মাইক্রোগ্রাম) চেয়ে প্রায় ১ দশমিক ৫৭ গুণ বেশি। পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ৬৪ জেলার মধ্যে গাজীপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি দূষণ পরিলক্ষিত হয় যার মান ছিল প্রতি ঘনমিটারে ২৬৩ দশমিক ৫১ মাইক্রোগ্রাম। গাজীপুরের পরের অবস্থানে রয়েছে পার্শ্ববর্তী জেলা ঢাকা (দ্বিতীয়) ও নারায়ণগঞ্জ (তৃতীয়) যার বায়ুমান ছিল যথাক্রমে ২৫২ দশমিক ৯৩ এবং ২২২ দশমিক ৪৫ মাইক্রোগ্রাম। সবচেয়ে দূষিত তিনটি শহরের বায়ুমান ছিল বাংলাদেশের আদর্শমানের চেয়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও সংস্কারকাজ, মেগাপ্রকল্প, আশপাশের ইটভাটা, ছোট-বড় কয়েক হাজার শিল্প কারখানা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং ময়লা-আবর্জনা পোড়ানো এ প্রধান তিনটি শহর দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে পরিলক্ষিত হয়।

বায়ুদূষণের রয়েছে নানা কারণ। এসব কারণের নেই কোনো সমাধানের উদ্যোগ। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সোবহান বলেন, ঢাকা শহরে যে বায়ুদূষণের চিত্র আমরা দেখি সেটি অত্যন্ত ভয়াবহ। সরকারি সংস্থা আগে বলতো ইটভাটা, গাড়ির ধোঁয়ার কারণে বায়ুদূষণ হয়। এখন সেগুলো নেই, কিন্তু তারপরও তো দূষণের মাত্রা কমেনি। এখন দূষণের মূল কারণ হলো চারটি। এর একটি হলো- যে মেগাপ্রকল্প নেওয়া হচ্ছে তার কার্যক্রম, যানবাহনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, বছরজুড়ে রাস্তা খোঁড়াাখুঁড়ি এবং নিয়মিত ঢাকা শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করা। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র নিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও মেগাপ্রকল্পগুলোতে প্রচুর ধূলার সৃষ্টি হয়। অথচ বলা আছে সেখানে কীভাবে তারা ধুলো ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করবে। তারা সেটা করছেন না। বিদেশি প্রতিষ্ঠান এখানে বায়ুদূষণ করে কাজটা করলেও তারা নিজেদের দেশে এভাবে কাজটা করতে পারছেন না। স্থানীয়রাও বেশিরভাগই সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, তারাও সেটা নিয়ন্ত্রণ করছেন না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বিশেষ ভূমিকা নেওয়া উচিত। ঢাকা শহরে খোঁড়াখুঁড়িতে যেসব সংস্থাকাজ করে তারা যতটুকু সংস্কার প্রয়োজন সেটা একসঙ্গেই করে। ফলে এ দূষণটা বিশাল এলাকাজুড়ে চলতে থাকে। কিন্তু সেটা যদি একেবারে না করে অল্প-অল্প করে কাজ করতো তাহলে এত দূর্ষণ হতো না। সিটি করপোরেশনের যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান সেটা অত্যন্ত দুর্বল। রাজধানীর রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার কথা সেখানে ঢাকায় প্রতিটি রাস্তাই অপরিচ্ছন্ন। অথচ এজন্য সিটি করপোরেশনের লোকবল রয়েছে। নিয়মিত পানি ছিটানোর কথা থাকলে সেটা করা হচ্ছে না। এ সবগুলো তদারকির অভাবেই বায়ুদূষণটা বেড়েই চলেছে। জেলা সদরগুলোতে একই চিত্র দেখা যায়।

ট্রাস্টিজের সদস্য বিশিষ্ট নগর ও পরিবেশবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, টেকসই উন্নয়নের পরিবর্তে শুধু উন্নয়ন যে উন্নয়ন পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং পরিবেশকে সংবেদনশীলতা না রেখে কার্যক্রম পরিচালনা এবং তার নিয়ন্ত্রণে অনীহা ও দায়িত্বহীন আচরণ বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। মূল কারণ চিহ্নিত হয়েছে, সে অনুযায়ী আইনের যে পরিবর্তন সেটার জন্য আইন সংশোধন করা হয়েছে। কিন্তু সে আইন এখনো পাস করা হয়নি। পরিবেশের প্রতি অনীহা জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। সবার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং সেই দায়বদ্ধতার জন্য প্রকৃত কর্তৃপক্ষ তৈরি করা। সেই সঙ্গে আইন বাস্তবায়ন করা এবং সবার সম্মিলিত প্রয়াস ও জনসচেতনতা নিশ্চিত করতে হবে।

নিউজ ট্যাগ: বায়ুদূষণ

আরও খবর



গাজীপুরে তেলবাহী ট্রেনের ৪টি বগি লাইনচ্যুত

প্রকাশিত:রবিবার ০৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৫ জুন ২০২২ | ৩৭৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলস্টেশের সামনে রংপুর গামী একটি তেলবাহী ট্রেনের ৪টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে ঢাকামুখী লেনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে রেলক্রসিংয়ের ধারে বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় শহরে প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণত মানুষ।

রোববার (৫ জুন) দুপুর সাড়ে ১২ টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার রেজাউল ইসলাম।

রেজাউল ইসলাম বলেন, জয়দেবপুর রেলগেটে মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে ঢাকা মুখী ট্রেন চলাচল সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রয়েছে। শিববাড়ী-রেলগেট-রাজবাড়ী রোড বন্ধ রয়েছে। যার ফলে এই মুহুর্তে শহরে কোনো ধরনের যানবাহন প্রবেশ করতে পারছে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ইতোমধ্যে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।


আরও খবর