আজঃ মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২
শিরোনাম

ভুয়া কাবিননামা দিয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা, কনেসহ কারাগারে-৬

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৩ জুন ২০২২ | ৩৩৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে যৌতুক, নারী নির্যাতন ও মোটা অঙ্কের মোহরানার দাবিতে সেই স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে জেল খাটানোর পর তা মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় কথিত কনেসহ তার ৫ সহযোগীকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত। বুধবার (২২ জুন) বিকেলে ওই আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেওয়ার পর কথিত কনেসহ ৬ জনকে সন্ধ্যায় জেল হাজাতে পাঠানো হয়।

কথিত কনেসহ অভিযুক্ত ৬ জন হলেন- দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের মৃত রুবেল শেখের মেয়ে রিনী আক্তার (২৮), একই গ্রামের উত্তর পাড়ার এবারত আলীর ছেলে ইসরাইল শেখ (ইছা), একই উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের  মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে আবু স্ঈাদ, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার উত্তর গোপালপুর গ্রামের  হায়দার আলীর ছেলে সোহেল রানা, একই উপজেলার রতনপুর গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে পারভেজ আলী ও বগুড়া সদর উপজেলার আটাপাড়া গ্রামের মৃত ইমান আলী সরদারের ছেলে রবিউল ইসলাম।

মামলা সূত্রে জানায়, রিনী আক্তার ব্যবসার সুবাদে প্রায় বগুড়া জেলা শহরে যাতায়াত করতেন। রিনী তার মোটরসাইকেলের রেজিষ্ট্রেশনের প্রয়োজনে বগুড়া সদর ডাক অফিসের সরকারি কর্মকর্তা আলআমিনের সাথে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে রীনি জানতে পারেন আলআমিন মোটা বেতনের একজন সরকারি চাকরিজীবি। অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল হিসেবে প্রথমে তার ব্যবসায় পুঁজি বিনিয়োগ করতে আলআমিনকে প্রলুব্ধ করেন।

আলআমিন এতে রাজী না হলে রিনী আক্তার তার সহযোগীদেরকে স্বাক্ষী করে জয়পুরহাট জেলা শহরের পাটারপাড়া এলাকার মৃত কাজী নূরল ইসলামকে বিয়ের কাজী দেখিয়ে বিয়ের ভুয়া রেজিষ্ট্রি ও ৫ লাখ টাকার দেনমোহরের কাবিননামা তৈরি করেন। পরে ২০২১ সালের ২২ আগষ্ট রিনী দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলা করেন। একই বছর ১৯ অক্টোবর সেই মামলায় হাজিরা দিতে গেলে আদালত আলআমিনকে দিনাজপুরের জেল হাজাতে নেওয়া হয় ও গত ৩১ অক্টোবর তিনি জামিনে মুক্ত হন।

এদিকে সেই ভুয়া কাবিন নামা চ্যালেঞ্জ করে আলআমিন গত বছর ৯ আগষ্ট জয়পুরহাট চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে রিনীসহ তার সহযোগীদের (কাবিন নামার স্বাক্ষী) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এতে আদালত তদন্তের জন্য জেলা সাব রেজিষ্টারের কাছে নির্দেশ দিলে সদর সাব রেজিষ্টার দোস্ত মোহাম্মদ গত বছর ১১ অক্টোবর আদালতে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। ওই তদন্ত রিপোর্টে রিনী ও আল আমিনের বিয়ের কাবিননামা ভুয়া প্রমানিত হয়।

বুধবার (২২ জুন) বাদী পক্ষের আইনজীবি এ্যাডভোকেট মানিক হোসেন ও আসামীগনের পক্ষের আইনজীবি এ্যাডভোকেট এস এম আশফাকুল আলম রাজুর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে ভুয়া তথ্য দিয়ে আল আমিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করায় রিনীসহ তার ৬ সহযোগীকে জেল হাজাতে পাঠানোর নির্দেশ দেন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ্ আল মামুন।

আসামিগণের পক্ষের আইনজীবি এ্যাডভোকেট এস এম আশফাকুল আলম রাজু বলেন, এ আদেশের বিরুদ্ধে তারা আপীল করবেন।জয়পুরহাট আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল লতীফ খান জানান, আইনী প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের সন্ধ্যায় জেল হাজাতে পাঠানো হয়েছে।

 


আরও খবর



ভূরুঙ্গামারীতে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ জুন ২০২২ | ১৬৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে আলতাফ হোসেন ফিরোজ (১৮) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৫ জুন) মধ্যরাতে বাড়ি ফেরার পথে রাঙ্গেলীর কুটি গ্রামের নির্জন বাঁশঝাড়ে এ ঘটনাটি ঘটে।

নিহত আলতাফ হোসেন ফিরোজ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের রাঙ্গেলীর কুটি গ্রামের মৃত মল্লুক চানের ছেলে।

নিহতের ভাবী জেসমিন বেগম জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে ১২টার সময় দোকান বন্ধ করে মটরসাইকেল করে বাড়ি ফিরছিল ফিরোজ। পথে জোনব আলীর বাঁশঝাড়ের কাছে পৌঁছালে কয়েকজন দূর্বৃত্ত তার পথ রোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ দেয় এবং মারধর করে পালিয়ে যায়। এ সময় তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে গেলে তাকে সড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ফিরোজকে উদ্ধার করে বাড়িতে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। পরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠায় কচাকাটা থানা পুলিশ।

তিনি আরও বলেন, ফিরাজ খুব সহজসরল ছিলা। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম বলেন, খুনের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দোষীদের গ্রেফতার করতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।


আরও খবর



খোঁজ মিললো সেই নেপালি বিমানের

প্রকাশিত:রবিবার ২৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৯ মে ২০২২ | ৩৮০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

প্রায় ৫ ঘণ্টা পর ২২ আরোহী নিয়ে নেপালে নিখোঁজ হওয়া বিমানের সন্ধান মিলেছে। বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে মানাপাঠি হিমাল এলাকায়। এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস ও এনডিটিভি।

এর আগে আজ রবিবার সকালে নেপালের পোখরা থেকে জমসনের দিকে যাওয়ার সময় দেশটির তারা এয়ারলাইন্সের একটি প্লেন নিখোঁজ হয়। প্লেনে ১৯ জন যাত্রী ও ৩ ক্রুসহ মোট ২২ জন আরোহী ছিল বলে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাঠমান্ডু থেকে ২০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমের পর্যটন শহর পোখরা থেকে উড়োজাহাজটি জমসন শহরে যাচ্ছিল। জমসন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর ১৫ মিনিট আগে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে উড়োজাহাজটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।

বিমানটির আরোহীদের মধ্যে ১৩ জন নেপালি নাগরিক, চারজন ভারতীয়, দুইজন জার্মান নাগরিক এবং তিনজন ক্রু সদস্য ছিল বলে জানা গেছে। নিখোঁজ বিমানের খোঁজে নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারও মোতায়েন করা হয়েছে।

মুসতাং জেলার জমসন এলাকার আকাশে উড়োজাহাজটি সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল। এরপর সেটি ধৌলাগিরির দিকে যেতে শুরু করে। এরপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

নিউজ ট্যাগ: নেপালি বিমান

আরও খবর



অনলাইনে ভ্রমণ কর দেবেন যেভাবে

প্রকাশিত:রবিবার ২৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৯ মে ২০২২ | ৩৮৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ট্রাভেল ট্যাক্স বা ভ্রমণ কর সম্পর্কে মোটামুটি সবারই কমবেশি ধারণা আছে! সড়কপথে ভ্রমণের জন্য যে কর প্রদান করা হয় সেটিই মূলত ট্রাভেল ট্যাক্স। যদিও এই ভ্রমণ কর পরিশোধ করা বেশ ঝক্কির কাজ ছিল একসময়। তবে ডিজিটাল এই যুগে এখন আর ভ্রমণ কর পরিশোধ করতে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল বা নিউমার্কেট শাখায় যেতে হবে না। ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমেই কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিশোধ করতে পারবেন ট্রাভেল ট্যাক্স।

২০২০ সালের ২৫ জানুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানায়, এখন থেকে অনলাইনেই ভ্রমণ কর দেওয়া যাবে। তবে কীভাবে অনলাইনে ভ্রমণ কর পরিশোধ করতে হয় তা জানা নেই অনেকেরই। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক ধাপে ধাপে কীভাবে কাজটি করবেন-

অনলাইনে ভ্রমণ কর প্রদানের জন্য প্রথমে ভিজিট করুন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর ওয়েবসাইটে। তারপর উপরের বেশ কয়েকটি অপশনের মধ্য থেকে ই-সার্ভিস এ ক্লিক করুন। তারপর কয়েকটি সাব অপশন দেখতে পাবেন। ইনকাম ট্যাক্স নামক অপশনে ক্লিক করলে আবার ৬টি অপশন খুঁজে পাবেন। তার মধ্য থেকে ৫ নম্বর অপশন অর্থাৎ ট্রাভেল ট্যাক্স এ ক্লিক করুন। দেখবেন একটি ভিন্ন পেইজ আপনার সামনে চলে এসেছে। একটি ফরম দেখতে পাবেন আপনি। প্রথমেই দেখবেন লাল অক্ষরে লেখা আছে অনুগ্রহপূর্বক পাসপোর্টের সাথে মিল রেখে ফরমটি ইংরেজিতে পূরণ করুন।

বেনাপোল, দর্শনা ও ভোমরা স্থল বন্দর দিয়ে ভ্রমণকারীরা এই সেবা পাবেন। শীঘ্রই অন্যান্য বন্দর এই সেবার আওতায় আসবে। নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, বর্তমানে মাত্র ৩ স্থলবন্দরের জন্য অনলাইনে ভ্রমণ কর পরিশোধ করা যাবে। আপনার নাম, পাসপোর্ট নম্বর, যাত্রীর ধরন (প্রাপ্তবয়স্ক নাকি শিশু), পরিবহনের ধরন (সড়কপথ, জলপথ, আকাশপথ), গন্তব্যস্থল, মোবাইল নম্বর যথাযথ স্থানে লিখুন। এরপর ট্রাভেল ট্যাক্স হিসেবে সড়কপথে ৫০০ টাকা, জলপথে ৮০০টাকা (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য) প্রদান করতে হবে। সঙ্গে ৫-১২ বছরের শিশু থাকলে সড়কপথে ২৫০ টাকা ও জলপথে ৪০০ টাকা ভ্রমণ কর দিতে হবে। তবে এর কমবয়সীদের জন্য কোনো ভ্রমণ কর দিতে হবে না। বিমান ও ট্রেনে সাধারণত টিকিটের সঙ্গেই ভ্রমণ কর কেটে নেওয়া হয় এজন্য আলাদাভাবে তা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

ফরমের সব তথ্য পূরণ করার উপর নীল রঙের সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। এবার আপনার দেওয়া সব তথ্য পুনরায় দেখানো হবে। এ পর্যায়ে ভালো করে দেখুন সব তথ্য ঠিক আছে না। যদি কোথাও সংশোধনের প্রয়োজন হয় তাহলে এডিট অপশনে ক্লিক করে ঠিক করুন। এবার প্রসিড টু পেমেন্ট অপশনে ক্লিক করুন। তারপর পেমেন্ট গেইটওয়েতে গিয়ে সোনালী ব্যাংক, কার্ড ও মোবাইল ওয়ালেট এই ৩টি অপশন পাবেন। যার মধ্যে কার্ড ক্লিক করলে আপনার ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পরিশোধ করতে পারবেন ভ্রমণ কর। আর মোবাইল ওয়ালেট বেছে নিলে শুধু বিকাশের মাধ্যমে ভ্রমণ কর পরিশোধ করতে পারবেন। সবগুলো প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করার পর ই-চালান পেয়ে যাবেন। এটিই হলো আপনার ভ্রমণ কর পরিশোধের প্রমাণপত্র। ই-চালন প্রিন্ট করে রাখতে হবে। একই সঙ্গে ফরমে দেওয়া আপনার মোবাইল নম্বরে একটি এসএমএস আসবে। সেটিও রেখে দিন। অনলাইনে ভ্রমণ কর প্রদানের ক্ষেত্রে আপনার খরচ সবে সর্বোচ্চ ১০ টাকা। পাশাপাশি ট্রাভেল ট্যাক মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করেও ভ্রমণ কর পরিশোধ করতে পারবেন।

নিউজ ট্যাগ: ট্রাভেল ট্যাক্স

আরও খবর



করোনায় ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১২৮০

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | ২২০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৮০ জনের। আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, করোনায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২৯ হাজার ১৩৮ জন। আর মোট শনাক্ত হয়েছে ১৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪৯৩ জনের। 

গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ হাজার ৪৫৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ৮ হাজার ৪৯২টি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ০৭ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১০২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৬ হাজার ৫১৯ জন।

প্রসঙ্গত, দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে করোনায় প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।


আরও খবর



ঘরে বসেই যেভাবে করবেন অনলাইন জিডি

প্রকাশিত:বুধবার ২২ জুন 20২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২২ জুন 20২২ | ২৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে প্রযুক্তির শীর্ষে নিতে ভিশন-২০২১ লক্ষ্য ঘোষণা করেছে সরকার। সে লক্ষ্যে দেশ এগিয়েছে অনেক দূর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিশন-২০২১ এর আলোকে ২০১০ সালেই সারাদেশে প্রতিটি থানায় ইলেকট্রনিক এফআইআর ও জিডি চালুর পরিকল্পনা করেন। মঙ্গলবার (২১ জুন) সেটির পূর্ণতা পেয়েছে। ভিশন-২০২১ এর দীর্ঘমেয়াদি ১০টি বিভিন্ন স্ট্র্যাটেজিক লক্ষ্যের মধ্যে অন্যতম লক্ষ্য ছিল ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সকল থানায় ইলেকট্রনিক জিডি ও এফআইআর চালু করা। মঙ্গলবার (২১ জুন) বিকেলে সেটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে অনলাইন জিডি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই অনুষ্ঠানে পদ্মা সেতু উত্তর ও দক্ষিণ থানার উদ্বোধন, বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মিত ১২০টি গৃহ হস্তান্তর, পুলিশ হাসপাতালসমূহের আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় ১২টি পুলিশ হাসপাতাল, ৬টি নারী ব্যারাকের উদ্বোধন করেন তিনি।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের আধুনিকায়নের যুক্ত হওয়া অনলাইন জিডি কার্যক্রমের সফটওয়্যারটি সিডিএমএস++ সফটওয়্যারের সাথে এপিআইয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত। ২০১১ সালে সিডিএমএস সফটওয়্যার তৈরি করা হয়, যা বর্তমানে বাংলাদেশের সকল থানায় দায়ের করা এফআইআর ও তদন্তসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্যাদির ডিজিটাল রেকর্ড হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে। দেশের যে কোনো থানায় বসেই কোনো সন্দেহভাজন সম্পর্কে বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে কী ধরনের মামলা রয়েছে তার আপডেট জানা এখন মাঠ পুলিশের কাছে একটি নৈমিত্তিক বিষয়।

অনলাইন জিডির শুরু ২০১৯ সালে: সিডিএমএস++ তথা অনলাইন জিডির বর্তমান সফটওয়্যারটির নির্মাণ শুরু হয় ২০১৯ সালে। ২০২০ সালের জুন থেকে এর পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হয়।। ২০২২ সালের জুনে উদ্বোধন করা হলো।

৬৬২ থানায় অনলাইন জিডির দেখভালে ৬৬০০ পুলিশ: করোনা মহামারির মধ্যেও অনলাইন জিডির কাজ বন্ধ রাখেনি পুলিশ। পুলিশ স্ব-উদ্যোগে ৬৪ জেলায় ৮ মেট্রোপলিটন ও ৬৬২ থানায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবলকে প্রশিক্ষিত করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং সরকারের ভিশন-২০২১ এর লক্ষ্য অর্জনে প্রশিক্ষিত জনবলে অনলাইন জিডি চালু করার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

সিডিএমএস++ এ ১৩ ফিচারের অন্যতম অনলাইন জিডি: অনলাইন জিডি সুবিধাসহ ১৩টি ফিচার নিয়ে সিডিএমএস++ বাংলাদেশ পুলিশের নিজস্ব উদ্যোগে সিডিএমএস টেকনিক্যাল কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে নির্মিত একটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার। সফটওয়্যারটির মোবাইল অ্যাপস ও ওয়েব সংস্করণ ব্যবহার করে সেবাগ্রহীতা ঘরে বসেই জিডিযোগ্য বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ রেকর্ড করতে পারবেন এবং এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী আপডেট জানতে পারবেন। অন্যদিকে থানায় দায়িত্বরত ডিউটি অফিসার অভিযোগ প্রাপ্তির ব্যবস্থা গ্রহণসহ থানার সকল কার্যক্রম ডিজিটাল জেনারেল ডায়েরিতে এন্ট্রি করবেন এবং পিআরবি প্রবিধি মোতাবেক ২০০ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট জেনারেল ডায়েরি বই বাঁধাই করে সংরক্ষণ করবেন। একইসাথে থানার ওসি, সার্কেল বা জোনাল অফিসার পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের সার্বিক তদারকি কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারবেন।

অনলাইন জিডি যেভাবে করবেন, যা লাগবে: প্রথমে প্লে স্টোর থেকে ONLINE GD নামে সফটওয়্যার ইন্সটল করতে হবে। এরপর নিজের মোবাইল নম্বর ও মনে রাখার সুবিধা মতো পাসওয়ার্ড দিয়ে এবং অন্যান্য নির্দেশনা অনুসরণ করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ছকের তথ্যসমূহ পূরণ করে অনলাইন জিডির তথ্যাদি এন্ট্রি করতে হবে।

এনআইডির তথ্য দিয়ে অভিযোগ এন্ট্রি করতে হবে: নিবন্ধন অপশনে গেলে মিলবে আরও চারটি অপশন। সেখানে আছে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট ও বিদেশি পাসপোর্ট। তবে আপাতত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যে নিবন্ধন করা যাচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের অপশনে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর জন্মতারিখ ও পরিচয়পত্র যাচাই করে ব্যবহারকারীর জেলা থানা ইউনিয়ন গ্রাম ও ঘটনার বিবরণ সংক্রান্ত তথ্য বিবরণী দিতে হবে।

অভিযোগ সম্পন্ন হলেই মিলবে সার্ভিস কোড: অনলাইনে জিডি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ব্যবহারকারী পাবেন সার্ভিস কোড। অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইনে কিউ-আর কোড সম্বলিত জিডির কপি সংগ্রহ ও মুদ্রণ করা যাবে। সফটওয়্যার ছাড়াও অনলাইন জিডি করা যাবে GD.POLICE.GOV.BD ওয়েবসাইটে।

সিডিএমএম++ রয়েছে আরও ১৩টি ফিচার: ১. অনলাইন জিডি, ২. জিডি সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান ও তদারকি কার্যক্রম , ৩. হারানো ও প্রাপ্তি সংক্রান্ত ম্যাচিং রেকর্ড উপকারভোগীকে স্বয়ংক্রিয়-অবহিতকরণ, ৪. অশনাক্ত লাশ শনাক্তে ফটো-ম্যাচিং সুবিধা, ৫. মৃতের শরীরের বিভিন্ন অংশের ৩২টি ছবিসহ ভয়েস-টাইপে স্বয়ংক্রিয় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি , ৬. ডিজিটাল মানচিত্রে সন্দেহভাজনদের আবাসন চিহ্নিতকরণ, ৭. বিট পুলিশিংসহ টহল দলের গতিবিধি অনলাইন-মানচিত্রে সরাসরি নিরীক্ষণ, ৮. পুলিশের ছুটি ও সিসি ব্যবস্থাপনা, ৯. অটো আপডেটিং পুলিশ ফোনবুক, ১০. পুলিশের সুষম দায়িত্ব বণ্টন ব্যবস্থা, ১১. পুলিশের দক্ষতা-পরিমাপক কর্ম-মূল্যায়ন ব্যবস্থা, ১২. পুলিশের জন্য সিমবিহীন বহুমুখী আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা, ১৩. অবস্থান চিহ্নিতকরণ ও লাইভ-ফটো ম্যাচিং সুবিধাসহ পুলিশের ডিজিটাল হাজিরা।

জনপ্রত্যাশা পূরণে অনলাইন জিডি একটি মাইলফলক: অনলাইন জিডি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন বলেন, ভিশন-২০২১ অনুযায়ী টেকসই, অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের জন্য যে কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিনির্ভর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ পুলিশ বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্য নির্ভর পুলিশিংয়ে অনেক সাফল্য অর্জন করেছে এবং এ লক্ষ্যে নিরন্তর প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে। এর অন্যতম হলো অনলাইন জিডি। জনপ্রত্যাশা পূরণে এ পদক্ষেপ একটি মাইলফলক হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

মুজিববর্ষের শ্রেষ্ঠ উপহার অনলাইন জিডি: আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, পুলিশ বর্তমানে প্রতিরোধমূলক পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক সক্ষমতা অর্জন করেছে। প্রযুক্তির সদ্ব্যবহারের কারণে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা পুলিশের অর্জন করা মুজিববর্ষের শ্রেষ্ঠ উপহার। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ অনলাইন জিডি ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে অনুসন্ধানে গুণগত মান উন্নয়ন ও তদন্তে গতিশীলতা আনতে সক্ষম হবেন। একই সাথে তদারককারী কর্মকর্তাগণ এ সফটওয়্যারের সহায়তায় অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবেন। এতে বিচারপ্রার্থী সাধারণ জনগণ উপকৃত হবে। তাছাড়া সেবা প্রার্থী জনগণ অতি সহজে এ সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

অনলাইন জিডি দেশরক্ষার মাইলফলক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বাংলাদেশের সর্বসাধারণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের নতুন উপহার অনলাইন জিডি দেশরক্ষায় আত্ম-নিবেদিত পুলিশবাহিনীর জন্য নতুন এক মাইলফলক।

নিউজ ট্যাগ: অনলাইন জিডি

আরও খবর