আজঃ বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

টিকা নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী, ভাইরাল ভিডিওটি ভুয়া

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ মার্চ ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ মার্চ ২০২১ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক


গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সচিবালয় ক্লিনিকে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। মন্ত্রীর ভ্যাকসিন নেয়ার ভিডিওটি গণমাধ্যমের কাছে সংরক্ষিত আছে। যদিও তার টিকা নেয়ার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভুয়া ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যা নিয়ে অনলাইনে-অফলাইনে চলছে সমালোচনার ঝড়।

জানা গেছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি সাড়ে সকাল ১০টায় ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী। ওই সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, প্রথমে মন্ত্রী ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন, সে সময় ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করেন সাংবাদিকরা। পরে একজন গণমাধ্যমকর্মী ফুটেজ পাননি উল্লেখ করে মন্ত্রীর কাছে পুনরায় ভিডিও নেয়ার জন্য আরেকবার ভ্যাকসিন দেয়ার চিত্র ধারণের সুযোগ চেয়ে অনুরোধ করেন। এসময় মন্ত্রী পুনরায় সাংবাদিকের সুবিধার্থে বসে ভ্যাকসিন নেয়ার ফুটেজ নিতে সহায়তা করেন।

সেসময় টিকা নেয়ার পর অনুভূতি জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, খুবই স্বাভাবিক, মনেই হয়নি যে টিকা নিলাম। বুঝতেই পারিনি কখন টিকা পুশ করেছে। কোনো রকম খারাপ কিছু মনে হওয়া বা ব্যথা পাওয়া এমন কিছুই নয়। অত্যন্ত সুন্দরভাবে টিকা দিয়েছে। আমার ভ্যাকসিন নেয়ার তারিখ আগে ছিল, জ্বরের কারণে আমি প্রথমদিন টিকা নিতে পারিনি। পরে আবার রেজিস্ট্রেশন ট্রান্সফার করে আজ টিকা নিয়ে নিলাম।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্ত্রী ভ্যাকসিন নিচ্ছেন না- এমন একটি ভুয়া ভিডিও আজ শনিবার ভাইরাল হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নিয়ে জানতে চাইলে আ ক ম মোজাম্মেল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ১৭ তারিখে (১৭ ফেব্রুয়ারি) আমি ভ্যাকসিন নিয়েছি। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর সচিবের সঙ্গে আমরা যখন বাইরের দিকে যাচ্ছি, ওই সময় একটি চ্যানেলের সাংবাদিক এসে বলেন, তারা ফুটেজ পাননি। ওই সাংবাদিক অনুরোধ করেন, আমি যেন আবার একটু ভ্যাকসিন নেওয়ার ডেমো করি। মূলত তার অনুরোধেই আবার একটু ভ্যাকসিন নেওয়ার ডেমো করতে হয়েছে।

আ ক ম মোজাম্মেল হক আরও বলেন, আমার ভ্যাকসিন নেওয়ার ফুটেজ বিটিভির কাছে রয়েছে। কেউ যদি চ্যালেঞ্জ করতে চায় যে আমি ভ্যাকসিন নিইনি, আমি ওই ফুটেজ দেখাতে পারব।

এর আগে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সচিবালয় ক্লিনিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও সচিব তপন কান্তি ঘোষ ভ্যাকসিন নিয়েছেন বলে জানিয়েছিল মন্ত্রণালয়। সব গণমাধ্যমেই সে খবর প্রকাশ পেয়েছিল।

তবে শনিবার ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ ও স্বাস্থ্য সচিব মো. আব্দুল মান্নানের সঙ্গে সংসদ সচিবালয় ক্লিনিকের কোভিড ভ্যাকসিন প্রয়োগ কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন আ ক ম মোজাম্মেল হক। কিছুক্ষণ পর তারা একটি রুমে প্রবেশ করেন। এসময় মন্ত্রী চেয়ারে বসলে একজন নার্স একটি সিরিঞ্জ নিয়ে তার বাম হাতে ভ্যাকসিন প্রয়োগের অভিনয় করেন। এসময় হাসিমুখে চেয়ারে বসেছিলেন মন্ত্রী। পরে বের হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলছেন, এই অভিনয়টুকু করলেও এর আগেই ভ্যাকসিন নিয়েছেন তিনি। গণমাধ্যমের অনুরোধ ফেলতে না পেরেই তিনি এই অভিনয় করেছেন।

যোগাযোগ করলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষও জানান, মন্ত্রী ভ্যাকসিন নিয়েছেন। তিনি বলেন, সেদিন আমরা দুজনেই ভ্যাকসিন নিয়েছি। মন্ত্রী আমার আগেই ভ্যাকসিন নিয়েছেন। উনি নেওয়ার পর আমি নিয়েছি।


আরও খবর
ফেসবুকে বাংলাদেশি পুরুষ কমছে, নারী বাড়ছে

বৃহস্পতিবার ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




চরফ্যাশনে বিষ প্রয়োগ করে কৃষকের ফসল নষ্ট

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মামুন হোসাইন, চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

Image

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাটে বিষ প্রয়োগে নুর হোসেন নামের এক কৃষকের ৪০ শতক জমির শসা ক্ষেত নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাতের আঁধারে উপজেলার দুলারহাট থানাধীন নুরাবাদ ইউনিয়নের চরতোফাজ্জল গ্রামের ২নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় তিন লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি কৃষকের।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কৃষক নুর হোসেন বাদী হয়ে দুলারহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসী জানান, চলতি মৌসুমে কৃষক নুর হোসেন বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৪০ শতক জমিতে শসা চাষ করেন। এর মধ্য গাছগুলোতে ফল ধরতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্ষেতে পরিচর্যা শেষে বাড়ি চলে যান কৃষক নুর হোসেন।

শুক্রবার সকালে ক্ষেতে এসে দেখেন তার জমির শসা গাছ মরে সবুজ থেকে সাদা বর্ণ হয়ে গেছে। কৃষকের ধারণা দুর্বৃত্তরা তার খেতে আগাছা নিধনের ঔষধ প্রয়োগ করেছে। এতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন কৃষক নুর হোসেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে দোষীদের বিচার দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয়রা। খবর পেয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও দুলারহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

নুরাবাদ ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আঃ মতিন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি খুব দুঃখজনক। এর সুষ্ঠু বিচারের দাবি করছি।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন জানান, কৃষক নুর হোসেন বিষয়টি জানিয়েছে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে কৃষককে সর্বাত্মক সহযোগিতা এবং ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন দুলারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাকসুদুর রহমান মুরাদ।

নিউজ ট্যাগ: ভোলার চরফ্যাশন

আরও খবর
সিলেট নগরী থেকে গৃহবধূর গলিত লাশ উদ্ধার

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




ইজতেমার আখেরি মোনাজাত আজ, লাখো মুসল্লির ঢল

প্রকাশিত:রবিবার ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জেলা প্রতিনিধি

Image

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব আজ রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে।

গত রাত থেকেই আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলার মুসল্লি ইজতেমা ময়দানে এসেছেন এবং পুরো রাত ধরেই মুসল্লিরা ময়দানে এসেছেন। এতে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানের আশপাশের এলাকা, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, কামারপাড়া সড়ক, আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতাল এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন মুসল্লিরা। এতে ওই সব এলাকায় স্বাভাবিক চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে।

রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা, বোর্ড বাজার, কলেজ গেট, বিমানবন্দর, উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর, কামারপাড়া ও টঙ্গী রেলস্টেশন এলাকা হয়ে ঢাকা ও গাজীপুরের আশপাশের জেলার মুসল্লিরা দলে দলে ইজতেমা ময়দান এলাকায় আসছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লিদের স্রোত বাড়ছে।

আখেরি মোনাজাত উপলক্ষ্যে ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। সবাই আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে রওনা দিয়েছেন। ভোগড়া বাইপাস থেকে ইজতেমা মাঠের দূরত্ব ১০ কিলোমিটার। এই পুরো জায়গা হেঁটেই মুসল্লিরা রওনা হয়েছেন ইজতেমা মাঠের উদ্দেশ্যে।

রোববার ফজরের নামাজের পর থেকেই শুরু হয় হেদায়েতি বয়ান। হেদায়েতি বয়ান করেন পাকিস্তানের মাওলানা জিয়াউল হক সাহেব। এরপর কিছু সময়, নসিহতমূলক কথা বলেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা সাহেব। আনুমানিক সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে বলেন আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে ইজতেমার মিডিয়া বিষয়ক সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান। তিনি জানান, তাবলিগ জামাতের বাংলাদেশের শীর্ষ মুরব্বি, কাকরাইল জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন।

নিউজ ট্যাগ: বিশ্ব ইজতেমা

আরও খবর
শবে বরাত সম্পর্কে হাদিসে যা বলা হয়েছে

রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




বেতাগীতে ব্যক্তি মালিকানাধীন বাশঁ কেটে নিল বন বিভাগ

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মোঃ খাইরুল ইসলাম মুন্না, বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি

Image

বরগুনার বেতাগীতে জনগণের ব্যক্তি মালিকানাধীন শতাধিক বাশঁ বিনা অনুমতিতে কেটে নিয়েছেন বন বিভাগের লোকজন। বন বিভাগের দাবি সরকারি নার্সারির কাজে ব্যবহার করা হবে এসব বাশঁ। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলার বেতাগী সদর ইউনিয়নের জিনবুনিয়া ও মোকামিয়া ইউনিয়নের ছোট মোকামিয়া গ্রামের বেরিবাধের পাশে রোপিত ব্যক্তি মালিকানাধীন বাশঁ ঝাড় থেকে কাউকে না বলে প্রায় দুই শতাধিক বাশঁ কেটে নিয়ে যায়। মোকামিয়া ইউনিয়নের ছোট মোকামিয়া গ্রামের মোহাম্মদ রাব্বির নিজস্ব জমির একটি বাঁশঝাড় থেকে প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশটি বাশঁ তাকে না বলে কেটে নিয়ে যায় বন বিভাগের লোকজন।

এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেরিবাধ জমিতে রোপিত ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন বাঁশঝাড় থেকে এভাবে বাঁশ কেটে নেয়। বেতাগী সদর ইউনিয়নের জিনবুনিয়া গ্রামের নজরুল খান উপজেলা বন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানালেও কোন প্রতিকার পাননি।

মোকামিয়া ইউনিয়নের ছোট মোকামিয়া গ্রামের মোহাম্মদ রাব্বি বলেন, আমার নিজের জমিতে রোপিত বাঁশঝাড় থেকে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশটি বাশঁ আমাকে না বলে কেটে নিয়ে যায়।

উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেন, সরকারি নার্সারী করার জন্য এসব বাশঁব্যবহার করা হবে। নার্সারি করার জন্য সরকারিভাবে কোন অর্থ বরাদ্দ থাকে না তাই আমাদেরকে এই প্রক্রিয়ায় বাশঁ সংগ্রহ করতে হয়।

বরগুনার সরকারি বন সংরক্ষক মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি জানিনা তবে জেনে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক আহমেদ বলেন, জনগণের বাশঁ এনে নার্সারি করার কোন সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে আমি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।


আরও খবর
সিলেট নগরী থেকে গৃহবধূর গলিত লাশ উদ্ধার

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




নলছিটিতে ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

Image

ঝালকাঠির নলছিটিতে খলিলুর রহমান হাওলাদার (৫৫) নামক একজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে তার ছেলে রমজান হাওলাদার পলাতক রয়েছে। রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ আলী। নিহত খলিলুর রহমান হাওলাদার নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নের দক্ষিণ রানাপাশা গ্রামের হামিজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাতে খলিলুর রহমান হাওলাদারকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে তার ছেলে রমজান। পরে খলিলের ভাই মাওলানা আব্দুল কাদের বিষয়টি জানতে পেরে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়া যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

রানাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান হাওলাদার বলেন, মাথার পিছনে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। কি কারণে তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে সেটা জানতে পারিনি।

ওসি মো. মুরাদ আলী বলেন, খবর শুনে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ ও নিহতের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহত খলিল হাওলাদারের ছেলে পলাতক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরও খবর
সিলেট নগরী থেকে গৃহবধূর গলিত লাশ উদ্ধার

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




১১ ইটভাটার আগুনে পুড়ছে এক গ্রামের তিন ওয়ার্ডের মানুষ

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নরসিংদী প্রতিনিধি

Image

গ্রামের নাম সররাবাদ। বেলাব উপজেলার সল্লাবাদ ইউনিয়নের সররাবাদ ও পাশের ইব্রাহীমপুর এই দুই গ্রামের তিন ওয়ার্ডে রয়েছে ১১ ইটভাটা। এসব ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় বাড়ছে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোখ। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ফসলী জমি ও হাছগাছালীর। সররাবাদ গ্রামের পুরাতস ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে পাশাপাশি স্থাপন করা এসব ভাটার অনুমোদ পেল কিভাবে সেটা নিয়ে রয়েছে জনমনে নানা প্রশ্ন। তাছাড়াও বেলাব উপজেলার পাটুলী ইউনিয়ন, আমলাব ইউনিয়ন ও বাজনাব ইউনিয়ন, বেলাব ইউনিয়নেও রয়েছে একাধিক ইটভাটা। এসব ভাটার বেশিরভাগই কাগজপত্রে গড়মিল।

তবে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি তারা পরিবেশ দূষণ ও পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকায় সল্লাবাদ ইউনিয়নের সররাবাদ গ্রামে নির্মিত পিএসবি ব্রিকস ও ন্যাশনাল ব্রিকস নামে দুটি ভাটাকে তিন লক্ষ টাকা করে ছয় লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে জরিমানা করা ওইসব ভাটায় নিয়মিত ইট পুড়ানো হয়। 

জানা গেছে সররাবাদ এলাকার পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের ফসলী জমির উপর পাশাপাশি রয়েছে বেশকিছু ইটভাটা। এর মধ্যে সচল রয়েছে ১১টি ভাটা। সচল থাকা এসব ইটভাটার মধ্যে বেশিরভাগ ইটভাটারই নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। এসব ইটভাটার কারনে এ এলাকায় ফসলী জমিতে এখন আর ফসল ফলেনা। কৃষকরা জানান, যে জমিতে তারা চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতো সে জমি এখন ভাটা মালিকদের দখলে।

সররাবাদ এলাকার আবু ছালেহ রনি নামে এক যুবক জানান, এক মাঠে এতগুলো ইটভাটার অনুমোদন কিভাবে দিল। সেটা আমার বুঝে আসেনা। এসব ভাটার বিষাক্ত কারো ধোয়ার কারণে বয়স্ক মানুষ ও বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট রোগ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে সল্লাবাদ ইউনিয়নের সররাবাদ ও ইব্রাহিমপুরের গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,শুধু এই দুই গ্রামের তিনটি ওয়ার্ডেই গড়ে উঠেছে বেশকিছু ইটভাটা। এসব ইটভাটার মধ্যে সিক্সলাইন ব্রিকস, ভরসা ব্রিকস, জেএমবি ব্রিকস, ডিএমপি ব্রিকস, কেএমবি ব্রিকস, ন্যাশনাল ব্রিকস, পিএসবি ব্রিকস, এসআরবি ব্রিকস, আরএসবি ব্রিকস, এশিয়া ব্রিকস, বিবিবি ব্রিক ফিল্ডসহ মোট ১১টি ইট ভাটায় ইট পুড়ানো হচ্ছে নিয়মিত। ভাটাগুলো ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে কয়েকশ একর ফসলী জমির উপর নির্মিত। একেকটা ইটভাটার গা ঘেষে আরেকটি ইটভাটা। এভাবেই ১১টি ভাটার অবস্থান। এসব ইটভাটার মধ্যে বেশিরভাগই পরিবেশ আইন লঙ্গন করে গড়ে উঠা। নদের তীরে ইটভাটা এলাকায় রয়েছে ইব্রাহিমপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইব্রাহীমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে দুটি বিদ্যালয়সহ কয়েকশ বসতি। ভাটার আগুনে এসব ফসল গাছাগাছালীর ক্ষতিরসহ ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টসহ নানা ব্যাধীতে আক্রান্ত হচ্ছে বয়স্ক মানুষ ও শিশুরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনবসতি ও ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সব মহলকে ম্যানেজ করেই গড়ে তোলা হচ্ছে একের পর এক ইটভাটা। অথচ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এ ব্যাপারে নেই কোন মাথাব্যাথা।

আব্দুল ওহাব মিয়া নামে এক কৃষক জানান, ইটভাটাতে আসা ইছারমাতা নামক অবৈধ যানের কারনে গ্রামের চারপাশে ধুলাবালির আস্তরণ পড়ে। এই অবৈধ যান ইছারমাতা দিয়ে ভাটার মালিকরা ইট বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের কাছে পৌছে দেয়। এসব যানের বিকট শব্দ ও আনাড়ি ড্রাইভার কারণে প্রায়ই ঘটে ছোটবড় দূঘর্টনা।

সররাবাদ এলাকার মেসার্স বিবিবি ব্রিক ফিল্ড এর স্বত্তাধিকারী মোঃ শাহ আলম বলেন, আমার ইটভাটার কাগজপত্র সঠিক আছে। আমার ভাটায় গাছ বা কাঠ পুড়িনা। ইছারমাতা ছাড়াতো আর ইট আনা নেওয়া করা যায়না। তাই ইছারমাতা ব্যবহার করি। পরিবেশ দূষনের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন ভাটার কারনে পরিবেশের তেমন ক্ষতি হচ্ছেনা।

নরসিংদী জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিডি শেখ মোহাম্মদ নাজমুল হুদা বলেন, আমরা ইতিমধ্যে বেলাব উপজেলার সররাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিবেশ দূষণ ও পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে দুটি ইটভাটাকে তিনলক্ষ টাকা করে ছয় লক্ষ টাকা জরিমানা করেছি। বাকিগুলোতেও আমরা পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করে যেগুলোর সমস্যা রয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিব।

নিউজ ট্যাগ: নরসিংদী ইটভাটা

আরও খবর
সিলেট নগরী থেকে গৃহবধূর গলিত লাশ উদ্ধার

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪