আজঃ বুধবার ১৯ জুন ২০২৪
শিরোনাম

টানা মন্দার পর কিছুটা চাঙ্গা দেশের পুঁজিবাজার

প্রকাশিত:সোমবার ২৯ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ২৯ মে ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

Image

টানা মন্দার পর বাজেটের আগে কিছুটা চাঙ্গা দেশের পুঁজিবাজার। রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৭৪ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার টাকা, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। এ নিয়ে টানা তিন কার্যদিবস লেনদেন ছাড়াল হাজার কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেশ কয়েক মাস ধরেই স্থবির পুঁজিবাজার। এ থেকে উত্তরণে বাজেটে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ভালো খবর জরুরি। আর এ নিয়ে কাজ চলছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুন<< দেশের বাজারে কমলো সোনার দাম

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, কয়েকদিনের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে খুশি হওয়ার কারণ নেই। প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান। সব খাত যাতে বাজারে অংশ নিতে পারে, সেদিকে নজর দিতে হবে। তখন লেনদেন আরও ভালো হবে।

তিনি বলেন, গত কয়েক বাজেটে পুঁজিবাজারকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমান বাজারে লভ্যাংশের ওপর দ্বৈত কর ব্যবস্থা বিদ্যমান। কোম্পানি পর্যায়ে ১০ শতাংশ ঠিক রেখে পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগকারীদের অব্যাহতি দিলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়বে। এ ছাড়া করপোরেট ট্যাক্সের সুবিধার কথা বলা হলেও সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে না।

বর্তমান করপোরেট করের ৮০ শতাংশ তালিকাভুক্ত কোম্পানি দিয়ে থাকে। বাকিরা কর দেয়; কিন্তু চুরি করে। সেখানে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ থাকে; কিন্তু তালিকাভুক্ত কোম্পানির অনেক নিয়ম মানতে হয়। সরকার সহজে কর আদায় করতে পারে; কিন্তু আমাদের নীতিনির্ধারকদের সেদিকে খেয়াল নেই।

আরও পড়ুন<< শিগগিরই দেশে ডিজিটাল ব্যাংক চালু : গভর্নর

তারা মনে করেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর কমালে অনেক কম টাকা আদায় হবে। এ ধারণা সঠিক নয়। তাই বাজেটে করপোরেট পর্যায়ে কোনো কর সুবিধা দিতে হলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তদের দেওয়া উচিত। এতে ভালো কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী হবে।

গতকাল ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের চেয়ে ১৪ দশমিক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৩৩৯, ডিএস-৩০ মূল্য সূচক ১ দশমিক ১৯ এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়েছে। লেনদেনে অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১০২টির, কমেছে ৭৭টির। অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮২ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম।

টাকার হিসেবে লেনদেনের শীর্ষে আছে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, নাভানা ফার্মা, ইন্ট্র্যাকো রিফুয়েলিং, লাফার্জহোলসিম, সি পার্ল বিচ, বিএসসি, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, জেএমআই হসপিটাল, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

আরও পড়ুন<< কোন দেশে পেঁয়াজের দাম কত?

দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স ও আরএসআরএম স্টিল।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৭ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১৮ হাজার ৬৮৫। এদিন লেনদেনে অংশগ্রহণকারী ২৪৭ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৮৪টির, কমেছে ৫৭টির। অপরিবর্তিত আছে ১০৬টির দাম।


আরও খবর



এমপি আনার হত্যাকাণ্ড: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছেন শিলাস্তি

প্রকাশিত:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে খুনের উদ্দেশ্য অপহরণের মামলায় জবানবন্দি দিচ্ছেন আসামি শিলাস্তি রহমান। সোমবার (৩ জুন) দুপুরে ঢাকার একটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড চলছে।

এর আগে, স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় শিলাস্তিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় গত ২২ মে মামলাটি দায়ের করেন আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।

মামলার অভিযোগে ডরিন উল্লেখ করেছেন, আমরা সপরিবারে ঢাকায় বসবাস করি। গত ৯ মে রাত ৮টার দিকে আমার বাবা গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ১১ মে বিকেলে বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বললে কথাবার্তায় কিছুটা অসংলগ্ন মনে হয়। এরপর বাবার ফোন বন্ধ পাই।

এরপর গত ১৩ মে বাবার ভারতীয় নম্বর থেকে উজির মামার হোয়াটসঅ্যাপে একটি ক্ষুদে বার্তা আসে। বার্তাগুলো আমার বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরণকারীরা করে থাকতে পারে।

বিভিন্ন জায়গায় বাবাকে খুঁজে না পেয়ে তার বন্ধু গোপাল বিশ্বাস বাদী হয়ে ভারতীয় বারানগর পুলিশ স্টেশনে সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে বাবাকে অপহরণ করেছে।


আরও খবর



প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

টেকসই উন্নয়নের পরিক্রমায় স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট উত্থাপন করা হয়েছে। যা চলতি বাজেটের চেয়ে ৮২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বেশি।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এটি পেশ করেন।

এবারের বাজেট হতে যাচ্ছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার। যাতে থাকছে ৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য অর্জনের কঠিন চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আয় করতে হবে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা।

২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির এই বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য সাড়ে ৬ শতাংশ।

এছাড়া আয়, মুনাফা ও মূলধনের ওপর কর ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬২০ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজনের করের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক ৬৪ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা, আমদানি শুল্ক ৪৯ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক ৭০ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক ৫ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর ১ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা।

কর ব্যতীত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআর বহির্ভূত করের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ হাজার কোটি টাকা।

খাতভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে জনপ্রশাসন খাতে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ৪৭ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১ লাখ ১১ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা, স্বাস্থ্যে ৪১ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা, কৃষিতে ৪৭ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা, পরিবহন ও যোগাযোগে ৮২ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৩ হাজার ২০৮ কোটি টাকা।

এছাড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৩০ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তায় ৩৩ হাজার ৫২০ কোটি টাকা এবং শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতের জন্য ৫ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে।

বাজেট বক্তৃতায় চলমান অর্থবছরে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী।


আরও খবর



বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে যত রেকর্ড

প্রকাশিত:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | হালনাগাদ:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | অনলাইন সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

Image

অনেকটা নীরবেই শুরু হলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর। তবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটা হয়েছে দুর্দান্ত। বিশ্বমঞ্চে অভিষেকে আইসিসির দুই সহযোগী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা বেশ দাপটই দেখিয়েছে। কানাডার ছুঁড়ে দেওয়ার ১৯৫ রানের লক্ষ্য ১৪ বল হাতে রেখেই পেরিয়েছে বিশ্বকাপের আয়োজকরা।

সবমিলিয়ে দেখে নেওয়া যাক রেকর্ডগুলো-

অভিষেকে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ: প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে নেমে সর্বোচ্চ ১৯৪ রান তুলেছে কানাডা। এর আগে, ২০১৪ আসরে ১৯৩ রান তুলেছিল নেদারল্যান্ডস। ডাচদের সেই রেকর্ড ভেঙে দেয় কানাডা। এরপর লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কানাডিয়ানদের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, রান তাড়ায় নেমে ১৯৭ তুলেছে তারা; যা বিশ্বমঞ্চে অভিষেকে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।

তৃতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড: এই ম্যাচে রান তাড়ায় ইতিহাস গড়েছে স্বাগতিক দল। এর আগে, সর্বোচ্চ ১৬৯ রান তাড়া করে জিতেছিল। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে এবার ১৭ দশমিক ৪ ওভারেই কানাডার ছুঁড়ে দেওয়া ১৯৫ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলেছে তারা।

এদিকে রান তাড়ার রেকর্ডে সব মিলিয়ে তৃতীয় স্থানে এটি। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ২৩০ রান তাড়া করে জিতেছিল ইংল্যান্ড। ২০১৬ আসরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই কীর্তি গড়ে ইংলিশরা। এর আগে, ২০০৭ বিশ্বকাপে ২০৬ রান তাড়া করে জিতেছিল প্রোটিয়ারা।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় জুটি: তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১৩১ রান তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সহ–অধিনায়ক অ্যারন জোন্স ও আন্দ্রিয়েস গুস। তবে বিশ্বমঞ্চে এর আগে আরেকবার তৃতীয় উইকেট জুটিতে এর চেয়ে বেশি রান এসেছে। ২০১৪ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৫২ রানের জুটি গড়েছিলেন ইংল্যান্ডের ইয়ন মরগান ও অ্যালেক্স হেলস। তবে ২০ ওভারের ফরম্যাটে এটাই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রানের জুটি।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ছক্কা: অপরাজিত ৯৪ রানের পথে ১০টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন জোন্স। এই তালিকায় তার সামনে আছেন শুধুই ক্রিস গেইল। ২০১৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১১টি ছক্কা মেরেছিলেন ক্যারিবিয়ান এই ইউনিভার্স বস’।

এক ওভারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান: বিশ্বকাপে এর আগে এক ওভারে সর্বোচ্চ ৩৬ রান দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের পেসার স্টুয়ার্ড ব্রড। ২০০৭ বিশ্বকাপে তার ওভারে ৬ ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন যুবরাজ সিং। এবার এক ওভারে ৩৩ রান খরচ করেছেন কানাডার জেরেমি গর্ডন।

দ্রুততম ফিফটি: দলের জয়ের দিনে দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন জোন্স। মাত্র ২২ বলে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া এই ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ৯৪ রানে অপরাজিত থেকেছেন। যা এই ফরম্যাটে কোনো আমেরিকান ব্যাটারের সবচেয়ে দ্রুততম ফিফটি।


আরও খবর



উপজেলা নির্বাচন: চলছে চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের চতুর্থ ধাপে ৬০টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার (৫ জুন) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এ ধাপে ৬০টি উপজেলা মধ্যে ছয়টি উপজেলায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হবে।

এদিকে আজকের ভোটযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এবারের উপজেলা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে বলে ইসির তথ্য বলছে। তবে ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে স্থগিত করা ২০টি উপজেলায় আগামী ৯ জুন ভোটগ্রহণ করা হবে।

চতুর্থ ধাপে ৬০টি উপজেলায় একজন চেয়ারম্যান, তিনজন ভাইস চেয়ারম্যান ও একজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২৫১, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৬৫ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২০৫ জনসহ মোট ৭২১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ধাপে মোট ভোটার ২ কোটি ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৫ জন। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৭ হাজার ৮২৫টি। নির্বাচনে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন থাকছে ১৬৬ প্লাটুন বিজিবি।

তপশিল ঘোষণার পরদিন থেকে ভোট গ্রহণের তিন দিন পূর্ব পর্যন্ত আচরণবিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতি উপজেলার জন্য একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট এবং ভোট গ্রহণের তিন দিন আগে থেকে ভোট গ্রহণের পরের দিন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতি ৩টি ইউনিয়নের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়াও ১৭টি উপজেলায় অতিরিক্ত ২৯ প্লাটুন বিজিবি, ১৪ টিম র‍্যাব, ১২৮ জন আনসার ও ১৬ জন অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে।

দেশের ৪৯৫ উপজেলার মধ্যে নির্বাচন উপযোগী ৪৮৫ উপজেলায় চার ধাপে ভোট হচ্ছে এবার। প্রথম ধাপের ১৩৯ উপজেলায় ভোট হয়েছে গত ৮ মে। এসব উপজেলায় গড়ে প্রায় ৩৬ শতাংশ ভোট পড়ে। প্রথম ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২৮ জন নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬ উপজেলা নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা পার হন ২২ জন। ২১ মে অনুষ্ঠিত এ ধাপের নির্বাচনে ভোট পড়ে ৩৮ শতাংশ। ২৯ মে তৃতীয় ধাপের ৮৭টি উপজেলার নির্বাচনে ভোট পড়ে ৩৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। আর ২৩টি উপজেলার নির্বাচন নানা কারণে বাতিল ও স্থগিত হয়েছে।


আরও খবর



নিত্যপণ্যের বাজারে রেমালের অজুহাত

প্রকাশিত:শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

Image

তীব্র তাপদাহের পর নিত্যপণ্যের বাজারে এবার ঘূর্ণিঝড় রেমালের অজুহাত। দাম বেড়ে গেছে সবজিসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের। তবে সামান্য কমেছে মুরগির দাম। ক্রেতাদের দাবি, কোনো একটা অজুহাত পেলেই দাম বেড়ে যায় নিত্যপণ্যের, আর কমলে কমে খুবই সামান্য।

শুক্রবার (৩১ মে) কেরানীগঞ্জের আগানগর, জিনজিরা এবং রাজধানীর নয়াবাজার ও কারওয়ান বাজারসহ বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এমনটি দেখা যায়।

বিক্রেতারা জানান, সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে গেছে সবজির দাম। মূলত ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় বাজারে কিছুটা সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এতে বেড়ে গেছে দাম।

বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৬০-৮০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, পেঁপে ৫০-৬০ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৪০ টাকা ও কহি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ধুন্দল ৪০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, লতি ৬০-৮০ টাকা, আলু ৫৫-৬০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা ও কাঁকরোল ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, প্রতি পিস লাউ ৬০ টাকা ও চালকুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। প্রতি আঁটি লালশাক ১৫ টাকা, পাটশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ২৫ টাকা, কলমিশাক ১৫ টাকা ও পালংশাক বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়।

তবে দাম কমেছে কাঁচা মরিচের। খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা, কোনো কোনো বাজারে অবশ্য এখনও ২০০ টাকা। আর পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিতে কাঁচা মরিচের দাম কমেছে ২০-৪০ টাকা পর্যন্ত। মূলত ভারত থেকে আমদানি শুরু হওয়ায় লোকসানের ভয়ে দাম কমিয়ে দিয়েছেন আড়তদাররা।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আনিস বলেন, আমদানির ভয়ে দাম কমাচ্ছেন আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা, যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খুচরা বাজারেও। আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমে আসবে।’

স্বস্তির খবর নেই ডিম ও গরুর মাংসের বাজারেও। তবে দাম কমেছে সব ধরনের মুরগির। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০-৮০০ টাকায়। এছাড়া, প্রতি কেজি খাসির মাংস এক হাজার ৫০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা ও ছাগলের মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়।

বাজারে মুরগির প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, আর সাদা ডিম ১৪৫ টাকায়। আর প্রতি ডজন হাঁসের ডিম ২০০ টাকা ও দেশি মুরগির ডিম ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা ও কেজিতে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত কমে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০-৩৬০ টাকায়। প্রতি কেজি দেশি মুরগি ৭০০-৭৫০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা ও লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৪০-৩৫০ টাকায়। এছাড়া জাতভেদে প্রতি পিস হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৭০০ টাকায়।

বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টি শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে মুরগির বাজারে। তীব্র গরমের কারণে প্রচুর মুরগি মারা গেলেও এর হার এখন কমে এসেছে। এতে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে।

তবে ক্রেতাদের দাবি, কোনো একটা কারণ বা অজুহাত পেলেই ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেয় নিত্যপণ্যের। যদিও দাম কমার সময় কমে খুবই সামান্য।

মশিউর রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, কোনো একটি পণ্যের দাম ১০ টাকা বাড়লে, কমার সময় কমে মাত্র ১-২ টাকা। আবার যখন বাড়ে, তখন বাড়ে ৫-১০ টাকা। তাহলে ২ টাকা কমিয়ে লাভ কী!

আদনান নামে আরেক ক্রেতা বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার এখন ব্যবসায়ীদের খেয়াল-খুশিমতো চলে। চাহিদা-যোগানের কোনো ভিত্তি নেই। কোনো একটা ছুতো পেলেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, ইলিশ বাদে স্বস্তির খবর নেই মাছের বাজারে। নতুন করে না বাড়লেও দাম কমেনি। বিক্রেতাদের অজুহাত, ঘূর্ণিঝড় রেমালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মৎস্য খাতে। এর প্রভাবে মাছের দাম একটুও কমেনি।

কেরানীগঞ্জের জিনজিরা বাজারের মাছ বিক্রেতা জয়ন্ত বলেন, মাছের দাম একটু চড়াই। এ সপ্তাহে নতুন করে খুব একটা দাম বাড়েনি। কোনো কোনো মাছের দাম হয়তো ৫-১০ টাকা বেড়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মাছের ঘেরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সামনে দাম বাড়তে পারে।’

বাজারে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২০০-২২০ টাকা, চাষের পাঙাশ ১৮০-২২০ টাকা, চাষের শিং ৫৫০ টাকা, চাষের মাগুর ৬০০ টাকা ও চাষের কৈ বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাকায়। এছাড়া আকারভেদে প্রতি কেজি রুই ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কোরাল ৭০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, বোয়াল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা ও আইড় ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে ইলিশের দাম। এ মুহূর্তে প্রতি কেজি ইলিশের দাম পড়ছে ১ হাজার ৭০০ টাকা। যদিও ৮০০-৯০০ গ্রাম ইলিশ ১৫০০ টাকা ও ৬০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২০০-১৩০০ টাকায়।

উত্তাপ ছড়াচ্ছে মসলার বাজারও। কোরবানিকে কেন্দ্র করে বাজারে দাম বাড়ছে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের। বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকায়। এছাড়া কেজিতে ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে প্রতি কেজি দেশি রসুন ২৩০-২৪০ টাকায় ও আমদানি করা রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়। আর আদা কেজিতে ২০-৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে আদা বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়।

নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের দাবি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই। ক্রেতারা বলছেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হয় না। এতে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পায়।

আর বিক্রেতারা বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে। বাজারে নিয়মিত অভিযান চালালে অসাধুদের দৌরাত্ম্য কমবে।


আরও খবর