আজঃ মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২
শিরোনাম

স্বরূপকাঠিতে কলেজের অবৈধ কমিটি বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন বিক্ষোভ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৯ জুন ২০২২ | ২৫৫০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

হযরত আলী হিরু, স্বরূপকাঠি প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ী ডিগ্রী কলেজের নবগঠিত আহবায়ক কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে কমিটি বাতিলের দাবী করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৯ জুন) দুপুরে কলেজের ছাত্রছাত্রী, অভিবাবক ও সর্বস্তরের জনগনের ব্যানারে কলেজের সম্মুখে ওই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ঘন্টাব্যাপী ওই মানববন্ধনে জনপ্রতিনিধি, কলেজের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিবাবক সহ নানা শ্রেনীর পেশার মানুষ অংশ নেয়। এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত বছর স্থানীয় সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের ডিও লেটার অনুযায়ী গুয়ারেখা ইউনিয়নের মো. জাহিদুল হক উজ্জলকে সভাপতি করে একটি কমিটি করা হয়। সেই কমিটির মেয়াদ এবছরের ৬ জুন শেষ হয়েছে।

মন্ত্রী এ বছর নতুন কমিটিতে  ওই এলাকার পলাশ সিকদারকে সভাপতি করার জন্য ডিও লেটার দেন। কিন্তু কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রহিমা খাতুন চলতি বছরের ২২ মে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের কাছে জাহিদুল হক উজ্জলকে আহবায়ক করার প্রস্তাব দিয়ে একটি আবেদনপত্র পাঠান। সেই অনুযায়ী একটি পকেট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রভাবিত হয়ে মন্ত্রীর ডিও লেটারকে উপক্ষা করে ওই কমিটি করেছেন। মানববন্ধনে তারা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অপসারণ দাবী করেন।

এসময় বক্তব্য দেন শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম পান্নু, ইউপি সদস্য আসাদুজ্জমান খোকন, অভিবাবক মজিবুর রহমান হাওলাদার, হেমায়ত উদ্দিন ও নুরুল ইসলাম সিকদার প্রমুখ। পরে এক বিক্ষোভ মিছিল কলেজের ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।

এ ব্যাপারে কলেজের সাবেক সভাপতি জাহিদুল হক উজ্জল জানান, আমি যে কমিটিতে ছিলাম সেই কমিটির মেয়াদ চলতি বছরের ৬ জুন শেষ হয়েছে। এখন কলেজের পক্ষ থেকে আমাকে আহবায়ক করে কোন কমিটি করা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই তবে কমিটিতে থাকা না থাকা নিয়ে আমার কোন আপত্তি অনাপত্তি নেই।

বিষয়টি নিয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রহিমা খাতুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, যেহেতু কলেজের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে তাই নতুন কমিটি করার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আহবায়ক কমিটির জন্য প্রস্তাব পাঠিয় সে অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। আহবায়ক কমিটির মাধ্যমই একটি নিয়মিত কমিটি করতে চেয়েছিলাম। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্য যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেটা ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবী করেন।


আরও খবর



২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আরও ৩১

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৯ জুন ২০২২ | ৩১৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বাংলাদেশে এডিশ মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব দিন দিন বাড়ছে। দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে, ডেঙ্গু আক্রান্ত ৮৩ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে নতুন আক্রান্ত হয়ে ৩১ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায়, নতুন ৩১ ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ২৮ জন ঢাকা বিভাগে এবং ঢাকার বাইরে তিনজন, হাসপালাতে ভর্তি হয়েছেন।

ঢাকার ৪৭টি সরকরি ও বেসরকারি হাসপাতালে এখন ৭৮ জন ভর্তি আছেন। ঢাকার বাইরে, পাঁচ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৫১০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে ৪২৭ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এ বছর, এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারোও মৃত্যু হয় নি।

নিউজ ট্যাগ: ডেঙ্গু রোগী

আরও খবর



শাহজাদপুরের ৫০ বাড়ি-ঘর যমুনার পেটে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২১ জুন ২০২২ | ৩৭৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রামের অন্তত ৫০টি বাড়িঘর, ১০টি তাঁত কারখানা, গো-খামার, একটি মসজিদ ও অসংখ্য গাছপালা যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এক সপ্তাহ ধরে এ ভাঙনের তাণ্ডবে এ গ্রামের মানুষজন সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। অনেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। অনেকের ঘরে খাবার নেই। রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের কাছে এখনো কোনো ত্রাণ বা খাবার পৌঁছায়নি।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীর ওই অংশে ভাঙন রোধে বস্তা ফেলার কাজ চলছে। এছাড়া ওই এলাকার ভাঙন স্থায়ীভাবে রোধের জন্য সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তীর সংরক্ষণ কাজও চলছে। এ কাজ শেষ হলে এলাকায় আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

এদিকে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শাহজাদপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের আরও নতুন নতুন এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার কাঁচা পাট, তিল, কাউন, বাদাম, পটল ও শাকসবজি ক্ষেত ডুবে গেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা।

সোমবার সকালে  সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার (পানি পরিমাপক) হাসানুর রহমান জানান, গত ১২ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি আরও ২১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


আরও খবর



আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস আজ

প্রকাশিত:রবিবার ২৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৯ মে ২০২২ | ৩৫৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আজ ২৯ মে (রোববার) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় এ বছর দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী বিশ্বের সব দেশের শান্তিরক্ষীদের অসামান্য অবদানকে এ দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়ে থাকে।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপনে রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ। সকালে শান্তিরক্ষীদের স্মরণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে সকালে শান্তিরক্ষী দৌড়-২০২২ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন।

পরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদ শান্তিরক্ষীদের নিকটাত্মীয় ও আহত শান্তিরক্ষীদের জন্য সংবর্ধনা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর বিশেষ উপস্থাপনার আয়োজন করা হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত/হাইকমিশনার, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী, তিন বাহিনী প্রধান, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সামরিক উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), পুলিশের মহাপরিদর্শক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরার লক্ষ্যে বিশেষ জার্নাল ও জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি চ্যানেলে বিশেষ টক-শো প্রচারিত হচ্ছে। এছাড়া শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের কার্যক্রমের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি চ্যানেলে প্রচারিত হবে।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, জাতির জনকের অনুসৃত পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে শান্তি ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সব শান্তিরক্ষীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীগণ যেন আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিতে পারেন, এজন্য সরকারের সব প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

শান্তিরক্ষী সদস্যরা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে তাদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব, সাহস ও নিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি শক্তিশালী শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন এবং দেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।


আরও খবর



রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় পুলিশ সদস্য নিহত

প্রকাশিত:সোমবার ০৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৬ জুন ২০২২ | ৩৫০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

রাজধানীর বাংলামোটরে বাসের ধাক্কায় কোরবান আলী (২৫) নামে এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। তিনি বাইসাইকেলে ছিলেন। সোমবার (৬ জুন) সকালে বাংলামোটর ও ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলের মাঝামাঝি পরীবাগের রাস্তায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। হাতিরঝিল থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ জানান, মিরপুর থেকে আসা ওয়েলকাম পরিবহনের একটি বাস ওই কনস্টেবলকে ধাক্কা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পুলিশ বাসটি আটক করতে পারলেও চালক পালিয়ে গেছে বলে জানান ওসি। নিহত পুলিশ কনস্টেবল রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে টেলিকম বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, নিহতের লাশের ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।


আরও খবর



পশ্চিমা বিশ্বে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বুমেরাং হয়ে ফিরছে

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | ২১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ইউক্রেন আক্রমণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। পশ্চিমা মিত্রদের ধারণা ছিল এরফলে মস্কো অর্থনৈতিক চাপে পড়বে এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ইউক্রেনে অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি পশ্চিমা পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার ইঙ্গিতই দিচ্ছে। নিশানা যে লক্ষ্যমতো লাগেনি শুধু তাই নয়, উল্টো বুমেরাং হয়ে এখন পশ্চিমাদেরই ভুগাচ্ছে।  চীন ও ভারতের মতো বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দুই রাষ্ট্র রাশিয়া থেকে প্রায় একই পরিমাণ তেল কিনছে যা আগে পশ্চিমা দেশগুলোতে পাঠানো হতো। এর ওপর জ্বালানি তেলের দাম এত বেশি বেড়েছে যে রাশিয়া তেল বিক্রি করে যুদ্ধ শুরুর পূর্বে চার মাস আগে যা পেত, এখন তার চেয়েও বেশি লাভ করছে। এমনকি দেশটির অস্থিতিশীল মুদ্রা রুবলও ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

পুতিনকে ভয় দেখাতে পশ্চিমা প্রচেষ্টাগুলো দেখে মুচকি হাসছেন রুশ কর্মকর্তারা। আর তেল বয়কটের প্রভাব বুমেরাং হয়ে উল্টো পশ্চিমাদের ওপরেই ভারি হয়ে পড়ছে। জো বাইডেন এখনও তার মেয়াদকালের অর্ধেক সময়ও পার করতে পারেননি। তার আগেই জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দাম এখন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্যই হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের অনেকের মতে রাশিয়ার তেলের ওপর ইউরোপের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এখনও পড়তে শুরু করেনি। তবে এই নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে যার ওপর দেশটির ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ভর করছে। শুধু জ্বালানি তেলের বাণিজ্যখাতেই নয়, রাশিয়ার ব্যাংকিং এমনকি অন্যান্য শিল্প-প্রতিষ্ঠানের ওপরও এর প্রভাব পড়বে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

রাশিয়ার জ্বালানি আয় সম্পর্কে মস্কোর পিএফ ক্যাপিটাল কনসাল্টিং কোম্পানির প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়েভজেনি নাদরশিন বলেন, সবচেয়ে খারাপ এমনকি ন্যূনতম প্রভাব থেকেও অবস্থা এখন বহুগুণে ভালো। দুর্ভাগ্যবশত, কঠিন সময়টি কেবল শুরু। পুতিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আর্থিক দিক থেকে আত্মবিশ্বাসী কি না, তা নিশ্চিতভাবেই এখন এক উন্মুক্ত প্রশ্ন। কিন্তু অন্যদিকে ইউক্রেন ও তার সমর্থকরা যে দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত, সবদিক থেকেই তার ইঙ্গিত মিলছে। সম্ভাব্য ইউক্রেনীয় পাল্টা-আক্রমণ থেকে বাঁচতে ইউক্রেনের ডেপুটি প্রাইম-মিনিস্টার ইরিনা ভেরেশচুক দক্ষিণ ইউক্রেনের রাশিয়া-অধিকৃত অংশে বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষকে আগাম সরিয়ে নিতে জরুরি আবেদন করেছেন।

বাইডেন প্রশাসন অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ডকে ইউক্রেনে এক ঝটিকা সফরে পাঠায়। গারল্যান্ড সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধে জড়িত রাশিয়ানদের বের করতে আমেরিকার হয়ে প্রসিকিউটর এলি রোজেনবাউমকে নিয়োগের ঘোষণা দেন। রোজেনবাউম নাৎসিদের তদন্তের জন্য পরিচিত একজন প্রবীণ প্রসিকিউটর। পুতিন অবশ্য বরাবরই ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তবে এখনকার মতো রাশিয়াকে বিচারের আওতায় আনার চেয়ে অর্থনৈতিক দিক থেকে কোণঠাসা করাই যুক্তরাষ্ট্র ও এর পশ্চিমা মিত্রদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু ব্রহ্মাস্ত্র বুমেরাং হয়ে এখন পশ্চিমা দেশগুলোকেই হুমকিতে ফেলেছে। এর অন্যতম কারণ এশিয়ায় রুশ জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের জন্য এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী। মে মাসে চীনে রাশিয়ান তেল আমদানি আগের মাসের তুলনায় ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। চীনে জ্বালানির বৃহত্তম সরবরাহকারী সৌদি আরবকে সরিয়ে রাশিয়া নতুন রেকর্ড গড়ে। ভারত আগে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর খুব একটা নির্ভর না করলেও মার্কেট রিসার্চ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যানুসারে দেশটি বর্তমানে দৈনিক সাত লাখ ৬০ হাজার ব্যারেলের বেশি রুশ জ্বালানি কিনছে। কেপলার বিশ্লেষক ভিক্টর ক্যাটোনা বলেন, রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদন ব্যবস্থাকে রক্ষা করেছে এশিয়া। দেশটির জ্বালানি খাত সংকোচিত হওয়ার পরিবর্তে প্রায় মহামারি পূর্ব অবস্থার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

ইন্ডিপেনডেন্ট রিসার্চ ও বিজনেস অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির মতে, মার্চ থেকে মে মাসে ইউরোপে রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রি দিনে পাঁচ লাখ ৫৪ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত কমেছে। কিন্তু এশিয়ার শোধনাগারগুলো দৈনিক প্রায় পাঁচ লাখ তিন হাজার ব্যারেল তেল কেনা বাড়িয়েছে। রাশিয়া যদিও নিষেধাজ্ঞার কারণে বেশ বড় ছাড়েই তেল বিক্রি করছে, তারপরও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই ক্ষতি মোটামুটি পুষিয়ে ফেলা সম্ভব হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির তথ্যানুসারে, এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে দেশটির জ্বালানি আয় বেড়েছে ১.৭ বিলিয়ন ডলার। ইউরোপের জন্য পূর্ব-নির্ধারিত তেলের বাজার পুরোপুরি এশিয়ায় প্রতিস্থাপিত করা সম্ভব হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এখনকার মতো এশিয়ার জন্য রাশিয়ার তেল উৎপাদন অপরিবর্তিত রয়েছে। এভাবে চললে ভবিষ্যতে দেশটির জ্বালানিখাত সংকোচিত হবে কি না, সেই বিষয়টিও আগাম বলা কঠিন।

তবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেই যে ইউরোপে রাশিয়ার তেলের প্রবাহ ঠেকানো যাবে তা নয়। শোধনাগারগুলো অপরিশোধিত তেল ডিজেল বা গ্যাসোলিনে রূপান্তরিত করলে ইউরোপ ও অন্যান্য দেশে পাঠানো জ্বালানিগুলোর মূল উৎস রাশিয়া কি না সেই পার্থক্য নির্ণয় করা কঠিন হবে। পশ্চিমা দেশগুলোতে রপ্তানি করা পরিশোধিত তেলের প্রসঙ্গে বলেন এনার্জি কনসাল্টিং প্রতিষ্ঠান এফজিই-এর সভাপতি জেফ ব্রাউন বলেন, অথচ খনিজগুলোর অনেকটাই রাশিয়া থেকে আসে।


আরও খবর