আজঃ বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

সোনারগাঁওয়ে গাছে গাছে ঝুলছে রসালো পাকা লিচু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৪ মে ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
সোনারগাঁও (নারায়নগঞ্জ) প্রতিনিধি

Image

বাজারে আসতে শুরু করছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রসালো পাকা লিচু। অতিরিক্ত খরার কারণে আগেই পেকেছে এই লিচু। সোনারগাঁয়ের কাঁচা পাঁকা লিচু এখন বাগানে বাগানে ঝুলছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন লিচু গাছের লিচুতে রঙ ধরেছে।

সোনারগাঁয়ের লিচু আগাম বাজারে আসে বলে দেশের বিভিন্ন স্থানের লিচুর তুলনায় এ লিচুর চাহিদা থাকে অনেক বেশী। সুস্বাদু ও সুমিষ্ট হিসেবে রসালো সোনারগাঁয়ের লিচু সারাদেশে বেশ পরিচিত। বৈশাখের শেষ সময়ে এ লিচু প্রথমত বাজারে আসে।

লিচু চাষিরা জানান, এ বছর দেশের আবহাওয়া লিচু চাষের উপযোগী হওয়ার ভালো ফলন হয়েছে। ফলে এ বছর লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাবেন বলে জানিয়েছেন লিচু চাষীরা।

তারা জানান, সোনারগাঁয়ের লিচু বর্তমানে কদমী, মোজাফফরপুরী, চায়না-৩, এলাচি ও পাতি এ পাঁচ ধরনের লিচুর চাষ হয়ে থাকে। তবে অন্যান্য লিচু থেকে বর্তমানে কদমী লিচু চাষের প্রতি চাষীরা মনোযোগী হয়ে পড়েছেন বেশি। সোনারগাঁয়ে অন্যান্য ফসলের চাষ বাদ দিয়ে চাষিরা এখন লিচু চাষে আগ্রহী হয়েছেন। প্রতি বছর এক একটি বাগান ৪-৫ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। তাই চাষীরা কোথাও একটু খালি জায়গা পেলেই সেখানেই কদমী লিচুর বাগান তৈরি করছেন। তবে এ বছর লিচুর মুকুল খরার কারণে নষ্ট হওয়ার পরও বেশ ভালো ফলন হয়েছে।

এদিকে সোনারগাঁয়ে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৫ শতাধিক লিচুর বাগান রয়েছে। এসব বাগানে বেশিরভাগই কদমী লিচু চাষ হচ্ছে। এ বছর কদমী লিচু বিক্রি হচ্ছে প্রতি শ ৫৫০ থেকে ৬০০শ টাকায়। পাতি লিচু বিক্রি হচ্ছে প্রতি শ ৪০০-৪৫০ টাকায়।

জানা গেছে, উপজেলার সোনারগাঁ পৌরসভা, বৈদ্যেরবাজার, মোগরাপাড়া, বারদী, সনমান্দি ও সাদিপুর ইউপির বিভিন্ন স্থানে লিচু বাগান রয়েছে। তবে পৌরসভার সর্দার বাড়ী, বাংলাদেশ লোকও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের আশপাশের এলাকা, বাড়ী মজলিশ, দিঘিরপাড়, পানাম, অর্জুন্দি, বাগমুছা, দত্তপাড়া, ইছাপাড়া, কৃষ্ণপুরা, হাড়িয়া, সাহাপুর, পানাম গামতলী, ষোল­পাড়া, ভট্টপুর এলাকায় উৎকৃষ্ট মানের লিচুর চাষ হয়ে থাকে। সোনারগাঁয়ের লিচু রঙে ও স্বাদে অতুলনীয়।

মন্নার বাগ গাপতলী গ্রামের লিচু চাষী তাইজুল ইসলাম জানান, এ বছর লিচুর মুকুল অতিরিক্ত খরায় নষ্ট হয়ে গেছে। তারপরও লিচুর ভালো ফলন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় ফলন ভালো হওয়ার কারণে এ বছর আড়াই লাখ টাকা মূল্যের বাগান প্রায় ৪ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

সাহাপুর এলাকার লিচু ব্যবসায়ি মশিউর রহমান, বাদশা ও মাসুদ বলেন, আমরা লিচুর ফলন না দেখেই বাগান মালিকের কাছ থেকে লিছু বাগান ক্রয় করে থাকি। লিচু ব্যবসায়ীরা ভাগ্যের উপর নির্ভর করে লিচু ব্যবসা করে। তুলনামুলকভাবে সোনারগাঁয়ের লিচু দাম বেশ ভালো। কৃষকরা অন্যান্য বছরের ক্ষতি পূরণ করতে পারবে।

সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা বলেন, সোনারগাঁয়ের আবহাওয়া লিচু চাষের জন্য উপযোগী চাষীদের অনুকুলে ছিল । হঠ্যাৎ খরার কারণে লিচুর অনেক গুটি গাছ থেকে ঝড়ে পড়েছে। তারপরও এ বছর সোনারগাঁয়ের লিচুর ভাল ফলন হয়েছে। লিচু চাষীরা বেশ খুশি।

নিউজ ট্যাগ: সোনারগাঁও লিচু

আরও খবর



আপিল বিভাগের শুনানি এগিয়ে আনার ব্যবস্থা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত যখন চাইবে, তখনই তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকার প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আন্দোলনকারীদের আলোচনার বার্তাকে প্রধানমন্ত্রী যে স্বাগত জানিয়েছেন, সে কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেছেন, তাদের এ প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের সাথে আলোচনা করার জন্য আমাকে, মানে আইনমন্ত্রীকে এবং শিক্ষামন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরীকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা তাদের সাথে বসব। আমরা এটাও বলতে চাই, তারা যখনই বসতে রাজি হবে, এটা যদি আজকে হয় আজকেই আমরা বসতে রাজি আছি।

কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্থানে অবরোধ-সংঘর্ষের মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের টানেলে প্রেস ব্রিফিংয়ে আসেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কোটা সংস্কারের বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে একমত। কোটা নিয়ে পরিপত্র বাতিলের হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার যে আপিল করেছে, তার শুনানি এগিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের সংঘাত ও প্রাণহানির সার্বিক ঘটনা তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করতেও প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করা হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আনিসুল হক বলেন, আমার মনে হয় আজ থেকে আন্দোলন করার কোনো প্রয়োজন নাই। আমরা সেই কারণে তাদের আহ্বান জানাচ্ছি, অনুরোধ করছি, তারা যেন সহিংসতা বন্ধ করে এবং এই আন্দোলন প্রত্যাহার বা স্থগিত করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর
ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি

বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪




ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে রাবি শিক্ষকরা

প্রকাশিত:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আসিক আদনান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Image

সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার ও প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও কর্মচারীরা। ফলে বন্ধ রয়েছে সকল প্রকার ক্লাস-পরীক্ষা।

সোমবার (১ জুলাই) সকাল থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবন চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার সমিতিও ১ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত লাগাতার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকদের অনেক সুবিধা উঠিয়ে দেওয়া ও আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কার্পণ্য হতে দেখেছি। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি সঠিকভাবে না চলে তাহলে জাতির সামনে অশনি সংকেত অপেক্ষা করে। যেসব মেধাবী শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে তারা যদি মেধাবী শিক্ষক না পান তাহলে তারা দেশকে কিছুই দিতে পারবে না। মেধাবী শিক্ষক পেতে গেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করতে হবে। যেন তারা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসেন। তাদের আকর্ষণ করার জন্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। আরও কত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায় সেই চেষ্টা করবেন। প্রতিবেশী অনেক দেশে শিক্ষকদের বেতন সাধারণ চাকরি থেকে অনেক বেশি৷ কিন্তু বাংলাদেশে স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের কথা বারবার বলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি৷

রাবির শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, গত দুই মাস থেকে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। ভেবেছিলাম এমন পরিস্থিতি আসবে যে আমাদের আর লাগাতার কর্মসূচির মধ্যে যেতে হবে না। যেহেতু তেমন কিছু হয়নি তাই আমাদের লাগাতার কর্মসূচিতে যেতে হচ্ছে এবং সরকারের অবস্থান খুব অনড় বলেই মনে হচ্ছে। এজন্য আমাদের এটা আরও চালিয়ে যেতে হবে। গতকাল থেকে আন্তঃকর্মকর্তা ও কর্মচারী পরিষদ আছে তারাও আমাদের সাথে একাগ্রতা প্রকাশ করেছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে যখনি কোনো কিছু ঘটে তখন সবকিছু শিক্ষকদের ওপরেই সব সময় আসে। আর্থিক খাত থেকে বিভিন্ন জায়গায় বঞ্চিত করা হয়েছে। আপনারা জানেন ২০১৫ সালে অবনবন করা হয়েছে। আবার সর্বজনীন পেনশন স্কিমের নামে আর্থিকভাবে ক্ষতি করছে। শুধু আর্থিকভাবে নয় আমি মনে করি এটার সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। এটা উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বলে মনে করি। সরকার এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু সরকারের মধ্যে থাকা কিছু ষড়যন্ত্রী আমাদের সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। আমরা দ্রুত এর প্রত্যাহার চাই।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে বিবৃতি প্রদান, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, মানববন্ধন, প্রতীকী কর্মবিরতি, স্মারকলিপি প্রদান এবং অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত ২৫, ২৬ ও ২৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালিত হয় এবং ৩০ জুন পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেন। আজ ১ জুলাই সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন তারা।


আরও খবর
যে কারণে চাকরি ছাড়লেন জাবি শিক্ষক

বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪




পাহাড়ি ঢলে ফের বন্যার কবলে সুনামগঞ্জ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | অনলাইন সংস্করণ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

Image

ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ফের সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এরইমধ্যে ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার গ্রামীণ সড়ক, ঘরবাড়ি ও ফসিল জমি। সেইসঙ্গে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন দুই উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ।

এমনকি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে পৌর শহরের কাজীর পয়েন্ট, উত্তর আরপিননগর, নতুন পাড়া, হাসননগরসহ বেশ কিছু এলাকা। সেইসঙ্গে জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে তাহিরপুর উপজেলা। দোয়ারাবাজার উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে সুরমা, লক্ষ্মীপুর ও বাংলাবাজারসহ তিন ইউনিয়নের। এক মাসের ব্যবধানে দুইবার সুনামগঞ্জ বন্যা কবলিত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই অঞ্চলের মানুষেরা।

ভুক্তভোগীরা বলেন, কয়েকদিন আগে একদফা বন্যা হয়ে গেলেও এখন আবারো বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় আমাদের অবস্থা নাজেহাল হয়ে গেছে।

তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দা অলি মিয়া বলেন, বন্যার পানিতে আমাদের অবস্থা খুব খারাপ। প্রতিনিয়ত পানি বাড়ছে। এরইমধ্যে সড়ক ডুবে গেছে। ঘরবাড়িতে পানি।

পৌর শহরের বাসিন্দা জমিরুল হক পৌরব বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানিতে আমাদের বেহাল অবস্থা। আমরা এই পানির হাত থেকে রক্ষা চাই।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি কমলে নদীর পানি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন, রাতভর নিজে উপস্থিত থেকে পৌর শহরের যে এলাকায় পানি ওঠে সেখানকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার করেছি। যাতে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, বন্যা মোকাবিলায় আমাদের সকল প্রস্তুতি নেওয়া আছে।


আরও খবর



সর্বগ্রাসী ক্ষুধা থেকে বের হয়ে আসতে হবে : পরিকল্পনা সচিব

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

সর্বগ্রাসী ক্ষুধা থেকে আমাদের বের হয়ে শুদ্ধাচারী মনোভব পোষণ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব সত্যজিত কর্মকার। তিনি বলেন, গণমাধ্যম এখন সৎ মানুষ সেজে থাকা দুর্নীতিবাজদের বের করে আনছে।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের সর্বগ্রাসী মনোভব থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সম্মানের থেকে কেন আমরা বিচ্যুত হচ্ছি। শুধু নিজে সৎ থাকলে হবে না। আশপাশের সবাইকে সৎ রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি ২০২৪-২৫ স্বাক্ষর ও শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা সচিব সত্যজিত কর্মকার এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য আব্দুল বাকী, আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য রেহানা

সত্যজিত কর্মকার বলেন, আমরা সর্বগ্রাসী হয়ে গেছি। আমাদের চাই চাই আরও লাগবে কেন? সরকার আমাদের কি দেয়নি, আমরা কেন নীতিবহির্ভূত কাজ করছি। এই দেশ তো আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে। সর্বগ্রাসী ক্ষুধা এমন পর্যায়ে গেছে প্রধানমন্ত্রী আমাদের শুদ্ধাচার পুরস্কার দিয়ে নিবৃত করছে। আমাদের সবাইকে সর্বগ্রাসী ক্ষুধা থেকে বের হতে হবে।

তিনি বলেন, এখানে আজ অনেকেই অনুপস্থিত, যা খুবই দুঃখজনক এটা শুদ্ধাচারের পরিপন্থি। এটা সরকারের অন্যতম কর্মসূচি অথচ অনেকে নেই। আমার মনে হয় আয়োজকদের কারণে আজ অনেক চেয়ার ফাঁকা। আমাদের সময়ের প্রতি, দায়িত্বের প্রতি আরও যত্নবান হওয়া দরকার।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, অনাচার দিয়ে কোনো সমাজ চলতে পারে না। শুদ্ধাচার এর বিপরীত শব্দ কি অনাচার। সামাজিক অনাচার দূর করে মানবসভ্যতা রচনা করাই কাজ। মানুষের কাজই হচ্ছে অনাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।

তিনি বলেন, আমাদের বিভিন্ন বিলবোর্ডে জাতির পিতার কথা বলা আছে সেই অনুসারে আমাদের চলতে হবে। মানুষকে সম্মান জানাতে হবে। শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। জীবনের প্রতি পদক্ষেপ শুদ্ধাচার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। শুদ্ধাচার অর্জন করবার জন্য জাতির পিতাকে অনুসরণ করে জীবন পরিচালনা করতে হবে।


আরও খবর
ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি

বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪




গ্যাস সংকটে বন্ধ ফেঞ্চুগঞ্জ শাহজালাল সার কারখানা

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
এস এ শফি, সিলেট

Image

শুধুমাত্র গ্যাস সংকটের কারণে এ বছরের ১৩ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড। ফলে কারখানাটি ৫২৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে যেতে পারে এমন আশংকা রয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষের। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এসএফসিএল সার উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হলেও গ্যাস সংকট দেখিয়ে কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে।

গ্যাস সংকটের অজুহাতে ৪ মাস যাবৎ শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (এসএফসিএল) বন্ধের যে কোন ষড়যন্ত্র রুখতে মানববন্ধন কর্মসূচিসহ তীব্র আন্দোলন ডাক আসতে পারে, এমনটাই জানালেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, সিলেটের কৈলাসটিলায় নতুন সন্ধান পাওয়া ৮ নং গ্যাসকুপ থেকে দৈনিক ২১ মিলিয়ন গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে। অথচ গ্যাস সংকট দেখিয়ে দেশের ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের কারণে বৃহৎ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন দেশের কৃষকরা। এসএফসিএল এ শ্রমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন ৬৬১ জন। এছাড়া দৈনিক হাজিরা শ্রমিক রয়েছেন ৪২৫ জন। কারখানা বন্ধের ফলে কারখানার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষেভাবে জড়িত শ্রমিক কর্মচারী, কর্মকর্তাসহ স্থানীয় লক্ষাধিক মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বিসিআইসির মাতৃশিল্প প্রতিষ্ঠান ন্যাচারেল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরী লিমিটেডর পাশেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয় শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (এসএফসিএল)। ২০১২ খ্রিস্টাব্দের ২৪ জুন ভিত্তিপ্রস্থর করা হয় এসএফসিএলর। ৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সারকারখানাটি বাণিজ্যিকভাবে সার উৎপাদনে যায় ২০১৬ সালের ৬ মার্চ। শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের নিরলস পরিশ্রমে প্রায় প্রতি বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম ছিল এসএফসিএল।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে এসএফসিএলর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল ৩ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিকটন। ১২ মার্চ অর্থাৎ কারখানা বন্ধের আগের দিন পর্যন্ত কারখানায় উৎপাদিত সারের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮১২ মেট্রিকটন। এক হিসেবে দেখা যায় ১৩ মার্চ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ১১৯ দিনে বিসিআইসি অর্থাৎ সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫২৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এই কারখানাটি সচল রাখতে দৈনিক ৪২ এমএমসিএফ (মিলিয়ন কিউবিক ফুট) গ্যাসের প্রয়োজন।

বর্তমানে ইউরিয়া সারের টন প্রতি আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য ৯০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা। যেখানে কারখানায় উৎপাদিত সারের মূল্য মাত্র ২৫ হাজার টাকা। উৎপাদন শুরু থেকে বন্ধ হওয়া পর্যন্ত গেল ৮ বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে এসএফসিএল এর অবদান ৫৫৫ কোটি টাকা।

এদিকে গ্যাস সংকট দেখিয়ে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (এসএফসিএল) বন্ধ থাকায় উদ্বেগ ও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাকুল ইসলাম সাব্বির। তিনি এ নিয়ে তার অফিসকক্ষে ফেঞ্চুগঞ্জ প্রেসক্লাব ও কারখানার সিবিএ'র নেতৃবৃন্দদের নিয়ে মতবিনিময় করেছেন।

সভায় অনতিবিলম্বে গ্যাস সরবরাহ চালু করে এসএফসিএল এর উৎপাদন চলমান রাখার আহবান জানানো হয়। অন্যতায় গ্যাস সরবরাহ নিয়মিত রাখার দাবিতে শ্রমিক-জনতার আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। এ সময় সিলেট তথা ফেঞ্চুগঞ্জের স্বার্থে যে কোন কঠোর আন্দোলনে সোচ্চার থাকার ঘোষণা দেন নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাকুল ইসলাম সাব্বির।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদদীন ইসকা, সহসভাপতি মামুনুর রশীদ, সহ সম্পাদক মো. দেলওয়ার হোসেন পাপ্পু, অর্থ সম্পাদক বদরুল আমিন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রুমেল আহসান, সদস্য আরকেদাস চয়ন, এসএচৌধুরী জুলহান ও জুলহাস আহমেদ। শাহজালাল সারকারখানা সিবিএ নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি রাজু আহমদ মুন্না, সাধারণ সম্পাদক মোললা মেহেদী হাসান সিদ্দিকী, যুগ্ম সম্পাদক লিয়াকত হাসান প্রমুখ।

এ ব্যাপারে এসএফসিএলর ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোপাল চন্দ্র ঘোষ জানান, গ্যাস সরবরাহের কারণে এ বছরের ১৩ মার্চ থেকে কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কারখানার সকল যন্ত্রপাতি সচল অবস্থায় কারখানা বন্ধ করা হয়েছে, তবে এভাবে বন্ধ থাকলে কারখানার বিভিন্ন কেমিক্যাল, ক্যাটালিষ্ট ও সয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি/যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ চালু হলেই উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব বলে জানালেন তিনি।


আরও খবর