আজঃ রবিবার ০৩ মার্চ ২০২৪
শিরোনাম

স্কুলছাত্রী জেসিকার হত্যার প্রধান আসামি গ্রেফতার

প্রকাশিত:রবিবার ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

মুন্সিগঞ্জে স্কুলছাত্রী জেসিকা মাহমুদা জেসি (১৬) হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিজয় রহমানকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর ওয়ারী থেকে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে স্কুলছাত্রী জেসিকাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান বিজয় রহমান। পরে তাকে নিয়ে যান পাঁচতলা বাড়ির ছাদে। পূর্বপরিচিত হওয়ায় বিষয়টি কেউ সন্দেহ করেননি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতাল থেকে বিজয় ফোন দিয়ে জানান, জেসিকার অবস্থা খারাপ। তিনি ছাদ থেকে লাফ দিয়েছেন। সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে জেসিকার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় মামলার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে র‍্যাবের গোয়েন্দা ও একাধিক ইউনিট। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিজয় রহমানকে শনিবার রাতে রাজধানীর ওয়ারী থেকে গ্রেফতার করা হয় বলেও জানান র‌্যাবের মুখপাত্র।

জেসিকা মাহমুদা মুন্সিগঞ্জ জেলা শহরের সরকারি এভিজেএম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তিনি সদর উপজেলার কেওয়ার এলাকার সেলিম হোসেনের মেয়ে। মায়ের সঙ্গে শহরের কোটগাঁও এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো সে।

প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে জেসিকাকে গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কোটগাঁও এলাকায় নিজ বাড়িতে ডেকে নেন বিজয় রহমান ও তার প্রেমিকা আবিদা আক্তার। সেখানে তাকে মারধর করা হয়। পরে ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা সাজান তারা। হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওইদিন রাত ৮টায় মৃত্যু হয় জেসিকার।

ঘটনার পরদিন মুন্সিগঞ্জ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শৈবাল বসাক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, জেসিকা নামে এক কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন ২০ থেকে ২১ বছর বয়সী একটি ছেলে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছিল। পরে রাত ৮টার দিকে ওই কিশোরীর মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়। তার মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ছেলেটি দাবি করছিলেন, জেসিকা পাঁচতলা ছাদ থেকে পড়ে গেছে।’ তবে এমন ঘটনা হলে রোগীর মাথা রক্তক্ষরণের চিহ্ন থাকতো, যা এ রোগীর ছিল না।

এদিকে, ঘটনার পরদিন থানায় হত্যামামলা করে নিহতের পরিবার। মামলায় বিজয় ও তার প্রেমিকা আবিদার নাম উল্লেখ করে আরও তিনজকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

আসামি আবিদাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আবিদা। জবানবন্দিতে জেসিকা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি। তবে মামলার প্রধান আসামি বিজয় পলাতক ছিলেন।


আরও খবর



সিপিবির কমিটির সমালোচনা করে বক্তব্য, মঞ্জুরুল আহসানকে অব্যাহতি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খানকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ছয় মাসের জন্য দলীয় সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে দলটির সাবেক এই সভাপতির। আজ সোমবার দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লুনা নূর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির জরুরি সভায় পার্টির শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মনজুরুল আহসান খানকে উপদেষ্টার পদ থেকে স্থায়ী অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর সদস্যপদ আগামী ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সদস্যপদ স্থগিত থাকাকালীন তাঁর কার্যকলাপ সম্পর্কে নতুন কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে সেক্ষেত্রে পুনরায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সভায় পার্টির শৃঙ্খলা, রীতিনীতি ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি গণমাধ্যমে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সমালোচনা করে মনজুরুল আহসান বলেন, বর্তমান সিপিবির নেতৃত্বে রয়েছে একটা সুবিধাবাদী গোষ্ঠী। এরা অতীতেও কোনো আন্দোলন করেনি, বর্তমানেও করে না।

তিনি আরও বলেন, তাল মিলিয়ে চলতে তো পারছেই না, উল্টো আরও পিছিয়ে এসেছে। এই কমিটিকে আমরা সরিয়ে দেব। সেন্ট্রাল কমিটিতে তাঁদের একজনের মেজরিটি। সারা দেশের সদস্যদের মধ্যে আমাদের মেজরিটি বেশি। বেশিরভাগ জেলা আমাদের সমর্থন করবে। আমরা একটা রিকুইজিশন সম্মেলন ডেকে তাদের সরিয়ে দেব।


আরও খবর



খালাতো বোনকে বিয়ে না করতে পেরে পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা

প্রকাশিত:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
শাকিল মোল্লা, রাজবাড়ী

Image

রাজবাড়ীতে খালাতো বোনকে বিয়ে না করতে পেরে অভিমানে নাঈম খান নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের চাঁদপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত নাঈম খান ওই এলাকার মান্নান খানের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নাঈমের সঙ্গে তার খালাতো বোনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ছেলের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলে মেয়ের বাড়ি থেকে না করে দেয়। এ নিয়ে নাঈম তার মায়ের সঙ্গে সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সে তার নিজ রুমে গিয়ে কাপড় দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস নেয়। পরবর্তীতে নাঈমের মা রুমে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈমকে মৃত ঘোষণা করে।

নাঈমের বাবা মান্নান খান বলেন, নাঈম শিশু থাকতে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে এবং সে সময় থেকেই তিনি ছেলেকে মানুষ করেছেন। ৭ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় মোটরসাইকেলের লোভ দেখিয়ে ওর মা নাঈমকে নিয়ে যায়। এরপর দুইবার মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট করে নাঈম। তারপর অনেকে রাগারাগি করে মোটরসাইকেল বিক্রি করিয়েছেন এবং ছেলেকে নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করেছেন। গতবছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এক বিষয়ে ফেল করে নাঈম।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

রাজবাড়ী সদর থানার এসআই আবুল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সে আত্মহত্যা করেছে। গলায় ফাঁস নেওয়ার চিহ্ন রয়েছে। ময়নতদন্তের রিপোর্ট পাবার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এরপরই বিস্তারিত বলতে পারব। তবে এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত চলছে।


আরও খবর



স্বর্ণ কেনার সেরা সময় এখনই

প্রকাশিত:শনিবার ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

Image

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মহামূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে স্বর্ণ। নেপথ্যে রয়েছে নানা কারণ। বিশেষ করে ধাতুটির দাম কখনও কমে না। অধিকন্তু অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় ব্যাপক আর্থিক নিরাপত্তা দেয় এটি। যুগ যুগ ধরে স্বর্ণের চাহিদা রয়েছে। কারণ, এটি সবসময় কেনা ও বেচা যায়। ফলে সময়ের পরিক্রমায় দামি সম্পদে পরিণত হয়েছে নিরাপদ আশ্রয় ধাতুটি।

তবে স্বর্ণ কেনা সবসময় লাভজনক নয়। নির্দিষ্ট কিছু সময়ে এটি কিনলে ব্যাপক মুনাফা করা যায়। অর্থাৎ মোটা অংকের লাভের মুখ দেখা যায়। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাদ্যম সিবিএসের এক প্রতিবেদনের আলোকে তা আলোচনা করা হলো।

১. গত ডিসেম্বরের শেষদিকে ১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছিল স্বর্ণের দাম। সেই থেকে এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাতুটির দর কমেছে ৬০ ডলার ০৯ সেন্ট বা ২ দশমিক ৮৯ শতাংশ। বর্তমানে বুলিয়ন বাজার নিম্নমুখী রয়েছে। তবে অদূর ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে না। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। ফলে এখন কিনে রাখলে সামনে সেটি বিক্রি করে লাভবান হওয়া যাবে।

২. মূল্যস্ফীতি বাড়লে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পায়। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, আগামী দিনেও পণ্যদ্রব্যের দর ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। তাদের আভাস আমলে নিয়ে নিশ্চিত বলা যায়, সামনে স্বর্ণের মূল্যও বৃদ্ধি পাবে। তাই এখন কিনে রাখলে নিকটবর্তী সময়ে অধিক মুনাফা করা যাবে।

৩. বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করলে লোকসানের ঝুঁকি কম থাকে। যেমন-শেয়ারবাজারে যেকোনো মুহূর্তে ধস নামতে পারে। আবার অনেক সময় বন্ডে বিনিয়োগ করেও প্রত্যাশা অনুযায়ী মুনাফা পাওয়া যায় না। কিন্তু স্বর্ণ ব্যবসায় ক্ষতির সম্ভাবনা কম। ফলে বিনিয়োগেও বৈচিত্র্য আনতে হয়। এতে এক পণ্য মুখ থুবড়ে পড়লেও অন্য পণ্যে লাভ হয়। এক্ষেত্রে উত্তম মাধ্যম স্বর্ণ। তাতে কখনও লোকসান গুনতে হবে না।

৪. বিদায়ী ২০২৩ সালের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ১৮৩৪ ডলার। গত বছরের শেষদিকে তা ছিল ২০১৯ ডলার। এ সময় মূল্যবান ধাতুটির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১৮৪ ডলার বা ১০ শতাংশ। নেপথ্য কারণ বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক সংকট বিদ্যমান। শিগগিরই এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে হচ্ছে না। এর মানে অদূর ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম আরও বাড়বে। সবমিলিয়ে দুঃসময়ের বন্ধু ধাতুটি কেনার সেরা সময় এখনই।


আরও খবর



রাজধানীতে পরিত্যক্ত বাড়ির সংখ্যা জানালেন গৃহায়ণমন্ত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানীতে ৬ হাজার ৩৭২টি পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে। পরিত্যক্ত বাড়ি সবচেয়ে বেশি মিরপুর এলাকায়। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৯ আসনের মুহম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী র. আ. ম. ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

মন্ত্রী জানান, পরিত্যক্ত বাড়ি সবচেয়ে বেশি মিরপুর এলাকায়। মিরপুরে ‍তিন হাজার ৫৮২টি পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে। সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে মোহাম্মপুর। এখানে রয়েছে এক হাজার ৫৪২টি পরিত্যক্ত বাড়ি। এ ছাড়া অন্য পরিত্যক্ত বাড়িগুলোর মধ্যে গুলশানে ১২৮টি, বনানীতে ৯টি, মগবাজারে ৬২টি, তেজগাঁওয়ে ৩৬, নাখালপাড়ায় ১৯টি, ক্যান্টনমেন্টে ২৬টি, বাসাবো ৩৮টি, শাহাজানপুরে ১০টি, খিলগাঁওয়ে ১২টি, জুরাইনে ২টি, মতিঝিলে ৭২টি, রমনায় ১৫৮টি, সূত্রাপুরে ৩২০টি, লালবাগে ১৭৪টি, কোতোয়ালীতে ৪৬টি, ধানমন্ডিতে ৮৮টি, লালমাটিয়ায় ২৫টি, যাত্রাবাড়ীতে ৪টি ও মানিকনগরে রয়েছে ১টি।

এদিকে পরিত্যক্ত বাড়ির মধ্যে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে চারটি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০টি ব্যবহৃত হচ্ছে জানিয়ে গৃহায়ণমন্ত্রী বলেন, সংরক্ষিত পরিত্যক্ত বাড়িতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণকাজে ব্যবহার হচ্ছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ভাড়াভিত্তিক বরাদ্দ করা হচ্ছে। বিক্রয়যোগ্য পরিত্যক্ত বাড়িগুলো প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিতে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, শহীদ পরিবার, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বরাদ্দপ্রাপ্তদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গত তিন অর্থবছরে ঢাকা শহরের পরিত্যক্ত বাড়ি হতে ১২ কোটি ৬৮ লাখ ১৬ হাজার ৪২৯ টাকা ভাড়া আদায় হয়েছে। এ সময় বিক্রি থেকে মূল্য আদায় হয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ ২ হাজার ৭৩৭ টাকা।


আরও খবর



হেমায়েতপুরে স্থানান্তর হচ্ছে গাবতলী বাস টার্মিনাল

প্রকাশিত:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানীতে বাস চলাচল সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোয় আনতে গাবতলী বাস টার্মিনাল হেমায়েতপুরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে তারা। এ ছাড়া ঢাকার চারপাশে আরও চারটি পরিকল্পিত বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। স্থানান্তর করা হবে মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালও।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, ডিএনসিসির পাঠানো প্রস্তাব অনুযায়ী, হেমায়েতপুরে মেট্রো রেল লাইন-৫ এর স্টেশন ও ডিপোর পাশে প্রায় ৪৫ একর জায়গাজুড়ে অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন এই বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এটি হবে ঢাকার প্রথম বহুতল আন্ত জেলা বাস টার্মিনাল। সেখানে ছয়তলা দুটি টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হবে, যেখানে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার বাস রাখা যাবে। একই সঙ্গে থাকবে একটি ডিপো। এ ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি রাখার জন্য থাকবে দুটি তলা। প্রতিটি তলায় ৪৬টি করে গাড়ি রাখা যাবে।

প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) অনুযায়ী, এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৫১০ কোটি টাকা। যদিও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) করা সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল মাত্র এক হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা।

অর্থাত্ প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় সমীক্ষার প্রায় আড়াই গুণ। চলতি বছর এ টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু করার কথা। চার বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষে টার্মিনালটি যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পটির প্রস্তাবের ওপর একটি পর্যালোচনাসভা হবে। সভায় প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা ও প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।

সেখান থেকে অনুমোদন পেলে প্রকল্পটির জন্য বিদেশি ঋণ পেতে এটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কাছে পাঠানো হবে। তবে এখনো প্রকল্পটি নিয়ে তেমন অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।

ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী নাঈম রায়হান খান বলেন, আমরা গাবতলী বাস টার্মিনাল সিটির বাইরে স্থানান্তরে একটি প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছি। সেখানে একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল হবে। পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি নিয়ে আমাদের সঙ্গে বসবে। 

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, ছয়তলা টার্মিনালটির চারটি তলা থাকবে যাত্রীবাহী বাসের জন্য। প্রতিটি তলায় ৪৩২টি করে বাস রাখা যাবে। ডিপোতে আরও এক হাজার বাস রাখার জায়গা থাকবে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়, টার্মিনালটি নির্মাণের লক্ষ্য যাত্রীদের পরিষেবা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা তৈরি করা। এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে আন্ত জেলা ও শহরের মধ্যে চলাচলকারী বাসগুলোর জন্য আলাদা প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা, আন্ত জেলা বাস ডিপো সুবিধা, মাল্টি-মডেল কানেক্টিভিটি, ব্যক্তিগত যানবাহন রাখার জন্য দুটি তলা এবং যানবাহনগুলো থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা।

জানা গেছে, এর আগে ঢাকায় বাস চলাচল সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোয় আনার লক্ষ্যে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির দুই মেয়রের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরিচালিত একটি সম্ভাব্যতা পর্যালোচনার পর আন্ত জেলা বাস টার্মিনালগুলো স্থানান্তরের জন্য চারটি সম্ভাব্য স্থান নির্বাচন করে। হেমায়েতপুরের পাশাপাশি অন্য তিনটি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য গ্রাম ভাটুলিয়া, কাঁচপুর ও বাঘাইর এলাকা নির্বাচন করা হয়। বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকায় চারটি নতুন আন্ত নগর বাস টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল শহর থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, গাবতলী ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। টার্মিনালটি স্থানান্তর করা হলে বিমানবন্দর সড়কে যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। হেমায়েতপুরের প্রস্তাবিত জায়গাটি এমআরটি লাইন-৫ স্টেশন এবং ডিপো এলাকার সঙ্গে অবস্থিত। ফলে গণপরিবহনব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।

প্রকল্পটির বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, এমন প্রকল্প প্রস্তাব এসেছে কি না, আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে জানাতে পারব। তবে এত বড় প্রকল্প এই মুহূর্তে অনুমোদন দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।

জানা গেছে, ঢাকা শহরের ভেতরে আন্ত জেলা ও শহরতলির বাস চলাচল বন্ধে ডিটিসিএ একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করে। এতে দেখা যায়, প্রতিদিন ঢাকার রাস্তায় যত গাড়ি চলে, তার ২৪ শতাংশ আন্ত জেলা ও শহরতলির বাস। শহরের ভেতর রয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ বাসের কাউন্টার। এসব কাউন্টার যানজটের হটস্পট। এরই আলোকে ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে পাঁচটি আন্ত জেলা টার্মিনাল ও তিনটি বাস ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা করে সরকার।

সমীক্ষা অনুযায়ী, ঢাকার প্রবেশমুখে পাঁচটি বাস টার্মিনাল গড়ে তুলতে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে তিনটি বাস ডিপো তৈরি করতে খরচ হবে আরও প্রায় তিন হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর বাইরে বাস টার্মিনালের জন্য বিকল্প হিসেবে আরও দুটি স্থান প্রস্তাব করা হয় এবং ঢাকার ভেতরে থাকা তিনটি আন্ত জেলা টার্মিনাল সিটি টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়, ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে সবচেয়ে বড় আন্ত জেলা বাস টার্মিনালটি হবে সাভারের হেমায়েতপুরে। চুয়াডাঙ্গা, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ, মেহেরপুর, নড়াইল, নবাবগঞ্জ, পাবনা, রাজবাড়ী ও রাজশাহী থেকে আসা আন্ত জেলা বাস থামবে হেমায়েতপুর টার্মিনালে।


আরও খবর