আজঃ মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২
শিরোনাম

সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

প্রকাশিত:বুধবার ২২ জুন 20২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২২ জুন 20২২ | ২৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি না বাড়লেও বাড়ছে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি। ফলে অবনতি হচ্ছে জেলার বন্যা পরিস্থিতি। তবে শহর রক্ষাবাঁধ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার (২২ জুন) সকালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জের গেজ রিডার হাসানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, যমুনা নদীর পানি না বাড়লেও বাড়ছে ইছামতি, ফুলঝোড়, করতোয়া, বড়াল ও চলনবিলের পানি। জেলার এ সকল অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ইতোমধ্যেই জেলার পাঁচটি উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের অন্তত ২০টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এ সকল এলাকার বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বানভাসিরা। এরই মধ্যে এ সকল এলাকার ৬ হাজার ৯২ হেক্টর জমির আউস ধান, পাট, তিল, কাউন, বাদামসহ উঠতি ফসল নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষক।

এদিকে কাজ না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন বন্যা কবলিত এলাকার শ্রমজীবীরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন অনেকেই। বন্যা কবলিত এলাকায় এখনো শুরু হয়নি সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ত্রাণ বিতরণ।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জের গেজ রিডার হাসানুর রহমান জানান, আজ বুধবার ভোর থেকে শহর রক্ষাবাঁধ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


আরও খবর



বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি

প্রকাশিত:বুধবার ০৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ০৮ জুন ২০২২ | ৪৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি। আজ মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বিএনপির পক্ষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান অংশ নেন। অন্যদিকে মুসলিম লীগের মহাসচিব শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরীর নেতৃত্বে দলটির নয় সদস্য বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মুসলিম লীগের মহাসচিব শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে সব ধরনের আন্দোলনে আমরা অংশীদার থাকব।

নিউজ ট্যাগ: বিএনপির বৈঠক

আরও খবর



দুই শিশুকে জাপানে নিয়ে যেতে মায়ের আবেদন খারিজ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০২ জুন 2০২2 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০২ জুন 2০২2 | ৩৭০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

জাপানি দুই শিশুজেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনার বাংলাদেশি বাবা ইমরান শরীফের বিরুদ্ধে শিশুদের মা নাকানো এরিকোর করা আদালত অবমাননার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

একইভাবে নাকানো এরিকোর বিরুদ্ধে ইমরান শরীফের করা আদালত অবমাননার আবেদন এবং বিদেশে নিতে করা আবেদনও খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। তাঁকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। এর আগে গত ১৬ মে জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনার বাংলাদেশি বাবা ইমরান শরীফের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন তাদের জাপানি মা নাকানো এরিকো।

ওইদিন আইনজীবী শিশির মনির বলেছিলেন, আপিল বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে দুই শিশু মা নাকানো এরিকোর সঙ্গে বারিধারায় থাকবেন। বাবা শিশুদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এ নির্দেশনা অমান্য করে ইমরান শরীফ জোর করে মাঝে মধ্যেই শিশুদের নিয়ে বাইরে যান। এ কারণে তাঁরা আদালত অবমাননার আবেদন করেছি।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পারিবারিক আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই শিশুজেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা তাদের জাপানি মা নাকানো এরিকোর কাছে থাকবে বলে রায় দেন আপিল বিভাগ। পাশাপাশি এ বিষয়ে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বাতিল করা হয়।

এ সময়ে নাকানো এরিকো শিশুদের নিয়ে দেশত্যাগ করতে পারবেন না। বাবা ইমরান শরীফ শিশুদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন বলে রায়ে বলা হয়।

হাইকোর্টের রায় বাতিল করে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতকে দুই শিশুর জিম্মা সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি করতে বলেন আদালত।

আদালতে নাকানো এরিকোর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও মোহাম্মদ শিশির মনির। ইমরান শরীফের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও ফাওজিয়া করিম ফিরোজ।

গত বছরের ২১ নভেম্বর জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা বাংলাদেশে তাদের বাবা ইমরান শরীফের কাছে থাকবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট। তবে, রায়ে বলা হয় জাপান থেকে এসে শিশুদের মা বছরে তিন বার ১০ দিন করে দুই সন্তানের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে পারবেন। জাপানি মায়ের আসা-যাওয়া ও থাকা-খাওয়ার সব খরচ বাবা ইমরান শরীফকে বহন করতে হবে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।


আরও খবর



খুলনার ১৮ রুটে ডাকা পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ৩১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ৩১ মে ২০২২ | ৩০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

 সড়ক-মহাসড়কে নসিমন ও করিমনসহ বিভিন্ন অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে আগামী বুধবার (১ জুন) থেকে খুলনার ১৮টি রুটে ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

খুলনা জেলা বাস-মিনিবাস কোচ মালিক সমিতি ও বাস-মিনিবাস কোচ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এ ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে।  মঙ্গলবার (৩১ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খুলনা জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে মালিক সমিতির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহাবুব হাসানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জেলা বাস-মিনিবাস কোচ মালিক সমিতি ও বাস-মিনিবাস কোচ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা জেলা বাস-মিনিবাস কোচ মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সোনা বলেন, প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে যার কারণে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। তারা বলেছে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন আমরা আগামী বুধবার থেকে সড়ক-মহাসড়ক থেকে নসিমন ও করিমনসহ বিভিন্ন অবৈধ যানবাহন আটকাবো। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হবে।

এর আগে সোমবার (৩০ মে) সড়ক-মহাসড়কে নসিমন ও করিমনসহ বিভিন্ন অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় সংগঠন দুটি।

নিউজ ট্যাগ: পরিবহন ধর্মঘট

আরও খবর



তীব্র স্রোতে ভে‌সে গেল সেতু

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | ২৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পানির তীব্র স্রোতে আদাবা‌ড়ির সেতু ভে‌ঙে ভে‌সে গে‌ছে। এ‌তে ১৫টি গ্রা‌মের সঙ্গে যোগা‌যোগ ব্যবস্থা বি‌চ্ছিন্ন হ‌য়ে গে‌ছে। এ‌তে চরম বিপা‌কে প‌ড়ে‌ছেন ১৫টি গ্রামের মানুষ। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) উপজেলার কড়াইল-আদাবাড়ি সড়কের আদাবাড়ি এলাকায় ব্রিজটি ভেঙে যায়।

জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে উপজেলার কড়াইল-আদাবাড়ি সড়কের আদাবাড়ি এলাকায় ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এই সড়কটি দিয়ে উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের হিলড়া, গোড়াকী, আদাবাড়ি, কড়াইল, বানিয়ারা, ডোকলাহাটি গ্রামের লোকজন ছাড়াও উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া, বৈল্যানপুর, ফতেপুর ও তরফপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের লোকজন নিয়মিত যাতায়াত করে আসছিলেন।

গত বছর বর্ষায় পানির স্রো‌তে সেতুর নীচ থেকে মাটি সরে গিয়ে‌ছিল। এ ছাড়া সেতুর অ্যাপ্রোচ অংশও ভে‌ঙেছিল। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেতুটির সংস্কার কাজ না ক‌রে সেতুর ওপর দি‌য়ে যাতায়াতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দেয়।

স্থানীয় আওয়ামী লী‌গ নেতা রা‌জিব তালুকদার জানান, মহেড়া ইউনিয়নের হিলড়া-আদাবাড়ি সেতু‌টি কর্তৃপ‌ক্ষের চরম অবহেলার কারণে সম্পূর্ণ ভেঙে গে‌ছে। সেতু‌টি রক্ষা‌র্থে পূ‌র্বেই এর সংস্কার কাজ করা হ‌লে এ‌টি ভাঙনের হাত থে‌কে রক্ষা পেত।

উপ‌জেলার মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর বলেন, সেতু‌টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ‌টি ভেঙে যাওয়ায় প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষের সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, গত বছর বন্যার পানির স্রো‌তে সেতু‌টির কিছু অংশ ধসে পড়ে। এ বছর পা‌নির তীব্র স্রো‌তে সে‌টি সম্পূর্ণ ভে‌ঙে ভে‌সে গে‌ছে। এ‌তে মানুষের যাতায়াতের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে সেখানে বাঁশের সাকো তৈরি করা হবে।


আরও খবর



বিশ্বের ভয়ংকরতম জেল তাদমোর, বন্দিদের খাওয়ানো হত মরা ইঁদুর

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৯ জুন ২০২২ | ৪২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বিশ্বের দরবারে কুখ্যাত তকমা পাওয়া এই কারাগারের নাম তাদমোর। বিখ্যাত বেসরকারি সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর মতে এই কারাগারটিকে নরক বললেও কম বলা হবে। এর কারণ বন্দিদের উপর হওয়া নিয়মিত মারধর এবং নির্যাতন।

তাদমোর কারাগারটি সিরিয়ার পালমিরায়। ফরাসিরা ১৯৩০-এর দশকে আরবের মরুভূমির কেন্দ্রে তৈরি করে এই কারাগারটি। মূলত, এটি সামরিক বাহিনীর সেনাছাউনি হিসাবে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৮০-এর পর এই জায়গার ব্যবহারে বদল আসে। তাদমোর কারাগারের বন্দিদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলার পিছনে যে মানুষের হাত ছিল বলে মনে করা হয়, তিনি সিরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হাফিজ আল-আসাদ।

১৯৮০ সালে আল-আসাদের উপর প্রাণঘাতী আক্রমণ করা হয়। কিন্তু তিনি প্রাণে বেঁচে যান। আল-আসাদের উপর আক্রমণের দায় বর্তায় দ্য সোসাইটি অব দ্য মুসলিম ব্রাদার্স-এর উপর। এর পরই আল-আসাদের ভাই রিফাত গণহত্যার আদেশ দেন। মনে করা হয় এই গোষ্ঠীর প্রায় হাজার সদস্যকে মেরে তাঁদের মৃতদেহ তাদমোর কারাগারের বাইরে কবর দেওয়া হয়।

তাদমোর কারাগারের বন্দিদের বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়। এখানে থাকা বন্দিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা তো দূর অস্ত্‌, একে অপরের সঙ্গেও দেখা করার সুযোগ দেওয়া হত না। একে অপরের সঙ্গে কথা বললে যে কোনও সময়ে দেওয়া হত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ। তাদমোর কারাগারে বন্দিদের মাথা তোলার, উপরে তাকানোর বা একে অপরের দিকে তাকানোর অনুমতি পর্যন্ত দেওয়া হত না।

তাদমোর কারাগারটি বৃত্তাকার। এই কারাগারটি এমন ভাবেই তৈরি করা হয়েছিল, যাতে প্রহরীরা যে কোনও সময়ে সমস্ত বন্দির উপর নজর রাখতে সক্ষম হন। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে এই কারাগারে বন্দি হিসেবে রাখা হয়েছিল, যাঁদের মধ্যে একটি বড় অংশ ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী। এক সময়ে তাদমোর কারাগার বন্দিদের সংখ্যা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, বন্দিদেরকে পালা করে ঘুমানোর সুযোগ দেওয়া হত। যখন কিছু বন্দি ঘুমোতেন, তখন বাকিদের দাঁড় করিয়ে রাখা হত। কারারক্ষী ও কারাগার কর্তৃপক্ষ কখনওই কোনও বন্দিদের প্রতি দয়া দেখাতেন না। দয়া দেখানো হয়নি সিরিয়ার কবি ফারাজ বায়রাকদারকেও। তাঁকেও চার বছর এই কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছিল।

ফারাজ নিজের লেখা বইয়ে এই কারাগারকে মৃত্যু ও উন্মাদনার রাজ্য হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। ফারাজ ব্যাখ্যা করেন, সমস্ত বন্দিকে সারা দিন অবরুদ্ধ রাখা হত। কোনও বন্দি যদি শ্বাসকষ্ট হচ্ছে বলে জানাতেন, তা হলে তাঁদের কারাগার চত্বরের উঠোনের চারপাশে দৌড়াতে বলা হত। এর ফলে শ্বাস আটকে মারাও যেতেন অনেকে। কখনও কখনও আবার শুধু পিটিয়ে হত্যা করা হত কারাগারের বন্দিদের। ফারাজের বইতে বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় নির্যাতনের কিছু পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে।

কারাগারে ঢোকার পরপরই বন্দিদের নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহৃত একটি ড্রেনের জল খেতে বলা হত। অন্য এক বন্দি মোস্তফা খলিফার মতে, যাঁরা এই জল খেতে অস্বীকার করতেন, তাঁদের সেখানেই মেরে ফেলা হত। বইয়ে উল্লেখ রয়েছে যে, এক কারাবন্দিকে এক দল প্রহরী একবার মৃত ইঁদুর গিলে খেতে বাধ্য করে। ওই ব্যক্তি মৃত ইঁদুরটি খেয়ে মারা না গেলেও কিছু মাস পর তিনি পাগল হয়ে যান। ফারাজের বইটিতে বলা হয়, এক বয়স্ক বন্দিকে এক বার মাটিতে শুইয়ে সারাদিন ধরে এক জন কারা অফিসারের বুট চাটতে বলা হয়েছিল। নিয়মিত বেত্রাঘাত তো ছিলই। পাশাপাশি বন্দিদের একই জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হত যত ক্ষণ না তাঁরা মারা যান।

তবে ফারাজের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর স্মৃতি একজন বন্দিকে মানব ট্রামপোলিন হিসাবে ব্যবহার করা। এই প্রক্রিয়ায় বন্দিকে মাটিতে শুইয়ে প্রহরীরা তাঁর উপর দাঁড়িয়ে লাফাতেন। যত ক্ষণ না ওই বন্দি ঘাড় বা মেরুদণ্ড ভেঙে মারা যান, তত ক্ষণ এই প্রক্রিয়া চলতে থাকত। ২০১৫ সালে ইসলামিক স্টেট (আইসিস) এই কারাগারটি দখল করে নেয়। এর পর এই কারাগারের ভিতরের ছবি প্রকাশ পায়। অধিগ্রহণের নয় দিন পরে আইসিস এই কারাগার বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়।

 


আরও খবর