আজঃ বুধবার ২৫ মে ২০২২
শিরোনাম

শাহপরী: ছোট দ্বীপে বড় উদ্বেগ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | ৩৯৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশকে আলাদা করেছে নাফ নদী। এ নদীর মোহনায় অবস্থিত শাহপরীর দ্বীপ। ১৯৯২ সালে যখন দেশে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটে, তখন বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল টেকনাফের এ দ্বীপকে। সবশেষ ২০১৭ সালেও এটি হয়ে ওঠে রোহিঙ্গা প্রবেশের অন্যতম পথ। কেবল রোহিঙ্গাদের জন্যই নয়, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া কিংবা থাইল্যান্ডে অভিবাসনপ্রত্যাশীদেরও পছন্দের রুট এটি। এ পথ ব্যবহার করেই নিয়মিত মানব পাচারের ঘটনা ঘটছে। শুধু তা-ই নয়, ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ বা আইসসহ বিদেশী বিভিন্ন ধরনের মাদক এ পথ দিয়েই প্রবেশ করে বাংলাদেশে। ফলে বঙ্গোপসাগরের উন্মুক্ত জলরাশির সীমানায় অবস্থিত শাহপরীর দ্বীপটি ক্রমেই দেশের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য বলছে, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত পার হয়ে অস্ত্র ও মাদক ঢুকছে সেন্টমার্টিন, শাহপরীর দ্বীপ করিডরে। পরবর্তী সময়ে এসব মাদক ও অস্ত্রের চালান চলে যাচ্ছে টেকনাফের জালিয়াপাড়া, হোয়াক্ষ্যংয়ের জিমনখালী, নয়াপাড়া, আমতলী এলাকায়। সেখানে কয়েক হাত ঘুরে মাদক ও অস্ত্রের চালান ছড়িয়ে দেয়া হয় পুরো দেশে। গত চার বছরে শুধু কোস্টগার্ডের অভিযানেই কক্সবাজারের সমুদ্র এলাকা থেকে ১ কোটি ৭২ লাখ ৭ হাজার ৪৮১ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। মিয়ানমার থেকে ইয়াবার পাশাপাশি এখন ভয়ংকর মাদক আইসের চালান দেশে ঢুকছে শাহপরীর দ্বীপ হয়ে। গত বছর সেখান থেকে এক কেজি আইস উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। গুরুত্বপূর্ণ একটি সীমানা পয়েন্ট এভাবে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কাজে ব্যবহার হওয়াকে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। শাহপরীর দ্বীপে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি মাদক বা অস্ত্র চোরাচালান রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ২৭ এপ্রিল ভোররাতে শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণপাড়ায় অভিযান চালিয়ে এক লাখ ইয়াবা ও পাঁচ কেজি গাঁজা আটক করে পুলিশ। শাহপরীর দ্বীপের পাশাপাশি লম্বাবিল, কানজরপাড়া, মিনাবাজার, হূীলা লেদা, জাদিমুড়া, মমিয়া, টেকনাফ সদর, সাবরাং ও সাগর পথ দিয়েও নিয়মিত ঢুকছে মাদক। ঈদকে কেন্দ্র করে গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহেই প্রায় তিন লাখ ইয়াবা, আড়াই কেজির বেশি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, বিদেশী মদ ও বিয়ার জব্দ করার পাশাপাশি রোহিঙ্গাসহ ১৬ জনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদকের পাশাপাশি দেশে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশেরও অন্যতম নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে শাহপরীর দ্বীপের এ করিডর।

তবে শাহপরীর দ্বীপ ও এর আশপাশের সমুদ্র এলাকায় মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচারকারীদের তত্পরতা ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার লাবিব উসামা আহমাদুল্লাহ্। তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধের বিষয়ে আগাম তথ্য সংগ্রহের জন্য গোয়েন্দা কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়। এরপর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়। ফলে এলাকার অপরাধপ্রবণতা আগের চেয়ে অনেক কমেছে।

গত ছয় মাসে শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়ে আড়াই লাখ পিস ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার বলেন, মাদক ও মানব পাচার রোধে শাহপরীর দ্বীপে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেকনাফ সীমান্তের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া ও ঘোলারপাড়া নামে দুটি চোরাই পয়েন্ট রয়েছে। এগুলো বহুল আলোচিত হলেও এখনো এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট এ দুটি পয়েন্ট দিয়েই হাজার হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

দেশে প্রবেশের এ রুট ইয়াবা, মানব পাচারের ট্রানজিট ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের মূল পয়েন্ট হয়ে ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর সরকারের পক্ষ থেকে এসব প্রতিরোধে কার্যক্রম বাড়ানো হয়। দেখা যায়, অভিযানের কিছুদিন মাদক চোরাচালান ও মানব পাচার কমে আসে। নজরদারি কমে গেলে তা আবার বেড়ে যায়। বিশেষ করে শীতে সমুদ্র শান্ত হলে মানব পাচারের সংঘবদ্ধ চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা শিবিরভিত্তিক বেশকিছু ইয়াবা সিন্ডিকেটের খোঁজ পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিভিন্ন সংস্থার গত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্প এলাকায় ইয়াবা আটকের পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়ে গেছে মাদক মামলা ও আসামির সংখ্যাও। সম্প্রতি মালয়েশিয়া পাচারকালে কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া ও শহরের নুনিয়াছড়া এলাকা থেকে দুটি চালান আটক করে র্যাব ও পুলিশ।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, নাফ নদী পাড়ি দিয়ে শাহপরীর দ্বীপ হয়ে দেশে প্রবেশের পর অবৈধ অস্ত্র, ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক মজুদের জন্য ব্যবহূত হচ্ছে উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত ৩৪ রোহিঙ্গা শিবির। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তালিকায়ও রয়েছে ১৩ জন রোহিঙ্গা নেতার নাম। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এসব শিবিরের নারী, বিশেষ করে যাদের স্বামী বেঁচে নেই তারা বেশি জড়াচ্ছে ইয়াবা ব্যবসায়।

তবে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানিয়েছেন, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর তত্পরতায় স্থানীয় লোকজন এখন ইয়াবা কারবারে খুব একটা জড়াতে চায় না। সীমান্ত ও রোহিঙ্গা শিবিরে ইয়াবা সিন্ডিকেট ও কারবারিদের পুলিশ নিয়মিত আটক করছে এবং তাদের মাঝে মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শাহপরীর দ্বীপে আমাদের একটি পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে, সেখানে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বক্তব্য দিলেও স্থানীয়রা বলছেন, শীত মৌসুমকে সামনে রেখে রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক মানব পাচার চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব চক্র সাগরপথে থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রোহিঙ্গাদের প্রলুব্ধ করে। এরপর সাগরে ও জঙ্গলে নির্মম নির্যাতন করে মোটা অংকের টাকা আদায় করে। শাহপরীর দ্বীপ ব্যবহার করে এ ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, পাচারের জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে রোহিঙ্গাদের এ দ্বীপেই নিয়ে আসে মানব পাচারকারীরা। তারপর ছোট ছোট নৌকার মাধ্যমে তাদের বঙ্গোপসাগরের গভীরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাদের সমুদ্রের গভীরে নিয়ে বড় নৌকায় তুলে দেয়া হয় মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের দিকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশকে পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে সাগর পাড়ি দিয়ে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পৌঁছার চেষ্টা করে। এরপর উন্নত জীবনের সন্ধানে বাংলাদেশীরাও এ বিপত্সংকুল পথে যাত্রা করতে থাকে। ২০১২ সালে প্রথম মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমানোর চেষ্টার অভিযোগে বঙ্গোপসাগরে ১৩২ জনকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ২০১৪ সালে এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১৫৫০।


আরও খবর



বাঁধ ভেঙে তিন নদীতে প্রবল বেগে ঢুকছে পানি

প্রকাশিত:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার অমলশিদ এলাকায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উৎসস্থলে নদী প্রতিরক্ষা বাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেছে। এতে প্রবল বেগে পানি ঢুকে জকিগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে বাঁধে ভাঙন দেখা যায়। এতে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, সুরমা নদী শুক্রবার সকাল ৯টায় কানাইঘাট পয়েন্টে গতকালের চেয়ে ১৭ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্লাবিত হচ্ছে।

একই সময়ে সুরমা নদী সিলেট নগরীর পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং সুনামগঞ্জ শহর পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্লাবিত হচ্ছে।

কুশিয়ারা নদী সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার অমলশীদে ৬ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১৬৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এ নদীর পানি বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ বলেন, পানি আপাতত কমলেও বন্যা পরিস্থিতি নির্ভর করছে সীমান্তের ওপারে উজানে বৃষ্টিপাতের উপর। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে আজ থেকে বৃষ্টিপাত কমতে শুরু করবে। সেক্ষেত্রে আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

অন্যদিকে জকিগঞ্জের অমলশীদে বরাক-সুরমা-কুশিয়ারার মোহনায় কুশিয়ারা নদীর পাড়ের নদী রক্ষা বাঁধ ভেঙে গিয়ে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে উপজেলার ফিল্লাকান্দি, অমলশিদ, বারঠাকুরী, খাসিরচক, খাইরচক, বারোঘাট্টা, সোনাসার এবং আরও বেশ কিছু এলাকা।

প্রসঙ্গত, গত ১২ মে থেকে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের অন্তত ২০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছেন।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্যমতে, দুই জেলার ১১০টি আশ্রয় কেন্দ্রে কয়েকহাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৯১টি আশ্রয় কেন্দ্র। চলমান বন্যা পরিস্থিতি পানিতে ডুবে এবং টিলা ধ্বসে এখন পর্যন্ত ৪ জন মারা গেছেন এবং ৯৬জন মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।


আরও খবর



সম্পর্ক ভেঙে গেছে সোহিনীর

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ২০২২ | ৩৬৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোহিনী সরকার অনেকদিন ধরেই প্রেম করছেন। অভিনেতা রণজয়ের সঙ্গে তার প্রায় ছয় বছরের সম্পর্ক। দুজনের কেউই সম্পর্কের বিষয়টি গোপন করেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় হরহামেশাই একসঙ্গে ছবি দেন, ঘুরতে যান একত্রে। একে-অপরের পারিবারিক আয়োজনেও থাকেন নিয়মিত। মাস কয়েক আগে গুঞ্জন ছড়ায়, সোহিনী ও রণজয় বিয়ে করতে চলেছেন।

যদিও সোহিনী বলেছিলেন, বিয়ের ব্যাপারটা রণজয়ের ওপর নির্ভর করছে। প্রেমের মতো বিয়েটাও প্ল্যান ছাড়া করে ফেলবেন।

কিন্তু হঠাৎ সোহিনী বললেন, তিনি সিঙ্গেল। জোর গুঞ্জন ছড়ালো, রণজয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভেঙে গেছে। ইনস্টাগ্রামের স্টোরিতে অভিনেত্রী লিখেছেন, আমি সিঙ্গেল এবং একলা থাকার প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করছি

এরপর থেকেই আলোচনা চলছে। তবে কি ভেঙেই গেল সোহিনী-রণজয়ের সম্পর্ক? এ বিষয়ে অভিনেত্রীর জবাব পাওয়া না গেলেও মুখ খুলেছেন অভিনেতা। রণজয় কলকাতার গণমাধ্যমকে বলেছেন, ওই পোস্টে কোথাও আমার নাম নেই যে, আমি সম্পর্ক থেকে আলাদা হলাম। মানুষের জীবনে ওরকম টালমাটাল অবস্থা অনেক সময়ই আসে। এর মানেই যে মানুষ আলাদা হয়ে যায়, এমন নয়। আমাদের বিচ্ছেদ হয়নি। প্রেম আছে, যেমন আগে ছিল।

অনেকদিন ধরেই একসঙ্গে বসবাস করেন রণজয় ও সোহিনী। এ বিষয়ে অভিনেতা বলেন, কখনো আমি ওর ফ্ল্যাটে, কখনো ও আমার ফ্ল্যাটে থাকত। তবে টানা একসঙ্গে থাকা হয়নি। এখন আমি কয়েকদিন নিজের বাড়ি মধ্যমগ্রামে এসেছি।

এর মধ্যেই সোহিনীর এমন স্ট্যাটাস। ভক্তদের মাঝে তাই নানান প্রশ্ন আর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেখা যাক, অভিনেত্রী কী জানান। প্রসঙ্গত, সোহিনীকে সম্প্রতি দেখা গেছে শ্রীকান্ত নামের একটি ওয়েব সিরিজে। এটি মুক্তি পেয়েছে হইচই-তে।

নিউজ ট্যাগ: সোহিনী সরকার

আরও খবর



হোটেলে বেড়েছে সবজি-ডিম-মাংসের দাম

প্রকাশিত:সোমবার ২৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৩ মে ২০২২ | ২৬৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল দেশের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো। সাম্প্রতিক সময়ে করোনার প্রভাব কমে আসলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে দ্রুতগতিতে বাড়তে শুরু করে সব খাতের পণ্যের দাম। বিশ্ববাজারের মতো এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। দামী দামী রেস্তোরাঁর পাশাপাশি খাবারের দাম বেড়েছে ভাতের হোটেলগুলোতেও। করোনার আগে ঢাকায় কোনো ভাতের হোটেলে ভাত, ডিম ও সবজি খেতে খরচ হতো কমবেশি ৩০-৩৫ টাকা। ভাত প্রতি প্লেট ১০ টাকা, ডিম একটি ১৫ টাকা এবং সবজি পাওয়া যেত ১০ থেকে ১৫ টাকায়। কিন্তু, খাদ্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে একই খাবার এখন খেতে হচ্ছে বেশি দামে। ভাতের দাম না বাড়লেও বেড়েছে এর ডিম, সবজিসহ মাংসের তরকারির দাম।

সম্প্রতি কারওয়ানবাজারে সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায়, কিচেন মার্কেটে মুরগির দোকানগুলোর উল্টোদিকের একটি ছোট হোটেলে ডিমভাজি খেতে ক্রেতাদের খরচ হচ্ছে ২০ টাকা। সাথে পরোটা নিলে বিল আসছে ৩০ টাকা। যেখানে করোনার আগে রুটি-পরোটার দাম ছিল ৫ টাকা প্রতি পিস। এখন পরোটার দাম বাড়লেও এর আকার ছোট হয়ে গেছে বলে জানান হোটেলে খেতে আসা কাস্টমাররা।

খাবারের দাম কেন বেশি রাখা হচ্ছে প্রশ্ন করা হলে হোটেলের বিক্রেতা মো. জলিল জানান, দেড়শ টাকার তেল এখন দুইশ টাকায় কিনতে হচ্ছে, ডিম, ময়দা সবকিছুর দামই বেড়েছে। আমাদের দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে বিশ্বের পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, তেলসহ অন্যান্য জ্বালানির দাম বৃদ্ধিসহ মুদ্রার অবমূল্যায়নে সৃষ্ট ইনফ্লেশনের প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারে।

ডিমের হালি যেখানে কিছুদিন আগে বেড়ে ৩৫ টাকা হয়েছিল, সেখানে এর দাম বর্তমানে রাখা হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা। ডজন কিনলে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। বেড়েছে সবজির দামও। কারওয়ান বাজারে বেগুন পাইকারি প্রতি কেজি ১৬ থেকে ২০, চিচিঙ্গা ১৫, ঢেঁড়শ ১৫ টাকা বিক্রি হয়েছে। কিন্তু খুচরা বাজারে এগুলোর প্রতি কেজি ৪০ টাকার কমবেশি দরে বিক্রি হতে দেখা যায় । কারওয়ান বাজারে কাঁচা মরিচ পাইকারি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। কিন্তু খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। ডিম ও সবজির পাশাপাশি বেড়েছে পেঁয়াজ, রসুন ও ডালের দামও। গত সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকায়। এছাড়া, দেশি রসুনের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে কেজিপ্রতি ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে মসুর ডাল প্রতি কেজি ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকায়। পেঁয়াজ, রসুন, শাকসবজি, ডাল- হোটেলের সবজির তরকারিতে প্রয়োজনীয় সব পণ্যের দামই যখন চড়া তখন হোটেলগুলোরও নিজেদের চলার জন্য খাবারের দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় নেই।

অন্যদিকে, ভাতের দাম এখনও না বাড়লেও সামনে যে বাড়বে তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। ঢাকার বাজারে নাজিরশাইল চালের দাম এখন ৬২ থেকে ৬৮ টাকা। মিনিকেট যেখানে কিছুদিন আগেই ৫৬-৫৮ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬২-৬৮ টাকায়। শুধু যে ভাতের হোটেলেই দাম বেড়েছে তা কিন্তু নয়, বেড়েছে বড় রেস্তোরাঁগুলোতেও। আগে একটি রাইস প্ল্যাটারের (ফ্রাইড রাইস, এক পিস ফ্রাইড চিকেন, চায়নিজ সবজি) দাম ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা; যা এখন বিক্রি হয় ১৯০ থেকে ২২০ টাকায়। প্ল্যাটারগুলোর দাম বাড়লেও কমেছে খাবারের পরিমাণ। একই মেন্যুর খাবারের দাম বাড়িয়ে ফ্রাইড রাইসের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি সাথে দেওয়া মুরগির পিসও এখন দেওয়া হয় ছোট সাইজের। ঈদের দুই দিন পরে যে ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ১৩০ টাকা ছিল সেই মুরগি এখন ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে । হাতিরপুল ও কাঁঠালবাগান বাজারে ব্রয়লার মুরগির প্রতি কেজি ১৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে, কারওয়ান বাজারে ১৪৫ টাকা কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করতে দেখা যায়। এ বাজারে সোনালী মুরগী ২৮০ টাকা, কক মুরগি ২৬০ টাকা, আর দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখে গেছে গরুর মাংস চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা কেজিতে ও খাশির মাংস ৯০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। ঈদের আগেও এ দামেই বিক্রি হয়েছে। বাজারের এই অবস্থার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। এর মধ্যে, সরকার টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যের তেল, ডাল, চিনি ও পেঁয়াজ বিক্রির কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েও পরে তা বন্ধ করে দেয়। আগে অন্তত ভাতের হোটেলে বেশি দামের মাংসের তরকারি বাদ দিয়ে ডিম দিয়ে খেলেও সেই স্বস্তিটাও এখন আর নেই। এমনকি মধ্যবিত্তদের মধ্যে অনেকেই তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ ও খাওয়ার খরচ কমিয়েছেন।

নিউজ ট্যাগ: ইউক্রেন

আরও খবর
যশোরে ১০ ঢাকায় ৮০

বুধবার ২৫ মে ২০২২




বৈরী আবহাওয়ার কারণে নৌরুটে ফেরি-লঞ্চ চলাচল বন্ধ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৩ মে ২০২২ | ৩৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে সকাল ৯টা থেকে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এরপর সকাল পৌনে ১০টার দিকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ঘাট সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে বাতাস শুরু হলে দুর্ঘটনা এড়াতে নৌরুটের সকল লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। চলাচলরত নৌযানকে নিরাপদে থাকতে নির্দেশ দেয়।

বিআইডব্লিউটিএ'র বাংলাবাজার ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে সকাল ৯টা থেকে সব লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।


আরও খবর



মাঙ্কিপক্স নিয়ে দেশের বিমানবন্দরগুলো সতর্ক রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত:সোমবার ২৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৩ মে ২০২২ | ২২০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মাঙ্কিপক্স নিয়ে দেশের বিমানবন্দরগুলো সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী। আজ সোমবার ঢাকার হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বিমান পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী। সাংবাদিকদের তিনি আরও জানান, বিশ্বের অনেক দেশে মাঙ্কিপক্স দেখা দিয়েছে। কাজেই এ বিষয়ে আমাদেরও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সফল হয়েছি। করোনা মোকাবিলায় আমরা বিশ্বের মধ্যে পঞ্চম স্থানে সফলতা অর্জন করেছি। সাউথ এশিয়ার মধ্যে আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছি। আগামীতে যে চ্যালেঞ্জগুলো আসবে সেগুলো মোকাবিলা করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

এ সময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, মাঙ্কিপক্স নিয়ে আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি। দেশে এলে হেলথ ডিক্লারেশন ফরম অনলাইনে দিতে হয়। সেখানে এ পয়েন্টটি দেওয়া হয়েছে। সেখানে যাত্রীদের উপসর্গ আছে কি না, যেসব দেশে মাঙ্কিপক্স বাড়ছে, সে দেশ থেকে আসছে কি না, সেসব তথ্য পাওয়া যাবে। আমরা সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব।


আরও খবর