আজঃ শনিবার ২২ জুন ২০২৪
শিরোনাম

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলি করে যুবককে হত্যা

প্রকাশিত:শনিবার ০৪ মার্চ ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ০৪ মার্চ ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
মোহাম্মদ ফারুক, কক্সবাজার

Image

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মুখোশধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন মোহাম্মদ রফিক (৩৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক। শুক্রবার (৩ মার্চ) দুপুরে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ/১১ ব্লকে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত রফিক ওই ক্যাম্পের এ/৯ ব্লকের বাসিন্দা দিল মোহাম্মদের পুত্র। তাঁর পরিবার ও প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গেছে, রফিক দীর্ঘদিন পর বাড়িতে এসেছিলেন। ইসলামি মাহাজ নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকায় প্রতিপক্ষ আরসা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

আজ রাত ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ১০-১৫ জনের মুখোশধারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীর দল রফিককে গলির পথে ডেকে নিয়ে গুলি করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।

প্রাথমিক সুরতহাল শেষে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে ওসি মোহাম্মদ আলী আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।


আরও খবর



শেরপুরে আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মো. নাজমুল হোসাইন, শেরপুর

Image

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে কলেজছাত্রীর পরিবারের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। গত ১৯ মে উপজেলার গৌরিপুর ইউনিয়নের গিলাগাছা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

জানা গেছে, ওই গ্রামের দিনমজুর কন্যা ঝিনাইগাতী আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীর একটি আপত্তিকর ছবি বানিয়ে একই গ্রামের ৫ যুবক কলেজ ছাত্রীর পরিবারের কাছে একলাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

ওই যুবকরা হলো- একই গ্রামের কাশেম আলীর ছেলে ইসরাফিল, খোকামিয়ার ছেলে উসমান, শহিদুল্লাহর ছেলে আলমগীর, ফারুক মিয়ার ছেলে নাইম ও বৈরাগীপাড়া গ্রামের শাহজাহানের ছেলে মোশারফ।

কলেজ ছাত্রীর পরিবার সুত্রে জানা গেছে, উল্লেখিত যুবকরা বেশ কিছুদিন থেকে ওই কলেজ ছাত্রীর পিছু নেয়। পরে তারা কলেজছাত্রীর আপত্তিকর ছবি বানিয়ে পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে ভাইরাল করে দিবে বলে কলেজছাত্রীর পিতাকে হুমকি দেয়া হয়। ২০ মে এ ব্যাপারে কলেজছাত্রীর পিতা বাদি হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় উল্লেখিত যুবকদের আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

রবিবার (২৬ মে) এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে জানান কলেজছাত্রীর পরিবার।

কলেজছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর থেকে অভিযুক্তরা অভিযোগ তোলে নিতে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে আসছেন। এর ফলে কলেজ ছাত্রীর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ী সার্কেল) দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা হলে তিনি এ বিষয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।


আরও খবর



এমপি আনার হত্যায় অভিযুক্তদের ১০ দিনের রিমান্ড চাইবে ডিবি

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজনকে আজ আদালতে তোলা হবে। আদালতে তুলে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাইবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তাররা হলেন আমানুল্লাহ ওরফের শিমুল ভূঁইয়া, শিলাস্তি রহমান ও ফয়সাল আলী ওরফে সাজি।

শুক্রবার (২৪ মে) ডিবির ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহিদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এমপি আনার হত্যায় জড়িত গ্রেপ্তার তিনজনকে আজ আদালতে তোলা হবে। তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। যে পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়া যাবে, সে পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ভারতের পশ্চিবঙ্গে যান এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার। সেদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে কলকাতায় তার পারিবারিক বন্ধু গোপাল বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা করতে যান। পরের দিন, ১৩ মে চিকিৎসক দেখাতে হবে জানিয়ে দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে গোপালের বাড়ি থেকে বের হন আনার। সন্ধ্যায় ফিরবেন বলেও জানান তিনি। পরে বিধান পার্কের কাছে কলকাতা পাবলিক স্কুলের সামনে থেকে ট্যাক্সিতে উঠেছিলেন তিনি।

চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় আজিম তার বন্ধু গোপালকে জানান, তিনি দিল্লি যাচ্ছেন এবং সেখানে পৌঁছে তাকে ফোন করবেন। পরে তার সঙ্গে ভিআইপিরা আছেন জানিয়ে বন্ধু গোপালকে ফোন না দেওয়ার জন্য সতর্ক করেছিলেন।

গত ১৫ মে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তায় এমপি আনার বন্ধু গোপালকে জানান, তিনি দিল্লি পৌঁছেছেন এবং ভিআইপিদের সঙ্গে আছেন। তাকে ফোন করার দরকার নেই। একই বার্তা পাঠান বাংলাদেশে তার ব্যক্তিগত সহকারী রউফের কাছেও।

১৭ মে আনারের পরিবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে গোপালকে ফোন করেন। ওই সময় তারা গোপালকে জানান, তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না তারা। পরিবারের পক্ষ থেকে ওই দিনই ঢাকায় থানায় অভিযোগ করা হয়। এরপর থেকে এমপি আনারের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

২০ মে এমপি আনারের খোঁজ করতে গিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে। তারা জানতে পারে, কলকাতায় বন্ধুর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তার মোবাইলের লোকেশন একবার পাওয়া গিয়েছিল সেখানকার নিউমার্কেট এলাকায়। এরপর ১৭ মে তার ফোন কিছুক্ষণের জন্য সচল ছিল বিহারে।

পরে বুধবার (২২ মে) ভারতের এনডিটিভির খবরে বলা হয়, কলকাতার নিউ টাউনের সঞ্জিভা গার্ডেন্সের একটি ফ্লাটে এমপি আনারকে খুন করা হয়েছে। এনডিটিভি বলে, ১২ মে কলকাতায় আসার পর নিখোঁজ হওয়া এমপি আনারের খোঁজে তল্লাশি শুরুর পর বুধবার সকালে তার খুনের ব্যাপারে নিশ্চিত হয় পুলিশ।

এরপর বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, এমপি আনারকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। তাকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনজন বাংলাদেশ পুলিশের কাছে আছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার জন্য আনোয়ারুল আজীম দেশের বাইরে গিয়েছিলেন। সেখানে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ভারতের পুলিশ আমাদের নিশ্চিত করেছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে, বুধবার ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় খুন করার উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন এমপি আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। এমপি আনার সংসদ ভবন এলাকায় থাকতেন। সেখান থেকে তিনি ভারতে গেছেন। তাই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রধান হারুন-অর-রশিদের পরামর্শে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন তার মেয়ে।


আরও খবর



কক্সবাজারগামী সকল ফ্লাইট বাতিল

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। যার কারণে কক্সবাজারগামী সকল ফ্লাইট এবং কলকাতাগামী দুটি ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

শনিবার (২৫ মে) রাতে বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, আগামীকাল ২৬ মে কক্সবাজারগামী সকল ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৬ মের কলকাতাগামী বিজি ৩৯৫ ফ্লাইট এবং ২৭ মের বিজি ৩৯১ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে ভয়ংকর রূপ নিতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। ধারণা করা হচ্ছে রোববার (২৬ মে) দুপুর নাগাদ অতিপ্রবল হিসেবে দেশের উপকূল অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে ঝড়টি।

এখন পর্যন্ত ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এ অবস্থায় উপকূলের ১৩টিসহ ১৮ জেলা রিমালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।

ঘূর্ণিঝড়ে নিরাপদ থাকতে কী করবেন?

১. বাড়ির কাছাকাছি থাকা মরা গাছের ডাল ছেঁটে ফেলুন। গাছের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। যাতে বাড়ির ওপর এসে না পড়ে।

২. টিনের পাতলা শিট, লোহার কৌটা যেখানে সেখানে পড়ে থাকলে এক জায়গায় জড়ো করুন। না হলে ঝড়ের সময় এর থেকে বিপদ হতে পারে।

৩. কাঠের তক্তা কাছে রাখুন যাতে কাচের জানালায় সাপোর্ট দেওয়া যায়।

৪. ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য জরুরি বৈদ্যুতিক যন্ত্র আগে থেকেই চার্জ দিয়ে রাখুন।

৫. হালকা শুকনো খাবার রাখুন বড়সড় বিপদের জন্য।

৬. পর্যাপ্ত পানি মজুত রাখুন।

৭. যে ঘরটি সবচেয়ে নিরাপদ সেখানে আশ্রয় নিন।

৮. বাড়ির পোষ্য ও গবাদি পশুদেরও নিরাপদ স্থানে এনে রাখুন।

৯. বিদ্যুৎব্যবস্থা ঠিক থাকলে টিভি খবরে নজর রাখুন। না হলে রেডিও চালিয়ে রাখতে পারেন।

১০. ঝড় থামতেই বাইরে বের হবেন না। অপেক্ষা করুন কারণ ঘূর্ণিঝড় চক্রাকারে ঘোরে।


আরও খবর



আবারও বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাচন স্থগিত

প্রকাশিত:শনিবার ০৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০৮ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

Image

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ফের স্থগিত করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া এবং সড়ক ও নৌপথ অবরোধের কারণে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন স্থগিত করল নির্বাচন কমিশন।

শনিবার (৮ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মো. মনির হোসেন। তিনি জানান, এর আগে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে গত ২৯ মে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। স্থগিত হওয়া নির্বাচন ৯ জুন হওয়ার কথা ছিল। বৈরী আবহাওয়া ও আইনশৃঙ্খলা অবনতির শঙ্কায় ফের বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করে কমিশন। পরবর্তীতে উপযুক্ত সময়ে কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে ভোটের আগের দিন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ’ নির্বাচনের দাবিতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সকাল সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের ডাক দেয় পাহাড়ের আঞ্চলিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। তবে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাওয়া দুপুর ১২টা থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে সংগঠনটি।

এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ২ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রার্থী লড়ছেন। চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা) সমর্থিত বর্তমান চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা, ঘোড়া প্রতীক নিয়ে অপর প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ইতিময় চাকমা, আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন অলিভ চাকমা। অলিভকে স্থানীয় আঞ্চলিক সংগঠন সন্তু লারমা জেএসএস ও ইউপিডিএফ সমর্থন দেওয়ায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে নির্বাচনকে ঘিরে।


আরও খবর



দস্যুতা না ছাড়লে কাউকে ক্ষমা করা হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দস্যুদের যারা এ পেশা ত্যাগ করবেন না তারা কী দুঃসংবাদ লিখে নিয়ে যাবেন সেটা মহান আল্লাহ জানেন। কাউকে ক্ষমা করা হবে না। সন্ত্রাস নির্মূল করতে গিয়ে র‍্যাবের ৩৩ জন সদস্য জীবন দিয়েছেন। হাজার হাজার র‍্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। অনেকের অঙ্গহানিও হয়েছে। তাই আমরা যেকোনো মূল্যে অপরাধীদের দমন করব। তারা যেন অপরাধ করার চিন্তাও না করে সে কাজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করছে। জলদস্যুতা আপনাদের জীবনে কখনও শান্তি ফিরিয়ে আনবে না। বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন সমস্ত উপকূলীয় অঞ্চলকে আমরা জলদস্যু-ডাকাত মুক্ত করব।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা র‍্যাব-৭ এর সদর দপ্তরে জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকার ১২ বাহিনীর ৫০ জলদস্যু। এর মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনে জলদস্যুদের ভালো অবস্থা দেখে আজ তারা উদ্বুদ্ধ। সাংবাদিকদের সহযোগিতায় এ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাদের ধন্যবাদ জানাই। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের সিকিউরিটির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। ওইসব এলাকায় জলদস্যুরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। আজ এখানে একজন নারী জলদস্যুও আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী লোকেরাও তাদের বাধ্য করেন এসব কাজে জড়াতে। জনগণের কাছে র‍্যাব একটি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। সুন্দরবনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষায় ২০১২ সালে র‍্যাবকে টাস্ক ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। র‍্যাবের দুঃসাহসিক অভিযানে সুন্দরবন জলদস্যু মুক্ত হয়। দস্যুরা যাতে আর সে কাজে ফিরতে না পারে তাদের আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে। আজ তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। কেউ ব্যবসা করছে বা অন্য কাজ করছে। পাবনায় ৬০০ ও সিরাজগঞ্জে ৩০০ এর অধিক চরমপন্থি গ্রুপের নেতাকর্মী আত্মসমর্পণ করেছে। তাদেরও সরকার সহযোগিতা করেছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ও খুনের মামলা আছে তাদের কোনোভাবে সহযোগিতা করা হবে না। অন্য মামলাগুলো থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার জন্য কাজ করা হবে।

অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আত্মসমর্পণের পর আমরা দস্যুদের দিকে খেয়াল রাখছি। যদি তারা পুনরায় আগের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় তাহলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের সব সহযোগিতা বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমাদের কথার বরখেলাপ করলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেউ যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, আমরা তাদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। আজকে যারা আত্মসমর্পণ করছেন সবাইকে আমি স্বাভাবিক জীবনে স্বাগত জানাই। এর আগে সুন্দরবন দস্যু মুক্ত হওয়ায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করছি। সুন্দরবন থেকে আত্মসমর্পণ করা দস্যুদের সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের পেশার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম র‍্যাবের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম আব্দুল লতিফ, পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, র‍্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম ও চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নুরে আলম মিনা। এছাড়া আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মাহমুদ করিম ও জসীম উদ্দীন।

র‍্যাব জানায়, সংস্থাটির চট্টগ্রাম ইউনিটের উদ্যোগে ২০১৮ এবং ২০২০ সালে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের ৭৭ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছিলেন। এটি অন্যান্য জলদস্যুদের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একপর্যায়ে চট্টগ্রামে বাঁশখালী এবং কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া অঞ্চলের জলদস্যুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আশার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম র‍্যাব তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।


আরও খবর