আজঃ সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

রমজানে নিত্যপণ্য সংগ্রহে ঘাটতি হবে না

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

Image

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক বলেছেন, আসছে রমজানে ভোজ্যতেল, চিনি, খেজুর, পেঁয়াজ ও ছোলাসহ ভোক্তাদের প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য সংগ্রহে কোনো ঘাটতি হবে না।

বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক সাঈদা খানম উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই মুখপাত্র বলেন, সাধারণত রমজানে পাঁচটি পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে। বাজার স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজন মতো এ সব পণ্যের এলসি খোলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রমজানে সাধারণত ভোজ্যতেল, চিনি, খেজুর, পেঁয়াজ ও ছোলা এই পাঁচটি পণ্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। এ সব পণ্য যাতে কোনো ঘাটতি না হয় সে জন্য গত জানুয়ারি পর্যাপ্ত পরিমাণ এলসি খোলা হয়েছে। এ এলসির পণ্য আগামী রমজানের আগেই বাজারে আসবে। এলসির পরিমাণ গত বছরের রমজানের আগের খোলা এলসির চেয়ে অনেক বেশি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ছোলার এলসি খোলা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৬৬ মেট্রিক টন। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯৬ মেট্রিক টন। জানুয়ারিতে পেঁয়াজের এলসি খোলা হয়েছে ৪২ হাজার ৫৬২ মেট্টিক টন, যা গত বছর ছিল ৩৬ হাজার ২২৫ মেট্রিক টন। সদ্য বিদায়ী জানুয়ারি মাসে খেজুরের এলসি খোলা হয়েছে ২৯ হাজার ৪৮১ মেট্রিক টন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে খেজুরের এলসি খোলা হয়েছিল মাত্র ১৬ হাজার ৪৯৮ মেট্রিক টন। রোজার আগেই আমাদের এসব পণ্য চলে আসবে। এজন্য কোনো নীতিসহায়তার প্রয়োজন হলে সেটাও দেওয়া হবে।


আরও খবর
২৪ দিনে প্রবাসী আয় ১৮ হাজার কোটি টাকা

রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
কূটনৈতিক প্রতিবেদক

Image

দুদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব জোরদার করতে এবং স্বল্পোন্নত দেশের স্ট্যাটাস থেকে বাংলাদেশের উত্তরণে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন এ তথ্য জানিয়েছে।

চিঠিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেন, আপনি (শেখ হাসিনা) ঐতিহাসিক পঞ্চম মেয়াদে যাত্রা শুরু করেছেন। আপনার নেতৃত্বে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। এ অবস্থায় ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব জোরদার এবং এলডিসি মর্যাদা থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি আমি আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, আমাদের অংশীদারিত্ব এক গভীর অভিন্ন ইতিহাস ও বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা মানুষে-মানুষে দৃঢ় বন্ধনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অধিকার ও স্বাধীনতার অগ্রগতির পাশাপাশি রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, এই মূল্যবোধগুলো কমনওয়েলথ পরিবারের মূল ভিত্তি এবং এটি একটি গতিশীল গণতান্ত্রিক সমাজ গঠন করে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ আকর্ষণ করে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, আমি অভিবাসন বিষয়ে সহযোগিতাকে আমাদের দ্বিপক্ষীয় আলোচ্যসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছি। আপনি সদয়ভাবে যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদেরকে ফেরত পাঠানোর একটি টেকসই ও সুশৃঙ্খল উপায়কে সমর্থন করেছেন। আমি আশা করছি, পারস্পরিক সহযোগিতার বৃহত্তর আলোচ্যসূচির অংশ হিসেবে প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হয়েছে।


আরও খবর



আলোচিত সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার রায় আজ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24 | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আজ মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ দায়রা জজ মোহাম্মদ আলী হোসাইনের আদালতে এই রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি মামলাটি যুক্তিতর্কের শুনানির পর ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য দিন ঠিক করেছিলেন আদালত। কিন্তু রায় প্রস্তুত না হওয়ায় ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ দায়রা জজ মোহাম্মদ আলী হোসাইন মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- নিহতের ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী ও হাসান আলীর স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদ ওরফে শাহীন, শ্যালক আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান এবং ডা. হাসান আলীর ভাড়াটে খুনি মারুফ রেজা ও মন্টু।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ জানান, তারা আশা করছেন আসামিদের মৃত্যুদণ্ড হবে।

আদালত মামলাটির বিচারকালে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। মামলাটি প্রথমে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারাধীন ছিল। ১৩৫ কার্যদিবসে মামলাটির নিষ্পত্তি না হওয়ায় পরবর্তীতে রায় ঘোষণাকারী আদালতে পাঠানো হয়।

৩৫ বছর আগে ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই রমনা এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী সগিরা মোর্শেদ মেয়েকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে আনতে গিয়ে স্কুলের কাছেই রিকশায় থাকাবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন। এরপর ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সগিরা মোর্শেদ মারা যান। এ ঘটনায় তার স্বামী আবদুস ছালাম চৌধুরী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

এ মামলা ২৫ জন তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করে গড়ে একজন করে আসামি গ্রেপ্তার করেন। ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি মন্টু নামে একজনকে আসামি করে চার্জশিট দেয় পুলিশ। আদালতে বিচারও শুরু হয়। কিন্তু সাক্ষ্য গ্রহণের এক পর্যায়ে সাক্ষীরা মারুফ রেজা নামের এক ব্যক্তির নাম এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত জানান। ফলে আদালত পুনঃতদন্তের আদেশ দেন। ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান মারুফ রেজা। এরপর হাইকোর্ট ২০১৯ সালের হাইকোর্ট পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআই মারুফ রেজাকে ঘিরে তদন্তে নেমে হত্যার আসল রহস্য বের করেন। ২০১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম আদালত চার্জশিট জমা দেন। ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

চার্জশিটে বলা হয়, হত্যাকারী মারুফ রেজার মোটরসাইকেলের পেছনে আসামি হাসানের শ্যালক আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান যান। যাতে সগিরাকে সহজে দেখিয়ে দিতে পারেন। রেজওয়ান দেখিয়ে দিলে মারুফ রেজা গুলি করে পালিয়ে যায়।

ডা. হাসান আলী চৌধুরী আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, তিনি ইস্কাটনে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতেন। আসামি মারুফ রেজা তার রোগী ছিলেন। সে শহরে মাস্তানি করত। সগিরা মোর্শেদকে শায়েস্তা করার জন্য তিনি তাকেই ঠিক করেন। তার সঙ্গে ২৫ হাজার টাকায় হয় এ কাজের জন্য। কিন্তু সে সগিরা মোর্শেদকে চিনত না। এজন্য তার শ্যালককে দায়িত্ব দেন সগিরা মোর্শেদকে চিনিয়ে দেওয়ার জন্য।

সগিরা মোর্শেদের স্বামীর নাম আবদুস ছালাম চৌধুরী। তার বড় ভাইয়ের নাম সামছুল আলম চৌধুরী। মেজো ভাই চিকিৎসক হাসান আলী চৌধুরী। তিনজনই তাদের পরিবার নিয়ে আউটার সার্কুলার রোডে তখন বসবাস করতেন। সগিরা মোর্শেদরা থাকতেন দ্বিতীয় তলায়। চিকিৎসক হাসান তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা শাহীনকে নিয়ে থাকতেন ওই বাসার তৃতীয় তলায়। শাহীন তিন তলা থেকে প্রায় সময় ময়লা-আবর্জনা ফেলতেন, যা সগিরা মোর্শেদের পেছনের রান্না ঘর ও সামনের বারান্দায় পড়ত। এ নিয়ে সগিরার সঙ্গে শাহীনের প্রায় ঝগড়াঝাঁটি হতো। ওই তুচ্ছ কারণেই শাহীন সগিরাকে শায়েস্তা করার জন্য তার স্বামী হাসানকে দিয়ে তার রোগী তৎকালীন সিদ্ধেশ্বরী এলাকার সন্ত্রাসী মারুফ রেজাকে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়া করে ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই সিদ্ধেশ্বরীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে সগিরা মোর্শেদকে গুলি করে হত্যা করান।


আরও খবর



মিয়ানমারের সংঘাত: সীমান্তে এক দিনে ৫ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

Image

মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পাঁচ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ও থাইংখালী এলাকায় চারজন এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

কক্সবাজারের আহতরা হলেন, পালংখালী ইউনিয়নের নলবনিয়া এলাকার আয়ুবুল ইসলাম, রহমতেরবিল এলাকার আনোয়ার হোসেন, পুটিবনিয়া এলাকার মোবারক হোসেন ও মো. কালা। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন ও মোবারকের অবস্থা গুরুতর। এখনো গুলিবর্ষণের শব্দ শুনা যাচ্ছে। 

আরও পড়ুন>> একজন রোহিঙ্গাকেও ঢুকতে দেবো না : বিজিবির ডিজি

এদিকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে সৈয়দ আলম (৩৫) নামের এক বাংলাদেশি আহত হন। গোলাগুলির কারণে নিজ বাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি প্রথমে গাছে লাগার পর সৈয়দ আলমের কপালের পাশ দিয়ে চলে যায়। এতে গুরুতর আহত হলে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ দিকে আরাকান আর্মির আক্রমণের মুখে এ পর্যন্ত বিজিপি ও অন্যান্য বাহিনীর ২৬৪ জন বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হেফাজতে রয়েছেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহিন ইমরান জানান, মিয়ানমারে সংঘাত বেড়েছে। মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি, মর্টারশেল এসে পড়ছে সীমান্তের এপারে। সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্তের মানুষকে নিরাপদে আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। এর আগে গতকাল সোমবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপাইতলী গ্রামের একটি রান্নাঘরে মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টারশেলের আঘাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহত দুইজনের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নারী, অন্যজন রোহিঙ্গা পুরুষ।


আরও খবর
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে কয়েদির মৃত্যু

সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




সাগর-রুনি হত্যার এক যুগ : তদন্তে নেই দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি

প্রকাশিত:রবিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার এক যুগ পূর্ণ হলো আজ। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ভোরে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন এই সাংবাদিক দম্পতি। এক যুগ পার হলেও এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১০৫ বার সময় নিয়েছেন বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা। কবে নাগাদ মামলার তদন্ত শেষ হবে বলতে পারছেন না তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশের হাত ঘুরে বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব)।

সবশেষ গত ২৩ জানুয়ারি মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওই দিনও তদন্ত সংস্থা র‌্যাব প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালত আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এ নিয়ে একশ পাঁচ বারের মতো পেছানো হয়েছে এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ মামলাটি তদন্ত করেছেন র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার মো. শফিকুল আলম। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়ে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের এত বছর পেরিয়ে গেলেও ছেলে হত্যার বিচার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাগর সারোয়ারের মা সালেহা মনির। তিনি বলেন, একযুগ পার হতে যাচ্ছে সাগর-রুনির হত্যার। এখন পর্যন্ত আমার ছেলের হত্যাকারী কে সেটাই জানতে পারলাম না। ছেলেকে তো আর ফেরত পাবো না। আমার একটাই কথা, ছেলে হত্যার বিচার চাই। এখন পর্যন্ত আমার ছেলের কবর জিয়ারত করতে যাইনি। প্রতিজ্ঞা করেছি, যেদিন ছেলের হত্যাকারীদের দেখবো, ওইদিন কবর জিয়ারত করবো। এর আগে যদি আমার মৃত্যু হয়, হোক। খুনিদের না দেখে আমি ছেলের কবর জিয়ারত করতে যাবো না।

তিনি আরও বলেন, র‌্যাব তো সব জানে। প্রতিবেদন জমা দিলেই তো হয়। প্রতিবেদন যদি জমা না দিতে পারে সেটাই তারা প্রকাশ করুক। এভাবে ঝুলিয়ে রাখার কোনো মানে আসে না। এত বড় বড় মামলার সমাধান করছে র‌্যাব। অথচ এই মামলা ১২ বছরেও সমাধান করতে পারলো না। কত খুনের বিচার হচ্ছে, ক্লুলেস কত মামলায় বিচার হচ্ছে। কিন্তু সাগর-রুনির বেলায় এমন হচ্ছে কেন আমার বোধগম্য নয়।

মামলার বাদী মেহেরুন রুনির ছোট ভাই নওশের আলম রোমান জানান, গত ১২ বছর ধরে মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় চেয়ে নিচ্ছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। প্রতিবেদন জমা না দেওয়া একটি খারাপ সংস্কৃতি চালু হতে যাচ্ছে। দেশে কোনো অপরাধ করলেও বিচার হয় না, এটাই সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাচ্ছে। সরকার চাইলে সত্য ঘটনা বের করতে পারে। সেখানে ১০৫ বার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় চেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা, আর সেই সময়ও মঞ্জুর হচ্ছে। আমাদের একটাই দাবি প্রকৃত অপরাধী বের হয়ে আসুক, আর বাংলাদেশি আইন অনুযায়ী তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা। অনেক বছর হয়ে গেল, এখনও প্রতিবেদন দিতে পারলো না তদন্ত সংস্থা। এটা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। এই মামলার দ্রুত একটা সুরাহা হওয়া উচিত। আদালতে প্রতিবেদন আসা মাত্র রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুত বিচার শেষ করার চেষ্টা করবে।

এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আবু সাইদ সিদ্দিকী (টিপু) বলেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পেছানোর জন্য রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ উভয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। আমাদের আশা, তদন্ত সংশ্লিষ্টরা যেন দ্রুত মামলার প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত খুনিরা বেরিয়ে আসুক।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি নিজেদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপ-পিরদর্শক (এসআই)। চার দিন পর ডিবি উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলম চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার নেন। এরপর র‌্যাবের সহকারী পরিচালক মো. ওয়ারেছ আলী মিয়া, সহকারী পরিচালক সহিদার রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার মো. শফিকুল আলম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জাফর উল্লাহ ও সহকারী পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহম্মেদ মামলাটি তদন্ত করেছেন। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ও ৭ জুন, ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর ও সর্বশেষ ২০১৭ বছরের ২১ মার্চ মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। এরপর আর কোনো অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। অগ্রগতি সংক্রান্ত এসব প্রতিবেদনে প্রায় একই ধরনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

এ মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত অন্য আসামিরা হলেন- বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। এদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ রুদ্র জামিনে আছেন। অন্য আসামিরা কারাগারে। সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার এই ৮ জনের কেউই এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেননি।


আরও খবর



গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, সেই পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

প্রকাশিত:শনিবার ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জেলা প্রতিনিধি

Image

মাদক তল্লাশির নামে সংখ্যালঘু জাতিসত্তার এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সন্তোষ কুমারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গৃহবধূর শ্লীলতাহানির বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তদন্ত করেছেন। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে শুক্রবার রাতে প্রশাসনিক কারণে এক আদেশে পুলিশ সুপার ওই এএসআইকে ক্লোজড করেন। এরপর তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, মাদক তল্লাশির নামে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এএসআইয়ের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারের নজরে আসে। বিষয়টি আমলে নিয়ে পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল সংশ্লিষ্ট থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বিষয়টি সরেজমিন তদন্তের নির্দেশে দিয়েছেন। তদন্ত চলছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ওই গৃহবধূ মাদক বিক্রি করেন, এমন তথ্যের ভিত্তিতে এএসআই সন্তোষ কুমার তার নিজ ঘরে প্রবেশ করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিচার দাবি করে ওই গৃহবধূর করা একটি ভিডিও বৃহস্পতিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

নিউজ ট্যাগ: শ্লীলতাহানি

আরও খবর
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে কয়েদির মৃত্যু

সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪