আজঃ বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে এলো আরও ৩১ হাজার ৩০০ টন কয়লা

প্রকাশিত:শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর 20২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর 20২৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আরও ৩১ হাজার ৩০০ টন কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি বসুন্ধরা ইমপ্রেস।

শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টায় বন্দরের পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়িয়া-১১ নম্বরে নোঙর করে জাহাজটি। এরপর সকালের শিফট থেকে জাহাজটি থেকে আমদানি করা কয়লা লাইটার ভেসেলে খালাস শুরু হয়েছে। সক্ষমতানুযায়ী লাইটারে বোঝাই শেষে ওই লাইটারেজে করে কয়লা নেওয়া হবে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটিতে। এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার মুয়ারা পাত্তাই বন্দর থেকে ৪৯ হাজার ৭০০ টন কয়লা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে ছেড়ে আসে বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি বসুন্ধরা ইমপ্রেস। 

আরও পড়ুন>> খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হবে: আইনমন্ত্রী

জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট টগি শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিক লিমিটেড, খুলনার সহকারী ব্যবস্থাপক খন্দকার রিয়াজুল হক বলেন, এমভি বসুন্ধরা ইমপ্রেস জাহাজটি ৪৯ হাজার ৭০০ টন কয়লা নিয়ে বাংলাদেশে আসে। সেখান থেকে প্রথমে ১৮ হাজার ৪০০ টন কয়লা চট্রগ্রাম বন্দরে খালাস করা হয়। সেগুলো লাইটার যোগে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আনা হয়। জাহাজে থাকা অবশিষ্ট ৩১ হাজার ৩০০ টন কয়লা নিয়ে আজ ভোরে এমভি বসুন্ধরা ইমপ্রেস নামক জাহাজটি মোংলা বন্দরের হারবাড়িয়া এলাকায় নোঙর করে।

তিনি জানান, কয়লা খালাস শুরু হয়েছে। খালাস শেষে এই কয়লা লাইটার জাহাজে করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে নিয়ে সেখান থেকে ইয়ার্ডে রাখা হবে।


আরও খবর



জয়পুরহাটে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

প্রকাশিত:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
সুজন কুমার মন্ডল, জয়পুরহাট

Image

জয়পুরহাটে আবু হোসেন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আমিনা বেগমকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। বুধবার দুপুরে জয়পুরহাট র‍্যাব ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়। এর আগে ভোররাতে সদর উপজেলার পুরানাপৈল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আমিনা বেগম জেলার পাঁচবিবি উপজেলার দরগাপাড়া গ্রামের আবু রায়হানের স্ত্রী।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১০ সালের ২৫ মার্চ সকালে পাঁচবিবি উপজেলার দরগাপাড়া গ্রামের আবু হোসাইনের বাবা আবু তাহের নিজের খড়ের পালায় কাজ করছিলেন। সে সময় আসামিরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সেখানে এসে আবু তাহেরকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারপিট করেন। তখন তার ছেলে আবু হোসাইন বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি মারপিট করে আসামিরা। এসময় মুমূর্ষ অবস্থায় আবু হোসাইনকে প্রথমে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

সেখানে তার অবস্থার আরও অবনতি হলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে পাঁচবিবি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

জয়পুরহাট র‍্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মো: শেখ সাদিক জানান, এ মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি জয়পুরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক নুরুল ইসলাম ৫ জনের ফাঁসির রায় দেন।

একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। এ মামলার আসামি আমিনা বেগম পলাতক ছিলেন। এরপর সদর উপজেলার পুরানাপৈল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে পাঁচবিবি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


আরও খবর



স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জে এস ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ

প্রকাশিত:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

খতনা করাতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় আহনাফ তাহমিন আয়মান নামের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার জেএস ডায়াগনস্টিক এন্ড মেডিকেল চেক আপ সেন্টাররের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খতনা করাতে গেলে আয়মানের মৃত্যু হয়।

জানা যায়, বুধবার সকালে খবরটি জেনেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মঈনুল আহসানকে তৎক্ষনাৎ ঘটনাস্থলে পাঠান এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরিচালক দ্রুততম সময়ে মালিবাগস্ত জেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে উপস্থিত হয়ে হাসপাতালটির যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনকে কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী প্রফেসর ডা. সামন্ত লাল সেন এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এক বিশেষ বিবৃতিতে জানান, এই ঘটনায় আমি অত্যন্ত মর্মাহত। কিছুদিন আগেও এমন একটি ঘটনা আমরা লক্ষ্য করেছি। সেই ঘটনায় আমরা উপযুক্ত ব্যবস্থাও নিয়েছি। তবে ওই ঘটনার পরও যারা সতর্ক হতে পারেনি, এরকম আর কারও কোনরকম দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতি কোনভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দোষী প্রমাণিত হলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বিরুদ্ধে শুধু কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই হবে না, ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলাকারী দোষীদেরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে পরবর্তিতে আর কোন প্রতিষ্ঠান এরকম গুরু দায়িত্বে অবহেলা করতে সাহস না পায়। চিকিৎসায় অবহেলা পাওয়া গেলে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ঘটে যাওয়া অন্য আরেকটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেও একটি বিবৃতি দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে এনডস্কপি করাতে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় গতাকাল ২০ ফেব্রুয়ারি সেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পরিদর্শন করা হয়েছে যার রিপোর্ট আগামীকাল ২২ ফেব্রুয়ারি হাতে আসবে। রিপোর্ট দেখে সেই বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় আহনাফের বাবার মামলায় সেখান থেকে একজন পরিচালক ও একজন এনেস্থেসিওলজিস্টকে পুলিশ ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি রোববার মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তিদের সাথে জরুরি বৈঠক করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।


আরও খবর



আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা আজ

প্রকাশিত:শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।

গত সোমবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছিল।

সভায় আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, জেলা/মহানগর ও উপজেলা/থানা/পৌর (জেলা সদরে অবস্থিত পৌরসভা) দলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা, জাতীয় সংসদের দলীয় ও স্বতন্ত্র সদস্যরা, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের দলীয় চেয়ারম্যানরা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার দলীয় মেয়ররা এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত থাকবেন।


আরও খবর
জামিনে মুক্তি পেলেন বিএনপি নেতা আলাল

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




শুরু হলো ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

শুরু হলো বাংলা ও বাঙালির কালপঞ্জির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাস ফেব্রুয়ারি। আজ ১৮ মাঘ বৃহস্পতিবার ভাষা আন্দোলনের মাস হিসেবে পরিচিত ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন। মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার ও রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সেটিকে প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই মাসেই রাজপথে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বাংলার দামাল ছেলেরা। সেই বীরদের অমলিন স্মৃতি স্মরণের মাস এই ফেব্রুয়ারি। আরও একটি কারণে ভাষা আন্দোলনের এই মাস বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আর তা হলো, ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই এই জনপদে অভ্যুদয় ঘটে বাঙালিসহ অন্যান্য জাতিসত্তার জাতীয় চেতনার। বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথ বেয়ে সংঘটিত হয় মুক্তিযুদ্ধ। বিশ্বের মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ।

বাঙালি ও বাংলাদেশের সঙ্গে ফেব্রুয়ারির চেতনস্রোত এত সুনিবিড়ভাবে মিশে আছে যে, এখনও আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারির কথা ও সুর বাজলে সেই ১৯৫২ সালের মতোই বেদনা ও প্রতিরোধের শপথ সিক্ত করে সবাইকে।

প্রসঙ্গত মনে রাখা দরকার, ভাষা আন্দোলনের শুরু মূলত ১৯৪৮ সালে- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র মাস সাতেকের মধ্যেই এ আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে। অবশ্য নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে, তা নিয়ে ভারতবিভক্তির আগে থেকেই বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। এই বিতর্কের সূত্র ধরে ক্ষোভও সঞ্চারিত হয় বাঙালির মধ্যে। কেননা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বলতে গেলে একক সিদ্ধান্তে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চায় পূর্ব বাংলার জনগোষ্ঠীর ওপর। ওই সময়ের গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি সরকারি কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহারের লক্ষ্যে অধিবেশনে একটি সংশোধনী প্রস্তাব এনেছিলেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি এটি গণপরিষদে আলোচিত হয় এবং তমিজউদ্দিন খানের নেতৃত্বে মুসলিম লীগের গণপরিষদ সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। খাজা নাজিমুদ্দিন এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে সেদিন বলেন, পূর্ব বাংলার অধিকাংশ মানুষই চায় উর্দু হোক পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। এভাবে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের সংশোধনীটি ভোটে বাতিল করে দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ঢাকার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালিত হয়। পরে ২৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ সব জায়গায় প্রতিবাদ দিবস ও ধর্মঘট পালনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পুলিশ এদিন ছাত্রদের মিছিলে লাঠিচার্জ করে, অনেককে গ্রেপ্তারও করে। এমন প্রেক্ষাপটে ২ মার্চ গড়ে ওঠে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। একই বৈঠক থেকে ১১ মার্চ ধর্মঘট আহ্বান করা হয়। এই ধর্মঘট পালনের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৬৯ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করে। ভাষা আন্দোলন পায় সুগভীর মাত্রা।

ফেব্রুয়ারি মাস একদিকে শোকাবহ হলেও অন্যদিকে গর্বের মাস। কারণ কি ১৯৪৮ সালে- কি ১৯৫২ সালে, এই ফেব্রুয়ারিতেই ঔপনিবেশিক প্রভুত্ব ও শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালি প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মায়ের ভাষা রক্ষার জন্য এই মাসেই পৃথিবীর একমাত্র জাতি হিসেবে বাঙালি রক্ত দেয়। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বাঙালির শহীদ দিবস পায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি।

১৯৪৮ সালের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আসে ১৯৫২ সাল। ইতোমধ্যে খাজা নাজিমুদ্দিন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি পূর্ব বাংলার ২৭টি শিক্ষাকেন্দ্রে আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রক্রিয়া শুরু করেন; পূর্ব বাংলার অধিবাসী হওয়ার পরও ওই বছর ২৭ জানুয়ারি এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, দুটি রাষ্ট্রভাষা নিয়ে কোনো দেশ সমৃদ্ধির পথে এগোতে পারে না, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তার এ বক্তব্যের পর নতুন করে দানা বেঁধে ওঠে বিক্ষোভ ও ধর্মঘট। ৩১ জানুয়ারি (১৯৫২) ঢাকা বার লাইব্রেরি হলে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নতুন করে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গড়ে ওঠে। যার আহ্বায়ক নিযুক্ত হন কাজী গোলাম মাহবুব। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছিল পূর্ব বাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশন। তাই ওই দিন সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করা হয়। এই ধর্মঘট প্রতিহত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও তার আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সেই ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যায় রাজপথে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্দেশে মিছিলের ওপর পুলিশের গুলি চলে। শহীদ হন রফিক, শফিক, জব্বার, বরকত, শফিউদ্দীন, সালামসহ আরও অনেকে। রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায় করে নেন বাঙালি তরুণরা। ভাষা আন্দোলনের ওই আত্মত্যাগই তৈরি করে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের পথ।

১৯৫২ সালের দুই বছর পর ১৯৫৪ সালের ৭ মে পাকিস্তানের গণপরিষদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করে। ১৯৯৮ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে উদযাপনের জন্য জাতিসংঘে আবেদন করেন কানাডাপ্রবাসী রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম। পরে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ভাষার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগের দিনটি তাই আজ বিশ্বের সব ভাষাভাষীর অধিকার রক্ষার দিন।

প্রথম দিনের কর্মসূচি : বাঙালি পাঠকের সবচেয়ে বড় উৎসব মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার থেকে। জাতীয় কবিতা উৎসবের আয়োজন করছে জাতীয় কবিতা পরিষদ। আজ ও আগামীকাল শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সংলগ্ন চত্বরে এই কবিতা উৎসব অনুষ্ঠানে হবে। জাতীয় কবিতা পরিষদের ৩৬তম এই আয়োজনের এবারের প্রতিপাদ্য : যুদ্ধ গণহত্যা সহে না কবিতা। কবিতা উৎসবে অংশ নেবেন ৮ দেশের কবি। এর মধ্যে ১০ জন সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলা থেকে ৪টি দেশের ৮ জন কবি অনলাইনে এই উৎসবে যুক্ত হবেন। এ মাসে মাসব্যাপী জাতীয় পথনাট্যোৎসব আয়োজন করেছে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শুরু হয়ে ২০টি জেলায় চলবে এ উৎসব।


আরও খবর
দেশে ৩০ শতাংশ খাদ্য অপচয় হয়: কৃষিমন্ত্রী

বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




সরকারি হাসপাতালে ওষুধ পান না ৬৯ শতাংশ রোগী

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

Image

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ৬৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ রোগীকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়। জন্মের পরপরই মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত হয় দেশের ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু। ৫০টির বেশি নীতিমালা, আইন থাকার পরেও এখনো নিশ্চিত হয়নি দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য। এমন সব তথ্য উঠে এসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন গবেষণায়।

আজ সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্ল্যানিং মনিটরিং অ্যান্ড রিসার্চ (পিএমআর) আয়োজিত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনটি সেশনে প্রকাশ করা হয় বিষয়ভিত্তিক ১৪টি গবেষণা প্রতিবেদন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতে এই গবেষণাগুলো করা হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন পিএমআরের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মাজহারুল ইসলাম।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির এবং জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

দেশের হাসপাতালগুলোয় সংক্রমণ রোধ ও নিয়ন্ত্রণের (আইপিসি) অবস্থাবিষয়ক এক গবেষণায় বলা হয়, বেশির ভাগ হাসপাতালে আইপিসি কমিটি আছে। কিন্তু অধিকাংশ কমিটি কার্যকর নয়। অধিকাংশ হাসপাতালেই নেই আইপিসির জন্য নির্দিষ্ট জনবল। সরকারি ৬০ শতাংশ হাসপাতালে আইপিসি ব্যবস্থাপনা নেই। আর বেসরকারি হাসপাতালের ৫০ শতাংশে এই ব্যবস্থাপনা নেই। ফলে হাসপাতাল থেকে যেসব রোগের সংক্রমণ হয়, সেটি বাড়বে। এই সংক্রমণ মারাত্মক ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়।

এই গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্টিবায়োটিক কীভাবে ব্যবহার করা হবে, এর একটি গাইডলাইন থাকলেও হাসপাতালগুলোয় তা মানা হয় না। এক-চতুর্থাংশ হাসপাতালে হ্যান্ড হাইজেনিং স্টেশন অর্থাৎ যেখানে হাত ধোয়ার জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা নেই। প্রতি বেডে একজন রোগী থাকার কথা থাকলেও হাসপাতালগুলোয় বেডের চেয়ে বহুগুণ বেশি রোগী থাকছে। উন্নত দেশে আইপিসি হার ৩ থেকে ৫ শতাংশ হলেও এশিয়ার দেশগুলোয় এই হার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ।

নিরাপদ খাদ্য ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দেশে আইন, নীতিমালা ও বিধিমালা রয়েছে ১৫২টির মতো। আইনের অভাব না থাকলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন খুব একটা নেই। যে কারণে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

তথ্যের ঘাটতি-সম্পর্কিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্বাস্থ্য খাতের যে ৪০টি সূচক রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে সরকার কাজ করলেও পরিপূর্ণ তথ্য নেই। এ ৪০টি সূচকের মধ্যে চারটির কোনো সঠিক তথ্যই নেই। অন্যদিকে, ১০ সূচকের আংশিক তথ্য রয়েছে। আর বাকি ২৬টি সূচকের যাচাই করার মতো তথ্য আছে, তবে তা পরিপূর্ণ নয়। যে চারটি সূচকের কোনো তথ্য নেই, তা হলো জন্মহার, অনিরাপদ পানি ও অনিরাপদ স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির অভাবে মৃত্যুহার, স্বাস্থ্য সুযোগ-সুবিধার অনুপাত (যেখানে সাশ্রয়ী মূল্যের প্রাসঙ্গিক প্রয়োজনীয় ওষুধের সুবিধা রয়েছে) এবং নির্বাচিত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার কারণে রক্তপ্রবাহের সংক্রমণের তথ্য।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ গোলাম নবীর নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মের পরপরই মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত হয় দেশের ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু। জন্মের প্রথম ছয় মাস (এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিং) মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত হয় ৬ শতাংশ শিশু। জন্মের প্রথম দুই বছর মায়ের দুধ পায় না ৭ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু। এ ছাড়া ছয় মাস বয়সের পরেও মায়ের দুধের পাশাপাশি ৮ দশমিক ২ শতাংশ শিশু বাড়তি খাবার পায় না।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জে. কাজী মো. রাশিদ উন নবীসহ ১৩ জন চিকিৎসক একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। সেখানে দেশের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পর্কে নেওয়া রোগীদের সুস্পষ্ট মতামত উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ৬৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ রোগীকে ওষুধ কিনে খেতে হয়। যদিও তাদের হাসপাতাল থেকে বিনা মূল্যে ওষুধ পাওয়ার কথা ছিল। এ ছাড়া ১৮ শতাংশ রোগীকে সরকারি হাসপাতালের সেবা পাওয়ার জন্য টাকা দিতে হয়। হাসপাতালে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে অসন্তুষ্ট ৭৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ রোগী।


আরও খবর