আজঃ মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম
আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

রাজধানীর যেসব রাস্তায় যান চলাচল সীমিত থাকবে আজ

প্রকাশিত:রবিবার ২৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৩ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে আজ রোববার প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন করবে দলটি।

দিনটি উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। এরপর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন।

আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আশেপাশের এলাকার কিছু সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা সীমিত করা হবে।

এর মধ্যে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, শাহবাগ ক্রসিং, কাটাবন ক্রসিং, টিএসসি, দোয়েল চত্বর ও মৎস্য ভবন ক্রসিংয়ে যানবাহন চলাচল সীমিত রাখবে ডিএমপির ট্রাফিক-রমনা বিভাগ। এ অবস্থায় নগরবাসীকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের অনুরোধ করছে ডিএমপি।

রমনা-ট্রাফিক বিভাগের নির্দেশনায় সমাবেশে আসা গাড়িগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়াম মাঠ, মুহসীন হল মাঠ ও ফুলার রোডে পার্কিং করার জন্য বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন পুরান ঢাকার কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলনে জন্ম হয় পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ১৯৫৫ সালে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতার পর দলটির নাম হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সাফল্য বহুমুখী, রয়েছে অনেক অর্জন। দলটি দেশের বহু উন্নয়ন স্মারকের সঙ্গী। তবে লড়াই-সংগ্রামের ঐতিহ্যে লালিত আওয়ামী লীগের ত্রুটি-বিচ্যুতিও কম নয়। এ অবস্থায় ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন করবে দলটি।


আরও খবর



কোটা নিয়ে দুই আবেদনের শুনানি সাড়ে ১১টায়

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

সরকারি চাকরিতে (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) কোটা পুনর্বহাল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে দুই শিক্ষার্থী ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি বেলা সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ বুধবার (১০ জুলাই) সকালে এই সময় নির্ধারণ করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, দুটি আবেদনই আজ বেলা সাড়ে ১১টায় শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছেন আদালত।

হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করা শিক্ষার্থীরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের আল সাদী ভুইয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ সাঈদ খান। এরমধ্যে আল সাদী ভুইয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি।

এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর ব্যানারে চলছে বর্তমান কোটা সংস্কার আন্দোলন। তারা বলছেন, ঢাবির দুই শিক্ষার্থীর আবেদন করার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কোনো সম্পর্ক নেই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

প্রসঙ্গত, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করে। সেখানে বলা হয়েছিল, ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেড (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। ওই পদসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হয়। নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, উপজাতি পাঁচ ও প্রতিবন্ধীদের এক শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়।

এই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ বাতিল চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল ২০২১ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে। গত ৫ জুন রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ে সরকারের পরিপত্র বাতিল করে মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ কোটা বহাল রাখার আদেশ দেয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ' আবেদন করলে ৪ জুলাই আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে নিয়মিত আপিল করতে বলেন। ফলে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ ও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে কোট বহাল থাকছে।

এই কোটার বিরুদ্ধেই আন্দোলন করে যাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা।


আরও খবর
কোটা নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি রোববার

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




ঈশ্বরদীতে হত্যা মামলায় বেলারুশ নাগরিকের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

Image

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলাস্থ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে কর্মরত এক কাজাকিস্তান নাগরিককে হত্যার ঘটনায় এক বেলারুশ নাগরিককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ না হওয়ায় দুই বেলারুশ নাগরিককে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৬ জুন) বিকেলে পাবনার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।

দন্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের ট্রেস্ট রোসেমের কর্মকর্তা মাতাভিয়েভ ভ্লাদিমির (৪৩)। এই মামলা থেকে উরবানোভিচাস ভিটালি এবং ফেডারোভিচ গেনেডি নামের অপর দুই বেলারুশ নাগরিক খালাস পেয়েছেন। রায়ের সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৬ মার্চ রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের বিদেশিদের আবাসিক এলাকা নতুনহাট গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকার একটি ভবন থেকে সেভেত্স ভ্লাদিমির নামের এক কাজাকিস্তান নাগরিকের রক্তাক্ত মরদেহ এবং তার ভাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এঘটনায় তিন বেলারুশ নাগরিককে দায়ী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিকিমত কোম্পানির পরিচালক ভেদোরোভ ইউরি। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৭ মে তিন বেলারুশ নাগরিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ। দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণা করেন আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ খান রতন এবং আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট মুকুল বিশ্বাস ও হেদায়েত উল ইসলাম। এছাড়াও দোভাষী হিসেবে বাদীর পক্ষে এস এম আরিফ আলম এবং আসামির পক্ষে কে এম মুরাদুজ্জামানন সহযোগিতা করেন।


আরও খবর



খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে যাচ্ছে বিএনপি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচিতে যাচ্ছে বিএনপি। আগামীকাল বুধবার (২৬ জুন) এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পাবে। তবে কী ধরণের কর্মসূচি দেওয়া হবে তা এখনও জানানো হয়নি।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই লক্ষে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবদান, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক বিশ্বে অতুলনীয়। খালেদা জিয়াকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় সাজা প্রদান করে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষে এই হীন চক্রান্ত করছে অবৈধ সরকার। শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে বন্দি করে রাখা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনী এবং সংবিধানবিরোধী। এই মামলায় জামিন পাওয়া তাঁর সাংবিধানিক অধিকার।

খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, চিকিৎসকেরা তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর সুপারিশ করেছেন। দলের পক্ষ থেকে তাঁকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে পাঠানোর দাবি জানানো হয়েছে। এমন কি পরিবারের পক্ষ থেকে দুই বার তাঁর বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। কিন্তু অবৈধ সরকার তাদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করেছে। অনতিবিলম্বে খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানাচ্ছি।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর করেছেন। তিনি ভারতের সঙ্গে ২টি চুক্তি ৫টি নতুন সমঝোতা স্বারক ও ৩টি চুক্তি নবায়নসহ ১০টি চুক্তি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। সম্পাদিত চুক্তিগুলোতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করছি। তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টনের কোনো চুক্তি না করা, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা বন্ধ না করা, একতরফাভাবে ভারতকে সকল সুবিধা প্রদান করে বাংলাদেশের স্বার্থ ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, কানেকটিভিটির নামে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত রেল যোগাযোগ, ডাক ও টেলিযোগাযোগের সমঝোতা, কৌশলগত ও অপারেশনাল খাতে সামরিক শিক্ষা সহযোগিতা, ওষুধ সংক্রান্ত সমঝোতা, বাংলাদেশের জলসীমায় ভারতের অবাধ বিচরণ এবং ভারতের ইনস্পেস ও বাংলাদেশের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা, রেলমন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা, সমুদ্রবিষয়ক গবেষণায় দুই দেশের সমঝোতা ইত্যাদি সমঝোতাগুলোতে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে। ভারতকে সব সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে ভারতের কাছে থেকে বাংলাদেশের কোনো স্বার্থ আদায় করতে শেখ হাসিনা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন এবং এটা ম্যান্ডেট বিহীন অবৈধ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বহিঃপ্রকাশ।

এই অবৈধ সরকার পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে ভারতের উপর নির্ভরশীল করে ফেলেছে। এই চুক্তিগুলোকে বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী হওয়ায় বিএনপি তা প্রত্যাখ্যান করছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত সংবাদ সম্মেলন আগামী ২৮ জুন (শুক্রবার) বিকেল ৩টা অনুষ্ঠিত হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বৃহত্তর সিলেট বিভাগের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। কিশোরগঞ্জে হাওরের মাঝখানে সড়ক নির্মাণ এবং বেশ কিছু এলাকায় মাটি ভরাট করে কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণ করায় ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিষ্কাশিত না হওয়ায় এ ভয়াবহ দুর্যোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জ শহরসহ বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির তলে যাওয়ায় অসংখ্য মানুষ সীমাহীন দুর্দশার মধ্যে পড়েছে। দুর্গত এলাকায় সরকারের কোনো ত্রাণ তৎপরতা দেখা যায়নি। অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের জন্য সভায় দাবি জানাচ্ছি।’

বিএনপির একটি ত্রাণ টিম অতিদ্রুত সিলেট সফর করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও জানান মির্জা ফখরুল।


আরও খবর
ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




১০ লাখ টাকা চুরি, ১ লাখ টাকা খরচের পর ধরা পড়লো চোর

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

Image

টাঙ্গাইলে ১০ লাখ টাকা চুরির রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা চোরচক্রের এক সদস্য গ্রেফতারসহ ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুলাই) সকালে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোঃ গোলাম সবুর এ তথ্য জানিয়েছেন।

এসময় পুলিশ সুপার জানায়, গত ১১ জুলাই দুপুর ১২ টার দিকে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডাক্তার রতন চন্দ্র সাহা সোনালী ব্যাংক টাঙ্গাইল শাখা হতে তার সঞ্চয় পত্র হতে ১১ লাখ ৫২ হাজার ৮০১ টাকা উত্তোলন করে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরে শহরের ললিতা ফার্মেসীর সামনে থেকে তার ব্যাগে থাকা ১০ লাখ টাকা চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই চিকিৎসক টাঙ্গাইল সদর থানায় ওইদিনই গত বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামেন আইনশৃংখলাবাহিনী।

তদন্তে এই চুরি সাথে জড়িত ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার উত্তর কাঠীপাপাড়া গ্রামের মৃত ফটিক মাঝির ছেলে মোঃ শহিদ মাঝির (৫৩) নাম বের হয়ে আসে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার (১৪ জুলাই) ঝালকাঠি থেকে মো. শহিদ মাঝিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে শহিদ টাকা চুরির কথা স্বীকার করেন এবং তার বাড়ি থেকে চুরি হওয়া ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। বাকি এক লাখ টাকা শহিদ মাঝি খরচ করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃত শহিদ মাঝিকে আদালতে হাজির করা হবে।


আরও খবর



বাংলাদেশে রেল ট্রানজিট ও তিস্তা বিতর্ক নিয়ে যা ভাবছে ভারত

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দিল্লি সফরে ভারতকে রেল ট্রানজিট দেয়া এবং তিস্তা পুনরুদ্ধার প্রকল্পে ভারতের যুক্ত হওয়ার সমঝোতার ঘোষণা আসার পর দিন দশেক পেরিয়ে গেছে।

ইতোমধ্যে এই ইস্যুগুলোতে বাংলাদেশে তুমুল বিতর্ক দানা বেঁধেছে, বিরোধী দল বিএনপিও সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছে, তবে ভারত কিন্তু এখনো প্রবল আত্মবিশ্বাসী যে এই পদক্ষেপগুলো অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে এবং তা দুই দেশের মানুষের জন্যই উপকার বয়ে আনবে।

রেল ট্রানজিট প্রশ্নে ভারত সরাসরি জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে বহুমাত্রিক সংযোগকে পরের ধাপে উন্নীত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে এটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

পাশাপাশি দিল্লির তরফে এই ইঙ্গিতও দেয়া হয়েছে যে বাংলাদেশের ভূখণ্ড দিয়ে ভারতের রেলগাড়ি চললে কী হারে মাশুল, শুল্ক বা ট্রানজিট ফি আদায় করা হবে এবং ওই ট্রেনে নিরাপত্তার ব্যবস্থা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে, এই সব খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের টেকনিক্যাল কমিটি নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসবে।

তিস্তার পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ভারত-বাংলাদেশে যে প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার অঙ্গীকার করেছে কিংবা গঙ্গা চুক্তির নবায়ন নিয়ে যে আলোচনা শুরু করার কথা জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস তাতে আপত্তি তুললেও সেগুলো থেকেও এতটুকু সরে আসার কোনো পরিকল্পনা ভারতের নেই বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এর মধ্যে কেন্দ্রকে চিঠি লিখে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, রাজ্যবাসীর স্বার্থের সাথে আপস করে বাংলাদেশের সাথে পানি নিয়ে কোনো চুক্তি তিনি মেনে নেবেন না। কিন্তু তার এই হুমকিকেও আমল দেয়া হচ্ছে না, অন্তত এখনকার মতো তো বটেই!

তবে দিল্লিতে একাধিক পর্যবেক্ষক ও বিভিন্ন থিঙ্কট্যাঙ্কের গবেষকরা বিবিসিকে বলেছেন, বাংলাদেশে রেল ট্রানজিট বা তিস্তা প্রকল্পের মতো পদক্ষেপ বাস্তবায়িত করতে হলে ভারতকেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বড়সড় ছাড় দিতে হবে বলে তাদের ধারণা।

সেগুলো কী হতে পারে, তা এখনই স্পষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে নেপাল ও ভুটানের সাথে বাণিজ্যের জন্য বাংলাদেশকেও ভারতের ভেতর দিয়ে রেল ও সড়ক ট্রানজিট, তিস্তা প্রকল্পে ভারতের অর্থায়নের একটা বড় অংশ ঋণের বদলে অনুদানে (গ্রান্ট) পরিবর্তন করা এই সব সম্ভাব্য ছাড়ের কথা তারা উল্লেখ করছেন।

তবে বাংলাদেশের ভেতরে বিরোধী দলীয় শিবির বা দেশের একটা শ্রেণির মানুষজন যে এই সব উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন, সেটাকে দিল্লির সরকারি কর্মকর্তারা বা ভারতের কূটনৈতিক মহল বিশেষ একটা আমল দিচ্ছেন না।

তারা বলছেন, গত ১০-১৫ বছরে বাংলাদেশে ভারতের বহু উদ্যোগই সে দেশে একটা অংশের মানুষের বাধার মুখে পড়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুদেশের সরকারের সদিচ্ছায় সেই সব প্রকল্পই সফলভাবে রূপায়িত হয়েছে, দুদেশের মানুষই তা থেকে লাভবান হচ্ছেন।

ফলে রেল ট্রানজিট ও তিস্তা পুনরুদ্ধার প্রকল্পের ক্ষেত্রেও তার কোনো ব্যতিক্রম হবে না বলেই দিল্লির বিশ্বাস।

সাউথ ব্লকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য-

গত ২২ জুন দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যেকার বৈঠকের পরই ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা যে ব্রিফিং করেছিলেন, তাতেই তিনি এই দুটি প্রকল্পের রূপরেখার বর্ণনা দেন।

রেল ট্রানজিট প্রসঙ্গে তার বক্তব্য ছিল, এটা হলো ভারতেরই একটা অংশ থেকে আর একটা অংশে যাওয়া, যেখানে ট্রেন যাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতর দিয়ে।

এটা বাংলাদেশ ও ভারত, উভয় দেশেরই মানুষ ও অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি দাবি করেন।

জুলাই মাসে গেদে-দর্শনা সীমান্ত থেকে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি সীমান্ত পর্যন্ত রুটে এই রেলপথে মালবাহী ট্রেন পরীক্ষামূলক চলাচল করবে বলেও তিনি ঘোষণা করেন।

আর তিস্তা প্রকল্প প্রসঙ্গে বিনয় মোহন কোয়াত্রা জানান, ওই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো তিস্তার পানির ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ (ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কনজার্ভেশন), কিন্তু তিস্তার পানি ভাগাভাগি নিয়ে প্রস্তাবিত চুক্তির সাথে ওই পদক্ষেপের কোনো সম্পর্ক নেই।

এর দিনকয়েক পরে (২৮ জুন) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়েও মুখপাত্রকে এই দুটি ইস্যুতে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

রেল ট্রানজিট প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয়, এই পথে চলাচলের অনুমতি দেয়ার বিনিময়ে বাংলাদেশকে কী হারে শুল্ক দিতে হবে সেটা কিছু স্থির হয়েছে কি না? আর বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় ভারতের ট্রেনে নিরাপত্তার ব্যবস্থাই বা কিভাবে হবে?

জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই প্রকল্পের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে বলেন, আমাদের দুই দেশের মধ্যে কানেক্টিভিটিকে আমরা ফিজিক্যাল, ডিজিটাল ও আরো নানা পদ্ধতিতে ক্রমশ শক্তিশালী করে তুলছি এই রেল সংযোগ হলো তারই একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও মানুষে-মানুষে সম্পর্ককে উন্নীত করবে।

ট্রানজিট ফি ও নিরাপত্তার প্রশ্নে তিনি বলেন, এগুলো হলো প্রকল্পটার টেকনিক্যাল দিক। যখন আমাদের দুই দেশের সরকার এই প্রকল্পের জন্য টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করবে, তখন সেই কমিটির বৈঠকে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

তার কথায় স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল, ট্রানজিট ফি বা মাশুলের হার, কিংবা ট্রেনে কোন দেশের নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হবে এসব বিষয় নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে জানতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকায় টেকনিক্যাল (কারিগরি) টিম পাঠানোর ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আপত্তি তুলেছেন, এই বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান কী?

তিস্তা নিয়ে সরাসরি জবাব এড়িয়ে গিয়ে মুখপাত্র এখানে গঙ্গা চুক্তির নবায়ন নিয়ে মমতা ব্যানার্জির আপত্তির প্রসঙ্গটিতে চলে আসেন।

রণধীর জয়সওয়াল দাবি করেন, গঙ্গা চুক্তির নবায়ন নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় প্রবেশ করার আগে ভারত আগে নিজেদের দেশের ভেতরে একটি ইন্টারনাল (অভ্যন্তরীণ) কমিটি গঠন করেছে এবং সেখানে অন্য সব স্টেকহোল্ডারের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরও প্রতিনিধিও ছিলেন।

শুধু তাই নয়, তিনি আরো জানান, পশ্চিমবঙ্গ কমিটির বৈঠকগুলোতে নিয়মিত যোগ দিয়েছে, এপ্রিল মাসেও রাজ্য সরকার তাদের লিখিত মতামত দিয়েছে এবং তার পরই কমিটি তাদের রিপোর্ট চূড়ান্ত করেছে।

অর্থাৎ, মুখপাত্রের বক্তব্য ছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাথে পরামর্শ না করে গঙ্গা চুক্তি নিয়ে এগোনো হচ্ছে, মমতা ব্যানার্জীর এই অভিযোগ ঠিক নয়।

বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে রেল ট্রানজিট বা তিস্তা প্রকল্পে সক্রিয় অংশগ্রহণ কোনোটা থেকেই যে ভারত পেছোনোর কথা ভাবছে না, রণধীর জয়সওয়ালের কথায় তা ছিল স্পষ্ট।

বাংলাদেশেরও লাভ, এটা তারা ঠিকই বুঝবেন।

ভারতের সাবেক শীর্ষ কূটনীতিবিদদের মধ্যে ক্ষমতাসীন সরকারের খুবই ঘনিষ্ঠ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। ঢাকাতে ভারতের হাইকমিশনার ছিলেন দীর্ঘদিন, পরে অবসর নেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে যে জি-টোয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলন আয়োজিত হয়েছিল, অবসরের পর শ্রিংলাকে তার প্রধান কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব দিয়েছিল মোদি সরকার। বাংলাদেশ জোটের সদস্য না হলেও সেই সম্মেলনে বিশেষ আমন্ত্রিত ছিলেন শেখ হাসিনাও।

ভারতের বর্তমান সরকারের বাংলাদেশ নীতি বা আউটরিচটা যারা তৈরি করেছেন, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য।

শ্রিংলা বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, এই রেল ট্রানজিট বা তিস্তা প্রকল্প যে আখেরে বাংলাদেশের জন্য লাভদায়ক হবে সেটা ও দেশের বেশিরভাগ মানুষ বুঝবেন সে ব্যাপারে তার কোনো সন্দেহই নেই।

তার কথায়, এই ট্রানজিট শব্দটা তো এক সময় বাংলাদেশে প্রায় ট্যাবু বা নিষিদ্ধ বলে ধরা হত। এখন আমরা বলি কানেক্টিভিটি, সংযোগ ইত্যাদি তবে বাংলাদেশ কিন্তু মেনে নিয়েছে এটা দুই দেশের স্বাভাবিক সম্পর্কের অংশ।

কোভিড লকডাউনের মধ্যেও যে ভারত সরাসরি ওয়াগনে চাপিয়ে মহারাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ পাঠিয়েছিল, সেটাও সম্ভব হয়েছিল সীমান্তে রেল কানেক্টিভিটি ছিল বলেই, জানাচ্ছেন মি শ্রিংলা।

বাংলাদেশের উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম এই তিনদিকেই যেহেতু ভারতীয় ভূখণ্ড, আর তার মাঝে থাকা দেশটি নিজেদের এই স্ট্র্যাটেজিক লোকেশনের ফায়দা নিয়ে ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার মাধ্যমে অর্থনৈতিক বা কৌশলগত সুবিধাও আদায় করতে পারে বলে মনে করেন এই পোড়খাওয়া কূটনীতিবিদ।

তবে বিরোধী দল বিএনপি এই সব পদক্ষেপকে যে ভারতের সাথে গোলামির চুক্তি বলে বর্ণনা করেছে কিংবা বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমেও অনেকে এর তীব্র সমালোচনা করছেন সেগুলোকে শ্রিংলা বিশেষ গুরুত্ব দিতে রাজি নন।

সে দেশের রাজনীতিতে অনেকের অনেক রকম কায়েমি স্বার্থ থাকতে পারে, কেউ কেউ আবার নানান ইস্যু খুঁচিয়ে তুলে হয়তো ব্রাউনি পয়েন্টও স্কোর করতে চাইবেন।

কিন্তু তাতে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে কখনো কোনো বিরূপ প্রভাব পড়েনি।

রামপাল প্রকল্পটাই দেখুন, যখন চুক্তি হয়েছিল তখন বাংলাদেশে অনেকেই এর সমালোচনা করেছিলেন। আর এখন সেটা এশিয়ার সবচেয়ে আধুনিক, দূষণমুক্ত তাপবিদ্যুৎে কেন্দ্রগুলোর একটা, যা বাংলাদেশের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বিরাট অবদান রাখছে, দাবি হর্ষবর্ধন শ্রিংলার।

তিস্তার ক্ষেত্রেও বর্ষার সময় ওই নদীতে বয়ে আসা বিপুল পরিমাণ পানির যে অপচয় হয়, তার যথাযথ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভারতের কারিগরি দল শুষ্ক মৌসুমে সেচের প্রয়োজন মেটাতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

ভারতের সেই কারিগরি দক্ষতা ও সামর্থ্য আছে, বাংলাদেশ অবশ্যই যার সুফল পেতে পারে, বিবিসি বাংলাকে বলেন শ্রিংলা।

বিনিময়ে নেপাল-ভুটানে ট্রানজিট?

দিল্লির প্রথম সারির গবেষণা প্রতিষ্ঠান আরআইএসে যে সেন্টার ফর মেরিটাইম ইকোনমি ও কানেক্টিভিটি (সিএমইসি) রয়েছে, সেখানে অধ্যাপনা করেন অর্থনীতিবিদ ড: প্রবীর দে।

আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি, বাণিজ্য-পরিবহন ও বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে তিনি গবেষণা ও কাজকর্ম করছেন বহু বছর ধরে।

ভারতের সাথে বাংলাদেশের পুরনো রেল সংযোগগুলো একে একে চালু করা সম্ভব হলেও ভারতকে রেল ট্রানজিট দেয়ার বিষয়টি যে অনেক বেশি স্পর্শকাতর এবং বাংলাদেশে এর একটা ভিন্নতর মাত্রা আছে, এ কথা কিন্তু তিনি স্বীকার করেন।

প্রবীর দে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, আমার ধারণা বাংলাদেশের কাছ থেকে এই সুবিধা পেতে হলে ভারতকেও খুব বড় আকারের কোনো পাল্টা ছাড় (কনসেশন) দিতে হবে। নইলে বাংলাদেশে এই প্রশ্নটা উঠতে বাধ্য যে আমরা বিনিময়ে কী পেলাম?

এমন একটা সময় ছিল, যখন সার্কের স্বর্ণযুগে ঢাকা থেকে লাহোর রুটে ভারতের মধ্যে দিয়ে ট্রানজিট সম্ভব কি না, সেগুলো নিয়েও কথাবার্তা হতো। কিন্তু আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি এতটাই বদলে গেছে যে সে সব জিনিস আমরা প্রায় ভুলতেই বসেছি।

এখনকার বাস্তবতায় নেপাল বা ভুটানের সাথে বাংলাদেশকে সরাসরি বাণিজ্য করতে দিতে যদি ভারতের মধ্যে দিয়ে রেল বা রোড ট্রানজিট দেয়া হয়, সেটা একটা গ্রহণযোগ্য অপশন হতে পারে বলে আমার ধারণা, বলছিলেন প্রবীর দে।

বাংলাদেশকে এই রেল ট্রানজিট দেয়ার ক্ষেত্রে এখনকার বিবিআইএন মোটর ভেহিক্যাল চুক্তির মতো বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপালের রেল নেটওয়ার্ককেও সংযুক্ত করতে একটি সমঝোতার কথা ভাবা যেতে পারে বলে তার অভিমত।

কোনো কোনো রেলপথে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে দিয়ে নেপাল ও ভুটানের সাথে সংযুক্ত হতে পারে, সেগুলোকেও চিহ্নিত করেছেন তিনি।

ভুটানে এই মুহূর্তে কোনো ট্রেন না চললেও সে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গেলেফু থেকে আসামের কোকরাঝাড় পর্যন্ত রেললাইন বসানোর কাজ চলছে।

এই রেলপথকে অনায়াসেই চিলাহাটি-হলদিবাড়ি হয়ে অথবা অধুনা পরিত্যক্ত মোগলহাট-গীতালদহ রুটে বাংলাদেশের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব।

নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের রেল বাণিজ্য বা ট্রেন যাতায়াতের জন্য কাজে লাগানো যেতে পারে হিলি-চাঁচল বা বিরল-রাধিকাপুর সীমান্তের রেল সংযোগকে।

এই রুট দিয়ে বাংলাদেশের পণ্য বা যাত্রীরা নেপাল সীমান্তের রকসৌল পর্যন্ত যেতে পারবেন, যে রেলপথটি কাঠমান্ডু পর্যন্ত সম্প্রসারিত করারও ভাবনাচিন্তা চলছে।

সড়কপথে বাংলাদেশকে বাণিজ্যিক ট্রানজিট দেয়ার বিষয়টি অবশ্য তুলনামূলকভাবে সহজ। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ট্রাককে ভারতের মধ্যে দিয়ে সরাসরি নেপাল বা ভুটানে গিয়ে মাল খালাস করার অনুমতি দিতে হবে।

বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পে ভারতের যোগদানকে মসৃণ করার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট একটি পরামর্শ রয়েছে প্রবীর দে-র।

তিনি বলছেন, তিস্তা নিয়ে যেকোনো আলোচনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেও যদি কোনোভাবে যুক্ত করা যায় এবং দিল্লি-ঢাকার এই আলোচনাকে কিছুটা ত্রিপাক্ষিক চেহারা দেয়া যায়, তাহলে সেটা ফলপ্রসূ হতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।

আসলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর সম্মতি ছাড়া বাংলাদেশের দাবি অনুযায়ী তিস্তার পানি ছাড়া যে অসম্ভব, এটা গত ১৬ বছরে প্রমাণিত।

ফলে তাকে আলোচনার টেবিলে নিয়েই তিস্তা সঙ্কটের সমাধান খোঁজা দরকার বলে মনে করছেন ভারতের অনেক বিশেষজ্ঞই।

তিস্তায় সহায়তার বড় অংশ অনুদান হতে হবে

ভারতের প্রথম সারির স্ট্র্যাটেজিক থিঙ্কট্যাঙ্ক মনোহর পারিক্কর ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালিসিসের সিনিয়র ফেলো স্ম্রুতি পট্টনায়ক আবার এই সমস্যাটিকে দেখতে চান একটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণে।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, প্রথম কথা হলো, বিরোধী দল বিএনপি যে এই পদক্ষেপগুলোর বিরোধিতা করছে, সেটাই প্রত্যাশিত ছিল।

তারা যদি কিছুটা হলেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিত, তাহলেই বরং আমি অবাক হতাম।

মাসকয়েক আগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তারা যেভাবে শেখ হাসিনার হাতে আবার নিরঙ্কুশ ক্ষমতার রাশ তুলে দিয়েছে, সেই ভুল শোধরানোর মরিয়া চেষ্টাতেই বিএনপি এই ভারত-বিরোধিতার তাস খেলতে চাইছে বলে ড: পট্টনায়কের বিশ্বাস।

কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার যে তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করবেন এবং প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে অবশ্যই এগোবেন, এটা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই, জানাচ্ছেন তিনি।

তবে তার পরেও এই প্রকল্পগুলো যাতে সহজে ও মসৃণভাবে রূপায়িত হতে পারে, তার জন্য ভারতের দিক থেকেও বাড়তি কিছু পদক্ষেপ বা অতিরিক্ত উদ্যোগ নিতে হতে পারে বলে ড: পট্টনায়কের ধারণা। ইংরেজিতে এটাকেই বলে ওয়াকিং দ্য এক্সট্রা মাইল!

স্ম্রুতি পট্টনায়ক বলছিলেন, যেমন মনে রাখতে তিস্তা প্রকল্প বা তিস্তা মহাপরিকল্পনার ক্ষেত্রে প্রথম প্রস্তাবটা এসেছিল চীনের কাছ থেকে। ঢাকায় তাদের রাষ্ট্রদূত সে দেশে নির্বাচনের আগে তিস্তা ব্যারাজে সরেজমিনে সফর পর্যন্ত করেছিলেন, প্রকাশ্যে আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন।

এখন সহজবোধ্য কারণেই ভারত চায় না সীমান্তের এত কাছে স্পর্শকাতর এলাকায় একটি প্রকল্পে চীন যুক্ত থাকুক। এই যে ভারত নিজে থেকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে, এর পেছনে চীন ফ্যাক্টরের একটা বড় ভূমিকা আছে।

এখন চীনকে কিস্তিমাত করে ভারত যদি এই প্রকল্প নিজেরাই করতে চায়, তাহলে ঢাকার কাছে দিল্লির অফারটাও কিন্তু বেইজিংয়ের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হতে হবে, মন্তব্য করছেন তিনি।

এখন কিভাবে দিল্লি তুলনায় বেশি আকর্ষণীয় প্রস্তাব পেশ করবে, তারও সম্ভাব্য নানা রাস্তা আছে।

যেমন ধরুন চীন হয়তো সফট লোন বা সহজ শর্তের ঋণে এই প্রকল্পে অর্থ লগ্নি করতে চাইবে। তবে অতীতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তেই দেখা গেছে, চীনের এই তথাকথিত সহজ ঋণ নেওয়ার পরিণাম বহু দেশের জন্যই সুখের হয়নি।

সেই জায়গায় ভারত যদি প্রকল্পে তাদের অর্থায়নের একটা বড় অংশ, ধরা যাক ১০ থেকে ২০ শতাংশ গ্রান্ট বা অনুদানে কনভার্ট করে দিতে পারে, সেটা অর্থনৈতিক সঙ্কটে ভোগা বাংলাদেশের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে।

কারণ তাদের সেই পরিমাণটা কখনো পরিশোধ করতে হবে না, বিবিসিকে বলছিলেন স্ম্রুতি পট্টনায়ক।

ফলে ভারতে বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকদের একটা বড় অংশই বিশ্বাস করেন, ভারতকে রেল ট্রানজিট পেতে হলে কিংবা চুক্তি না করেও তিস্তা প্রকল্পে অংশীদার হতে হলে বড়সড় বেশ কিছু ছাড় দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

আর দিল্লিতে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি-নির্ধারকরা মনে করেন, ঢাকার ক্ষমতায় থাকা বন্ধুপ্রতিম শেখ হাসিনা সরকার অবশ্যই তাদের প্রতিশ্রুতি রাখবেন এবং সমঝোতা স্মারকগুলো বাস্তবায়ন করে দেখাবেন।


আরও খবর
মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪