আজঃ মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২
শিরোনাম

পশুর যেসব সমস্যা থাকলে কোরবানি হবে না

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৪ জুন ২০২২ | ৪২০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোরবানি দিবেন মুসলমানরা। তবে কোরবানি দেবার কিছু নিয়ম আছে। চাইলেই যে কোনো পশু বা যে কোনো বয়সের পশু কোরবানি দেয়া যায় না।

জিলহজ মাসের দশম দিন ঈদের নামাজ পড়ার পর থেকে জিলহজের বারো তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত কোরবানি করা যাবে। তবে ঈদের নামাজের পূর্বে কোরবানি করা যাবে না। ঈদের নামাজ পড়ে এসে কোরবানি করতে হবে।

কোরবানির জন্তু—উট, গরু, মহিষ, দুম্বা, ভেড়া ও ছাগল দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ। অন্য জন্তু দ্বারা কোরবানি নাজায়েজ। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে এক বছর পূর্ণ হতে হবে, গরু-মহিষ দুই বছর পূর্ণ হতে হবে, উট পাঁচ বছর পূর্ণ হতে হবে। (হিদায়া, খ-৪, পৃ. ১০৩)

কোরবানির পশু হতে হবে দোষ-ত্রুটিমুক্ত। পশুর মধ্যে যেসব ত্রুটি থাকলে কোরবানি দেওয়া যাবে না  সেগুলো হলো

১. দৃষ্টিশক্তি না থাকা।

২. শ্রবণশক্তি না থাকা।

৩. অত্যন্ত দুর্বল, জীর্ণশীর্ণ হওয়া।

৪. এই পরিমাণ লেংড়া যে জবাই করার স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে অক্ষম।

৫. লেজের বেশির ভাগ কাটা।

৬. জন্মগতভাবে কান না থাকা।

৭. কানের বেশির ভাগ কাটা।

৮. গোড়াসহ শিং উপড়ে যাওয়া।

৯. পাগল হওয়ার কারণে ঘাস-পানি ঠিকমতো না খাওয়া ।

১০.  বেশির ভাগ দাঁত না থাকা।

১১. রোগের কারণে স্তনের দুধ শুকিয়ে যাওয়া।

১২. ছাগলের দুটি দুধের যেকোনো একটি কাটা।

১৩. গরু বা মহিষের চারটি দুধের যেকোনো দুটি কাটা।

মোটকথা, কোরবানির পশু বড় ধরনের দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত হবে। হাদিসে এসেছে, চার ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি হবে না। অন্ধ, যার অন্ধত্ব স্পষ্ট; রোগাক্রান্ত, যার রোগ স্পষ্ট; পঙ্গু, যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট ও আহত, যার কোনো অঙ্গ ভেঙে গেছে।’ ( ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১৪৪)


আরও খবর



টানা চার বছর চাল উৎপাদনে তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ

প্রকাশিত:রবিবার ১২ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১২ জুন ২০২২ | ৪০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

এবারও চাল উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে টানা চার বছর বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছে। বাংলাদেশে চলতি বছর ৩ কোটি ৮৪ লাখ টন চাল উৎপাদন হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। এফএও প্রকাশিত গ্লোবাল ফুড আউটলুক-জুন ২০২২’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর উৎপাদনে শীর্ষে থাকবে চীন। আর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে প্রতিবেশী দেশ ভারত। আর বিশ্বের বিখ্যাত ইন্দোনেশিয়ার থাকবে বাংলাদেশের পরে, চতুর্থ অবস্থানে।

এফএও’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা কয়েকটি দুর্যোগ মোকাবিলা করেও বাংলাদেশ ২০১৯ সালে ৩ কোটি ৬৫ লাখ টন চাল উৎপাদন করে। ওই বছর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চাল উৎপাদনে ইন্দোনেশিয়াকে টপকে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে। ২০২০ সালে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বাংলাদেশ আবারও তৃতীয় স্থানে থাকে। উৎপাদিত হয় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টন চাল। ২০২১ সালেও বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থান ধরে রাখে। সে বছর বাংলাদেশে চাল উৎপাদন বাড়ে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টন। চলতি বছর উৎপাদন ৬ লাখ টন বাড়ে ৩ কোটি ৮৪ লাখ টনে দাঁড়াবে। এ হিসেবে গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশে চাল উৎপাদন ১ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়বে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের মতো দ্রুত উৎপাদন বাড়িয়ে আবারও তৃতীয় স্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। এ বছর তাদের মোট উৎপাদন দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৩ কোটি ৫২ লাখ টনে দাঁড়াবে। চীন ১৪ কোটি ৬১ লাখ ও ভারত ১২ কোটি ৭৪ লাখ টন চাল উৎপাদন করে এক ও দুই নম্বর অবস্থানে থাকবে বলে প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর চীন, ভারত, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ায় চালের উৎপাদন বাড়বে।

নিউজ ট্যাগ: চাল উৎপাদন

আরও খবর



যৌন ক্ষমতা হারানোর দাবি করে কবিরাজকে হত্যা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০২ জুন 2০২2 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০২ জুন 2০২2 | ৪৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে কবিরাজ বাবার চিকিৎসায় যৌন ক্ষমতা হারানোর দাবি করে গোলাম হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেন তার ছেলে। চার বছরের দীর্ঘ তদন্ত শেষে অবশেষে ক্লুলেসহত্যা মামলাটির রহস্য উদ্‌ঘাটন করে খুনিকে গ্রেপ্তার করে স্বীকারোক্তি আদায় করেছে জেলা অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) লালমনিরহাট জেলার সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। অভিযুক্ত ওই ছেলের নাম জাহাঙ্গীর আলম। তিনি নিহত গোলাম হোসেনের দ্বিতীয় ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা (সিআইডির) অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইসমাইল বলেন, ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই কালিগঞ্জের অচিনতলা এলাকায় গভীর রাতে নিজ শয়নকক্ষে খুন হন গোলাম হোসেন। ঘুমন্ত অবস্থায় তার গলায়, কাঁধে, ঘাড়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার বড় ছেলের দায়ের করা মামলায় তদন্ত কাজ শুরু করলেও কোন রহস্য খুঁজে পাওয়া যায় না। দীর্ঘ চার বছরে ছয়জন তদন্তকারী কর্মকর্তা ক্লুলেস মামলাটির রহস্য উদঘাটন করে।

অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আরও জানান, এই বছরের মার্চে এই মামলার ৭ম তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন সিআইডির উপ-পরিদর্শক (এসআই) জায়েদুল ইসলাম জাহিদ। তিনি এই মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গোলাম হোসেনের দ্বিতীয় ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে ১০ এপ্রিল আটক করে আদালতে সাত দিনের রিমাণ্ড আবেদন করেন। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে সুকৌশলে জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর তারা বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

আটক জাহাঙ্গীরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তার বাবা ২০০৯ সালের দিকে কবিরাজি চিকিৎসায় তার যৌন ক্ষমতা নষ্ট করে দেন। পরের বছর বিয়ের প্রথম দিনই তিনি বুঝতে পারেন তার যৌন ক্ষমতা নাই। সেই থেকে স্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে জাহাঙ্গীরের মনোমালিন্য শুরু হয়। দীর্ঘ আট বছরের সংসার জীবনে অক্ষমতা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কলহ, বিরোধ লেগে থাকলে বাবার প্রতি তার ক্ষোভ তৈরি হতে থাকে।

এক পর্যায়ে বাবাকে হত্যা করলে যৌন ক্ষমতা ফিরে পাবেন মনে করে পরিকল্পনা করতে থাকেন। ঘটনার দিন স্ত্রী ঢাকায় গার্মেন্টসে থাকায় আনা দা এনে তার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে বাড়ির পাশে গর্ত করে মরদেহ লুকিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করলেও বাবার চিৎকারে বড় ভাই ও ভাবি এগিয়ে আসলে তিনি আর মরদেহ লুকাতে পারেননি। পরে সেখানেই গোলাম হোসেনের মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে আদালতে জাহাঙ্গীর আলম ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এসময় জেলা সিআইডির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর
লালমনিরহাটে ১২ গ্রাম প্লাবিত

বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২




হজ-ওমরাহ সর্বোত্তম ইবাদাত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০২ জুন 2০২2 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০২ জুন 2০২2 | ৪৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মুসলিম উম্মাহর সর্বোত্তম ইবাদাত হজ ও ওমরাহ। ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে যারা আর্থিক ও শারীরিকভাবে সমর্থ্যবান; হজ তাদের জন্য জীবনে একবার পালন ফরজ ইবাদত। তবে তা ফরজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আদায় করাই উত্তম। এটি ইসলাম ধর্মের পঞ্চম স্তম্ভ। বছরের নির্ধারিত একটি সময়ে তা আদায় করতে হয়। কিন্তু ওমরাহ পালন ব্যতিক্রম। যে কেউ যে কোনো সময় ওমরাহ পালন করতে পারেন।

হজের নির্ধারিত তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। জুলাই ২০২২-এর প্রথম দশকের যে কোনো একদিন ১৪৪৩ হিজরির হজ অনুষ্ঠিত হবে। সে হিসেবে আর বেশি দিন বাকি নেই। হজ ও ওমরাহ ইসলামের সর্বোত্তম ইবাদতগুলোর মধ্যে অন্যতম। হজ ও ওমরাহ পালনে মহান আল্লাহ বান্দার গুনাহ ক্ষমা করেন, সওয়াব দান করেন এবং দারিদ্রতা থেকে মুক্তি দেন।

হজের জন্য নির্ধরিত সময় হলো- হিজরি বছরের জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ। মুসলিম উম্মাহকে হজ পালনের জন্য দুনিয়ায় নিরাপত্তার নগরীখ্যাত পবিত্র মক্কায় অবস্থিত বাইতুল্লাহ তাওয়াফ এবং মক্কার নিকটবর্তী মিনা, আরাফা, মুযদালফার বিভিন্ন স্থানে গমন, অবস্থান ও তথায় নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করতে হয়। হজ যেহেতু সামর্থ্যবানদের ওপর ফরজ; সে কারণে মহান আল্লাহর ঘোষণাও এমনই- তাতে রয়েছে স্পষ্ট নির্দশনসমূহ, মাকামে ইবরাহিম। আর যে তাতে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ হয়ে যাবে এবং সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য বাইতুল্লার হজ করা ফরজ। আর যে কুফরি করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয়ই সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ৯৭)

হজ কী?

হজ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ইচ্ছা করা বা সংকল্পবদ্ধ হওয়া। তবে ইসলামি বিধানে হজ বলতে বুঝায়- কাবা শরিফকে প্রদক্ষিণ করা। আর্থিক ও শারীরিক সক্ষমতা সম্পন্ন দুনিয়ার সব মুসলিমের জন্য হজ ফরজ ইবাদাত। হজের গুরুত্ব সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদিসে এসেছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ করে এবং অশ্লীল ও গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকে, সে হজ থেকে এমন অবস্থায় ফিরে আসে, যেন আজই মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছে। অর্থাৎ জন্মের পর শিশু যেমন নিষ্পাপ থাকে, সেও তদ্রুপই হয়ে যায়। (বুখারি)`

অন্য হাদিসে এসেছে, ‌শয়তান আরাফার (হজের) দিন থেকে বেশি লজ্জিত ও অপদস্থ আর কোনো দিন হয় না, কেননা ওই দিনই আল্লাহ তাআলা স্বীয় বান্দার প্রতি অগণিত রহমত বর্ষণ করেন ও অসংখ্য (মানুষের) কবিরা গুনাহ ক্ষমা করে দেন। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, একটি বিশুদ্ধ ও মকবুল হজ সমগ্র পৃথিবী ও পৃথিবীর যাবতীয় বস্তুর চেয়ে উত্তম। বেহেশত ছাড়া অন্য কোনো বস্তু তার প্রতিদান হতে পারে না।’

শারীরিক ও আথির্কভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের জন্য এখন থেকেই হজের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। হজ সম্পাদনের ফরজ, ওয়াজিব এবং সুন্নাত কাজগুলো যথাযথভাবে আদায় করার প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। যা হজে গমনেচ্ছুদের জন্য বিস্তারিতভাবে পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হবে।

মনে রাখতে হবে

হজ পালনের জন্য কোনো মুমিন যখন নিয়ত করে, তখন থেকেই সে আল্লাহর মেহমান হয়ে যায়। দুনিয়ার সব লোভ-লালসা থেকে নিজেকে মুক্ত হয়ে পরকালের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করে। এ বিষয়গুলোতে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। হজ আদায়ের মাধ্যমে নিজের সব পাপ থেকে মুক্ত হতে সে বদ্ধপরিকর। গুনাহ মাফের মাধ্যমে সে নিজেকে উন্নত ও পবিত্র চরিত্রে আলোকিত করে নেওয়ার দীপ্ত শপথ করে। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সর্বোত্তম ইবাদত হজ ও ওমরাহ যথাযথভাবে পালনের তাওফিক দান করুন। হজের আগেই হজের করণীয় কার্যক্রম সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে পালন করার প্রস্তুতি নেওয়ার তাওফিক দান করুন। হজের মাধ্যমে নিজেকে নিষ্পাপ হিসেবে তৈরি করার জন্য চূড়ান্তভাবে দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিউজ ট্যাগ: হজ ও ওমরাহ

আরও খবর



পদ্মা সেতু ঘিরেই সোনালী ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছেন গোপালগঞ্জবাসী

প্রকাশিত:বুধবার ২২ জুন 20২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২২ জুন 20২২ | ৫০০জন দেখেছেন

Image

গোপালগঞ্জ থেকে আশিক জামান

আর মাত্র বাকি কয়েকদিন। এর পরেই বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ টি জেলার মানুষের স্বপ্নের দিন। আগামী ২৫ শে জুন খুলে দেওয়া হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এতে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ২১ জেলার  মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

এই ২১ টি জেলার মধ্যে গোপালগঞ্জ অন্যতম। এ পদ্মাসেতু খুলে দেওয়ার সাথে সাথে এজেলার মানুষ আরো অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধশালী হবে। এ জেলার মানুষের ভাগ্য বদলে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে পদ্মা সেতু। এই সেতু ঘিরেই সোনালী ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছেন এই জেলার প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ। পদ্মা সেতু চালু হলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সঙ্গে এ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। পিছিয়ে পড়া এই জেলা ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরও মনোযোগ কাড়বে, গড়ে উঠবে এ জেলায় নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা। ফলে এ জেলার  অর্থনীতির চাকা ঘোরার পাশাপাশি বাড়বে বেকারদের কর্মসংস্থান। পদ্মা সেতু শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করবে না, এতে শিক্ষা  কৃষি, মৎস্য, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্প পর্যটনসহ বেশ কিছু খাতে অর্থনৈতিক উপযোগও সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি গড়ে উঠবে বিভিন্ন শিল্প কলকারখানা, ইপিজেড, বিমানবন্দর, গার্মেন্টস শিল্প ও কৃষিশিল্প।

কৃষি

গোপালগঞ্জ জেলাকে অর্থনৈতিক ভাবে সবচেয়ে সমৃদ্ধ করেছে কৃষিখাত। জেলার প্রায় দেড়লাখ হেক্টর জমিতে এজেলার কৃষকেরা নানান ফসল উৎপাদন করে। এরমধ্যে ব্যতিক্রম ফসল সবজি। পদ্মা সেতুর কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় কৃষকদের নিজস্ব ক্ষেতে ফলানো কৃষিপণ্য এ জেলার চাহিদা মিটিয়ে পৌঁছে যাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এতে কৃষকেরা তাদের ন্যায্যমূল্য পাবে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার রঘুনাথ পুর গ্রামের কৃষক আবদুল মতিন মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি প্রায় পঞ্চাশ বিঘা জমিতে বছরের ১২ মাস বিভিন্ন শাকসবজী চাষ করি। এ জেলা ছাড়া বাইরে বিক্রি করতে পারতাম না। তাই ন্যায্য মূল্যও পেতাম না। পদ্মা সেতু চালু হলে। রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। ফেরীঘাটের ভোগান্তি ছাড়াই সরাসরি সবজি নিয়ে সময় মতো ঢাকায় পৌঁছাতে পারবো। আমাদের কষ্ট করে ফলানো সবজীর ন্যায্য মূল্য পাবো।

স্বাস্থ্য

পদ্মা সেতু চালু হলে গোপালগঞ্জের স্বাস্থ্য খাতে বড় ভূমিকা রাখবে। পদ্মা সেতুর জন্য এ জেলায় রাজধানী ঢাকা থেকে কোন চিকিৎসক আসতেন না। রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার সময় ফেরীঘাটে সময় ব্যয় হওয়ার জন্য বেশির ভাগ রোগী ফেরি ঘাটে মারা যেতেন। পদ্মা সেতু চালু হলে এ জেলার মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই অল্পসময়ে ঢাকা পৌঁছাতে পারবে। নিতে পারবেন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা।

গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন ডাঃ নিয়াজ মাহমুদ  বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে রাজধানী ঢাকার সাথে গোপালগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে। পদ্মা সেতু না থাকায় ঢাকার অনেক বড় বড় চিকিৎসক আমাদের জেলায় আসতে চাইতেন না। পদ্মা সেতুর খুলে দেওয়ার পর চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন হবে। ভালো চিকিৎসক এ জেলায় এসে মানুষকে চিকিৎসা দিতে পারবে। অনেক সময় নদী পার হতে গিয়ে রোগী মারা যেত। জরুরি ওষুধ আনতে অনেক সময় লাগত। ওষুধের জন্য অনেক রোগী মারা যেত। পদ্মা সেতু চালু হলে ওষুধ, চিকিৎসকসহ আর কোন সমস্যা হবে না।

পর্যটন

পদ্মা সেতু চালু হলে গোপালগঞ্জে পর্যটন খাত অর্থনৈতিক ভাবে বড় ভূমিকা রাখবে। এ জেলায় রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থল। ইতিমধ্যে জাতির পিতার সমাধিস্থলকে ঘিরে তৈরী করা হয়েছে স্থাপত্য শৈলীর নানান নিদর্শন। আর চোখ জুড়ানো বিস্তৃর্ন সবুজের মাঠ। এ সমাধিস্থলকে ঘিরে সারা বছর পর্যটকদের ভিড় এমনিতে লেগে থাকে। পদ্মা সেতু চালু হলে গোপালগঞ্জের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটক আসবে। আরো বেশি পর্যটকদের সমাগম হবে। এতে এ জেলার পর্যটন শিল্পকে আরো বিকাশিত করবে।

এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও টুঙ্গিপাড়াকে নিয়ে বিশ্বমানের গবেষকেরা গবেষণায় আগ্রহী হবেন।

শিক্ষা

গোপালগঞ্জ জেলায় দুটি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পদ্মা সেতুর কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার জন্য আগ্রহী হবেন।

এবিষয়ে বশেমুরবিপ্রবির বিজিএমই বিভাগের সহকারী প্রভাষক ইমদাদুল হক সোহাগ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে একই সাথে জ্ঞান বিতরণ এবং জ্ঞান সৃষ্টির জায়গা। জ্ঞান সৃষ্টির জন্য প্রথমত যে জিনিসটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে বিশ্বমানের গবেষক দরকার। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার সাথে সাথে জাতির জনকের পূন্যভূমি গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বিশ্ব মানের গবেষকরা আরো আকৃষ্ট হবেন। সেই সাথে সাথে মেধাবী শিক্ষার্থীরাও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আকৃষ্ট হবেন।

শিল্প কলকারখানা

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ জেলায় বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবেন। এ জেলায় গড়ে উঠবে বিভিন্ন শিল্প কলকারখানা। এ জেলার বেকারত্বের কর্মসংস্থান হবে। ভাগ্যের পরিবর্তন আনবে এ জেলার বেকারদের।

কর্মসংস্থান

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ২১ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হবে এ জেলায়। পদ্মা সেতুকে ধিরে এ জেলায় তৈরি করা  বিশাল বিশাল সরকারি বেসরকারী স্থাপনার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ হচ্ছে বেসরকারি খাতে। সবগুলোই খুলে দেওয়া হবে পদ্মা সেতু চালু হলে। নির্মাণ করা হচ্ছে বেসরকারি শিল্প কলকারখানাও। যা এ জেলার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান বলেন, পদ্মা সেতুকে ঘিরে এ জেলায় বেশ কয়েকটি সরকারি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে। সবগুলো পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি শিল্প কলকারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কলকারখানা চালু হওয়ার পর এ জেলার বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। কমবে এ জেলার বেকারত্বের হার। এর পাশাপাশি এ জেলা শিল্পাঞ্চল জেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

এবিষয়ে জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন,পদ্মা সেতু চালু হলে গোপালগঞ্জ শুধু শিল্পাঞ্চলই নয় আধুনিক পর্যটন নগরীতে রুপ নিবে। এ জেলার মাটিতেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ সমাধিস্থলকে ঘিরে সারাবছর বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটক আসতে থাকে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এ জেলার অর্থনীতির চাকা সচল হবে। পদ্মা সেতুকে ঘিরে অপেক্ষামান যে সব নবনির্মিত যে সব সরকারি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠেছে সবকয়টিতে এ জেলার বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। এতে এ জেলার বেকারত্বের হার কমার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ভাবে এ জেলা স্বাবলম্বী হবে।


আরও খবর



পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা দরকার: হাইকোর্ট

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৭ জুন ২০২২ | ১৭০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পদ্মা সেতু আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ ধরনের জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করে, তারা জাতির শত্রু, তাদেরকে চিহ্নিত করা দরকার। সোমবার সকালে পদ্মাসেতু নির্মাণ চুক্তি নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে জারি করা রুলের শুনানিকালে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাই কোর্ট বেঞ্চ এসব মন্তব্য করেন।

হাই কোর্ট এসময় এই বলে প্রশ্ন রাখে যে, ষড়যন্ত্র না হলে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ হলো কিভাবে? সেই সঙ্গে মঙ্গলবার (২৮ জুন) এই রুলের ওপর আরও শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ঠিক করে দেয় হাই কোর্ট।

এর আগে ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পদ্মা সেতু নির্মাণ চুক্তি এবং দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিশন গঠন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং দোষীদের কেন বিচারের মুখোমুখি করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। যে রুলের জবাব দিতে বলা হয় মন্ত্রিপরিষদ, স্বরাষ্ট্র, আইন ও যোগাযোগ সচিব এবং দুদকের চেয়ারম্যানকে।


আরও খবর