আজঃ মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২
শিরোনাম

প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবীর সমান ভর গ্রাস করছে যে ব্ল্যাকহোল!

প্রকাশিত:রবিবার ১৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৯ জুন ২০২২ | ৩৫০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মহাবিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নতুন আবিষ্কৃত এই ব্ল্যাকহোলটি এতই দ্রুত বর্ধনশীল যে, এটি প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবীর সমান ভর গ্রাস করছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। জে-১১৪৪ নামের এই ব্ল্যাকহোলটি আবিষ্কার করেছেন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এএনইউ) একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী।  এএনইউ'র বিজ্ঞানীদের মতে, জে-১১৪৪ গত ৯০০ কোটি বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এবং এর ভর ৩০০ কোটি সূর্যের ভরের সমান।

গবেষক দলের আরেক সদস্য এএনইউর পিএইচডি গবেষক স্যামুয়েল লাই বলেন, এটি আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সির ব্ল্যাকহোলের চেয়ে ৫০০ গুণ বড়। এত বড় আকারের ব্ল্যাকহোলটি বিজ্ঞানীদের এ বিষয়ে আরও কৌতূহলী করে তুলেছে। কারণ প্রায় ১০০ কোটি বছর আগে, তুলনামূলক এই আকারের অন্য ব্ল্যাকহোলগুলোর এমন দ্রুত হারে বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো।

গবেষক দলের প্রধান ড. ক্রিস্টোফার ওনকেন এবং ওই দলের আরেক সদস্য এএনইউর সহকারী অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান ওলফের মতে, ব্ল্যাকহোলটির চারপাশে একটি গ্যাস বলয় বা কোয়াসার রয়েছে। এটি আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের সমস্ত আলোর চেয়ে সাত হাজার গুণ বেশি উজ্জ্বল। আর এই উজ্জ্বলতাই এটিকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে দৃশ্যমান করে তুলেছে। ওনকেন এবং ওলফ দুজনই এই ব্ল্যাকহোলটিকে খড়ের গাদায় সুঁই খুঁজে পাওয়ার মতো ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।

ওনকেনের মতে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এমন একটি ব্ল্যাকহোলের সন্ধান করছেন। এর আগে বিজ্ঞানীরা যেসব ব্ল্যাকহোলের সন্ধান পেয়েছেন সেগুলো খুবই অনুজ্জ্বল ছিল। কিন্তু তারা এই উজ্জ্বল ব্ল্যাকহোলটিকে পাশ কাটিয়ে গেছেন এবং এটি খুবই আশ্চর্যজনক। এখন আমরা এই ব্ল্যাকহোলের আলাদা বৈশিষ্ট্যের কারণ খুঁজছি। আমাদের ধারণা বিপর্যয়কর কিছু একটা ঘটেছে। সম্ভবত দুটি বড় গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ বিধ্বস্ত হয়ে একে অপরের সঙ্গে একীভূত হওয়ার ফলে এই বৃহৎ আকারের ব্ল্যাকহোলটির সৃষ্টি হয়েছে। আর গ্যালাক্সিদ্বয়ের বিস্ফোরণের ফলে ব্ল্যাকহোলের ওপর প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন উপাদান ছড়িয়ে পড়েছিল, যেগুলো পরে এটি গ্রাস করে নেয়। যেসব নক্ষত্রের ভর অনেক বেশি, জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার পর অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে নিজেদের ওপরই চুপসে যায় সেগুলো। আর তখনই ওইসব নক্ষত্র ব্ল্যাকহোলে পরিণত হয়। সাধারণত ব্ল্যাকহোলের ঘনত্ব হয় অনেক অনেক বেশি। এর ফলে আকারের তুলনায় এদের ভর হয় অবিশ্বাস্য!

ক্রিশ্চিয়ান ওলফের মতে, এই ব্ল্যাকহোলটি এমন একটি আউটলায়ার (প্রধান অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র অংশ) যা হয়তো ভবিষ্যতে আর পাওয়া যাবে না। সদ্য খুঁজে পাওয়া এই ব্ল্যাকহোলটি খুব অন্ধকার বাড়ির উঠোনে বসে একটি ভালো টেলিস্কোপের সাহায্যে যেকেউ সহজেই দেখতে পারবে। কারণ হোলটির ভিজ্যুয়াল ম্যাগনিটিউড (পৃথিবীর একজন পর্যবেক্ষকের কাছে মহাকাশের কোনো বস্তু কতটা উজ্জ্বল তা খুঁজে বের করার পরিমাপ) ১৪ দশমিক ৫।

নিউজ ট্যাগ: ব্ল্যাকহোল

আরও খবর



সাংবাদিক অপূর্বর ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার চায় বিডিজেএ

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৩ জুন ২০২২ | ৩২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সময় টেলিভিশনের বরিশাল ব্যুরো প্রধান অপূর্ব অপুর ওপর হামলা ও অপহরণচেষ্টার মামলায় এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি। এছাড়াও এই ঘটনায় দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (বিডিজেএ) ঢাকা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (বিডিজেএ) ঢাকা আয়োজিত প্রতিবাদী মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা এই প্রথম নয়। কিন্তু এর কোনো বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরো বেশি সাহস দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু এভাবে দিনের পর দিন চলতে পারে না। হামলা করে কোনো সাংবাদিকের কলম বন্ধ করা যায়নি, যাবেও না।

তারা বলেন, দিনেদুপুরে সাংবাদিক অপূর্ব অপুর ওপর হামলা হলো, তাকে অপহরণ করার চেষ্টা হয়েছে, অপরাধীদের চিহ্নিত করা হয়েছে কিন্তু  এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। আর সময়ক্ষেপণ করা যাবে না। দ্রুত দায়িদের গ্রেপ্তার করতে হবে।

সাংবাদিকরা বলেন, মফস্বলে সাংবাদিকরা অনেক ধরণের চাপ ও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। যদিও সাংবাদিকদের নির্বিঘ্নে কাজ করতে দেয়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।  কিন্তু দিনের পর দিন সাংবাদিকের সঙ্গে এমন হামলার ঘটনা মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর খারাপ নজির স্থাপন করে। এই ঘটনা দেশের ভাবমূর্তির নষ্ট করে। তাই সরকারকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংগঠনের সভাপতি তারিকুল ইসলাম মাসুমের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মাহবুব সৈকতের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সহ-সভাপতি মানিক লাল ঘোষ, সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুর রহমান জিহাদ, বিডিজের সহ-সভাপতি এমএম বাদশাহ, যুগ্ম সম্পাদক সানবির রুপল, ডিইউজের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়া, ডিইউজের নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য গোলাম মুজতবা দ্রুব, ডিআরইউর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জামাল, ডিআরইউর সাবেক দপ্তর নয়ন মুরাদ, ডিআরইউর দপ্তর সম্পাদক রফিক রাফি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাদিয়া শারমিন, কার্যউনির্বাহী কমিটির সদস্য সুশান্ত সাহা, মাহমুদুল হাসান, মো. আল আমিন, শিপিং রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি কাজী জেবেল, সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার ফোরামের নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল আহসান পিন্নু, ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্সের সাধারণ সম্পাদক রিশান নাসরুল্লাহ, টিসিএর সভাপতি মাহবুবুল আলম, রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাউছুল আজম বিপু, ডিফেন্স রিপোর্টার্স ফোরামের প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবলু প্রমুখ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিডিজেএর সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব জুয়েল, দপ্তর সম্পাদক ফাহিম মোনায়েম, কার্যনির্বাহীর সদস্য মিজানুর রহমান প্রমুখ।


আরও খবর



বাংলাদেশ পুলিশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২ | ৪৪০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ক্যাশিয়ার’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ০৭ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, বাংলাদেশ পুলিশ

পদের বিবরণ:

চাকরির ধরন: স্থায়ী

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

কর্মস্থল: ঢাকা

বয়স: ০১ জুন ২০২২ তারিখে ১৮-৩০ বছর। বিশেষ ক্ষেত্রে ৩২ বছর

আবেদনপত্র সংগ্রহ: আগ্রহীরা www.police.gov.bd অথবা iphq.police.gov.bd থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।

আবেদনের ঠিকানা: অ্যাডিশনাল ইন্সপেক্টর জেনারেল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, বাড়ি নং-০৩, রোড নং- ২১ (১৫), সেক্টর-০৪, উত্তরা, ঢাকা।

আবেদনের শেষ সময়: ০৭ জুলাই ২০২২

নিউজ ট্যাগ: চাকরির খবর

আরও খবর



জনগণের আশীর্বাদেই পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ০১ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ০১ জুন ২০২২ | ৪২০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে দেশের ভেতরের ও বাইরের অনেক চাপ ছিল। জনগণ ও তাদের আশীর্বাদ ছিল বলেই পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

বুধবার (১ জুন) শেরে বাংলা নগরে এনইসির সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান।

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়ে গেলো। সেতু বাস্তবায়নে নানা স্ট্রাগল ও চাপের বিষয়ে একনেক সভায় খোলামেলা আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, জনগণ পাশে ছিল ও তাদের আশীর্বাদ ছিল বলেই পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন হয়েছে। দেশের ভেতরের-বাইরের অনেক প্রতিকূলতা ছিল বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বিষয় আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন।

এম এ মান্নান প্রধানমন্ত্রীর কথা উল্লেখ করে বলেন, সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা কাজটা করতে পেরেছি। এটা নিয়ে তিনি আনন্দে আপ্লুত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর অনেক বড় বড় অর্জন আছে। তবে পদ্মা সেতু একটি অন্যতম অর্জন।

প্রতিটি স্থলবন্দর আরও উন্নত করতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক স্থাপনা ও সিস্টেম বসাতে হবে। গ্রামীণ সড়ক বাস্তবায়নের দিকে নজর দিতে হবে। নতুন সড়ক বানানো প্রয়োজন। তবে বিদ্যমান সড়ক আগে সংস্কার করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ বিল বাকি থাকলে তা সবাইকে পরিশোধ করতে হবে। পাওনা না দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিতে হবে। বিদ্যুৎ বিল সরকারি-বেসরকারি সবাইকে দিতে হবে। সবাইকে অবশ্যই পে করতে হবে।


আরও খবর



শহরে পরিণত হচ্ছে ১৭ গ্রাম

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ৩১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ৩১ মে ২০২২ | ৪০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে গ্রামেই শহরের সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করতে যাচ্ছে সরকার। গ্রামেই গড়ে উঠবে শহরের মতো দৃষ্টিনন্দন ঘরবাড়ি। পাড়া-মহল্লায় থাকবে পাকা রাস্তা ও ক্ষেত্রবিশেষে দৃষ্টিনন্দন কালভার্ট-সেতু। প্রতিটি বাড়িতে থাকবে পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্যানিটেশন সুবিধা। গ্রামগুলোতে থাকবে স্কুল, শপিং মল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, হাটবাজার, কমিউনিটি স্পেস বা বিনোদন ব্যবস্থা। রাস্তায় থাকবে রোড লাইটের ঝলমলে আলো। বিভিন্ন কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। মোটকথা গ্রামেই মিলবে শহরের নাগরিক সুবিধা। প্রথম দফায় উল্লিখিত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে দেশের ১৭টি গ্রামকে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় একটি করে মোট ৩০০টি গ্রামকে পরীক্ষামূলকভাবে শহরে পরিণত করা হবে। সম্প্রতি আমার গ্রাম-আমার শহর : প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ এর লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির সভায় উল্লিখিত সিদ্ধান্ত হয়।

শহরের মতো গ্রামকেও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমার গ্রাম-আমার শহর কনসেপ্ট বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। এ কারণে শহরের মতো গ্রামকেও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হবে। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি গ্রামকে পরীক্ষামূলকভাবে শহরের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে গড়ে তোলা হবে। এটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে এমন গ্রামের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

প্রথম দফায় দেশের ১৭টি গ্রামকে পাইলট গ্রাম হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভাগভিত্তিক গ্রামগুলো হলো- নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চালাকচরের হাফিজপুর গ্রাম, কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের বিপুলশারের শেকচাইল গ্রাম, রাজশাহীর বাঘমারার সোনাডাঙ্গা গ্রাম, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খুরনিয়ার টিপনা গ্রাম, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি গ্রাম, বরিশালের হিজলা উপজেলার মেমানিয়ার ইন্দুরিয়া গ্রাম, সিলেটের গোয়াইনঘাটের রুস্তমপুরের বাগাইয়া গ্রাম এবং নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার শাহাতার ডেমুরা গ্রাম। বিশেষ অঞ্চল হিসেবে মনোনীত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে-সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জের শিমুলবাক গ্রাম, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি গ্রাম, নওগাঁর নিয়ামতপুরের শ্রীমন্তপুরের দরগাপাড়া গ্রাম, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনীর দাতিনাখালী গ্রাম, রাঙামাটির বরকলের ছোট হরিণা গ্রাম, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড়ের বিলচান্দা গ্রাম এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ইছাখালির চরশরত গ্রাম। এ ছাড়া দ্বীপের পর্যটন সম্ভাবনাময় বিশেষ দুটি গ্রাম হলো ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরি-মুকরি এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ। ওই সভায় প্রকল্প পরিচালক আবুল মনজুর মো. সাদেক বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে পাঠাগার, ক্রীড়া ও বিনোদন সুবিধা নিশ্চিতে প্রতিটি উপজেলায় যুব বিনোদন কেন্দ্র ও যুব স্পোর্টস কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত রয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় অডিটোরিয়াম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মডেল মসজিদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ট্রেনিং সেন্টার কাম অফিস ভবন নির্মাণ এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপজেলা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং গণগ্রন্থাগার ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব অবকাঠামো নির্মাণে ইতোমধ্যে জমির সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাঠাগার, ক্রীড়া ও বিনোদন সুবিধা সম্প্রসারণের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণে সমন্বয় সাধন করা হলে উন্নত বিশ্বের আদলে একই স্থান থেকে বিনোদন সেবা নিশ্চিতসহ ভূমির সংকট নিরসনসহ সরকারি অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী সভায় জানান, তার অধিদফতরের আওতায় বর্তমানে ১০১টি প্রকল্প চালু রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন কারণে প্রায় অর্ধেক প্রকল্পের সংশোধন প্রয়োজন হচ্ছে। এ প্রকল্প সংশোধনের সময়, কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের সমীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলের আলোকে আমার গ্রাম-আমার শহর অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপাদানসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এভাবে আমার গ্রাম আমার শহর নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সংসদীয় ৩০০টি আসন থেকে ৩০০টি গ্রামকে পাইলট গ্রাম কিংবা আরও বেশি গ্রামকে শহরের মতো উন্নয়ন করা যেতে পারে। এতে তুলনামূলকভাবে অর্থ সাশ্রয় ও দ্রুততার সঙ্গে অনেক গ্রাম উন্নয়ন সম্ভব হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আগামী ৫ বছরে দেড় লাখ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যয়ের প্রায় ১৭ শতাংশ টাকা বিদেশি দাতা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া যাবে। প্রকল্পের প্রস্তাবনায় গ্রাম ও নগরের মধ্যে বৈষম্য কমাতে ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, গ্রামে উন্নত রাস্তাঘাট, সুপেয় পানি, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা ও ভোগ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করতে হলে ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। গ্রামকে আধুনিক শহরের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন সেবা ও সরবরাহ সংশ্লিষ্ট আইনে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে।


আরও খবর



নেইমারের গোলে ব্রাজিলের জয়

প্রকাশিত:সোমবার ০৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৬ জুন ২০২২ | ৪০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দুই এশিয়ান পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানকে ধরাশায়ী করে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিটা ভালোই সারল ব্রাজিল। দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর সোমবার জাপানকে তাদের মাঠেই হারিয়েছে সেলেসাওরা।

জাপানের বিপক্ষে জয়টা অবশ্য সহজে ধরা দেয়নি লাতিন আমেরিকান জায়ান্টদের কাছে। দুর্ভাগ্য, বাজে ফিনিশিং আর জাপানিজ রক্ষণের দৃঢ়তায় ম্যাচের জয়সূচক গোলটির জন্য ৭৭ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় ব্রাজিলকে। তবে শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি থেকে নেইমারের লক্ষ্যভেদে ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে তিতের দল।

জাপানের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিকদের চাপে রাখে ব্রাজিল। দ্বিতীয় মিনিটেই পোস্টে লেগে ফেরে রাফিনহার শট, ১৮ মিনিটেও আরেকটি দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে জাপানিজ গোলরক্ষককে প্রায় ফাঁকায় পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন।

মুহুর্মুহু আক্রমণে জাপানের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষককে তটস্থ রাখে ব্রাজিল, কিন্তু গোল ধরা দিচ্ছিল না। ২৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেইমারের ডান পায়ের অসাধারণ বাঁকানো শট দারুণ দৃঢ়তায় বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন স্বাগতিক গোলরক্ষক সুইশি গোনদা। ৪০ মিনিটে রাফিনহার ফ্রি-কিক অল্পের জন্য বাঁ দিকের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।

অবশেষে দ্বিতীয়ার্ধে ৭৭ মিনিটে পরম আরাধ্য গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। বক্সের ভেতর রিচার্লিসনকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন জাপানিজ ওয়াতারু এনদ। ইরানি রেফারি আলিরেজা ফাঘানি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিতে একেবারেই সময় নেননি। স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় জাপানি গোলরক্ষক সুইশিকে ভুল দিকে পাঠিয়ে জয়সূচক গোলটি করেন নেইমার।

এই নিয়ে দুই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে ৩ গোল করলেন নেইমার। গত ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেও স্পট কিক থেকে দুইবার বল জালে জড়িয়েছিলেন তিনি। এই জয়ে জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের অপরাজিত থাকার রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রইল। ১৩ ম্যাচ খেলে এশিয়ার দেশটির বিপক্ষে এটি ব্রাজিলের ১১তম জয়, অপর দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অন্যদিকে ৯ ম্যাচ পর হারের মুখ দেখল জাপান। নিজেদের আগের প্রীতি ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল তারা।

নিউজ ট্যাগ: ব্রাজিলের জয়

আরও খবর