আজঃ বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

প্রার্থিতা ফিরে পেতে ইসিতে আরও ৯৩ জনের আপিল

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আরও ৯৩ জন আপিল আবেদন করেছেন। আজ শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন চত্বরে তারা এ আপিল আবেদন করেন।

ইসি কর্মকর্তারা বলেন, প্রথম দিন ৪২, দ্বিতীয় দিন ১৪১, তৃতীয় দিন ১৫৫ এবং আজ চতুর্থ দিন ৯৩ জন আপিল আবেদন করেছেন। চার দিনে মোট ৪৩১ জন প্রার্থী ইসিতে আপিল আবেদন করেছেন। এরমধ্যে বেশ কিছু বৈধ প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের আবেদনও রয়েছে।

আরও পড়ুন>> সংসদ নির্বাচন দেখতে আগ্রহী ১৭৯ বিদেশি পর্যবেক্ষক

ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর। ১ ডিসেম্বর থেকে বাছাই শুরু হয়, শেষ হয় ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ও শুনানি ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১৮ ডিসেম্বর।


আরও খবর
ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি

বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪




পদ্মা সেতুর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আনুষঙ্গিক সব কাজ শেষ হয়েছে গত ৩০ জুন। ফলে এর আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘোষণা করতে অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার (৫ জুলাই) দুপুর ৩টা ৫৩ মিনিটে সেতু বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠানস্থলের মঞ্চে উঠেন তিনি। সে উপলক্ষে একটি সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সেতু বিভাগ। সেই অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পদ্মা সেতুর উত্তর থানা সংলগ্ন মাঠে এই সমাপনী অনুষ্ঠান ও সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এই একই মাঠে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ও রেল সংযোগ প্রকল্পের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

এর আগে বিকেল ৩টা থেকে আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন।

জানা গেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি উপলক্ষে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষ। বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথি ছাড়াও থাকবেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে বরণে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা আর সর্বাত্মক প্রস্তুতি থাকার কথা জানিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবু জাফর রিপন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ৫ জুলাই বিকেলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের মাওয়া এলাকায় আসার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। মূলত পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজের মেয়াদ সমাপ্তি উদযাপনে প্রধানমন্ত্রী আসবেন। বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিসহ যারা এই সেতুর কাজে বিভিন্ন সময় অংশ নিয়েছেন, তাদের নিয়ে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সংশ্লিষ্টদের কথা শোনার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন ও সব দপ্তরের অংশগ্রহণে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাওয়ায় প্রথম পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। এরপর নানা প্রতিবন্ধকতায় আর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা শেষে যাত্রা শুরু হয় দেশের আলোচিত প্রকল্পটির মূল কাজ। যার সবশেষ মোট বরাদ্দ ছিল ৩২ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা।


আরও খবর
ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি

বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪




রাত ১টার মধ্যে সাত জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস

প্রকাশিত:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

দেশের ৭ জেলায় রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সে সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (১২ জুলাই) রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে রাত ১টার মধ্যে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, শুক্রবার সকাল থেকে দেশের আটটি স্টেশনে অতি ভারি ও আটটি স্টেশনে ভারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে, ৩০৯ মিলিমিটার।

তিনি জানান, আগামীকাল শনিবারের (১৩ জুলাই) পর থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাবে। আর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমলে দিনের তাপমাত্রাও কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।

এদিকে ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টিতে বেড়েছে মানুষের ভোগান্তি। বিভিন্ন সড়কে কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান পানি জমে গেছে, যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আর এতে বিভিন্ন কাজে বাইরে বের হওয়া মানুষও পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।


আরও খবর



নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়ন পদ্ধতির চূড়ান্ত অনুমোদন

প্রকাশিত:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

নতুন শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির মূল্যায়ন কাঠামো চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)। এ পদ্ধতি অনুসরণ করে এখন থেকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন করা হবে। তাছাড়া দশম শ্রেণি শেষে যে পাবলিক পরীক্ষা (এসএসসি) হবে, তাতেও এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে।

সোমবার (১ জুলাই) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এনসিসিসির বৈঠকে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে এতে কিছু সংশোধনী আনার পরামর্শ দিয়েছে কমিটির সদস্যরা। সংশোধনীগুলো যুক্ত হলেই তাতে সই করবেন এনসিসিসির সদস্যরা।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এনসিটিবি খসড়া একটি মূল্যায়ন কাঠামো প্রস্তুত করে এনসিসিসির সভায় উপস্থাপন করেছিলে। খসড়া কাঠামোটা মোটামুটি সবই ঠিক আছে। কিছু জায়গায় ছোট ছোট সংশোধনী আছে। সেগুলো খুব দ্রুত আমরা সংশোধন করে এনসিসিসির আরেকটি সভায় অবগত করবো।

অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান বলেন, আজকের সভায় প্রস্তাবিত মূল্যায়ন কাঠামো, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন ও পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ লিখিত এবং ৩৫ শতাংশ কার্যক্রমভিত্তিক থাকছে। এসএসসি পরীক্ষায় দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও পরের শ্রেণিতে উত্তরণের বিষয়টিও থাকছে।

জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা-২০২১ অনুযায়ী- ২০২৩ সালে প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। চলতি বছর দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হয়েছে। ২০২৫ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে, ২০২৬ সালে একাদশ এবং ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণিতে এ প্রক্রিয়া চালু হবে।

২০২২ সাল থেকে নতুন এ শিক্ষাক্রমের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে এনসিটিবি। প্রচলিত নম্বর ও গ্রেডিং পদ্ধতি বাতিল করে প্রথমে ত্রিভুজ, বৃত্ত, চতুর্ভুজ দিয়ে শিক্ষার্থীর দক্ষতা মূল্যায়ন শুরু হয়। তীব্র সমালোচনার মুখে তা থেকে পিছু হটে সরকার। শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেন মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। গঠন করেন উচ্চপর্যায়ের কমিটিও।

সেই কমিটির মতামতের ভিত্তিতে বিভিন্নপর্যায়ে মূল্যায়নের খসড়া চূড়ান্ত করে এনসিটিবি। পরে সেটি অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এখন মন্ত্রণালয় মূল্যায়ন পদ্ধতি জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় উপস্থাপন করবে। সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন হলে সেটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে। তবে দুইমাস ধরে মূল্যায়ন পদ্ধতির খসড়া মন্ত্রণালয়ে আটকা ছিল। অবশেষে তাতে অনুমোদন দিলো এনসিসিসি।


আরও খবর
যে কারণে চাকরি ছাড়লেন জাবি শিক্ষক

বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪




কোটা ও পেনশনের আন্দোলনে ঢুকেছে বিএনপি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলন এবং শিক্ষকদের সর্বজনীন পেনশন আন্দোলনে ঢুকেছে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) দুপুরে প্রেসক্লাবে আয়োজিত ভারসাম্যের পররাষ্ট্রনীতি ও বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নিজেদের আন্দোলন করার কোনো ক্ষমতা নাই। যাদের কোনো কিছু করার থাকে না, তারা হয় পরজীবী। বিএনপি এখন একটা পরজীবী রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা কোটার ব্যাপারে আন্দোলন করছে, বিএনপি ওখানে ঢুকেছে। শিক্ষকরা পেনশন নিয়ে আন্দোলন করছে, বিএনপি ওখানে ঢুকেছে।

তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন প্রচণ্ড অস্থিরতা। তারা এখন তারেক আতঙ্কে আছে। কখন কার পদবি চলে যায় সেই ভয়ে তারা! অনেকে এটাকে তারেক ভূত বলছে। বিএনপিতে এখন তারেক ভূত।

কোটার সমাধান আদালতের মাধ্যমেই করতে হবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের সরকার কোটা ব্যবস্থা বাতিল করেছিল। সেই কোটা ব্যবস্থা সরকার পুনর্বহাল করেনি, আদালত রায় দিয়েছে। আদালত বাংলাদেশে স্বাধীন, সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছে। আন্দোলনটা নিশ্চয়ই আদালতের বিরুদ্ধে হচ্ছে? কারণ সরকার তো বাতিল করেনি! সমাধান আদালতের মাধ্যমেই করতে হবে, অন্যথায় আদালত অবমাননা হবে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।

হাছান মাহমুদ আরো বলেন, এখানে যারা তাল দিচ্ছেন, যারা এখানে ঢুকে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন, তাদের সেই প্রচেষ্টা সফল হবে না।

নিজেও শিক্ষক ছিলেন বলে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের প্রতি সহানুভূতি আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সার্বজনীন পেনশন একটি চমৎকার ব্যবস্থা। এর আওতায় দিনমজুরও আসবে। এখন সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়িত্বশাসিত তারা আসছে। স্বল্প আয়ের মানুষদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। প্রবাসীরাও এই পেনশনের আওতায় আসবে।

মন্ত্রী বলেন, এখন হয়তো বুঝার ঘাটতি হচ্ছে বলে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আজকে শিক্ষকরা বসবেন, সেখানে একটা সমাধান হবে।


আরও খবর
বিএনপির নেতা এ্যানি আটক

বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪




নিঃসন্তান দম্পতিরা অসহায়, সেবা নিতে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকে

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

Image

বন্ধ্যত্বের সমস্যার সম্মুখীন নিঃসন্তান দম্পতিদের জন্য সর্বাধুনিক চিকিৎসা হলো-ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফ পদ্ধতি। দেশে দুই যুগের বেশি আগে এই চিকিৎসা চালু হলেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিধি বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য বিভাগ একরকম হাতগুটিয়েই বসে আছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে এর উপযুক্ত চিকিৎসাব্যবস্থা না থাকায় সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন দেশের অসংখ্য অসহায় নিঃসন্তান দম্পতি। কোনো উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে তারা বেসরকারি হাসপাতাল ও বিদেশের হাসপাতালের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এভাবে ব্যয়বহুল এই সেবা নিতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সন্তান ধারণের চেষ্টার পর টানা এক বছর কেউ সফল হতে না পারলে তাকে ইনফার্টাইল বা সন্তান ধারণে অক্ষম হিসাবে গণ্য করা হয়। নিঃসন্তান দম্পতিদের মধ্যে ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্ত্রী ও একই সংখ্যক স্বামীদের শারীরিক নানা সমস্যা থাকে। ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে দুজনেরই সমস্যা থাকে। বাকি ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে সমস্যা অজানাই রয়ে যায়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) আর্থসামাজিক ও জনমিতি জরিপ ২০২৩ অনুযায়ী দেশের ৬৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী বিবাহিত। বিশেষজ্ঞদের অনুমিত হিসাব অনুযায়ী বিবাহিতদের মধ্যে বর্তমানে বন্ধ্যত্বের হার ২০ শতাংশের উপরে। যদিও নিঃসন্তান দম্পতিদের সঠিক পরিসংখ্যান নেই। দিন যত যাচ্ছে এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দেশে ৩৭টি সরকারি ও ৬৭টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়াও প্রায় ছয় হাজার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। যেখানে প্রজনন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত চিকিৎসাব্যবস্থা কমবেশি থাকলেও নিঃসন্তান দম্পতিদের জন্য আইভিএফ চিকিৎসাসেবা একেবারেই অপ্রতুল। শুধুমাত্র রাজধানীর কয়েকটি বড় বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে ইনফার্টিলিটি বিভাগ রয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে ৪০ জনের মতো বিশেষজ্ঞ আছেন। এশিয়া ইনিশিয়েটিভ প্যাসিফিক অন রিপ্রোডাকশনের তথ্য বলছে, চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল চিকিৎসাব্যবস্থা, সীমাহীন ভোগান্তি আর আস্থার সংকটে ভুক্তভোগীরা বিদেশে ছুটছেন। সেখানে ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি টাকা খরচ করছেন। এতে সহজেই চলে যাচ্ছে দেশের অর্থ। জানা গেছে, দেশে বেসরকারি সেন্টারভেদে আইভিএফ চিকিৎসা নিতে খরচ হয় গড়ে সাড়ে ছয় লাখ টাকা। কিন্তু এ পদ্ধতিতে যাওয়ার আগেই ভুল পথে হেঁটে নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়ে একেক দম্পতির দুই লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়ে যায়। সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল ও আনুষঙ্গিক সুযোগ সুবিধা না থাকায় ব্যয় অপেক্ষাকৃত কম হলেও সফলতার হার কম। দেশে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা সাধারণত তিন ধাপে দেওয়া হয়। প্রথমত; মেডিকেশন বা প্রাইমারি, এ ধাপে হরমোনাল ইনজেকশন ও ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে গর্ভধারণের চেষ্টা করা হয়। দ্বিতীয় ধাপ হলো-ইন্ট্রা ইউটেরাইন ইনসেমিনেশন (আইইউআই), এ প্রক্রিয়ায় ল্যাপরোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে ওভারিয়ান ব্রিডিং করানো হয়। আইইউআই পদ্ধতিতে স্বামীর বীর্যে শুক্রাণুর পরিমাণ কম বা নিষ্ক্রিয় থাকলে শুক্রাণু সংগ্রহ করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় করে স্ত্রীর গর্ভে স্থাপন করা হয়।

টারশিয়ারি বা তৃতীয় ধাপ হলো-বন্ধ্যাত্বের সর্বাধুনিক চিকিৎসা আইভিএফ। বন্ধ্যাত্ব নিয়েও নারীর মাতৃত্বের বাসনা পূর্ণ করার সুযোগ রয়েছে আইভিএফের মাধ্যমে। এটি অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ও সহজ পদ্ধতি। অনেকে আইভিএফকে টেস্টটিউব পদ্ধতি বলে থাকেন। আইভিএফ মাধ্যমে স্বামী থেকে নেওয়া শুক্রাণুর সঙ্গে ল্যাবরেটরিতে ডিম্বাণুর ফার্টিলাইজেশন করা হয় ও উপযুক্ত সময়ে সেটি স্ত্রীর গর্ভে স্থাপন করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ১৯৯৮ সাল থেকে আইভিএফ সেবা শুরু হয়েছে। কিন্তু সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ এ সেবার কলেবর বাড়াতে পারছে না। আইভিএফ চিকিৎসায় ২০টি সেন্টার স্থাপিত হলেও সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সেন্টার মাত্র তিনটি। সরকারিভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল স্থাপিত আইভিএফ সেন্টারের মাধ্যমে মাত্র একটি শিশু আলোর মুখ দেখতে সক্ষম হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে ঢামেকের আইভিএফ সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ডা. ফাতেমা পারভিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইভিএফ সেন্টার চালু হলেও মাত্র একজন নারীর গর্ভধারণের খবর নিশ্চিত করেছে। তবে সফলতার ক্ষেত্রে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল এক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে। বন্ধ্যা দম্পতিদের চিকিৎসায় সরকারের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে রাজধানীতে পাঁচটি বিশেষায়িত হাসপাতাল রয়েছে। এগুলো হলো-মোহাম্মদপুর ইনফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার, আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, মিরপুরে (লালকুঠি) মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (মাতুয়াইল) এবং শামসুননেছা আরজু মনি মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র (হাজারীবাগ)। তবে এগুলোর কোনোটিতেই আইভিএফ চিকিৎসাসেবা নেই। বিশেষজ্ঞরা যুগান্তরকে বলছেন, দেশে ২০২২ সালে ২০টি সেন্টারে প্রায় চার হাজার দম্পতি এ পদ্ধতি গ্রহণ করায় প্রায় এক হাজার ৩০০ জন বাবা-মা হয়েছেন। যাদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান লাভের সুযোগ ছিল না।

ভ্রুণতত্ত্ববিদ ও বাংলাদেশ ফার্টিলিটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এসএম খালিদুজ্জামান বলেন, দেশে অন্তত ১০ লাখ দম্পতি তথা ২০ লাখ নারী পুরুষের আইভিএফ পদ্ধতির প্রয়োজন। বর্তমানে দেশে ১০০ জনকে আইভিএফ চিকিৎসা দেওয়া হলে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ সফল গর্ভধারণ হচ্ছে। গত দুই বছরে আমাদের হাসপাতালে আইভিএফ চিকিৎসা নিয়ে ৫০০ বেশি নারী গর্ভধারণ করেছেন, যেটা বাংলাদেশে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি আরও বলেন, সরকারি ল্যাবের সংখ্যা ও সেন্টার বাড়ানো গেলে সহজেই চিকিৎসা নিয়ে সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ পেত। এজন্য স্বাস্থ্য বিভাগের আরও বেশি হস্তক্ষেপ দরকার।


আরও খবর
বাড়ছে ডেঙ্গু, শতাধিক নতুন রোগী শনাক্ত

বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪