আজঃ মঙ্গলবার ০৫ মার্চ ২০২৪
শিরোনাম

পিরোজপুরে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অফিস ভাংচুর, আহত ৪

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ জুন ২০২৩ | হালনাগাদ:বুধবার ০৭ জুন ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
মশিউর রাহাত (পিরোজপুর)

Image

পিরোজপুরে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অফিস কার্যালয় ও মোটরসাইকেল ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা দিকে জেলা সদরের পুরানো কাপুরিয়াপট্টি রোডে এ ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

এসময় অফিসের চেয়ার, টেবিলসহ ৩/৪টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। ভাংচুরের সময় ৪ নেতাকর্মী আহত হয়। এর প্রতিবাদে আজ বুধবার (৭ জুন) শহরে ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল করে। এসময় তারা হামলাকারী জুম্মনসহ সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস‌্যদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি দাবি করে।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ সজল বলেন, বরিশাল নির্বাচনী কাজে পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অনিরুজ্জামান অনিক ও আমিসহ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ যাচ্ছিলাম। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেসা মুজিব অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর কাছে পৌঁছালে হামলার ঘটনার খবর পাই। ফিরে এসে সিসি টিভি দেখে জানতে পারি হাফিজুর রহমান জুম্মান নামের একজনের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ‍আমার অফিসে হামলা ভাংচুর করে। এসময় আমার ৪ নেতাকর্মী আহত ও মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। আহতদের জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন>> প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে পিরোজপুরে বিক্ষোভ

ঘটনার প্রত‌্যক্ষদর্শী ছাত্রলীগ কর্মী নওসাদ জুবায়ের ইমন বলেন, আমাকে বেশকিছুদিন ধরে সন্ত্রাসী হাফিজুর রহমান জুম্মান তাদের সমর্থক হিসেবে যেতে বলে। আমি রাজি না হলে ঘটনার আগে পুনরায় ফোন করে আমার অবস্থান জানতে চায়। আমি শহরের সাধনা ব্রীজের কাছে আছি জানালে নওসাদ ব্রীজ সংলগ্ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অফিসে এসে আশ্রয় নেই। এসময় হাফিজুর রহমান জুম্মান ও তার সন্ত্রাসী দল সেখানে তারা গিয়ে আমকে মারধর করে ও চেয়ার, টেবিলসহ ও তিন চারটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অফিস ভাংচুরের পর উকিল পাড়া হাফিজুর রহমান জুম্মানের অফিস ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

হাফিজুর রহমান জুম্মানের অফিস ভাংচুরের ব‌্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ সজল বলেন, জুম্মনের অফিসে ভাংচুরের ঘটনায় ছাত্রলীগ জড়িত না। আমার অফিস ভাংচুরের ঘটনা ও নেতাকর্মী উপর হামলা অন‌্য দিকে প্রবাহিত করার জন‌্য নিজেরাই নিজেদের অফিস ভাংচুর করেছে। 

পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নাই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব‌্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পিরোজপুর শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


আরও খবর



আজ টেডি ডে : যে কারণে এই দিন পালন করা হয়

প্রকাশিত:শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জীবন ধারা ডেস্ক

Image

ভ্যালেনটাইনস ডে আসতে এখনও কয়েক দিন বাকি। চলছে ভ্যালেন্টাইনস উইক, অর্থাৎ প্রেমের সপ্তাহ। এই বিশেষ সপ্তাহের চতুর্থ দিন টেডি ডে। আর এই বিশেষ দিনে প্রিয়জনকে টেডি উপহার দেওয়ার রীতি আছে।

একেই ভালবাসার সপ্তাহ। তার উপর একেকদিন পালন করা হয় একেকটি বিশেষ আবহ। টেডি ডেও তেমনই এক বিশেষ আবহ। তবে এই দিবস কেন পালিত হয়, তা কি জানেন?

ভালোবাসার প্রকাশ নানাভাবেই হয়। ভালোবাসার পাশাপাশি প্রেম, আদর ও যত্নের প্রতীক হয়ে থাকে টেডি। তবে টেডি উপহার হিসেবে কেন এত বিখ্যাত? কবে থেকেই বা টেডি দেওয়ার রীতি শুরু হলো?

টেডি ডের ইতিহাস : টেডি ডের সঙ্গে অনেকটাই জড়িয়ে আছে টেডির গল্প। টেডি উপহার হিসেবে খুব বেশি দিন বিখ্যাত হয়নি। গত শতক থেকে এটি উপহার হিসেবে জনপ্রিয় হয়। কিন্তু তার পেছনে আছে এক গল্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সেই গল্পের নায়ক।

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিশ শতকের গোড়ার দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট একবার শিকারে যান। শিকারের সময় একটি ভাল্লুককে দেখে তার মত বদলে ফেলেন।

ভাল্লুকটিকে ছেড়ে দেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি। থিওডোরের এই ঘটনার কথা সঙ্গে সঙ্গে রটে যায়। তার এই মানবিক গুণ কার্টুনে ফুটিয়ে তোলেন ক্লিফোর্ড বেরিম্যান। কার্টুনে দেখা যায় একটা মিষ্টি ভাল্লুককে। কার্টুনটি জনপ্রিয় হয়েছিল। একই সঙ্গে সেই ভাল্লুকটিই জনপ্রিয় হয়ে যায়। এর পর মরিস মিকটোম ওই কার্টুন ভাল্লুকের আকারে একটী খেলনা পুতুল তৈরি করেন। যেটি টেডি হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

জনপ্রিয় উপহার হিসেবে টেডির চল : শুরু থেকেই টেডি জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছিল। শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর সঙ্গে জড়িত থাকায় সহজে জনপ্রিয়তা পায় ভাল্লুক। এর পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে টেডি জনপ্রিয় উপহার হয়ে ওঠে।

টেডির চেহারার মধ্যে আছে এক নিষ্পাপ আদুরে ভাব। যে কারণে ব্যক্তিগত সম্পর্কে জায়গা করে নিল উপহার। কিশোরী, তরুণীদের মধ্যে টেডি প্রেম অচিরে বাড়তে থাকে। আর সেই থেকে প্রেমের একটি মিষ্টি উপহার টেডি। টেডি ডের সেই উপহারের জন্য বরাদ্দ একটি দিন। এদিন চাইলে সঙ্গী রং-বেরঙের টেডি উপহার দিতে পারেন।


আরও খবর
মজাদার ফুলকপির বিরিয়ানি

সোমবার ০৪ মার্চ ২০২৪




দেশের প্রতিটি সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24 | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে বাঙালিরা রক্ত দিয়েছে, রক্তের অক্ষরে ভাষার অধিকারের কথা লিখে গিয়েছে। পাকিস্তানি শাসকরা যখন আমাদের মায়ের ভাষার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল, সংখ্যাগরিষ্ঠতায় আমরাই ছিলাম বেশি। আর যে ভাষাটা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল, উর্দু, সেটা কারও মাতৃভাষা নয়, পুরো পাকিস্তানের ৭ ভাগ লোকও এটা ব্যবহার করত কি না, সেটাই প্রশ্ন। অথচ আমরা বাঙালিরা ছিলাম প্রায় ৫৫ ভাগ। আমাদের ভাষা কেড়ে নিয়ে দ্বিজাতীয় একটা ভাষা যখন চাপিয়ে দিতে চায়, তখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র। তিনি উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তমদ্দুন মজলিশসহ আরও কয়েকটি সংগঠন নিয়ে বাংলা ভাষাকে রক্ষার জন্য সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলেন এবং আন্দোলন শুরু করেন। সেই আন্দোলনের পথ ধরেই আমরা আমাদের স্বাধিকার আদায় করেছি স্বাধীনতা পেয়েছি।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অমর একুশে পদক বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, সবচেয়ে দুঃখের কথা হলো ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে অবদান, সেই আন্দোলনের যে ইতিহাস, সেখান থেকেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নামটা মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। 

আরও পড়ুন>> একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে সারা বাংলাদেশ সফর করে মানুষকে যখন সংগঠিত করছিলেন তখনই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ দেশের প্রতিটি সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান রয়ে গেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বলে গেছেন, ১৯৫২ সালের আন্দোলন কেবল ভাষা আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, এ আন্দোলন ছিল সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন। কাজেই জাতির পিতা কিন্তু বলে গেলেন আমাদের সামাজিক সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন হচ্ছে ৫২র মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলন।


আরও খবর



ক্রিকইনফোর বর্ষসেরা বোলিং পারফর্মার মারুফা আক্তার

প্রকাশিত:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

Image

জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর ওয়ানডের বর্ষসেরা ক্রিকেটারের স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের তারকা মারুফা আক্তার।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার নাডিন ডে ক্লার্ককে হারিয়ে ২০২৩ সালের বর্ষসেরা নারী বোলিং পারফর্মার বিবেচিত হয়েছেন বাংলাদেশের এই পেসার।

২০২৩ সালে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ২৯ রানে তার ৪ উইকেট শিকার ছিল নারী ক্রিকেটের বছর সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৫৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় মারুফার বোলিং তোপে ৩৫.৫ ওভারে ১১৩ রানে থামে ভারত। বৃষ্টি আইনে ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক প্রথম জয়ে অসাধারণ বোলিংয়ে ম্যাচসেরা হন মারুফা আক্তার।


আরও খবর



বেইলি রোডে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে যা জানা গেল

প্রকাশিত:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানীর বেইলি রোডের বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দুই ঘণ্টার চেষ্টায়ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট। আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে কাচ্চি ভাইসহ কয়েকটি রেস্টুরেন্টে।

৭তলা এই ভবনটিতে অবস্থিত ফুওকো রেস্টুরেন্টের মালিক ডা. নাইম বলেন, বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৫০ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট কাজ করছে।

কোথা থেকে আগুনের সূত্রপাত সে প্রসঙ্গে ডা. নাইম বলেন, আমাদের ভবনের নিচে ছোট একটা রেস্টুরেন্ট হয়েছে। সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত। আগুন লাগার পর পরই আমার স্টাফদের বারান্দা দিয়ে নামিয়েছি। তারা সবাই আহত।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, আটকেপড়াদের উদ্ধার করা হচ্ছে। টিটিএলের মাধ্যমে পাঁচ-ছয়জনের বেশি মানুষকে নামানো যায় না। এ অবস্থাতেই ভবনে আটকে পড়া অর্ধশতাধিক মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫ জন নারী রয়েছেন। এরই মধ্যে ১০ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আরও হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পথচারী ও স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার পর ভবনের রেস্টুরেন্টগুলোতে মানুষ দেখা গেছে। আগুন ভবনের চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এসব মানুষ সেখানে আটকে পড়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন জানান, রাত ৯টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্ট ভবনে আগুনের খবর আসে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করছে।

ভবনটিতে পিজ্জা ইন, স্ট্রিট ওভেন, খানাসসহ আরও রেস্টরেন্ট রয়েছে। এছাড়া ইলিয়েন, ক্লোজেস্ট ক্লাউডসহ জনপ্রিয় বিপণিবিতানও রয়েছে। পঞ্চম তলা থেকে ১৪ তলা পর্যন্ত আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে।


আরও খবর



স্ত্রীসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যা : পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত:রবিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রফিকুল ইসলাম, কুষ্টিয়া

Image

পরকীয়ার জেরে নিজের স্ত্রী ও সন্তান এবং এক যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার অপরাধে পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (বরখাস্ত) সৌমেন রায়কে (৩৪) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুষ্টিয়ার একটি আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রুহুল আমীন এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী।

সৌমেন রায় মাগুরা সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের আসবা গ্রামের সুনীল রায়ের ছেলে। তিনি সর্বশেষ খুলনার ফুলতলা থানায় এএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৩ জুন বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড় এলাকার নাজ ম্যানশন মার্কেটের বিকাশের দোকানের সামনে স্ত্রী আসমা খাতুন (২৫), আসমার ছেলে রবিন (৫) এবং আসমার পরকীয়া প্রেমিক শাকিলকে (২৮) সরকারি অস্ত্র দিয়ে গুলি করে হত্যা করেন এএসআই সৌমেন রায়। এ ঘটনায় পুলিশ তাকে ঘটনাস্থল থেকে সার্ভিস রিভলভার, গুলি ও ম্যাগাজিনসহ আটক করে।

পরে সেদিন বিকেলে তাকে বরখাস্ত করা হয়। একইদিন রাতে এএসআই সৌমেন রায়কে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করেন নিহত আসমা খাতুনের মা হাসিনা বেগম। পরদিন ১৪ জুন বিকেলে কুষ্টিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এনামুল হকের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সৌমেন। মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিশিকান্ত সরকার আসামি সৌমেনের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৩১ আগস্ট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

২০২২ সালের ৬ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন সৌমেন রায়। এরপর কুষ্টিয়া আদালতে বারবার আত্মসমর্পণের দিন ধার্য থাকলেও তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। আদালতে আত্মসমর্পণ না করায় ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পলাতক সৌমেন।

মামলার বাদী হাসিনা বেগম বলেন, আমার মেয়ে, তার ছেলে রবিন ও শাকিল নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে সৌমেন। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে জেনেছি সে হাইকোর্ট থেকে জামিনে বেরিয়ে ভারতে পালিয়েছে। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের একমাত্র আসামিকে জামিন দেওয়ায় আমি হতাশ। আদালত সৌমেনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় আমি খুশি। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক।

প্রসঙ্গত, কুমারখালী থানায় দায়িত্বে থাকার সময় এএসআই সৌমেনের সঙ্গে একটি মামলাকে কেন্দ্র করে আসমার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সময় সৌমেন তার নাম মো. সুমন হোসেন রাখেন এবং সুমন নামেই মুসলিম বিধানমতে আসমাকে বিয়ে করেন। সৌমেন আসমার তৃতীয় স্বামী ছিলেন। বিয়ের পর থেকেই কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় তারা বাস করছিলেন।

এএসআই সৌমেন খুলনার ফুলতলা থানায় বদলি হওয়ার পর থেকেই বিকাশকর্মী শাকিলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান আসমা। এ সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি সৌমেন। সেই ক্ষোভ থেকেই প্রকাশ্যে স্ত্রী আসমা, আসমার দ্বিতীয় স্বামীর ছেলে রবিন এবং পরকীয়া প্রেমিক শাকিলকে গুলি করে হত্যা করেন সৌমেন।

সৌমেন রায় ২০১৫ সালে কনস্টেবল থেকে এএসআই পদে উন্নীত হন। পরে ২০১৬ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানায় যোগ দেন। সেখান থেকে মিরপুর থানার হালসা ক্যাম্প, বাগেরহাট থানাসহ বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত ছিলেন সৌমেন রায়।

নিউজ ট্যাগ: কুষ্টিয়া

আরও খবর