আজঃ মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২
শিরোনাম

পদ্মা সেতু ঘিরেই সোনালী ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছেন গোপালগঞ্জবাসী

প্রকাশিত:বুধবার ২২ জুন 20২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২২ জুন 20২২ | ৫০০জন দেখেছেন

Image

গোপালগঞ্জ থেকে আশিক জামান

আর মাত্র বাকি কয়েকদিন। এর পরেই বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ টি জেলার মানুষের স্বপ্নের দিন। আগামী ২৫ শে জুন খুলে দেওয়া হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এতে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ২১ জেলার  মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

এই ২১ টি জেলার মধ্যে গোপালগঞ্জ অন্যতম। এ পদ্মাসেতু খুলে দেওয়ার সাথে সাথে এজেলার মানুষ আরো অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধশালী হবে। এ জেলার মানুষের ভাগ্য বদলে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে পদ্মা সেতু। এই সেতু ঘিরেই সোনালী ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছেন এই জেলার প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ। পদ্মা সেতু চালু হলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সঙ্গে এ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। পিছিয়ে পড়া এই জেলা ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরও মনোযোগ কাড়বে, গড়ে উঠবে এ জেলায় নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা। ফলে এ জেলার  অর্থনীতির চাকা ঘোরার পাশাপাশি বাড়বে বেকারদের কর্মসংস্থান। পদ্মা সেতু শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করবে না, এতে শিক্ষা  কৃষি, মৎস্য, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্প পর্যটনসহ বেশ কিছু খাতে অর্থনৈতিক উপযোগও সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি গড়ে উঠবে বিভিন্ন শিল্প কলকারখানা, ইপিজেড, বিমানবন্দর, গার্মেন্টস শিল্প ও কৃষিশিল্প।

কৃষি

গোপালগঞ্জ জেলাকে অর্থনৈতিক ভাবে সবচেয়ে সমৃদ্ধ করেছে কৃষিখাত। জেলার প্রায় দেড়লাখ হেক্টর জমিতে এজেলার কৃষকেরা নানান ফসল উৎপাদন করে। এরমধ্যে ব্যতিক্রম ফসল সবজি। পদ্মা সেতুর কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় কৃষকদের নিজস্ব ক্ষেতে ফলানো কৃষিপণ্য এ জেলার চাহিদা মিটিয়ে পৌঁছে যাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এতে কৃষকেরা তাদের ন্যায্যমূল্য পাবে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার রঘুনাথ পুর গ্রামের কৃষক আবদুল মতিন মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি প্রায় পঞ্চাশ বিঘা জমিতে বছরের ১২ মাস বিভিন্ন শাকসবজী চাষ করি। এ জেলা ছাড়া বাইরে বিক্রি করতে পারতাম না। তাই ন্যায্য মূল্যও পেতাম না। পদ্মা সেতু চালু হলে। রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। ফেরীঘাটের ভোগান্তি ছাড়াই সরাসরি সবজি নিয়ে সময় মতো ঢাকায় পৌঁছাতে পারবো। আমাদের কষ্ট করে ফলানো সবজীর ন্যায্য মূল্য পাবো।

স্বাস্থ্য

পদ্মা সেতু চালু হলে গোপালগঞ্জের স্বাস্থ্য খাতে বড় ভূমিকা রাখবে। পদ্মা সেতুর জন্য এ জেলায় রাজধানী ঢাকা থেকে কোন চিকিৎসক আসতেন না। রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার সময় ফেরীঘাটে সময় ব্যয় হওয়ার জন্য বেশির ভাগ রোগী ফেরি ঘাটে মারা যেতেন। পদ্মা সেতু চালু হলে এ জেলার মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই অল্পসময়ে ঢাকা পৌঁছাতে পারবে। নিতে পারবেন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা।

গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন ডাঃ নিয়াজ মাহমুদ  বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে রাজধানী ঢাকার সাথে গোপালগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে। পদ্মা সেতু না থাকায় ঢাকার অনেক বড় বড় চিকিৎসক আমাদের জেলায় আসতে চাইতেন না। পদ্মা সেতুর খুলে দেওয়ার পর চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন হবে। ভালো চিকিৎসক এ জেলায় এসে মানুষকে চিকিৎসা দিতে পারবে। অনেক সময় নদী পার হতে গিয়ে রোগী মারা যেত। জরুরি ওষুধ আনতে অনেক সময় লাগত। ওষুধের জন্য অনেক রোগী মারা যেত। পদ্মা সেতু চালু হলে ওষুধ, চিকিৎসকসহ আর কোন সমস্যা হবে না।

পর্যটন

পদ্মা সেতু চালু হলে গোপালগঞ্জে পর্যটন খাত অর্থনৈতিক ভাবে বড় ভূমিকা রাখবে। এ জেলায় রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থল। ইতিমধ্যে জাতির পিতার সমাধিস্থলকে ঘিরে তৈরী করা হয়েছে স্থাপত্য শৈলীর নানান নিদর্শন। আর চোখ জুড়ানো বিস্তৃর্ন সবুজের মাঠ। এ সমাধিস্থলকে ঘিরে সারা বছর পর্যটকদের ভিড় এমনিতে লেগে থাকে। পদ্মা সেতু চালু হলে গোপালগঞ্জের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটক আসবে। আরো বেশি পর্যটকদের সমাগম হবে। এতে এ জেলার পর্যটন শিল্পকে আরো বিকাশিত করবে।

এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও টুঙ্গিপাড়াকে নিয়ে বিশ্বমানের গবেষকেরা গবেষণায় আগ্রহী হবেন।

শিক্ষা

গোপালগঞ্জ জেলায় দুটি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পদ্মা সেতুর কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার জন্য আগ্রহী হবেন।

এবিষয়ে বশেমুরবিপ্রবির বিজিএমই বিভাগের সহকারী প্রভাষক ইমদাদুল হক সোহাগ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে একই সাথে জ্ঞান বিতরণ এবং জ্ঞান সৃষ্টির জায়গা। জ্ঞান সৃষ্টির জন্য প্রথমত যে জিনিসটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে বিশ্বমানের গবেষক দরকার। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার সাথে সাথে জাতির জনকের পূন্যভূমি গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বিশ্ব মানের গবেষকরা আরো আকৃষ্ট হবেন। সেই সাথে সাথে মেধাবী শিক্ষার্থীরাও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আকৃষ্ট হবেন।

শিল্প কলকারখানা

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ জেলায় বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবেন। এ জেলায় গড়ে উঠবে বিভিন্ন শিল্প কলকারখানা। এ জেলার বেকারত্বের কর্মসংস্থান হবে। ভাগ্যের পরিবর্তন আনবে এ জেলার বেকারদের।

কর্মসংস্থান

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ২১ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হবে এ জেলায়। পদ্মা সেতুকে ধিরে এ জেলায় তৈরি করা  বিশাল বিশাল সরকারি বেসরকারী স্থাপনার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ হচ্ছে বেসরকারি খাতে। সবগুলোই খুলে দেওয়া হবে পদ্মা সেতু চালু হলে। নির্মাণ করা হচ্ছে বেসরকারি শিল্প কলকারখানাও। যা এ জেলার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান বলেন, পদ্মা সেতুকে ঘিরে এ জেলায় বেশ কয়েকটি সরকারি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে। সবগুলো পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি শিল্প কলকারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কলকারখানা চালু হওয়ার পর এ জেলার বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। কমবে এ জেলার বেকারত্বের হার। এর পাশাপাশি এ জেলা শিল্পাঞ্চল জেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

এবিষয়ে জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন,পদ্মা সেতু চালু হলে গোপালগঞ্জ শুধু শিল্পাঞ্চলই নয় আধুনিক পর্যটন নগরীতে রুপ নিবে। এ জেলার মাটিতেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ সমাধিস্থলকে ঘিরে সারাবছর বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটক আসতে থাকে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এ জেলার অর্থনীতির চাকা সচল হবে। পদ্মা সেতুকে ঘিরে অপেক্ষামান যে সব নবনির্মিত যে সব সরকারি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠেছে সবকয়টিতে এ জেলার বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। এতে এ জেলার বেকারত্বের হার কমার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ভাবে এ জেলা স্বাবলম্বী হবে।


আরও খবর



দিনাজপুরে পিকআপ ভ্যানের চাপায় শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৩ জুন ২০২২ | ২২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে পিকআপ ভ্যানের চাপায় ফাহিম নামের এক শিশু নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১২টায় নবাবগঞ্জ উপজেলার শাল্টিমুরাদপুর গ্রামের জঙ্গলপাড়া নামকস্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু ফাহিম (৬) নবাবগঞ্জ উপজেলার শাল্টিমুরাদপুর গ্রামের ফরিদুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বাড়ির পাশে রাস্তায় ঘুরতে গিয়েছিল ওই শিশু। এসময় দ্রুতগামী একটি পিকআপ ভ্যান চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই ফাহিম মারা যায়।

নবাবগঞ্জ থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় শিশুটির লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


আরও খবর



বিশ্বসেরা ৮০০ তালিকায় নেই বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত:শুক্রবার ১০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১০ জুন ২০২২ | ৪৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কোয়াককোয়ারেল সাইমন্ডস (কিউএস) বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংকিং ২০২৩ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে গতকাল বুধবার বিশ্বসেরা এক হাজার ৪০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এবারো প্রথম ৮০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থান হয়নি।

গত বছরের মতো এই বছরের তালিকাতেও দেশের শীর্ষ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৮০১ থেকে ১০০০ এর মধ্যে রয়েছে। কিউএস তাদের তালিকায় ৫০০ এর পরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেনি। একাডেমিক খ্যাতি, চাকরির বাজারে সুনাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, শিক্ষকপ্রতি গবেষণা-উদ্ধৃতি, আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাতের ভিত্তিতে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংকিং করে প্রতিষ্ঠানটি।

২০১২ সালে কিউএসর তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল ৬০১ এর মধ্যে। ২০১৪ সালে তা পিছিয়ে ৭০১তম অবস্থানের পরে চলে যায়। ২০১৯ সালে তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও পেছনের দিকে চলে যায়। দেশের শীর্ষ দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি কিউএসর তালিকায় দ্বিতীয়বারের মতো ১০০১ থেকে ১২০০তম অবস্থানের মধ্যে রয়েছে। কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ২০২৩-এ শীর্ষ ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের ৯টি ও পাকিস্তানের তিনটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।


আরও খবর



কারাগার থেকে বেরিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে হাতুড়িপেটা

প্রকাশিত:শনিবার ০৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০৪ জুন ২০২২ | ৪২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

নোয়াখালীতে চাঁদাবাজির মামলায় হাজত খাটার পর জামিনে বেরিয়ে মামলার বাদী সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রবকে (৪৮) প্রকাশ্যে হাতুড়িপেটার অভিযোগ উঠেছে এক আসামির বিরুদ্ধে। এতে শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রব গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জেলা শহর মাইজদীর রশীদ কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আবদুর রবকে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও বর্তমানে তিনি তার রশিদ কলোনির বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।এদিকে, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলেও পুলিশ আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে আহত শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রব জানান, তিনি শহরের রশিদ কলোনি এলাকায় একটি বাড়ি করেছেন। বাড়ি নির্মাণের শুরুতে স্থানীয় বাসিন্দা ফজলে এলাহী ওরফে এলমান ও সুলতান আহমদ নামের দুই ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু চাঁদা না দেওয়ায় তারা কিছু নির্মাণসামগ্রী চুরি করে নিয়ে যান। ওই ঘটনায় ফেব্রুয়ারিতে সুধারাম থানায় মামলা করলে পুলিশ ফজলে এলাহীকে গ্রেপ্তার করে। কিছুদিন আগে তিনি জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।

আবদুর রব অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় ফজলে এলাহীসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন। হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। তখন তার ছেলের চিৎকারে মসজিদের অন্য মুসল্লিরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। উল্লিখিত হামলাকারীদের চাঁদাবাজিতে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে জানান তিনি।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনিসহ পুলিশের একটি দল হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রবকে দেখে এসেছেন। এ ঘটনায় আহত আবদুর রব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশ রাতে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।


আরও খবর



ব্যবসা গতিশীল ও ব্যবসায়ীক সক্ষমতা বাড়াবে এবারের বাজেট : বিজিএমইএ

প্রকাশিত:শুক্রবার ১০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১০ জুন ২০২২ | ৩৯৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে রপ্তানির জন্য সাব-কন্ট্রাক্টের বিপরীতে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া ও নগদ সহায়তাগুলো চলমান রাখাসহ ৯ ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যা ব্যবসা গতিশীল ও ব্যবসায়ীক সক্ষমতা বাড়াবে বলে মনে করে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদের বাজেট পেশ করেন। তার প্রতিক্রিয়ায় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এই মতামত ব্যক্ত করেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম মান্নান (কচি)।

তিনি বলেন, আমাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে রপ্তানির জন্য সাব-কন্ট্রাক্টের বিপরীতে ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। নগদ সহায়তাগুলো চলমান রাখা হয়েছে। টেক্সটাইল বা বস্ত্র খাতের কর্পোরেট কর হার ১৫ শতাংশ আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

এস এম মান্নান বলেন, ম্যান মেড ফাইবার ও অন্যান্য কৃত্রিম আঁশের তৈরি সুতার ওপর ভ্যাটের পরিমাণ ৬ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ টাকা প্রতি কেজি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পলিপ্রপাইলিন স্ট্যাম্পল ফাইবার উৎপাদনের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি ও এর প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির ওপর আগাম কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। টেক্সটাইল গ্রেড পিট চিপস উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় টেরিপ্যাথিলিক অ্যাসিড ও ইথেলিন গ্লাইকোল আমদানির ওপর আগাম কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং এই পণ্যটি তৈরির ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া এবং সিউএজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

এছাড়াও মোবাইল ফাইন্যানসিয়াল সার্ভিসের সার্ভিস চার্জসমূহ আয়করের বাইরে রাখার প্রস্তাব করা প্রতিবন্ধী বা তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের নিয়োগ প্রদান করা হলে কর রেয়াতের ব্যবস্থা পূর্বে ১০ শতাংশ বা ১০০ জনের অধিক ছিল, এটি আরও সহজ করে ১০ শতাংশ বা ২৫ জন করা হয়েছে।

এগুলো নিঃসন্দেহে আমাদের ব্যবসাকে গতিশীল করবে, আমাদের ব্যবসায়ীক সক্ষমতা বাড়াবে। তবে প্রস্তাবিত বাজেটে পোশাক রপ্তানির ওপর উৎসে কর শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শিল্পের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে।

কারণ হিসেবে বলা হয়, এই বাজেটের লক্ষণীয় দিক হলো, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সমস্যা এসব কিছু সামাল দিয়ে সরকার দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট, যা প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে। বাজেটের মূল বিষয়ই হলো উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন এনে দেশকে আরও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী করা। আর এটি করতে হলে অর্থনীতিতে অবদান রাখা শিল্পগুলোর প্রতি, বিশেষ করে পোশাক শিল্পের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।

টালমাটাল বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতি আমাদের পোশাক শিল্পের জন্যও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে একদিকে যেমন জ্বালানি তেলসহ খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে ইউরোপসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা বাড়ছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশগুলো সুদের হার বাড়াচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের পণ্যের চাহিদা ও ক্রয় ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।


আরও খবর



‘২০২২-২৩ বাজেট বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপযোগী’

প্রকাশিত:বুধবার ২২ জুন 20২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২২ জুন 20২২ | ৩২০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০২২-২৩ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে সময়োপযোগী, বাস্তবায়নযোগ্য এবং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপযোগী বলে উল্লেখ করে বলেছেন, এই বাজেট উন্নয়ন ও জনবান্ধব বলেই অন্য সরকারের বাজেটের মতো এর গঠনমূলক তেমন সমালোচনা নাই। যে সমালোচনা হচ্ছে তা শুধুমাত্র সমালোচনার জন্যই সমালোচনা।

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুন) রাতে জাতীয় সংসদে ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য প্রদানের সময় এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, গত ৯ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন। এছাড়া, গত ১৩ জুন সংসদে চলতি অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেট পাস করা হয়।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী বাজেটকে সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবমুখী বাজেট হিসেবে উল্লেখ করে এ সময় আরও বলেন, বর্তমানে যে মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে, সেটা বাংলাদেশে সৃষ্ট নয়। করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সারাবিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। জ্বালানীসহ সব পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছে। উন্নত দেশগুলোতেও ডবল ডিজিটে চলে গিয়েছে মূল্যস্ফীতি। কিন্তু এখনও সেই তুলনায় মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির বিবেচনায় আমরা বেশ ভাল অবস্থানে রয়েছি।

দেশের নেতৃত্ব নিরাপদ হাতে আছে উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চোধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে দেশের নেতৃত্ব যতদিন থাকবে, ততদিন দেশ নিরাপদ থাকবে। যদি তাঁর হাতে দেশ নিরাপদ না থাকে, তাহলে আর কারো পক্ষে এ দেশ নিরাপদ রাখা সম্ভব নয়। এই সময় ভূমিমন্ত্রী সবাইকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেশকে ভালবাসতে এবং কিভাবে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে - তা নিয়ে চিন্তা করতে উদাত্ত আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ শ্রীলংকা হয়ে যাবে বলে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যবৃন্দের দেয়া বক্তব্যের জবাবে চট্টগ্রাম ১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী অঞ্চল) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে কিছু মানুষ আছেন যারা দেশের ভাল দেখতে পারেন না, দেশ শ্রীলংকা হয়ে যাবে সেই স্বপ্ন দেখেন। বাস্তবে তাদের কোনও দেশপ্রেম নেই, তাঁরা দেশের ভালো চান না। বস্তুত, শ্রীলংকার পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতি এক নয়। শ্রীলংকার অর্থনীতির একটা বড় অংশ পর্যটন শিল্পের আয়ের উপর নির্ভরশীল। করোনা মহামারী এবং সন্ত্রাসী বোমা হামলার কারণে দেশটির পর্যটন শিল্পে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ায় আয় প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে আবার দেশটির কৃষি উৎপাদনও অনেক কমে যায়। সেইসাথে অন্যান্য অনুষঙ্গ যোগ হয়ে শ্রীলংকার আজকের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

ভূমিমন্ত্রী আরও যোগ করে বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যাবে এই দেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১৩ বছরে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক মহামারি করোনার সময়েও অর্থনীতির চাকা সচল রেখে বাস্তব পদক্ষেপ নেয়ার ফলে বাংলাদেশ দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ তার রফতানি আয়ের ধারাবাহিকতাও বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া রেমিট্যান্স প্রবাহেও তেমন প্রভাব পড়েনি। এ প্রবাহ এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। তাছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও এখন পর্যন্ত নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। ফলে শ্রীলংকার মতো পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পড়ার আশঙ্কা নেই।


আরও খবর