আজঃ শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪
শিরোনাম

অভিভাবক হিসেবে মায়ের নাম লেখা যাবে: হাইকোর্ট

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৪ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৪ জানুয়ারী ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সনদ পেতে ফরম পূরণের সময় অভিভাবক হিসেবে বাবার নাম লেখার বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না। এখন থেকে কারও বাবা না থাকলে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে বাবার পরিচয় ব্যবহার করতে না চাইলে মা কিংবা আইনগতভাবে অন্য কোনও অভিভাবকের নাম যুক্ত করতে পারবেন বলে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আইনুননাহার সিদ্দিকা, এস এম রেজাউল করিম ও আয়েশা আক্তার। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।

আইনজীবীরা বলছেন, শিক্ষা সনদের জন্য ফরম পূরণের ক্ষেত্রে আগে শুধু বাবার নাম ব্যবহার করা যেতো। ঐতিহাসিক এই রায়ের ফলে এখন থেকে বাবার নামের পাশাপাশি আরও দুটি অপশন যুক্ত হলো। এতে করে কেউ চাইলে, বাবার পরিচয় ব্যবহার না করেও শিক্ষা সনদ পেতে ফরমপূরণের সময় মা কিংবা আইনগতভাবে বৈধ অভিভাবকের নাম লিখতে পারবেন।

২০০৭ সালের এপ্রিল মাসে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আগে শিক্ষার্থী তথ্য ফরমে অত্যাবশ্যকীয়ভাবে বাবার নাম পূরণ করতে না পারায় ঠাকুরগাঁওয়ের এক তরুণীকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রবেশপত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। উল্লেখ্য যে, মা ও সন্তানকে কোনোরূপ স্বীকৃতি না দিয়ে বাবার চলে যাওয়ার পর ওই তরুণী তার মায়ের একার আদর-স্নেহে বড় হচ্ছিলেন।

পরে এ ঘটনার যথাযথ অনুসন্ধানের ওপর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এবং সন্তানের অভিভাবক হিসেবে মায়ের স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠার দাবিতে ২০০৯ সালের ২ আগস্ট তিনটি মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও নারীপক্ষ যৌথভাবে জনস্বার্থে রিট দায়ের করে।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহম্মেদ ও বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ মানবাধিকার, সমতার পরিপন্থি ও বিশেষভাবে শিক্ষার অধিকারে প্রবেশগম্যতার বাধাস্বরূপ বিদ্যমান বৈষম্যমূলক এ বিধানকে কেন আইনের পরিপন্থি এবং অসাংবিধানিক হিসেবে ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে রুল জারি করেন।

একইসঙ্গে বর্তমানে কোন কোন শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বাবা ও মা উভয়ের নাম সম্পর্কিত তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করতে হয়, তার একটি তালিকা এবং যেসব যোগ্য শিক্ষার্থী তাদের বাবার পরিচয় উল্লেখ করতে অপারগ তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, সে সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২০২১ সালের ৬ জুন ব্লাস্ট আবেদনকারীদের পক্ষে একটি সম্পূরক হলফনামা আদালতে দাখিল করে।

নিউজ ট্যাগ: হাইকোর্ট

আরও খবর
জজ কোর্ট চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




তারাবি-সেহরিতে লোডশেডিং থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রমজানে তারাবির নামাজ ও সেহরির সময় বিদ্যুতের সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

রমজানে তারাবির নামাজের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে নাটোর-১ আসনের আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা অনেক অর্থ ব্যয় করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করি। ভর্তুকি অর্থে তা বিতরণ করি। এখন বিশ্বব্যাপী তেল, এলএনজি ও পরিবহনসহ সবকিছুর মূল্য বেড়ে গেছে। তারপরও আমাদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রচেষ্টা রয়েছে। এটা ঠিক যে যেহেতু আমাদের জ্বালানি তেল ও এলএনজির সংকট আছে। সেহেতু সময় সময়ে... তাছাড়া জানেন যে, যান্ত্রিক ব্যাপার... ইত্যাদি কোনও কোনও কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পায় বা ব্যাহত হয়। সেজন্য আমরা ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, হ্যাঁ, তারাবির নামাজ ও সেহেরির সময় বিদ্যুতের সমস্যা হবে না। বরং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সময় যদি প্রয়োজন হয় দিনের কোনও এক সময় যখন চাহিদা কম থাকে তখন দুই-তিন ঘণ্টা লোডশেডিং করা যায়। এতে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে থাকবে, আর বিদ্যুতে সংকট কিন্তু হবে না। বিশেষ করে তারাবি ও সেহেরির সময়ে সংকট হবে না। আমাদের প্রচেষ্টা সেইভাবে থাকবে।

একসময় দেশে ১০/১২ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকলেও এখন সেই অবস্থা নেই উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তবে আমার মনে হয় মাঝে মাঝে এটি (লোডশেডিং) থাকা ভালো। নাহলে মানুষ অতীতকে ভুলে যাবে। অন্তত উপলব্ধি করবে, কোথায় ছিলাম আর কোথায় আছি।


আরও খবর



পিরোজপুরে মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মলীগের সভাপতিকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মশিউর রাহাত (পিরোজপুর)

Image

পিরোজপুরে আলোচিত নৌকার এজেন্ট ও জেলা মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মলীগের সভাপতি ফয়সাল আকনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় গতকাল বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত ফয়সালের বাবা মোহাম্মদ মোফাজ্জল আকন বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলো- প্রধান আসামি উত্তর নামাজপুরের লিটন শিকদারের ছেলে মিজান শেখ, পার কুমারখালীর দেলোয়ার হোসেনের ছেলে জামাল হোসেন শেখ, ভাইজোড়া এলাকার জব্বার ফকিরের ছেলে সাইদুল ফকির, উত্তর নামাজপুরের আব্দুল মোতালেবের ছেলে আল-আমীন, একই এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে সোহেল হাওলাদার, মোহাম্মদ আউয়ালের ছেলে মোহাম্মদ হাসান, একই এলাকার সোবহান সিকদারের ছেলে জুয়েল সিকদার। এছাড়া অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলার ৭ নং আসামি জুয়েল সিকদারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

আরও পড়ুন>> মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ সভাপতির উপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে বিক্ষোভ

উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে পিরোজপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের নামাজপুর এলাকায় ফয়সাল আকনকে স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম আউয়ালের ঈগল প্রতীকের সমর্থক (ক্যাডার) মিজান শেখ, জামাল শেখ, সাইদুল ফকির, আল-আমীন, সোহেল হাওলাদার, মোহাম্মদ হাসান ও জুয়েল সিকদারসহ আরও ৭/৮ জনের সন্ত্রাসী দল ধারালো দা, চাইনিজ কুড়াল, জিআই পাইপ ও লোহার রড দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।

এতে ফয়সালের মাথা, গাল, পিঠের নিচের অংশ ও হাতের আঙ্গুল গুরুতরভাবে জখম হয় এবং পেটের ভুঁড়ি বের হয়ে যায়। ঘটনার পর এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফয়সালকে খুলনা প্রেরণ করে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতের ঘটনায় পিরোজপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আসিকুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় আহতের পিতা মোহাম্মদ মোফাজ্জল আকন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। আমরা ৭ নং আসামি জুয়েল সিকদারকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি আসামি গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আরও খবর
৯ ছাত্রীর চুল কাটার ঘটনায় শিক্ষিকা বরখাস্ত

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




বগুড়া প্রায় সাড়ে ৮শ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহিদ মিনার

প্রকাশিত:বুধবার ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বগুড়া প্রতিনিধি

Image

বগুড়া বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৮শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহিদ মিনার। প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই তিনটি কলাগাছ দিয়ে অস্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়। তারপর সেই শহিদ মিনারে স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ভাষা শহিদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের শোনপচা উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ৩০ বছর থেকে এভাবেই শহিদদের স্মরণ করা হয়।

ওই বিদ্যালয়ের মত আরও বেশি সময় থেকে জেলার আদমদীঘি উপজেলার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা ভাষা শহিদদের স্মরণে পায়ে হেঁটে  প্রায় দেড় মাইল দূরে উপজেলা সদরের শহিদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। একইভাবে বগুড়ার কাহালু উপজেলার পাঁচপীর মাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায় এক কিলোমিটার দূরের অপর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শহিদ বেদীতে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের স্মরণ করেন।

শুধু এই তিনটি বিদ্যালয়ই নয়, ভাষা আন্দোলনের ৭২ বছর পরও বগুড়ার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই এখনও নির্মাণ করা হয়নি শহিদ মিনার। যেসব প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই ভাষা দিবস এলেই ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর কলাগাছ কিংবা বাঁশ-কাঠ দিয়ে অস্থায়ীভাবে শহিদ মিনার তৈরি করে শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হয়।

আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে শুধু পতাকা উত্তোলন করে বিশেষ দিবস পালন করা হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শিক্ষা অর্জনে। জাতীয় দিবসের গুরুত্ব ও শহিদদের সম্পর্কেও জানতে পারছে না তারা। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ৫২'র রাজপথ রক্তে ভিজিয়ে ছিলেন আমাদের পূর্ব-পুরুষেরা।

তাদের আত্মত্যাগের ফসল আজকের এই বাংলা ভাষা। পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র বাঙালিরাই ভাষার জন্যে জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। বাঙালীদের সাথে সাথে সারা বিশ্ব ২১ ফেব্রুয়ারিকে পালন করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে।

১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানাতে তৈরী করা হয়েছিলো শহিদ মিনার। সরকারী নির্দেশনায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকার কথা থাকলেও জেলার শিক্ষা দপ্তরগুলোর তথ্য অনুযায়ী জেলায় প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরী সরকারি-বেসরকারি সব মিলে ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এরমধ্যে প্রায় সাড়ে ৮শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনও শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। প্রাথমিকে ১ হাজার ৬৫৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১ হাজার ৫৫২টি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার রয়েছে বলে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর দাবি করছে।

মাত্র ৭২টিতে নেই বলে তারা জানিয়েছে। অপরদিকে সরকারি-বেসরকারি সব মিলে জেলায় নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, স্কুল এন্ড কলেজ, কলেজ, স্নাতক পর্যায়ের কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১ হাজার ৭৭টি রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ৩১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার রয়েছে, ৭৬৭টি প্রতিষ্ঠানে নেই বলে জানিয়েছে জেলা শিক্ষা দপ্তর।

আদমদীঘি উপজেলার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম তালুকদার জানান, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন হয়। অর্ধ শতাধিক বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। ভাষা দিবসসহ বিশেষ দিবসগুলোতে প্রায় দেড় কিলো দূরে উপজেলা সদরের শহিদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে। তারাও বারবার নির্মাণের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের শোনপচা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, ১৯৯৪ সালে ওই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠার ৩০ বছরেও ওই বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। অথচ বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে ৪৫৩জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ভাষা দিবসসহ বিভিন্ন বিশেষ দিবসে কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে শহিদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। প্রায় ৯০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বগুড়া শহরের অভিজাত এলাকায় গড়ে ওঠা ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আজ অব্দি নির্মাণ করা হয়নি শহিদ মিনার।

ভাষা দিবসসহ বিশেষ দিবসগুলোতে ওই বিদ্যালয় জেলা প্রশাসনের সাথে মিলিত হয়ে দিবসগুলো পালন করে বলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাদৎ হোসেন জানান। তিনি বলেন, স্কুলে শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে নক্শার কাজ শুরু করা হয়েছে, আশা করা যাচ্ছে আগামি বছর ভাষা শহিদ দিবসের আগেই শহিদ মিনার নির্মাণ হবে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহিদ মিনার বিষয়ে শিক্ষা দপ্তরগুলোর পাঠানো তথ্যের সাথে বাস্তবের তেমন মিল নেই।

সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে শহিদ দিবস পালনের প্রস্তুতি সভায় জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহিদ মিনার বিষয়ক তথ্য শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে জেলা সার্বিক তথ্য দিলেও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সে সময় কোন তথ্যই দিতে পারেননি। পরে তড়িঘড়ি করে এই যে তথ্য জেলা প্রশাসকের দফতরে পাঠিয়েছেন, তার সাথে বাস্তবতার গড়মিল খুঁজে পাওয়া গেছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ হজরত আলী জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই সেইসব প্রতিষ্ঠানকে শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। শহিদ মিনার নির্মাণে খুব বেশি অর্থের প্রয়োজন হয় না, আন্তরিকতাটাই বড়। প্রতিষ্ঠান প্রধান, ম্যানেজিং কমিটি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য বা ধনাঢ্য ব্যক্তিরা যদি একটু আন্তরিক হন তবে অবশ্যই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই শহিদ মিনার নির্মিত হবে। তবে তারা তা না করে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরাদ্দের অপেক্ষায় থাকেন , যা সত্যি দুঃখজনক।

নিউজ ট্যাগ: শহিদ মিনার

আরও খবর
৯ ছাত্রীর চুল কাটার ঘটনায় শিক্ষিকা বরখাস্ত

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




রাশিয়া বাংলাদেশকেও অস্ত্র সরবরাহ করতে প্রস্তুত: রুশ রাষ্ট্রদূত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাশিয়া বাংলাদেশেও অস্ত্র সরবরাহ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার মান্টিটস্কি।

মিয়ানমারে রাশিয়ার অস্ত্র বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা অস্ত্র সরবরাহ করছি। কিন্তু একই সঙ্গে ভারত, চীনও অস্ত্র সরবরাহ করছে। আমরা বাংলাদেশকেও অস্ত্র সরবরাহ করতে প্রস্তুত আছি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, এগুলো উন্নতমানের অস্ত্র এবং ইউক্রেন যুদ্ধ দেখলে সেটি বোঝা যায়। আমরা আগেও বাংলাদেশকে অস্ত্র সরবরাহ করেছি।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ডিকাব টক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন রুশ রাষ্ট্রদূত।

এসময় তিনি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন চলমান সংঘাত নিয়ে কথা বলেন। ফিলিস্তিন ইস্যুতে পশ্চিমাদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বা দ্বৈত নীতির কঠোর সমালোচনা করেন মান্টিটস্কি।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে পশ্চিমারা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড (দ্বৈত নীতি) নিয়েছে। তারা ইউক্রেন ইস্যুতে অনেক সোচ্চার, কিন্তু গাজায় গণহত্যা নিয়ে নিশ্চুপ।

তবে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশ ও রাশিয়া একই মনোভাব পোষণ করে থাকে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারতের নীতি রাশিয়া অনুসরণ করে কি না- রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, আমরা আমাদের নীতি অনুসরণ করি এবং এটি আমাদের ডকট্রিনে লিপিবদ্ধ আছে। রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে অনেক বিষয়ে মতপার্থক্য আছে এবং আমরা এখানে (বাংলাদেশে) আমাদের নীতি অনুসরণ করি। আমরা বাংলাদেশকে ভারতের চোখে দেখি না।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাশিয়ার অবস্থান প্রসঙ্গে মান্টিটস্কি বলেন, রাশিয়া চায় রোহিঙ্গারা তাদের নিজ ভূমিতে ফেরত যাক। এটি নিয়ে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কখন শুরু হবে সেটি এখনো অনিশ্চিত।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- ডিক্যাব প্রেসিডেন্ট নূরুল ইসলাম হাসিব ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান অপু প্রমুখ।


আরও খবর



দুবাই থেকে আসা ৪ যাত্রীর কাছে মিলল ২ কেজি সোনা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোনা পাচারের সময় এনএসআই-কাস্টমস-এপিবিএনের যৌথ অভিযানে ৪ যাত্রী আটক হয়েছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২ কেজি ১০৪ গ্রাম সোনার বার ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। বুধবার রাতে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তার ৪ জন হলেন- মুন্সিগঞ্জের আব্দুল কাদির (৪১), পটুয়াখালীর মো. জুয়েল হোসেন (৩৪) ও ইব্রাহিম খলিল (৪০) এবং গাজীপুরের খোরশেদ আলম (৪২)। তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে।

জিয়াউল হক জানান, বুধবার ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইট দুবাই থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দেওয়া তথ্যানুযায়ী এপিবিএন ও কাস্টমসের যৌথ একটি আভিযানিক দল গ্রিন চ্যানেল ও তার বাইরে অপেক্ষমাণ ছিল। সকাল ৬টার দিকে ফ্লাইটটির যাত্রীরা বের হতে শুরু করেন। 

আরও পড়ুন>> ভেনেজুয়েলায় স্বর্ণের খনিতে ধস, নিহত ২৩

এ সময় আব্দুল কাদির, জুয়েল হোসেন, ইব্রাহিম খলিল ও খোরশেদ আলমকে সন্দেহ হলে তাদের থামানো হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের কাছে স্বর্ণালংকার থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। কিন্তু আগে থেকে গোয়েন্দা তথ্য থাকায় এবং তাদের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় ওই ৪ জনকে অধিকতর তল্লাশির সিদ্ধান্ত নেয় যৌথ আভিযানিক দল।

তিনি আরও জানান, অভিযানে অংশ নেয়া সকল সংস্থার প্রতিনিধিদের সামনে দ্বিতীয়বার ওই ৪ যাত্রীকে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে তাদের প্রত্যেকের পোশাকে বিশেষ কায়দায় লুকানো ৩১৬ গ্রাম করে ভেজা স্বর্ণের পাউডার ও ১১৬ গ্রাম ওজনের একটি করে গোল্ড বার এবং ৯৪ গ্রাম করে স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়। ৪ যাত্রীই একই মাপের ও ওজনের স্বর্ণ বহন করছিলেন এবং প্রত্যেকের কাছেই ৫২৬ গ্রাম করে স্বর্ণ পাওয়া যায়।


আরও খবর
বেইলি রোডে আগুনে নিহত বেড়ে ৪৫

শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪