আজঃ মঙ্গলবার ০৫ মার্চ ২০২৪
শিরোনাম

অর্থনৈতিক সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাদুকা শিল্প

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৭ এপ্রিল ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ এপ্রিল ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
মোঃ রাসেল আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

Image

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাদুকা শিল্পের জৌলুসে ভাটা পড়েছে। অন্যান্য বছর বৃহৎ এ উৎসবকে সামনে রেখে জেলার পাদুকা পল্লীতে চরম ব্যস্ততা থাকলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। নেই তেমন কাজের অর্ডার। এতে করে কারখানা মালিকদের কপালে যেমন চিন্তার ভাজ রয়েছে, তেমনি হতাশ পাদুকা শিল্পের সাথে জড়িত কারিগররাও। ব্যবসায়ীদের মতে, অর্থনৈতিক মন্দার আচ লেগেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাদুকা শিল্পে। এছাড়াও লোডশেডিংসহ নানা সমস্যা থাকায় সম্ভাবনাময় এই শিল্পটি এখন অনেকটাই হুমকীর মুখে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৬৩ সাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় পাদুকা শিল্পের যাত্রা শুরু। নান্দনিক ডিজাইন ও গুনগত মান ভাল হওয়ায় ক্রমেই বিকাশ ঘটতে থাকে এ শিল্পের। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখানকার জুতার চাহিদা রয়েছে। তবে গেল কয়েক বছর ধরে ধ্বস নেমেছে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্প খাতে। মাত্র কয়েক বছর আগেও জেলায় ৫ শতাধিক পাদুকা কারখানা থাকলেও এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড়শতে। কোন রকমে টিকে থাকা অবশিষ্ট কারখানাগুলোও চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। এসব কারখানার মধ্যে ২৫টি অটোমেটিক মেশিন এবং বাকিগুলোতে হাতেই তৈরী হচ্ছে লেডিস, জেন্টস, শিশুদের জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের জুতা। দেশব্যাপী এখানকার জুতার কদর থাকলেও চামড়াসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় এবং জুতার তৈরীর কাঙ্খিত অর্ডার না থাকায় ঈদ মৌসুমেও তাদের ব্যস্ততা অনেক কম।


ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, করোনার পর অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাদুকা শিল্পে। অন্যান্য বছর ঈদ মৌসুমকে সামনে রেখে জুতা তৈরীর ব্যাপক ধূম থাকে। তবে এ মৌসুমে কাঙ্খিত অর্ডার মিলছে না। আর যেটুকু জুতা তৈরীর অর্ডার মিলেছে লোডশেডিংয়ের কারণে তাও করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই লোডশেডিং হয়। এতে করে সঠিক সময়ে জুতা উৎপাদন যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে তেমনি আর্থিক লোকসানও হচ্ছে। সে সাথে জুতা তৈরীর উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মন্দার প্রভাবে কাজ কমে যাওয়ায় কারখানা টিকিয়ে রাখতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এদিকে, জেলায় থাকা অটোমেটিক মেশিন কারখানার সাথে পাল্লা দিয়ে কুলিয়ে উঠতে না পেরে হুমকীর মুখে রয়েছে শতাধিক হাতে জুতা তৈরীর আদি কারখানাগুলো। এতে মালিক লাভবান না হওয়ায় কারিগররাও ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন না। ফলে আর্থিক সংকটের কারণে অনেক কারিগর পেশা পাল্টাচ্ছেন । তারা এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।