আজঃ সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

অর্ধশতাব্দী পর চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ল রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ

প্রকাশিত:সোমবার ১৩ নভেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ১৩ নভেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

বন্ধুত্বপূর্ণ সফরে বাংলাদেশে এসেছে রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের তিনটি জাহাজ। সেগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে বলে রোববার রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ৫০ বছর পর রাশিয়ার কোনো যুদ্ধজাহাজ বাংলাদেশের বন্দরে ভিড়ল।

বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে ভেড়া রুশ নৌবহরের ওই জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে দুটি সাবমেরিন বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ। সেগুলোর নাম অ্যাডমিরাল ত্রিবুতসঅ্যাডমিরাল প্যানতেলেইয়েভ। অপর জাহাজটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার। সেটির নাম পেচেনগা

স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম বন্দর মাইনমুক্ত করতে সেখানে বিশেষ অভিযান চালায় রাশিয়ার কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ। এ বিষয়ে বাংলাদেশে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দার মান্টিটঙ্কি তাসকে বলেন, ১৯৭১ সালে সদ্য স্বাধীন হওয়া একটি দেশকে রক্ষা করতে এসেছিল রুশ যুদ্ধজাহাজগুলো। স্বাধীনতাযুদ্ধের পর চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় অনেক মাইন ছিল। এতে অনেক নৌযান ডুবে গিয়েছিল।

রুশ রাষ্ট্রদূত বলেন, মাইন সমস্যা সমাধানে অনেক দেশের কাছে সে সময় সহায়তা চেয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। কয়েকটি দেশ বিপুল অর্থের বিনিময়ে সহায়তা করতে রাজি হয়েছিল। তবে বাংলাদেশের তখন অর্থের ঘাটতি ছিল। তখন মানবিকতা দেখিয়ে শুধু সোভিয়েত ইউনিয়ন সহায়তায় এগিয়ে এসেছিল।

তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর মাইনমুক্ত করার ওই অভিযান চলেছিল ১৯৭২ সালের এপ্রিল থেকে ১৯৭৪ সালের জুন পর্যন্ত। সোভিয়েত নৌবাহিনীর ৮০০ জনের বেশি সদস্য ২৬ মাস ধরে মাইন সরানোর কাজ করেছিলেন। এ কাজ করতে গিয়ে তাঁদের একজনের মৃত্যু হয়েছিল। তবে সোভিয়েত নৌসদস্যরা শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছিলেন।

তবে এবার রুশ জাহাজগুলো পুরোপুরি বন্ধুত্বপূর্ণ এক সফরে বাংলাদেশে এসেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামে রাশিয়ার কনসাল আশিক ইমরান। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক যে খুবই উচ্চপর্যায়ে রয়েছে, তার প্রমাণস্বরূপ রুশ যুদ্ধজাহাজগুলোর বাংলাদেশ সফর।


আরও খবর



বাংলা ভাষার জন্য জাতির পিতা ও বঙ্গবন্ধু কন্যার অবদান

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ

Image

মোদের গরব মোদের আশা আমরি বাংলাভাষা' অতুল প্রসাদ সেনের এই কথা প্রতিটি বাঙালিরই মনের কথা। মা, মাটি আর মুখের বোল- এই তিনে মনুষ্য জন্মের সার্থকতা। নিজের মুখের ভাষার চেয়ে মধুর আর কিছু হতে পারেনা।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠী সচেতন ভাবে বাঙালির কাছ থেকে ভাষার অধিকার হরণ করতে চেয়েছিল। তারা চেয়ে ছিল সংখ্যালঘু জনগণের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে। কিন্তু তাদের সেই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন বাঙালির ত্রাণকর্তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

আজীবন মাতৃভাষাপ্রেমী এই মহান নেতা ১৯৪৭ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনা পর্বে, ১৯৪৮ সালে রাজ পথে আন্দোলন ও কারাবরণ, পরে আইন সভার সদস্য হিসেবে রাষ্ট্র ভাষার সংগ্রাম ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অতুলনীয় ভূমিকা রাখেন। এক কথায় রাষ্ট্র ভাষা বাংলার আন্দোলন ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর সক্রিয় অংশগ্রহণ ইতিহাসের অনন্য দৃষ্টান্ত।

২১ শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশসহ পশ্চিমবঙ্গ তথা সমস্ত বাংলা ভাষা ব্যবহারকারী জনগণের গৌরবোজ্জল একটি দিন। এটি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবেও সুপরিচিত। ভাষার জন্য ১৯৫২ সালে বাঙ্গালীর দেওয়া রক্ত আজ বিশ্বের কাছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। যা সম্ভব হয়েছে জাতির জনক ভাষা সৈনিক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানর সুযোগ্যা কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের গুনে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ উদ্যোগ ইতিহাস আবহমানকাল শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে।

১৯৯৯ সালেই উনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সে জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা ও যথেষ্ট অবদান রয়েছে। মনে হতে পারে যে এ সব কিছুই ঘটে গেছে রাতারাতি। কিন্তু এ দিনটিকে ইউনেস্কোর কাছে তুলে ধরতে, তাৎপর্য বোঝাতে, বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিতে জননেত্রী শেখ হাসিনার যে কত প্রতিকূলতা পার হতে হয়েছে, কত কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে, স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কতটা কাজ করতে হয়েছে তা অনেকেরই অজানা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার দায়িত্ব পালনের সময় (১৯৯৬-২০০১) জননেত্রী শেখ হাসিনা একুশে ফেব্রুয়ারি এবং বাংলা ভাষা আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসাবে ঘোষণা করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন কানাডার দু'জন বাঙালি প্রবাসী রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুস সালাম। তবে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থা বেসরকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে এ প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেনি। অনুরোধ / প্রস্তাব একটি সদস্য রাষ্ট্র থেকে জমা দিতে হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন এই বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন, তখন খুব বেশি সময় বাকি নেই। আসলে, হাতে ছিল মাত্র ২৪ ঘন্টা। আওয়ামীলীগ সরকার তখন প্রবাসীদের নেতৃত্বাধীন 'মাতৃভাষা সংরক্ষণ কমিটি'র সাথে যোগাযোগ করে এবং প্রস্তাবনাটি ১৯৯৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইউনেস্কোর কাছে প্রেরণ করে। জরুরি ভিত্তিতে আমাদের মিশন গুলিকে অন্যান্য সদস্য দেশগুলোর সাথে যোগাযোগের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল পাশাপাশি এই প্রস্তাবটির জন্য তাদের সমর্থন চাওয়া হয়েছিল।

ফল স্বরূপ, '৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনে প্রস্তাবটি পাশ হয়। পরের বছর অর্থাৎ ২০০০ সালে থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ 'উর্দু ভাষাকে' একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে ঘোষণা দিলে বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে শুরু হল তীব্র গণ আন্দোলন। বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা দানে প্রত্যয়ী ছাত্র সমাজ ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি এলে সরকারের নির্দেশে পুলিশ মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বারসহ নাম না জানা অনেকে নিহত হয়। অতঃপর ক্রমাগত আন্দোলনের ফলে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি (বাংলা ৮ই ফাল্গুন ১৩৫৮) অধুনা বাংলাদেশের সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, যার স্বীকৃতি পরবর্তী কালে পথ দেখালো সারা পৃথিবীকে, হয়ে রইল এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত। ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা-বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা, ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারি "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস" হিসাবে স্বীকৃতি দিল। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের ১৮৮ টি দেশে এই দিনটি পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবেই। কারণ, এ তো শুধু বাংলা ভাষার আন্দোলন নয়, মায়ের ভাষা, গানের ভাষা, আবেগের ভাষা, সাহিত্যের ভাষা পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় শহীদদের প্রতিটি রক্ত বিন্দু মাতৃদুগ্ধকে করিয়েছিল স্মরণ প্রতিটি বাংলা ভাষীর মনে এবং প্রাণে।

ভাষার ঐক্য, সম্প্রীতি, ভাষার মৌলিক অধিকার শিক্ষা, মানসিক ও নৈতিক বিকাশ এবং সর্বোপরি মাতৃভাষার প্রতি ভালবাসা - এই দিকগুলির প্রতি নজর রাখার সময় এসেছে হয়ত। কারণ, বিশ্বের প্রায় ৭০০ কোটি মানুষ আনুমানিক ৬০০০ ভাষায় কথা বলেন।

বাংলাদেশ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ, কমবেশি অসাম, ত্রিপুরা, মণিপুর, বিহার, ঝাড়খন্ড ও ওড়িশারাজ্য, মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলের রোহিঙ্গারাও বাংলা ভাষায় কথা বলেন। আবার, আফ্রিকার সিয়েরালিয়েনে বাংলা হল দ্বিতীয় সরকারী ভাষা। তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্য এই নয় যে, অন্য ভাষাভাষীদের কাছে বাংলা ভাষার গুরুত্ব বা প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা। পরিবর্তে শুধু এই বিষয়টার প্রতি নজর দেওয়া যে, বিভিন্ন ভাষাভাষী যত মাতৃভাষা রয়েছে সেগুলির গুণমান ও উৎকর্ষ তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ।

এই ভাষাতেই রবীন্দ্রনাথ লিখে গেছেন দুই দেশের ভারত ও বাংলাদেশের দুই জাতীয় সংগীত, "জনগণ মন অধিনায়ক জয় হে...." আর "আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি...."।

নিজের ভাষা নিয়ে বাঙালির গর্ব যতই থাক, পরিস্থিতির চাপে সেই ভাষার সর্বাত্মক চর্চায় বাঙালি আজ ব্যর্থ। বাংলার প্রতি এই অবহেলা কেন? উপলব্ধির অন্তর্লোকে উঁকি দিলে দেখা যাবে এই অবহেলার মূলকারণ প্রতিযোগিতা আর পেশার তাড়না। যাঁর সামর্থ্য বা সুযোগ আছে, তাঁর মধ্যেই নিজের সন্তানকে বাংলা মাধ্যমের বদলে ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া শেখানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থাটা যেমন সত্যি, তেমনি এটাও সত্যি যে দেশের বেশিরভাগ মানুষ প্রায় সব ক্ষেত্রেই বাংলানির্ভর। সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমও বাংলাই।

বাংলাকে শিক্ষা ও পেশার প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবহার্য করে তোলার প্রয়াস আমরা হারিয়ে ফেলেছি। ফলে কেউ চাইলেই বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিদ্যা, কারিগরি বা প্রযুক্তি বিদ্যা, আইন বা অন্য কোনো বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাংলায় চালানো সম্ভব নয়। ইংরেজির বাইরে রুশ, জার্মান, জাপানি, ¯প্যানিশ, ফরাসি ইত্যাদি ভাষায় প্রায় সব ধরনের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। নিজেদের মাতৃভাষাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের ব্যবহার্য ভাষা করে তুলতে পেরেছেন তাঁরা। তাঁরা নিজ ভাষায় বিজ্ঞানের গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে পারছেন। তাঁরা মাতৃভাষায় স্বচ্ছন্দে প্রকৌশল বিদ্যা পড়তে পারছেন। কারণ, ভাষা গুলো সেসবের উপযুক্ত হয়ে উঠেছে দিনে দিনে। আমরা মাতৃভাষাকে নিয়ে সেভাবে এগিয়ে যেতে পারিনি।

একুশে ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু আমাদের স্বকীয় চেতনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হলে বাংলাকে স্বয়ংস¤পূর্ণতার পথে নিয়ে যেতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে চাইলে তার উপযুক্ত পরিভাষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সেই শপথ নিয়ে যদি এগোনো যায়, তাহলেই বাংলা সর্বস্তরে ব্যবহার যোগ্য ভাষা হয়ে উঠতে পারবে।

যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ভাষা হিসেবে বাংলার এই প্রতিষ্ঠা ও স্বীকৃতি, যে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাংলা ভাষী জনগণ সেই ভাষার নামে একটি দেশ পেয়েছে; সেই সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ সব ভাষা শহীদকে জানাই আমাদের শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন বাস্তবায়ন করা গেলেই ভাষা শহীদদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানানো সার্থক হবে ও বাংলা ভাষার মর্যাদা সমূন্নত হবে।

২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জাতীয় জীবনে এক গৌরবদীপ্ত ঐতিহাসিক দিন। আমাদের জাতীয় জীবনে এ দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম। বুকের তাজা রক্ত ঝরিয়ে অর্জিত হয়েছে বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকার। এ দিবসে প্রত্যেক ভাষার মানুষ নিজের মাতৃভাষাকে যেমন ভালো বাসবে তেমনি অন্য জাতির মাতৃভাষাকেও মর্যাদা দেবে। এভাবে একুশকে চেতনায় ধারণ করে মাতৃভাষাকে ভালোবাসার প্রেরণা পাবে মানুষ।

নিউজ ট্যাগ: বাংলা ভাষা

আরও খবর



আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম

প্রকাশিত:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার অন্তত আরও দুই মাসের মধ্যে কমাবে না এমন ইঙ্গিত মেলায় তেলের দাম কমেছে।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের দিকে ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩৫ ডলার বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৮২ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমকি ৩৫ ডলার বা ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৭৭ দশমিক ২৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, নীতি নির্ধারকরা সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে অন্তত আরও দুইমাস সময় নিতে পারেন। তাদের এই সিদ্ধান্তে প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়ার পাশাপাশি তেলের চাহিদা কমতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে কিছু বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উচ্চ সুদের প্রভাবের মধ্যে এখনো তেলের দাম বেশি রয়েছে।

সপ্তাহের ভিত্তিতেও কমতে যাচ্ছে উভয় বেঞ্চমার্কের দাম। এর আগের দুই সপ্তাহ দাম বাড়তির দিকে ছিল। তবে চাহিদা ও সরবরাহ উদ্বেগের কারণে শিগগিরই দাম আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।


আরও খবর



দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে ঝুকি বেশি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

Image

এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলে রোগীর অবস্থা প্রথমবারের চেয়ে বেশি গুরুতর হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপের দিকে চলে যায়। সম্প্রতি ভ্যাকসিনসওয়ার্কের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ বা ধরন রয়েছে। শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা এসব ধরনের সঙ্গে লড়াই করে। প্রথম আক্রমণে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ায় দ্বিতীয় আক্রমণটি শক্তিশালী হয় এবং সেরোটাইপগুলো আগের ভাইরাস কণার সঙ্গে যুক্ত হয়। এভাবে শরীরে ডেঙ্গু আবারও বাসা বাঁধতে পারে। প্রথমটির বিরুদ্ধে দেহে আজীবন অ্যান্টিবডি তৈরি হলেও পরবর্তী তিনটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডির সক্ষমতা দুই মাসের কম হতে পারে। এ জন্য দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা থেকে যায়। এ ক্ষেত্রে সাইকোটিন নামক এক প্রকার প্রতিরোধক শরীরের জীবাণু প্রতিরোধী কোষকে সংকেত পাঠায়। এতে দেহে সাইকোটিন স্টর্ম তৈরি হয়। দুর্বল শরীরে এই প্রক্রিয়া বিপরীতমুখী কাজ করায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। 

আরও পড়ুন>> দেশে নতুন মাদক ব্ল্যাক কোকেন উদ্ধার

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতে প্রতিবছর ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। ২০২৩ সালে দেশ দুটিতে আগের তুলনায় বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের কোভিড-১৯ ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রূপান্তর করার প্রয়োজন পড়ে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৫৫ জন। এরমধ্যে ১৪ জন মারা গেছেন। 

আরও পড়ুন>> বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট

এর আগে, ২০২৩ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল ভর্তি হন রেকর্ড তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা এক লাখ ১০ হাজার ৮ জন এবং ঢাকার বাইরের দুই লাখ ১১ হাজার ১৭১ জন। এদের মধ্যে মারা গেছেন এক হাজার ৭০৫ জন। তার আগে ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে ৬২ হাজার ৩৮২ জন আক্রান্ত এবং ২৮১ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া ২০২১ সালে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। ওই বছর ডেঙ্গুতে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়।


আরও খবর



পিনাকী ভট্টাচার্যসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
সিলেট প্রতিনিধি

Image

বিদেশে অবস্থানরত লেখক ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্যসহ সাতজনের বিরুদ্ধে সিলেটে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

আজ রোববার সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেছেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সিলেট জেলা সহসভাপতি ও মহানগরের কুয়ারপারের বাসিন্দা আব্দুর রহমান।

সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. মনির কামাল মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য সিআইডি জোন সিলেটকে নির্দেশ দেন।

সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ এর ২৪,২৫, ২৬,২৯, ৩১ ও ৩৩ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন তিনি।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি বিকৃত ও এডিট করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে নানা কটূক্তিমূলক উপাখ্যান দিয়ে ফেসবুকে প্রচার ও ভাইরাল করার প্রতিবাদে এবং আইনি প্রতিকার দাবির বিষয়টি এ মামলায় উল্লেখ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী সিলেট জেলা বারের টিপু রঞ্জন দাশ। বাদীপক্ষে আরও রয়েছেন সিলেটের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান।

পিনাকী ভট্টাচার্য ছাড়াও মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেননাজমুল ইসলাম, শাহরিয়ার হোসেন সাকিব (এসএইচ), ফেসবুক পেজ ফাইট ফর ডেমোক্রেসি এর অ্যাডমিন শাকিল আহমেদ, মো. হাসান মিয়া (হাসান), মো. আব্দুল হাদী ও মো. রেজাউল করিম।


আরও খবর
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে কয়েদির মৃত্যু

সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




পাকিস্তানে থানায় সন্ত্রাসী হামলায় ১০ পুলিশ সদস্য নিহত

প্রকাশিত:সোমবার ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার ডেরা ইসমাইল খান জেলার একটি থানায় গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলায় কমপক্ষে ১০ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত আরও ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জিও নিউজের বরাত দিয়ে এ খবর জানা গছে।

পুলিশের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ভোর ৩টার দিকে সন্ত্রাসীরা ভারী অস্ত্র নিয়ে তহসিল দারাবনে থানা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে ১৬ পুলিশ সদস্য হতাহত হয়েছেন। আহত ৬ জনকে ডিএইচকিউ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানিয়েছে, সন্ত্রাসীরা চারদিক থেকে গ্রেনেড ও ভারী গুলি নিয়ে থানায় হামলা চালায়। পুলিশও পাল্টা জবাব দেয় কিন্তু সন্ত্রাসীরা রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, তারা এলাকাটি ঘিরে রেখেছে এবং পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের খুঁজে বের করার জন্য একটি তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। অভিযানে আরও বাহিনী যোগ দিবে।

পুলিশ লাইনে নিহত পুলিশ সদস্যদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।


আরও খবর