আজঃ সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

নওগাঁয় চাতালঘর থেকে নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

প্রকাশিত:রবিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
ফয়সাল আহম্মেদ, নওগাঁ প্রতিনিধি

Image

নওগাঁর মহাদেবপুরের একটি চাউল চাতালের ঘর থেকে লাইলী বেগম (৪৮) নামের এক নারী শ্রমিকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এঘটনার পর থেকে নিহত লাইলী বেগমের স্বামী আমজাদ হোসেন পলাতক রয়েছে। নিহত লাইলী বেগম পাশ্ববর্তী মান্দা থানার কসব মধ্য পাড়া গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের মেয়ে।

স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, নিহত লাইলী বেগম চকগৌরী ইউপি পরিষদের পাশে অবস্থিত জনৈক উজ্জল হোসেনের চাতালে কাজ করতো। মাঝেমধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগেই থাকতো। প্রতিদিনের মতো শনিবার দিবাগত রাতে তারা তাদের ঘরে ঘুমিয়ে পরে। আজ সকালে তাদের ঘরের দরজার বাহিরে ছিটকিনি দেওয়া দেখে অন্যদের সন্দেহ হয়। এরপর তারা তাদের খোজাখুজি করে না পেয়ে তাদের দরজার পাশের ফুটো দিয়ে দেখলে দেখতে পায় ঘরের মেঝেতে লাইলীর গলাকাটা মরদেহ পড়ে আছে।

তাৎক্ষণিকভাবে তারা নওহাটা ফাঁড়ি পুলিশকে সংবাদ দেয়। সংবাদ পেয়ে সাথে সাথেই মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাফফর হোসেনসহ ফাঁড়ি পুলিশের এসআই জিয়াউর রহমান জিয়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে নিহতের মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দুপুর ১২টার দিকে জেলা মর্গে প্রেরণ করেন।

সত্যতা নিশ্চিত করে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাফফর হোসেন বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে নওহাটা ফাঁড়ি পুলিশসহ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছে। তাকে পেলে এ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য জানা যাবে এবং এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।


আরও খবর
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে কয়েদির মৃত্যু

সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




শেখ হাসিনাকে চিঠি পাঠিয়ে যা বললেন বাই‌ডেন

প্রকাশিত:রবিবার ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে চিঠি দিয়েছেন তিনি। চিঠিতে একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে বাংলাদেশের অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন জো বাইডেন। বাইডেনের লেখা চিঠিটি ঢাকার মা‌র্কিন দূতাবাস সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ে হস্তান্তর ক‌রে‌ছে।

বাইডেন তার চিঠিতে লিখেছেন, বাংলাদেশের উচ্চাভিলাসী অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলোতে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য আমাদের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদার হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারত্বের পরবর্তী অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য এবং আরও অনেক বিষয়ে তাদের কাজ অব্যাহত রাখার আন্তরিক আকাঙ্ক্ষার কথা জানাতে চান তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, সমস্যা সমাধানে আমাদের একসঙ্গে কাজ করার দীর্ঘ ও সফল ইতিহাস রয়েছে এবং আমাদের জনগণের সঙ্গে জনগণের শক্তিশালী বন্ধনই এই সম্পর্কের ভিত্তি।


আরও খবর



প্রবাল দ্বীপে নিখোঁজ বনবিভাগের নারী কর্মকর্তা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
কক্সবাজার প্রতিনিধি

Image

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণে গিয়ে মাহমুদা আক্তার হ্যাপী (৩১) নামে এক নারী বন কর্মকর্তা নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ মাহমুদা আক্তার হ্যাপী ৪১তম বিসিএস ক্যাডার। তিনি ঢাকা বনবিভাগে কর্মরত আছেন। রবিবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে তার খোঁজ মিলছে না। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুকুর রহমান।

তিনি জানান, ‌গত ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে ৭১ জনের একটি টিম সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণে যায়। সে টিমে মাহমুদা আক্তার হ্যাপীও ছিলেন। তারা হোটেলে এবং কয়েকটি রিসোর্টে উঠেন। রবিবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি বন্ধুর সাথে দেখা করার কথা বলে রিসোর্ট থেকে বের হন। বিকাল পর্যন্ত তিনি ফিরে না আসায় তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বন্ধুর সাথে আছেন বলে জানান। কিন্তু এর এক ঘণ্টা পর তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ উসমান গনি বলেন, গত ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে মাহমুদা আক্তার হ্যাপী সহ তিন বান্ধবী একসাথে সেন্টমার্টিন দ্বীপের একটি হোটেলের কক্ষে ছিলেন। সেদিন রাতে হ্যাপী সবার আগে ঘুমিয়ে গেলেও অন্য দুই বান্ধবীর ঘুমাতে দেরি হয়। আর ওই দুই বান্ধবী সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে রুমে হ্যাপী নেই। তার কাপড় চোপড় ও ব্যাগ গোছানো। পরে সাড়ে ৯টার দিকে এক বান্ধবীর ফোনে হ্যাপীর নাম্বার থেকে একটি ম্যাসেজ আসে, আমি গোসল করে রুমে ফিরব। এরপর থেকেই হ্যাপীর আর কোনো হদীস নেই।

তিনি আরও বলেন, হ্যাপীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নম্বরটি ট্র্যাকিং করে দেখা গেছে তার সর্বশেষ অবস্থান কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট। আমরা তার অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি জানার পর টেকনাফ থানায় একটি ডায়েরি করা হয়। এরই সূত্র ধরে কাজ করছে পুলিশ।


আরও খবর
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে কয়েদির মৃত্যু

সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




স্বর্ণ কেনার সেরা সময় এখনই

প্রকাশিত:শনিবার ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

Image

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মহামূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে স্বর্ণ। নেপথ্যে রয়েছে নানা কারণ। বিশেষ করে ধাতুটির দাম কখনও কমে না। অধিকন্তু অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় ব্যাপক আর্থিক নিরাপত্তা দেয় এটি। যুগ যুগ ধরে স্বর্ণের চাহিদা রয়েছে। কারণ, এটি সবসময় কেনা ও বেচা যায়। ফলে সময়ের পরিক্রমায় দামি সম্পদে পরিণত হয়েছে নিরাপদ আশ্রয় ধাতুটি।

তবে স্বর্ণ কেনা সবসময় লাভজনক নয়। নির্দিষ্ট কিছু সময়ে এটি কিনলে ব্যাপক মুনাফা করা যায়। অর্থাৎ মোটা অংকের লাভের মুখ দেখা যায়। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাদ্যম সিবিএসের এক প্রতিবেদনের আলোকে তা আলোচনা করা হলো।

১. গত ডিসেম্বরের শেষদিকে ১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছিল স্বর্ণের দাম। সেই থেকে এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাতুটির দর কমেছে ৬০ ডলার ০৯ সেন্ট বা ২ দশমিক ৮৯ শতাংশ। বর্তমানে বুলিয়ন বাজার নিম্নমুখী রয়েছে। তবে অদূর ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে না। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। ফলে এখন কিনে রাখলে সামনে সেটি বিক্রি করে লাভবান হওয়া যাবে।

২. মূল্যস্ফীতি বাড়লে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পায়। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, আগামী দিনেও পণ্যদ্রব্যের দর ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। তাদের আভাস আমলে নিয়ে নিশ্চিত বলা যায়, সামনে স্বর্ণের মূল্যও বৃদ্ধি পাবে। তাই এখন কিনে রাখলে নিকটবর্তী সময়ে অধিক মুনাফা করা যাবে।

৩. বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করলে লোকসানের ঝুঁকি কম থাকে। যেমন-শেয়ারবাজারে যেকোনো মুহূর্তে ধস নামতে পারে। আবার অনেক সময় বন্ডে বিনিয়োগ করেও প্রত্যাশা অনুযায়ী মুনাফা পাওয়া যায় না। কিন্তু স্বর্ণ ব্যবসায় ক্ষতির সম্ভাবনা কম। ফলে বিনিয়োগেও বৈচিত্র্য আনতে হয়। এতে এক পণ্য মুখ থুবড়ে পড়লেও অন্য পণ্যে লাভ হয়। এক্ষেত্রে উত্তম মাধ্যম স্বর্ণ। তাতে কখনও লোকসান গুনতে হবে না।

৪. বিদায়ী ২০২৩ সালের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ১৮৩৪ ডলার। গত বছরের শেষদিকে তা ছিল ২০১৯ ডলার। এ সময় মূল্যবান ধাতুটির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১৮৪ ডলার বা ১০ শতাংশ। নেপথ্য কারণ বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক সংকট বিদ্যমান। শিগগিরই এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে হচ্ছে না। এর মানে অদূর ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম আরও বাড়বে। সবমিলিয়ে দুঃসময়ের বন্ধু ধাতুটি কেনার সেরা সময় এখনই।


আরও খবর
২৪ দিনে প্রবাসী আয় ১৮ হাজার কোটি টাকা

রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




গাজায় অভিযানে ২৩৫ ইসরায়েলি সেনা নিহত

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলে আরও এক সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। ওই সেনার নাম সার্জেন্ট সিমোন স্লোমোভ, বয়স ২০ বছর। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ২৩৫ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। খবর আল জাজিরার।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপর থেকেই গাজায় অভিযানের নামে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।

এদিকে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হাতে জিম্মি থাকা লোকজনকে মুক্তি দেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছে ইসরায়েল। আগামী ১০ মার্চের মধ্যে সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। ইসরায়েলের যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রিসভার সদস্য বেনি গান্তজ হুঁশিয়ারি দিয়েছে বলেছেন, হামাস যদি এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গাজায় আটক সব জিম্মিকে মুক্তি না দেয় তবে রাফায় তীব্র আক্রমণ চালানো হবে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, হামাসের হাতে জিম্মিদের কোথায় রাখা হয়েছে সে বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। নাসের হাসপাতালে তাদের অভিযানকে সুনির্দিষ্ট এবং সীমিত হিসাবে বর্ণনা করেছে আইডিএফ। ইসরায়েলের দাবি ওই হাসপাতালকে সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহার করছে হামাস।

ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গান্তজ রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বকে অবশ্যই জানতে হবে এবং হামাস নেতাদের অবশ্যই জানা উচিত যে, যদি রমজানের মধ্যে আমাদের জিম্মিরা বাড়ি ফিরতে না পারে তবে রাফাসহ সর্বত্র তীব্র লড়াই চলবে।

চলতি বছরের ১০ মার্চ গাজায় রমজান শুরু হচ্ছে। ইসরায়েলের যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রিসভা দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় হামাস। এতে কমপক্ষে ১২০০ জন নিহত এবং ২৫৩ জনকে জিম্মি হিসেবে অপহরণ করা হয়। হামাসের হাতে এখনও প্রায় ১৩০ জন জিম্মি বন্দি রয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।

গাজার জনাকীর্ণ দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরে কবে সৈন্যরা প্রবেশ করতে পারে সে বিষয়ে প্রথম বারের মতো পরিষ্কার তথ্য দিলো ইসরায়েল। রাফায় এ ধরনের হামলার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সমালোচনা শুরু হয়েছে। শহরটিতে বর্তমানে ১৫ লাখ ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছে।

এর আগে জাতিসংঘের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি অভিযানের পর গাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ণ করতে রাফা শহরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।


আরও খবর



বৈশ্বিক পোশাকখাতের পাওয়ার হাউস বাংলাদেশ: ডব্লিউইএফ

প্রকাশিত:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

Image

বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্প বৈশ্বিক পোশাকখাতের পাওয়ার হাউসে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব অর্থনৈতিক সংস্থা (ডব্লিউইএফ)।

সম্প্রতি ডব্লিউইএফ বাংলাদেশের দারিদ্র্য থেকে টেক্সটাইল পাওয়ার হাউসে অতিক্রম করণ আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য শিক্ষার শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের পাওয়ার হাউসে পরিণত হওয়ায় বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নেমেছে এবং মোট দেশজ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারমুখী নীতি, বেসরকারিকরণ, বাণিজ্য উদারীকরণ এবং কৌশলগত বৈদেশিক বিনিয়োগ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ও শিল্প প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার মূল চাবিকাঠি ছিল।

ডব্লিউইএফর ব্লগে ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশনের (আইএফসি) ম্যানুফ্যাকচারিং ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ট্রেড সাপ্লায়ার ফাইন্যান্সের গ্লোবাল ম্যানেজার ফেমি আকিনরেবিয়ো বলেছেন, যেহুতু বাংলাদেশ তার অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় এবং ভ্যালু চেইনে আরোহণ করতে চায়, সে জন্য আফ্রিকা পোশাক শিল্পের পরবর্তী সীমানা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যা একই ধরনের আন্তর্জাতিক সমর্থন থেকে উপকৃত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সত্তরের দশকের শুরুতে ৯ মাস যুদ্ধের পর পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। সে সময় দেশটি অত্যন্ত দরিদ্র ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। তখন দেশেটির অর্থনীতির মুলভিত্তি ছিল পাট, যা জনগণকে খাদ্য যোগাতেও অক্ষম ছিল। এরপর ১৯৭৪ সালে দেশটি এমন একটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে যাকে পরমাণু হামলার পরের সকালের মতো বর্ণনা করেছিলেন ওই সময় দেশটিতে সফররত বিশ্বব্যাংকের একজন অর্থনীতিবিদ। এর কিছু বছর পর বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য একটি সরকারী প্রচারণা ফলপ্রসূ হয়েছিল। যা দেশটির কৃষি অর্থনীতিকে টেক্সটাইল এবং পোশাক উৎপাদনে পাওয়ার হাউসে রূপান্তরিত করেছে। এ শিল্পকে এমন একটি অলৌকিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রত্যাবর্তন হিসাবে বর্ণনা করা যেতে পারে যা আজ উন্নয়নশীল দেশগুলো অনুকরণ করার চেষ্টা করছে।

আকিনরেবিয়ো বলেন, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির মূলে রয়েছে দেশটির শিল্পের বেসরকারিকরণ, বাণিজ্য উদারীকরণ ও বাজারমুখী নীতি। রেডি-টু-ওয়্যার পোশাক বৃদ্ধির ইঞ্জিন হয়ে সুতির টি-শার্ট, প্যান্ট, পুলওভার এবং ডেনিম তার প্রিয় স্পট হয়ে উঠেছে। গত এক দশকে দেশটি তার অর্থনীতিকে বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম দেশে উন্নীত করেছে। লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করেছে এবং দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। কোভিড-১৯ মহামারীর আগে দেশটির অর্থনীতি বার্ষিক ৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল, জিডিপি বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলারে উন্নীত হয়েছিল, যা ভারতকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশই আসে শুধু পোশাক থেকে। চূড়ান্তভাবে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের লক্ষ্য উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হওয়া। আর এর মুল অস্ত্র দেশটির পোশাক খাত। তবে সফল শিল্পায়ন নীতির জন্য ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য বাংলাদেশ। এগুলোর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা এবং রফতানি অঞ্চলগুলোতে যন্ত্রপাতি আমদানির শুল্কমুক্ত অনুমতি দেওয়া।

আইএফসির এ কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ৩ হাজার ৫০০টিরও বেশি কারখানায় ৪০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান করেছে। দেশটি ১৬৭টি দেশে ৪৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। পোশাক কাটা, সেলাই ও একত্রিত করা কঠিন এবং ক্লান্তিকর ও সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভর করে সাধারণত রফতানি-নেতৃত্বাধীন বৃদ্ধির মডেলগুলো চিরকাল স্থায়ী হয় না। তবে বাংলাদেশ সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে রয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ আসেন ফেমি আকিনরেবিয়ো। সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে মূলত নারী শ্রমশক্তির আধিপত্য রয়েছে, যাদের কাজে কারখানার ফ্লোর থেকে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি উপকৃত হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএফসি) কর্মসূচি কারখানায় কাজের পরিবেশ উন্নত করেছে, লিঙ্গ বৈচিত্র্যকে উন্নত করেছে এবং নারীদের জন্য ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই অভিন্ন সমৃদ্ধির সামাজিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী। প্রতিবেশি দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের নারীরা বেশি শিক্ষিত, দেশটির তিন-চতুর্থাংশ নারী শিক্ষিত। প্রতিবেশিদের তুলনায় দেশটির নারীদের শিক্ষা গ্রহণ, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং স্বাস্থ্যবান সন্তান ধারণের সম্ভাবনা বেশি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামান্য সহায়তায় উন্নয়নের সামাজিক ও টেকসই সুফল পোশাক উৎপাদনকারী দেশগুলোর পরবর্তী ক্লাস্টারে স্থানান্তরিত হবে।


আরও খবর
২৪ দিনে প্রবাসী আয় ১৮ হাজার কোটি টাকা

রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪