আজঃ বুধবার ২৫ মে ২০২২
শিরোনাম

নওগাঁয় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৩ মে ২০২২ | ৩৮০জন দেখেছেন

Image

নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁর পোরশায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন স্থানীয় পশ্চিম দুয়ারপাল ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ (৩৫) ও রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর নূহ (৫৫)।

শুক্রবার (১৩ মে) সকাল ১০ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকে আব্দুস সামাদ ও আব্দুর নূহ ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় পুনর্ভবা নদীর ধারে পাশাপাশি জমিতে ধান কাটছিলেন। এসময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি মধ্যে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তারা। পরে মাঠের অন্যান্য কৃষক ও শ্রমিকরা মৃতদেহ উদ্ধার করে।

পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হামিদ রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারী সহযোগিতা প্রদান করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।


আরও খবর
সাপাহারে আমের কেজি ২ টাকা

শুক্রবার ২০ মে ২০22




আসছে বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৫ মে ২০২২ | ৬৭৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আন্দামান সাগরে শুক্রবার (৬ মে) সৃষ্টি হতে পারে সম্ভাব্য লঘুচাপ। আর এই লঘুচাপের ফলে সৃষ্টি হতে পারে বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আসানি। বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস ধারণা করছে, এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা ও বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (৫ মে) আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুখ বলেন, দক্ষিণ আন্দামান সাগরের সম্ভাব্য লঘুচাপটি আগামীকাল সৃষ্টি হতে পারে। এখন পর্যন্ত সৃষ্টি হতে যাওয়া লঘুচাপটি পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা ও বাংলাদেশের দিকে মুখ করে আছে। তবে এর গতিপথ একেক সময় একেক দিকে দেখাচ্ছে। এজন্য বলা মুশকিল, এটি তৈরি হলেও আসলে কোন দিকে যাবে। তবে আমাদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এটি পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা ও বাংলাদেশে আসবে।

বাংলাদেশে প্রবেশ করলে ঘূর্ণিঝড়টি কোন দিকে আঘাত হানতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনও সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না, এটি কোন দিকে আঘাত হানবে। যেকোনো দিকে আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের পশ্চিম অঞ্চলে যেতে পারে আবার পূর্বাঞ্চলেও যেতে পারে। এটি আগামী ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

আগামী ২৪ ঘণ্টা দেশের আবহাওয়ার পরিস্থিতি কেমন থাকবে জানতে চাইলে ওমর ফারুখ বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হবে।

নিউজ ট্যাগ: ঘূর্ণিঝড় আসানি

আরও খবর



জব্দকৃত স্বর্ণ স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেবে চট্টগ্রাম কাস্টম

প্রকাশিত:বুধবার ২৭ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২৭ এপ্রিল ২০২২ | ৫৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

অবৈধ আমদানি অথবা চোরাচালানের মাধ্যমে আমদানিকৃত স্বর্ণবারসহ স্বর্ণালংকার আটকের ঘটনা প্রায় দেখা যায়; যা পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়। রাষ্ট্রের যেই সংস্থা আটক করুক না কেন, এসব স্বর্ণের শেষ গন্তব্য হয় বাংলাদেশ ব্যাংকে। তবে দীর্ঘদিন ধরে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ চট্টগ্রাম এলাকায় আটককৃত স্বর্ণ বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রামে অস্থায়ীভাবে জমা দেয়া হলেও তা স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকায় জমা দেয়া হয়নি। এবার এসব স্বর্ণ স্থায়ীভাবে ঢাকার জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।

সূত্রে জানা যায়, কাস্টম ও বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক আটককৃত এবং রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তকৃত স্বর্ণবার ও স্বর্ণালংকার স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকায় জমা দান এবং বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর হওয়ায় এ কার্যক্রমে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সহায়তা ও পরিবহন কাজে হেলিকপ্টার ব্যবহারের অনুমতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালকে অনুরোধ করার জন্য চট্টগ্রাম কাস্টম কমিশনার এনবিআর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে।

ওই চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ চট্টগ্রাম এলাকায় আটককৃত স্বর্ণ বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রামে অস্থায়ীভাবে জমা দেয়া হলেও তা স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকায় জমা দেয়া হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রামে অস্থায়ীভাবে জমাকৃত স্বর্ণবার ও স্বর্ণালংকার ১৮টি লট/জিআর ভুক্ত এক হাজার ৭৭৩ পিস স্বর্ণবার প্রতিটি ১০ তোলা হিসেবে ১৭ হাজার ৭৩০ তোলা বা ২০৬ কেজি ৮০ গ্রাম এবং ৮০ গ্রাম স্বর্ণালংকারের (চেইন ১৮টি ও কানের দুল আট জোড়া) ইনভেন্ট্রি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ইতোমধ্যে শেষ করেছে। ইনভেন্ট্রিকৃত এসব স্বর্ণের আনুমানিক বাজার মূল্য ১১৫ কোটি টাকা। এসব অস্থায়ীভাবে জমাদানকৃত স্বর্ণ বাংলাদেশ ব্যাংকে স্থায়ীভাবে জমাদান করলে তা সরকারের রাজস্ব আহরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে চিঠিতে কমিশনার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস, কাস্টম গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর অথবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস গ্রুপ ৮-বি ও কাস্টোডিয়ান শাখার দায়িত্বে থাকা এবং উক্ত কাজের সমন্বয়কারী এন্ট্রি মানি লন্ডারিং বিশেষজ্ঞ উপ-কমিশনার নূর-উদ্দিন মিলন বলেন, চট্টগ্রাম এলাকায় যেসব স্বর্ণ জব্দ বা উদ্ধার করা হয়, সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রামে জমা দেয়া হয়। আমাদের ধরণা ছিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের যে কোনো শাখায় জমা দিলেই হয়। যার রাষ্ট্রের অনুকূলে চলে যাবে। কিন্তু ব্যাপারটা এমন নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম শুধু কাস্টোডিয়ান মাত্র, তারা এ স্বর্ণ কোনো কাজে লাগাতে পারবে না। ফলে শতকোটি টাকা অধিক মূল্যে এসব স্বর্ণ রাষ্ট্রের কোনো উপকারে আসছে না।

এদিকে দীর্ঘ বছর ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম শাখার কাস্টম কর্তৃক আটককৃত স্বর্ণবার ও স্বর্ণালংকার পড়ে আছে। তাই এ স্বর্ণগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকায় জমা দেয়ার সিদ্ধন্ত হয়েছে। তবে বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ ও একই দিনে জমাদানের বিধান রয়েছে। তাই উক্ত কাজে র‌্যাব ও র‌্যাবের হেলিকপ্টার চাওয়া হয়েছে। তারপর বাংলাদেশ ব্যাংক স্বর্ণগুলো নিলাম করে সরকারের রাজস্ব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিস্যা বুঝিয়ে দেবে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম কমিশনার মো. ফখরুল আলম বলেন, স্বর্ণগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রামে পড়ে থাকায় রাষ্ট্র রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই এগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঢাকা শাখায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম শাখার শুধু ২০৬ কেজি নয়, আর অধিক পরিমাণ স্বর্ণ জমা রয়েছে। মামলা ও আইনি জটিলতা থাকায় সেগুলোর কোনো কার্যক্রম করা যাচ্ছে না। যে স্বর্ণগুলোর কোনো প্রকার আইনি জটিলতা নেই, শুধু সেই স্বর্ণগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। এতে সরকারের রাজস্ব খাতে ১১৫ কোটি টাকা যোগ হবে।

নিউজ ট্যাগ: বাংলাদেশ ব্যাংক

আরও খবর



তাইওয়ান দখলের চিনা পরিকল্পনা ফাঁস

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৪ মে ২০২২ | ২০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

জাপানে চতুর্দেশীয় অক্ষ কোয়াডের শীর্ষবৈঠক চলাকালীনই সামনে এল তাইওয়ান দখলের চিনা পরিকল্পনা! একটি চ্যানেলে ফাঁস হওয়া অডিয়োয় একদলীয় চিনের শাসক কমিউনিস্ট পার্টি এবং সে দেশের সেনাকর্তাদের তাইওয়ান দখলের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে শোনা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের দাবি, চিনা কমিউনিস্ট পার্টির এক নেতা অডিয়োটি ফাঁস করেছেন।

গুয়াংদং প্রদেশের গভর্নর, কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক, চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র মেজর জেনারেল স্তরের এক সামরিক কমান্ডারের কথোপকথনে তাইওয়ান দখলের পরিকল্পনার এসেছে। ড্রোন এবং নৌবাহিনীকে সংগঠিত করার পাশাপাশি তাইওয়ানের উপর নজরদারির কাজে একাধিক উপগ্রহ ব্যবহারের কথাও এসেছে আলোচনায়।

দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানের নিকটবর্তী মূল চিনা ভূখণ্ড গুয়াংদং প্রদেশকে ভিত্তি করেই পিএলএ সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি চালাচ্ছে বলেও কমিউনিস্ট পার্টি এবং চিনা সেনার আধিকারিকদের আলোচনার ফাঁস হওয়া অডিয়ো থেকে জানা যাচ্ছে। গুয়াংদং প্রদেশে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার সেনা, যুদ্ধজাহাজ-সহ বিভিন্ন ধরনের ৯৫৩টি জলযান, বিপুল পরিমাণে সামরিক সরঞ্জাম এবং জ্বালানি তেল মজুত করা হয়েছে বলে ওই আলোচনা থেকে জানা যাচ্ছে।

ওই অডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পরে সোমবার টোকিয়োয় কোয়াড শীর্ষবৈঠকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, চিন হামলা করলে আমেরিকা সামরিক ভাবে তাইওয়ানকে রক্ষা করবে। প্রসঙ্গত, ওই বৈঠকে বাইডেনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী হাজির ছিলেন।

গত কয়েক মাস ধরেই তাইওয়ানের উপর প্রতিনিয়ত চাপ বাড়াচ্ছে চিন। হামলার হুমকির পাশাপাশি ধারাবাহিক ভাবে চলছে আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা। স্বশাসিত তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীন অঞ্চল বলেই মনে করে। যদিও তারা এখনও চিনের মূল ভূখণ্ড থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বাধীনতার কথা ঘোষণা করেনি। অন্য দিকে বেজিংয়ের দাবি, তাইওয়ান অবিচ্ছেদ্য চিনের অংশ। চিনা প্রেসিডেন্ট শি চিনফিংও একাধিক বার তাইওয়ানকে সংযুক্ত করার নীতির কথা ঘোষণা করেছেন।


আরও খবর



মে মাসে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা

প্রকাশিত:সোমবার ০২ মে 2০২2 | হালনাগাদ:সোমবার ০২ মে 2০২2 | ৫৭০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মে মাসের ৬-৭ তারিখে এ অঞ্চলে একটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। আর ১২ মের মধ্যে তা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত আন্দামান-নিকোবর দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হতে পারে এই ঝড়, যার সম্ভাব্য গতি হবে ৩৪ নটিক্যাল মাইল এবং স্থলভাগে আঘাত হানার আগে গতি হবে ঘণ্টায় ১৭৫ কিলোমিটার।

এ ঝড়ের নাম শ্রীলঙ্কান আবহাওয়া অধিদফতর দিয়েছে আসানি। আসানি সিংহলি ভাষার শব্দ যার অর্থ অত্যন্ত রাগান্বিত বা ক্ষুদ্ধ।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. আবুল কালাম মল্লিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, আগামী ৬ থেকে ৭ মের মধ্যে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি লঘুচাপ তৈরি হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এটি সুনির্দিষ্ট লঘুচাপের পর ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষা ও বাংলাদেশের উপকূলে চলতি মাসের ১০ থেকে ১২ মের মধ্যে আঘাত হানতে পারে।

তিনি বলেন, যদি এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা ও বাংলাদেশ উপকূল বরাবর দিকটা তৈরি হতে পারে। কিন্তু এই মুহূর্তেই এই পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, গত কয়েক বছরে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে যে লঘুচাপগুলো দেখা গেছে, সেগুলো ক্ষণে ক্ষণে চরিত্র, বৈশিষ্ট্য ও দিক পরিবর্তন করেছে। এ জন্যই বলা যাচ্ছে না যে, এটা আদৌ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কি না। তবে বর্তমান তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী শক্তি অর্জন করে এটির ঘূর্ণিঝড় হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।


আরও খবর



শাহপরী: ছোট দ্বীপে বড় উদ্বেগ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | ৩৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশকে আলাদা করেছে নাফ নদী। এ নদীর মোহনায় অবস্থিত শাহপরীর দ্বীপ। ১৯৯২ সালে যখন দেশে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটে, তখন বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল টেকনাফের এ দ্বীপকে। সবশেষ ২০১৭ সালেও এটি হয়ে ওঠে রোহিঙ্গা প্রবেশের অন্যতম পথ। কেবল রোহিঙ্গাদের জন্যই নয়, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া কিংবা থাইল্যান্ডে অভিবাসনপ্রত্যাশীদেরও পছন্দের রুট এটি। এ পথ ব্যবহার করেই নিয়মিত মানব পাচারের ঘটনা ঘটছে। শুধু তা-ই নয়, ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ বা আইসসহ বিদেশী বিভিন্ন ধরনের মাদক এ পথ দিয়েই প্রবেশ করে বাংলাদেশে। ফলে বঙ্গোপসাগরের উন্মুক্ত জলরাশির সীমানায় অবস্থিত শাহপরীর দ্বীপটি ক্রমেই দেশের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য বলছে, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত পার হয়ে অস্ত্র ও মাদক ঢুকছে সেন্টমার্টিন, শাহপরীর দ্বীপ করিডরে। পরবর্তী সময়ে এসব মাদক ও অস্ত্রের চালান চলে যাচ্ছে টেকনাফের জালিয়াপাড়া, হোয়াক্ষ্যংয়ের জিমনখালী, নয়াপাড়া, আমতলী এলাকায়। সেখানে কয়েক হাত ঘুরে মাদক ও অস্ত্রের চালান ছড়িয়ে দেয়া হয় পুরো দেশে। গত চার বছরে শুধু কোস্টগার্ডের অভিযানেই কক্সবাজারের সমুদ্র এলাকা থেকে ১ কোটি ৭২ লাখ ৭ হাজার ৪৮১ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। মিয়ানমার থেকে ইয়াবার পাশাপাশি এখন ভয়ংকর মাদক আইসের চালান দেশে ঢুকছে শাহপরীর দ্বীপ হয়ে। গত বছর সেখান থেকে এক কেজি আইস উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। গুরুত্বপূর্ণ একটি সীমানা পয়েন্ট এভাবে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কাজে ব্যবহার হওয়াকে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। শাহপরীর দ্বীপে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি মাদক বা অস্ত্র চোরাচালান রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ২৭ এপ্রিল ভোররাতে শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণপাড়ায় অভিযান চালিয়ে এক লাখ ইয়াবা ও পাঁচ কেজি গাঁজা আটক করে পুলিশ। শাহপরীর দ্বীপের পাশাপাশি লম্বাবিল, কানজরপাড়া, মিনাবাজার, হূীলা লেদা, জাদিমুড়া, মমিয়া, টেকনাফ সদর, সাবরাং ও সাগর পথ দিয়েও নিয়মিত ঢুকছে মাদক। ঈদকে কেন্দ্র করে গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহেই প্রায় তিন লাখ ইয়াবা, আড়াই কেজির বেশি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, বিদেশী মদ ও বিয়ার জব্দ করার পাশাপাশি রোহিঙ্গাসহ ১৬ জনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদকের পাশাপাশি দেশে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশেরও অন্যতম নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে শাহপরীর দ্বীপের এ করিডর।

তবে শাহপরীর দ্বীপ ও এর আশপাশের সমুদ্র এলাকায় মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচারকারীদের তত্পরতা ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার লাবিব উসামা আহমাদুল্লাহ্। তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধের বিষয়ে আগাম তথ্য সংগ্রহের জন্য গোয়েন্দা কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়। এরপর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়। ফলে এলাকার অপরাধপ্রবণতা আগের চেয়ে অনেক কমেছে।

গত ছয় মাসে শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়ে আড়াই লাখ পিস ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার বলেন, মাদক ও মানব পাচার রোধে শাহপরীর দ্বীপে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেকনাফ সীমান্তের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া ও ঘোলারপাড়া নামে দুটি চোরাই পয়েন্ট রয়েছে। এগুলো বহুল আলোচিত হলেও এখনো এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট এ দুটি পয়েন্ট দিয়েই হাজার হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

দেশে প্রবেশের এ রুট ইয়াবা, মানব পাচারের ট্রানজিট ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের মূল পয়েন্ট হয়ে ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর সরকারের পক্ষ থেকে এসব প্রতিরোধে কার্যক্রম বাড়ানো হয়। দেখা যায়, অভিযানের কিছুদিন মাদক চোরাচালান ও মানব পাচার কমে আসে। নজরদারি কমে গেলে তা আবার বেড়ে যায়। বিশেষ করে শীতে সমুদ্র শান্ত হলে মানব পাচারের সংঘবদ্ধ চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা শিবিরভিত্তিক বেশকিছু ইয়াবা সিন্ডিকেটের খোঁজ পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিভিন্ন সংস্থার গত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্প এলাকায় ইয়াবা আটকের পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়ে গেছে মাদক মামলা ও আসামির সংখ্যাও। সম্প্রতি মালয়েশিয়া পাচারকালে কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া ও শহরের নুনিয়াছড়া এলাকা থেকে দুটি চালান আটক করে র্যাব ও পুলিশ।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, নাফ নদী পাড়ি দিয়ে শাহপরীর দ্বীপ হয়ে দেশে প্রবেশের পর অবৈধ অস্ত্র, ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক মজুদের জন্য ব্যবহূত হচ্ছে উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত ৩৪ রোহিঙ্গা শিবির। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তালিকায়ও রয়েছে ১৩ জন রোহিঙ্গা নেতার নাম। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এসব শিবিরের নারী, বিশেষ করে যাদের স্বামী বেঁচে নেই তারা বেশি জড়াচ্ছে ইয়াবা ব্যবসায়।

তবে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানিয়েছেন, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর তত্পরতায় স্থানীয় লোকজন এখন ইয়াবা কারবারে খুব একটা জড়াতে চায় না। সীমান্ত ও রোহিঙ্গা শিবিরে ইয়াবা সিন্ডিকেট ও কারবারিদের পুলিশ নিয়মিত আটক করছে এবং তাদের মাঝে মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শাহপরীর দ্বীপে আমাদের একটি পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে, সেখানে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বক্তব্য দিলেও স্থানীয়রা বলছেন, শীত মৌসুমকে সামনে রেখে রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক মানব পাচার চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব চক্র সাগরপথে থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রোহিঙ্গাদের প্রলুব্ধ করে। এরপর সাগরে ও জঙ্গলে নির্মম নির্যাতন করে মোটা অংকের টাকা আদায় করে। শাহপরীর দ্বীপ ব্যবহার করে এ ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, পাচারের জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে রোহিঙ্গাদের এ দ্বীপেই নিয়ে আসে মানব পাচারকারীরা। তারপর ছোট ছোট নৌকার মাধ্যমে তাদের বঙ্গোপসাগরের গভীরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাদের সমুদ্রের গভীরে নিয়ে বড় নৌকায় তুলে দেয়া হয় মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের দিকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশকে পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে সাগর পাড়ি দিয়ে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পৌঁছার চেষ্টা করে। এরপর উন্নত জীবনের সন্ধানে বাংলাদেশীরাও এ বিপত্সংকুল পথে যাত্রা করতে থাকে। ২০১২ সালে প্রথম মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমানোর চেষ্টার অভিযোগে বঙ্গোপসাগরে ১৩২ জনকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ২০১৪ সালে এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১৫৫০।


আরও খবর