আজঃ বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

নওগাঁর তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি: বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৯ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ জানুয়ারী ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশের উত্তরের জেলা নওগাঁর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। গত কয়েকদিন থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পর তাপমাত্রা কমে মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

জেলার বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ২ এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। গত তিনদিন ধরে তাপমাত্রা আট ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে অবস্থান করছে।

এদিকে, প্রচণ্ড শীতের কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। আর সকালে যাদের জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হতে হয় তারা পড়েছেন বিপাকে। কর্মঘণ্টা কমে আসায় আয়-রোজগারও কমে এসেছে।

শহরের বরুণকান্দি মহল্লার শ্রমজীবী আতোয়ার বলেন, গত কয়েকদিন আগে বাতাস এবং কুয়াশায় প্রচুর শীত ছিল। এখন কুয়াশা কমে গেলেও শীত কমছে না। শীতে হাত-পা মনে হয় বরফ হয়ে আসছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এমন শীত দেখিনি। গরিব মানুষ, বাড়িতে বসে থাকলে তো আর হবে না। তাই চাদর গায়ে জড়িয়ে কাজে বেরিয়েছি।

বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ মিজানুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ পর্যন্ত ৫০ হাজার ৫০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তবে কিছু সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনও শীতবস্ত্র বিতরণ করছে।


আরও খবর
সিলেট নগরী থেকে গৃহবধূর গলিত লাশ উদ্ধার

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




নির্বাচন নিয়ে যা বললেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

প্রকাশিত:শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

পাকিস্তানের নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি। নানান আলোচনা চলছে বিশ্ব সংবাদমাধ্যমগুলোতে। এই অবস্থায় এবারের নির্বাচন নিয়ে মুখ খুললেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনীর।

পাকিস্তানে রাজনীতি ও সরকারের নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনীর হাতে বলে মনে করা হয়। নির্বাচনের আগে বিশ্লেষকরা বলেছিলেন যে, সেনাবাহিনী নওয়াজ শরিফকে ক্ষমতায় বসানোর সব ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু নির্বাচনে ভোটাররা চমকে দিয়েছে। তাদের পছন্দ ইমরান খানের পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্ররা। তাতে সরকার গঠনের পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। এখনও কারা কীভাবে সরকার গঠন করবে সে বিষয়টি পরিষ্কার নয়।

এমন অবস্থায় একটি বিবৃতি দিয়েছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আসিম মুনির। তিনি বলেন, পাকিস্তানকে নির্বাচন-পরবর্তী নৈরাজ্য ও মেরুকরণ থেকে সরে আসতে হবে। খবর আল আরাবিয়্যার

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক সামরিক বিবৃতিতে আসিম মুনির বলেন, সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের সাথে সাথে পাকিস্তানকে নৈরাজ্য ও মেরুকরণের রাজনীতি বাদ দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

আসিম মুনির আরও বলেন, জাতির নৈরাজ্য ও মেরুকরণের রাজনীতি থেকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য স্থিতিশীল হাত এবং একটি নিরাময় স্পর্শ প্রয়োজন।

জানা গেছে, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের মোট আসনসংখ্যা ৩৩৬টি। এর মধ্যে ২৬৬ আসনে সরাসরি ভোট হয়। ৭০টি আসন সংরক্ষিত। এসব আসনের মধ্যে ৬০টি নারীদের ও ১০টি সংখ্যালঘুদের। ২৬৬ আসনের একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী গুলিতে নিহত হওয়ায় সেখানে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ হয়েছে ২৬৫ আসনে।


আরও খবর
সৌদি আরবে এক দিনে সাতজনের শিরশ্ছেদ

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




কলকারখানা ছাড়া কোথাও গ্যাস দেওয়া হবে না : গণপূর্তমন্ত্রী

প্রকাশিত:শুক্রবার ০২ ফেব্রুয়ারী 2০২4 | হালনাগাদ:শুক্রবার ০২ ফেব্রুয়ারী 2০২4 | অনলাইন সংস্করণ
মোঃ রাসেল আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

Image

পাইপলাইনে বাসাবাড়িতে আর গ্যাস দেওয়া হবে না। গ্যাস যা পাওয়া যাবে তা শিল্পায়ন, সারকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।

শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। মোকতাদির চৌধুরী গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ায় তাকে সংবর্ধনা দেয় বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগ।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে কলকারখানা ছাড়া কোথাও গ্যাস দেওয়া হবে না। পাইপলাইনের গ্যাস আর সিলিন্ডারের গ্যাস ব্যবহার একই। পার্থক্য শুধু দামে। ঘরে-ঘরে গ্যাস আমরা দিয়ে দিয়েছি। সিলিন্ডার কিনেন এবং গ্যাস ব্যবহার করেন। ভবিষ্যতে আমরা যা গ্যাস পাব তা শিল্পায়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করব।

জিয়াউর রহমান ও এরশাদের শাসনামলে রেল প্রায় উঠিয়ে দেয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার আসার পর সারাদেশে রেলের ব্যাপ্তি হয়েছে। আগে আমরা পড়তাম রেলপথ নেই কোন জেলায়। এটি আর এখন হবে না। সব জেলায় রেলপথ আছে।

বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ভূইয়ার সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী এবং মন্ত্রীর স্ত্রী ও ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ট্রেজারার ফাহিমা খাতুন প্রমুখ।


আরও খবর
সিলেট নগরী থেকে গৃহবধূর গলিত লাশ উদ্ধার

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণ : প্রধান আসামি আ.লীগ নেতা গ্রেফতার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জেলা প্রতিনিধি

Image

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আবুল খায়ের প্রকাশ মুন্সি মেম্বারকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদরের কাদির হানিফ ইউনিয়ন থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও চরজব্বার থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার আবুল খায়ের প্রকাশ মুন্সি মেম্বার চরওয়াপদা ইউনিয়নের চরকাজী মোখলেছ গ্রামের মৃত গোলাপের রহমানের ছেলে। তিনি চরওয়াপদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তোভোগী নারীর দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আবুল খায়ের মুন্সি মেম্বারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

এর আগে দুপুরে ভুক্তোভোগী নারী (৩০) বাদী হয়ে সূবর্ণচরের চরজব্বর থানায় মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও নগদ টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কার লুটের ঘটনায় মামলা করেছেন। এতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল খায়ের প্রকাশ মুন্সি মেম্বারকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলায় অপর আসামিরা হলেন, চর কাজী মোখলেছ গ্রামের মৃত বশির আহম্মদের ছেলে মো. হারুন (৪২) ও অপরজন অজ্ঞাত।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে ভুক্তোভোগী মা-মেয়ের চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের গাইনি সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. আবদুল মন্নান শাকিল মা-মেয়েকে ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্যাতিতা মা-মেয়ে খুবই অসুস্থ। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপস্) বিজয়া সেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এলাকাবাসীর বক্তব্য অনুযায়ী প্রধান আসামি আবুল খায়ের মুন্সি মেম্বারের স্বভাব-চরিত্র ভালো নয়। তাকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টায় বাড়িতে মা-মেয়েকে একা পেয়ে সিঁদকেটে একজন দরজা খুলে দেয়। পরে আরও দুইজন ঘরে ঢুকে তিন সন্তানের জননী (৩০) ও তার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ের (১২) ওপর নির্যাতন চালায়। পরে ৯৯৯-এ কল পেয়ে চরজব্বর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবুল খায়ের মুন্সি মেম্বার দীর্ঘদিন থেকে তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। মাঝে মধ্যে টেলিফোন করে কুপ্রস্তাব দিতেন। কথা না শুনলে খারাপ পরিণতির হুমকি দিতেন। সোমবার রাতে পুরুষহীন বাড়িতে সিঁদকেটে ঘরে ঢুকে হাত-মুখ বেঁধে মাকে দুজন এবং মেয়ের অপরজন ধর্ষণ করেন। পরে মা-মেয়ের নাকে কানের স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টকা নিয়ে আসামিরা চলে যান।

নির্যাতনের শিকার ওই নারীর স্বামী (৪২) বলেন, আমরা গরিব মানুষ। দিনমজুরি করে দিনযাপন করি। কয়েকমাস আগে ওই এলাকায় পাঁচ শতক জমি কিনে বাড়ি করি। আসামিরা খুবই খারাপ প্রকৃতির। আমি এ জঘন্যতম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের ফাঁসি চাই।

চর ওয়াপদা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান বলেন, মা-মেয়েকে ধর্ষণের ন্যাক্কাজনক ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি। আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল খায়ের মুন্সি মেম্বারের বিষয়টি সূবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. চৌধুরীকে জানানো হয়েছে।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটের রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরবাগ্গ্যা গ্রামের এক গৃহবধূকে (৪০) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় দেশজুড়ে। সেই মামলার রায় ঘোষণা করা হয় সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি)। রায়ে সাবেক মেম্বার রুহুল আমিনসহ ১০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া মামলার আরও ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক। সেই রায় ঘোষণার দিনগত রাতে এমন ঘটনায় এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।


আরও খবর
সিলেট নগরী থেকে গৃহবধূর গলিত লাশ উদ্ধার

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




এবার সুন্নতে খৎনা করাতে গিয়ে আইডিয়াল শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশিত:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

শিশু আয়ানের মৃত্যুর রেশ না কাটতেই এবার মালিবাগের জেএস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টারে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম আহনাফ তাহমিন আয়হাম (১০)। স্বজনদের অভিযোগ, লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার কথা থাকলেও তারা ফুল অ্যানেস্থেসিয়া দিয়েছে। যে কারণে আহনাফের আর জ্ঞান ফেরেনি। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টায় আহনাফকে সুন্নাতে খৎনা করাতে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। এর ঘণ্টাখানেক পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মালিবাগের জেএস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টারে অর্থোপেডিক ও ট্রমা সার্জন ডা. এস এম মুক্তাদিরের তত্ত্বাবধানে মঙ্গলবার রাতে সন্তানকে সুন্নাতে খৎনা করাতে আসেন শিশু আয়হামের বাবা ফখরুল আলম ও মা খায়কুন নাহার চুমকি। রাত আটটার দিকে খৎনা করানোর জন্য অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার পর আর ঘুম ভাঙেনি আহনাফের। এর ঘণ্টাখানেক পর হাসপাতালটির পক্ষ থেকে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার কথা থাকলেও ফুল অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হয় আহনাফকে। যে কারণে তার জ্ঞান ফেরেনি।

আহনাফের বাবা ফখরুল আলম বলেন, আমরা চিকিৎসককে বলেছিলাম যেন ফুল অ্যানেস্থেসিয়া না দেওয়া হয়। তারপরও আমার ছেলের শরীরে সেটি পুশ করেন ডাক্তার মুক্তাদির। আমি বারবার তাদের পায়ে ধরেছি। আমার ছেলেকে যেন ফুল অ্যানেস্থেসিয়া না দেওয়া হয়। 

আরও পড়ুন>> সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ মুলোৎপাটনই আজকের দিনের অঙ্গীকার: ওবায়দুল কাদের

তিনি বলেন, আমার সন্তানকে অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই মৃত্যুর দায় মুক্তাদিরসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবারই। আমি তাদের কঠোর শাস্তি চাই।

এদিকে ঘটনার পরই ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে উধাও হয়ে যান অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মুক্তাদির। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অর্থোপেডিক বিভাগের জয়েন্ট ব্যথা, বাতব্যথা, প্যারালাইসিস বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা দিতেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেএস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারি রাজধানীর সাতারকুল বাড্ডার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুন্নাতে খৎনা করাতে গিয়ে লাইফ সাপোর্টে থাকা শিশু আয়ান মারা যায়। টানা সাত দিন লাইফ সাপোর্টে ছিল আয়ান।


আরও খবর



দেশে মোট ঋণের ৩১ শতাংশ বিশ্বব্যাংকের

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

Image

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে যে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি ঋণ দিয়েছে তার মধ্যে বিশ্বব্যাংক রয়েছে শীর্ষ স্থানে। বিশ্বব্যাংক ৫২ বছরে বাংলাদেশকে ঋণ দিয়েছে ২৪.৫৮৩ বিলিয়ন ডলার। যা শতাংশের হারে বাংলাদেশের মোট ঋণের ৩০.৮০ শতাংশ।

ঋণ ছাড়ের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। তারা ঋণের অর্থছাড় করেছে ২১.৩৬৬ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ২৬.৭৭ শতাংশ।

তৃতীয় স্থানে থাকা জাপান বাংলাদেশকে এ পর্যন্ত ঋণ দিয়েছে ১৫.৩০৩ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ১৯.১৭ শতাংশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডির) দেওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই হিসাব পাওয়া গেছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৯৭১-৭২ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত ৫২ বছরে বিভিন্ন সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশ ঋণ পেয়েছে ৭৯.৮২৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে গত অর্থবছর পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে ১৭.৪১৯ বিলিয়ন ডলার। আর গত জুন শেষে সরকারের বিদেশি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬২.৪০৬ বিলিয়ন ডলার। ঋণের মাত্র সাড়ে ২০ শতাংশ ভারত, চীন ও রাশিয়া থেকে এসেছে। এ ক্ষেত্রে শীর্ষ তিনটি স্থানে রয়েছে বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাপান।

চীন ঋণ ছাড়ের দিক থেকে রয়েছে চতুর্থ অবস্থানে। দেশটি এ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ৭.৯৮৯ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে, যা মোট ঋণের ১০.১ শতাংশ। পরের অবস্থানে থাকা রাশিয়া গত জুন পর্যন্ত ঋণ ছাড় করেছে ৬.৭৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা সরকারের ঋণের ৮.৪৯ শতাংশ।

শীর্ষ পাঁচের পরের অবস্থানে থাকা দেশ ও সংস্থাগুলোর ঋণের পরিমাণ তুলনামূলক কম। ঋণ দেওয়ায় ষষ্ঠ স্থানে থাকা এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংক (এআইআইবি) গত জুন পর্যন্ত ছাড় করেছে ১.৭৭৮ বিলিয়ন ডলার, যা সরকারের মোট ছাড়কৃত ঋণের ২.২৩ শতাংশ।

প্রতিবেশী ভারত ঋণ দেওয়ায় সপ্তম স্থানে রয়েছে। গত জুন পর্যন্ত দেশটি ছাড় করেছে ১.৬৬৪ বিলিয়ন ডলার, যা সরকারের মোট ছাড়কৃত ঋণের ২.৮ শতাংশ। আর অষ্টম স্থানে থাকা ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) গত জুন পর্যন্ত ছাড় করে ১.২০৮ বিলিয়ন ডলার, যা সরকারের মোট ছাড়কৃত ঋণের ১.৫১ শতাংশ। বাকি দেশগুলোর ঋণ এক বিলিয়ন ডলারের কম।

এদিকে বৈদেশিক ঋণ স্থিতির ক্ষেত্রেও শীর্ষে রয়েছে বিশ্বব্যাংক। গত জুন পর্যন্ত এ সংস্থাটির ঋণ স্থিতির পরিমাণ ছিল ১৯.২৫৭ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ৩০.৮৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এডিবির গত জুন পর্যন্ত ঋণ স্থিতি দাঁড়ায় ১৪.৪২০ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ২৩.১১ শতাংশ। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাপানের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১০.৪৩৭ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ১৬.৭২ শতাংশ।

শীর্ষ তিন উৎসর বেশির ভাগ ঋণই সহজ শর্তের। এর মধ্যে জাপান সরকার বাংলাদেশকে সবচেয়ে কম সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ দেয়। পরের অবস্থানে থাকা বিশ্বব্যাংক ও এডিবির প্রায় সব ঋণই সহজ শর্তে। তবে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার জাপান সুদের হার সামান্য বৃদ্ধি করেছে। বিশ্বব্যাংক ও এডিবির ঋণের সুদহারও আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশকে কিছু কঠিন শর্তের ঋণপ্রস্তাব করেছে সংস্থাটি দুটি। স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের সুদহার আরো কিছুটা বাড়বে বলেই প্রক্ষেপণ করেছে ইআরডি।

গত জুন পর্যন্ত চতুর্থ অবস্থানে থাকা চীনের ঋণ স্থিতি ছিল ৫.৫৭৮ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ৮.৯৪ শতাংশ। পরের অবস্থানে থাকা রাশিয়ার গত জুন পর্যন্ত ঋণ স্থিতি দাঁড়ায় ৫.৯৮৯ বিলিয়ন ডলার, যা সরকারের ঋণের ৯.৬০ শতাংশ। এ দুই দেশের ঋণের শর্ত কঠিন এবং সুদহার অনেক বেশি। কঠিন শর্তের এসব ঋণ পরিশোধ নিয়ে চাপে রয়েছে বাংলাদেশ।

অপরদিকে নতুন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা হিসেবে এআইআইবি বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়া বাড়াচ্ছে। গত জুন শেষে সংস্থাটির ঋণ স্থিতি দাঁড়ায় ১.৭৬১ বিলিয়ন ডলার, যা মোট বিদেশি ঋণের ২.৮২ শতাংশ। সপ্তম স্থানে থাকা ভারতের ঋণ স্থিতি ছিল গত জুন পর্যন্ত ১.৩০৭ বিলিয়ন ডলার, যা সরকারের মোট ঋণের ২.০৯ শতাংশ। আর অষ্টম স্থানে থাকা আইডিবির ঋণ স্থিতি গত জুন পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ৬৯০ মিলিয়ন ডলার, যা সরকারের মোট ঋণের ১.১১ শতাংশ। এ তিনটির মধ্যে এআইআইবি ও ভারত সহজ শর্তে ঋণ দিলেও আইডিবির ঋণের সুদহার বেশি হয় এবং পরিশোধ সময়ও কম পাওয়া যায়।

ঋণের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘বাংলাদেশের পাশে উন্নয়ন সহযোগীদের বরাবরই বিশ্বব্যাংক এগিয়ে ছিল। তারা স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের সহযোগিতা করে আসছে। তবে এখন বিশ্বব্যাংক থেকে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে ঋণ পাওয়া কষ্টকর হবে। সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক হতে হবে। আবার সার্বিক বিবেচনায় আমাদের ঋণ পরিশোধেরও চাপ বাড়ছে, এসব বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যে প্রকল্পের আওতায় ঋণ আসছে সেগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে।’


আরও খবর
কোম্পানির রিটার্ন জমার সময় বাড়ল দুই মাস

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪