আজঃ মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২
শিরোনাম

নোংরামো করতে গেলেও শিক্ষা লাগে কাকু : স্বস্তিকা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৩ জুন ২০২২ | ৩৬৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ঘড়িতে রাত ৮টা। বোমা ফাটালেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। বুধবার ফেসবুকে নায়িকার পোস্ট বলুন দুদু, ডুডু নয়। নোংরামো করতে গেলেও শিক্ষা লাগে কাকু।

কিন্তু হঠাৎ কেন এমন কথা নায়িকার? আবার কী ঘটল? কয়েকদিন আগে মুক্তি পেয়েছে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের নতুন ছবির একটি মজার গান। আর তা নিয়েই একটি মন্তব্য দেখে বেজায় চটেছেন নায়িকা। এক বার নয়, একাধিক বার ওই নোংরা মন্তব্য করেছেন এক ব্যক্তি। আর তা দেখেই মাথা গরম অভিনেত্রীর।

স্বস্তিকা লেখেন, দেখছি বার বার লিখছে ডুডু। আমি যত দূর জানি মেয়েদের বুককে মজা করে দুদু বলা হত। এসেছে দুধ থেকে, কারণ শিশুদের জন্য আমাদের বুকের দুধের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর খাদ্য এখনও কোনও বিজ্ঞানী আবিষ্কার করতে পারেনি। এই নিয়ে আলাদা চর্চার দরকার নেই, কিন্তু তাই বলে সব সময়ে এমন শুনতে হবে? আর নোংরামি করতে গেলেও একটু শিক্ষা লাগে। দুদু কে ডুডু বললে হয় না কাকু।

নিজস্ব মতামত নিয়ে বরাবরই স্পষ্টবক্তা স্বস্তিকা। এমন নানা বিষয়ে বার বারই সরব হয়েছেন অভিনেত্রী। এ ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। এ নিয়ে কী বলছে টলিপাড়া? আনন্দবাজার অনলাইন যোগাযোগ করেছিল অভিনেত্রী শ্রুতি দাসের সঙ্গে। স্বস্তিকার সুরেই তিনি বলেন, কিছু কিছু নোংরা মানসিকতার মানুষ আছে। যাদের চরিত্র কোনওদিন বদলাবে না।


আরও খবর



পদ্ম সেতু: যত বাধা পেরিয়ে

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | ২০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত দেশের বৃহৎ প্রকল্প পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রবিবার (২৬ জুন) যান চলাচল শুরু হবে। শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এ সেতু চালুর মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটছে। তবে, শেখ হাসিনা সরকারের জন্য উন্মত্ত পদ্মার বুকে স্বপ্ন বুননের পথটি মসৃণ ছিল না। শেখ হাসিনার অসীম সাহস ও দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতিফলন পদ্মা সেতু আজ বাস্তবতা। জাতীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে এ সেতু নির্মাণে ছিল অজস্র চ্যালেঞ্জ। পদ্মা সেতুকে বাস্তবে রূপ দিয়ে বিদেশিদের অপমানের জবাবও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

দিন বদলের সনদ: নবম সংসদ নির্বাচনের (২০০৮) আগে দিন বদলের সনদ’ নামে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে নির্বাচনি ইশতেহার দেওয়া হয় সেখানে প্রতিশ্রুতি ছিল পদ্মা সেতু নির্মাণের। ক্ষমতায় এসে সেই অনুযায়ী কাজও শুরু করেছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু শুরুতেই হোঁচট খেতে হয় সরকারকে। দুর্নীতির কথিত অভিযোগসহ আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধকতার মুখেও পড়ে সরকার। বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকসহ বিদেশি অর্থায়ন নিয়ে চলে নানা জটিলতা। উঠে আসে ষড়যন্ত্রের নানা তথ্য। অনিশ্চিত হয়ে পড়ে সেতু নির্মাণ। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ২০১৪ সালের ১৮ জুন সেতু নির্মাণে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সই করে সরকার।

সেতু হলো দৃশ্যমান: নির্মাণ শুরুর দুই বছরের মাথায় ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে ১৫০ মিটার স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হতে শুরু করে পদ্মা সেতু। একে একে বসতে থাকতে স্প্যান। ১৫০ মিটার করে বাড়তে থাকে সেতু। প্রথম স্প্যান বসার তিন বছরের মাথায় ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ৪১তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপ পায় সেতুটি। এতে দৃশ্যমান ছয় হাজার ১৫০ মিটারের পুরো সেতু। সংযোগ ঘটে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের। এর পর ধাপে ধাপে এগুতে থাতে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ। মূল সেতুর পাশাপাশি সংযোগ সড়ক, নদীশাসনের কাজ চলতে থাকে সমান তালে। এদিকে স্প্যানের ওপর কংক্রিটের স্ল্যাব বসানোর মাধ্যমে পদ্মা সেতু সড়কপথ দিয়ে যুক্ত হয় ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট। ২২ মিটার লম্বা এবং দুই মিটারের কিছু বেশি চওড়া ২ হাজার ৯১৭টি কংক্রিটের স্ল্যাব জোড়া দিয়ে মূল সেতুর যানবাহনের পথ তৈরি করা হয়। যান চলাচল উপযোগী করে তুলতে সেতুতে পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর। মূল সেতুর ঢালাই কাজ শেষ হয় গত ২৯ এপ্রিল। সংযোগ সড়কসহ পুরো পিচ ঢালাই শেষ হয় ২৩ মে। এরপর ল্যাম্পপোস্ট বসানোসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ২২ জুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু বিভাগের কাছে পদ্মা সেতু বুঝিয়ে দেয়।

টালবাহানা ও অপতৎপরতা: পদ্ম সেতু নির্মাণে বাধা-বিপত্তির জন্য সরকারের তরফ থেকে আগাগোড়াই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকে দায়ী করা হয়। এক্ষেত্রে বেশি দোষারোপ করা হয়েছে দাতাসংস্থা বিশ্বব্যাংক ও একে ঘিরে থাকা পশ্চিমা বিশ্বকে। এছাড়া দেশীয় একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আসে। বিশেষ করে শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূসকে এ জন্য দায়ী করা হয়। অভিযোগ করা হয়, অবৈধভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের পদে থাকতে না পেরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি খোলাসাও করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রথম মেয়াদে ১৯৯৮ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই হয়। ২০০১ সালে জাপানিদের সহায়তায় পুনরায় সম্ভাব্যতা যাচাই হয়। স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে ২০০১ সালের ৪ জুলাই মাওয়া পয়েন্টে পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার শপথ নিয়েই নতুন করে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেয়। ২০০৯ সালের ১৯ জুন সেতুর নকশা প্রণয়নের প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়। ২৯ জুন পরামর্শকের সঙ্গে চুক্তি হয়। সেতুর কাজ ২০১৩ সালের মধ্যে শেষ করার সময় নির্ধারণ করা হয় তখন। ২০১০ সালে প্রিকোয়ালিফিকেশন দরপত্র আহ্বান করা হয়। তখন অর্থায়নে আগ্রহ দেখায় বিশ্বব্যাংক। সেইসঙ্গে সহযোগী হতে চায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) ও জাইকা। ২৯০ কোটি ডলার ব্যয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য ২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই করে সরকার। এরপর ওই বছরের ১৮ মে জাইকা (৪০ কোটি ডলার), ২৪ মে আইডিবি (১৪ কোটি ডলার) এবং ৬ জুন এডিবির (৬২ কোটি ডলার) সঙ্গে ঋণচুক্তি সই হয়।

এরই মধ্যে শুরু হয় ষড়যন্ত্র। কোনও ধরনের অর্থ ছাড়ের আগেই বিশ্ব ব্যাংক থেকে আনা হয় কথিত দুর্নীতির অভিযোগ। ওই বছরের (২০১১) সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন স্থগিত করে। সেই পথ অনুসরণ করে অন্য দাতা সংস্থাও। ঋণ পুনর্বিবেচনার জন্য দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ চারটি শর্ত জুড়ে দেয় এই উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি। এ সময় দুই দফায় বিশ্বব্যাংক তাদের কথিত দুর্নীতির কিছু তথ্য-প্রমাণ’ও বাংলাদেশকে দেয়। সরকারের তরফ থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে দেন-দরবার চলতে থাকে। প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে চুক্তি বাতিল ও যোগাযোগ সচিবকে সরিয়ে দেওয়াসহ কিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপও সরকার এ সময় নেয়। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের দৃষ্টিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ সন্তোষজনক’ ছিল না। তারা প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়াসহ নতুন নতুন চাপ দিতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক ২০১২ সালের ২৯ জুন ঋণচুক্তি বাতিল করে। এর তিন দিনের মাথায় ২ জুলাই সংসদে ৩০০ বিধিতে বক্তব্য দিয়ে বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তি বাতিল নিয়ে সংসদে কথা বলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রয়াত আবুল মাল আবদুল মুহিত। ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংকের দেওয়া বক্তব্য বাংলাদেশকে অপমান করেছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি তখন বলেন, আমি জোর গলায় বলতে পারি, পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোথাও কোনও অপচয় বা দুর্নীতি হয়নি।’ এ সময় বিশ্বব্যাংক বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুহিত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সংসদে দেওয়া বক্তব্যে পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করে দেন এবং নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। এসময় তিনি বাংলাদেশি ও প্রবাসীদের সেতু নির্মাণে সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেকে এগিয়েও আসেন। শুরু হয় অর্থ সংগ্রহ। জুলাইয়ের শেষ দিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে পদ্মা সেতুর অর্থ সংগ্রহে প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকে দুটি করে ব্যাংক হিসাব খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সকল মন্ত্রী তাদের এক মাসের সম্মানি পদ্মা সেতু ফান্ডে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অর্ধ শতাধিক সচিবও তাদের একটি উৎসব ভাতার সমপরিমাণ অর্থ ফান্ডে জমা দেন।

এসবের মধ্যেও বিশ্বব্যাংককে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাতে থাকেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী। যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনের পদত্যাগ, দুর্নীতির অভিযোগ দুদকের মাধ্যমে অধিকতর তদন্তসহ বিশ্বব্যাংকের শর্তপূরণের চেষ্টা করা হয়। বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসার পথে আটকে থাকে অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানকে ছুটিতে পাঠানোর বিষয়টি। শেষ পর্যন্ত তাকে ছুটিতে পাঠানোর শর্তে সরকার রাজি হলে ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংক আবারও ফিরে আসার ঘোষণা দেয়। তবে বাধ সাধেন অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর। দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে তিনি ছুটিতে যেতে অস্বীকার করেন। নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন। তাকে রেখেই সমঝোতার চেষ্টা হয়। বিশ্বব্যাংকের দেওয়া শর্তানুসারে সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করে দুদক। ওই সময় বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলও একাধিকবার ঢাকায় এসে দুদকের সঙ্গে বৈঠক করে। নতুন নতুন শর্তারোপ হতে থাকে এসব বৈঠকে। বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে দেন-দরবারের পাশাপাশি সরকার বিকল্প অর্থায়নের প্রচেষ্টা শুরু করে। নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের উদ্যোগের কথাও এ সময় জোরেশোরে আলোচনা হতে থাকে। বিশ্বব্যাংকের এই টালবাহানায় ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি বিশ্বব্যাংককে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ওই মাসের মধ্যে বিশ্বব্যাংক তাদের অবস্থান স্পষ্ট না করলে সরকার তাদের কাছ থেকে কোনও ঋণ নেবে না। পরে ৩১ জানুয়ারি অর্থায়নের অনুরোধ প্রত্যাহার করে বিশ্বব্যাংককে চিঠি দেয় সরকার। পরে মালয়েশিয়া, চীনসহ কয়েকটি দেশ অর্থায়নে আগ্রহ দেখায়। তবে তাদের প্রস্তাব দেশের জন্য সাশ্রয়ী না হওয়ায় সরকার নিজস্ব অর্থায়নেই অটল থাকে। পরবর্তী অর্থবছরের (২০১৩-১৪) বাজেটে পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য ছয় হাজার ৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

এদিকে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিল হওয়ার পেছনে ড. ইউনূসের হাত ছিল বলে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার ড. ইউনূসের নাম উল্লেখ করে বলেছেন, পদ্মা সেতু ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আমাদের দেশের একজন নোবেলজয়ী জড়িত। ব্যাংকের এমডি পদে থাকতে না পেরে তিনি এই ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনসহ কয়েকটি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফোনও করেছিলেন বলে তিনি জানান। পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন না করতে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিও নানা অপতৎপরতা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। তারা বিশ্বব্যাংকের এ দেশীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঋণচুক্তি পুনর্বিবেচনা না করার তদবির করেছে বলে সরকারি দলের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দেশের কিছু বিশেষজ্ঞও নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগকে অলীক-কল্পনা বলেন।

মেলেনি প্রমাণ: প্রসঙ্গত, পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ করলেও কানাডার আদালতে কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি বিশ্বব্যাংক। ২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কানাডার আদালত জানায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক ঋণ বাতিল করেছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কানাডার আদালতের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সততার শক্তি ছিল বলেই বিশ্বব্যাংকের ওই অভিযোগকে তিনি চ্যালেঞ্জ জানাতে পেরেছিলেন। তিনি বলেন, এতকাল পরে আজ তারা স্বীকার করেছে, কোর্ট বলে দিয়েছে; এখানে তো কোনও দুর্নীতি হয়নি, বরং ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যে অভিযোগ করেছে, তা ভুয়া, মিথ্যা ও আষাঢ়ে গল্প।’ এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদা অনেক বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পদ্মা সেতুর পেছনে বাধাবিপত্তির বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে দেশের মধ্যে ও দেশের বাইরে ষড়যন্ত্র হয়েছে। তারা চেয়েছে এই সেতুটা যেন না হয়। নানাভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে দুর্নীতির অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করে আমরা সেতু নির্মাণ শেষ করেছি। বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছি আমরাও পারি। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি ও সৎ সাহস না থাকলে পদ্মা সেতু সম্ভব হতো না। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের জন্য গর্ব ও অহংকারের বিষয়। শেখ হাসিনার দূরদর্শী দৃষ্টির কারণেই আজ জাতি ইতিহাস সৃষ্টির দ্বারপ্রান্তে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন আমাদের জন্য আনন্দের, অহংকারের। পদ্মাপাড়ের মানুষের মাঝে উন্নয়নের স্পৃহা তৈরি করেছে এ সেতু। যে স্পৃহার উৎস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপদেষ্টার পদ থেকে সরে যাওয়ার চাপ থাকলেও নিজের অনড় অবস্থানের কারণে দুর্নীতির দায় নিয়ে পদত্যাগে অস্বীকার করা এই উপদেষ্টা বলেন, আমার ওপর একটা বড় ছায়া আছে। বঙ্গবন্ধুর ছায়া। ওই ছায়া যতদিন থাকবে, ততদিন আমি নিরাপদ।’

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, এ সেতু নিয়ে দেশ-বিদেশে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু নিজেদের টাকায় এই সেতু নির্মাণ করে ষড়যন্ত্রকারীদের সমুচিত জবাব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক এবং অপমানের প্রতিশোধ। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে বিশ্ব বাংলাদেশকে সমীহ করছে জানিয়ে শেখ হাসিনা আরও বলেন, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করিনি, করবো না। পদ্মা সেতু আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত কাজ করা সম্ভব হবে।’

নিউজ ট্যাগ: পদ্মা সেতু

আরও খবর



দুই শিশুকে জাপানে নিয়ে যেতে মায়ের আবেদন খারিজ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০২ জুন 2০২2 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০২ জুন 2০২2 | ৩৭০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

জাপানি দুই শিশুজেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনার বাংলাদেশি বাবা ইমরান শরীফের বিরুদ্ধে শিশুদের মা নাকানো এরিকোর করা আদালত অবমাননার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

একইভাবে নাকানো এরিকোর বিরুদ্ধে ইমরান শরীফের করা আদালত অবমাননার আবেদন এবং বিদেশে নিতে করা আবেদনও খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। তাঁকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। এর আগে গত ১৬ মে জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনার বাংলাদেশি বাবা ইমরান শরীফের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন তাদের জাপানি মা নাকানো এরিকো।

ওইদিন আইনজীবী শিশির মনির বলেছিলেন, আপিল বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে দুই শিশু মা নাকানো এরিকোর সঙ্গে বারিধারায় থাকবেন। বাবা শিশুদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এ নির্দেশনা অমান্য করে ইমরান শরীফ জোর করে মাঝে মধ্যেই শিশুদের নিয়ে বাইরে যান। এ কারণে তাঁরা আদালত অবমাননার আবেদন করেছি।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পারিবারিক আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই শিশুজেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা তাদের জাপানি মা নাকানো এরিকোর কাছে থাকবে বলে রায় দেন আপিল বিভাগ। পাশাপাশি এ বিষয়ে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বাতিল করা হয়।

এ সময়ে নাকানো এরিকো শিশুদের নিয়ে দেশত্যাগ করতে পারবেন না। বাবা ইমরান শরীফ শিশুদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন বলে রায়ে বলা হয়।

হাইকোর্টের রায় বাতিল করে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতকে দুই শিশুর জিম্মা সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি করতে বলেন আদালত।

আদালতে নাকানো এরিকোর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও মোহাম্মদ শিশির মনির। ইমরান শরীফের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও ফাওজিয়া করিম ফিরোজ।

গত বছরের ২১ নভেম্বর জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা বাংলাদেশে তাদের বাবা ইমরান শরীফের কাছে থাকবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট। তবে, রায়ে বলা হয় জাপান থেকে এসে শিশুদের মা বছরে তিন বার ১০ দিন করে দুই সন্তানের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে পারবেন। জাপানি মায়ের আসা-যাওয়া ও থাকা-খাওয়ার সব খরচ বাবা ইমরান শরীফকে বহন করতে হবে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।


আরও খবর



ম্যানেজার পদে চাকরির দেবে সিটি ব্যাংক

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৪ জুন ২০২২ | ৩২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেডে রিলেশনশিপ ম্যানেজার পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২১ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড

বিভাগের নাম: করপোরেট ব্যাংকিং

পদের নাম: রিলেশনশিপ ম্যানেজার

পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক

অভিজ্ঞতা: ০৪ বছর

বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

চাকরির ধরন: ফুল টাইম

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

বয়স: নির্ধারিত নয়

কর্মস্থল: চট্টগ্রাম

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা www.jobs.bdjobs.com এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ২১ জুন ২০২২

নিউজ ট্যাগ: চাকরির খবর

আরও খবর



খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত, আহত ১০

প্রকাশিত:বুধবার ০১ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ০১ জুন ২০২২ | ৩৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের গুটুদিয়া এলাকায় বাস, মোটরসাইকেল ও ভ্যানের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। বুধবার সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

খর্ণিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম আবু ওসমান (৩২)। অপর জনের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা একটি দ্রুতগামী বাসের সঙ্গে খুলনা অভিমুখী একটি মোটরসাইকেল ও ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে নিহত হন দুজন।

ফায়ার সার্ভিসের ডুমুরিয়া স্টেশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালান। নিহত দুজনের লাশ থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


আরও খবর



নেপালের বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার

প্রকাশিত:বুধবার ০১ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ০১ জুন ২০২২ | ৩৪০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

নেপালে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ব্ল্যকবক্স উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ১৯ যাত্রী ও তিনজন ক্রুর সবার লাশ উদ্ধার করা হয়। বিমান কর্তৃপক্ষ বিবিসিকে একথা নিশ্চিত করেছে।

নেপালের মুখপাত্র দেও চন্দ্র লাল কর্ণ বলেছেন, ককপিট ভয়েস রেকর্ডার, যাকে বিমানের ব্ল্যাকবক্সও বলা হয়, সেটি দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ব্ল্যকবক্সটিকে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় এক উদ্ধারকর্মী জানান, পর্বতের গাইড ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে ব্ল্যকবক্সটি বের করে নিয়ে এসেছেন। সোমবার উদ্ধারকারীরা প্রথম উড়োজাহাজটির বিধ্বস্তস্থল চিহ্নিত করে। এরপর থেকে উড়োজাহাজের ২২ আরোহীর সবার মৃতদেহও উদ্ধার করা হয়। উড়োজাহাজটির ২২ আরোহীর মধ্যে চারজন ভারতের, দুইজন জার্মানির এবং ১৬ জন নেপালের নাগরিক।

তাদেরকে বহনকারী ডি হ্যাভিল্যান্ড কানাডা-ডিএইচসি-৬-৩০০ টুইন অটার বিমানটি রোববার নেপালের পর্যটন নগরী পোখরা থেকে জমসম বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। কিন্তু উড্ডয়নের ১৫ মিনিট পরই সেটি বিধ্বস্ত হয়।

পোখরা বিমানবন্দর নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ১২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে। পোখরা থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমের ‍আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র ও তীর্থস্থান জমসমে যাচ্ছিলেন আরোহীরা। মাত্র ২০ মিনিটেই তাদের জমসমে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু উড্ডয়নের পর এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে নেপাল-চীন সীমান্তে মাউন্ট ধুলাগিরি অঞ্চলের মুস্তাং জেলায় উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়।


আরও খবর