আজঃ বুধবার ১৯ জুন ২০২৪
শিরোনাম

নোংরা পরিবেশে ভাল নেই জাজিরার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রকাশিত:সোমবার ১৩ মার্চ ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ১৩ মার্চ ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
শরীয়তপুর প্রতিনিধি

Image

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নোংরা পরিবেশ বিষিয়ে তুলছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের জীবন। কিন্তু ভালো চিকিৎসা পেতে গ্রাম থেকে রোগীরা ছুটে আসেন এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কয়েকজন রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, অনেকটা অবহেলার কারণেই নিয়মিত পরিষ্কার না করায় হাসপাতালের টয়লেটগুলোর অবস্থা এতই নাজুক যে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটে পা রাখলেই টয়লেটের দুর্গন্ধ নাকে আসে এবং দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। দুর্গন্ধে এক মিনিটও টেকা যায় না সেখানে। এতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে রোগীসহ রোগীর সাথে আসা স্বজনদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে ওয়ার্ডের পাশেই রয়েছে টয়লেট যা কয়েক মাস পরিষ্কার করা হয়নি। টয়লেটের দুর্গন্ধের কারণে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা দায়। টয়লেটের ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, গত ৩ মাসেও একবার পরিষ্কার করা হয়নি সেই টয়লেটটি।

ওই বিভাগের টয়লেটসহ জামা কাপড় পরিষ্কার এবং গোসল করার স্থান এতটাই স্যাঁতসেঁতে ও নোংরা যেখানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে পুরানো ও নতুন বিল্ডিং দেখা যায় পানির ট্যাংক শেওলা পরে আর ধুলায় বিবর্ণ হয়েছে। পুরানো ও নতুন বিল্ডিংয়ের মাঝে পলিথিন, ঔষধ বর্জ্যসহ জমে আছে ময়লার স্তূব। খোদ মেঘালয় এর শিরির নিচেও রয়েছে ময়লার স্তূব। আর বাথরুমে ভাংগা বেসিন, আর ময়লায় পরিপূর্ণ টয়লেট। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে তা থেকে। নোংরা পানি জমে ডেঙ্গু উৎপাদনের কারখানা হয়ে আছে ড্রেনগুলো। ২০২২ সালে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ১লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়ার পরেও নোংরা হয়ে আছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।

জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ৩ জন সুইপারের পদের বিপরীতে ৩ জনই কর্মরত রয়েছেন। অতিরিক্ত আরো একজনকে বিশেষভাবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ জন সুইপার সকালে আর ২জন রাতে কাজ করে বলে জানা যায়। তবে, সুইপার পদে নিয়োগকৃতরা হলেন জৈবুনন্নেসা, লাবনী আকতার, মিনারা ও পার্বতী।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী রাহিলা বেগম বলেন, জানালা দিয়ে 'ময়লার স্তূপ থেকে আসা দুর্গন্ধ সহ্য করার মতো না। এই দুর্গন্ধ আর টয়লেটের  দূর্গন্ধ অনেক রোগী আরও অসুস্থ হয়ে পরেন। হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্টাফ সবাই এটা জানেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

অভিযোগের বিষয়ে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহমুদুল হাসান জানান, হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে তা দিয়ে হাসপাতালে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হয়েছে। হাসপাতালে ময়লা আবর্জনা সাময়িক ভাবে জমা হলেও ঘন্টার মধ্যে তা পরিস্কার করা হয়। কিন্তু এ বিষয়ে আরো জনবল দরকার।


আরও খবর



নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে লঘুচাপ, বাড়ছে বাতাসের গতি

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। উত্তাল রয়েছে নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর। বাড়ছে বাতাসের গতিবেগ। এ অবস্থায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

শুক্রবার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ড. মল্লিক বলেন, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় রেমালে পরিণত হতে পারে শনিবার

নিম্নচাপটি আগামীকাল শনিবার ঘূর্ণিঝড় রেমালে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছেন অন্য আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশীদ।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিকে বলেন, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আজ সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।

রবি-সোমবার আঘাত হানতে পারে রেমাল

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি আগামীকাল শনিবার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তখন নাম হবে রেমাল। ওমানের দেওয়া নামটির অর্থ বালি।

ঘূর্ণিঝড় রেমাল ২৬ মে (রবিবার) বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে ২৭ মে (সোমবার) রাত ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া সংস্থা আইএমডি।

সংস্থাটি জানায়, আঘাত হানার সময় ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার থাকবে।

চার বিভাগে বৃষ্টিপাতের আভাস

এদিকে সকাল ৯টার পর থেকে ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা, ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তিভাব বিরাজ করতে পারে। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৩ শতাংশ। বাতাসের গতিবেগ ছিল পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার।

আট বিভাগেই বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ

এদিকে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকতে পারে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল পাবনার ঈশ্বরদীতে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন ছিল বগুড়ায়, ২৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


আরও খবর



ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলবে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: কাদের

প্রকাশিত:সোমবার ২০ মে ২০24 | হালনাগাদ:সোমবার ২০ মে ২০24 | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ঢাকায় মহানগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (২০ মে) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ওলামা লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে এ তথ্য জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তবে দেশের ২২টি মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, দুর্মূল্যের বাজারে মেহেনতি মানুষের দুঃখ দুর্দশা বিবেচনা করে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রব্যমূল্যের কথা চিন্তা করে সিটি এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ওলামা লীগে চাঁদাবাজের স্থান নেই। ধর্মের নামে ধর্ম ব্যবসা চলবে না। আওয়ামী লীগের সঙ্গে কাজ করতে হলে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতার আদর্শ মেনে চলতে হবে। শেখ হাসিনার সৎ রাজনীতিকে অনুসরণ করতে হবে। ফ্রি স্টাইলে যা খুশি বলিবেন, এই রকম লোকের আমাদের দরকার নেই।

কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা আমাদের পবিত্র ধর্ম ইসলামের জন্য ও এর বিকাশে যে অবদান রেখেছেন, যে সব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশে অন্য কোন শাসক কিছুই করেননি সে তুলনায়।


আরও খবর



যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

প্রকাশিত:শনিবার ১৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৫ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে আজ দুপুর একটার মধ্যে দেশের চার অঞ্চলে ঝড় হতে পারে। এসময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

 শনিবার (১৫ জুন) ভোরে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেয়া আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় জানানো হয়, আজ দুপুর ১টার মধ্যে দিনাজপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, ঈদের দিনসহ আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলছে আবহাওয়া দফতর। বলেছে, দেশের সব বিভাগেই দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সেইসঙ্গে কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে। বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়েছে, বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।


আরও খবর



জব্দের আগেই অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করেছেন বেনজীর!

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

জব্দের আগেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নিয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবার। দুদকের তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ মে তাদের অ্যাকাউন্ট জব্দের আদেশ দেন আদালত। তবে এসব অ্যাকাউন্টে কী পরিমাণ টাকা ছিল, তা জানা যায়নি।

তিনি দেশে আছেন কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিবার নিয়ে বেনজীর দুবাইয়ে অবস্থান করছেন।

বেনজীরের সম্পদের বিষয়ে যেসব সরকারি সংস্থা খোঁজ রাখছে, তাদের মধ্যে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা একটি জাতীয় দৈনিককে বলেন, গত সপ্তাহে তার অ্যাকাউন্টগুলো ফাঁকা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর আগের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, যখনই কেউ বুঝতে পারেন তাকে ধরার চেষ্টা চলছে, তখনই তিনি টাকা সরিয়ে ফেলেন।

অবশ্য টাকা তুললেও নগদে রেখেছেন, নাকি অন্য কারও অ্যাকাউন্টে জমা করেছেন তা বের করা সম্ভব।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পুরো বিষয়টি আরও পরিষ্কার করে বলেন, ডকুমেন্টের ভিত্তিতে কাজ করে ব্যাংক। ফলে সুনির্দিষ্ট আদেশের কপি ছাড়া মৌখিক কোনো তথ্য কিংবা গণমাধ্যমের খবরের ভিত্তিতে কারও অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে বা স্থানান্তর না করতে দেওয়ার সুযোগ নেই। কেননা, আদালত কারো অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের আদেশ দিলে পরে স্থগিতাদেশ দিতে পারেন।

তিনি বলেন, সাধারণভাবে এ ধরনের ব্যক্তির বিভিন্ন পর্যায়ে নিজস্ব লোক থাকে। ফলে গোপনে জানিয়ে দেওয়া হতে পারে। আবার পত্রিকায় লেখালেখি এবং দুদকের কার্যক্রমের ফলে এমনিতেই তিনি টাকা সরিয়ে ফেলতে পারেন। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে নগদে তুলে বিশ্বস্ত কারো কাছে রাখা হয়।

এখন দেখার বিষয় বেনজীর ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেন প্রোফাইলের নিয়ম মেনে টাকা উত্তোলন হয়েছে কি না। আবার টাকা উত্তোলন বা স্থানান্তরের পর ব্যাংকগুলো নিয়ম মেনে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট (এসটিআর) এবং নগদ লেনদেন রিপোর্ট (সিটিআর) করেছে কি না।

এদিকে বেনজীর আহমেদের দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল সিটিজেন টিভির মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালে এ টিভির অনুমোদনের সময় তারা দুজনই ছিলেন শিক্ষার্থী।

দেশের সম্পদ অনুসন্ধান চলার মধ্যেই পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিদেশে থাকা সম্পদ অনুসন্ধানেও নেমেছে দুদক। বিশেষ করে সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশে তাদের কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, সেসবের খোঁজও নেওয়া হচ্ছে। দুদকের তিন সদস্যবিশিষ্ট অনুসন্ধান কমিটির প্রধান হাফিজুল ইসলামের সই করা চিঠি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

দুদকের পক্ষ থেকে বিদেশে সম্পদের খোঁজ নিতে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) চিঠি দেওয়া হয়েছে। দেশ থেকে অর্থ পাচার ঠেকাতে নীতিমালা প্রণয়ন ও সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে বিএফআইইউ। সংস্থাটি এগমন্ট গ্রুপ নামের একটি ফোরামের সদস্য। এই ফোরাম বিশ্বের ১৭০টি দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত, যারা অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে কাজ করে। ২০১৩ সালে এগমন্ট গ্রুপের সদস্যপদ পায় বিএফআইইউ।

জানতে চাইলে দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক বলেন, শুধু দেশের সম্পদই নয়, আমরা বিদেশে থাকা সম্পদের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করছি।

তিনি আরও বলেন, যদি সম্পদ অবৈধ হয় তাহলে আদালত রাষ্ট্রের অনুকূলে তা বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন। এ জন্য অনুসন্ধান পর্যায়ে তার (বেনজীর) সম্পদ ফ্রিজ (জব্দ) করা হয়েছে। কারণ ফ্রিজ না করলে এসব সম্পদ হস্তান্তর হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।এরই মধ্যে আদালতের আদেশে বেনজীর পরিবারের মালিকানাধীন রাজধানীর গুলশানে বিশালাকৃতির বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, গোপালগঞ্জে ৩৪৫ বিঘা ও মাদারীপুরে ২৭৩ বিঘা জমি জব্দ এবং অসংখ্য ব্যাংক ও বিও অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করেছে দুদক। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় যে বিপুল সম্পদ গড়েছেন বেনজীর, তার বেশির ভাগই তিনি কেনেন আইজিপি পদে আধিষ্ঠিত হওয়ার পর।

তিনি আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, চাকরিজীবনের শেষ দুই বছরে অর্থাৎ আইজিপি থাকাকালেই পরিবারের সদস্যদের নামে ৪৬৬ বিঘা জমি কেনেন বেনজীর। ১৯টি প্রতিষ্ঠানে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে তার পরিবার হয়ে যায় পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী পরিবার। আইজিপি পদটি যেন তার কাছে হয়ে উঠে আলাদীনের চেরাগ


আরও খবর



পুঁজি ছাড়াই ভাওয়াল রিসোর্টের ২৫ শতাংশের মালিক বেনজীর

প্রকাশিত:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | হালনাগাদ:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

শুধু ক্ষমতার জোরই পুঁজি’। জনশ্রুতি রয়েছে, পাঁচতারকা মানের ভাওয়াল রিসোর্টের ২৫ শতাংশের মালিক হতে এক পয়সাও লগ্নি করতে হয়নি সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদকে। গাজীপুরের বারইপাড়া মৌজার নীলজানি গ্রামে গড়ে তোলা এ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সেন্টারটির ওয়েবসাইটে এর জমির পরিমাণ ৩৫ একর (১০৫ বিঘা) বলা হলেও এলাকাবাসীর দাবি, রিসোর্টের জায়গা ৫০ একরের কম না।

গাজীপুরের বন বিভাগের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, বনের প্রায় পৌনে ৭ একর জমি দখল করে রিসোর্টটি দাঁড় করানো হয়েছে। গতকাল শনিবার ভাওয়াল রিসোর্ট এলাকা ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগে বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পদ জব্দ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, পুলিশের শীর্ষ পদে থাকার সময় কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। কীভাবে প্রভাববলয় ব্যবহার করে এত সম্পদ অর্জন করেছেন, তা আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেই গাজীপুরের রিসোর্টটির মালিক বনে গেছেন বেনজীর। শুরুতে ১৯ একর জমি নিয়ে রিসোর্টটির কাজ শুরু হলেও সাবেক আইজিপি (তৎকালীন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের-ডিএমপি কমিশনার) বেনজীরের ক্ষমতার জোরে প্রায় ৫০ একর জায়গা দখল করে নেন রিসোর্ট মালিকরা।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রভাবশালীদের কাছ থেকে রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট, ম্যাক্স ভ্যালিসহ সাতটি রিসোর্টের অবৈধ দখল করা জমি উদ্ধার করলেও ভাওয়াল রিসোর্টের জমি উদ্ধারে এতদিন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছিল না বন বিভাগ। এ বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ভাওয়াল রিসোর্টের করা এক মামলায় এ জমির বিষয়ে একটি স্টে অর্ডার ছিল। এ কারণে বন বিভাগ চাইলেও জেলা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তবে ২০১৭ সালেই জেলা জজ আদালতের স্টে অর্ডারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ যৌথভাবে আপিল করে। গত বৃহস্পতিবার এর রায় হয়েছে। আদালত আপিলটি গ্রহণ করে স্টে অর্ডারটি প্রত্যাহার ও ভাওয়াল রিসোর্টের মামলা খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে এখন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় কোনো বাধা নেই। তবে প্রক্রিয়া শুরু করতে কয়েক দিন লাগতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বন বিভাগের গাজীপুরের এক কর্মী জানান, রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্টের মালিকানায় সাবেক অতিরিক্ত আইজি বজলুল করিম, মেজর কবিরসহ বহু পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। তার পরও বন বিভাগ দখলে থাকা জমি উদ্ধার করেছে। ম্যাক্স ভ্যালির মালিকানায় আছে একটি নামকরা টিভি চ্যানেলের। বন বিভাগ তাদের থেকেও অবৈধ দখলকৃত জমি উদ্ধার করেছে। কিন্তু এ জায়গায় (ভাওয়াল রিসোর্টে) এসে হোঁচট খাচ্ছিলাম। প্রকৃতপক্ষে বন বিভাগের কতটা জমি দখল করে রেখেছে, তা পরিমাপের জন্য বন বিভাগ বা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কেউ এ রিসোর্টটিতে প্রবেশ করতে পারছিল না। আদালতের রায় পক্ষে আসায় এখন কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করছি।

শুধু বন বিভাগ নয়, বীর মুক্তিযোদ্ধার জমিও দখল করে করা হয়েছে ভাওয়াল রিসোর্ট। এর মূল প্রবেশপথের এক একরের বেশি জমি কাপাসিয়া-শ্রীপুরের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডা. সিরাজুল হক এবং তাঁর মায়ের। প্রবীণ এ মুক্তিযোদ্ধা নিজের জমি উদ্ধারে নানাজনের কাছে দিয়েছেন ধরনা। তবে প্রভাবশালী বেনজীরের কারণে তারা ২০১৩ সালের পর থেকে ওই জমির ধারেকাছেও ভিড়তে পারেননি। বেনজীরের অনিয়ম-দুর্নীতির খবর চাউর হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছেন ডা. সিরাজুল। জমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে গাজীপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।

এলাকাবাসী জানান, ভাওয়াল রিসোর্টের মূল উদ্যোক্তা দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প গ্রুপ পারটেক্স। ব্যবসায়িক গ্রুপটির উদ্যোক্তা প্রয়াত এম এ হাশেমের ছেলে শওকত আজীজ রাসেল বর্তমানে এটির মালিকানায় রয়েছেন। ২০১৩ সালে গাজীপুর সদরের বারইপাড়া মৌজার নীলজানি গ্রামের কয়েকজনের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি কিনে এর সঙ্গে আরও কিছু সরকারি খাসজমি দখল করে নেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী জানান, ভাওয়াল রিসোর্টটির মালিক পক্ষ ২০১০ সাল থেকে এ এলাকার জমি কেনা শুরু করে। তৎকালীন গাজীপুরের এসপি (বর্তমানে রংপুর রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি) আব্দুল বাতেন ভাওয়াল রিসোর্টের পক্ষে কাজ করেছেন। জমি দখল থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্টদের ক্ষমতা প্রদর্শনে সব সহায়তা দেন বলে জানান তারা। তবে গতকাল সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকর্মী যোগাযোগ করলে ডিআইজি আব্দুল বাতেন এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, এখন নানাজন নানা কথা বলবে। প্রকৃতপক্ষে আমার ভাই আব্দুর রাজ্জাকের (সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা) ভাওয়াল রিসোর্টের সঙ্গে কয়েক বিঘা জমি ছিল। সেই সূত্রে আমি একবার ওই এলাকায় গিয়েছিলাম। ভাওয়াল রিসোর্টের সঙ্গে কখনোই আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না।’

তবে স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাদল মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, এসপি বাতেন এ জমি কেনাবেচায় সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে কখনও শুনিনি। ভাওয়াল রিসোর্টের মূল জমিটির মালিক ছিলেন তিন ভাই– রাধা বলম, গোপী বলম ও চাঁদ বলম। তারা ভারতে চলে গেছেন। তাদের কাছ থেকে আমির উদ্দিন ও দত্তর মুন্সী জমি কিনে নিয়েছিলেন। তবে বাঘের বাজারের হাবিবুর রহমান নামে একজন মিথ্যা দলিল করে জমি দখল করে নেন। স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে মীমাংসা হওয়ার পর আমির উদ্দিন ও দত্তর মুন্সীদের কাছ থেকে জমি কিনে নিয়েছিলেন রাজউক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল মঞ্জুর আলম। এক ছাত্রের সঙ্গে পরিচয় সূত্রে এ জমি কিনেছিলেন তিনি। এর পর মঞ্জুর আলমের কাছ থেকে পারটেক্স গ্রুপ জমি কিনে নেয়। পরে রফিক মাস্টারসহ অনেকে জমি বিক্রি করেছেন। এখানে বেনজীর  আহমেদের কোনো জমি ছিল না। শুনেছি, এই রিসোর্টের মালিকানায় তিনিও আছেন। তবে কীভাবে মালিক হয়েছেন, তা জানি না। ভাওয়াল রিসোর্ট তাদের দখলে থাকা জমির পরিমাণ ৩৫ একর দাবি করলেও বাদল মিয়ার দাবি, এর পরিমাণ ৫০-৬০ বিঘার বেশি হবে না।

তবে স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক রাজ্জাক জানান, তিনি সরাসরি ভাওয়াল রিসোর্টের কাছে জমি বিক্রি করেননি। তিনি জমি বিক্রি করেছেন রাজউক স্কুল অ্যান্ড কলেজের মঞ্জুর আলমের কাছে। ভাওয়াল রিসোর্টের পক্ষে জমির দালালি ও দখলে কাজ করেছেন– স্থানীয় কয়েকজনের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ঠিক না।

এলাকাবাসী জানান, তৎকালীন এসপি বাতেনের পর ২০১৭ সালে হঠাৎ ভাওয়াল রিসোর্টের সঙ্গে যুক্ত হন বেনজীর। ব্যক্তিমালিকানাধীন কিছু জমির দখল ছাড়তে রাসেলদের চাপ প্রয়োগ করেন তিনি। এক পর্যায়ে বেনজীরকে এর অংশীদার করে দিয়ে আপসরফা করে নেন রাসেল।

এ ব্যাপারে কথা বলতে বেনজীর আহমেদের মোবাইলে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে ভাওয়াল রিসোর্টের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এম্বার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং রিসোর্টির মালিক শওকত আজীজ রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগেরও চেষ্টা করা হয়।

ভাওয়াল রিসোর্টের মূল প্রবেশপথের জমিটি মুক্তিযোদ্ধা ডা. সিরাজুল হক ও তাঁর মায়ের জমি দখল করে গড়ে তোলা। এ ব্যাপারে ডা. সিরাজুল হকের ভাই বজলুল হক গণমাধ্যমকে জানান, ভাইয়ের জমি উদ্ধারে আজ রোববার গাজীপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ১৯৮২ সালে এই জমি কেনা। স্থানীয় বাসিন্দা মো. শফিউল্লাহর কাছে জমিটি বর্গা দেওয়া ছিল। ২০১৩ সালে হঠাৎ জমিটি দখল করে নেয় ভাওয়াল রিসোর্ট। পরে জানতে পারি, এর সঙ্গে পুলিশের বড় কর্তারা জড়িত। ফলে ভয়ে আমরা ওই জমির ধারেকাছেও যেতে পারিনি। এখন বেনজীরের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে দেখে আমরাও কিছুটা সাহস পাচ্ছি।

শফিউল্লাহর কাছে জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ডা. সিরাজুল হকদের জমিটি একসময় নিচু ছিল। আমিই বর্গা নিয়ে চাষ করতাম। ভাওয়াল রিসোর্টের লোকজন জমি ভরাট করে এখানে রিসোর্ট বানায়। এক পর্যায়ে রাস্তায় ওঠার জন্য তাদের জমি ছিল না। তখন এ জমিটি দখল করে নেয়। তারা জানত, এটা এক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের জমি। তার পরও তারা তা গ্রাহ্য করেনি। সিরাজুল হক জমির আশপাশেও যেতে পারতেন না। নানা জনের কাছে ধরনা দিয়ে জমি উদ্ধার করতে না পেরে ন্যায্যমূল্যে তা কিনে নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুরোধ রিসোর্টের মালিকরা রাখেননি। তবে প্রতিবছর এ জমির সরকারি খাজনা আমি দিয়ে এসেছি। ১৪৩১ বাংলা সনের খাজনাও আমি দিয়েছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী জানান, ২০১৭ সালে ভাওয়াল রিসোর্টের অধীনে সব মিলে জমি ছিল ১৯ একর। বেনজীর যুক্ত হওয়ার পর আশপাশের আরও জমি জবরদখল করে এর আয়তন বাড়িয়ে নেন। এখন রিসোর্টের অধীনে জমির পরিমাণ ৫০ একরের কম হবে না। এলাকাবাসী আরও জানান, এলাকায় বেনজীর যখন আসতেন, তখন মেম্বারবাড়ি, নলজানি রাইস মিলসহ পুরো এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হতো। ভয়ে তখন কেউ রাস্তায় উঠত না। এর পর যাদের জমি দখল করা হয়েছিল, তারাও ভয়ে ওই এলাকায় যেতেন না।


আরও খবর