আজঃ শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪
শিরোনাম

নিয়ন্ত্রণে এসেছে বেইলি রোডের ‘কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্ট’ ভবনের আগুন

প্রকাশিত:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানী বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্ট ভবনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে লাগা এ আগুন ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন বলেন, আমরা ভেতরে তল্লাশি চালাচ্ছি। আটকেপড়াদের জীবিত উদ্ধারে যতটুকু করা সম্ভব আমরা সেটা করার চেষ্টা করছি। বাকি পরিস্থিতি এখনো বলার সময় হয়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তারপরও ভেতরে ধোঁয়া আছে।

কতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, আহত বা নিহত কতজন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। জীবিতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাচ্ছি।

ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভবনের ভেতর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ভেতরে বডি ব্যাগ নিয়ে যান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। নিচে অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ভেতরে প্রচণ্ড ধোঁয়া রয়েছে। কয়েকজনকে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তাদের মৃত্যু হয়েছে নাকি অচেতন হয়ে পড়ে আছে, তা নিশ্চিত নয়। মৃতদেহ পাওয়া গেলে তা উদ্ধারের পর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

অপর এক ফায়ার সার্ভিসের কর্মী বলেন, এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে।

দীর্ঘ দুই ঘন্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে ভয়াবহ এ আগুন। তবে, পুরোপুরি নির্বাপণে সময় লাগছে। পাশাপাশি চলছে ভবনে আটকেপড়াদের উদ্ধার অভিযান।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা এবং উদ্ধার অভিযান ত্বরান্বিত করতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন পুলিশ, আনসার ও বিজিবির সদস্যরা।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন বলেন, রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে, ভেতরে আরও অনেকে আটকা রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ৬৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত রয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্ট ভবনে আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগার পর তা উপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত লোকজন উপরের দিকে উঠে যান। এ সময় ভবন থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হন।


আরও খবর



ঘূর্ণিঝড় রেমাল: ১৯ উপজেলায় ভোট স্থগিত

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ১৯টি উপজেলার ভোট স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. জাহাংগীর আলম।

সোমবার (২৭ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে সচিব এ তথ্য জানান।

এসব উপজেলায় ২৯ মে ভোট হওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। উপজেলাগুলো হলো- বাগেরহাটের শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, মোংলা, খুলনা জেলার কয়রা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, বরিশালের গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, পটুয়াখালী সদর, দুমকী, মির্জাগঞ্জ, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, ভোলার তজুমদ্দিন, লালমোহন, ঝালকাঠির রাজাপুর, কাঠালিয়া এবং বরগুনার বামনা ও পাথরঘাটা।

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ১০৯টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করে তফসিল ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব উপজেলায় ভোট গ্রহণ আগামী ২৯ মে। এখন ৯০ উপজেলায় ভোট হবে পূর্বনির্ধারিত তফসিল অনুসারে।


আরও খবর



নেত্রকোনায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ

প্রকাশিত:শনিবার ০৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০৮ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

Image

নেত্রকোনার সদর উপজেলায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ। উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের ভাষাপাড়া গ্রামে প্রফেসর ড. আব্দুল মান্নানের বাড়িটি পুলিশ দুপুর ২টা থেকে ঘিরে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দুই বছর ধরে তিন জন পুরুষ ও দুই জন নারী বাড়িটি ভাড়া নিয়ে সেখানে বসবাস করে আসছেন। বাড়িটি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের প্রফেসর ড. আব্দুল মান্নানের।

জেলা পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুরে প্রাথমিক অভিযান চালিয়ে ওই বাড়ি থেকে একটি ভারতীয় পিস্তল ও ১৭ রাউন্ড তাজা গুলি এবং প্রশিক্ষণের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য এখনও চূড়ান্ত অভিযান চালানো হয়নি।

তিনি জানান, পুলিশের কাউন্টার এন্টিটরোরিজম ইউনিট ও বোম ডিসপোজাল টিমকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা আসলে চূড়ান্ত অভিযান চালানো হবে।


আরও খবর



বেনাপোল-মোংলা কমিউটার ট্রেনের যাত্রা শুরু

প্রকাশিত:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
খুলনা প্রতিনিধি

Image

মোংলা থেকে বেনাপোল নতুন রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেনাপোল থেকে যাত্রী নিয়ে মোংলা কমিউটার’ ট্রেনটি মোংলার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

বেনাপোল রেলস্টেশনের মাস্টার সাইদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বেতনা কমিউটার ট্রেনটির বগি ও ইঞ্জিন দিয়ে চলছে মোংলা কমিউটার ট্রেন। বেতনা কমিউটার ট্রেন আগে খুলনা থেকে বেনাপোল দুইবার চলাচল করতো। তবে আজ থেকে খুলনা-বেনাপোল রুটে একবার এবং বেনাপোল থেকে মোংলায় চলাচল করবে একবার। আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেনাপোল থেকে যাত্রী নিয়ে মোংলার উদ্দেশে ছেড়ে যায় কমিউটার ট্রেনটি। এ ট্রেনটি খুলনার ফুলতলা, মোহাম্মদনগর হয়ে যাবে মোংলায়। মোংলা থেকে যাত্রী নিয়ে আবার খুলনা হয়ে বেনাপোলে ফিরবে। বেনাপোল থেকে মোংলা রেলপথে ভাড়া নির্ধারণ হয়েছে ৮৫ টাকা। মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিন এই রুটে একই সময়ে ট্রেন চলাচল করবে। এই রুটের দূরত্ব ১৩৮ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল আওয়াল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, বেনাপোল থেকে ট্রেন ছাড়ার পর ট্রেনটি নাভারণে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে, ঝিকরগাছায় ৯টা ৫০ মিনিটে, যশোরে ১০টা ১১ মিনিটে, সিঙ্গিয়ায় ১০টা ৩০ মিনিটে, নোয়াপাড়ায় ১০টা ৪৬ মিনিটে, ফুলতলায় বেলা ১১টা ৪ মিনিটে, মোহাম্মদগর স্টেশনে ১১টা ৩১ মিনিটে, কাটাখালী স্টেশনে ১১টা ৫০ মিনিটে, চুলকাটি বাজারে ১২টা এবং মোংলায় পৌঁছাবে ১২টা ৩৫ মিনিটে।

ট্রেনটি মোংলা থেকে দুপুর ১টায় ছেড়ে বেনাপোল পৌঁছাবে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে। এর মধ্যে চুলকাটি বাজারে ১টা ২২ মিনিটে, কাটাখালীতে ১টা ৪০ মিনিটে, খুলনার মোহাম্মদনগরে ১টা ৫৯ মিনিটে, ফুলতলায় ২টা ২৫ মিনিটে যাত্রাবিরতি করে নোয়াপাড়ায় ২টা ৩২মিনিটে, চেঙ্গুটিয়ায় ২টা ৫২ মিনিটে, সিঙ্গিয়ায় বিকেল ৩টা ১১ মিনিটে, যশোরে ৩টা ৩০ মিনিটে, ঝিকরগাছা ৩টা ৫২ মিনিটে, নাভারণে বিকেল ৪টা ১১ মিনিটে এবং বেনাপোলে পৌঁছাবে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে।


আরও খবর



গুচ্ছে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

গুচ্ছ ভুক্ত ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। গত ২০ মে শুরু হওয়া ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ পছন্দক্রম সহ ভর্তি আবেদনের শেষদিন ছিল আজ মঙ্গলবার। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে এই আবেদন প্রক্রিয়া একদিন বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২৮ মে) গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড.আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজই আবেদনের শেষ সময় ছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে অনেক জায়গায় ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা আবেদনের সময়সীমা একদিন একদিন বাড়ানো হয়েছে।

এর আগে এ ইউনিট ( বিজ্ঞান) অনুষদের পরীক্ষা ২৭ এপ্রিল, বি ইউনিট ( মানবিক) অনুষদের পরীক্ষা ৩ মে ও সি ইউনিট ( বাণিজ্য) অনুষদের পরীক্ষা ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটি জানান এবার নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হবে পহেলা আগস্ট থেকে।

গুচ্ছভুক্ত ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।


আরও খবর



দেশজুড়ে ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডব, বিভিন্ন জেলায় ৭ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে দমকা হাওয়াসহ ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি বয়ে যাচ্ছে দেশের উপকূল অঞ্চলে। এর প্রভাবে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও সাতক্ষীরা এবং চট্টগ্রামে সাত জনের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (২৭ মে) সকালে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দুর্যোগের পূর্বেই সঠিক পূর্বাভাস এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতার প্রতিফলনস্বরুপ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়েও তেমন কোন প্রভাব পড়েনি।

তবে অনেক জেলায় দুর্বল বাঁধের কারণে ঘূর্ণিঝড় শুরুর আগেই বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। ৫ থেকে ৬ ফুট উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানে উপকূলে। পটুয়াখালীতে উত্তাল ঢেউয়ে ভেসে একজন এবং সাতক্ষীরায় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে একজনের প্রাণ গেছে। মোংলায় ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ রয়েছে শিশুসহ দুইজন। এছাড়াও বরিশাল, ভোলা ও চট্টগ্রামে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ রেমাল উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করে বর্তমানে খুলনার কয়রা অতিক্রম করছে। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমশ বৃষ্টিপাত বাড়িয়ে পরবর্তী ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে কিছুটা দুর্বল হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে’ রূপ নিতে পারে।

এরইমধ্যে রেমাল উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করে বর্তমানে কয়রা, খুলনার কাছে অবস্থান করছে। এরপর ধীরে ধীরে সমুদ্র এবং উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ শান্ত হয়ে উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সময়ের মধ্যে বৃষ্টিপাত বাড়বে ঢাকাসহ এর আশপাশের এলাকায়। সকাল থেকে ঢাকায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে তীব্র বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের ১৮ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪-৮৮ মিমি/২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিমি/২৪ ঘণ্টা) বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কি.মি., যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ (দশ) নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ০৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদুরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ০৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদী বন্দরসমূহকে ০৪ নম্বর নৌ-মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চীদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ০৮-১২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছাসে প্লাবিত হতে পারে।


আরও খবর