আজঃ বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

মতলবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ব্যাংক কর্মচারী নিহত

প্রকাশিত:বুধবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:বুধবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সুজাতপুর বাজারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যাংক কর্মচারী নিহত হয়েছেন।

নিহতের নাম মো. হাসান (২২)। তিনি আইএফআইসি ব্যাংকের উপশাখায় অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিল। হাজীগঞ্জ উপজেলার মালাপাড়া গ্রামের আ. সোবহানের ছেলে তিনি। 

বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুরাদ মিয়া প্লাজার ব্যাংক ভবনের ছাদে গেলে বিদ্যুতের তারে স্পর্শ লেগে গুরুতর আহত হন হাসান। উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। 

তিনি বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মতলব উত্তর থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. সানোয়ার ও সঙ্গীয় ফোর্স। মরদেহ এখন পর্যন্ত থানায় আছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই। তারা ময়নাতদন্ত না করার পক্ষে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হাস্তান্তর করা হবে।

সহকর্মীর মৃত্যুর বিষয়ে আইএফআইসি ব্যাংকের সুজাতপুর বাজার উপশাখার ট্রান্সজেকশন সার্ভিস অফিসার মো. শাকিল বলেন, অফিসে আসার পর সাড়ে ১০টার দিকে ব্যক্তিগত কাজে ছাদে যায় হাসান। ওখানে বিদ্যুতের তারে লেগে আহত হন তিনি। উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


আরও খবর



শাহবাগ অবরোধ ছাড়লেন কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

হাইকোর্টের কোটা পুনর্বহালের আদেশের বিরুদ্ধে দেড় ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচির পর শাহবাগ মোড় ছেড়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এরপর ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

বুধবার (৩ জুলাই) বিকেল সোয়া ৫টায় শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় ছেড়ে মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে আজকের কর্মসূচির শেষ করে। এসময় তারা আগামীকাল বেলা ১১টায় অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা করে।

কোটা আন্দোলনের সমন্বয়কারী ঢাবি শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা দেড় ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধের পর আজকের মতো কর্মসূচি শেষ করছি। আগামীকাল হাইকোর্ট এই কোটা পুনর্বহালের রায় দেবে। তাই আমরা আগামীকাল বেলা ১১টায় আমাদের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করব। এ সময় আমরা সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে অবস্থান গ্রহণ করব। যদি হাইকোর্টের এই রায় আমাদের বিরুদ্ধে যায় তাহলে আমরা সে অনুযায়ী নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হব।

এর আগে দুপুর আড়াইটায় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহালে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে এবং ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে থেকে মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর-টিএসসি-হাইকোর্ট-মৎস্যভবন হয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থা নেয়।

বিকেল পৌনে ৪টায় শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের অবরোধের ফলে আশেপাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে শাহবাগ অচল হয়ে পড়ে। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষ করে তারা এই অবরোধ তুলে নেন। দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকার পরে তা স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

প্রসঙ্গত, এবার শিক্ষার্থীরা ৪ দফা দাবিতে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। দাবিগুলো হলো :

১. ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা।

২. পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন পূর্বক দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সমস্ত গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ব্যতীত)।

৩. সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া।

৪. দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

প্রসঙ্গত, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে গত ৫ জুন বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।


আরও খবর



বান্দরবানে বেনজীরের ২৫ একর জমি জিম্মায় নিল জেলা প্রশাসন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বান্দরবান প্রতিনিধি

Image

বান্দরবানে সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের জমি জিম্মায় নিয়েছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকালে জেলার সুয়ালক ইউনিয়নে স্ত্রী, কন্যা ও নিজের নামে কেনা ২৫ একর জমি জিম্মায় নেয়া হয়।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেছেন, বান্দরবানে বেনজীরের অবৈধ জায়গা জমি নিয়ে তদন্ত করার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি জিম্মায় নেয়া জমি দেখভালের জন্য একটি রিসিভার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ক্ষমতায় থাকাকালে প্রভাব খাটিয়ে জমি ক্রয় করার পাশাপাশি দখল করে নিয়েছেন অনেক দরিদ্র পরিবারের জমিও। এসব জমিতে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের বাগান, মাছের ঘের, গরুর খামারসহ আলিশান বাগান বাড়ি। দুদকের অভিযানের পর বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য।

সরেজমিনেও দেখা গেছে, সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের মাঝের পাড়া এলাকায় স্ত্রী জীশান মির্জা, মেয়ে ফারহিন রিশতা ও নিজ নামে বেনজীর কিনেছেন ২৫ একর জমি। সে জমির ওপর গড়ে তুলেছেন মৎস্য ঘের, গরুর খামারসহ আলিশান বাগান বাড়ি। যাতায়াতের জন্য করা হয়েছে রাস্তা। আশপাশে কোনো জনবসতি না থাকলেও বেনজীরের জায়গায় দেখা যায় বিদ্যুতের সংযোগ। আর অবকাশ যাপনের জন্য করা হয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দোতলা বাড়ি। শুধু তাই নয়, জেলার লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি মৌজায় বেনজীর কিনেছেন ২৫ একরের ৪টি লিজ করা পাহাড়ি প্লট।

স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়া পার্বত্য এলাকায় অন্য কারও জমি কেনার বিধান না থাকায় শুধুমাত্র নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করেছেন এসব জায়গা। রেজিস্ট্রি না করায় প্রশাসনের কাছে নেই সেসব জায়গার কোনো দলিল। আর নিজে দেখাশোনা করতে না পারায় জমি ক্রয় করার পর মংওয়াইচিং নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে লিখিতভাবে দায়িত্ব দেয়া হয় এসব জায়গা দেখাশোনা করার জন্য। তার মাধ্যমে সেখানে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন প্রজাতির বাগান। স্থানীয়দের অভিযোগ, নামমাত্র মূল্যে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বেনজীর দখলে নিয়েছেন এসব জায়গা।

এ বিষয়ে সুয়ালক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উক্যনু মার্মা বলেন, বান্দরবানে বিভিন্ন এলাকায় বেনজীরের নামে অনেক সম্পত্তি আছে। আমার ইউনিয়নেও বেনজীরের সম্পত্তি আছে। যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা হবে বলে জানান চেয়ারম্যান।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে র‌্যাবের মহাপরিচালক থাকা অবস্থায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নামে-বেনামে বান্দরবানে জায়গা কিনেছেন বেনজীর আহমেদ।


আরও খবর



চা বিক্রেতার মেয়ের কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রয়োজন ১৭ লাখ টাকা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
উপজেলা প্রতিনিধি

Image

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী বাজারের চা বিক্রেতা জামাল মোল্লা। ৫ বছর আগে একমাত্র মেয়ে সাদিয়াকে বিয়ে দিয়েছিলেন খুলনার তেরখাদা উপজেলার কৃষক রমজান খানের সাথে। বিয়ের ৫ বছরে দুটি সন্তানও হয়েছে সাদিয়ার। অভাব অনটনের মধ্যেও সুখেই স্বামীর ঘর করছিলো সাদিয়া। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি কখন যে মরণ অসুখ বাসা বেধেছে তার কিডনিতে। যখন টের পেলো তখন তার একটি কিডনি অকেজ ও আরেকটার ৫০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু পথযাত্রী এ দুই সন্তানের জননী, জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে।

সন্তানদের জন্য তার বেঁচে থাকার তীব্র আকুতি। স্বামী কিংবা স্বজনদের সামর্থ্য নেই এত টাকা ব্যয় করে তাকে বাঁচিয়ে রাখার। তারপরও তার বাবা চা বিক্রেতা জামাল একমাত্র মেয়েকে বাঁচাতে সাহায্যের আশায় ধরনা দিচ্ছে বিভিন্ন মহলে।

সাদিয়ার বাবা জামাল মোল্লা বলেন, দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর হঠাৎ সাদিয়ার সারা শরীর ফুলে যায়। তখন তার স্বামী খুলনায় আড়াই শ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে। তখন চিকিৎসকেরা জানায় সাদিয়ার কিডনিতে সমস্যা রয়েছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে হবে। তখন ঢাকায় জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউটে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানায় সাদিয়ার একটি কিডনি পুরোপুরি নষ্ট ও আরেকটি ৫০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। পুনরায় কিডনি স্থাপন করতে ১৭ লাখ টাকার প্রয়োজন।

জামাল মোল্লা বলেন, এ কথা সাদিয়ার স্বামী রমজান জানার পর ১ বছর আগে ২ সন্তানসহ তাকে আমার বাড়িতে রেখে যায়। তারপর স্ত্রী সন্তানের আর কোন খোঁজ খবর নেয়নি রমজান। সঞ্চিত অর্থ ও ধার দেনা করে এতদিন মেয়ের চিকিৎসা চালিয়ে আসছি। এখন শুধুমাত্র ভিটে বাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই। আর টাকার অভাবে বর্তমানে সাদিয়ার চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে ।

বাবা জামাল মোল্লা আরও বলেন, ইতিমধ্যে সাদিয়ার ডান পাশের কিডনি কেটে ফেলে দেয়া হয়েছে। আর বাম পাশের কিডনি ৫০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও প্রসাবের থলি ফুলে অনেক বড় হয়ে গেছে। সাদিয়ার অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সাদিয়ার চিকিৎসা করানো আমার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমার একমাত্র মেয়েটি বাড়িতেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তাই বিত্তবান, প্রবাসীসহ স্বহৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছে আমার আকুল আবেদন আমার মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা ইসলামী ব্যাংকের হিসাব নং ২০৫০৪০০০২০০৪৯১২০৮ (সাদিয়ার মা খাদিজা বেগম) ও সাদিয়ার বাবা জামাল মোল্লার বিকাশ নাম্বারে ০১৯৭৯-১৪১৩০০ পাঠাতে পারেন।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, চিকিৎসকরা তার কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছে। কিডিনি প্রতিস্থাপন করা হলে সাদিয়ার জীবন রক্ষা পাবে।

এবিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈনুল হক বলেন, আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। উপজেলা প্রশাসন থেকে তাদের যথাসম্ভব সাহায্য করা হবে।

ফারহান লাবিব, টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ)

নিউজ ট্যাগ: টুঙ্গিপাড়া

আরও খবর



ত্রিশালে কালের সাক্ষী ৫'শত বছরের পুরনো শিমুল গাছ

প্রকাশিত:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

Image

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সাখুয়া ইউনিয়নের বালির বাজার এলাকার অতি নিকটে চিনু মোড়লের বাড়ির পাশেই একটি বিশাল আকৃতির পুরনো শিমুল গাছ যা কালের সাক্ষী হয়ে ৫শত বছর ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে এখনও। এলাকার মানুষের দাবি গাছটির বয়স অন্তত পাঁচশত বছর হবে। এই পুরনো শিমুল গাছটি নিয়ে জড়িয়ে আছে নানা গল্প কাহিনী।

সৌন্দর্যমন্ডিত প্রাচীণ এই গাছটিকে নিয়ে রয়েছে নানা গল্পকাহিনী। গাছের গোড়ায় দাঁড়ালে নিজেকে উচ্চতার দিক থেকে অতিক্ষুদ্র মনে হয়। আবার কখনও বা মনে হয় পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে থাকার অনুভব। এর বিশালতায় দর্শনার্থীদের ভরে যায় মন। আলোচিত এই গাছটি দেখতে দূর থেকেও ছুটে আসেন অনেকে।

পুরাতন এ শিমুল গাছজুড়ে যখন টকটকে লাল শিমুল ফুল ফোটে তখন এক অপরুপ দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। এই গাছটির নিচে অনেকেই মনের বাসনা পূরণের জন্য মানত হিসাবে গরু খাসি, মোরগ, জবাই করে রান্নাবান্না করে। গাছ দেখার জন্য আগত ভক্তদের উদ্দেশ্য একটাই যেন তাদের মনের বাসনা পূর্ণ হয়।

স্থানীয়রা অনেকেই জানান, প্রায় সময় এখানে বিভিন্ন এলাকার লোকজন গাছটি একনজর দেখার জন্য এসে ভিড় করে থাকেন। তারা মানত করেন, স্থানীয়দের মাঝে মোরগ-পোলাও মিষ্টি বিতরণ করেন। তারা মনে করে এ গাছে অলৌকিক কোন কিছু আছে। তাই মনের বাসনা পুরণ করার জন্য দূর থেকে ছুটে আসেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোকছেদ আলী জানান, এই পুরাতন শিমুল গাছটি কাটার জন্য অনেকেই চেষ্টা করেছে কিন্তু কোন অবস্থাতেই কাটা যায় না। যে গাছটি কাটতে যায় সে অসুস্থ হয়ে যায়। শুনেছি অনেক আগে এ গাছ কাটতে এসে নাক, মুখ দিয়ে রক্ত এসেও মারা গিয়েছে একজন। এটি আমাদের এলাকার পুরাতন একটি গাছ। এটি আমাদের ঐতিহ্য।এভাবেই রুপকথার গল্পের মতো কথাগুলো বললেন মোকছেদ আলী। তার কথাগুলো হাস্যকর মনে হলেও এখানকার মানুষজন তাই বিশ্বাস করেন।

জমির মালিক ইউসুফ আলী জানান, এই বিশাল আকৃতির শিমুল গাছটির বয়স কমপক্ষে হলেও পাঁচশত বছর হবে। পূর্বপুরুষের মুখে শুনে এসেছি এই প্রবীণ শিমুল গাছের কথা। এছাড়াও এই গাছটি নিয়ে অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। তাই মানুষ এ গাছে মানত পূরণ করতে আসে। প্রতিবছর ফাল্গুন মাস এলে গাছে শিমুল ফুলের সমারোহ সৌন্দর্য বৃদ্ধ করে এই প্রবীণ গাছটি। ওই সময় এই গাছটি ফুলে লালে লাল হয়ে যায়। গাছের ফুলে ফুলে মৌমাছি, পাখিদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এই শিমুল বৃক্ষটি ত্রিশালের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে এমনটাই মনে করেন আগতরা।


আরও খবর



যশোরে সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত:শনিবার ২৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৯ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর)

Image

যশোরের শার্শা উপজেলায় বিষধর সাপের কামড়ে প্রান্তি খাতুন নামে (৬) বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার বেলা ১২ টার সময় খুলনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। প্রান্তি নিজামপুর ইউনিয়নের একঝালা গ্রামের প্রাবাসী সোহাগ মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় এসএম গাতিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

শিশুটির স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঘরে খাটের কাছে বসা ছিল প্রান্তি। এ সময় তার হাতে বিষধর একটি সাপ কামড় দিয়ে চলে যায়। প্রান্তি চিৎকারে পরিবারের লোকজন ছুটে আসেন। তার হাতের ক্ষতস্থানের ওপরে বেঁধে তাকে প্রথমে শার্শা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে প্রথমে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ও পরে খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রান্তির মৃত্যু হয়।

নিজামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম রেজা বিপুল বলেন, ছোট মেয়েটি সাপের কামড়ে মারা গেল। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এলাকার মানুষের মধ্যে শোকের পাশাপাশি সাপের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। সবাইকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ করছি।


আরও খবর