আজঃ বুধবার ২৪ জুলাই 20২৪
শিরোনাম

মৌসুমি বায়ু সক্রিয়, সপ্তাহজুড়ে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস

প্রকাশিত:শনিবার ০৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০৮ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

মৌসুমি বায়ু সক্রিয় জানিয়ে আবহাওয়া অফিস বলছে, দেশের সব বিভাগেই ঝড়বৃষ্টির প্রবণতা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাসহ কয়েক বিভাগে ভারি বর্ষণ হতে পারে। শনিবার (৮ জুন) সকালে আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, লঘুচাপের বাড়তি অংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

ঝড়বৃষ্টি ও ভারি বর্ষণের এ প্রবণতা সপ্তাহজুড়েই অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। যদিও আগামী দুদিন সারাদেশে তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া খুলনা ও বরিশাল বিভাগসহ টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম ও চাঁদপুর জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এ ছাড়াও রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবতী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের দু'এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

কুমিল্লায় শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এ সময় ঢাকাসহ দেশের বেশ কিছু স্থানেও বৃষ্টি হয়েছে।


আরও খবর



জনসচেতনতা বাড়িয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে চান চসিক মেয়র

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | অনলাইন সংস্করণ
রাহুল সরকার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Image

মৌসুমের আগে ভাগেই চট্টগ্রামে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ছাড়িয়েছে আড়াইশোরও বেশি। এরপরও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিধনে কোন উদ্যোগ নেয়নি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। জনসচেতনাকে মোক্ষম অস্ত্র বলে মনে করছেন চসিক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী। করোনার মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে বলেও মত দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) দুপুরে চসিকের উদ্যোগে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মেয়র বলেন, নগরের প্রত্যেক সংস্থা, সামাজিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সোসাইটির নেতৃবৃন্দ, মসজিদে জুমার নামাজে মাধ্যমে নাগরিকদের সচেতন করতে পারলে করোনার মতো ডেঙ্গুও প্রতিরোধ সম্ভব।

তিনি বলেন, আমাদের চারপাশে যে সমস্ত জায়গায় এডিস মশা জন্মায় সেই সমস্ত জায়গায় যাতে এডিস মশা জন্মাতে না পারে সেই ব্যাপারে সকলকে সচেতন হতে হবে। নালা-নর্দমায় এডিস মশা জন্মায় না। পরিস্কার ও বদ্ধ পানি এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র। তাই বসা-বাড়ির আশে-পাশে ডাব ও নারকেলের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ছাদ বাগান ও ফ্রিজে জমানো পানি তিন দিনের বেশি যাতে জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাসা বাড়ি, ছাদ-আঙ্গিনা নিজ নিজ উদ্যোগে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এটি আমাদের সকলের নাগরিক দায়িত্ব।

তিনি চট্টগ্রাম নগরকে একটি নিরাপদ বাসযোগ্য ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন নগর গড়ারও আহ্বান জানান। সভায় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ ডেঙ্গু প্রতিরোধে তাদের মতামত প্রদান করেন।

চসিকের কনফারেন্স রুমে প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার লতিফুল হক কাজমীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল তসলিম, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি পরিচালক ডা. মো. সাখওয়াত উল্লাহ্, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েল ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার ডা. হোসাইন সরোয়ার, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রক) ডা. মো. নরুল হায়দার, ভারপ্রাপ্ত জেলা কীটতত্ববিদ সৈয়দ মো. মঈন উদ্দীন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরীসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি।


আরও খবর



ব্ল্যাকমেইল করে ছাত্রীদের শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করতেন শিক্ষক অভিজিৎ

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

Image

ছাত্রীদের শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার ঘটনায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কোচিং সেন্টারের শিক্ষক সবুজ চক্রবর্তী অভিজিৎকে (৩০) গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) এক ছাত্রীর অভিভাবক বাদী হয়ে বোয়ালখালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। সবুজ চক্রবর্তী অভিজিৎ পটিয়া থানার কেলিশহর গ্রামের সরোজ মাস্টার বাড়ির গৌরি শংকর চক্রবর্তীর ছেলে।

সবুজ ২০২১ সালে কধুরখীল ইউনাইটেড মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে এমপিওভুক্ত কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে বিদ্যালয়ের পাশে ক্যানভাস টিচিং হোম নামে একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে আসছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, সবুজ কোচিং সেন্টারের ছাত্রীদের ব্ল্যাকমেইল ও প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করতো। বেশ কিছুদিন ধরে এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসলেও চার ছাত্রী অভিযোগ দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। গত ৯ জুলাই সবুজের কোচিং সেন্টারের চার ছাত্রী বিচার চেয়ে কধুরখীল ইউনাইটেড মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়।

ওইদিনই সবুজ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের সামনে সবুজের বিচার চেয়ে একাধিকবার বিক্ষোভ করেছেন।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আছহাব উদ্দিন বলেন, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর সবুজের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২৫ মার্চ ও ৩ এপ্রিল এক ছাত্রীকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানান ওসি।

নিউজ ট্যাগ: চট্টগ্রাম

আরও খবর



কলাপাড়ায় ২৬ হাজার ৮ শ' ৮০ পিচ বিয়ারের চালান জব্দ

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
সাইফুল ইসলাম, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)

Image

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ২৬ হাজার ৮ শ' ৮০ পিচ ক্যান বিক্রি নিষিদ্ধ চাইনিজ বিয়ার সহ ৩ যুবককে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। যা দেশ স্বাধীনের পর দক্ষিণাঞ্চলে এটাই প্রথমবারের মতো বৃহৎ বিয়ারের চালান বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। জব্দকৃত এসব বিয়ারের বাজার (অবৈধ) মূল্য ২ কোটি ১৫ লক্ষ ৪ হাজার টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর।

শুক্রবার ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলাপাড়া থেকে ধাওয়া করে পটুয়াখালী টোল প্লাজা থেকে একটি কার্গোভ্যানসহ এসব মাদক জব্দ করা হয়।

আটককৃত বাসিরুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান রাব্বি পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চাইনিজ ওরিয়েন্টাল পার্লে কর্মরত। এছাড়া রুবেল মুন্সী জব্দকৃত কার্গোভ্যানের চালক।

আটক চায়না ওরিয়েন্টাল পার্লর দোভাষী বাসিরুল ইসলাম ওরফে রাসেল জানান, নির্মাণাধীন পটুয়াখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত চিনা নাগরিক ওমর ফারুক তাদের এই বিয়ার পৌঁছে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কার্গোভ্যানে কি মজুত করা ছিল তা তিনি জানতেন না।

একই কথা জানান গাড়ি চালক রুবেলও। তিনি বলেন, চায়নিজদের মালামাল প্রায় সময়ই ঢাকাতে পরিবহণ করতেন। তবে কি মালামাল থাকে তা জানেন না তিনি।

পটুয়াখালী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এনায়েত হোসেন জানান, গোয়েন্দা নজরদারীতে বৃহৎ এই মাদকের চালান জব্দ করতে সক্ষম হই। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগীতা করেছেন। তার নির্দেশেই আমরা কাজ করেছি।

তিনি বলেন, চায়না থেকে নৌ-পথে এসে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটি দিয়ে সিংথাও নামের এই বিয়ার খালাস হয়েছে। পরে কার্গোযোগে সড়ক পথে ঢাকায় পাচার করা হচ্ছিল। এই চালানে এখনো পর্যন্ত এক চায়না নাগরিকের সংশ্লিষ্টতার কথা বলছে আটককৃতরা। তবে মামলা শেষে অধিকতর তদন্ত করা হবে।


আরও খবর



৫০ লাখে বিসিএস, ২০ লাখে সরকারি চাকরির প্যাকেজ

প্রকাশিত:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে গত ১২ বছরে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) অধীনে ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা। এতে পিএসসির ঊর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৭ জন। এবার তাদের কাছ থেকে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এসব তথ্যে রীতিমত হতবাক সিআইডি কর্মকর্তারা।

সিআইডিসূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তাররা দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে কাজ করতো। চক্রের সদস্যরা যেসব পরীক্ষার্থী সংগ্রহ করতো, তাদের সঙ্গে চুক্তি করা হতো। চুক্তিটি এমন ছিল, প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগে তারা এক থেকে দুই লাখ টাকা নিতেন। এরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার আগে এক থেকে দুই লাখ টাকা নেওয়া হতো। আর নিয়োগ চূড়ান্ত হয়ে গেলে বাকি টাকা দিতে হতো। বিসিএসের জন্য চুক্তি হতো ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকায়, আর সব সরকারি চাকরি ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা নিতেন তারা।

আরও জানা যায়, চক্রটি প্রশ্নপত্র হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারে দিতো না; বরং পরীক্ষার আগের রাতে চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীদের গোপন আস্তানায় নিতেন তারা। এর সঙ্গে বিজি প্রেসকেন্দ্রিক একটি দল জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। চক্রের সদস্যদের হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন থেকে প্রশ্ন ফাঁস সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য মিলেছে। এ ছাড়া মিলেছে বেশ কিছু ডিজিটাল আলামত। তাদের কাছ থেকে দুটি বিসিএস পরীক্ষার শত শত প্রবেশপত্রের ফটোকপি পাওয়া গেছে। তবে কোন দুটি বিসিএস পরীক্ষার প্রবেশপত্র এ বিষয়ে কিছু জানায়নি সিআইডি।

সিআইডি বলছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস করে বাকিদের হাতে তুলে দিতেন পিএসসির উপ-পরিচালক মো. আবু জাফর ও মো. জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর কবির। চক্রের বাকি সদস্যরা কেউ চাকরিপ্রার্থী সংগ্রহ করতেন, কেউ প্রশ্নপত্র পেয়ে তা সমাধান করতেন, কেউবা চাকরি প্রার্থীদের ঢাকায় এনে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি টাকার অঙ্ক নির্ধারণ করতেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁস করার পর তারা প্রার্থী খুঁজতে ব্যবহার করতেন অফিস সহায়ক খলিলুর রহমান ও অফিস সহায়ক (ডিসপাস) সাজেদুল ইসলামকে। পরীক্ষার্থীদের বাসায় এনে উত্তরপত্র পড়াতেন তারা। আর পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী টাকা লেনদেন ও প্রশ্নফাঁসের বুথ পরিচালনা করতেন। এভাবে লুটে নিতেন কোটি কোটি টাকা। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্তে অনেক হাইপ্রোফাইলের নামও উঠে এসেছে।

সিআইডি বলছে, গত ৫ জুলাই রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস করেন তারা। চুক্তি অনুযায়ী পরীক্ষার আগের রাতে পরীক্ষার্থীদের বাসায় এনে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র দিয়েছেন। তদন্তে এখন পর্যন্ত অনেকের নাম সামনে এসেছে। তাদের মধ্যে হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিও রয়েছে। সবার তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।

সম্প্রতি বিসিএসসহ পিএসসির অধীনে অনুষ্ঠিত বিসিএস প্রিলিলিখিতসহ গুরুত্বপূর্ণ ৩০ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এরপর বিপিএসসির তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারের পর রাজধানীর পল্টন থানায় বিপিএসসি আইনে মামলাটি দায়ের করেন সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) নিপ্পন চন্দ্র চন্দ। মামলায় ৩১ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০/৬০ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার ১৭ জনকে গত মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়েছে।

মামলার এক নম্বর আসামি সৈয়দ আবেদ আলী (৫২)। তিনি দীর্ঘদিন পিএসসির সাবেক সদস্য মাহফুজুর রহমানের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই নম্বর আসামি নোমান সিদ্দিক (৪৪)। লক্ষ্মীপুরের রামগতি এলাকার বাসিন্দা গার্মেন্টস (পোশাক) ব্যবসায়ী নোমান থাকতেন মিরপুর-১০ সেনপাড়া পর্বতা এলাকায়।

তিন নম্বর আসামি খলিলুর রহমান (৩৮)। চার নম্বর আসামি মো. সাজেদুল ইসলাম (৪১)। পাঁচ নম্বর আসামি মিরপুর ইসিবি চত্বরের ডেভেলপার ব্যবসায়ী আবু সোলেমান মো. সোহেল (৩৫)। ছয় নম্বর আসামি পিএসসির উপ-পরিচালক (সিলেট) জাহাঙ্গীর আলম (৫৮)। সাত নম্বর আসামি পিএসসির সহকারী পরিচালক এসএম আলমগীর কবীর (৪৯)। আট নম্বর আসামি গাজীপুর সেনানিবাসের অডিটর প্রিয়নাথ রায় (৫১)। নয় নম্বর আসামি মিরপুরের জাহিদুল ইসলাম (২৭)। দশ নম্বর আসামি পিএসসির উপ-পরিচালক মো. আবু জাফর (৫৭)।

বাকি আসামিরা হলেন- নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী শাহাদাত হোসেন, ঢাকার ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত মো. মামুনুর রশীদ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মেডিকেল টেকনিশিয়ান মো. নিয়ামুল হাসান, ব্যবসায়ী সহোদর সাখাওয়াত হোসেন ও সায়েম হোসেন এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লিটন সরকার ও সৈয়দ আবেদ আলীর ছেলে ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম।

এখনো পলাতক রয়েছে, পিএসসির সাবেক সহকারী পরিচালক নিখিল চন্দ্র রায়, শরীফুল ইসলাম ভূঁইয়া, দীপক বনিক, খোরশেদ আলম খোকন, কাজী মো. সুমন, এ কে এম গোলাম পারভেজ, মেহেদী হাসান খান, গোলাম হামিদুর রহমান, মুহা. মিজানুর রহমান, আতিকুল ইসলাম, এটিএম মোস্তফা, মাহফুজ কালু, আসলাম ও কৌশিক দেবনাথ।

সিআইডি জানায়, গত ৫ জুলাই পিএসসির আয়োজিত রেলওয়ের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের (নন ক্যাডার) নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন হুবহু ফাঁস হয়েছে। পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ের আগে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে প্রশ্ন এবং উত্তর বিতরণ করেছে সংঘবদ্ধচক্রটি।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) বিশেষ পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, মামলায় এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাবেক পিএসসি চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীসহ সাতজন দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তারদের থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। এ চক্রের সঙ্গে আরও যারা জড়িত রয়েছেন প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।


আরও খবর
মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে আপিল শুনানি আজ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানির দিন আজ ধার্য রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের কার্যতালিকায় আবেদনটি শুনানির জন্য ৮ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে ৫৬ শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোটা ব্যবস্থা বহাল রাখে সরকার।

এ পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে গত ৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট। ফলে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল থাকবে। পরে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ৯ জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়।

ওই দিন কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় স্থগিত না করে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।


আরও খবর
কোটা নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি রোববার

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪