আজঃ শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪
শিরোনাম

মোংলায় ড্রেজারের পাখায় জড়িয়ে শ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ মার্চ ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ১৮ মার্চ ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

মোংলা থেকে নূর আলম(বাচ্চু),

বাগেরহাটের মোংলায় একটি ড্রেজারে কাজ করা অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নদীতে পড়ে নাঈম দেওয়ান নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেলে পশুর নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঐ ড্রেজারের পাখায় জড়িয়ে থাকা অবস্থায় নাঈমের লাশ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

নিহত নাঈম দেওয়ানের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলায়। তিনি জেড কোম্পানির সিএসডি বোখারি নামের একটি ড্রেজারে কাজ করতেন।

মোংলা ইপিজেড ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা মো. আরদেশ আলী জানান, ড্রেজারে কাজ করতেন নাঈম। শনিবার বিকেলে ড্রেজারের পাখা পরিষ্কার করার সময় হঠাৎ তার ওপর পাখাটি খুলে পড়লে নদীতে ছিটকে পড়েন তিনি। পরে অনেক খোঁজ করেও সন্ধান মেলেনি তার। খবর পেয়ে নাঈমকে উদ্ধারে ঘটনাস্থলে যায় ফায়ার সার্ভিস। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ড্রেজারের পাখায় জাড়ানো অবস্থায় নাঈমের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশ মোংলা থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।


আরও খবর
৯ ছাত্রীর চুল কাটার ঘটনায় শিক্ষিকা বরখাস্ত

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




বিপিএল দেখতে বসে টিভি বন্ধ করে দেই: হাথুরুসিংহে

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

Image

বাংলাদেশ জাতীয় দলের হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে রীতিমতো বোমাই ফাটালেন। তার মতে, এই টুর্নামেন্ট বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট উন্নয়নে কোনো অবদান রাখতে পারেনি!

হাথুরু ক্রিকেটভিত্তিক পোর্টাল ক্রিকইনফোর সঙ্গে আলাপকালে বিপিএলের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্থানীয় ক্রিকেটারদের ব্যবহার করে বিদেশি খেলোয়াড়দের ওপরই নির্ভর করে থাকেন বেশি।

লংকান কোচ বলেন, বাংলাদেশে উপযুক্ত কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট নেই। শুনতে খুবই অস্বাভাবিক লাগবে। কিন্তু আমি যখন বিপিএল দেখি, অনেক সময় টিভি বন্ধ করে দেই। কিছু খেলোয়াড় তো ওই মানের মধ্যেই পড়ে না।

তিনি আরও বলেন, যে পদ্ধতি মেনে চলছে সেটা নিয়ে আমার আপত্তি আছে। আইসিসির এসব ক্ষেত্রে এগিয়ে আসা উচিত। কিছু নিয়ম তো অবশ্যই থাকা উচিত। বিশেষ করে একই সময়ে একজন খেলোয়াড় একটি টুর্নামেন্ট খেলছে, পরে দেখা গেলো আরেকটিতেও অংশ নিচ্ছে। বিষয়টা পুরোপুরি সার্কাসের মতোন। খেলোয়াড়রা সুযোগের কথা বলবে; কিন্তু এটা সঠিক নয়। এমনটা হলে দর্শকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। আমি নিজেও সেটা হারিয়ে ফেলেছি।

বিপিএলে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মূল ভূমিকায় রাখা উচিত বলে মনে করেন হাথুরু, আমাদের এমন টুর্নামেন্ট হওয়া উচিত যেখানে স্থানীয় খেলোয়াড়রা টপ তিন নম্বরে ব্যাট করতে পারে... বাংলাদেশের বোলাররা বল করবে ডেথে। তাহলে আমরা আর কোন জায়গা থেকে শিখবো? আমাদের তো এই একটাই টুর্নামেন্ট।

এই মৌসুমে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স, সিলেট স্ট্রাইকার্স ও দুর্দান্ত ঢাকা টপ তিনের জন্য বিদেশির ওপর নির্ভর করেছে। বিপরীতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, খুলনা টাইগার্স ও রংপুর রাইডার্স স্থানীয়দের ব্যবহার করেছে। বোলিংয়ের কথা এলে কুমিল্লার স্কোয়াডে আছেন ১২জন। সেখানে ডেথে তারা আটজন বিদেশি ব্যবহার করেছে। খুলনা, ঢাকাও বিদেশিদের ওপর নির্ভর করেছে আরও বেশি। শুধু চট্টগ্রাম, রংপুর, বরিশাল ও সিলেট স্থানীয়দের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এই অবস্থায় হাথুরুসিংয়ের পরামর্শ হলো বিসিবির উচিত বিপিএলের আগে আলাদা একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন। যাতে স্থানীয় খেলোয়াড়রা আরও বেশি টি-টোয়েন্টি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।

হাথুরু আরও বলেন, আমার পরামর্শ হচ্ছে বিপিএলের আগে আরেকটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা উচিত। ফ্র্যাঞ্চাইজিরা যা খুশি করতে পারে। সেরাদের মধ্যে অনেকে খেলছে না, তাহলে আপনি কীভাবে আশা করেন বাংলাদেশ অন্য দলের চেয়ে ভালো করবে? এখানে আমি এক কঠিন যুদ্ধে আছি।


আরও খবর
৪ বছরের জন্য ফুটবলে নিষিদ্ধ বিশ্বকাপজয়ী পগবা

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




চট্টগ্রামে ডিআইজি গোল্ডকাপ কাবাডি টুর্নামেন্ট সম্পন্ন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24 | হালনাগাদ:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

Image

ইস্পাত শিল্প প্রতিষ্ঠান কেএসআরএমের পৃষ্ঠপোষকতায় চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ডিআইজি গোল্ডকাপ কাবাডি টুর্নামেন্ট। যেখানে রেঞ্জ পুলিশ দলকে ২৬-২২ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা টিম কাবাডি দল।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে বিকেএসপি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় দল দুটি। তাদের শক্তি আর কৌশলের ঘণ্টাব্যাপী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশ কাবাডি দল জয়ী হয়েছে।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নুরে আলম মিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি কেএসআরএমের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম ও উপ-ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান রিয়াদ। এর আগে অনুষ্ঠানের প্রথমার্ধে প্রধান অতিথি দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এমএ মালেক এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন কেএসআরএমের পরিচালক (বিক্রয় ও বিপণন) মো. জসিম উদ্দিন।

প্রধান অতিথি আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, কাবাডির দেশ বাংলাদেশ। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খেলাধুলার প্রতি খুবই আন্তরিক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সরকার পরিচালনার পাশাপাশি আমরা যেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য বয়ে আনতে পারি সেজন্য তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। কাবাডি খেলার মতো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো যাতে হারিয়ে না যায় সেজন্য তিনি সচেষ্ট আছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেএসআরএমের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম বলেন, কাবাডি খেলা আমাদের জাতীয় খেলা হলেও এটি দিনে দিনে বিলুপ্তির পথে। এমন সময়ে ডিআইজি সাহেব যখন কাবাডি খেলার আয়োজন হাতে নিলেন আর সেটিতে কেএসআরএমকে পাশে চাইলেন, তখন সঙ্গে সঙ্গে তা আমরা লুফে নিয়েছি। আমরা চাই এই ঐতিহ্যবাহী খেলা আবারও তার হারানো অতীত ফিরে পাক।

নিউজ ট্যাগ: চট্টগ্রাম

আরও খবর
৯ ছাত্রীর চুল কাটার ঘটনায় শিক্ষিকা বরখাস্ত

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা, নিহত ৬

প্রকাশিত:সোমবার ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে। এতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। রোববার (০৪ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে মার্কিন সেনাদের বসবাস করা একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে করে মার্কিন সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসপিএফ) ছয় সেনা নিহত হয়েছেন।

সূত্রের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, সিরিয়ার দেইর আল যুহর প্রদেশে একটি সেনাদের প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় একটি ড্রোন সেনাদের ডরমিটরিতে আঘাত হেনেছে। মার্কিন সেনারাও হামলার শিকার ঘাঁটিতে অবস্থান করছিলেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্থানীয় দুটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া এ ড্রোন এমন এলাকা থেকে ছোড়া হয়েছে যেখানে ইরানপন্থি প্রক্সি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। 

আরও পড়ুন>> জানুয়ারিতে রপ্তানি আয়ে রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ

এ ঘটনায় পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এসডিএফ। তারা জানিয়েছে, হামলাকারীদের লক্ষ্য করে জবাবে পাল্টা হামলার অধিকার তাদের রয়েছে।

এদিকে এ হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে ইরানপন্থি ইরাকের সশস্ত্রগোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। গোষ্ঠীটি হামলার দায় স্বীকার ও ড্রোন নিক্ষেপের ভিডিও প্রকাশ করেছে।

এর অগে গত ২৮ জানুয়ারি সিরিয়ার সীমান্তবর্তী জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে তিন মার্কিন সেনা নিহত ও ৪১ জন সেনা আহত হন। গত ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হলে এটিই প্রথম এ অঞ্চলে কোনো মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনা। এ হামলার পর পাল্টা জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন। এ হামলার ঘটনায়ও সশস্ত্র গোষ্ঠীটি দায় স্বীকার করে।


আরও খবর



চট্টগ্রাম-১০ আসনের এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দায়ের করা মামলায় সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালাউদ্দিনের আদালত এই আদেশ দেন। মহিউদ্দিন বাচ্চু চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি)।

আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মসজিদ, মন্দিরে অনুদানের চেক বিতরণের অভিযোগে গত ১৬ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী তরিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের দায়ের করা মামলায় আসামি মহিউদ্দীন বাচ্চুর বিরুদ্ধে সমন দিয়েছিলেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ধার্য তারিখ ছিল, কিন্তু আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম-১০ আসনের সকল মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের এক হাজার টাকা করে এবং মাদানী মসজিদে এক লাখ টাকা অনুদানের চেক দেন মহিউদ্দিন বাচ্চু। যা জুমার নামাজের খুতবার আগে মুসল্লিদের অবহিত করেন।

একইভাবে ২৪ ডিসেম্বর লালখান বাজারে তার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় থেকে মসজিদগুলোর ইমাম, মুয়াজ্জিনদের ৬০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি ২১টি মসজিদ, মন্দির ও প্যাগোডায় অনুদানের চেক বিতরণের সত্যতা পায়। এ নিয়ে ৪ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন মামলা করার নির্দেশ দেয়।

নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার ৩ ধারা অনুসারে, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষ থেকে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে চাঁদা বা অনুদান দিতে বা দেওয়ার অঙ্গীকার করতে পারবেন না। মহিউদ্দিন বাচ্চু এলাকার মসজিদে অনুদানের চেক বিতরণ করেছেন বলে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কাছে অভিযোগ করেছিলেন ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলম।


আরও খবর
৯ ছাত্রীর চুল কাটার ঘটনায় শিক্ষিকা বরখাস্ত

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




সরকারি হাসপাতালে ওষুধ পান না ৬৯ শতাংশ রোগী

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

Image

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ৬৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ রোগীকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়। জন্মের পরপরই মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত হয় দেশের ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু। ৫০টির বেশি নীতিমালা, আইন থাকার পরেও এখনো নিশ্চিত হয়নি দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য। এমন সব তথ্য উঠে এসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন গবেষণায়।

আজ সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্ল্যানিং মনিটরিং অ্যান্ড রিসার্চ (পিএমআর) আয়োজিত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনটি সেশনে প্রকাশ করা হয় বিষয়ভিত্তিক ১৪টি গবেষণা প্রতিবেদন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতে এই গবেষণাগুলো করা হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন পিএমআরের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মাজহারুল ইসলাম।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির এবং জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

দেশের হাসপাতালগুলোয় সংক্রমণ রোধ ও নিয়ন্ত্রণের (আইপিসি) অবস্থাবিষয়ক এক গবেষণায় বলা হয়, বেশির ভাগ হাসপাতালে আইপিসি কমিটি আছে। কিন্তু অধিকাংশ কমিটি কার্যকর নয়। অধিকাংশ হাসপাতালেই নেই আইপিসির জন্য নির্দিষ্ট জনবল। সরকারি ৬০ শতাংশ হাসপাতালে আইপিসি ব্যবস্থাপনা নেই। আর বেসরকারি হাসপাতালের ৫০ শতাংশে এই ব্যবস্থাপনা নেই। ফলে হাসপাতাল থেকে যেসব রোগের সংক্রমণ হয়, সেটি বাড়বে। এই সংক্রমণ মারাত্মক ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়।

এই গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্টিবায়োটিক কীভাবে ব্যবহার করা হবে, এর একটি গাইডলাইন থাকলেও হাসপাতালগুলোয় তা মানা হয় না। এক-চতুর্থাংশ হাসপাতালে হ্যান্ড হাইজেনিং স্টেশন অর্থাৎ যেখানে হাত ধোয়ার জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা নেই। প্রতি বেডে একজন রোগী থাকার কথা থাকলেও হাসপাতালগুলোয় বেডের চেয়ে বহুগুণ বেশি রোগী থাকছে। উন্নত দেশে আইপিসি হার ৩ থেকে ৫ শতাংশ হলেও এশিয়ার দেশগুলোয় এই হার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ।

নিরাপদ খাদ্য ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দেশে আইন, নীতিমালা ও বিধিমালা রয়েছে ১৫২টির মতো। আইনের অভাব না থাকলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন খুব একটা নেই। যে কারণে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

তথ্যের ঘাটতি-সম্পর্কিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্বাস্থ্য খাতের যে ৪০টি সূচক রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে সরকার কাজ করলেও পরিপূর্ণ তথ্য নেই। এ ৪০টি সূচকের মধ্যে চারটির কোনো সঠিক তথ্যই নেই। অন্যদিকে, ১০ সূচকের আংশিক তথ্য রয়েছে। আর বাকি ২৬টি সূচকের যাচাই করার মতো তথ্য আছে, তবে তা পরিপূর্ণ নয়। যে চারটি সূচকের কোনো তথ্য নেই, তা হলো জন্মহার, অনিরাপদ পানি ও অনিরাপদ স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির অভাবে মৃত্যুহার, স্বাস্থ্য সুযোগ-সুবিধার অনুপাত (যেখানে সাশ্রয়ী মূল্যের প্রাসঙ্গিক প্রয়োজনীয় ওষুধের সুবিধা রয়েছে) এবং নির্বাচিত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার কারণে রক্তপ্রবাহের সংক্রমণের তথ্য।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ গোলাম নবীর নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মের পরপরই মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত হয় দেশের ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু। জন্মের প্রথম ছয় মাস (এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিং) মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত হয় ৬ শতাংশ শিশু। জন্মের প্রথম দুই বছর মায়ের দুধ পায় না ৭ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু। এ ছাড়া ছয় মাস বয়সের পরেও মায়ের দুধের পাশাপাশি ৮ দশমিক ২ শতাংশ শিশু বাড়তি খাবার পায় না।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জে. কাজী মো. রাশিদ উন নবীসহ ১৩ জন চিকিৎসক একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। সেখানে দেশের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পর্কে নেওয়া রোগীদের সুস্পষ্ট মতামত উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ৬৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ রোগীকে ওষুধ কিনে খেতে হয়। যদিও তাদের হাসপাতাল থেকে বিনা মূল্যে ওষুধ পাওয়ার কথা ছিল। এ ছাড়া ১৮ শতাংশ রোগীকে সরকারি হাসপাতালের সেবা পাওয়ার জন্য টাকা দিতে হয়। হাসপাতালে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে অসন্তুষ্ট ৭৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ রোগী।


আরও খবর