আজঃ মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪
শিরোনাম

মোংলা সরকারি কলেজে ক্রীড়া পুরস্কার বিতরণী ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৫ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৫ জানুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আবু বকর সিদ্দিক, মোংলা প্রতিনিধি

Image

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় মোংলা সরকারি কলেজর আয়োজনে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা-২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) কলেজ মিলনায়তনে সকাল ১০টায় এ পুরস্কার বিতরণী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাগেরহাট ৩ ( রামপাল-মোংলা) আসনের সংসদ সদস্য বেগম হাবিবুন নাহার।

সংসদ সদস্য বেগম হাবিবুন নাহার তার বক্তব্যে ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সমাজ গঠনে শিক্ষার বিকল্প কিছুই নেই। তাই দেশকে এগিয়ে নিতে হলে ভালোভাবে পড়াশোনা ও খেলাধুলা করতে হবে। সমাজ গঠনে তরুণ সমাজকে ভূমিকা রাখতে হবে। নেশা মুক্ত সমাজ গড়তে হলে তরুণ সমাজের ভূমিকা অপরিসীম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মোংলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের হালদার, আওয়ামী লীগের পৌর সভাপতি ও পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আঃ রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বাবু সুনীল কুমার বিশ্বাস, উপজেলা ভূমি অফিসার মো: হাবিবুর রহমান, মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম আজিজুল ইসলাম, মোংলা প্রেস ক্লাবের বার বার নির্বাচিত সভাপতি মো: আহসান হাবিব হাসানসহ উক্ত কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ।


আরও খবর



শেরপুরে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালিত

প্রকাশিত:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মো. নাজমুল হোসাইন, শেরপুর

Image

শেরপুরে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে। শনিবার (১ জুন) সকালে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর মাঠে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ছানুয়ার হোসেন ছানু। জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল খাইরুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর পুলিশ সুপার মো. আকরামুল হোসেন পিপিএম।

এ সময় বক্তারা বলেন, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার শিশুদের মস্তিষ্ক গঠনে সহায়তা করে। দুগ্ধজাত খাবার, যেমন পনির ও দই আদর্শগতভাবে স্বাস্থ্যকর এজিং প্রোডাক্ট হিসাবে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা (২০১৫) অনুযায়ী, স্বাস্থ্যকর এজিং হলো কার্যকর ক্ষমতার বিকাশ এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার প্রক্রিয়া, যা বার্ধক্যে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। দুগ্ধজাত দ্রব্য বয়স্কদের জন্য পুষ্টি সরবরাহ করে, পেশীর স্বাস্থ্য বজায় রাখে এবং বার্ধক্যজনিত পেশি ও হাড়ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়তা করে। তাই দুগ্ধজাত খাদ্য বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য অতি প্রয়োজনীয় খাবার হিসাবে বিবেচিত।

এছাড়াও এই সময় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভূইয়া, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেজুয়ানুল হক ভূঁইয়া, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য, সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



বেনাপোল-মোংলা কমিউটার ট্রেনের যাত্রা শুরু

প্রকাশিত:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
খুলনা প্রতিনিধি

Image

মোংলা থেকে বেনাপোল নতুন রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেনাপোল থেকে যাত্রী নিয়ে মোংলা কমিউটার’ ট্রেনটি মোংলার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

বেনাপোল রেলস্টেশনের মাস্টার সাইদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বেতনা কমিউটার ট্রেনটির বগি ও ইঞ্জিন দিয়ে চলছে মোংলা কমিউটার ট্রেন। বেতনা কমিউটার ট্রেন আগে খুলনা থেকে বেনাপোল দুইবার চলাচল করতো। তবে আজ থেকে খুলনা-বেনাপোল রুটে একবার এবং বেনাপোল থেকে মোংলায় চলাচল করবে একবার। আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেনাপোল থেকে যাত্রী নিয়ে মোংলার উদ্দেশে ছেড়ে যায় কমিউটার ট্রেনটি। এ ট্রেনটি খুলনার ফুলতলা, মোহাম্মদনগর হয়ে যাবে মোংলায়। মোংলা থেকে যাত্রী নিয়ে আবার খুলনা হয়ে বেনাপোলে ফিরবে। বেনাপোল থেকে মোংলা রেলপথে ভাড়া নির্ধারণ হয়েছে ৮৫ টাকা। মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিন এই রুটে একই সময়ে ট্রেন চলাচল করবে। এই রুটের দূরত্ব ১৩৮ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল আওয়াল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, বেনাপোল থেকে ট্রেন ছাড়ার পর ট্রেনটি নাভারণে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে, ঝিকরগাছায় ৯টা ৫০ মিনিটে, যশোরে ১০টা ১১ মিনিটে, সিঙ্গিয়ায় ১০টা ৩০ মিনিটে, নোয়াপাড়ায় ১০টা ৪৬ মিনিটে, ফুলতলায় বেলা ১১টা ৪ মিনিটে, মোহাম্মদগর স্টেশনে ১১টা ৩১ মিনিটে, কাটাখালী স্টেশনে ১১টা ৫০ মিনিটে, চুলকাটি বাজারে ১২টা এবং মোংলায় পৌঁছাবে ১২টা ৩৫ মিনিটে।

ট্রেনটি মোংলা থেকে দুপুর ১টায় ছেড়ে বেনাপোল পৌঁছাবে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে। এর মধ্যে চুলকাটি বাজারে ১টা ২২ মিনিটে, কাটাখালীতে ১টা ৪০ মিনিটে, খুলনার মোহাম্মদনগরে ১টা ৫৯ মিনিটে, ফুলতলায় ২টা ২৫ মিনিটে যাত্রাবিরতি করে নোয়াপাড়ায় ২টা ৩২মিনিটে, চেঙ্গুটিয়ায় ২টা ৫২ মিনিটে, সিঙ্গিয়ায় বিকেল ৩টা ১১ মিনিটে, যশোরে ৩টা ৩০ মিনিটে, ঝিকরগাছা ৩টা ৫২ মিনিটে, নাভারণে বিকেল ৪টা ১১ মিনিটে এবং বেনাপোলে পৌঁছাবে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে।


আরও খবর



ঢাকাসহ ১৬ জেলায় বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ

প্রকাশিত:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | হালনাগাদ:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

আবারও শুরু হয়েছে তাপপ্রবাহ। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবের পর সারাদেশে কিছুটা স্বস্তি বিরাজ করলেও গত কয়েকদিন থেকে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। দেশের ১৬টি জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে আবহাওয়া অফিস বলছে, তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। রবিবার (২ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, মৌলভীবাজার, চাঁদপুর, নোয়াখালী, বাগেরহাট, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলাসমূহের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু কিছু জায়গা হতে প্রশমিত হতে পারে। একই সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

অন্যদিকে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

পূর্বাভাস বলছে, এবার একটু আগেই মৌসুমি বায়ু সারাদেশে বিস্তার লাভ করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর এবং রাজশাহী বিভাগ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরো অগ্রসর হওয়ার জন্য পরিস্থিতি অনুকূলে রয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ু সারাদেশে বিস্তার হলে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তবে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হবে আরও এক সপ্তাহ পর। তখন সারাদেশে বৃষ্টিপাত বাড়বে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানিয়ে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা (১-২) ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় হালকা থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৩৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়াও রংপুর বিভাগ ও সিলেট জেলা ছাড়া কোথাও বৃষ্টি হয়নি। এই দুই জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে।


আরও খবর



সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: ১৬ লাখ মানুষ পানিবন্দি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | অনলাইন সংস্করণ
এস এ শফি, সিলেট

Image

বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় একদিনের ব্যবধানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বাড়ছে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা। সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে এরই মধ্যে ১৬ লাখের অধিক মানুষ বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন। যত সময় গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে বন্যা দুর্গত মানুষের সংখ্যা।

বুধবার (১৯ জুন) বিকেল পর্যন্ত সিলেট নগরসহ জেলার ১৩ উপজেলায় পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা বেড়ে সোয়া ৮ লাখে পৌঁছেছে। আগের দিন মঙ্গলবার (১৮ জুন) বিকেলে এই সংখ্যা ছিল পৌনে ৪ লাখে। এর কয়েক ঘণ্টার পর রাতে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা পৌনে সাত লাখে পৌঁছায়। আর ২৮ ঘণ্টার ব্যবধানে বন্যা আক্রান্ত ৮ লাখ ছাড়িয়ে যায়। আর সুনামগঞ্জে উপদ্রুত এলাকায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে ২৯ মে অকাল বন্যায় সিলেটে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৭ লাখ ৩৯ হাজার ৩৬২ জন। এছাড়া মৌলভীবাজার সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন বলে জানা গেছে। এবার অবিরাম হালকা ও ভারী বর্ষণ এবং ভারতের মেঘালয়া থেকে নেমে আসা ঢলে আবারও ফের বন্যাকবলিত হয়ে সিলেট নগরসহ ১৩ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বুধবার পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকাসহ জেলার ১৩টি উপজেলায় ৪১ লাখ ১১হাজার ৮৩৫ জনের জনসংখ্যার ৮ লাখ ২৫ হাজার ২৫৬ জন মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। প্লাবিত হয়েছে সিসিকের ৪২টি ওয়ার্ড। পাঁচটি পৌরসভা ও ১৩টি উপজেলার ১৫৩ ইউনিয়নের মধ্যে ১২৯টির এক হাজার ৫৪৮টি গ্রাম। আশ্রয়কেন্দ্র ৬১৯টি থেকে বাড়ানো হয়েছে ৬৫৬টি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১৯ হাজার ৯৪৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল তিন হাজার ৯২৪ জন।

জেলা প্রশাসন সূত্র আরও জানায়, জেলা প্রশাসনে একটি এবং প্রতিটি উপজেলা একটি করে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে উপদ্রুত এলাকা খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা ও উদ্ধার কাজে ভলেন্টিয়ার টিম কাজ করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে আগামী তিনদিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। সেই কারণে সংশ্লিষ্টদের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) শেখ রাসেল হাসান।

এদিকে সিলেটের তিনটি নদীর পানি পাঁচটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। বুধবার বিকেল পর্যন্ত জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, সারি ও সারি-গোয়াইন নদীর ছয়টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুরমার পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার ওপরে, সুরমার পানি সিলেট পয়েন্টে ৩৭ সেন্টিমিটার ওপরে, অমলসীদ পয়েন্টে কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার ওপরে এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১শ সেন্টিমিটার ও শেরপুরে ২১ সেন্টিমিটার ওপরে, সারি নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহমান ছিল।

বিশেষ করে সিলেট নগর এলাকা, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পৃথকভাবে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। নগরের তালতলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। পানি ওঠার আগেই সংশ্লিষ্টরা জরুরি জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছেন।

তবে বন্যা আক্রান্ত এলাকার জনপ্রতিনিধিদের তথ্য মতে, উপজেলাগুলোর গ্রামীণ অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষি জমির ফসল তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

সুরমার পানি নগর সংলগ্ন পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করায় সিলেট নগরের উপশহর, তেরোরতন, সোনারপাড়া, লামাপাড়া, শিবগঞ্জ, মেজরটিলা, কেওয়াপাড়া, তালতলা, জামতলা, সোবহানীঘাট, যতরপুর, মাছিমপুর, পাঠানটুলা, দরগামহল্লা, পায়রাসহ অর্ধশতাধিক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় বাসা ও দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার ৬টা পর্যন্ত) সিলেটে ১শ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আর বুধবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১১০ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে সুনামগঞ্জের ৬৯টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার প্রায় চার লাখের অধিক মানুষ বন্যাকবলিত। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার ৪৩৯ জন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক। ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক, দোয়ারাবাজার-ছাতক সড়ক, জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় পাঁচ হাজার জন, বিশ্বম্ভরপুরে ২২ হাজার, শান্তিগঞ্জে ১৫ হাজার, তাহিরপুরে ১ লাখ ৪০ হাজার, জামালগঞ্জে ১২ হাজার ৬৭০, জগন্নাথপুরে ৩৭ হাজার ৩১০, দিরাইয়ে ৭৮ হাজার ২৫০, শাল্লায় ১১৭, ছাতকে ২ লাখ ও দোয়ারা বাজার উপজেলায় ৫০ হাজার লোক বন্যাকবলিত হয়েছে। বন্যার্তদের জন্য ৫৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত আছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৪৩৯ জন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে, জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলায় গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে, উজানের পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলাজুড়ে ৪৭৪টি গ্রাম প্লাবিত, আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ৯২০ জন মানুষ। তবে রাতে এই সংখ্যা তিন লাখ ছাড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন এক হাজার ৫১৩টি পরিবার। মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে ৭০টি।

নিউজ ট্যাগ: সিলেটে বন্যা

আরও খবর



ধামরাইয়ে বাস উল্টে আহত ৩০

প্রকাশিত:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ধামরাই প্রতিনিধি

Image

ঢাকার ধামরাইয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে কমপক্ষে ৩০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সূতিপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকালে কালামপুরের সূতিপাড়া ব্রিজের একটু আগে সেলফি পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাস উল্টে সড়ক থেকে নিচে পড়ে যায়। এ সময় বাসে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। খবর পেয়ে ধামরাই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, সকালে মানিকগঞ্জ থেকে ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে সেলফি পরিবহনের বাসটি। পথিমধ্যে ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকায় পৌঁছলে বাসটি উল্টে সড়ক থেকে নিচে পড়ে যায়। এসময় অন্তত ৩০ জন আহত হন।


আরও খবর