আজঃ বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

মনোনয়ন বাতিল শুনে কেঁদেকেটে মেঝেতে গড়াগড়ি

প্রকাশিত:রবিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় মানিকগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবদুল আলী ব্যাপারী কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। এ সময় তাকে গড়াগড়ি ও হা-হুতাশ করতে দেখা গেছে।

রোববার (০৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু করেন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার। এতে মানিকগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল আলী ব্যাপারীর কিছু কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকায় দুপুর দেড়টায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল আলী ব্যাপারী কান্না করতে থাকেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস কক্ষের সামনে গড়িয়ে পড়েন তিনি। গড়াগড়ি করতে থাকলে আশপাশের লোকজন তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেন। মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. রমজান আলী তাকে ধরে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন>> ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল আলী ব্যাপারী বলেন, আমি আর কিছুই চাই না, শুধু আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই। আমাকে কেউ ভোট না দিলেও, আমার ভোটটি তো আমি দিতে পারবো। আমার বউয়ের ভোটও দরকার নাই। এর আগেও আমি ২০১১, ১৬ ও ২১ সালে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সিংজিরী ইউনিয়ন থেকে নির্বাচন করেছি। তখন আমার প্রার্থিতা বাতিল হলো না। এখন কেন হলো। যদি আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারি, তাহলে আমার ভোটটি কোথায় দিব। 

এলাকাবাসী জানায়, আগেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয় তার। তার স্ত্রী-সন্তানরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটা পছন্দ করেন না। কারণ তিনবার পরিষদ নির্বাচনে তিনি তার জামানত হারিয়েছেন। নিজের ভোট ছাড়া আরও দুই/একটি ভোট পান তিনি। এতে পরিবার থেকে তিনি খুব একটা সাপোর্ট পাচ্ছেন না।

এদিকে, বিকেল চারটার দিকে আবারও কথা হয় এ স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে। তিনি জানান, নির্বাচন করা তার নেশা। নির্বাচন এলে তিনি নিজেকে ঠিক রাখতে পারেন না। নির্বাচন না করলে শরীর ঠিক থাকে না।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার জানান, মো. আব্দুল আলী বেপারীর সব কাগজপত্র ঠিক না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া মানিকগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনে ৩৩ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এরমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল ব্যাপারী ও এস এম আব্দুল মান্নান, মোহাম্মদ হাসান সাঈদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। তবে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে একডজন প্রার্থীকে।


আরও খবর



নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক প্রশাসনিক ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে ইন্দোনেশিয়া সফর

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Image

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোঃ মাহবুব হোসেন এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ইন্দোনেশিয়া সফর করেছেন। বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে JICA-STIRC প্রকল্প ইন্দোনেশিয়ায় এই সফরের আয়োজন করে। এই সফরে প্রতিনিধি দল ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং খাদ্য ব্যবসা সংক্রান্ত একটি সুসংহত একক লাইসেন্সিং ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। প্রতিনিধি দল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে  দেশীয় বাজারে কৃষি পণ্যের সম্প্রসারণ ও রপ্তানির জন্য প্রক্রিয়াাজাতকরণে সরকারের ভূমিকা, এবং বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপদ খাদ্য খাদ্য বিষয়ক প্রশাসনিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করেছেন।

প্রতিনিধি দল জাকার্তায় অবস্থিত খাদ্য ও ঔষধ কর্তৃপক্ষ, ইন্দোনেশিয়া (BPOM) এর প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং খাদ্য ও ঔষধ কর্তৃপক্ষের (BPOM) এর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাবৃন্দ প্রতিনিধি দলটিকে স্বাগত জানান। কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে বোগোর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (IPB)  অধ্যাপক ড. দেদি ফার্দিয়াজ নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক একক লাইসেন্সিং ব্যবস্থার ইতিহাস এবং এ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন। প্রতিনিধি দলটি BPOM রেফারেন্স ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে পরীক্ষাগার স্থাপন এবং পরীক্ষণ পদ্ধতি  নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

প্রতিনিধি দলটি ৯ই জুলাই, পূর্ব জাকার্তায় অবস্থিত খাদ্য ও ঔষধ কর্তৃপক্ষ, ইন্দোনেশিয়া (BPOM) এর প্রাদেশিক কার্যালয় এবং প্রাদেশিক ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেন। একই দিনে দলটি PT Indofood পরিদর্শন করেন, যা ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানি  এবং ২০২৩ সালে যার বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ ৬৮.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১০ই জুলাই, প্রতিনিধি দল জাকার্তার ইন্দোনেশিয়া খাদ্য ব্যবসায়িদের সাথেও একটি বৈঠকে করেন। 

বাংলাদেশে অনেক মন্ত্রণালয় তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই একই কাজ ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রণালয় তাদের স্ব স্ব আইনে উল্লেখ থাকার কারনে বাস্তবায়ন করছে যা খাদ্য ব্যবসা পরিচালনাকে অনেক ক্ষেত্রে জটিল করেছে । ফলে জনসাধারণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। বাংলাদেশ সরকারের এখন অধিক শক্তিশালী, সুবিন্যাস্ত ও সুগঠিত নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঐকান্তিক আলোচনা শুরু করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হওয়ার মাধ্যমে  সকল জনসাধারণকে সুরক্ষিত রাখবে। 

বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোঃ মাহবুব হোসেন বলেছেন, আমরা ইন্দোনেশিয়ার নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক প্রশাসনিক ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছি এবং ইন্দোনেশিয়া যেভাবে আন্তঃ-সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক প্রশাসনিক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করছে তা দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। মাহবুব হোসেন আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের খাদ্য শিল্পের সম্প্রসারণ এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আমাদের বর্তমান খাদ্য বিষয়ক প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সহজীকরণের  জন্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে  এবং  খাদ্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রমসমূহ সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে যাতে একই কাজ একাধিক সংস্থা করার প্রবণতা দূর হয়।

অন্যান্যদের মধ্যে, প্রাক্তন মুখ্য সচিব মোঃ নজিবুর রহমান, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ইসমাইল হোসেন এনডিসি, বিএসটিআই এর মহাপরিচালক, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, এফবিসিসিআই এর সিনিয়র সহ-সভাপতি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এর যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সচিব এবং প্রকল্প পরিচালক, STIRC প্রকল্প এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ইন্দোনেশিয়া সফরের প্রতিনিধি দলের সদস্য ছিলেন।


আরও খবর



দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীর লিঙ্গ কর্তন, স্ত্রী আটক

প্রকাশিত:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
Image

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

স্বামী জাহিদুল ঘরামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্ত্রী নাসরিন বেগম স্বামীর লিঙ্গ কর্তন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ স্ত্রী নাসরিনকে আটক করেছে। ঘটনা ঘটেছে আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের উত্তর ডালাচারা গ্রামে রবিবার গভীর রাতে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জানা গেছে, ২০২১ সালে বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের উত্তর ডালাচারা গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (কালাই) ঘরামীর ছেলে জাহিদুল ঘরামীর (২৮) সঙ্গে পটুয়াখালীর গেরাখালী গ্রামের মজিবর মাদবরের মেয়ে নাসরিন বেগমের (২০) বিয়ে হয়। তাদের একটি ৭ মাসের পুত্র সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে জাহিদুল এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সর্ম্পক গড়ে তুলে। গত জানুয়ারী মাসে গোপনে ওই নারীকে তিনি বিয়ে করেন। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। স্বামী জাহিদুল প্রথম স্ত্রীকে দ্বিতীয় স্ত্রীকে মেনে নিতে চাপ দেয়। এতে রাজি না হয়নি নাসরিন। এতে ক্ষুব্দ হয়ে স্বামী জাহিদুল স্ত্রীকে নির্যাতন করে আসছে। রবিবার গভীর রাতে স্ত্রী নাসরিন বেগম ধারালো দা দিয়ে লিঙ্গ কর্তন করে। এ সময় জাহিদুলের চিৎকারে স্বজনরা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পায়। পরে তারা রক্তাক্ত জাহিদুলকে বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার অবস্থার অবনতি হলে ওই হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ রাতেই স্ত্রী নাসরিনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে।

জাহিদুলের বাবা আবুল কালাম আজাদ (কালাই) ঘরামী বলেন, আমার ছেলের এই করুন পরিণতির জন্য ছেলের বউ নাসরিন দায়ী। আমি এ ঘটনায় শাস্তি দাবি করছি।

স্ত্রী নাসরিন বেগমের অভিযোগ, আমার স্বামীর গত ৬ মাস পূর্বে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ওই দ্বিতীয় স্ত্রীকে মেনে নিতে আমাকে চাপ প্রয়োগ করছিল। আমি মেনে না নেওয়ায় আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাচন করছে।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী সাখওয়াত হোসেন তপু বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে স্ত্রী নাসরিনকে রাতেই আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।


আরও খবর



কুবিতে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশিত:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Image

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও যে স্থানে পুলিশ প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় তাকে ছাত্র আন্দোলন চত্বর ঘোষণা করেছে।

আজ শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকাল পৌনে ৫ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দক্ষিণ মোড় ও আনসার ক্যাম্প প্রদক্ষিণ করে গোল চত্বরে এসে শেষ হয়।

পথে শিক্ষার্থীরা ছাত্র আন্দোলন চত্বরে (আনসার ক্যাম্প মোড়) আহতদের স্মরণে ১ মিনিটের নিরবতা পালন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন।

এসময় শিক্ষার্থীরা ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানান। এছাড়াও প্রক্টরিয়াল নীরবতার কারণে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছেন বলে অভিযোগ তুলে বক্তব্য রাখেন।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী বি এম সুমন বলেন, আজকে আমাদের হৃদয়ে যে রক্তক্ষরণ হচ্ছে তা কীভাবে বন্ধ হবে জানিনা। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে পুলিশ বিনা উস্কানীতে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়েছে। আমাদের ৩০ এর অধিক ভাইয়েরা রক্তাক্ত হয়ে হাসপাতালে নিদারুণ যন্ত্রণায় ঝটপট করছে। তাঁদের যন্ত্রণার আওয়াজ, কান্নার আওয়াজ সারা বাংলাদেশে অলি গলিতে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু তাদের এই আওয়াজ যাদের কানে যাওয়ার কথা ছিল তারা কানে তুলা দিয়ে ঘুমিয়ে আছে। তাই এই হামলায় প্রত্যক্ষ মদদ দেওয়া প্রক্টরকে যতদিন অপসারণ করা হবে না ততদিন আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এদিকে কোটা আন্দোলনে যোগ দেয়ায় জহুরা মিম নামের একজন নারী শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী আমিনুর বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, কোটা বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়ায় আমিনুর বিশ্বাস নামের একজন সিনিয়র আমাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় হেনস্তা করে যাচ্ছেন। আমার মাকে তুলে গালাগাল দিচ্ছেন। যার কল রেকর্ড ও স্ক্রিন রেকর্ডসহ সকল তথ্য প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এর বিচারের পাশাপাশি আমিনুর বিশ্বাসের বহিষ্কার চাই।

প্রসঙ্গত, গত (১১ জুলাই) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের  শিক্ষার্থীরা দুপুর ৩টায় ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধে যাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনসার ক্যাম্পের সামনে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। যাতে ৪জন সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। যদিও পরবর্তীতে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রাত ১১টা পর্যন্ত তাদের অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যায়।

এসময় বিক্ষোভ মিছিল থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রক্টরের অপসারণ এবং হামলায় অংশগ্রহণ করা পুলিশ সদস্যদের তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার আল্টিমেটাম দেয়া হয়।


আরও খবর
যে কারণে চাকরি ছাড়লেন জাবি শিক্ষক

বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪




রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় আগুন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১টা ৩০ মিনিটে উত্তরা পূর্ব থানায় অগ্নিসংযোগের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানম বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে উত্তরা পূর্ব থানায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে একটি সংবাদ আসে। এরপর আমাদের দুইটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করেছে। তবে থানায় কে বা কারা আগুন দিয়েছে তা জানা যায়নি।

মিরপুর কাজীপাড়ায় কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে পুলিশ পিছু হটলে ট্রাফিক পুলিশের বক্সে আগুন ধরিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

মিরপুর ১০ নম্বর এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা এই এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বাধা দিলে শিক্ষার্থীরা পাল্টা ইটপাটকেল ছোড়েন। পরে পুলিশও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় শিক্ষার্থীদের উপর্যুপরি ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে পুলিশ পিছু হটেন। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেন। এই মুহূর্তেই পুরো এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

রাজধানীর রামপুরা হাজীপাড়া বেটার লাইফ হাসপাতালের সামনে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান গাড়িতে আগুন দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে রাখায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ফলে গাড়িটি পুড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের গাড়ি যাওয়ার সময় দুপুর সোয়া ১টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গাড়িতে আগুন দেয়। খবর পেয়ে দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে এলেও আন্দোলনরতরা আগুন নেভাতে দেয়নি। পরে পুরো গাড়িটিই আগুনে পুড়ে যায়।


আরও খবর



চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ভুয়া এসিল্যান্ড পলাতক, আটক কথিত সাংবাদিক

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রফিকুল ইসলাম, কুষ্টিয়া

Image

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এসিল্যান্ড পরিচয়ে ফার্মেসীতে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চাইতে গিয়ে জনগণের হাতে আটক হয়েছেন সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ব্যক্তি।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরের দিকে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের চড়াইকোল বাজারে এই ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে কুমারখালী থানায় এজাহার জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী।

আটক হয়েছেন পৌরসভার কাজীপাড়া এলাকার সাহেব আলীর ছেলে একাত্তরের বাংলাদেশ পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়দানকারী রাকিব(২২)।

ভুক্তভোগী ফার্মেসী মালিক মিজানুর রহমান জানান, মঙ্গলবার বেলা দেড় টার দিকে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী রাকিব ও পলাশ তাদের সাথে থাকা অজ্ঞাত ব্যক্তিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিচয় দিয়ে ফার্মেসির কাগজপত্র দেখাতে বলে এবং তারা ম্যাজিস্ট্রেটকে ম্যানেজ করতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। তাদের কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় ফার্মেসী মালিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর পরিচয় দাবি করেন এবং স্থানীয়দের বিষয়টি জানান।

এসময় স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করলে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী পলাশ ও ভূয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও রাকিব আটক হয়। পরবর্তীতে কুমারখালী থানা পুলিশ রাকিবকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এ বিষয়ে কুমারখালী থানায় রাকিব, পলাশ ও ভূয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এজাহার হয়েছে বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সুকল্যাণ জানান, চাঁদাবাজি করতে গিয়ে জানগনের হাতে আটক খবর পেয়ে রাকিব নামে একজনকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনও লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি৷ অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ ট্যাগ: অবৈধ ফার্মেসি

আরও খবর