আজঃ বুধবার ২৪ জুলাই 20২৪
শিরোনাম

মিয়ানমার বিরক্ত করলে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো: পরিকল্পনামন্ত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র। আমরা যুদ্ধ চাই না। যুদ্ধে মানুষের কষ্ট হয়। আমরা সীমান্ত ও দেশের ভেতরেও শান্তি চাই। তবে মিয়ানমার যদি প্রতিনিয়ত বিরক্ত করে, তাহলে বাধ্য হয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী সার্বক্ষণিক কড়া পাহাড়া দিচ্ছে। তার পেছনে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীও নিরাপত্তা দিচ্ছে। মিয়ানমারের সাহস নেই আমাদের সরাসরি কিছু করার। ডিস্টার্ব করার অভ্যাস আছে তাদের। এই ডিস্টার্ব নতুন নয়, বহুদিন ধরে করছে। এটা দুনিয়ার মানুষ জানে। আমাদের প্রয়োজন ধৈর্য, আর সেটা আমাদের সরকারপ্রধান দেখাচ্ছেন। এটা ভালো।

তিনি আরও বলেন, মূল সমস্যা সমাধানের জন্য কথা বলতে হবে। বসতে হবে। বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে বসার জন্য তৈরি। কিন্তু মিয়ানমার একেকবার একেক কথা বলে। তারা কথা দিয়ে কথা রাখে না।

নির্বাচনের বিষয়ে এম এ মান্নান বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে, সরকার নির্বাচন করবে না। নির্বাচনের সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসন সবাই নির্বাচন কমিশনের কথা শোনে। আমরা সেই সময় নির্বাচনের প্রার্থী থাকি। আমরাও চাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হোক। আর সেটা একমাত্র করতে পারবে নির্বাচন কমিশন। অহেতুক একটা দল আমাদের দোষ দেয়। আমরাও তো নির্বাচনের প্রার্থী।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।


আরও খবর
মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




দুই দিনের সফরে টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দুই দিনের ব্যক্তিগত সফরে আজ শুক্রবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সফরে জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, বঙ্গবন্ধু কর্ণার উদ্বোধন, নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়সহ নানা কর্মসূচিতে অংশ নিবেন তিনি। তার এ আগমন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জেলা জুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচিতে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা ৩টায় গণভবন হতে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি পদ্মা সেতু প্রকল্পের সমাপনী উপলক্ষে এক সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন। বিকেল ৫টায় সুধী সমাবেশ শেষে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সন্ধ্যায় টুঙ্গিপাড়া পৌঁছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তাবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নিবেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় নিজ বাড়িতে রাত্রিযাপন করবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন শনিবার বেলা ১১টায় গিমাডাঙ্গা-টুঙ্গিপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু কর্ণার উদ্বোধন এবং এসো বঙ্গবন্ধুকে জানি-শীর্ষক অ্যালবামের মোড়ক উম্মোচন করবেন। এরপর বেলা ১২টায় টুঙ্গিপাড়া মাল্টিপারপাস পৌর সুপার মার্কেট পরিদর্শন করবেন এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যলয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার কথা রয়েছে। পরে নিজ বাসভবনে নামাজ ও মধ্যাহ্ন বিরতির পর বিকেল সাড়ে ৩টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নিবেন।

শনিবার বিকেল ৪টায় সড়ক পথে টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।


আরও খবর
মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




বিসিএস প্রশ্নফাঁস

কে এই আবেদ আলী

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবন। ৮ বছর বয়সে জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান ঢাকায়। শুরু করেন কুলির কাজ। একসময় ফুটপাতে ঘুমিয়েছেন। কষ্টের পর কষ্ট করেছেন তিনি। এরপর গাড়ি চালানো শিখে চাকরি নেন পিএসসিতে। তারপর জড়িয়ে পড়েন পিএসসির প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে। আর ফিরে তাকাতে হয়নি। অর্জন করেন বিপুল সম্পদ, সঙ্গে ক্ষমতাও। চেয়েছিলেন ডাসার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হতে। দীর্ঘদিন থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য প্রচার-প্রচারণাও চালিয়েছেন তিনি।

এলাকায় পরিচয় দিতেন শিল্পপতি হিসেবে:

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সৈয়দ আবেদ আলী মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পশ্চিম বোতলা গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান মীরের ছেলে। আব্দুর রহমান মীরের তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে আবেদ আলী মেজ। রহমান মীরের বড় ছেলে জবেদ আলী কৃষিকাজ করেন। ছোট ছেলে সাবেদ আলী এখনো এলাকায় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের ভাই আবেদ আলী জীবন। এলাকার মানুষের কাছে তিনি পরিচয় দিতেন শিল্পপতি হিসেবে। আবেদ আলীর ছেলে সোহানুর রহমান সিয়ামও ব্যবহার করতেন দামি গাড়ি। আবেদ আলী নিজেও দামি গাড়িতে চড়তেন। অথচ এলাকার কেউ জানতেনই না তিনি গাড়িচালক। তিনি ঢাকায় রিয়েল স্টেটের ব্যবসা করতেন বলে এলাকায় প্রচার ছিল। কয়েক বছর ধরে এলাকায় ব্যাপক দান-খয়রাতও করেন প্রশ্নফাঁস চক্রের এই হোতা।

মীর পদবি পাল্টে ব্যবহার করেন সৈয়দ:

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিত্ত-বৈভব ফুলেফেঁপে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আবেদ আলী মীর পদবি পাল্টে নামের আগে সৈয়দ পদবি ব্যবহার শুরু করেন। বাবার উত্থান নিয়ে ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামও সম্প্রতি একটি সমাবেশে বক্তব্য দেন।

৮ বছর বয়সে পেটের দায়ে ঢাকায় এসে করেন কুলিগিরি:

বাবার উত্থানের গল্প বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমার বাবা একদম ছোট থেকে বড় হয়েছেন। আমার বাবার বয়স যখন ৮ বছর, তখন পেটের দায়ে তিনি ঢাকায় চলে গেছেন। ঢাকায় গিয়ে কুলিগিরি করে ৫০ টাকা রুজি দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। এখন তিনি এখন একটি লিমিটেড কোম্পানির মালিক। তিনি কষ্ট করে বড় হয়েছেন।

হার মানিয়েছেন সিনেমাকেও:

সিনেমাকেও হার মানাবে আবেদ আলীর গল্প। রহস্যেঘেরা আবেদ আলী গ্রামের বাড়ি এসে নেমে পড়েন উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণায়। রাজনীতির মাঠে-ময়দানে কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে গণসংযোগ করেন আবেদ আলী ও তার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা সোহানুর রহমান সিয়াম। এলাকায় বাবা ছেলে দু-হাত ভরে দান-খয়রাত করতেন।

আবেদ আলী নিজ গ্রামে কোটি টাকা খরচ করে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বাড়ির পাশে করেছেন মসজিদ। এছাড়াও সরকারি জায়গা দখল করে তার গরুর খামার ও মার্কেট নির্মাণাধীন। উপজেলার পান্তাপাড়া ও পূর্ব বোতলা গ্রামে কিনেছেন বিপুল সম্পদ।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকায়ও তার একাধিক বাড়ি রয়েছে। পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় রয়েছে তার থ্রি-স্টার মানের হোটেল। সামান্য একজন ড্রাইভার থেকে হঠাৎ করে এমন বিত্ত-বৈভবের মালিক হওয়ায় তার সম্পর্কে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বিসিএসসহ ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের তথ্য। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (বিপিএসসি) ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেই অভিযুক্ত কর্মচারীদের একজন পিএসসির চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক আবেদ আলী।

এসব ব্যাপারে জানতে আবেদ আলী ও তার ছেলে সিয়ামের ফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা রিসিভ করেননি। তাদের গ্রামের বাড়িও তালাবদ্ধ।


আরও খবর



শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশিত:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Image

সরকারি চাকরিতে সকল ধরনের অযৌক্তিক কোটা বাতিলের দাবিতে গতকাল 'বাংলা ব্লকেড' চলাকালে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলা হয়েছে। এরই প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। তারা ক্যম্পাস থেকে বিক্ষোভ নিয়ে ভিক্টোরিয়া পার্ক প্রদক্ষিণ করে ক্যম্পাসের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। ক্যম্পাসের সামনে তারা ৩০ মিনিটের মত অবস্থান নেন। এ সময় সদরঘাট এলাকার আশেপাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। 

এসময় শিক্ষার্থীরা, কোটা না মেধা, মেধা মেধা, কুবিতে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব দে, চবিতে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব দে, পুলিশ/ হামলা/মামলা করে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না, দফা এক দাবি এক, কোটা নট কাম ব্যাক, সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। 

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া ইসলাম বলেন, আমাদের দাবী না মানা পর্যন্ত আমরা রাজপথে আন্দোলন করে যাবো। সকল ধরনের অযৌক্তিক কোটা বাতিল করে শুধুমাত্র পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা রেখে সংসদে অবিলম্বে আইন পাশ না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি যৌক্তিক দাবি সরকারি চাকরিতে সকল ধরনের অযৌক্তিক কোটা বাতিলের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করছে। কিন্তু আমরা গতকাল দেখেছি আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ভাই বন্ধুদের উপর হামলা করা হয়ছে। আমরা যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন করছি কিন্তু পুলিশ সেখানে হামলা করেছে। আমরা হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাই।

এর আগে ৭ জুলাই ঘোষিত শিক্ষার্থীদের বর্তমান এক দফা দাবি হলো- সকল গ্রেডে সকল প্রকার অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লেখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে নূন্যতম পর্যায়ে এনে সংসদে আইন পাশ করে কোটা পদ্ধতিকে সংশোধন করতে হবে৷


আরও খবর
আরও ৩ দিনের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




রণক্ষেত্র সায়েন্সল্যাব: দফায় দফায় চলছে সংঘর্ষ, ঘটনাস্থলে নেই পুলিশ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

কোটা বাতিলের এক দফা দাবিতে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেছেন ছয় কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ মুহূর্তে উভয় পক্ষই মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। চলছে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

এক ঘণ্টা ধরে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করলেও সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি। এরই মধ্যে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।

আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৩ শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতরা হলেন- সাব্বির, হাবিব, কামরুল হাসান, জাহিদ, ইয়াসমিন, হাসান, মিরাজ, আরিফ, লাভলু, এস এম ওসমান গনি, মিদুল, হৃদয় ও নাহিদ। 

ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে শুরু করে সাইন্স ল্যাবরেটরি মোড় পর্যন্ত কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানিয়ে আইডিয়াল কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা কলেজ ও মুন্সী আব্দুর রউফ কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শতাধিক শিক্ষার্থী রাস্তা অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছেন। বিপরীত পাশে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ, স্থানীয় ব্যবসায়ী, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। থেমে থেমে তাদের মধ্যে চলছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় উভয় পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিত না হওয়ার বিষয়ে জানতে নিউ মার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। শুরুতে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

একই ইস্যুতে গতকাল সোমবার উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাবিসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। দুপুরের দিকে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যে এসে অবস্থান নেন কয়েকশ আন্দোলনকারী। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার চেয়ে নানা স্লোগান দেন। তবে, তাদের তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার স্লোগান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আলাদা অনুষ্ঠানে তাদের স্লোগানের ভাষার তীব্র সমালোচনা করেন।

এরপর ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয় ছাত্রলীগ। দুপুর ২টার দিকে তারা বিজয় ৭১ হলসহ বিভিন্ন হলে আন্দোলনকারীদের বাধা দেন। এ খবরে আন্দোলনকারীরা ছুটে গেলে ছাত্রলীগের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। উভয়পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এরপর থেকে গোটা ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বিকেল ৪টার পর থেকে পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। এ সময় ছাত্রলীগ আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠি-সোটা নিয়ে আক্রমণ শুরু করে। বহু আন্দোলনকারীকে পিটিয়ে আহত করে তারা। তাদের অনেকের মাথা ফেটে যায়। আন্দোলনকারীরা কোথাও কোথাও প্রতিরোধের চেষ্টা করে। ফলে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়।

বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে শতাধিক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের অধিকাংশই ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হন। এ ছাড়া আশপাশের অন্যান্য হাসপাতালেও চিকিৎসা নেন কেউ কেউ।

বিকেল ৫টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের সামনে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ফের সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রলীগ। সেখানে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ উপস্থিত হয়ে ব্যারিকেড দিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের থামিয়ে দেন যেন তারা সামনে যেতে না পারে। ঢাবির শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষক ও প্রভোস্ট হলের শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, রাস্তা থেকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাবির দোয়েল চত্বর এলাকা থেকে সাঁজোয়া যান নিয়ে অভিযান শুরু করে পুলিশ। রাত পৌনে ১০টার দিকে ক্যাম্পাস ছাড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাতেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলার অভিযোগ ওঠে। রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে সেখানে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ দিন রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলে রড, স্ট্যাম্প ও লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন রুমে তল্লাশি চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্কের ছড়িয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসেন। এ দিনও বিভিন্ন স্থান থেকে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। 


আরও খবর



মেয়ে অসুস্থ, তাই রাতেই দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের অসুস্থতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন থেকে ঢাকায় ফিরে আসছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

আজ বুধবার (১০ জুলাই) বেইজিংয়ের সেন্ট রেজিস হোটেলে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা ছিল ১১ জুলাই সকালে। সেটি না হয়ে আজ রাতে অর্থাৎ ১০ জুলাই রাত ১০টায় তিনি বাংলাদেশের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। এতে কিন্তু তার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) অফিসিয়াল যেসব কর্মসূচি ছিল, তার বিন্দুমাত্র হেরফের হয়নি। শুধুমাত্র (বেইজিংয়ে) রাত্রিযাপন করার কথা ছিল, সেটি না করে তিনি ঢাকায় ফিরে যাচ্ছেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আপনারা হয়তো জানেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলেরও চীন সফরে আসার কথা ছিল। কিন্তু তিনি (পুতুল) অসুস্থতার কারণে আসতে পারেননি। তিনি এখনো অসুস্থ। ফলে মা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আজ রাতে ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে হেডিং দেখেছি প্রধানমন্ত্রী সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসছেন। আসলে সফর সংক্ষিপ্ত নয়, শুধু রাত এখানে যাপন করার ছিল সেটি না করে তিনি তার অসুস্থ মেয়েকে সময় দেওয়ার জন্য মা হিসেবে (আজ রাতেই) তিনি ঢাকায় ফিরে যাচ্ছেন।


আরও খবর
মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪