আজঃ বুধবার ২৫ মে ২০২২
শিরোনাম

মাগুরায় হত্যা মামলার আসামি নোয়াখালীতে গ্রেফতার

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | ২৯৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

মাগুরা জেলার থেকে পালিয়ে আসা হত্যা মামলার এক আসামিকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মুজাহিদুল ইসলাম জিহাদ (৩৯) মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার বানিয়াবহু গ্রামের মো. গোলাম আকবরের ছেলে। শনিবার (১৪ মে) ভোর রাতে উপজেলার পাপুয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

একই দিন বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুণ অর রশিদ। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হত্যা মামলার এ আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার একটি হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামি। যাহার-মামলা নং-১৯। গত বছরের ৩০ জুন মোহাম্মদপুর থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়।

ওসি জানায়, আসামি জিহাদ গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘদিন থেকে নোয়াখালী এসে গা ঢাকা দেয়।  গ্রেফতারকৃত আসামিকে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


আরও খবর



‘কিছু পত্রিকা এক দিন ভালো লিখলে পরের সাত দিন লিখবে খারাপ’

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ | ৪১৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পত্রিকা পড়ে না ঘাবড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কিছু পত্রিকা আছে তারা এক দিন ভালো লিখলে পরের সাত দিন লিখবে খারাপ

মঙ্গলবার (১৭ মে) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সভার (ভার্চ্যুয়াল) সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি বোধহয় দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদদের মধ্যে একজন। হাইস্কুল থেকে তো রাজনীতি করি। সবাইকে আমার চেনাই আছে। সব পরিবারকেও চেনা আছে। কাজেই এটা তাদের চরিত্র। কাজেই ওই পত্রিকা দেখে ঘাবড়ানোর কোনো দরকার নেই। আর পত্রিকা পড়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার নেই।

টানা তিনবারের সরকারপ্রধান বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নেব দেশের মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে, দেশের কথা চিন্তা করে, দেশের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে। এই কথাটা সব সময় মনে রাখতে হবে। কারণ আমি সেই ভাবেই চলি। আর সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছি বলেই আজকে দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে। আমি যদি ভয়ে ভয়ে থাকতাম ও কী লিখলো, ও কী বললো, ও কী করলো, তাহলে কোনো কাজ করতে পারতাম না। নিজের বিশ্বাস হারাতাম।

কর্মকর্তাদের আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কাজেই সেখানে আমি বলবো, অনেক সময় আপনাদের অনেকের মুখেই শুনিএই পত্রিকা লিখেছে। ওটা নিয়ে কখনো ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ওটা নিয়ে চিন্তাও করবেন না। নিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলবেন। সেটাই আমি চাই। তাহলে আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে।

কারো নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারাই বেশি কথা বলেন, তারাই সমালোচনা বেশি করেন, যারা ইমার্জেন্সি সরকারের পদলেহন করেছেন, চাটুকারি করেছেন, তারাই সমালোচনা বেশি করেন। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। যাই হোক কে কী বললো, সেটা নিয়ে আমি কখনো ঘাবড়াইও না, চিন্তাও করি না। দেশকে ভালোবেসে দেশের মানুষের জন্য যেটা করা ন্যায়সঙ্গত সেটাই করি।


আরও খবর



মাটির পাত্রে পানি পানের উপকারিতা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ | ৩৫০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

একটা সময় ছিল যখন সবাই মাটির কলসিতে পানি রেখে পান করতেন। আজকাল তা দেখাই না যায় না। প্লাস্টিক বা কাঁচের বোতলের ভিড়ে মাটির পাত্র হারিয়েই গেছে। কিন্তু অনেকেরই হয়তো জানা নেই পাটির পাত্রে রাখা পানি পানের নানা উপকারিতা রয়েছে। যেমন-

১.  মাটি প্রাকৃতিকভাবে পানি ঠান্ডা রাখে। মাটির গ্লাস বা পাত্রে পানি পান করা হলে তা শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এতে শরীরের বিপাক বাড়াতে সাহায্য করে।

২. গরমের সময় শরীর ঠান্ডা করতে অনেকেই ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি বের করে পান করেন। অথচ মাটির পাত্রে প্রাকৃতিকভাবেই পানি ঠান্ডা থাকে। কারণ কাদা-মাটিতে থাকে অণুবীক্ষণিক ছোট ছোট ছিদ্র। ফলে এই কাদা-মাটির তৈরি পাত্রে পানি রাখা হলে বাষ্পীভবন ঘটে। এতে পানি ঠান্ডা হয়।

৩. গরমে রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচাতে সাহ্যা করে মাটির পাত্রে রাখা ঠান্ডা পানি। এটি হিট স্ট্রোক থেকে শরীরেকে সুরক্ষা দেবে। মাটির পাত্রে রাখা পানি পান করলে শরীরের গরম অনেকটাই কমে গিয়ে শরীর ঠান্ডা হয়।

৪. প্লাস্টিকের বোতলের চেয়ে মাটির পাত্র বেশি ভালো হওয়া অন্যতম কারণ, এটা পরিবেশ বান্ধব। এছাড়াও কাচের বোতলের চেয়ে মাটির বোতল ব্যবহার করা সাশ্রয়ী।

৫. মাটি প্রাকৃতিক ক্ষার সমৃদ্ধ এবং তা যখন পানির অম্লতার সংস্পর্শে আসে তখন তা পিএইচয়ের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পানির সুষম পিএইচ বা অম্ল-ক্ষার নিয়ন্ত্রণে রেখে গ্যাসের ব্যথা থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করে।

৬. শরীরে টক্সিক কেমিক্যালের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে মাটির পাত্রে রাখা পানি। লোহা, স্টিল কিংবা প্লাস্টিক জাতীয় পাত্রে পানি রাখলে সেখান থেকে নানা ধরনের দূষিত পদার্থ ঢুকতে পারে শরীরে। মাটির পাত্রে পানি রাখলে সেটি সম্ভব নয়।

৭. খনিজ উপাদান এবং ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক শক্তিতে সমৃদ্ধ থাকে কাদা-মাটি। তাই মাটির পাত্রে পানি সংরক্ষণ করা হলে তা পানির আরোগ্য ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

নিউজ ট্যাগ: মাটির পাত্র

আরও খবর
আজকের রাশিফল!

বুধবার ২৫ মে ২০২২




বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভবিক

প্রকাশিত:বুধবার ০৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ০৪ মে ২০২২ | ৪২০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলে বুধবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ৮ থেকে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া রুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এর আগে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টির কারণে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে বন্ধ ছিল নৌযান চলাচল।

বিআইডব্লিউটিএর বাংলাবাজার লঞ্চঘাট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

ঘাট সূত্রে জানা গেছে, ভোরে বৃষ্টির সঙ্গে বাতাস বইতে থাকলে উত্তাল হয়ে ওঠে পদ্মা নদী। এছাড়াও কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে নৌরুটের সব লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাতাস ও বৃষ্টি কমে এলে নৌযান চলাচল শুরু করে।

বিআইডব্লিউটিএর বাংলাবাজার লঞ্চঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন বলেন, ভোরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টি শুরু হয়। এ কারণে দুই ঘণ্টার মতো নৌযান চলাচল বন্ধ থাকে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লঞ্চ-স্পিডবোট চলাচল শুরু করে।


আরও খবর



কুসিক নির্বাচন: ভোটের এক মাস আগেই মাঠে বিজিবি

প্রকাশিত:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ৩০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ ১৫ জুন। নির্বাচনকে ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে আজ রোববার থেকে নগরীতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনে ভোট গ্রহণের বাকি এখনো এক মাস। তার আগেই বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে কুমিল্লায়।

জানা গেছে, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিজিবি প্লাটুনের দায়িত্বে থাকবেন। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে তাঁরা কাজ করবেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী জানান, তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আচরণবিধি দেখার জন্য ইতিমধ্যে মাঠে আছেন। আজ থেকে এক প্লাটুন বিজিবিকেও মাঠে থাকার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা মাঠে রয়েছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও বলেন, এখনই প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শুরু করার কথা নয়। কিন্তু যাঁরা প্রচারণার প্রয়াস চালাচ্ছেন, আমরা তাঁদের শোকজ করছি এবং মৌখিকভাবে সতর্ক করছি।’

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১০৫টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যার মধ্যে ৬৪০টি ভোটকক্ষ থাকবে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুসারে, নির্বাচনে ১৮৯ জন প্রার্থী তাঁদের নির্বাচনী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে পাঁচজন মেয়র পদপ্রার্থী, ১৪৭ জন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এবং ৩৭ জন সাধারণ কাউন্সিলর। এর মধ্যে ১২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তার মধ্যে একজন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী, আটজন সাধারণ কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এবং তিনজন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী।


আরও খবর



খাদ্য জোগাতে মার খাচ্ছে লাভের ফসল সয়াবিন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | ১১২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দিগন্ত জোড়া মাঠ। যতদূর চোখ যায় কেবল সবুজ আর সবুজ। বিস্তীর্ণ কৃষিজমির অধিকাংশেই দোল খাচ্ছে সয়াবিনের গাছ। বলছি লক্ষ্মীপুর জেলার কথা। বিশেষ করে রায়পুর, রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় এখন ব্যাপক হারে সয়াবিনের চাষ হচ্ছে। কম খরচে ভালো উৎপাদনের পাশাপাশি দাম বেশি পাওয়ায় এই অঞ্চলের চাষিদের মধ্যে অন্যান্য রবিশস্যের পরিবর্তে তেল-ফসলটির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। যদিও চরাঞ্চলের এসব জমিতে এক সময় কেবল খেসারি, মরিচ,বাদাম, তিল, মিষ্টি আলু, তরমুজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হতো।

জানা গেছে, দেশে গড়ে ১ লাখ ১৫ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন সয়াবিনের উৎপাদন হয় প্রতি বছর। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশই উৎপাদন হচ্ছে লক্ষ্মীপুর জেলায়। তাই এই ফসলটিকে ব্র্যান্ডিং করছে জেলা প্রশাসন। লক্ষ্মীপুরের পর সবচেয়ে বেশি সয়াবিন চাষ হয় পাশের জেলা চাঁদপুরে। এ ছাড়াও নোয়াখালী, ফেনী, ভোলা, বরিশাল ও ফরিদপুর, নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, বগুড়া ও ঠাকুরগাঁওয়ে কিছু পরিমাণে সয়াবিনের চাষ শুরু হয়েছে লাভজনক ফসল হওয়ায়। কিন্তু সম্ভাবনা থাকলেও এর উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। কেননা দেশের সীমিত জমি থেকে বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণ করাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, সয়াবিনের উৎপাদন বাড়াতে পারলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় সম্ভব। তবে আমাদের চাষযোগ্য আবাদি জমির পরিমাণ খুবই সীমিত। আর এই সীমিত জমি থেকে দেশের বিশাল জনগণের খাদ্য চাহিদা পূরণ করাই বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে নতুন করে সয়াবিনের চাষের পরিমাণ খুব বেশি বাড়ানোর সুযোগ নেই। দেশের প্রধান ফসল ধান বাদ দিয়ে অন্য ফসলে গেলে খাদ্য সংকট দেখা দেবে। সে ক্ষেত্রে যদি সয়াবিনের চাষকে সম্প্রসারণ করা হয়, তা হলে এর বিপরীতে অন্য কোনো ফসলে ঘাটতি দেখা দেবে। এতে করে সুফলের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণটাও কম হবে না। তবে দেশের লবণাক্ত অঞ্চলে সয়াবিনের চাষ বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য পরিকল্পিতভাবে ফসলবিন্যাস নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হবে। দেশের বিভিন্ন জেলায় সয়াবিন চাষের উপযোগী জমি রয়েছে। ক্রমান্বয়ে কৃষকরাও ফসলটির প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। প্রয়োজনে সরকারি সহায়তার পরিমাণ বাড়বে।

কৃষি গবেষকরা বলছেন, লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনের আবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে এখানকার অপ্রতুল সেচব্যবস্থারও বড় ভূমিকা রয়েছে। কারণ সয়াবিন আবাদে খুব একটা সেচের প্রয়োজন নেই। ফলে জেলাটিতে এ শস্যের আবাদের উপযোগিতা অনেক বেশি। তা ছাড়া সার্বিকভাবে সয়াবিন উৎপাদন লাভজনক। এটি একটি পরিবেশবান্ধব ফসলও। এতে সারের পরিমাণ লাগে অনেক কম। শিম গোত্রের ফসল হওয়ায় সয়াবিনের শিকড়ে নডিউল তৈরি হয়, যা থেকে হেক্টরপ্রতি প্রায় ২৫০ কেজি নাইট্রোজেন (ইউরিয়া সার) সংবন্ধন হয়। এ নাইট্রোজেন সার গাছের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং একটি অংশ মাটিতে যুক্ত হয়ে পরবর্তী ফসলে অবদান রাখে। প্রতি হেক্টরে সর্বোচ্চ উৎপাদন খরচ পড়ে ২০ হাজার টাকা। ভালো ফসল ও দাম পাওয়া গেলে উৎপাদন খরচের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি লাভ করা সম্ভব সয়াবিন চাষ করে। যেখানে অন্য কোনো ফসল আবাদ করে এ পরিমাণ লাভ পাওয়া অসম্ভব।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের কৃষক মো. ইউছুফ বলেন, সয়াবিন আবাদে খরচ কম। রোগ ও পোকার আক্রমণও কম হয়। চাষাবাদ পদ্ধতি সহজ। বিক্রি করলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায় ধানের চেয়ে অনেক বেশি। আগে চরাঞ্চলে অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সেই জমিগুলো আর পড়ে থাকে না। পরিত্যক্ত জমিতেও সয়াবিন চাষ করা হচ্ছে। মৌমুমে প্রতি মণ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। আর মৌসুমের পর আড়াই হাজার থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়।

সংশ্লিষ্টরা অবশ্য জানান, বাংলাদেশে তেলের জন্য সয়াবিন আবাদ সেভাবে সম্ভব না। কারণ ৫ কেজি সয়াবিন বীজ ভাঙিয়ে তেল হয় এক কেজি। আর চার কেজি খৈল বা সয়া কেক হয়। খৈলটা হচ্ছে আসল আর তেলটা বাই-প্রোডাক্ট। খৈল থেকে সয়াবিস্কুট, সয়ামিল অনেক কিছুই তৈরি হয়, যাতে প্রচুর প্রোটিন রয়েছে। তবে দেশে উৎপাদিত খৈল কেবল মৎস্য বা প্রাণিখাদ্যে ব্যবহৃত হয়। অন্য দেশের মতো এখানেও সয়া কেকের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। কেননা কেবল তেল দিয়ে পোষাবে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭৯ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন উৎপাদন হয়েছে ১ দশমিক ৪১৯ লাখ মেট্রিক টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৭৭ হাজার ৩ হেক্টরে ১ দশমিক ৪৬৯ লাখ মেট্রিক টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭৯ হাজার হেক্টরে ১ দশমিক ৩৫২ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। এ ছাড়াও চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সয়াবিন চাষ হয়েছে ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে। আর লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৪৮ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়, ২০২০-২১ অর্থবছরে হয় ৪০ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সয়াবিন আবাদ হয়েছে ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে। গড় উৎপাদন ৮০ থেকে ৮৫ হাজার মেট্রিক টনের মতো।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, এ বছর লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনের উৎপাদন ভালো হয়েছে। কৃষকদের মাঝে উচ্চ ফলনশীল বিনা ৫ ও ৬ এবং বারি ৫ ও ৬ জাতের বীজ বিতরণ করেছি। তাই ফলন ভালো হয়েছে। আর আগে সোহাগ জাতের বীজ চাষ করত কৃষক, যার ফলন ছিল কম। এখন আর সেই সমস্যা নেই। এ ছাড়াও মন্ত্রণালায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সয়াবিন উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। উৎপাদিত সয়াবিন দিয়ে কী করা হয় জানতে চাইলে তিনি জানান, মাঠ থেকে আহরিত সয়াবিন আধুনিক অটোমেটিক মেশিনের মাধ্যমে সিদ্ধ করে শুকানোর পর তেলবীজ, ডালবীজ ও পোলট্রি শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে প্রক্রিয়াজাত হয়। পরে সেগুলো রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সরকারের ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে ২৭৮ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান। এর মাধ্যমে সরিষা, তিল, সূর্যমুখী, চিনাবাদাম, সয়াবিনসহ তেল ফসলের আবাদ এলাকা ২০ শতাংশ বাড়ানো এবং তেলজাতীয় ফসলের হেক্টরপ্রতি ফলন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

নিউজ ট্যাগ: সয়াবিনের গাছ

আরও খবর