আজঃ মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২
শিরোনাম

কুড়িগ্রামে বন্যা: মৎস্য খাতে ৫৪ কোটি টাকার ক্ষতি

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:সোমবার ২০ জুন ২০22 | ৩৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলায় ১০ হাজার ৮৯৪ হেক্টর জমির ধানসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। বন্যায় প্রাণিসম্পদের সাড়ে ১১ লাখ টাকা এবং মৎস্য বিভাগের ৫৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। কুড়িগ্রামে বেসরকারিভাবে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়ালেও জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মতে ৪৯টি ইউনিয়নে ৮৭ হাজার ২৩২ জন মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কুড়িগ্রামে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ৮৫টি মেডিকেল টিম, ৯টি উপজেলায় একটি করে মনিটরিং টিম এবং সিভিল সার্জন অফিসে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রাণি সম্পদ বিভাগ থেকে ১৮টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুন) সকালে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৫১ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ৪৪ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানায় কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্র।

সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের গারুহাড়া গ্রামের খুটু মিয়া বলেন, আমি অন্যের পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করি। এবারও কয়েকটি পুকুরে মাছ চাষ করছি। কিন্তু বন্যার পানিতে সব মাছ ভেসে গেছে। এতে আমার দেড় থেকে ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।  ওই ইউনিয়নের মিলপাড়া গ্রামের কাজিয়াল বলেন, বাড়িতে বন্যার পানি উঠায় গবাদিপশুগুলোকে নিয়ে উঁচু সড়কে এসেছি। আমাদের সঙ্গে সঙ্গে গরুগুলোরও খুব কষ্ট হচ্ছে। এখন রাস্তায় থাকা লাগবে। বাড়ি থেকে পানি নেমে গেলে তারপর বাড়ি যাব।

কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, রোববার সকালের তথ্য অনুযায়ী জেলার ৪৯ ইউনিয়নে ৮৭ হাজার ২৩২ জন মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। তবে সব উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে তথ্য না আসায় পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা দেড় লক্ষাধিক ছাড়িয়ে যাবে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

কুড়িগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কালিপদ রায় জানান, চলতি বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে ৭৪২টি পুকুরের ৭০৫ জন মৎস্য চাষির ১১৫ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হাই সরকার জানান, বন্যায় প্রায় অর্ধশতাধিক মুরগি মারা গেছে। এছাড়া গো-চারণভূমি, খড় ও দানাদার শস্য তলিয়ে যাওয়ায় ১১ লাখ ৫২ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ১৮টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রশীদ জানান, এখন পর্যন্ত বন্যায় ১০ হাজার ৮৯৪ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে কর্মকর্তারা পরামর্শ দেওয়াসহ তথ্য সংগ্রহ করছেন।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ জানান, বন্যার্তদের সহযোগিতায় মেডিকেল টিমের সদস্যরা বন্যাকবলিত এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন, কলেরা স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নাগেশ্বরীতে বেড়িবাঁধের ৫০ মিটার ওয়াস আউট হয়ে গেছে। এ ছাড়া দুধকুমর নদীর কালীগঞ্জ, বামনডাঙ্গা ও ধাউরারকুটি এলাকায় বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই এলাকায় ৪৮ কিলোমিটার বাঁধ মেরামতের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে কাজ শুরু করা হবে। বন্যার পানি আরও তিন দিন বাড়বে। এরপর কমতে শুরু করবে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, বন্যার প্রস্তুতি হিসেবে জেলা প্রশাসক দপ্তরে একটি সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতিদিনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রদান করতে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০ লাখ টাকা এবং ৪০৭ মেট্রিক টন চাল মজুত রয়েছে। এছাড়া আরও ৫০০ মেট্রিক টন চাল ও ২০ লাখ টাকার চাহিদা দেওয়া হয়েছে।

নিউজ ট্যাগ: কুড়িগ্রাম

আরও খবর



সাংবাদিক আফরোজার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি

প্রকাশিত:সোমবার ০৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৬ জুন ২০২২ | ৪২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দৈনিক আমাদের অর্থনীতির রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি আফরোজা সরকারের ডিজিটাল আইনসহ সকল মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র। সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এই দাবি জানায় সংগঠনটি।

মানববন্ধনে জানানো হয়, ২০২১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটিতে আবারো পূর্বের কমিটি নির্বাচিত হয়।

হঠাৎ কয়েকজন নামধারী গণমাধ্যমকর্মী সভা শেষে বহিরাগত সন্ত্রাসীসহ সেখানে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা ক্লাবের সদস্যদের মারধর করেন। এতে ক্লাবের পাঁচ সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে ক্লাবের নবনির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজম পারভেজ ও সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আফরোজা সরকারের অবস্থা গুরুতর ছিল। হামলাকারীরা এ সময় চেয়ার, টেবিল, ফ্যানসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। গুরুতর অবস্থায় সাংবাদিক আজম পারভেজ ও আফরোজা ছয় দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় হামলাকারীরা আফরোজা ও আজম পারভেজসহ ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

ঘটনাটি নিয়ে ফেস দ্যা পিপল নামক একটি ফেসবুক লাইভ পেইজে কথা বললে আফরোজার বিরুদ্ধে তিনটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ও দুটি হামলা মারপিট এবং ছিনতাইয়ের মামলা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু আফরোজাসহ সকল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারসহ হামলার ঘটনার বিচারও হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করেন।

মানববন্ধনে দিলরুবা খান, জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, শাহনাজ পলি, ফাতেমা বেগমসহ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সেই সঙ্গে সংঘতি জানাতে উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজের কোষাধ্যক্ষ খায়রুজ্জামান কামাল, ডিইউজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম। বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হরলাল রায় সাগর, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনিবাহী সদস্য সুশান্ত সাহা।



আরও খবর



পদ্মা সেতুতে চাঙা হবে সাতক্ষীরার অর্থনীতি

প্রকাশিত:সোমবার ১৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৩ জুন ২০২২ | ৩০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরার সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র মাধ্যম সড়ক পথ। তবে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় যেতে সবচেয়ে বড় ভোগান্তি ছিল দৌলদিয়া-আরিচা ও মাওয়া ফেরিঘাটে। দীর্ঘসময় ধরে ঘাটে ফেরির অপেক্ষায় ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষকে। তবে সেই কষ্টের অবসান হতে চলেছে। আর কদিন পরেই সাতক্ষীরা থেকে বাসে করে সকালে রওনা দিয়ে দুপুরে ঢাকায় পৌঁছানো যাবে। থাকবে না ফেরিঘাটের দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি। আর এটা সম্ভব করছে পদ্মা সেতু।

আগামীতে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে জেলার উৎপাদিত মাছসহ কৃষি পণ্য দ্রুত ঢাকাসহ দেশের অন্য অঞ্চলে পৌঁছে যাবে। কলকাতা থেকে দূরত্ব কম হওয়ায় ভোমরা স্থলবন্দরে বাড়বে আমদানি রপ্তানি। গড়ে উঠবে শিল্প কারখানা। সুন্দরবনে বাড়বে পর্যটকদের আনাগোনা। এক কথায় গোটা জেলার অর্থনীতি চাঙা হবে এই এক সেতুর মাধ্যমে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী তারিখ ঘোষণার পরপরই সাতক্ষীরার পরিবহণ ব্যবসায়ীরা নতুন রুটে গাড়ি নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে নতুন নতুন বাস চলাচলের জন্য প্রস্তুত করছেন। সাতক্ষীরা-খুলনা- গোপালগঞ্জ রুটে তৈরি হচ্ছে নতুন বাস কাউন্টার।

সাতক্ষীরা শহরের বাসিন্দা মো. রনি হোসেন বলেন, অতীতে এক সময় সাতক্ষীরা থেকে নদী পথে দেশের অনেক এলাকায় যাতায়াত করা যেত। তবে এখন নদ-নদীগুলো পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় সড়ক পথই আমাদের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। আমাদের জেলায় রেললাইন নেই। রেলে বা বিমানে চড়তে হলে যেতে হয় ৫০ কিলোমিটার দূরের যশোরে। পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকাসহ সারা দেশের সঙ্গে সাতক্ষীরার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে।

সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার বাসিন্দা মো. ইয়াছিন বলেন, আমরা দেশের সবচেয়ে দুর্যোগ প্রবণ উপজেলার বাসিন্দা। এখানে খাবার পানিও কিনে খেতে হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজ করেন। কিন্তু এখান থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে একদিন (১০/১৬ ঘণ্টা) সময় লেগে যায়। ফেরিঘাটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা। তাছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের ঢাকায় নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। পদ্মা সেতু চালু হলে ৭-৮ ঘণ্টার মধ্যে আমরা ঢাকায় পৌঁছাতে পারব।

সুন্দরবন সংলগ্ন মুন্সিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ বলেন, সড়ক পথে কেউ সুন্দরবন ভ্রমণ করতে চাইলে তাকে সাতক্ষীরা হয়েই সুন্দরবনে আসতে হবে। এতদিন ঢাকা থেকে সাতক্ষীরায় আসার ভোগান্তির কারণে পর্যটকরা এই রুট দিয়ে সুন্দরবনে ঘুরতে আগ্রহী ছিলেন না। তবে পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা সাতক্ষীরা রুটে অত্যাধুনিক যানবাহন চলাচল শুরু হবে। দ্রুত সময়ে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরায় পৌঁছানো যাবে, তখন এখানে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে।

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আকতার হোসেন বলেন, দক্ষিণবঙ্গের মানুষের পদ্মা সেতুর স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সেতু চালু হওয়ার পর ফেরিঘাটের বিড়ম্বনা কমবে। সাতক্ষীরার সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। আমাদের সুন্দরবনে পর্যটকের আগমন বাড়বে। ভোমরা বন্দরে আমদানি রপ্তানি বাড়বে। নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি হবে। জেলার হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। মোট কথা সাতক্ষীরার অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে যাবে।

সাতক্ষীরা বড় বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু  বলেন, সাতক্ষীরায় সারা বছরই বিভিন্ন জাতের শাক সবজি চাষ হয়। এছাড়া বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে আম, কুল, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফল উৎপাদন হচ্ছে। ফেরি ঘাটের জ্যামের কারণে অনেক সময় অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে ফেরি পার হতে হতো। সময়মতো পার হতে না পারলে ট্রাকেই নষ্ট হয়ে যেত। ফলে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়তেন। ক্রেতাদেরও বেশি দামে কিনতে হতো। এখন আর সেই সমস্যা থাকবে না।

সাতক্ষীরা বড় বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সমিতির নেতা বাবু খান  বলেন, সাতক্ষীরা জেলায় সবচেয়ে বেশি মাছচাষ হয়। প্রতিদিন সাতক্ষীরা জেলা থেকে শত শত টন মাছ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু ফেরিঘাটে জ্যামের কারণে অনেক সময় সময়মতো বাজার ধরতে না পারায় অনেক ব্যবসায়ী লোকসানে পড়তেন। বরফ নষ্ট হয়ে অনেক সময় মাছের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। পদ্মা সেতু চালু হলে আমাদের মাছচাষি ও ব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হবে পাশাপাশি ক্রেতারা ভালো মানের মাছ পাবেন।

ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি শেখ এজাজ আহমেদ স্বপন বলেন, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর ভোমরা স্থলবন্দর। কলকাতা থেকে সাতক্ষীরার এই বন্দরের দূরত্ব সবচেয়ে কম। অথচ শুধুমাত্র পদ্মা নদীতে ফেরি পারাপারে সমস্যার কারণে এতদিন অনেক ব্যবসায়ী এই বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী ছিলেন না। পদ্মা সেতু চালু হলে ভোমরা বন্দরে আমদানি রপ্তানি বাড়বে। জেলার হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে।

স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ খান  বলেন, ভোমরা বন্দর দিয়ে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফল আমদানি বেশি হয়। ফেরি পারাপারে সমস্যার কারণে এসব পণ্য এখন ঢাকায় পাঠাতে অনেক সময় লেগে যায়। খরচও বাড়ে। পদ্মা সেতু চালুর পর ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য ঢাকায় পৌঁছাবে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরত-ই-খুদা  বলেন, সড়ক পথে ভোগান্তির জন্য সীমান্তবর্তী এই জেলার অনেক মানুষ এতদিন চিকিৎসার জন্য ভারতমুখী ছিলেন। তবে সেতু চালুর পর সাতক্ষীরার রোগীরা উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পৌঁছাতে পারবেন।

নিউজ ট্যাগ: পদ্মা সেতু

আরও খবর



সাংবাদিক কাজলের ৩ মামলার কার্যক্রম স্থগিত

প্রকাশিত:বুধবার ০১ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ০১ জুন ২০২২ | ৩৪০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে করা তিন মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (১ জুন) বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিন ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ দুই মাসের জন্য মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন।

গত বছরের ৮ নভেম্বর ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পৃথক তিন মামলায় চার্জগঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন ।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানায় এই তিনটি মামলা দায়ের হয়।


আরও খবর



আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে হুঁশিয়ার করল ইরান

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৩ জুন ২০২২ | ৩৭০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদে আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা- আইএইএর আসন্ন নির্বাহী বোর্ডের সভায় ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও অগঠনমূলক প্রস্তাব আনা হলে তার দেশ এর বিরুদ্ধে সমুচিত এবং কঠোর জবাব দেবে।

মুখপাত্র খাতিবজাদে বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও অগঠনমূলক পদক্ষেপের পরিণতির দায়ভার তাদেরকেই নিতে হবে যারা আইএইএ'র বোর্ড অব গভর্নরস এবং আইএইএ'র মহাপরিচালকের প্রতিবেদনকে ইরানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করবে।

ইরানের তিনটি অঘোষিত স্থাপনায় ইউরেনিয়ামের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে আইএইএর মহাপরিচালক এক প্রতিবেদনে যে দাবি করেছেন সে ব্যাপারে ওই সংস্থার পক্ষ থেকে তেহরানকে ভর্ৎসনা করার আহ্বান জানিয়ে আমেরিকা ও তিন ইউরোপীয় দেশ একটি প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেছে বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এটি বলেছে, আইএইএর নির্বাহী বোর্ডের আসন্ন সভায় আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি খসড়াটি উত্থাপন করবে এবং এটিকে প্রস্তাব আকারে পাস করার চেষ্টা করবে।

গ্রোসির প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ পারমাণবিক সমঝাতায় অনুমোদিত সীমার ১৮ গুণে পৌঁছেছে এবং ইরান গত তিন বছরে দেশে পারমাণবিক উপাদান আবিষ্কারের বিষয়ে আইএইএ' প্রশ্নের প্রযুক্তিগতভাবে বৈধ উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইরানের যুক্তি উপেক্ষা করে ইসরায়েলের কথিত দাবির সঙ্গে গলা মিলিয়ে আইএইএ'র পূর্ব নির্ধারিত অনুমান নির্ভর এ প্রতিবেদন সম্পূর্ণ একপেশে হিসেবে প্রতিয়মান হয়েছে। মূলত ইহুদিবাদী ইসরাইলের যেকোনো দাবিই অগ্রহণযোগ্য। কারণ ইসরায়েল এনপিটি চুক্তিতে সই করেনি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে একমাত্র ইসরায়েলের কাছে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। পরমাণু সমঝোতার প্রধান শত্রু ইসরায়েল শাসক গোষ্ঠী এ সমঝোতা বানচাল করার জন্য সব ধরনের উপায় ব্যবহার করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। 

আইএইএ'র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি তার প্রতিবেদনে ইরানের বিরুদ্ধে তার পরিদর্শকদের নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। কিন্তু ইরান এবং আইএইএ;র মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রোটোকলের অধীনে অ-পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশে সহযোগিতা দিতে ইরানের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ইরানের পদক্ষেপ স্বেচ্ছায় এবং সদিচ্ছা দেখানোর জন্য করা হয়েছিল।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে চলতি বছরের মার্চ মাসে গ্রোসির তেহরান সফরের পর ইরান এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা একমত হয়েছিল তারা বিতর্কিত সমস্যাগুলো একটি রোডম্যাপের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাধান করবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে গত দুই মাসে আইএইএ'র কর্মকর্তাদের সাথে ইরানি কর্মকর্তাদের তিনটি পৃথক কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা ও নথি ইরানের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে। তবে, আইএইএ'র মহাপরিচালকের নতুন প্রতিবেদনে সংস্থাটির সাথে ইরানের ব্যাপক সহযোগিতার কোনও প্রতিফলন লক্ষ করা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, আন্তজার্তিক আণবিক শক্তি সংস্থা এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর গোপনীয়তা সুরক্ষার স্বার্থে তথ্য সুরক্ষা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গুপ্তচরবৃত্তির কার্যকলাপের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বা অবিশ্বস্ত ও অগ্রহণযোগ্য উৎসের মাধ্যমে প্রাপ্ত দাবিগুলোর উপর নির্ভর করে আইএইএ কোনো প্রতিবেদন তৈরি করা উচিত নয়। কারণ অযৌক্তিক দাবি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে ইরানের জন্য কোনও বাধ্যবাধকতা নেই বরং এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সহযোগিতার প্রক্রিয়াকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।


আরও খবর



দৈনিক ১০০ সেনা হারাচ্ছে ইউক্রেন: জেলেনস্কি

প্রকাশিত:বুধবার ০১ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ০১ জুন ২০২২ | ৩৮৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন, কিয়েভের বাহিনী এখন  দৈনিক ১০০ জনের বেশি সেনা হারাচ্ছে এবং ৫০০ জন আহত হচ্ছে। মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল নিউজম্যাক্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এই মন্তব্য করেছেন। জেলেনস্কির এই সাক্ষাৎকার গতকাল প্রচারিত হয়েছে। বুধবার (১ জুন) দ্য গার্ডিয়ানের লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, 'পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন, আমরা প্রতিদিন প্রায় ৬০-১০০ জন সেনা হারাচ্ছি এবং অন্তত ৫০০ সেনা আহত হচ্ছে। তাই আমরা আমাদের প্রতিরক্ষামূলক পরিধি ধরে রাখছি।'

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, 'সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি হচ্ছে পূর্ব ইউক্রেনে এবং দক্ষিণ দোনেতস্ক এবং লুহানস্কে।'  সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইউক্রেন এবং এর জনগণ ভ্লাদিমির পুতিনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বের 'প্রতিরক্ষামূলক পরিসীমা'।

এছাড়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, আমাদের বুঝতে হবে অন্ধকার শক্তি কে- সেটি হচ্ছে রাশিয়া। এবং এটা নিশ্চিত রাশিয়া শুধু ইউক্রেনে থেমে থাকবে না অন্যান্য দেশগুলোও ইতোমধ্যে রাশিয়ার হুমকির মুখে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর আজ পর্যন্ত টানা ৯৭ দিনের মতো চলছে দেশ দুইটির সংঘাত। এতে দুই পক্ষের বহু হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে এখন পর্যন্ত কোনো লক্ষণ নেই। উল্টো দেশ দুইটির মধ্যে পূর্ব ইউক্রেনে সংঘাত আরও বেড়েছে। 


আরও খবর