আজঃ মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২
শিরোনাম

কুড়িগ্রামে ৩ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২১ জুন ২০২২ | ৩০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কুড়িগ্রামে ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিন বাড়ছে প্লাবিত এলাকার পরিধি, সেই সঙ্গে বাড়ছে দুর্গত মানুষের সংখ্যা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। পাঠদান বন্ধ তিন শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

প্রশাসনের দেওয়াতথ্য মতে, কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলার ৪৯ ইউনিয়নের ৩৫ হাজার ৪০৩ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় ২৯৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৩২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

প্রতিটি উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকল দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুর্গত এলাকায় সরকারিভাবে ত্রাণ সহায়তা শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে বিতরণের ধীরগতিতে এখনও অনেক দুর্গত এলাকার মানুষ সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, মঙ্গলবার (২১ জুন) সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি সামান্য কমে বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে স্থিতিশীল থাকলেও, চিলমারী পয়েন্টে তিন সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার  ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নদ-নদীর পানি বেড়ে জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে পাউবো এই তথ্য জানিয়েছে।


এদিকে জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বরাত দিয়ে জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা জানায়, বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠ ও আশপাশের এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জেলার ৯ উপজেলার ২৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত রয়েছে। এছাড়া ২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতটি মাদ্রাসা ও একটি কলেজের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে নাগেশ্বরী উপজেলায় ৭৯টি। রৌমারীতে প্লাবিত ৬৮, উলিপুরে ৫৮, চিলমারীতে ৩৮, সদরে ১৮, রাজীবপুরে ১৭, ভূরুঙ্গামারীতে ৭, ফুলবাড়ীতে ৬ ও রাজারহাটে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।


বন্যায় মানুষের সঙ্গে গবাদি পশু-পাখিও ক্ষতির শিকার হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, প্লাবিত এলাকায় প্রায় ৪২ হাজার গরু, মহিষ ও ভেড়াবন্যা কবলিত হয়েছে। আর মৎস্য বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, জেলায় ১৩৩ দশমিক ৭৯ হেক্টর পুকুর ও জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৬৬ দশমিক ৬১ মেট্রিক টন মাছ এবং ৬ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন মাছের পোনা ভেসে গেছে। এই খাতে এ পর্যন্ত প্রায় কোটি টাকার ওপর ক্ষতি হয়েছে বলে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, বন্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যাদের ঘরবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে তাদেরকে নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা বিদ্যালয় ভবনে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।


আরও খবর



নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, ফল পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই : ইসি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২ | ৩৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, ফল পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

ইসি আলমগীল বলেন, সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের বিরুদ্ধে অন্য প্রার্থীদের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাকে চিঠি দেয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট হয়েছে ইভিএমে। এতে ৫০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নতুন নগরপিতা হলেন আওয়ামী লীগের আরফানুল হক রিফাত।


আরও খবর



অর্থনৈতিক করিডরের লাভের গুড় একাই খাচ্ছে চিন

প্রকাশিত:রবিবার ২৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৯ মে ২০২২ | ৩৮৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ছয় বছর আগেই সতর্কবাণী শুনিয়েছিল পশ্চিমী দুনিয়া। এ বার সত্যিটা উপলব্ধি করছে পাকিস্তানের আমজনতা। আর তার ফলে ক্রমশ মাথা চাড়া দিচ্ছে চিন বিরোধী বিক্ষোভ। কারণ, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পকে হাতিয়ার করে এক তরফা লাভ করছে চিন। ক্ষতির মুখে পড়ছে পাকিস্তানের ব্যবসায়িক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলি।

এই পরিস্থিতিতে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) নিয়ে ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে পাক ব্যবসায়ীদের মধ্যে। ২০১৫ সালে সড়ক প্রকল্প চালুর সময় বেজিং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এর ফলে পাকিস্তানের বার্ষিক আর্থিক বৃদ্ধি অন্তত আড়াই শতাংশ হবে। বাড়বে কর্মসংস্থান। বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং জ্বালানির জোগানও স্থিতিশীল হবে কিন্তু সেই পূর্বাভাস মেলার কোনও ইঙ্গিত মেলেনি। বরং ছবছরে ক্রমশ দুর্বল হয়েছে পাক অর্থনীতি।

সে সময় আমেরিকা এবং ইউরোপের দেশগুলি জানিয়েছিল, সিপিইসি-র লাভের গুড় পুরোটাই চিনের ঘরে যাবে। বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, গত ছবছরে সেটাই ঘটে চলেছে। চিন তাদের উৎপাদিত পণ্য এই সড়ক পথে রফতানি করছে পাকিস্তানে। আর তার ফলে মার খাচ্ছে পাক উৎপাদন ক্ষেত্র। পাশাপাশি, পাকিস্তানের ক্ষুব্ধ বণিক মহল বলছে, সিপিইসি ধরে চিন থেকে পাকিস্তানে কোনও পণ্য নিয়ে আসা যতটা সহজ, পাকিস্তান থেকে কোনও কিছু চিনে নিয়ে যাওয়া ততটাই কঠিন। কারণ চিনা কর্তৃপক্ষের নানা বিধিনিষেধ।

২০১৩ সালে চিন এবং পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডর সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছিল। ৪,৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে পাকিস্তানের মধ্যে দিয়ে চিন এই করিডর তৈরি করবে বলে স্থির হয়। পরে বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ে। চিনের কাশগড় থেকে কারাকোরাম হাইওয়ে হয়ে পাকিস্তানের গ্বাদর পর্যন্ত বিস্তৃত ১,৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাই-লেন মহাসড়কটি চিনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড কর্মসূচির অন্যতম প্রধান অঙ্গ।

সাম্প্রতিক একটি হিসেব বলছে, সিপিইসি চালুর পরে পাকিস্তানে চিনা পণ্যের রফতানি ৩০ শতাংশ বেড়েছে। অন্য দিকে, পাক পণ্যের চিনে রফতানি কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। ওই মহাসড়কের কাজ চলার সময় পাকিস্তানে নানা পরিকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থ ঝণ হিসেবে দিয়েছিল চিন। কিন্তু সড়ক চালু হওয়ার পরে ঋণের পরিমাণ অনেকটাই কমানো হয়েছে। তাই সে দেশের অন্তত ২১টি প্রকল্পের কাজ শ্লথ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ।

নিউজ ট্যাগ: অর্থনৈতিক করিডর

আরও খবর



আমেরিকার পর্যটন শিল্পে গাঁজা এবং এর উত্থান

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ৩১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ৩১ মে ২০২২ | ৫০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বছর চল্লিশের একজন মেকাপ আর্টিস্ট আদ্রিয়েন। জন্ম নর্দার্ন জর্জিয়ায়, যেখানে গাঁজা আজও অবৈধ হিসেবে বিবেচিত। ২০১৮ সালে আদ্রিয়েন ও তার স্বামী যখন অবকাশ যাপনের জন্য পরিকল্পনা করছিলেন, ১৪ বছর বয়স থেকেই মারিজুয়ানাতে অভ্যস্ত আদ্রিয়েন তখন ক্যালিফোর্নিয়ায় যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এত জায়গা থাকতে ক্যালিফোর্নিয়াই কেন? কারণ সেখানে বৈধভাবেই গাঁজা কেনা যায়।

সেদিনের স্মৃতিচারণ করে আদ্রিয়েন বলেন, আমি কখনোই ডিসপেন্সারিতে যাইনি। তাই আমি আগে পেশাদার কারো সাহায্য চাচ্ছিলাম, যার কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য পাওয়া যাবে। অতএব এমারাল্ড ফার্ম ট্যুরস-এর কাছে বুকিং দিয়ে তাদের উপর ভ্রমণের দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন তিনি। সানফ্রান্সিসকোর থেকে পর্যটন পরিচালনা করা এই প্রতিষ্ঠানটি গাঁজার প্রতি আগ্রহী পর্যটকদের স্থানীয় ডিসপেন্সারিতে এবং সাগর উপকূলে ইনডোরে গাঁজা চাষের স্থানে নিয়ে যায়। সেদিন এমারাল্ড ফার্ম ট্যুরিজমের সাথে অর্ধদিবসের একটি ট্যুর, ঘরে বসেই নিজের পছন্দসই গাঁজা খাওয়া এবং হোটেল রুমসহ মোট ১৫০০ ডলার খরচ করেছিলেন আদ্রিয়েন। তবে আদ্রিয়েনের এই অবকাশযাপনকে 'ভ্যাকেশন' এর বদলে 'ক্যানা-কেশন' বলাই শ্রেয়! কারণ এখানে মূখ্য উদ্দেশ্যই ছিল গাজা। শুধু তাই নয়, কয়েক মাস পর আবারও একই প্রতিষ্ঠানের কাছে বুকিং দেন আদ্রিয়েন। তবে এবার বন্ধুবান্ধবসহ সান ফ্রান্সিসকো থেকে তিন ঘন্টা উত্তরে, মেন্ডোসিনোর এক গাঁজার খামারে সারাদিনের ভ্রমণ বুক করেন এই মেকাপ আর্টিস্ট।

তবে আদ্রিয়েনকে যে সবসময়ই গাঁজা খাওয়ার অন্য 'আমেরিকা'স বাড বাস্কেট' খ্যাত ক্যালিফোর্নিয়ায় যেতে হয়, তা কিন্তু নয়। ইতোমধ্যেই আমেরিকার ১৯টি রাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডি.সি আমোদপ্রমোদের উদ্দেশ্যে গাঁজা সেবনকে বৈধতা দিয়েছে। চলতি বছরে আরো কয়েকটি রাজ্যের নাম এই তালিকায় যুক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিভিন্ন রাজ্যে গাঁজা সংশ্লিষ্ট আইন : গাঁজা সেবনকে বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পাশাপাশি গাঁজা নিয়ে সমাজের মানুষের উষ্মাও কমতে শুরু করেছে। চলতি মাসে পরিচালিত হ্যারিস পোল অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানদের তিনভাগের প্রায় দুই ভাগেরও বেশি (৬৮%) এখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গাঁজা সেবনকে সমর্থন করে। এদের মধ্যে প্রতি এক হাজারের অর্ধেক মানুষই জানিয়েছেন, অবকাশযাপন-গন্তব্য খোঁজার ক্ষেত্রে আমোদপ্রমোদের উদ্দেশ্যে গাঁজা সেবনে বৈধতা দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, প্রতি ১০ হাজারে চারজনেরও বেশি মানুষ (৪৩%) জানিয়েছেন, তারা ছুটি কাটাতে এমন সব জায়গাই খোঁজেন যেখানে গাঁজা বৈধ।

এমারাল্ড ফার্ম ট্যুরস-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ভিক্টর পিনহো এই পুরো বিষয়টিকে 'গাঁজা পর্যটন' নামে আখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষ্যে, এখনো পর্যন্ত আমেরিকার পর্যটন শিল্প ও পরিষদ 'গাঁজা পর্যটন'কে গুরুত্ব দিচ্ছে না বললেই চলে, অথচ এই বিশেষ ঘরানার পর্যটন শিল্পের মাধ্যমেই তাদের পকেটে আসছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। পিনহো বলেন, "তারা পর্যটক এবং তারা এই গাঁজার দুনিয়ায় আসে টাকা খরচ করতে।" তিনি আরো ব্যাখ্যা করেন, এখানে ভ্রমণের সময় তার ক্রেতারা সাধারণত ডিসপেন্সারিতে ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার খরচ করেনই। কিন্তু বর্ধনশীল এই গাঁজা পর্যটন শিল্প ভবিষ্যতে কতখানি বিস্তার লাভ করবে বা যুক্তরাষ্ট্রের ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যটন খাতে এর অর্থনৈতিক প্রভাব কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বর্তমান ডেটা কিন্তু উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথাই বলছে। মহামারির আগে ২০২০ সালে দেশের অভ্যন্তরে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমএমজিওয়াই ট্রাভেল ইন্টেলিজেন্স ইনসাইটস পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি পাঁচজনে একজন (১৮ শতাংশ) আমেরিকান পর্যটক অবকাশযাপকালে গাঁজা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা নিতে আগ্রহী। এই জরিপ যখন ২১ বছরের উর্ধ্বে গাঁজা সেবনকারী প্রাপ্তবয়স্কদের (যাদের বার্ষিক আয় ৫০,০০০ ডলারের বেশি) মধ্যে করা হয়, তখন সংখ্যাটা এক লাফে ৬২ শতাংশে গিয়ে পৌঁছায়।

গাঁজাকে বৈধতা দেওয়ার ফলে অন্যান্য ব্যবসায়ও সমৃদ্ধি ঘটেছে। ২০২১ সালে বৈধভাবে ২৫ বিলিয়ন ডলার গাঁজা বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারই ছিল পর্যটকদের পকেট থেকে আসা। এছাড়াও রেস্টুরেন্ট, হোটেল, পর্যটন কেন্দ্র, বিভিন্ন দোকান এবং রাজ্যের মিউনিসিপ্যালিটি করসহ পর্যটকেরা ব্যয় করেছে আরো ১২.৬ বিলিয়ন ডলার। কারণ খুচরা গাঁজা বিক্রেতাদের পেছনে খরচ করা প্রতিটি পয়সার একাধিক প্রভাব রয়েছে স্থানীয় অর্থনীতিতে, জানান হুইটনি ইকোনোমিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিউ হুইটনি, যিনি গাঁজার ব্যবসায়ে একজন কনসালটেন্টও বটে।

বেশিরভাগ পর্যটন গন্তব্যের ক্ষেত্রে গাঁজাই তাদের নিয়মিত আয়ের এমন একটি উৎস, যেখানে কোনোরকম প্রচারণাই চালাতে হচ্ছে না তাদের। কলোরাডোর কথাই ধরা যাক, সেখানে আমোদপ্রমোদের উদ্দেশ্যে গাঁজা সেবন-বিক্রি বৈধ করা হয়েছে প্রায় এক দশক আগে। গত বছর গাঁজা থেকে তাদের আয় ৪২৩ মিলিয়ন ডলার। কলোরাডো পর্যটন কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে গাঁজা সেবন সংক্রান্ত সুরক্ষা টিপস, আইনি নির্দেশিকা এবং অন্যান্য ব্যবহারিক উপদেশও দেওয়া আছে। কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা মেইলের মাধ্যমে জানান, গাঁজা আমাদের পর্যটনের সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি নয়, সে তুলনায় আউটডোর বিনোদনের ব্যবস্থা থেকে বেশি আয় হয়।

এদিকে কলোরাডো গাঁজার মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে পর্যটক আকর্ষণের চেষ্টা না করলেও, অন্যান্য রাজ্যের উদ্যোক্তারা কিন্তু করছেন। খুব শীঘ্রই ডেনভারের প্যাটারসন ইন নামক নয় বেডরুমের হোটেলটি শহরের প্রথম লাইসেন্সধারী গাঁজা সেবন লাউঞ্জ নির্মাণ করতে যাচ্ছে। হোটেলের মালিক ক্রিস কিয়ারি জানান, ১১০০ বর্গফুটের এই লাউঞ্জের নাম হবে '৪২০ স্যুইট' এবং বছরের শেষদিকে তা গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

ইতোমধ্যে আরো কিছু ভ্রমণ গন্তব্যও 'গাঁজা পর্যটন'কে গ্রহণ করতে শুরু করেছে। ক্যানাবিস ট্রাভেল এসোসিয়েশন ইন্টারন্যাশনাল- এর প্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান অ্যাপলগার্থ বলেন, পর্যটন শিল্পের নেতাদের সংকীর্ণতার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটকদের গাঁজার সাথে সংশ্লিষ্টতা অনেক বেশি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে এখন। ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ভ্যালির একটি পর্যটন তথ্য কেন্দ্র, ভিজিট মডেস্টো'র সিইও টড অ্যারনসনও তার কথার সাথে একমত। তিনি বলেন, কুকুরপ্রেমীরা গাঁজা সেবন করে। যারা ফুডি বা অনেক খেতে ভালোবাসে, তারাও গাঁজা সেবন করে। তাই সাধারণ পর্যটক ও 'ক্যানাবিস ট্রাভেলার' বা গাঁজা পর্যটকের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

গত বছর মডেস্টো অ্যাপলগার্থের প্রতিষ্ঠিত গাঁজা পর্যটন ফার্ম 'কাল্টিভার' এর সাথে অংশীদার হয়েছে। তারা দুজনে মিলে পাসপোর্ট ধরনের একটি প্রোগ্রাম চালু করেন, যার নাম 'মো টাউন ক্যানাপাস'। এই প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে, পাসপোর্টধারী পর্যটকেরা ওই অঞ্চলের রেস্টুরেন্ট, খুচরা গাঁজা বিক্রেতাসহ গাঁজা সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকান্ডে অংশ নিতে পারবেন এবং এই সবকিছুই হবে বৈধ প্রক্রিয়ায়। অ্যারনসনের মতে, একটা মদের বারে গিয়ে মানুষ যেভাবে উপভোগ করে, তারাও এখানে সেভাবেই গাঁজা সেবনের সুযোগ করে দিচ্ছেন। এখানে সবাইকে সমান দৃষ্টিতে দেখা হয়, প্রতিটি পর্যটককেই স্বাগত জানানো হয়। মো টাউন ক্যানাপাস স্থানীয় খুচরা গাঁজা বিক্রেতাদের ব্যবসায়ে তাৎক্ষণিকভাবে ১১ শতাংশ লাভের কারণ হয়েছে। তাই এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই, বরং এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন তিনি।


আরও খবর



পদ্মা সেতুতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৭ জুন ২০২২ | ১৯৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাবে এবং এর ফলে এই অঞ্চলে শিল্পায়ন হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (২৭ জুন) দুপুরে একটি অনুষ্ঠানে সরকারি বাসভবন গণবভন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন পর্যন্ত অবহেলিত ছিল। আমরা আমাদের নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করেছি। এর ফলে এই অঞ্চলে শিল্পায়ন হবে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

সম্প্রতি সিলেট-সুনামগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সমস্যা আসবে। তা মোকাবিলা করেই আমাদের চলতে হবে। এ সময় বন্যার্তদের সহযোগিতায় যারা অনুদান দিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষি উৎপাদনে জোর দিচ্ছে সরকার। এসময় অর্থনৈতিক উন্নয়নে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৩০৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।


আরও খবর



‘নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়ায় পুনর্নির্ধারণ হচ্ছে প্রকল্পের দর’

প্রকাশিত:সোমবার ০৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৬ জুন ২০২২ | ৪৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

রডসহ নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিভিন্ন প্রকল্পে দর পুনর্নির্ধারণ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এটি হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

সোমবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রেজাউল করিমের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

রেজাউল করিম তাঁর প্রশ্নে জানান, সংসদ সদস্যরা ২০ কোটি টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছেন। কিন্তু রডের দাম বেড়ে যাওয়ায় উন্নয়ন কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। ঠিকাদারেরা কাজ করছেন না।

জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। আগামী এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এটি হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে ঠিকাদারেরা কাজ নিতে আগ্রহী হবেন। দুই বছর করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এবং এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। সারা বিশ্বে যে মূল্যস্ফীতি, বাংলাদেশ সে তুলনায় অনেক ভালো অবস্থায় আছে।

তিনি বলেন, রডসহ নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়েছে। একটি সভায় আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স্থানীয় সরকারের প্রকৌশলীরা বসে প্রকল্পের দর পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছেন। আশা করছি, আগামী সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে দর পুনর্নির্ধারণ হয়ে যাবে। এটি হলে বর্ধিত প্রাক্কলনে ঠিকাদাররা কাজ করতে আগ্রহী হবেন।

নিউজ ট্যাগ: তাজুল ইসলাম

আরও খবর