আজঃ মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২
শিরোনাম

করোনার পর প্রথম বিদেশি হজযাত্রীদের গ্রহণ করলো সৌদি

প্রকাশিত:শনিবার ০৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০৪ জুন ২০২২ | ৪২০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

করোনাভাইরাস মহামারীর পর সৌদি আরব শনিবার (৪ জুন) হজ যাত্রীদের প্রথম ব্যাচকে স্বাগত জানিয়েছে। মহামারীর কারণে কর্তৃপক্ষ বার্ষিক এই ধর্মাচার অনুষ্ঠান কঠোরভাবে সীমিত করতে বাধ্য হয়েছিল। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ইন্দোনেশিয়া থেকে দলটি মদিনা শহরে অবতরণ করেছে। আগামী মাসে হজের প্রস্তুতির জন্য আসন্ন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দক্ষিণের পবিত্র শহর মক্কার উদ্দেশে তারা যাত্রা করবে।

সৌদি হজ্ব মন্ত্রণালয়ের মোহাম্মদ আল-বিজাভি রাষ্ট্র পরিচালিত আল-এখবারিয়া চ্যানেলকে বলেন, 'আজ আমরা ইন্দোনেশিয়া থেকে এই বছরের হজ্বযাত্রীদের প্রথম দলটিকে পেয়েছি, এরপর থেকে মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে ফ্লাইট আসতে থাকবে।'

তিনি সৌদি আরবকে তাদের থাকার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত” হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, 'আজ আমরা মহামারীজনিত কারণে দুই বছরের বাধার পরে, সৌদি’র বাহির থেকে আল্লাহর অতিথিদের পেয়ে খুশি।' 

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে হজ একটি, সামর্থ্যবান মুসলমানদের জীবনে অন্তত একবার হজ করা আবশ্যক। এই হজ বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশগুলির মধ্যে অণ্যতম।

২০১৯ সালে প্রায় ২.৫ মিলিয়ন মুসলমান হজব্রত পালন করেছিলেন। কিন্তু ২০২০ সালে মহামারী শুরুর পরে, সৌদি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছিল যে, তারা শুধুমাত্র ১,০০০ হজযাত্রীকে হজে অংশ নিতে দেবে।

পরের বছর, তারা ওই সংখ্যা বাড়িয়ে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত সৌদি নাগরিক এবং বাসিন্দাসহ মোট ৬০ হাজার জনকে সম্পূর্ণ টিকা দিয়ে হজে অংশ গ্রহণের অনুমতি দেয়। সে বছর বিদেশী হজযাত্রীদের বাদ দিলে, বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা যারা, স্বভাবতই  হজে অংশ নেওয়ার নিয়তে সারা বছরে হজের অর্থ সঞ্চয় করেছেন, তাদের মধ্যে গভীর হতাশা সৃষ্টি হয়।

এরপর গত এপ্রিলে, সৌদি আরব দেশের অভ্যন্তর এবং বাহির থেকে ১০ লাখ মুসলমানকে চলতি বছরের জুলাইয়ে অনুষ্ঠেয় হজে অংশ গ্রহণের অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

মহামারীর আগে, মুসলিম হজযাত্রীরাই সৌদি আরবের প্রধান রাজস্ব উপার্জনকারী ছিল, যাদের থেকে বছওে তারা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার আয় করতো।

সৌদি হজ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বছরের হজ যাত্রা ৬৫ বছরের কম বয়সী টিকাপ্রাপ্ত মুসলমানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। সৌদি আরবের বাইরে থেকে যারা আসছেন, তাদের অবশ্যই হজ ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। তাদের ভ্রমণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নেওয়া পরীক্ষা থেকে কোভিড -১৯ নেতিবাচক ফলাফল জমা দিতে হবে। 


আরও খবর



সেন্সরের অপেক্ষায় অনন্ত-বর্ষার ‘দিন: দ্য ডে’

প্রকাশিত:রবিবার ২৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৯ মে ২০২২ | ৩৯৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সেন্সর বোর্ডে জমা পড়েছে ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল ও চিত্রনায়িকা বর্ষা জুটির নতুন সিনেমা দিন-দ্য ডে। বাংলাদেশ ও ইরানের যৌথ প্রযোজনায় ১০০ কোটি টাকা বাজেটে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। বাংলাদেশ অংশের প্রযোজক অনন্ত জলিল। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন ইরানি নির্মাতা মুর্তজা অতাশ জমজম।

সেন্সর বোর্ড সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সেন্সর অনুমতির জন্য এক সাপ্তাহ আগে দিন-দ্য ডে সিনেমাটি জমা পড়েছে। এখনো সেন্সর সদস্যরা ছবিটি দেখেননি। তবে শিগগিরই এটি দেখে ছাড়পত্রের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আসছে কোরবানি ঈদেই ছবিটি সারাদেশে মুক্তি পাবার কথা রয়েছে সিনেমাটি। অনন্তর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, কোরবানি ঈদে ছবিটি ইরান ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে মুক্তি পাবে।


প্রায় দুই বছর ধরে তৈরি করা হয়েছে ছবিটি। ২০১৮ সালের শেষ দিকে ইরানের ফারাবি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ছবিটি যৌথভাবে প্রযোজনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হন অনন্ত। ছবিতে বাংলাদেশ থেকে অনন্ত ও বর্ষার সঙ্গে নবাগত সুমন ফারুকও অভিনয় করছেন। পাশাপাশি ইরান ও লেবাননের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীও রয়েছেন। এখানে অনন্তকে দেখা যাবে আন্তর্জাতিক সংস্থার পুলিশ অফিসারের চরিত্রে। নানারকম ভুল মতবাদে আসক্ত সন্ত্রাসগোষ্ঠিদের দমনে অভিযানে অংশ নিতে দেখা যাবে তাকে। ছবিটিতে ইসলাম ধর্মের সঠিক ও সুন্দর বার্তা তুলে ধরা হবে। ধুন্ধুমার অ্যাকশানে ভরপুর ছবিটিতে থাকবে পারস্য সভ্যতার আমেজ।

২০১৯ সাল থেকে শুটিং শুরু হয় ছবিটির। ইরানের হেরাতের দুর্গম পাহাড় ও মরুভূমি, আফগানিস্তান সীমান্তে শুটিং চলেছে ছবিটির। এছাড়াও ঐতিহাসিক স্থানের জন্য বিখ্যাত দেশটির আরও অনেক লোকেশনই দেখা যাবে এ ছবিতে। পাশাপাশি বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা ব্রিজ, ৩০০ ফিট, হেমায়েতপুরে শিল্প পার্কসহ বিভিন্ন লোকেশনে হয়েছে ছবিটির দৃশ্যায়ন।

নিউজ ট্যাগ: দিন: দ্য ডে

আরও খবর



জামালপুরে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৫৪ সেমি ওপরে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২১ জুন ২০২২ | ২৬৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

গত ২৪ ঘণ্টায় জামালপুরে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে জামালপুরের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন করে বেশকিছু এলাকার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় খাদ্যও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

আজ সকালে জামালপুরে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদ নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থেকে যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্ট ৫৪ সেন্টিমিটারের ওপর প্রবাহিত হচ্ছে। একদিনে যমুনার পানি ৯ সেন্টিমিটার বেড়েছে। জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ি ও বকশীগঞ্জে বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে ছয় উপজেলায় ৩৫টি ইউনিয়নে পানি প্রবেশ করায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে ।

এছাড়াও মাদারগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকায় একটি কাঁচা সড়ক পানির তোড়ে ধসে গিয়ে বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলায় পানি বন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ১২শ হেক্টর ফসলের মাঠ। প্রায় ৫০ টির মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডুবে গিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও ভাঙ্গনের কবলে পরে ২০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

জেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, বন্যা দুর্গতদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি উপজেলায় ৫০মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া আছে । দুর্যোগ মোকাবেলায় ১০৩টি আশ্রয় কেন্দ্র ও ৮০টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরই মধ্য ৪০টি পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে। বন্যা মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।


আরও খবর



শ্রমিক সংকটে মালয়েশিয়া, বাতিল হচ্ছে বিদেশি অর্ডার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৪ জুন ২০২২ | ৩৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পাম তেলের বাগানে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে মালয়েশিয়ায়। এর ফলে উৎপাদন কমে গেছে কারখানাগুলোতে। যার কারণে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অর্ডার ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি। মালয়েশিয়ায় বর্তমানে ১০ লাখের বেশি শ্রমিক সংকট রয়েছে। এতে তাদের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার চেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির কারণে বিদেশিকর্মী নিয়োগের বিধিনিষেধ ফেব্রুয়ারিতেই উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারি অনুমোদনের ধীরগতির কারণে প্রবাসীদের একটি বড় অংশ মালয়েশিয়ায় ফিরতে পারছে না।

বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী, কোম্পানি ও কূটনীতিকরা বলছেন, শ্রমিক সুরক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গেও আলোচনা দীর্ঘবিলম্বিত হচ্ছে। যে কারণে তাৎক্ষণিক শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ার অর্থনীতি রফতানি-নির্ভর। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে এটির গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। পামচাষ, কারখানা ও সেবাখাত সচল রাখতে লাখো বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল তারা। বিপজ্জনক, কঠিন ও নোংরা আখ্যা দিয়ে এসব কাজ থেকে দূরে থাকেন স্থানীয়রা। কারখানায় যোগ দিলেও তারা বেশি দিন স্থায়ী হন না।

প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ক্রেতাদের হারাচ্ছে শিল্পখাতের উৎপাদন। মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে এক-চতুর্থাংশ অবদান এই খাতের। দেশটির প্রস্তুতকারক ফেডারেশনের সভাপতি সোহ থিয়ান বলেন, বিক্রি বেড়েছে। নতুন আশাও দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ক্রয়াদেশ অনুসারে বিভিন্ন কোম্পানি উৎপাদন করতে পারছে না। তাদের কার্যক্রম বাধার মুখে পড়ছে।

৩৫০০টিরও বেশি কোম্পানির প্রতিনিধিত্বকারী ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার্সের প্রেসিডেন্ট সোহ থিয়ান লাই বলেন, বিক্রি বেড়েছে। নতুন আশাও দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ক্রয়াদেশ অনুসারে বিভিন্ন কোম্পানি উৎপাদন করতে পারছে না। তাদের কার্যক্রম বাধার মুখে পড়ছে।

বিশেষ করে পাম তেল কোম্পানিগুলো খাদের কিনারে পৌঁছে গেছে বলে ইউনাইটেড প্ল্যান্টেশনের প্রধান নির্বাহী পরিচালক কার্ল বেক-নিলসেনের ভাষ্য।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি ভয়ানক। বিষয়টা অনেকটা এরকম, আপনাকে ১১ জনের বিরুদ্ধে ফুটবল খেলতে হবে, কিন্তু আপনার দলে মাঠে নামার মত আছে কেবল সাতজন।

এ মুহূর্তে মালয়েশিয়ায় উৎপাদন, পাম প্ল্যান্টেশন এবং নির্মাণ খাতে অন্তত ১২ লাখ শ্রমিকের ঘাটতিতে রয়েছে। সরকারি তথ্যে দেখা যাচ্ছে, মহামারির বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় পরিস্থিতি যত স্বাভাবিক হচ্ছে, কর্মী সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।

বর্তমানে কারখানাগুলোতে দরকার অন্তত ৬ লাখ শ্রমিক। নির্মাণ শিল্পে সাড়ে ৫ লাখ, পাম তেল শিল্পে এক লাখ ২০ হাজার, চিপ উৎপাদন শিল্পে ১৫ হাজার কর্মী প্রয়োজন। বিশ্বব্যাপী চিপের ঘাটতি থাকার পরও মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলো যোগান বাড়াতে পারছে না। এমনকি মেডিকেল গ্লাভ তৈরির কারখানাগুলোও উৎপাদন বাড়াতে পারছে না, এ খাতে অন্তত ১২ হাজার শ্রমিক প্রয়োজন।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স এপ্রিলের ৫১.৬ পয়েন্ট থেকে মে মাসে ৫০.১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ২০২০ সালের আগাস্টের পর সেখানে কর্মী কমেছে সবচেয়ে বেশি, ফলে উৎপাদন বৃদ্ধির গতি থমকে গেছে।

মালয়েশিয়া সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওং সিউ হাই বলেছেন, চিপমেকাররা গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন, স্থানীয়রা শিল্পে কাজ করতে আগ্রহী নয় এবং অনেকেই যারা অর্ধ বছরেরও কম সময়ে ছুটিতে যোগ দেন।

পাম অয়েল শিল্প মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে ৫ শতাংশ অবদান রাখে। কিন্তু শ্রমিকের সংকটের কারণে সময়মত তুলতে না পারায় অনেক ফল এবার গাছেই পঁচেছে। তাতে এ বছর উৎপাদন ৩০ লাখ টন কমে যেতে পারে, তাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। শ্রমিক সংকট অব্যাহত থাকলে রাবার গ্লাভ শিল্প এ বছর ৭০ কোটি টাকার আয় হারাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


আরও খবর



প্লাস্টিকের টুকরিতে ৫ শতাধিক নারীর ভাগ্যবদল

প্রকাশিত:শুক্রবার ১০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১০ জুন ২০২২ | ৩৭০জন দেখেছেন

Image

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

পাহাড় থেকে আনা বাঁশ দিয়ে আগে লাই, খাচি, টুকরি সহ বিভিন্ন হস্তশিল্প তৈরী করতেন বিবি ফাতেমা, জেসমিন আক্তার মনি, আমেনা আক্তারসহ গ্রামীণ নারীরা। পাহাড়ে বাঁশের যোগান কমে যাওয়ায় ও অল্পদামে প্লাস্টিকের তৈরী পণ্য পাওয়ায় গ্রাহকের অভিরুচিও পরিবর্তন হয়েছে। বিভিন্ন কারখানার যন্ত্রাংশের বাস্ক, লোহার স্প্রিণ বেøড ও তুলার গাইডে ব্যবহৃত প্লাস্টিক দিয়ে মিরসরাইয়ের গ্রামীণ নারীরা তৈরী করছেন ছোট বড় টুকরী সহ হাতের কারুকাজের তৈরী প্লাস্টিকের পণ্য। দামে কম মানে ভালো এসব পণ্য বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন মিরসরাই উপজেলার ২নং হিঙ্গুলী ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী।

জানা গেছে, উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেদীনগর, উত্তর মেহেদীনগর ও স্টেশন গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল। আগে শিতল পাটি বুনা ও বাঁশ থেকে তৈরী বেত দিয়ে বিভিন্ন হস্তশিল্প তৈরী করে সংসার চালাতেন নারীরা। যা দিয়ে পরিবারের ভরণ পোষণে কিছুটা হলেও আর্থিক ভূমিকা রাখতে পারতেন তারা। এখন শিতল পাটির প্রধান কাঁচামাল পাটি বেত ও পাহাড়ে সামাজিক বনায়নের ফলে বাঁশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় আগের মতো বাঁশ পাওয়া যায় না। বিগত ৮-১০ বছর পূর্বে মেহেদী নগর গ্রামে প্লাস্টিকের বেত দিয়ে বিভিন্ন সাইজের টুকরি, হাতপাখা, ঢালা, লাই সহ বিভিন্ন পণ্য তৈরীর কাজ শুরু করেন কয়েকজন উদ্যোক্তা। প্রথমে কয়েকটি পরিবার ক্ষুদ্র আকারে প্লাস্টিকের বেত দিয়ে টুকরি তৈরীর কাজ শুরু করলেও এখন তা হিঙ্গুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে গেছে। গ্রামের মহিলার পারিবারিক কাজ শেষ করে অবসর সময়ে প্লাস্টিকের টুকরি তৈরীর কাজ করেন। পাইকাররা প্লাস্টিকের বেত সরবরাহ করেন; সেই বেত দিয়ে বিভিন্ন সাইজের টুকরি তৈরী করে আবার পাইকারদের কাছে দেন তারা। ছোট টুকরি ১৭ টাকা, মাঝারি টুকরি ২৫ টাকা, বড় টুকরি ৬০ টাকা মজুরিতে কাজ করেন তারা। প্রতিদিন ১৫-২০টি টুকরি তৈরী করতে পারেন একজন নারী। প্রতি সপ্তাহে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা আর মাসে প্রায় ১২ হাজার টাকা আয় করেন একজন নারী। পাইকাররা নারীদের হাতে তৈরী প্লাস্টিকের টুকরি ২-৩দিন পরপর সংগ্রহ করে বিভিন্ন মাছের আড়ৎ, সবজির পাইকারী বাজার সহ ঢাকা-চট্টগ্রামের বিভিন্ন বড় বাজারে নিয়ে গিয়ে তা বিক্রী করেন। তবে নারীদের কোন পুঁজি না থাকায় পাইকাররা তাদের অল্প মজুরি দিয়ে বেশী দামে টুকরি বাজারে বিক্রির করার অভিযোগ করেন কেউ কেউ। তাদের যদি সরাসরি সরকারি প্রণোদনা দেওয়া যায় তাহলে তারা লাভবান হবেন টুকরি বিক্রি করে।

উদ্যোক্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান, মেহেদীনগর গ্রাম থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকার টুকরি দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রির জন্য নেওয়া হয়। প্লাস্টিকের বেতের তৈরী টুকরিগুলো দিয়ে মাছ, সবজি কাঁচামাল সহ অন্যান্য দ্রব্যাদি একস্থান থেকে অন্যস্থানে সহজে প্রেরণ করা হয়। টুকরিগুলো অনেক টেকসই এবং দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় অনেকদিন ব্যবহার করা যায়।

স্থানীয় জেসমিন আক্তার মনি বলেন, তিনি বিগত তিন বছর যাবৎ পাইকার থেকে প্লাস্টিকের বেত নিয়ে তা দিয়ে বিভিন্ন সাইজের টুকরি বানিয়ে মজুরি নেন। প্রতিদিন ১৫-২০টি বড় টুকরি তৈরী করেন। দৈনিক মজুরী পান গড়ে ৫শ থেকে ৬শ টাকা। যা দিয়ে সংসারের খরচ চালাতে আর্থিকভাবে তিনিও স্বামীকে সহায়তা করতে পারেন।

বিবি ফাতেমা বলেন, স্বামীও ৩ ছেলে নিয়ে তার সংসার। সাংসারিক কাজ শেষে প্রায় সময় অলস সময় কাটাতে হয়। তাই গ্রামের নারীদের থেকে প্লাস্টিকের টুকরি বানানো শিখে তিনিও বিগত ২ বছর যাবৎ টুকরি বানানোর কাজ করছেন। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় দামের মধ্যে যা দিয়ে কিছুটা হলেও সংসারের খরচ মেটাতে স্বামীকে সহায়তা করতে পারেন তিনি।

সানজিদা আক্তার উর্মি বলেন, বাবা-মা ও তিন বোন নিয়ে তাদের সংসার। বাবা স্থানীয় একটি হোটেলে কাজ করেন। বোনদের বিবাহ দেওয়া ও বাড়িতে ঘর তৈরী করার সময় এনজিও ও স্থানীয়দের থেকে সুদের উপর টাকা নিয়ে অনেক টাকা ঋণ করেন তার বাবা। পরবর্তীতে সে টাকা শোধ করার জন্য প্লাস্টিকের বেত দিয়ে তারা বিভিন্ন টুকরি বানানোর কাজ শুরু করেন। স্থানীয় পাইকারী মো. জসিম উদ্দিন থেকে প্লাস্টিকের বেত নিয়ে মা আর দুই বোন মিলে প্রতিদিন ২০টি টুকরি তৈরী করেন। যার মজুরী হিসেবে দৈনিক ৬শ টাকা পান। অভাব অনটনের সংসারে ওই অর্থ দিয়ে ঋণ শোধ করার পাশাপাশি স্বচ্ছলতার সহিত চলছে এখন তাদের সংসার।

উদ্যোক্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, মেহেদীনগর গ্রামের নারীরা আগে পাটি বেত ও বাঁশ দিয়ে তৈরী বিভিন্ন হস্তশিল্প তৈরী করতেন। কালের বিবর্তনে পাটি বেত আর বাঁশের তৈরী পণ্যের জায়গা দখল করেছে প্লাস্টিকের বেতের তৈরী পণ্য। ঢাকার গাজীপুর, গাউছিয়া, কাঁচপুর এলাকার বিশ^রোড, চট্টগ্রামের ফুড কলোনী, লেবার কলোনী সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকারীতে প্লাস্টিকের বেত প্রতি কেজি ৩০-৫০ টাকায় কিনে নিয়ে আসেন। যা প্যাক্টরির পণ্য, তুলার গাইড, লোহার স্প্রিণ বেল্ড হিসেবে লাগানো থাকলেও পরবর্তীতে ওই বেত বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন বাজার থেকে তা খুঁজে খুঁজে কিনে নিয়ে আসেন পাইকাররা। পরবর্তীতে তা দিয়ে টুকরি সহ বিভিন্ন পণ্য তৈরীর জন্য গ্রামের নারীদের কাছে সরবরাহ করেন। তার অধীনে ২০ জন নারী কাজ করেন বলে জানান। আকার ভেদে প্রতিটি টুকরি ১৫০ টাকা থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত বাজারে বিক্রি করা হয়। মেহেদী নগর গ্রামে ৫ জন পাইকারীর অধীনে প্রায় ৫ শতাধিক নারী প্লাস্টিকের বেত দিয়ে টুকরি তৈরীর কাজ করেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, প্লাস্টিকের বেত দিয়ে তৈরী হস্তশিল্পটির জন্য আমরা ব্যাংক থেকে কোন ঋণ পায় না। স্থানীয় এনজিও থেকে বেশী সুদে ঋণ নিতে হয়। তাও ২০ হাজার টাকার বেশী ঋণ দেয় না। প্রতি সপ্তাহে এনজিওগুলো ঋণের টাকা সংগ্রহ করার ফলে ব্যবসায় তেমন লাভ হয় না। মাস শেষে ঋণের টাকা সংগ্রহ করলে আমাদের জন্য উপকার হতো। ব্যাংক থেকে বড় আকারের ঋণ নিতে পারলে বেশী পরিমাণে প্লাস্টিকের বেত কিনে ব্যবসার পরিধি আরো বাড়ানো সম্ভব বলে জানান তিনি।

স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম রানা বলেন, দক্ষিণ মেহেদীনগর, উত্তর মেহেদীনগর, স্টেশন রোডে তার অধীনে প্রায় দেড় শতাধিক নারী প্লাস্টিকের বেত দিয়ে টুকরি তৈরীর কাজ করেন। যারা প্রতিটি টুকরি তৈরীতে গড়ে ১৭ টাকা থেকে ৬০টাকা পর্যন্ত মজুরী পান। আর প্রতিটি টুকরি তিনি আকার ভেদে ১শ টাকা থেকে ৫৫০টাকায় বিক্রি করেন বিভিন্ন পাইকারী দোকানে। টুকরি তৈরী করে ইউনিয়নের প্রায় ৫শতাধিক মহিলা স্বাবলম্বী হয়েছেন বলে দাবী করেন তিনি। সরকারি পৃষ্টপোষকতা ও ব্যাংক থেকে অল্প সুদে ঋণ পেলে ব্যবসার পরিধি আরো বাড়ানো সম্ভব বলে জানান তিনি।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মেহের আফরোজ বলেন, আমাদের মা-বোনেরা সংগ্রামী জীবন পালন করেন। প্লাস্টিকের বেত দিয়ে টুকরি তৈরী করে তারা যেভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন সেটি সত্যি প্রশংসনীয়। আমি মেহেদীনগর গ্রাম পরিদর্শন করবো এবং সহজ শর্তে তাদের সরকারী ঋণ ও ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দিতে সহায়তা করবো।

হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোনা মিয়া বলেন, ইউনিয়নের প্রায় ৫ শতাধিক মহিলা প্লাস্টিকের বেত দিয়ে টুকরি তৈরী করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। গ্রামের বেশীর ভাগ মহিলা বিভিন্ন এনজিও থেকে বেশী সুদে ঋণ নিয়ে জর্জরিত। তফশীলি ব্যাংক ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থা যদি তাদের সহজ শর্তে ঋণ এবং আর্থিক প্রণোদনা দেয় তাহলে টুকরি তৈরীর পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিনহাজুর রহমান বলেন, সরকারি কয়েকটি দপ্তর থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে। আমি মেহেদীনগর গ্রামের নারীদের টুকরি তৈরীর বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে সরকারীভাবে আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করবো।

নিউজ ট্যাগ: হস্তশিল্প

আরও খবর



বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ দ্রুত বাড়বে : গবেষণা সংস্থা

প্রকাশিত:সোমবার ১৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৩ জুন ২০২২ | ৩৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সেনা অভিযানের পর থেকে নড়েচড়ে বসেছে ইউরোপ। নতুন করে সুইডেন ও ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। সবমিলিয়ে দেখা দিয়েছে নিরাপত্তার শঙ্কা। এর মাঝে কয়েকবার রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা পরমাণু যুদ্ধের কথাও তুলেছে জোরেসোরে।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ দ্রুতই বাড়বে বলে মনে করছে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট (এসআইপিআরআই)। সংস্থাটির দাবি, বর্তমানে চলমান বৈশ্বিক সঙ্কটের কারণেই দ্রুত বাড়বে পরমাণু অস্ত্রের পরিমাণ।

 গেল বছর বিশ্বে ১২ হাজার ৭০৫টি পারমাণবিক ওয়ার হেড ছিল। সংস্থাটির ধারণা, এ বছর স্নায়ুযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বে বাড়বে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা। এসআইপিআরআই বলেছে, রাশিয়া প্রকাশ্যেই ইউক্রেনে পরমাণু হামলার সম্ভাব্যতার কথা হুমকি দিয়েছে।


আরও খবর