আজঃ মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২
শিরোনাম

করোনা: মৃত্যু ১, শনাক্ত ১১৩৫

প্রকাশিত:বুধবার ২২ জুন 20২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২২ জুন 20২২ | ৩০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মোট মারা যাওয়ার সংখ্যা বেড়ে ২৯ হাজার ১৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে নতুন করে এক হাজার ১৩৫ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৫৯ হাজার ২০৯ জনে। শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ।

বুধবার (২২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মারা যাওয়া ব্যক্তি সিলেট বিভাগের।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১২২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৬ হাজার ১০৫ জন।

২৪ ঘণ্টায় ৮ হাজার ৫৫২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ৮ হাজার ৫৩৬টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট দুদিন সর্বাধিক ২৬৪ জন করে মারা যান।

নিউজ ট্যাগ: করোনাভাইরাস

আরও খবর



ছোট বোনকে সাথে নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ৩১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ৩১ মে ২০২২ | ৩৮০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নিজ বাড়িতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দাদি শেখ সাহেরা খাতুনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি এ সফর করছেন। আজ মঙ্গলবার দাদির ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া-মোনাজাতসহ বেশকিছু কর্মসূচিতে ছোট বোন শেখ রেহানা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পৌঁছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাত করেন।

জোহর নামাজের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স মসজিদে অনুষ্ঠিত মিলাদ মাহফিলে যোগ দেবেন। পরে বিকেল ৪টায় ঢাকার উদ্দেশে টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে, সরকারপ্রধানের আগমন উপলক্ষে সব প্রস্তুতি শেষ করার পাশাপাশি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা।


আরও খবর



করোনার পর প্রথম বিদেশি হজযাত্রীদের গ্রহণ করলো সৌদি

প্রকাশিত:শনিবার ০৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০৪ জুন ২০২২ | ৪২০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

করোনাভাইরাস মহামারীর পর সৌদি আরব শনিবার (৪ জুন) হজ যাত্রীদের প্রথম ব্যাচকে স্বাগত জানিয়েছে। মহামারীর কারণে কর্তৃপক্ষ বার্ষিক এই ধর্মাচার অনুষ্ঠান কঠোরভাবে সীমিত করতে বাধ্য হয়েছিল। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ইন্দোনেশিয়া থেকে দলটি মদিনা শহরে অবতরণ করেছে। আগামী মাসে হজের প্রস্তুতির জন্য আসন্ন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দক্ষিণের পবিত্র শহর মক্কার উদ্দেশে তারা যাত্রা করবে।

সৌদি হজ্ব মন্ত্রণালয়ের মোহাম্মদ আল-বিজাভি রাষ্ট্র পরিচালিত আল-এখবারিয়া চ্যানেলকে বলেন, 'আজ আমরা ইন্দোনেশিয়া থেকে এই বছরের হজ্বযাত্রীদের প্রথম দলটিকে পেয়েছি, এরপর থেকে মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে ফ্লাইট আসতে থাকবে।'

তিনি সৌদি আরবকে তাদের থাকার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত” হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, 'আজ আমরা মহামারীজনিত কারণে দুই বছরের বাধার পরে, সৌদি’র বাহির থেকে আল্লাহর অতিথিদের পেয়ে খুশি।' 

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে হজ একটি, সামর্থ্যবান মুসলমানদের জীবনে অন্তত একবার হজ করা আবশ্যক। এই হজ বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশগুলির মধ্যে অণ্যতম।

২০১৯ সালে প্রায় ২.৫ মিলিয়ন মুসলমান হজব্রত পালন করেছিলেন। কিন্তু ২০২০ সালে মহামারী শুরুর পরে, সৌদি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছিল যে, তারা শুধুমাত্র ১,০০০ হজযাত্রীকে হজে অংশ নিতে দেবে।

পরের বছর, তারা ওই সংখ্যা বাড়িয়ে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত সৌদি নাগরিক এবং বাসিন্দাসহ মোট ৬০ হাজার জনকে সম্পূর্ণ টিকা দিয়ে হজে অংশ গ্রহণের অনুমতি দেয়। সে বছর বিদেশী হজযাত্রীদের বাদ দিলে, বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা যারা, স্বভাবতই  হজে অংশ নেওয়ার নিয়তে সারা বছরে হজের অর্থ সঞ্চয় করেছেন, তাদের মধ্যে গভীর হতাশা সৃষ্টি হয়।

এরপর গত এপ্রিলে, সৌদি আরব দেশের অভ্যন্তর এবং বাহির থেকে ১০ লাখ মুসলমানকে চলতি বছরের জুলাইয়ে অনুষ্ঠেয় হজে অংশ গ্রহণের অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

মহামারীর আগে, মুসলিম হজযাত্রীরাই সৌদি আরবের প্রধান রাজস্ব উপার্জনকারী ছিল, যাদের থেকে বছওে তারা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার আয় করতো।

সৌদি হজ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বছরের হজ যাত্রা ৬৫ বছরের কম বয়সী টিকাপ্রাপ্ত মুসলমানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। সৌদি আরবের বাইরে থেকে যারা আসছেন, তাদের অবশ্যই হজ ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। তাদের ভ্রমণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নেওয়া পরীক্ষা থেকে কোভিড -১৯ নেতিবাচক ফলাফল জমা দিতে হবে। 


আরও খবর



আমার পশুপাখির প্রতি প্রচণ্ড মায়া: মাহি

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:সোমবার ২০ জুন ২০22 | ২৪০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পুরো দেশের মানুষকে নাড়া দিয়েছে। সেখানকার লাখ লাখ মানুষের অসহায় অবস্থা দেখে অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। শোবিজের বেশ কয়েকজন তারকাও সহযোগিতা করেছেন। তবে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে নজর দিতে চাইছেন। তার মতে, মানুষ কোনো না কোনোভাবে বন্যা পরিস্থিতি থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে পারবে। কিন্তু অবলা পশুপাখি তো কিছুই বুঝতে পারবে না। মানুষের সহায়তা ছাড়া তো তারা বাঁচতে পারবে না।

এই দুশ্চিন্তায় ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছেন না মাহি। ফেসবুক লাইভে এসে মলিন চাহনিতে সে কথা জানালেন তিনি। মাহি বলেন, মানুষ কোনো না কোনোভাবে বাঁচার চেষ্টা করবে। কিন্তু পশুপাখিগুলো অন্যের সহায়তা ছাড়া কীভাবে নিরাপদ হবে। এই নিয়ে টেনশনে রাতে আমার ঠিকমতো ঘুম হচ্ছে না। আমার সামর্থ্য বা উপায় থাকলে, যত গরুছাগল, কুকুরসহ অন্য পশুপাখি রয়েছে, সব নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে আসতাম। তাদের সেভ জোন দিতে পারলে মনে শান্তি লাগত। আমার পশুপাখির প্রতি প্রচণ্ড মায়া। তাদের করুণ দশা দেখে খারাপ লাগছে। ভিডিওতে দেখলাম, অনেকে কুকুরকে সেভ করছে। এটা দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে।

বন্যার্ত মানুষকে সহযোগিতাও করতে চান মাহি। তবে এতো বাজে পরিস্থিতিতে কীভাবে, কোন জায়গায় সহায়তা দেবেন, তা বুঝতে উঠতে পারছেন না নায়িকা। তিনি বলেন, সিলেটে বন্যার যে ভয়াবহ অবস্থা, আমাদের সবার যার যার জায়গা থেকে কিছু করা উচিত। আমরা সবাই সিলেট পছন্দ করি। অনেকে সিলেটের সৌন্দর্য দেখতে ঘুরতে গিয়েছেন। আমাদের সবার উচিত তাদের এই দুর্যোগে কিছু করা। শুরু থেকেই আমরা চিন্তা করছিলাম, কী করা যায়। এত বাজে অবস্থা! আমি বুঝে উঠতে পারছি না, এই সময় কীভাবে তাদের পাশে থাকা যায়। এই ব্যাপারে আমাদের সাজেস্ট করুন প্লিজ। আমরা তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে চাই।

লাইভে মাহির সঙ্গে তার স্বামী রাকিব সরকারও ছিলেন। তিনিও স্ত্রীর সুরে কথা বলেছেন। রাকিবের ভাষ্য, বন্যাকবলিত এলাকায় কাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত, কারা অবহেলিত, কাদের প্রায়োরিটি দেওয়া উচিত, আমাদের জানান। আমরা একটি টিম তৈরির কাজ করছি। আপনারা পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করুন।

নিউজ ট্যাগ: মাহিয়া মাহি

আরও খবর



শাহজালাল ও শাহপরানের মাজার জিয়ারত শেষে ঢাকার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২১ জুন ২০২২ | ২৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সিলেটে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসে শাহজালাল (র.) ও শাহপরানের (র.) মাজার জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২১ জুন) সিলেট সার্কিট হাউসে মতবিনিময় সভা শেষে মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন প্রধানমন্ত্রী।

মাজার জিয়ারত শেষে তাকে বহনকারী গাড়ি ওসমানী বিমানবন্দরে উদ্দেশে রওয়ানা হয়। সেখান থেকে তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।

এর আগে সকাল ৮টায় নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও সিলেটের বন্যা কবলিত অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি সিলেট সার্কিট হাউসে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ দিন দুপুর ১টা ২৯ মিনিটে হযরত শাহজালালের (র.) মাজার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় তিনি জোহরের নামাজ ও মাজার জিয়ারত করেন। দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মাজার থেকে বের হয়ে যান।

এর পর শাহপরানের (র.) মাজার জিয়ারত শেষে বেলা ২টা ৪০ মিনিটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টার ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেয়।

সিলেট সার্কিট হাউসে উপস্থিত নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে এই বন্যা-প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বাঁচার মানসিকতা থাকতে হবে। সে কারণে আমাদের অবকাঠামোগত যত উন্নয়ন হবে সেগুলো মাথায় রেখে করতে হবে।

তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চলে মাটি উঁচু করে আর কোনো রাস্তা করা হবে না, এলিভেটেড রাস্তা হবে। এলিভেটেড রাস্তা হলে সেটা সহজে নষ্ট হয় না, বন্যার মতো দুর্যোগে যাতায়াতেরও সুবিধা হয়।


আরও খবর



চাল আমদানির পথেই সরকার

প্রকাশিত:সোমবার ১৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৩ জুন ২০২২ | ৩৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশব্যাপী অভিযান চালালেও চালের বাজারে সুখবর পাচ্ছেন না ক্রেতারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চালের বাজার ঠিক রাখতে খাদ্য মন্ত্রণালয় সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নেয়নি। হঠাৎ করে অভিযান চালালেও প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না। অভিযানের কারণে বাজারে সাময়িক প্রভাব পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে সুফল দেবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে চাল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করলে চালের বাজার প্রত্যাশিত অবস্থানে যাবে বলে মনে করছেন মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ ও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষকরা। তারা বলছেন, করপোরেট ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা পরিকল্পিতভাবে চালের বাজার উত্তপ্ত করেছে। সেটা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

খাদ্য সচিব ড. নাজমানারা খানুম বলেন, চালের বাজার যে পর্যায়ে চলে গেছে সেখান থেকে আমাদের (অর্থাৎ সরকার) প্রত্যাশিত পর্যায়ে আনতে বেসরকারিভাবে চাল আমদানি প্রয়োজন বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। চাল আমদানির বিষয়টা আমরা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এককভাবে নিতে পারি না। প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক কৃষক তাদের ধান বিক্রি করে ফেলেছেন। এখন বড় কৃষকদের মধ্যে যাদের হাতে ধান আছে তারাও বিক্রি করে দিচ্ছেন। সরকার চাল আমদানি করার প্রক্রিয়া শুরু করতে করতে কৃষকের হাতে কোনো ধান থাকবে না। তাই তখন চাল আমদানিতে কোনো সমস্যা আছে বলে আমার মনে হয় না।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, যেভাবে হুট করে অভিযানে নামা হয়েছে তাতে ভালো ফল আসার সম্ভাবনা কম। একাধিক কর্মকর্তা  বলেন, দেশের মিল মালিক, করপোরেট ব্যবসায়ী, মধ্যম মানের ব্যবসায়ী এবং কৃষকদের কার কাছে কত শতাংশ ধান-চাল মজুত আছে তার সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের হাতে নেই। অন্যদিকে করপোরেট ব্যবসায়ীরা চাল ব্যবসায় আসার পর থেকে অনেক মিল মালিক তাদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে আলোচনা বা নীতিমালা করার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এখন অভিযান চালানোর মধ্যেই তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে ভোক্তা অধিদপ্তর। জেলা পর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা  বলেছেন, অভিযান আর আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সাময়িক ফল পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদি ফল পেতে গেলে চাল আমদানির বিকল্প নেই। তাদের মতে, অনেক করপোরেট ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা প্রতিযোগিতা করে ধান কিনেছেন। তারা সাময়িক চাপে অল্প দাম কমালেও কয়েকদিন পরই আবার আগের রূপে ফিরে যাবেন।

তাই এখন আন্তর্জাতিক বাজার ইতিবাচক আছে, কিছু আমদানির অনুমতি দিলেই চালের বাজার শান্ত হয়ে যেতে বাধ্য। উদাহরণ দিয়ে একজন কর্মকর্তা বলেন, সাধারণ কৃষকদের মধ্যে যারা ধান বিক্রি করার তারা করে ফেলেছেন। তাই এখন চাল আমদানি করলেও কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। সংশ্লিষ্টরা আরও বলেছেন, ধানের আগামী মৌসুমের উৎপাদন প্রায় ৬ মাস সময় লাগবে। এর মাঝে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানির পথেই হাঁটতে হবে সরকারকে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবদুল লতিফ মণ্ডল  বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সরকারকে চাল আমদানি করতে হবে, এটা ঠিক। কিন্তু বোরোর ভরা মৌসুমে এমন সিদ্ধান্তের দিকে যাওয়া খুবই দুঃখজনক বিষয়। মিল মালিকরা ধান কিনে প্রয়োজনীয় চাল উৎপাদন করছে না। যতটুকু চাল উৎপাদন হচ্ছে তাও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিচ্ছে। ফলে বাজারে নতুন চাল না আসায় চালের দাম কমছে না। মিল মালিকরা যে বাজারে চাল ছাড়ছে না সেটা মন্ত্রী নিজেই বলেছেন। এই বিষয়টা মন্ত্রণালয় বাজার তদারকির মাধ্যমে কেন আগে বুঝতে পারল না। চালের দাম বৃদ্ধির পর সেটা বুঝলে তো হবে না।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার  বলেন, চালের মজুত পরিস্থিতি জানতে সব পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের ৬ জুন অধিদপ্তরে ডাকা হয়েছে। সেখানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মজুত নিয়ে কারসাজি করা হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেখানে করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বড় মিল মালিক তারা মুখোমুখি বসে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবে। অধিদপ্তরের সংগৃহীত তথ্যের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করা তথ্যে অসঙ্গতি পেলে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেবে।

ঢাকার বাদামতলী ও বাবুবাজার চাল আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. নিজামউদ্দিন ৪০ বছরের বেশি সময় চালের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিনি  বলেন, বোরোর এমন সময় চালের দামের চিত্র খুবই বিস্ময়কর। এটা কোনোভাবেই মানা যায় না। অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, ব্যবসায় এক টাকা-পঞ্চাশ পয়সা ব্যবসা হলেই আমরা অনেক খুশি হয়ে যেতাম। কিন্তু এখন বড় বড় ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা শুধু চালটা প্যাকেটে ভরেই কয়েক টাকা দাম বাড়িয়ে দেন। এমন পরিস্থিতির সঙ্গে আমরা পরিচিত নই। এ অবস্থাটা সরকারকেই সামাল দিতে হবে।

রাজধানীর কাওরান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির কর্ণধার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অভিযান চললেও খুচরা বাজারে চালের দামে এখনো প্রভাব পড়েনি। তিনি বলেন, মোটা চাল আর চিকন চাল যাই বলেন, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এএইচএম সফিকুজ্জামানের কাছে দেশে ধান-চালের বর্তমান মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কোনো পরিসংখ্যান জানাতে পারেননি। তিনি  বলেন, এটা সাধারণত খাদ্য মন্ত্রণালয় করে থাকে। আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ডেকেছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করব।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ফুড প্ল্যানিং অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিট (এফপিএমইউ) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর পৌনে ৪ কোটি টন চালের চাহিদা আছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩ কোটি ৭৬ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশে চাল উৎপাদন ও চাহিদার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। উল্লিখিত পরিসংখ্যান ধরে হিসাব করা হলেও প্রতিবছরই কিছু না কিছু চাল আমদানি হয়। এই বিষয় নিয়ে খোদ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মতপার্থক্য আছে।  বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে চালের চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত আছে। অভিযোগ উঠেছে, মিল মালিক ও করপোরেট ব্যবসায়ীরা ধান মজুত রাখার কারণে বাজারে চালের দাম বেড়ে গেছে। মূলত ধান নিয়ন্ত্রণকারী বড় বড় মিলার সিন্ডিকেটরা তাদের হাতে থাকা আগের চাল বেশি দামে বিক্রি করার জন্য এই কারসাজির আশ্রয় নিয়েছে। যে কারণে বোরোর ভরা মৌসুমে চালের দরে ঊর্ধ্বগতি। এ অবস্থায় সরকার চাল আমদানির কথা চিন্তা করছে। খাদ্যমন্ত্রী সম্প্রতি বোরো সংগ্রহের তদারকিসংক্রান্ত মাঠপর্যায়ের একাধিক বৈঠকেও প্রয়োজনে চাল আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন।

নিউজ ট্যাগ: চালের বাজার

আরও খবর