আজঃ বুধবার ২৪ জুলাই 20২৪
শিরোনাম

কনসার্টের টাকায় ৩ হাজার শিশুর অস্ত্রোপচার করিয়েছেন পলক মুচ্ছাল

প্রকাশিত:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিনোদন ডেস্ক

Image

বাংলা ও হিন্দি ছাড়াও তেলেগু, কন্নড়, তামিল, গুজরাটি, মারাঠি, পাঞ্জাবি, ভোজপুরি ও উর্দুসহ বিভিন্ন ভাষায় গান গেয়ে দর্শকহৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন ভারতীয় সংগীতশিল্পী পলক মুচ্ছাল। বিভিন্ন প্রোগ্রামে তার উপস্থিতির কথা ছড়িয়ে পড়তেই ভিড় বাড়ে দর্শক-শ্রোতাদের। আর কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত পারিশ্রমিকের অর্থ কোথায় খরচ করেন, এ প্রশ্ন করলে সবাই হয়তো বলবেন ব্যক্তি কিংবা পারিবারিক খাতে খরচ করেন। কিন্তু অবাক করার বিষয় হচ্ছে, সমাজসেবামূলক কাজে সেই অর্থ ব্যয় করেন এ গায়িকা।

সেভিং লিটল হার্টস নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রয়েছে গায়িকা পলক মুচ্ছালের। বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত অর্থ সেই সংস্থায় দেন তিনি। সংস্থা থেকে হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, মঙ্গলবার (১১ জুন) জীবনের বিশেষ একটি দিন ছিল গায়িকা পলকের। বিশেষ দিনটিতে সোশ্যাল মিডিয়া ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে আট বছর বয়সী অলক সাহুকে নিয়ে একটি পোস্ট দেন তিনি। জানান, শিশুটি হৃদরোগে আক্রান্ত। তার সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। আর অস্ত্রোপচারের সময় বরাবরের মতো অপারেশন থিয়েটারে হাজির ছিলেন পলক মুচ্ছাল।

এ গায়িকা জানান, শিশু অলকের হৃদরোগের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি মাইলফলক অর্জন হলো। এ নিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত মোট তিন হাজার শিশুর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেছেন তিনি।

পলক মুচ্ছাল বলেন, মিশনটি যখন শুরু করি ওই সময় উদ্যোগটা খুবই ছোট ছিল। তবে এখন সেটি আমার জীবনের বড় মিশন হয়ে গেছে। এখন অস্ত্রোপচারের জন্য ৪১৩ জন শিশু অপেক্ষায় আছেন। যাদের পরিবার চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারে না, তাদের জন্যই আমার এই উদ্যোগ। আমি এটাকে আমার দায়িত্ব বলে মনে করি। সত্যিই আমি খুশি যে, ঈশ্বর এ কাজের জন্য মাধ্যম হিসেবে আমাকে বেছে নিয়েছেন।

একাধিক ভাষায় গান করা এ গায়িকা জানান, বিভিন্ন কনসার্টে পারফর্ম করে যে অর্থ পান, তা নিজের জন্য খরচ করেন না তিনি। প্রাপ্ত অর্থের প্রায় পুরোটাই এসব শিশুদের চিকিৎসায় ব্যয় করা হয়। পলক মুচ্ছাল বলেন, আমার প্রতিটি কনসার্ট হৃদরোগ আক্রান্ত শিশুদের অস্ত্রোপচারের জন্য। আমার কাছে যখন প্লে-ব্যাকের কোনো কাজ ছিল না, ওই সময়ও আমি তিন ঘণ্টা গান করেছি। যা শুধুই এসব শিশুদের অর্থ সংগ্রহের জন্য।

এ গায়িকা বলেন, আমার গানগুলো যত জনপ্রিয় হতে থাকে, ততটাই পারিশ্রমিক বাড়তে থাকে। এখন প্রতিটি কনসার্ট থেকে যে অর্থ আসে, তা দিয়ে ১৩-১৪টি শিশুর অস্ত্রোপচার সম্ভব। আর এই গানকে আমি সমাজের পরিবর্তনের মাধ্যম হিসেবে দেখে আসছি সবসময়।


আরও খবর



৬ষ্ঠ দিনের মত কর্মবিরতি পালন করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মচারীরা

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বাগেরহাট প্রতিনিধি

Image

সারা দেশের মত বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা কর্মচারীরা ৬ষ্ঠ দিনের মত কর্মবিরতি পালন করছে। শনিবার (৬ জুলাই) তারা পোলঘাট এলাকার বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন।

এ সময় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম শহিদুল ইসলাম, এজিএম সিফাতুল্লাহ, পারভেজ আলম, মোঃ রিপন বিশ্বাস, আরিফুর রহমান, লাইন টেকনিশয়ান রাজীব রায়, রাজু আহম্মেদ, শারমিন কেয়া, প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বৈষম্য দূরীকরণ ও অভিন্ন সার্ভিস কোড সময়ের দাবী। গতকাল শুক্রবার বিদ্যুৎ ভবনে তাদের সাথে বসে বিষয়টি সমাধান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই বৈঠকে তাদের কথা ঠিকমত শোনা হয়নি। তাই তারা আন্দোলন অব্যহত রেখেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান আন্দোলনরতরা।

বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রধান কার্যালয়সহ ১০টি জোনাল ও একটি সাব-জোনাল অফিসের কয়েকশ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মবিরতিতে যোগ দেন।

উল্লেখ, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে একীভূত করে অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন ও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের দুই দফা দাবিতে গত ১ জুলাই থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই দাবিতে গত মে মাসেও তারা কর্মবিরতিতে যান।


আরও খবর



কোটা পুনর্বহাল করে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাসহ কোটা পদ্ধতি বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। রোববার (১৪ জুলাই) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন।

রায়ে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া রায় ও আদেশ, ২০১৩ সালের লিভ টু আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের তা বহাল ও সংশোধিত আদেশ এবং ২০১১ সালের ১৬ জানুয়ারির অফিস আদেশের (মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনির কোটা) আলোকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/নাতি-নাতনিদের জন্য কোটা পুনর্বহাল করতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হলো। একইসঙ্গে জেলা, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, উপজাতি-ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য কোটাসহ, যদি অন্যান্য থাকে, কোটা বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হলো। এ বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব, আদেশ পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে পরিপত্র জারি করতে নির্দেশ দেওয়া হলো।

রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, প্রয়োজনে উল্লিখিত শ্রেণির ক্ষেত্রে কোটা পরিবর্তন ও হার কমানো বা বাড়ানোর বিষয়ে এ রায় বিবাদীদের জন্য কোনো বাধা তৈরি করবে না। যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় কোটা পূরণ না হলে সাধারণ মেধাতালিকা থেকে শূন্য পদ পূরণ করায় সরকারের স্বাধীনতা রয়েছে।

রায় প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মো. সাইফুজ্জামান বলেন, বুধবার (১০ জুলাই) আপিল বিভাগ কোটার বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আদেশ দিয়েছেন। আগামী ৭ আগস্ট শুনানির দিন রেখেছেন আপিল বিভাগ। ফলে আপাতত হাইকোর্টের রায় কার্যকর হবে না।

গত ৫ জুন সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এরপর ৯ জুন হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওইদিন এ আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেন চেম্বার আদালত।

সেদিন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেছিলেন, কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকবে নাকি বাতিল হবে এ বিষয়ে আপিল বিভাগই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে বুধবার (১০ জুলাই) প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের এ রায়ের ওপর চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা জারি করেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে এসময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করতে বলেছেন আদালত। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ৭ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।

এ আদেশের ফলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।


আরও খবর
কোটা নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি রোববার

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




মেধাবী শিক্ষার্থী হাবিবার স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিয়েছে আনসার বাহিনী

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
শাওন মিয়া (জাজিরা) শরীয়তপুর

Image

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় মানবেতর জীবন সংগ্রাম করছিলেন মা তাসলিমা বেগম। অভাবের সংসারে কোনোমতে মেয়ে হাবিবাকে এসএসসি পরীক্ষা দিতে দিলেও মায়ের ভাবনা ছিল পরীক্ষার পরে মেয়ের কলেজের ভর্তি নিয়ে। মায়ের মানবেতর জীবন-সংগ্রামের কথা জানতে পেরে হাবিবার কলেজে স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিয়েছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী শরীয়তপুরের জেলা কমাড্যান্ট মো. মইনুল ইসলাম। কথা অনুযায়ী হাবিবার কলেজে ভর্তি নিশ্চিত করে বইখাতাসহ চেয়ার-টেবিল ক্রয় করে দিয়েছেন তিনি। তাই বিয়ের পিঁড়িতে না বসে কলেজে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হলো হাবিবার।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নসাশন ইউনিয়নের সরদার কান্দি গ্রামে হাবিবাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় তার বইপত্রসহ অন্যান্য সামগ্রী এবং আনসার বাহিনী থেকে একটি ঘর করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার পালন করা হয় মা দিবস। গত মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবসের দিন হাবিবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বের হয়। ওইদিন মা দিবস উপলক্ষ্যে হাবিবার মা তাসলিমা বেগম বলেছিলেন, মেয়ে আজ যে সুসংবাদ দিয়েছে, তাতে আমি কষ্ট ভুলে গেছি। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ওই দিনই হাবিবার বাড়িতে গিয়ে তার পড়াশোনার খরচের দায়িত্ব নেন মো. মইনুল ইসলাম।

জানা যায়, চার সন্তান রেখে হাবিবার বাবা দুলাল সরদার মারা যান। এরপর হাবিবার মা তাসলিমা বেগম চার সন্তান নিয়ে শুরু করেন শুরু করেন জীবন সংগ্রাম। বাড়ির আঙিনায় শাক-সবজি চাষ, সেলাই মেশিনে জামা তৈরীসহ বিভিন্ন কাজ করে ছেলে-মেয়ের মুখের আহার সংগ্রহ করতে হতো তাসলিমাকে। অভাবের সংসারে হাবিবার কলেজে পড়াশোনার স্বপ্ন থাকলেও তার মা ও অন্যান্য ভাইবোনদের ইচ্ছে ছিল এসএসসি পরীক্ষার পরে হাবিবাকে বিয়ে দিবেন। গত ১২ মে মা দিবসের দিনই হাবিবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলে হাবিবা কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়। কিন্তু মেয়ের কৃতিত্বে মেয়েকে মিষ্টিমুখ করাবেন তো দূরের কথা, ঘরে ভালো-মন্দ কিছু রান্না করার মতো সম্বলও ছিল না তাসলিমা বেগমের। তবুও মা দিবস উপলক্ষ্যে নিজের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে তাসমিলা বেগম জানান, মেয়ে আজ যে সুসংবাদ দিয়েছে, তাতে আমি কষ্ট ভুলে গেছি। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর শরীয়তপুর জেলা কমাড্যান্ট মো. মইনুল ইসলাম পরবর্তীতে ওইদিনই তিনি মিষ্টি, নতুন জামা ও নগদ কিছু টাকা নিয়ে তাসলিমা বেগমের সঙ্গে দেখা করে হাবিবার পড়াশোনার ব্যয় বহন করতে চাইলে হাবিবার পরিবার তাতে সম্মতি প্রদান করেন। এতে বিয়ের পিঁড়িতে না বসে কলেজে পড়ার স্বপ্ন আরো রঙিন হয় হাবিবার।

এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কলেজে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে হাবিবা খাতুনের আবেদনের প্রেক্ষিতে নড়িয়ার ডগ্রী ইসমাইল হোসেন স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয় সে। হাবিবার ভর্তি ফিসহ অন্যান্য খরচ প্রদানের জন্য ওই কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে আনসার বাহিনী। হাবিবার পরিবারের বিস্তারিত জানতে পেরে তার ভর্তি ফি, বেতন ও পরীক্ষার ফি মওকুফ করে দেয় কলেজ প্রশাসন।

হাবিবার বাড়িতে গিয়ে চেয়ার, টেবিলসহ একাদশ শ্রেণীর এক সেট বই, খাতা-কলম, শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও আনসার বাহিনীর মহাপরিচালক এ কে এম আমিনুল হকের লেখা আনসার বাহিনীর উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার অবদান সম্পর্কিত বিভিন্ন বইপত্র তুলে দেন জেলা কমান্ড্যান্ট মো. মইনুল ইসলাম।

মেয়ে কলেজে ভর্তির পরে এমন উপহার পেয়ে তাসলিমা বেগম বলেন, ভেবেছিলাম আর পড়াব না মেয়েকে। বিয়ের চিন্তা করছিলাম আমিসহ পরিবারের সবাই। অভাবের কারণে আমার মেয়েকে কোনোদিন চেয়ার-টেবিলে পড়তে বসাতে পারিনি। বাবা হারা আমার মেয়ে কলেজে পড়বে ভাবতেও পারিনি। আমি মইনুল স্যারের জন্য দোয়া করি।

কলেজে ভর্তি নিশ্চিতের পরে চেয়ার টেবিল উপকরণ পেয়ে হাবিবা আক্তার খুশিতে বলেন, আনসার বাহিনী আমার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছে। চেয়ার টেবিল কলেজের ভর্তি ও বইসহ উপহার দিয়েছেন। এখন আমি চেয়ার-টেবিলে বসে পড়াশোনা করতে পারব, এটা আমার কাছে বর্ণনাতীত আনন্দ সংবাদ। আপনাদের সকলের জন্য দোয়া করি আমি। আমার জন্যও দোয়া করবেন, যেন আমি শিক্ষক হয়ে অন্য এতিম ছেলে-মেয়েদের বিনামূল্যে পড়াতে পারি।

ডিগ্রী ইসমাইল হোসেন স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ কমলেশ চক্রবর্তী বলেন, হাবিবা ও তার মায়ের জীবন সংগ্রামের বিস্তারিত জানতে পেরে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাবিবার ভর্তি ফিসহ কলেজের সকল ফি মওকুফ করা হয়েছে। হাবিবা কোনো প্রকার ফি প্রদান ব্যতিত কলেজে নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতে পারবে।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী শরীয়তপুরের জেলা কমাড্যান্ট মো. মইনুল ইসলাম বলেন, এবছরের মে মাসে মা দিবসের দিন জানতে পারি তাসলিমা ও হাবিবার পরিবারের জীবন সংগ্রামের কথা। পরবর্তীতে হাবিবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছিলাম।

আনসার বাহিনীর মহাপরিচালক মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় গ্রাম পর্যায়ে আনসার বাহিনীর সেবা পৌঁছে দিতে মানবিক এমন কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করেন। হাবিবার পড়াশোনার সকল খরচ আনসার বাহিনীর পক্ষ থেকে বহন করা হয়েছে। হাবিবার মায়ের বিধবা ভাতার কার্ড সহ তার প্রয়োজনীয় বইপত্র চেয়ার টেবিলসহ অন্যান্য উপকরণ তাকে উপহার দিয়েছি। সমাজে এমন অনেক হাবিবা রয়েছে, যারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য হয়। সচেতনরা একটু উদ্যোগ নিলেই এরা সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য নিজেকে তৈরী করতে পারে। হাবিবার পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আনসার  বাহিনী তার পাশে থাকব।


আরও খবর



দেশে ফিরে বিশ্বকাপ ব্যর্থতা নিয়ে মুখ খুললেন তাসকিন

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

Image

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশন শেষে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। শুক্রবার (২৮ জুন) সকাল ৯ টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পা রাখেন ক্রিকেটাররা। অ্যান্টিগা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি ও দুবাই হয়ে ঢাকায় এসেছে তারা।

দলের সঙ্গে বাংলাদেশে আসেননি বিদেশি কোচরা। হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেসহ সবাই বিশ্বকাপ শেষে নিজ নিজ দেশে ছুটিতে গেছেন। আজ ফেরা হয়নি লিটন দাস ও সৌম্য সরকারের। সাকিব গতকালই ঢাকায় এসেছেন। সৌম্য ও লিটন আসবেন শনিবার।

বিমানবন্দরে পা রেখেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক তাসকিন আহমেদ। বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বারবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুপার এইট পর্বের শেষ ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনেছেন।

টাইগারদের পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গে তাসকিন বললেন, না, আসলে সত্যি কথা বলতে, ভালোর তো শেষ নেই। হ্যাঁ, আরও অনেক ভালো হতে পারত। বিশেষ করে শেষ ম্যাচটা, আমরা সবাই একটু হতাশ হয়েছি। আমরা জেতার চেষ্টা করেছি প্রথমে, ১২ ওভারের মধ্যে, যখন বুঝতে পারলাম ১২ ওভারের মধ্যে শেষ করা সম্ভব না, তখন স্বাভাবিকভাবে খেলার চেষ্টা করেছিল সবাই। তাও জিততে পারিনি।

দলের বোলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে এই পেসার বলেন, হ্যাঁ, ইতিবাচক দিক আছে। পুরো টুর্নামেন্টে বোলিং যথেষ্ট ভালো করেছে। সুপার এইটে এসেছি। সর্বপ্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা তিনটা জয় পেয়েছি। মানে পজেটিভ আছে। কিন্তু নেগেটিভের সংখ্যাটা একটু বেশি। সবার মতো আমরাও জানি, প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো হয়নি। বোলিং ইউনিট আগাগোড়াই কয়েক বছর ধরে ভালো করছে। সে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। সামনে আরও ভালো হবে। ভালোর তো শেষ নেই।

ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে সহ-অধিনায়ক বলেন, আর ব্যাটিং, বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্রে যখন খেলা হয়েছে, তখন উইকেট ব্যাটসম্যানদের পক্ষে কম ছিল। আপনারা যদি পরিসংখ্যান দেখেন, অন্য দেশের বড় বড় ব্যাটসম্যানকেও সেখানে ধুঁকতে হয়েছে। সেখানে বোলারদের একটু বাড়তি সুবিধা ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজে যাওয়ার পর আমরা কিছুটা ভালো উইকেটে খেলেছি। পরে এ কথাও বলেছেন, কিন্তু আমি বাংলাদেশ দলের হয়ে ক্রিকেট খেলার সময়, লাস্ট ১০ বছর ধরে খেলছি, কখনোই এত লম্বা ব্যাডপ্যাচ দেখিনি। আশা করি এটা কাটিয়ে উঠবে।

দলের দুই সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ ছিলেন পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে ব্যর্থ। তাদের ফর্মহীনতা দলকে ভুগিয়েছে, এমনটা মানেন তাসকিন। তার কথা, দুজন সিনিয়রের ফর্মে না থাকা অবশ্যই প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু মাঠের বাইরে প্রভাব পড়েনি। ৪৭ দিন একসঙ্গে ছিলাম, সবাই একসঙ্গে ছিলাম। অফ দ্য ফিল্ডে সব ভালো ছিল। দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা অফ ফর্মে থাকলে ওই দলে সমস্যা হওয়াটাই স্বাভাবিক। আশা করছি দ্রুত সামনে এসব কাটিয়ে উঠব।


আরও খবর



নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ব্যারিস্টার সুমন, শেরেবাংলা নগর থানায় জিডি

প্রকাশিত:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। তাকে হত্যার জন্য অজ্ঞাতনামা একটি শক্তিশালী টিম মাঠে নেমেছে- এমন তথ্যে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।

শনিবার রাতে শেরেবাংলা নগর থানায় এই সাধারণ ডায়েরি করেন ব্যারিস্টার সুমন।

এতে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত ২৭ জুন ঢাকায় অবস্থানকালে রাত আনুমানিক ২টায় আমার নির্বাচনী এলাকা চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার সরকারি মোবাইল থেকে আমার হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে জানান যে, আপনাকে হত্যার জন্য অজ্ঞাতনামা একটি শক্তিশালী মহল গত তিন দিন আগে ৪-৫ জনের একটি টিম নিয়ে মাঠে নেমেছে। আপনি রাতে বাইরে বের হবেন না এবং সাবধানে থাকবেন।

তখন আমি ওসির কাছে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি পরিচয় জানাতে অস্বীকার করেন এবং আমাকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেন। এই বিষয়টি জানার পরে আমি মারাত্মকভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটর ছিলেন। এই পদ থেকে তিনি ২০১২ সালের ১৩ নভেম্বর পদত্যাগ করেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন তিনি।


আরও খবর
মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪