আজঃ বুধবার ২৫ মে ২০২২
শিরোনাম

খাদ্য জোগাতে মার খাচ্ছে লাভের ফসল সয়াবিন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | ১১৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দিগন্ত জোড়া মাঠ। যতদূর চোখ যায় কেবল সবুজ আর সবুজ। বিস্তীর্ণ কৃষিজমির অধিকাংশেই দোল খাচ্ছে সয়াবিনের গাছ। বলছি লক্ষ্মীপুর জেলার কথা। বিশেষ করে রায়পুর, রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় এখন ব্যাপক হারে সয়াবিনের চাষ হচ্ছে। কম খরচে ভালো উৎপাদনের পাশাপাশি দাম বেশি পাওয়ায় এই অঞ্চলের চাষিদের মধ্যে অন্যান্য রবিশস্যের পরিবর্তে তেল-ফসলটির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। যদিও চরাঞ্চলের এসব জমিতে এক সময় কেবল খেসারি, মরিচ,বাদাম, তিল, মিষ্টি আলু, তরমুজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হতো।

জানা গেছে, দেশে গড়ে ১ লাখ ১৫ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন সয়াবিনের উৎপাদন হয় প্রতি বছর। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশই উৎপাদন হচ্ছে লক্ষ্মীপুর জেলায়। তাই এই ফসলটিকে ব্র্যান্ডিং করছে জেলা প্রশাসন। লক্ষ্মীপুরের পর সবচেয়ে বেশি সয়াবিন চাষ হয় পাশের জেলা চাঁদপুরে। এ ছাড়াও নোয়াখালী, ফেনী, ভোলা, বরিশাল ও ফরিদপুর, নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, বগুড়া ও ঠাকুরগাঁওয়ে কিছু পরিমাণে সয়াবিনের চাষ শুরু হয়েছে লাভজনক ফসল হওয়ায়। কিন্তু সম্ভাবনা থাকলেও এর উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। কেননা দেশের সীমিত জমি থেকে বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণ করাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, সয়াবিনের উৎপাদন বাড়াতে পারলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় সম্ভব। তবে আমাদের চাষযোগ্য আবাদি জমির পরিমাণ খুবই সীমিত। আর এই সীমিত জমি থেকে দেশের বিশাল জনগণের খাদ্য চাহিদা পূরণ করাই বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে নতুন করে সয়াবিনের চাষের পরিমাণ খুব বেশি বাড়ানোর সুযোগ নেই। দেশের প্রধান ফসল ধান বাদ দিয়ে অন্য ফসলে গেলে খাদ্য সংকট দেখা দেবে। সে ক্ষেত্রে যদি সয়াবিনের চাষকে সম্প্রসারণ করা হয়, তা হলে এর বিপরীতে অন্য কোনো ফসলে ঘাটতি দেখা দেবে। এতে করে সুফলের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণটাও কম হবে না। তবে দেশের লবণাক্ত অঞ্চলে সয়াবিনের চাষ বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য পরিকল্পিতভাবে ফসলবিন্যাস নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হবে। দেশের বিভিন্ন জেলায় সয়াবিন চাষের উপযোগী জমি রয়েছে। ক্রমান্বয়ে কৃষকরাও ফসলটির প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। প্রয়োজনে সরকারি সহায়তার পরিমাণ বাড়বে।

কৃষি গবেষকরা বলছেন, লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনের আবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে এখানকার অপ্রতুল সেচব্যবস্থারও বড় ভূমিকা রয়েছে। কারণ সয়াবিন আবাদে খুব একটা সেচের প্রয়োজন নেই। ফলে জেলাটিতে এ শস্যের আবাদের উপযোগিতা অনেক বেশি। তা ছাড়া সার্বিকভাবে সয়াবিন উৎপাদন লাভজনক। এটি একটি পরিবেশবান্ধব ফসলও। এতে সারের পরিমাণ লাগে অনেক কম। শিম গোত্রের ফসল হওয়ায় সয়াবিনের শিকড়ে নডিউল তৈরি হয়, যা থেকে হেক্টরপ্রতি প্রায় ২৫০ কেজি নাইট্রোজেন (ইউরিয়া সার) সংবন্ধন হয়। এ নাইট্রোজেন সার গাছের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং একটি অংশ মাটিতে যুক্ত হয়ে পরবর্তী ফসলে অবদান রাখে। প্রতি হেক্টরে সর্বোচ্চ উৎপাদন খরচ পড়ে ২০ হাজার টাকা। ভালো ফসল ও দাম পাওয়া গেলে উৎপাদন খরচের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি লাভ করা সম্ভব সয়াবিন চাষ করে। যেখানে অন্য কোনো ফসল আবাদ করে এ পরিমাণ লাভ পাওয়া অসম্ভব।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের কৃষক মো. ইউছুফ বলেন, সয়াবিন আবাদে খরচ কম। রোগ ও পোকার আক্রমণও কম হয়। চাষাবাদ পদ্ধতি সহজ। বিক্রি করলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায় ধানের চেয়ে অনেক বেশি। আগে চরাঞ্চলে অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সেই জমিগুলো আর পড়ে থাকে না। পরিত্যক্ত জমিতেও সয়াবিন চাষ করা হচ্ছে। মৌমুমে প্রতি মণ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। আর মৌসুমের পর আড়াই হাজার থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়।

সংশ্লিষ্টরা অবশ্য জানান, বাংলাদেশে তেলের জন্য সয়াবিন আবাদ সেভাবে সম্ভব না। কারণ ৫ কেজি সয়াবিন বীজ ভাঙিয়ে তেল হয় এক কেজি। আর চার কেজি খৈল বা সয়া কেক হয়। খৈলটা হচ্ছে আসল আর তেলটা বাই-প্রোডাক্ট। খৈল থেকে সয়াবিস্কুট, সয়ামিল অনেক কিছুই তৈরি হয়, যাতে প্রচুর প্রোটিন রয়েছে। তবে দেশে উৎপাদিত খৈল কেবল মৎস্য বা প্রাণিখাদ্যে ব্যবহৃত হয়। অন্য দেশের মতো এখানেও সয়া কেকের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। কেননা কেবল তেল দিয়ে পোষাবে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭৯ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন উৎপাদন হয়েছে ১ দশমিক ৪১৯ লাখ মেট্রিক টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৭৭ হাজার ৩ হেক্টরে ১ দশমিক ৪৬৯ লাখ মেট্রিক টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭৯ হাজার হেক্টরে ১ দশমিক ৩৫২ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। এ ছাড়াও চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সয়াবিন চাষ হয়েছে ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে। আর লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৪৮ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়, ২০২০-২১ অর্থবছরে হয় ৪০ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সয়াবিন আবাদ হয়েছে ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে। গড় উৎপাদন ৮০ থেকে ৮৫ হাজার মেট্রিক টনের মতো।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, এ বছর লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনের উৎপাদন ভালো হয়েছে। কৃষকদের মাঝে উচ্চ ফলনশীল বিনা ৫ ও ৬ এবং বারি ৫ ও ৬ জাতের বীজ বিতরণ করেছি। তাই ফলন ভালো হয়েছে। আর আগে সোহাগ জাতের বীজ চাষ করত কৃষক, যার ফলন ছিল কম। এখন আর সেই সমস্যা নেই। এ ছাড়াও মন্ত্রণালায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সয়াবিন উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। উৎপাদিত সয়াবিন দিয়ে কী করা হয় জানতে চাইলে তিনি জানান, মাঠ থেকে আহরিত সয়াবিন আধুনিক অটোমেটিক মেশিনের মাধ্যমে সিদ্ধ করে শুকানোর পর তেলবীজ, ডালবীজ ও পোলট্রি শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে প্রক্রিয়াজাত হয়। পরে সেগুলো রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সরকারের ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে ২৭৮ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান। এর মাধ্যমে সরিষা, তিল, সূর্যমুখী, চিনাবাদাম, সয়াবিনসহ তেল ফসলের আবাদ এলাকা ২০ শতাংশ বাড়ানো এবং তেলজাতীয় ফসলের হেক্টরপ্রতি ফলন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

নিউজ ট্যাগ: সয়াবিনের গাছ

আরও খবর



ধামরাইয়ে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১: আহত ২৫

প্রকাশিত:বুধবার ০৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ০৪ মে ২০২২ | ৮১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের বাথুলি এলাকায় সকাল ৮টার দিকে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও আহত হয়েছে অনন্ত ২০জন। অপর দিকে সকাল ১১টার দিকে কালাম বাজার এলাকায় ট্রাকটার ভ্যানের চাকা খুলে দোকান ঘরে ঢুকে গেলে আহত হয়েছে অন্তত ৫জন। আহতদের থানা পুলিশসহ স্থানীয়রা উদ্ধার করে সরকারী হাসপাতাল সহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করেছে । তবে আহতদের মধ্যে বাসের চালকসহ ৫ জনের অবস্থা গুরুত্বর ।

জানা গেছে, আজ সকালে মহাসড়কের ধামরাইয়ের বাথুলি এলাকায় রোড স্কেলের (ওজন মাপা যন্ত্রের) ভেতর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের সাথে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনা স্থলেই মিজান(২০) নামের এক যাত্রী নিহত হয় । এসময় চালকসহ অনন্ত ২০যাত্রী আহত হয়েছে । অপর দিকে উপজেলার কালাম হাট থেকে একটি ট্রাকটার ভ্যান মালামাল ভর্তি করে আসার পথে সামনের চাকা খুলে একটি দোকানের ভেতর ঢুকে গেলে দোকানের ভেতরে থাকার ৫ব্যক্তি গুরুত্বর আহত হয়েছে। আহতরা হলো পলক(৪৬),জগদিশ(৫৫),শামীম(৪০)।

গোলরা হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম  বলেন,ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের বাথুলি এলাকায় সকাল ৮টার দিকে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও আহত হয়েছে অনন্ত ২০জন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাস ও ট্রাকে থাকা চালক-যাত্রীদের উদ্ধার করেছে। এখনো হতাহতের খবর বলা যাচ্ছে না। তবে অনেকেই আহত হয়েছে। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

 

 

 

নিউজ ট্যাগ: সড়ক দুর্ঘটনা

আরও খবর



সিলেট গ্যাস ফিল্ডে উত্তোলন বাড়লো ১৯ মিলিয়ন ঘনফুট

প্রকাশিত:রবিবার ০৮ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৮ মে ২০২২ | ৪১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সিলেটের গোলাপগঞ্জের কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্রের ৭নং কূপ থেকে ওয়ার্ক ওভারের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে আরও ১৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হয়েছে। এখন থেকে এ গ্যাস ফিল্ডে দৈনিক ১৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বেশি উত্তোলন হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

শনিবার রাতে নিজের ফেরিফাইড ফেসবুক পেজে তিনি আরো জানান, শনিবার (৭ মে) রাত পৌনে ৯টা থেকে কৈলাশটিলার এ কূপ থেকে সফলভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়েছে।

তিনি লিখেন, ঈদের আগে গ্যাস নিয়ে সু-সংবাদ দিয়েছিলাম আপনাদের। জাতীয় গ্রিডে নতুন করে গ্যাস যুক্ত হওয়ার কথা ছিল এ মাসের ১০ তারিখে। আমরা সময়ের আগেই দ্রুত কাজ শেষ করেছি। শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিট থেকে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের কৈলাশটিলা-৭নং কূপ বাপেক্সের বিজয়-১১ রিগ দ্বারা সফলভাবে ওয়ার্ক ওভারের মাধ্যমে দৈনিক ১৯ এমএমসিএফ (মিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আমাদের বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৬০০ এমএমসিএফডি। আমাদের নিজস্ব গ্যাস ফিল্ড থেকে ২৩০০ এমএমসিএফডি উৎপাদন করা হচ্ছে এবং বাকিটা এলএনজি আমদানি করে ৮৫০ এমএমসিএফডি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সময়ও গ্যাসের উৎপাদন ছিল মাত্র ১৭৪৪ এমএমসিএফডি। সেখান থেকে আমরা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছিলাম ২৭৫০ এমএমসিএফডি পর্যন্ত। ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমরা এ সক্ষমতায় গ্যাস উৎপাদন করেছি। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য যে, আমাদের নিজস্ব গ্যাসের রির্জাভ কমতে শুরু করেছে।

নসরুল হামিদ আরো জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নতুন নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিস্কার, বিদ্যমান গ্যাসকূপগুলোতে ডিপ ড্রিলিং এর মাধ্যমে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামীতে গ্যাস নিয়ে আরো সু-খবর দিতে পারবো বলে আশা করি।

এদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (৭ মে) রাত ৮টা ৪৫ মিনিট থেকে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের কৈলাশটিলা-৭নং কূপ হতে দৈনিক ১৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু করা হয়েছে।

সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল)-কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডে এখন পর্যন্ত ৭টি কূপ খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে চলমান দু’টি কূপ থেকে দৈনিক ২ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্রের ৭ নম্বর কূপের খনন কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ১৭ অক্টোবর। এর আগের বছর ২০১৩ মালের ১৭ সেপ্টেম্বর সিলেট সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কূপটির খননকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।


আরও খবর



রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আজ ১৬১তম জন্মবার্ষিকী

প্রকাশিত:রবিবার ০৮ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৮ মে ২০২২ | ৪৭০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আজ ২৫ বৈশাখ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মবার্ষিকী। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের (৭ মে ১৮৬১ খিষ্টাব্দ) এ দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা সাহিত্যের অনন্য ব্যক্তিত্ব ও কালজয়ী এ কবি।

মানবতার সংকট ও রবীন্দ্রনাথ স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে এ বছর জাতীয় পর্যায়ে বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে সরকার।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বসাহিত্যের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ প্রতিভাদের একজন। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে যার অবদান অসামান্য। তার হাত ধরেই বাংলা সাহিত্য পায় নতুন রূপ। ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মননশীলতা দিয়ে বিশ্ব অঙ্গনে বিরল সম্মান আর্জন করেন তিনি।

বাল্যকালে প্রথাগত বিদ্যালয়-শিক্ষা তিনি গ্রহণ করেননি; গৃহশিক্ষক রেখে বাড়িতেই তার শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা-এ তার অভিলাষ কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশিত রচনা।

১৮৭৮ সালে মাত্র সতেরো বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ প্রথমবার ইংল্যান্ডে যান। ১৮৮৩ সালে মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে তার বিবাহ হয়। ১৮৯০ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের শিলাইদহের জমিদারি এস্টেটে বসবাস শুরু করেন। ১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯০২ সালে তার পত্নীবিয়োগ হয়।

১৯০৫ সালে তিনি বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করে। কিন্তু ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি ত্যাগ করেন।

১৯২১ সালে গ্রামোন্নয়নের জন্য তিনি শ্রীনিকেতন নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘজীবনে তিনি বহুবার বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং সমগ্র বিশ্বে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করেন। ১৯৪১ সালে দীর্ঘ রোগভোগের পর কলকাতার পৈত্রিক বাসভবনেই তার মৃত্যু হয়।

রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য ভাবগভীরতা, গীতিধর্মিতা চিত্ররূপময়তা, অধ্যাত্মচেতনা, ঐতিহ্যপ্রীতি, প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, বিশ্বপ্রেম, রোম্যান্টিক সৌন্দর্যচেতনা, ভাব, ভাষা, ছন্দ ও আঙ্গিকের বৈচিত্র্য, বাস্তবচেতনা ও প্রগতিচেতনা। রবীন্দ্রনাথের গদ্যভাষাও কাব্যিক।

ভারতের ধ্রুপদি ও লৌকিক সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞানচেতনা ও শিল্পদর্শন তার রচনায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। কথাসাহিত্য ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে নিজ মতামত প্রকাশ করেছিলেন। সমাজকল্যাণের উপায় হিসেবে তিনি গ্রামোন্নয়ন ও গ্রামের দরিদ্র জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তোলার পক্ষে মতপ্রকাশ করেন।

পাশাপাশি সামাজিক ভেদাভেদ, অস্পৃশ্যতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধেও তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন- রবীন্দ্রনাথের দর্শনচেতনায় ঈশ্বরের মূল হিসেবে মানব সংসারকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে; রবীন্দ্রনাথ দেববিগ্রহের পরিবর্তে কর্মী অর্থাৎ মানুষ ঈশ্বরের পূজার কথা বলেছিলেন। সংগীত ও নৃত্যকে তিনি শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ মনে করতেন।

রবীন্দ্রনাথের গান তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি। তার রচিত আমার সোনার বাংলাজনগণমন-অধিনায়ক জয় হে গানদুটি যথাক্রমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত। এছাড়া শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীতের কথাও তার গানের অনুবাদ।


আরও খবর



ইসরায়েলির মিসাইল হামলায় সিরিয়ায় তিনজন নিহত

প্রকাশিত:শনিবার ২১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ২১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে ইসরায়েলের সারফেস টু সারফেস ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে। শুক্রবার (২০ মে) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সানা একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। সামরিক সূত্র জানায়, মিসাইলগুলো ইসরায়েল অধিকৃত গোলান এলাকা থেকে ছোড়া হয়েছে এবং সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা হয়েছে। 

সিরিয়ান অবসারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, ৩ জন সামরিক কর্মকর্তা ছাড়াও ৪ জন বিমান ক্রু এ হামলায় আহত হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, হামলাটি সিরিয়ার বিমানবন্দরের খুব কাছে ইরানি গোলাবারুদের ডিপোগুলোকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে এবং সেখানে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।

এর আগে সর্বশেষ ১৩ মে ইসরায়েল সিরিয়ায় হামলা চালায় যেখানে ৫ জন নিহত হয়। যদিও ইসরায়েল তাদের হামলার বিষয়ে খুব কম মন্তব্য করে কিন্তু তারা এ পর্যন্ত সিরিয়ায় চালানো শত শত হামলার কথা স্বীকার করেছে।


আরও খবর



শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে দেশে একটি মানুষও ফুটপাতে ঘুমাবেনা: খাদ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৬ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৬ এপ্রিল ২০২২ | ৪৩০জন দেখেছেন

Image

নওগাঁ প্রতিনিধি:

খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন আর নয় ফুটপাত, গাছতলা কিংবা বটতলা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পুরণ করতে শেখ হাসিনার ভালবাসায় দেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবেনা। প্রত্যেক মানুষের থাকবে একটি করে বাড়ি।

মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার হিসেবে দেশের গৃহ ও ভূমিহীন ছিন্নমুল মানুষের মাঝে প্রায় ৩৩ হাজার ঘর প্রদানের ভার্চ্যুয়াল শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নওগাঁ জেলার সাপাহার প্রান্তে উপস্থিত থেকে তিনি কথাগুলি বলেন।

সাপাহার উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলার সদর ইউনিয়নের অমরপুর (৩য়) পর্যায়ে আশ্রয়ন প্রকল্প অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন, জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান পিএএ, সাপাহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান হোসেন, নির্বাহী অফিসার আব্দুল্যাহ আল মামুন, শিরন্টি ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দীন প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন শেষে খাদ্য মন্ত্রী উপজেলার অমরপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের নব নির্মিত ২৫টিসহ উপজেলায় ৪৫টি অসহায় গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে খাজনা খারিজসহ ২শতক জমির উপর নির্মিত বাড়ির দলিল প্রদান করেন। এসময় উপজেলার অসংখ্য সাধারণ মানুষ ও আশ্রয়ন প্রকল্পের সুফল ভোগীগন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর
সাপাহারে আমের কেজি ২ টাকা

শুক্রবার ২০ মে ২০22