আজঃ মঙ্গলবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
শিরোনাম

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সলেমানের ভ্রাম্যমান সোলার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০22 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০22 | ২৮০জন দেখেছেন


Image

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

সলেমান আলী এক সময় বাইসাইকেল মেরামত করে সংসার চালাতেন। তিনি মেধা ও শ্রম দিয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে তৈরি করেছেন ব্যাটারিবিহীন ভ্রাম্যমান সোলার পাওয়ার। তার তৈরিকৃত সোলার প্যানেলের মাধ্যমে স্বল্প খরচে ক্ষেত-খামারে সেচ দিতে পেরে উপকৃত হচ্ছেন এলাকার শত শত কৃষক। সলেমান আলী ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোলানী গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালে সাইকেলের মেরামতের কাজ ছেড়ে এলজিইডির কাছ থেকে সৌর বিদ্যুতের ৭৫ ওয়াটের একটি প্যানেল ও ব্যাটারি ক্রয় করে গবেষনা করেন সলেমান আলী। গবেষনার একপর্যায়ে ২০১৪ সালে ব্যাটারিবিহীন ভ্রাম্যমান ৩০০ ওয়াটের সোলার পাওয়ার তৈরি করেন তিনি। বর্তমানে তার নিজস্ব ১৫টি ব্যাটারি বিহীন ভ্রাম্যমান সোলার পাওয়ার আছে। ২০১৫ সালে মাছের রেনু উৎপাদনের খামার তৈরি করে সোলার পাওয়ারের মাধ্যমে পানি দেন তিনি। এছাড়াও তার নিজস্ব মাছ চাষের ৯টি পুকুর ও আবাদি জমিতে সেচ দিয়ে থাকেন। তাতে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি এলাকার চাষিদেরও উপকার করছেন তিনি।

সলেমানের ভ্রাম্যমান সোলার পাওয়ার দিয়ে স্বল্প খরচে এলাকার প্রায় ৫০০শত কৃষক উপকৃত হচ্ছেন বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।

মোলানী গ্রামের কৃষক আইদুল ইসলাম বলেন, সলেমানের তৈরি ব্যাটারিবিহীন সোলার গাড়ির মাধ্যমে আমি ক্ষেতে সেচ দেয়। এই সোলার গাড়ির মতো হওয়ায় ইচ্ছে মতো যেখানে-সেখানে নিয়ে যাওয়া যায়। এতে কোন তেল বা বিদ্যুৎ লাগে না।

বিদ্যুৎ বা তেল চালিত পাম্প বা মেশিন দিয়ে ক্ষেতে সেচ দিতে এক বিঘা জমিতে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ হাজার টাকা খরচ হতো। আর সোলার পাম্পের মাধ্যমে সেচ দিতে এর অর্ধেক খরচ হয়।

একই গ্রামের কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, বর্তমানে প্রচণ্ড খরা। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের দাম অনেক বেশি। বিদ্যুৎ ও ঠিক মতো থাকেনা। তাই কৃষকরা চাষাবাদ করতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন। কিন্তু কৃষকদের দু:খ-কষ্ট লাঘবে এলাকার সলেমান আলীর ভ্রাম্যমান সোলার পাম্পের মাধ্যমে এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষক উপকৃত হচ্ছে। সোলারের মাধ্যমে সেচ দিতে আমাদের অনেক সাশ্রয় হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, সলেমান এখন সোলার প্যানেল দিয়ে ডিজিটাল ব্রীজ স্কেল, বাড়িতে লাইট, ফ্যান, টিভি এমনকি দিনের সূর্য্যের আলোয় সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ করে নিজে চলাফেরা করার জন্য মোটরবাইক তৈরি করেছেন। এছাড়াও তিনি নিজে সোলার প্যানেল দিয়ে ব্যাটারিবিহীন ভ্রাম্যমান সোলার পাওয়ার, আইপিএস ও ব্যাটারি তৈরি করে বিক্রয় করে বেশ আয় করছেন।

এলাকায় ভ্রাম্যমান সোলার পাওয়ারের মাধ্যমে ক্ষেতে সেচ দিয়ে বছরে আয় করেন চার লাখ টাকা ও মাছের রেনু উৎপাদান খামার থেকে ৮-১০ লাখ এবং পুকুরের মাছ বিক্রয় করেন ৭-৮ লাখ টাকার বলে জানান, সলেমানের ছেলে সোহেল রানা।

সোহেল রানা বলেন, কৃষকরা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ চালিত পাম্প বা মেশিনের অর্ধেক খরচে সোলার পাম্পের মাধ্যমে সেচ দিতে পেরে ও সলেমানের এমন উদ্ভাবন দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয়সহ অনেক দূরদুরান্ত থেকে মানুষ এসে তাদের তৈরি সোলার পাওয়ার, আইপিএস ও ব্যাটারি ক্রয় করে নিয়ে যান।

মো. সলেমান আলী বলেন, স্থানীয় বাজারে বাইসাইকেল মেরামত করার কাজ করতাম। নিজের অর্থ সম্পদ বলতে কিছুই ছিলনা। একবেলা খাবার জুটলে আরেক বেলা জুটতো না। ১৯৯৮ সালের দিকে প্রথমে বাতাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার জন্য অনেক পরিশ্রম করি ও তাতে সফলও হয়। পরে বাতাস বা হাওয়া তেমন না থাকায় সে রকম-ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো না। পরে প্রথমে ৭৫ ওয়াটের সোলার প্যানেল নিয়ে গবেষণা শুরু করি কিভাবে বিদ্যুৎ ও  জ্বালানি সাশ্রয় করা যায়। একদিন সৌরবিদ্যুতের দুইটি ক্রয় করি। আর সেই বই থেকে জানতে পারি যে, সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বোর্ডটি সূর্য্যের দিকে তাক করে রাখলে অনেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। তখন বই থেকে ধারণা নিয়ে আমি সেই ভাবে কাজ শুরু করি ও সূর্য্যের আলোয় শুধু সোলার প্যানেল বোর্ড থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সফল হই।


আরও খবর
মজুদ থাকার সত্যেও সার পাচ্ছেন না কৃষকেরা!

শুক্রবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২