আজঃ মঙ্গলবার ০৫ মার্চ ২০২৪
শিরোনাম

ঝালকাঠিতে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীর আ.লীগে যোগদান

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

Image

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শতাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। 

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমরের অনুসারী হয়ে তারা যোগদান করেছেন।

মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে কাঁঠালিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শাহজাহান ওমরের নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির নেতাকর্মীরা পদত্যাগ বিষয়টি ঘোষণা দেন। 

পদত্যাগকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপির একাংশের সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াছ মিয়া ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ, যুবদলের সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম বশির, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হাসিব ভূট্টো ও সদস্য সচিব জাকির হোসেন।

সম্মেলনে কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইলিয়াস মিয়া বলেন, বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান ওমর দীর্ঘদিন দলে মূল্যায়ন না পাওয়ায় সম্প্রতি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন এবং ঝালকাঠি-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়ে নিবার্চন করছেন। দলের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদ ও প্রিয় নেতা শাহজাহান ওমরের সমর্থনে আমরা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলাম।

তাদের নেতৃত্বে থাকা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।


আরও খবর



বগুড়ায় যমুনার গতিপথ পরিবর্তন, হারিয়ে যাচ্ছে উপনদী

প্রকাশিত:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বগুড়া প্রতিনিধি

Image

যমুনার গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে বগুড়ায়। ফলত ইতিহাস থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে সুখদহ নদী। জেলার প্রধান প্রধান নদীগুলো দিন দিন মরে যেতে বসেছে। পানি প্রবাহ কমে যাওয়া, দূষণ, পলি পড়ে ভরাট, দীর্ঘদিন খনন না হওয়া, বাঁধ দিয়ে চাষাবাদ করা, জনবসতির ড্রেনের পানি নদীতে ফেলা, নদীর দুই পাড় ইচ্ছেমত দখলের কারণে নদীগুলো মরে যাচ্ছে। এরই মধ্যে যমুনা, বাঙ্গালী ও সুখদহসহ অন্যান্য উপনদীগুলো ধীরে ধীরে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করেছে।

বিভিন্ন সূত্র বিশ্লেষণে গেছে, বর্ষাকালে নদী ভরাট থাকায় গতিপথ তেমন বোঝা না গেলেও শুকনা মৌসুমে মূল প্রবাহ থাকছে না যমুনায়। সারিয়াকান্দির কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধ থেকে পূর্ব দিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে মূল প্রবাহ সরে যাওয়ায় নতুন নতুন চর জাগতে শুরু করেছে নদীটিতে। শুকনো মৌসুমে পানি কমে যাওয়ায় যমুনা চরের মানুষ পায়ে হেঁটে পারাপার হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও হাঁটু পানি দিয়ে পারাপার হচ্ছে এলাকাবাসী। কেউ কেউ যমুনাতে জেগে ওঠা চরে বিভিন্ন ফসল ফলাচ্ছে। চাষাবাদ হচ্ছে মরিচ, মাশকলাই, ভূট্টা, কাউন, পেঁয়াজ ও বোরো ধান।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে যমুনা নদীর অবস্থান ছিল বাম তীর ঘেঁষে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে নদী ভাঙতে ভাঙতে ডান তীর ঘেঁষে অবস্থান নেয়। ডান তীরে নদী শাসনের কাজ হওয়ায় বর্তমানে নদী আবারও বাম তীর ঘেঁষে অবস্থান করছে। ১৯৮৫ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত গত আড়াই দশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার বিভিন্ন অংশে যমুনা নদীর ডান তীরে প্রায় ৫৬০ মিটার ভেঙেছে। ২০১০ সালের পর থেকে সরকারিভাবে নদী শাসনের কাজ হওয়ায় এ এলাকা বন্যায় বড় আকারে আর ভাঙেনি।

সারিয়াকান্দির কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধ থেকে পূর্বে দিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নদী বেশিরভাগ সময় অবস্থান করছে। কয়েক বছর আগে নদী সবসময় কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধের সঙ্গে থাকায় নদীটি পূর্ব দিকে কিছুটা সরে যাওয়ার কারণে সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর ডান তীরের সামনে চালুয়াবাড়ী, হাটশেরপুর, কাজলা এবং সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নে বিশালাকার চরাভূমির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এইসব এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া একসময়ের প্রখর স্রোতধারার প্রমত্তা যমুনা নদী এখন তার গতিপথ পরিবর্তন করে বাম তীর ঘেঁষে জামালপুরের দিকে পুনরায় বাঁক নিয়েছে।

এদিকে বর্ষার ভরা যৌবনে দুই কূল উপচিয়ে দাপিয়ে চলা যমুনা নদী ফাল্গুনে শুকিয়ে যাওয়ায় হেঁটেই পার হচ্ছে স্থানীয়রা। নিয়মিত ড্রেজিং না করায় নাব্যতা সংকটে নদীটি। উজান থেকে আসা পলিতে নদীর বুকে জেগে উঠেছে ছোটো বড় অসংখ্য চর। ফলে নৌকা আটকে যাচ্ছে ডুবোচরে, চলাচল কমে বন্ধ হয়েছে বেশ কয়েকটি নৌরুট। এতে বিপাকে নদীপথে যাতায়াতকারী হাজারো যাত্রী ও চরাঞ্চলের মানুষেরা। সারিয়াকান্দি ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ যমুনা নদীর কালীতলা ঘাট থেকে শ্যালো মেশিন চালিত নৌকায় জামালপুর ও খেয়া নৌকায় বাগবের, গজারিয়া, চরবাটিয়া, শালুখা কুড়িপাড়া, পাখিমারাসহ বিভিন্ন চরে যাতায়াত করেন। কিন্তু যমুনা নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দেওয়ায় ঘাটের দক্ষিণে চর জেগে ওঠেছে। নদীর বুকেই হচ্ছে চাষাবাদ। নদীর মাঝখান এখন সরু খালের মতো। কোথাও হাঁটুপানি, হেঁটেই পার হওয়া যায় এপাড় থেকে ওপাড়। নদীর তীরে পড়ে আছে নৌকা। আবার কিছু নৌকা চলাচল করলেও তা গন্তব্যে যেতে দ্বিগুণ সময় লাগছে। এতে একদিকে যেমন সময় অপচয় হচ্ছে, তেমনি বাড়তি ভাড়া দিয়ে তাদের চলাচল করতে হচ্ছে। কৃষিপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পরিবহণে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।

সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার বাসিন্দা রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী আপেল মাহমুদ লাভলু জানান, যমুনা নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে নদীপথে নৌকা নিয়ে যেতে অনেক সময় লাগছে। বর্ষাকালে নদী ভরাট থাকায় গতিপথ তেমন বোঝা না গেলেও শুকনা মৌসুমে নদীর মূল প্রবাহ থাকছে সারিয়াকান্দির কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধ থেকে পূর্বে দিকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। মূল প্রবাহ সরে যাওয়ায় নতুন নতুন চর জাগতে শুরু করেছে। বর্ষাকালে পানি দেখা গেলেও সারা বছর আর পানি থাকে না। এক সময় জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলায় নদীর পানি কৃষি কাজে লাগলেও এখন সেই নদীতে চর জেগেছে।

এছাড়া ইতিহাস থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে সুখদহ নদী। সুখদহ নদীতে এখন আর মাছ দেখা যায় না। ময়লা আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সুযোগ সন্ধানীরা ধান চাষ করে আবার কেউ কেউ বিভিন্ন এলাকায় পাড় দখল করে রেখেছে। নদীটি প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ হলেও খালে পরিণত হয়েছে। জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলাটি যমুনা, বাঙালী, ইছামতি এবং সুখদহ নদী বিধৌত। তিনটি নদীর মধ্যে যমুনা নদী ভরা মৌসুমে প্রবল বন্যাসহ তার খরস্রোতা রূপ ধারণ করে। কিন্তু বাঙালী, ইছামতি এবং সুখদহ নদীতে শুধুমাত্র বর্ষার মৌসুমে পানি থাকে। আর এই পানি দিয়ে স্থানীয়রা একসময় কৃষিকাজ করতো।

জানা যায়, যমুনা নদী ৪০ বছর আগে বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি সদর, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলা থেকে ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে ময়মনসিংহ জেলার পশ্চিম সীমানা দিয়ে প্রবাহিত হতো। বর্তমানে সারিয়াকান্দি শহর হতে যমুনা নদীর দূরত্ব মাত্র কয়েকশ মিটার। ক্ষ্যাপাটে স্বভাবের বৈচিত্র্যময় এ নদীটির ইতিহাস সুপ্রাচীন। ভুতাত্ত্বিকদের ধারণা হিমালয় পর্বতমালা উত্থানের পূর্বে যমুনা নদীর আদি নাম ছিল ব্রহ্মপুত্র। ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাশ শৃঙ্গের একটি হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে চীন, তিব্বত, ভুটান ও ভারতের আসামের মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামের নুন খাওয়া নামকস্থানে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদীটি বগুড়ার শেষ সীমানা শেরপুর ও ধুনট উপজেলার মধ্য দিয়ে রাজবাড়ি গিয়ে গোয়ালন্দঘাটে পদ্মার সাথে মিশেছে। আন্তর্জাতিক নদী গবেষণা সংস্থার তথ্যমতে, যমুনা নদী এককালে রংপুর, বগুড়া, পাবনা ও ময়মনসিংহ জেলার পশ্চিম সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

১৯৭৭ সালে শুরু হয় নদী শাসনের কাজ। ১৯৮৬ সালে সারিয়াকান্দির প্রধান পয়েন্টে কালিতলায় একটি গ্রোয়েন বাঁধ নির্মিত হয়। এরপর ১৯৯৬ সাল হতে শুরু করে ২০০০ সাল পর্যন্ত ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রোয়েন বাঁধটির পুনঃনির্মাণ কাজ শেষ করে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হয়। সর্বমোট ২২৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটির নামকরণ করা হয় যমুনা এবং বাঙালি নদী একীভূতকরণ রোধ। প্রকল্পের আওতায় সদর ইউনিয়নের দীঘলকান্দি এবং কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের দেবডাঙায় দুইটি বড় হার্ডপয়েন্ট নির্মাণ করা হয়। এছাড়া ধুনট সীমানা হতে সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর ইউনিয়নের হাসনাপাড়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৮ সাল হতে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণের কাজ করা হয়। এর মধ্যে ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৬ সালে কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধ হতে পারতিতপরল গ্রাম পর্যন্ত ২ হাজার মিটার এবং দেবডাঙা পয়েন্টে ১ হাজার ২০০ মিটার তীর সংরক্ষণ কাজ হয়েছে। ২০০৬ সালের পর পারতিতপরল গ্রাম হতে হাসনাপাড়া পর্যন্ত তীর সংরক্ষণ কাজ হয়। ২০১৬ সালে রৌহাদহ হতে মথুরাপাড়া পর্যন্ত ৬ কিঃ মিঃ তীর সংরক্ষণ কাজ হয় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে। ফলে উজান থেকে বয়ে আসা পলিজমে উপজেলার চালুয়াবাড়ী, হাটশেরপুর, কাজলা, কর্নিবাড়ী এবং সারিয়াকান্দি সদরের মৌজায় বিশালাকার আয়তনের চরাভূমির সৃষ্টি হয়েছে। নদী শাসনের কাজগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য যমুনা নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে এখন বাম তীর ঘেঁষে জামালপুরের সীমানার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাফি মন্ডল জানান, যমুনা নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মৌজার জমিগুলো পুনরায় জেগে উঠেছে। এসব জমিগুলোতে নানা ধরনের কৃষি ফসল উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়াও সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটফুলবারী এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া সুখদহ নদীটি খনন করে দিলে এর নাব্যতা পুনরায় ফিরে পাবে। নদীপথে পুনরায় যোগাযোগ শুরু হবে এবং কৃষি ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নাজমুল হক জানান, ১৯৮৫ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত গত আড়াই দশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সারিয়াকান্দি এলাকায় যমুনা নদীর ডানতীরে প্রায় ৫৬০ মিটার ভেঙেছে। ২০১০ সালের পর থেকে সরকারিভাবে নদী শাসনের কাজ হওয়ায় এই এলাকায় বন্যায় বড় আকারে ভাঙেনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে নদী ভাঙন রোধে কাজ করা হয়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকায় ব্লক ও বালি ভর্তি বস্তা ফেলা হয়েছে। বন্যায় যেন বড় ধরনের ক্ষতি না হয় সেজন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতি বছর উজান থেকে হাজার হাজার টন পলি নদীর তলদেশে জমা হয়ে নদীর গভীরতা কমে যাচ্ছে। যে কারণে নদীগুলো মরে যাচ্ছে।


আরও খবর



আম্বানি পুত্রের বিয়ে যেন তারকার হাট

প্রকাশিত:শনিবার ০২ মার্চ 2০২4 | হালনাগাদ:শনিবার ০২ মার্চ 2০২4 | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানির ছেলের বিয়েতে তারকার হাট বসতে চলেছে। এরইমধ্যে গুজরাটের জামনগরে এসে হাজির হয়েছেন মার্কিন সংগীত শিল্পী রিহানা। আম্বানি পুত্রের বিয়ের অতিথিদের তালিকায় আরও আছেন মার্ক জাকারবার্গ, বিল গেটস।

মুকেশ পুত্র অনন্ত আম্বানি (২৮) রাধিকা মার্চেন্টকে বিয়ে করবেন জুলাই মাসে। এখন চলছে তার প্রাক বিবাহ অনুষ্ঠান। তিন দিনের এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলিউড তারকা শাহরুখ, অমিতাভ বচ্চন, দীপিকা, কারিনাসহ আরও অনেকে।

মুকেশ আম্বানি (৬৬) বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে আছেন দশম স্থানে। ফোর্বসের তথ্য মতে, তার সম্পদের পরিমাণ ১১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অনন্ত তার ছোটো সন্তান।

জামনগরের গ্রামবাসীকে খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় আম্বানিপুত্রের প্রাক বিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম। সেখানে মুকেশ আম্বানি ও তার পুত্র ও হবু পুত্র বধূকে নিজ হাতে গ্রামবাসীকে খাবার পরিবেশন করতে দেখা গেছে।

আর মূল অনুষ্ঠানে ১২শ অতিথি অংশগ্রহণ করবেন। এই অতিথি তালিকায় ভারতের আরেক ধনকুবের গৌতম আদানি ও ‍কুমার মঙ্গলাম বিরলাও আছেন। আছেন ডিজনির সিইও ববর আইগার।

শুক্রবার (০১ মার্চ) ভারতের তারকা ক্রিকেটার মাহেন্দ্র সিং ধোনিকে দেখা গেছে জামনগরে। এমনকি ইভাঙ্কা ট্রাম্পও হাজির হতে পারেন এই আয়োজনে।


আরও খবর
আইনি লড়াইয়ে বড় জয় পেলেন ট্রাম্প

মঙ্গলবার ০৫ মার্চ ২০২৪




সরকারি গাছ কাটার নিউজ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছিত

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রফিকুল ইসলাম, কুষ্টিয়া

Image

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জিকে ক্যানালের রাস্তার সরকারি গাছ কাটার সময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন বাংলার প্রতিবেদক কেএইচ তুহিন আহমেদ।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালের দিকে উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের বল্লভপুর শেট ও সাজিপাড়া গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী এটিএন বাংলার প্রতিবেদক কেএইচ তুহিন আহমেদ জানান, যদুবয়রা ইউনিয়নের বল্লভপুর এলাকায় বেশ কয়েকদিন ধরে সরকারি গাছ নিধনের মহোৎসব এর সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। এসময় ১০-১৫ বছরের পুরাতন একটি বটগাছ কাটার সময় ভিডিও সংগ্রহকালে যদুবয়রা ইউনিয়ন এর ২ নং ওয়ার্ড সদস্য ইমদাদুল হক খোকন ৪/৫ জনকে সাথে নিয়ে ভিডিও করায় বাধা সৃষ্টি করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এছাড়াও এটিএন বাংলার ক্যামেরা পার্সন সালাউদ্দিন আহমেদ মেজরের হাত থেকে ক্যামেরা ফেলে দেওয়া হয়। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে ইউপি সদস্য খোকন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে সংবাদ পেয়ে মাইটিভি প্রতিনিধি লিপু খন্দকার, এশিয়ান টিভি প্রতিনিধি কেএমআর শাহিন, আমার সংবাদ প্রতিনিধি মাসুদ রানাসহ স্থানীয় অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে পোঁছে  স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় কুমারখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকিবুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছি খুব দ্রুত দোষীদের আটক পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরও খবর



স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করলেন বৃদ্ধ ইউপি চেয়ারম্যান

প্রকাশিত:সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

Image

স্কুলছাত্রীর পরিবারকে ফাঁদে ফেলে কিশোরীকে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। তিনি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হযরত আলী (৭৭)। এছাড়াও মুশুদ্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি তিনি।

এ বিষয়ে কিশোরীর দরিদ্র পরিবার অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিচার চেয়ে ধনবাড়ী থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এমন অভিযোগ করেও বিপাকে পড়েছেন ওই কিশোরীর পরিবার।

দায়ের করা লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে জানা যায়, নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরীর পরিবার ও অভিযুক্ত চেয়ারম্যান একই ইউনিয়নের বাসিন্দা। পরিবারটি দরিদ্র হওয়ার সুবাদে ওই বাড়িতে বিভিন্ন সহযোগিতার কথা বলে যাওয়া-আসা করতেন হযরত আলী। বিভিন্নভাবে প্রলোভনও দেখাতেন। চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরিবারটির সম্পর্ক গভীর হলে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান চলাকালে কৌশলে ওই স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে যান হযরত। এদিকে ওই স্কুলছাত্রীকে এক সপ্তাহেও কোথাও খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন ভুক্তভোগীর পরিবার। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে হযরত আলীর বিচার চেয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি ধনবাড়ী থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই স্কুলছাত্রীর পরিবার।

ওই কিশোরীর বাবা বলেন, আমরা গরিব হওয়ায় সহযোগিতার কথা বলে হযরত আমাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। তাকে সরল মনে বিশ্বাস করেছিলাম। এখন আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে জোর করে বিয়ে করেছেন। এখন অভিযোগ তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব ওই কিশোরীকে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বয়স এফিডেভিট করে বিয়ে করেছেন এমন খবর শুনেছি।

এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত হযরত আলীর ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ওই কিশোরী স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আরও খবর



কুসিক উপ-নির্বাচন মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন চারজন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রবিউল বাশার খান, কুমিল্লা

Image

কুসিক উপ নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে ভোটারদের মাঝে। ভোটাররা মনে করেন এই উপ-নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন চারজন। মেয়র পদে উপ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দানের সময় সকল মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল চারটা পর্যন্ত ৮ প্রার্থীর মনোনয়ন ক্রয়ের বিপরীতে বিকেল চারটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা হয়েছে মোট ৪ জনের। এরা হলেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. তাহসীন বাহার সূচনা, মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম, বিএনপির বহিষ্কৃত দু নেতা কুসিকের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও বহিষ্কৃত কেন্দ্রিয় সেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার।

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক  ডা. তাহসিন বাহার সূচনা দুপুরে কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেনের নিকট মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

এসময় নারী নেত্রী মেহেরুন্নেসা বাহার, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এড জহিরুল ইসলাম সেলিম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আতিকুল্লাহ খোকন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. সৈয়দ নূরুর রহমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. মো আমিনুল ইসলাম টুটুলসহ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচনে নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে ইভিএমে মাধ্যমে ভোট নেওয়া হবে। সর্বমোট ২ লক্ষ ৪২ হাজার ৪৫৮ জন ভোটার ভোট দিতে পারবেন। এর মধ্যে ১ লক্ষ ১৮ হাজার ১৮২ জন পুরুষ ভোটার এবং ১ লক্ষ ২৮ হাজার ২৭৮ জন নারী ভোটার রয়েছেন। এছাড়াও ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। বিগত নির্বাচনে সিটিতে ভোটার ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২ জন, পুরুষ ভোটার ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৮২৬ জন। এরই মধ্যে উপ-নির্বাচনে পুরুষ ও নারী ভোটার বেড়েছে ১২ হাজার ৫৩৮ জন।

কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের ৬৪০টি কক্ষে ভোট নেওয়া হবে। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৫ ফেব্রুয়ারি। আপিলের সময়সীমা ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি ১৯-২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২২ ফেব্রুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ ২৩ ফেব্রুয়ারি। ভোট গ্রহণ ৯ মার্চ সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত নেওয়া হবে   ইভিএমে মাধ্যমে।

২০২২ সালের কুসিকের তৃতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মনিরুল হক সাক্কুকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন নৌকা প্রতীকের আরফানুল হক রিফাত। ওই নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী রিফাত ৫০ হাজার ৩১০ এবং সাক্কু পান ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট।

২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক মেয়র আরফানুল হক রিফাত। এরপর থেকে প্যানেল মেয়র হাবিবুর আল আমিন সাদী ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


আরও খবর