আজঃ বুধবার ২৪ জুলাই 20২৪
শিরোনাম

ইসলাম প্রচারের পর কীভাবে কোরবানির প্রচলন শুরু হয়

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জীবন ধারা ডেস্ক

Image

ইসলামিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মক্কায় প্রতি বছরই কোরবানি দেওয়া হতো। কিন্তু তখন মক্কার বাসিন্দার বিভিন্ন দেবদেবীর নামে সেগুলো কোরবানি দিতেন। ফলে ইসলামের নবী সেই সময় মক্কায় থাকলেও তিনি এই রীতি অনুসরণ করতেন না।

নবুয়ত প্রাপ্তির প্রায় তের বছর পরে মদিনায় হিজরত করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানি দেয়ার রীতি চালু হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সনদ বিভাগের উপ-পরিচালক মাওলানা মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেন,ইসলামের অনেক বিধিবিধান রাসুল (সাঃ) মদিনায় আসার পর কার্যকর হয়েছে। কারণ তিনি ইসলাম প্রচার শুরু করার পর মক্কার মানুষের মধ্যে একাত্মবাদ প্রতিষ্ঠা ছিল প্রাথমিক কাজ। আর মদিনায় হিজরত করে আসার পর ইসলামের বিধিবিধান জারি হয়।

হিজরি দ্বিতীয় সনে রোজা এবং ঈদুল ফিতরের প্রবর্তন হয়েছিল। অবশ্য তার আগে থেকেই মদিনার মানুষজন অনেকটা একই আদলে উৎসব এবং রোজা পালন করতেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মোঃ আতাউর রহমান মিয়াজী বলেছেন, হিজরি দ্বিতীয় সনে ঈদের প্রবর্তন করা হয়েছিল।

আনাস নামে নবী মুহাম্মদের একজন সাহাবী বা সাথীর বর্ণনা করা একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া বলছে, মদিনায় যাওয়ার পর নবী দেখলেন যে সেখানকার মানুষ বছরে দুইটি বড় উৎসব পালন করে।

তিনি তখন জানতে চান, সেগুলো কী উৎসব?

এগুলো ছিল নওরোজ এবং মিহিরজান নামে দুটি উৎসব - যেগুলো সেখানকার বাসিন্দাদের ধর্ম এবং গোত্রের রীতি অনুযায়ী একটি শরতে এবং আরেকটি বসন্তকালে উদযাপিত হত।

অধ্যাপক মিয়াজী বলেছেন, তখন ওই দুইটি উৎসবের আদলে মুসলমানদের জন্য বছরে দুইটি ধর্মীয়, সামাজিক এবং জাতীয় উৎসব পালনের রীতি প্রবর্তন করা হয়।

সেই দুই ঈদের একটি হজের সময় পালন করা হতো, যা ঈদুল আজহা নামে পরিচিত। তবে ইসলাম প্রচারের পর ঠিক কবে আর কীভাবে প্রথম কোরবানি দেয়া হয়েছে সেই সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য পাওয়া যায় না।

কোন কোন ইতিহাসবিদ বলেন, মদিনায় আসার পর ইসলামের নবী প্রথম দুইটা দুম্বা নিজ হাতে কোরবানি দিয়েছেন। তখন তিনি বলেছিলেন, একটা আমার নিজের পক্ষ থেকে আরেকটা আমরা উম্মতের পক্ষ থেকে।

মাওলানা মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেন, ইসলামের অনেক কিছুই আগের পয়গম্বরদের রীতি মেনে করা হয়েছে। যেমন প্রথম দিকে বায়তুল মোকাদ্দেসের দিকে সিজদা করা হলেও পরবর্তীতে ইব্রাহিম (আঃ) এর আদর্শ অনুযায়ী কাবার দিকে সিজদা করা হয়। কোরবানির ব্যাপারটিও তেমনি এসেছে।

তিনি বলছেন, ইসলামের কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী, আদম (আঃ) থেকে কোরবানি শুরু হয়েছে। তবে সুরা কাওসার ও সুরা হজে কোরবানি করার নির্দেশনা পাওয়া যায়। এই সুরা কাওসার নাজিল হয়েছিল হিজরতের আগেই, রাসুল (সাঃ) মক্কায় থাকার সময়। আর সুরা হজ মক্কা ও মদিনায় মিলিয়ে নাজিল হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

এই দুইটি সুরাতেই কোরবানি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পাটোয়ারি বলছেন, এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, রাসুল (সাঃ) মক্কায় থাকার সময় থেকেই কোরবানির বিষয়টা এসেছে।

তবে তিনি প্রথম কবে কোরবানি দিয়েছেন, সেই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

মাওলানা মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী জানাচ্ছেন, তিরমিজি হাদিসে উল্লেখ আছে, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর বলেছেন, হিজরতের পরে রাসুল (সাঃ) ১০ বছর মদিনায় ছিলেন, ১০ বছরেই কোরবানি করেছেন। আর আনাস ইবনে মালিক বলেছেন, রাসুল (সাঃ) দুইটা শিং ওয়ালা নাদুস-নুদুস দুম্বা জবাই করেছেন আর বলেছেন একটি আমার উম্মতের পক্ষ থেকে একটা আমার পক্ষ থেকে।

আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, তিনি সবসময়ে দুটা দুম্বা কোরবানি দিতেন, বলেন পাটোয়ারি।

যারা হজ বা ওমরাহ করতে যেতেন, তারা কোরবানির জন্য উট বা দুম্বার মতো পশু সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন। এসব পশুকে বলা হতো হাদি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মোঃ আতাউর রহমান মিয়াজী বলেন, ষষ্ঠ হিজরিতে বা ৬২৮ খৃষ্টাব্দে যখন রাসুল (সাঃ) ওমরাহের উদ্দেশ্যে রওনা হন, তখন হুদাইবিয়ায় বাধা দেয়া হলে তিনি তাবুতে অবস্থান করেন। হুদাইবিয়ার সন্ধি হলে তিনি সেই সময় নিজের ও পরিবারের জন্য উট কোরবানি দেন।

এ সময় তিনি ৬৩টি উট কোরবানি দেন বলে জানা যায়। সেই সময় ইসলামের বিধিবিধানে উট, মহিষ, গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা কোরবানি দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে মাওলানা মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেছেন, ষষ্ঠ হিজরিতে ওমরাহ করতে যাচ্ছিলেন, সেই সময় পশুগুলোকে সাথে করে নিয়ে যাওয়ার নিয়ম ছিল। তখন কোরবানি ছাড়া আরেকটা রীতি ছিল। পশুগুলোর সিনায় কেটে দাগ লাগিয়ে মক্কার দিকে ছেড়ে দেয়া হতো, যাতে বোঝা যেতো যে এগুলো কোরবানির পশু। হুদাইবিয়ার সন্ধির পর কিছু পশু কোরবানি দেয়া হয়, আর কিছু পশুকে সিনায় দাগ লাগিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

পাটোয়ারি বলছেন, দশম হিজরিতে রাসুল (সাঃ) মক্কা বিজয়ের পর সেই বছর তিনি নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে হজ করেন এবং কোরবানি দেন।

এর আগের বছর সাহাবী আবুবকরের নেতৃত্বে একটি দলকে হজের জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেই দলের সঙ্গেও কোরবানির জন্য হাদি বা পশু ছিল।


আরও খবর



চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ১৬ সমঝোতা স্মারক সই

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
কূটনৈতিক প্রতিবেদক

Image

বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য চীনা ব্যবসায়ী ও কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ে বিজনেস সামিট আয়োজন করেছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর ঘিরেই এ সম্মেলনের আয়োজন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এতে বাংলাদেশের ১০টি কোম্পানির প্রতিনিধির সঙ্গে চীনের বিভিন্ন কোম্পানির ১৬টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দ্য রাইজ অব বেঙ্গল টাইগর: সামিট অন ট্রেড, বিজনেস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অপরচুনিটিজ বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড চায়না শীর্ষক এই সামিট শুরু হয়। চীন ও বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা চুক্তিগুলো দুই দেশের মধ্যকার ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাক্ষরিত স্মারকগুলোর মধ্যে হুয়াওয়ে টেকনোলজিস লিমিটেডের সঙ্গে নগদের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, যেখানে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে নতুন প্রজন্মের ডিজিটাল আর্থিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে কৌশলগত অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হবে বাংলাদেশে। দেশের পুঁজিবাজারের ডিজিটাল রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়াগের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে ডিইএক্স বাংলাদেশ টেক লিমিটেড ও হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের মধ্যে।

বাংলাদেশ চাইনিজ আর্থিক ও শিল্প এলাকায় বিনিয়োগ অবকাঠামোবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) ও নিংবো সিক্সিং কোম্পানি লিমিটেডের মধ্যে। মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩৩ একর জায়গাজুড়ে বৃহত্তম পিএসএফ ও পেট বোতল উৎপাদন কারখানা টেক্সটাইল গ্রেড কারখানা স্থাপনের জন্য ৪০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের জন্য সমঝোতা হয়েছে দেশবন্ধু গ্রুপ কেমটেক্স ও চায়না কেমিকেল সিএনসিইসির মধ্যে।

দেশে ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনের জন্য একটি সমেঝোতা স্মারক সই হয়েছে বিলিয়ন ১০ কমিউনিকেশন লিমিটেডে ও সিএইচটিসি (হেংইয়াং) ইন্টেলিজেন্ট ইভি কোম্পানি লিমিটেডের মধ্যে। অন্যদিকে সিলেটে সোলার পার্ক স্থাপনের জন্য সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বিলিয়ন ১০ কমিউনিকেশনের সঙ্গে নিংবো সান ইস্ট সোলার কো. লিমিটেডের। বিলিয়ন ১০ কমিউনিকেশন আরও দুটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এর মধ্যে হেশেং (হোশাইস) সিলিকন ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে নবায়নযোগ্য শক্তি এবং ঝোংকে গুয়োরুই (ঝুহাই) নিউ ম্যাটেরিয়াল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে ওয়েস্ট লুব্রিক্যান্ট অয়েল রিকভারি অ্যান্ড রিফাইনিং বিষয়ে।

এছাড়া হংজি ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড ও নিংবো শেরিং নিউ এনার্জি টেকনোলজি লিমিটেডের সঙ্গে দুটি সমঝোতা চুক্তি করেছে ইবি সলিউশন লিমিটেড। এর মধ্যে হংজি ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি ঢাকা শহরের জন্য মোবাইক প্রকল্প নিয়ে। আর নিংবো শেরিং নিউ এনার্জি টেকনোলজি লিমিটেডের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি স্মার্ট কোল্ড চেইন লজিস্টিক সলিউশন নিয়ে। এছাড়া স্থল ও জল পথে সিএনজি পরিবহণে কারিগরি ও আর্থিক বিনিয়োগ খাতে ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন পিএলসি এবং শিঝুয়াং এনরিক গ্যাস ইকুইপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (সিআইএসমসি এনরিক) মধ্যে।

এককভাবে সর্বোচ্চ পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে দেশের অন্যতম শিল্প গ্রুপ নিটল নিলয় গ্রুপ। এর মধ্যে জিবো জিনহুয়াটেং পেপার মেশিনারি কো. লিমিটেড, চায়নার সঙ্গে পেপার মেশিনারি খাতে বিনিয়োগ; ঝেংঝো ডংফেং মিড-সাউথ এন্টারপ্রাইজ কো. লিমিটেড, চায়নার সঙ্গে টিবিআর টায়ার প্রকল্পে বিনিয়োগ; এবং শ্যাংডং সুনাইট মেশিনারি কো. লিমিটেড, চায়নার সঙ্গে অ্যারিয়েটেড অটোক্লেভ কংক্রিট (এএসি) ব্লক খাতে বিনিয়োগের জন্য সমঝোতা করেছে কোম্পানিটি।

এছাড়া রাবার মেশিনারিজ খাতে বিনিয়োগের জন্য নিটল নিলয় গ্রুপ সমঝোতা স্মারক সই করেছে দালিয়াম হুয়াহান রাবার অ্যান্ড প্লাস্টিক মেশিনারি কো. লিমিটেডের সঙ্গে। আর লিথিয়াম ব্যাটারি ও ইলেকট্রিক যানবাহনের জন্য তারা সমঝোতা স্মারক সই করেছে জেডপি টেকনোলজিস (আনহুই) কো. লিমিটেড, চায়নার সঙ্গে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর সামনে রেখে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) ও বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস যৌথভাবে এই ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজন করেছে।

আয়োজক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও এতে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি গাজী গোলাম মর্তুজা পাপ্পা প্রমুখ।


আরও খবর
মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




বাল্যবিয়ে হওয়ায় শিক্ষার্থীকে স্কুলে আসতে নিষেধ করলেন শিক্ষক

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বরিশাল প্রতিনিধি

Image

বরিশালের বাকেরগঞ্জে সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীকে বাল্যবিয়ের অপরাধে স্কুল ছাড়তে হয়েছে। বিয়ের কারণে ক্লাসে আসতে নিষেধ করায় গত ১ জুন থেকে স্কুলে আসা বন্ধ করেছেন ওই স্কুলছাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার গাড়ুরিয়া ইউনিয়নের কান্তা হাসান বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

জানা গেছে, কান্তা হাসান বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর কয়েক মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিয়ে হওয়ায় সেখানে কয়েকদিন থেকে তার বাবার বাড়িতে চলে এসে স্বামীকে ডিভোর্স দেয়। পরে পুনরায় স্কুলে যাওয়া শুরু করলে সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন স্কুলছাত্রীকে আসতে নিষেধ করেন এবং সহপাঠীদের সামনে অপমান করেন। পরে লজ্জায় স্কুলে আসে না ওই শিক্ষার্থী।

সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন বলেন, আমরা বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে কাজ করি। আমাদের স্কুলের অন্য ছাত্রীরা যাতে নষ্ট না হয় সে কারণে ও‌‌ই ছাত্রীকে বলেছি, তুমি আসলে আমাদের স্কুলের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে। স্কুলের পরিবেশ রক্ষার করার জন্য তাকে স্কুলে আসতে নিষেধ করেছি। সেটা আমি মনে করি না আমার বড় কোনো অপরাধ হ‌য়েছে।

কান্তা-হাসান বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীকে বাল্যবিবাহ দেওয়া হচ্ছে শুনলে ইউপি সদস্য অথবা থানায় জানাই যাতে বিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। একটা বাচ্চাকে বিয়ে দিলে তার অকালে ঝরে যেতে হয়। আমরা অল্প বয়সী শিক্ষার্থীদের বিয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক করি। তবে এরকম কোনো নিয়ম নাই যে বিয়ে হলে ওই শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে পারব না।

স্কুলছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বলেন, স্কুলে যেতে নিষেধ করায় আমার মেয়ে এখন স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। মেয়েটিকে নিয়ে আমি খুব চিন্তায় আছি।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার দাস বলেন, শিক্ষার্থীকে স্কুলে আসতে বিরত রাখা হয়েছে। এটা রাখা যাবে না। শিক্ষা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। শিক্ষা থেকে কাউকে বঞ্চিত করা যাবে না। এ রকম কোনো শিক্ষক করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুর রহমান বলেন, কান্তা হাসান বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এক শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ হয়েছে আমরা শুনতে পেরেছি। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কমিটি আছে শিক্ষকরা কাউন্সেলিং করে থাকে। বাল্যবিয়ের তথ্য আমাদের কাছে পৌঁছানোর আগেই বিবাহ হয়েছে জানতে পেরেছি। মেয়েটি যখন স্কুলে আসার সিদ্ধান্ত নেয়, ওই স্কুলের একজন শিক্ষক মেয়েটিকে স্কুলে আসতে নিরুৎসাহিত করেছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি আমাদের পর্যবেক্ষণে আছে, এটা আসলে কোনোভাবে কাম্য নয়। কোনো মেয়ে যদি বাল্যবিবাহর শিকার হয়, সে ক্ষেত্রে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা অন্যান্য শিক্ষক যারা আছে তারা শিক্ষার্থীর বাবা-মাকে সতর্ক করবে ও মেয়েটি যেহেতু ভিকটিম তাকে স্কুলে আসার ক্ষেত্রে বাধা না দিয়ে উৎসাহিত করবে। কিন্তু এখানে উল্টো ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করব।


আরও খবর



ধর্ষণ মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মুশতাক-ফাওজিয়া

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

রাজধানী মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রীকে প্রলোভন ও ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির দাতা সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদ ও কলেজটির অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদীকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক শওকত আলী বাদীর নারাজি খারিজ করে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলার দায় হতে তাদের অব্যাহতি দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক শওকত আলী এ দিন ধার্য করেন।

গত রোববার (২ জুন) আদালতে মুশতাক আহমেদ ও কলেজটির অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদীদকে নামে প্রতিবেদন দাখিল করেন পিবিআই। এরপর প্রতিবেদনের ওপর ফের নারাজি দিয়েছেন মামলার বাদী ওই শিক্ষার্থীর বাবা মো. সাইফুল ইসলাম। গত ১৩ জুন নারাজির আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত নথি পর্যালোচনায় আদেশের জন্য ৪ জুলাই দিন ধার্য করেন।

গত ৩ মার্চ ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক শওকত আলীর আদালতে এ নারাজি দাখিল করেন মামলার বাদী। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১৪ মার্চ দিন ধার্য করেছেন।

গত ১৪ মার্চ খন্দকার মুশতাক আহমেদ ও ফাওজিয়া রাশেদীর অব্যাহতির সুপারিশ করে পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীর নারাজি গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক শওকত আলীর আদালত। ওই শিক্ষার্থীর বাবা ২০২৩ সালের ১ আগস্ট আদালতে মামলাটি করেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে গুলশান থানার ওসিকে অভিযোগ এজাহার হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণের আদেশ দেন আদালত।

মামলায় মুশতাকের সঙ্গে আসামি করা হয়েছে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদীকে। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা মামলা দায়েরে তথ্যগত ভুল হয়েছে উল্লেখ করে আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ভিকটিম আদালতে হাজির হয়ে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন। তাতে তিনি জানান, ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ তিনি স্বেচ্ছায় ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে খন্দকার মুশতাক আহমেদকে বিয়ে করেন। বিজয়নগর কাজী অফিসে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়। ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর বয়স ১৮ পূর্ণ হলে আসামি মুশতাক তাকে বিয়ে করেন। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে কেউ কোনো ধরনের প্ররোচনা দেননি বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তার মেয়ে (ভুক্তভোগী) মতিঝিল আইডিয়ালের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। আসামি মুশতাক বিভিন্ন অজুহাতে কলেজে আসতেন এবং ভুক্তভোগীকে ক্লাস থেকে প্রিন্সিপালের কক্ষে ডেকে নিতেন। খোঁজখবর নেওয়ার নামে আসামি ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে প্রলুব্ধ করতেন। কিছুদিন পর আসামি মুশতাক ভুক্তভোগীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় ভুক্তভোগীকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে ঢাকা ছাড়া করবেন বলেও হুমকি দেন মুশতাক।

এজাহারে আরও বলা হয়, এ ধরনের আচরণের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষকে (২ নম্বর আসামি) ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন ভুক্তভোগীর বাবা। তিনি (অধ্যক্ষ) ব্যবস্থা নিচ্ছি বলে আসামি মুশতাককে তার কক্ষে ডাকেন। পরে ভুক্তভোগীকেও ক্লাস থেকে ডেকে এনে কক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়ে মুশতাককে সময় ও সঙ্গ দিতেন।

এ বিষয়ে বাদী ২ নম্বর আসামির (অধ্যক্ষ) কাছে প্রতিকার চাইতে গেলেও তিনি কোনো সহযোগিতা করেননি। বরং আসামি মুশতাককে অনৈতিক সাহায্য করতে থাকেন। উপায় না পেয়ে বাদী গত ১২ জুন তিশাকে ঠাকুরগাঁওয়ের বাড়িতে নিয়ে গেলে আসামি মুশতাক তার লোকজন দিয়ে তাকে অপহরণ করেন। এরপর বাদী জানতে পারেন আসামি মুশতাক একেক দিন একেক স্থানে রেখে তিশাকে অনৈতিক কাজে বাধ্য এবং যৌন নিপীড়ন করছেন।


আরও খবর
কোটা নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি রোববার

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




ভারতে এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহত অন্তত ১৮

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ভারতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৯ জন। দেশটির উত্তর প্রদেশের লখনৌ-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়েতে ডাবল-ডেকার বাসের সঙ্গে দুধের ট্যাংকারের সংঘর্ষে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

বুধবার (১০ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশের উন্নাওতে দুধবহনকারী ট্যাংকারের সাথে ডাবল-ডেকার বাসের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত এবং আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে তিন নারী ও এক শিশু রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ডাবল-ডেকার বাসটি বিহার রাজ্যের সীতামারহি থেকে দিল্লির দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বাসটি বুধবার ভোরে লখনৌ-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়েতে পেছন থেকে দুধের একটি ট্যাংকারকে ধাক্কা দেয়।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে তার অফিস জানিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, বুধবার ভোর ৫টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দূরপাল্লার বাসটি মঙ্গলবার রাতে বিহার থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। ভোরবেলা লখনৌ-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময়ই বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

বেহতা মুজাওয়ার এলাকায় এসে একটি দুধের ট্যাংকারে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় বাসটি। এতে ট্যাংকার এবং বাস, দুটিই উল্টে যায় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এদিকে দুর্ঘটনার বিষয়টি নজরে আসতেই দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। তারাই প্রথম উদ্ধারকাজ শুরু করেন। বাসের মধ্যে থেকে যাত্রীদের বের করে আনার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় বাঙ্গারমাউ এবং বেহতা মুজাওয়ার থানার পুলিশ।

উদ্ধারকারী দল বাসের জানলা ভেঙে যাত্রীদের কয়েকজনকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। এসডিএম নম্রতা সিং জানান, কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হবে। যাত্রীদের উদ্ধার করাই এখন প্রাথমিক কাজ।

তিনি বলেন, বিহার থেকে দিল্লি যাচ্ছিল বাসটি। বাসে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে, বাস চালাতে চালাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন চালক। সেই কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহত এবং আহতদের পরিচয় জানার চেষ্টাও চলছে।


আরও খবর
আজ নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিন!

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




৬ষ্ঠ দিনের মত কর্মবিরতি পালন করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মচারীরা

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বাগেরহাট প্রতিনিধি

Image

সারা দেশের মত বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা কর্মচারীরা ৬ষ্ঠ দিনের মত কর্মবিরতি পালন করছে। শনিবার (৬ জুলাই) তারা পোলঘাট এলাকার বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন।

এ সময় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম শহিদুল ইসলাম, এজিএম সিফাতুল্লাহ, পারভেজ আলম, মোঃ রিপন বিশ্বাস, আরিফুর রহমান, লাইন টেকনিশয়ান রাজীব রায়, রাজু আহম্মেদ, শারমিন কেয়া, প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বৈষম্য দূরীকরণ ও অভিন্ন সার্ভিস কোড সময়ের দাবী। গতকাল শুক্রবার বিদ্যুৎ ভবনে তাদের সাথে বসে বিষয়টি সমাধান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই বৈঠকে তাদের কথা ঠিকমত শোনা হয়নি। তাই তারা আন্দোলন অব্যহত রেখেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান আন্দোলনরতরা।

বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রধান কার্যালয়সহ ১০টি জোনাল ও একটি সাব-জোনাল অফিসের কয়েকশ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মবিরতিতে যোগ দেন।

উল্লেখ, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে একীভূত করে অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন ও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের দুই দফা দাবিতে গত ১ জুলাই থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই দাবিতে গত মে মাসেও তারা কর্মবিরতিতে যান।


আরও খবর