আজঃ মঙ্গলবার ০৫ মার্চ ২০২৪
শিরোনাম

ইরান থেকে তুরস্কে যাওয়ার পথে নিখোঁজ নবীগঞ্জের মাসুদ ও পাবেল

প্রকাশিত:শুক্রবার ২১ জুলাই ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুলাই ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

Image

অবৈধপথে ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে ৬ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন হবিগঞ্জ জেলার একই গ্রামের ২ যুবক। তাদের পরিবারে চলছে কান্নার রোল। নিখোঁজ দুজন হলেন, হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল গ্রামের দলাই মিয়ার ছেলে মাসুদ রানা ও একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য চুনু মিয়ার ছেলে শাহ পাবেল আহমেদ।

মাসুদ রানার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে তারা ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে দুবাই থেকে জাহাজে ইরান পৌঁছায় মাসুদ রানা।

এরপর চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি পাহাড়ি পথ বেয়ে ইরান থেকে তুরস্কে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তুরস্ক থেকে ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল মাসুদের।

মাসুদ তুরস্কের এক দালালের মাধ্যমে ইরান থেকে তুরস্কে যাওয়ার জন্য রওনা দেন। একসঙ্গে ৮-১০জন বাংলাদেশিসহ মোট ২৪ জন যুবক ছিলেন তাদের দলে।  উঁচু-নিচু পাহাড়, মরুভূমি আর বরফে ঢাকা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তুরস্ক সীমান্ত অতিক্রম তরার সময় তারা নিখোঁজ হন। এরপর থেকে মাসুদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

মাসুদের মা সাজনা বেগম জানান, ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে আমার ছেলে যাওয়ার আগে বলেছিল, ''আম্মাগো আমার জন্য দোয়া করিও, পৌঁছে ফোন দিব। ' ৬ মাস হলেও ছেলে তো আর ফোন করে না, আল্লাগো আমারের ছেলেরে ফিরাইয়া দেও' তিনি বার বার ছেলের স্মৃতি মনে করে মুর্ছা যাচ্ছিলেন।

এদিকে একইভাবে দালালদের খপ্পড়ে পড়ে ইরান থেকে তুরস্ক যাওয়ার পথে নিখোঁজ সাতাইহাল গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য চুনু মিয়ার ছেলে শাহ পাবেল আহমেদ।

তার পরিবারের সদস্যরা জানান, শাহ পাবেল আহমদসহ ৩৫ জন যুবক ইরান থেকে তুরস্কের পথে যাত্রা শুরু করে। তুরস্ক সীমান্ত অতিক্রম করার সময় দালাল চক্রের সদস্যরা রাতের অন্ধকারে পাহাড়-পর্বত মরুভূমি আর বরফে ঢাকা দুর্গম রাস্তা পাড়ি দিয়ে তুরস্কে প্রবেশকালে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ক্যাম্পের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালায়। এ সময় ৮ জন যুবক একদিকে লুকিয়ে পড়ে এবং অন্যদিকে ২৭ জন যুবকের সঙ্গে পাবেল দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর থেকে পাবেল নিখোঁজ হয়। পাবেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তিনি কাঁন্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'পাবেলের মা মারা যাওয়ার পর আমাদের কাছেই সে বড় হয়েছে, মা হারা পাবেলকে অনেক কষ্ট করে লালন-পালন করেছি। ইরান অবস্থানকালে ও তুরস্ক যাওয়ার আগে আমার সঙ্গে ভাগিনার কথা হয়েছে। সে দোয়া চেয়ে বলেছিল, মামা আমি পৌঁছে ফোন দিব, কিন্তু আর তাকে ফোনে পাইনি। তার সঙ্গে থাকা সঙ্গীদের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ তাদের দেখে অভিযান চালালে যে যার মতো দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর থেকে পাবেলের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিউজ ট্যাগ: নবীগঞ্জ তুরস্ক

আরও খবর



সরস্বতী পূজা: শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় সিলেটের মৃৎশিল্পীরা

প্রকাশিত:শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
সিলেট প্রতিনিধি

Image

জ্ঞান বিদ্যা সংগীতের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর পূজা বাকী আর মাত্র কয়েক মূহুর্তের। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে বিদ্যার দেবীর পূজা। তাই সিলেটসহ  দেশের প্রতিটি পূজা মন্ডপে চলছে শেষ প্রস্তুতি। শিল্পীর নিপুণ হাতের ছুয়ায় রঙ তুলির আঁচড়ে রুপ পাচ্ছেন দেবী সরস্বতী।

হিন্দু ধর্মানুসারীদের বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি আনন্দঘন দিন হচ্ছে সরস্বতী পূজা। প্রতি বছর মাঘ মাসের শুল্ক পক্ষের পঞ্চমী তিথিতে দেবী সরস্বতীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সনাতন ধর্ম মতে ঈশ্বরের বিদ্যা, সঙ্গীত, শিল্পকলা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী প্রজ্ঞাশক্তিরূপ দেবী মাতা সরস্বতী। ঈশ্বর সকল ধরনের শক্তির উৎস। হিন্দু দর্শনমতে তিনি যখন জ্ঞানদাতা হিসেবে কাজ করেন তখন তাকে মাতৃরূপে পূজা করা হয়।

মা যেমন স্নেহবাৎসল্যে, সোহাগে শিশুকে জন্মের পর থেকে আধোআধো বুলির মাধ্যমে পৃথিবীর জ্ঞান প্রথম তার শিশুকে প্রদান করেন তেমনি ঈশ্বর মাতৃরূপেই আমাদের জ্ঞান দান করেন। যিঁনি মানুষের অন্তরে মহান জ্ঞানসমুদ্রকে প্রকাশ করেন এবং মেধা ও মননকে দীপ্তি দান করেন। বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যায় অধ্যয়নরত বিদ্যার্থীরা এই পূজা স্বতঃস্ফূর্তভাবে করে থাকেন। মাতা সরস্বতী জ্ঞানদায়িনী অর্থাৎ কল্যাণ ও শান্তি বিধায়িনী, তিনি বরদা এবং জাগতিক মোহ ধ্বংসকারী। ব্রহ্ম এক ও অদ্বিতীয়। কিন্তু তিনি বহুরূপে বিরাজমান। ব্রহ্মের লক্ষণ দুটি- স্বরূপলক্ষণ ও তটস্থলক্ষণ। স্বরূপলক্ষণে তিনি স্বগুণ, সাকার, সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয়কার্যের অধিকর্তা, তিনি এই নিখিল বিশ্বের প্রভু, তিনিই ঈশ্বর, তিনিই জ্ঞানময়।

সরজমিনে দেখা যায়, সিলেট নগরীর দাড়িয়া পাড়ার প্রতিমা শিল্পীরা শেষ মূহুর্তের কাজে ব্যস্ততম সময় পার করছেন। রঙ দিয়ে মনের মতো করে সাজিয়ে তুলছেন দেবীকে।

প্রতিমা শিল্পী শংকর পাল জানান, এবার সব কিছুর দাম বেশি থাকায় মূর্তির দাম একটু বেশি। এবার সিলেটে অনেক পূজা মন্ডপ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা শেষ মূহুর্তে কাজ করছি। আশাকরি সঠিক সময়ে মূর্তি পৌঁছে দিতে পারবো।

এদিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেলর পাশে মহামায়া সেন্টারে কাব্যহিত সংঘে গিয়ে দেখা যায় স্টেইজ ও পেন্ডেলর কাজে ব্যস্ততম সময় পার করছেন সংঘের পূজারী বৃন্দ।

কাব্যহিত সংঘের আলোকসজ্জা সম্পাদক সানি শর্মা বলেন, বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতী। সনাতন ধর্মাবম্বীদের মতে দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানালোকের প্রতিক। বিদ্যা, বানী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে মাঘ মাসে পঞ্চম তিথিতে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি আনন্দঘন দিন হচ্ছে সরস্বতী পূজা।

তিনি বলেন, পূজার আর মাত্র তিনদিন বাকি। আমরা এবার নতুন কিছু নিয়ে আসতে যাচ্ছি। সবার সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আশাকরি এগিয়ে যাব। আমাদের সংঘে সবাইকে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

নগরীর লামাবাজার এলাকায় মহেশ্বরী সংঘের কৃষান সেন বলেন, আমরা পেন্ডেল ও স্টেইজের কাজ করে যাচ্ছি। সুন্দর ভাবে জ্ঞান বিদ্যা ও সংগীতের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা সরস্বতীর পূজা করতে চাই। ইতিমধ্যে আমাদের কাজ শেষের দিকে। সবাইকে নিমন্ত্রণ যানাচ্ছি পূজা মন্ডপে আসার জন্য।


আরও খবর



যে পথে হাঁটলে এখনো ক্ষমতায় আসতে পারেন ইমরান

প্রকাশিত:শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

সব ঘটার দেশ হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান। তাই এ দেশ নিয়ে আগে থেকে কোনো কিছু বলা মুশকিল। আর ‍বিষয়টা যদি হয় রাজনীতি তাহলে তো কথাই নেই। সমীকরণের পর সমীকরণ সাজালেও উত্তর মেলানো দায়। নতুন নতুন জটিল হিসাব সামনে এসে দাঁড়াবেই।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা প্রায় শেষদিকে। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, নওয়াজ শরিফ কিংবা বিলাওয়াল ভুট্টোর চেয়ে এখনো অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে পিছিয়ে থাকলেও জোট করে সরকার গঠনের কথা জানিয়ে দিয়েছে নওয়াজের পিএমএল-এন এবং বিলাওয়ালের পিপিপি। দল দুটি নির্বাচনে যথাক্রমে দ্বিতীয় ‍ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

তবে যেমনটা বলা হয়ে থাকে, পাকিস্তানের রাজনীতিতে শেষ বলতে কোনো কথা নেই। যে কোনো সময় নাটকীয় কিছু ঘটে যেতে পারে, যা বদলে দিতে পারে পুরো রাজনৈতিক সমীকরণ।

সূত্রের বরাতে জিও নিউজ জানায়, শুক্রবার রাতে পাঞ্জাবের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মহসিন নকভির বাসভবনে পিপিপি শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন শাহবাজ। দলীয় সূত্র জানায়, বিলাওয়ালের বাবা আসিফের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং পিএমএল-এন সুপ্রিমো নওয়াজ শরিফের বার্তাও পৌঁছে দিয়েছেন শাহবাজ। পিপিপির এই দুই নেতাকে পাকিস্তানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য পিএমএল-এনের নেতাদের সঙ্গে বসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র আরও জানায়, পাঞ্জাবে ও কেন্দ্রে সরকার গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন শাহবাজ ও আসিফ। পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে নিজ নিজ বক্তব্য তুলে ধরবে দুই দল। ওই বৈঠকেই ক্ষমতা ভাগাভাগি, কে কোন মন্ত্রণালয়ে বসবে, এসব বিষয় চূড়ান্ত হবে।

তবে বিপত্তি বাধতে পারে জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সেটা নিয়ে। কেননা নওয়াজ ও বিলাওয়াল দুজনই এবার প্রধানমন্ত্রী পদপ্রত্যাশী। পিপিপির শীর্ষ মুখপাত্র খুরশিদ শাহ জিও নিউজকে বলেছেন, নওয়াজ শরিফ নয় তারা পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দলের চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকে দেখতে চান।

এ নিয়ে যদি দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয় তাহলে ইমরান খানের জন্য নতুন দুয়ার খুলে যেতে পারে। চাইলেই পিপিপি বা পিএমএল-এনের সঙ্গে জোট গঠন করে সরকারে আসতে পারবেন পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে পিপিপি বা পিএমএল-এনের সঙ্গে জোট করে সরকার গঠনের বিষয়ে আগেই না বলে রেখেছে পিটিআই। অবশ্য রাজনীতিতে শেষ বলেতে কোনো কিছু নেই। যদি সব বিষয়ে বনিবনা হয়েই যায় তাহলে যোগ্য নেতা হিসেবে অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত পাকিস্তানের হাল ধরতে পারেন ইমরান খান। পেতে পারেন কারামুক্তি!

নিউজ ট্যাগ: ইমরান খান

আরও খবর
আইনি লড়াইয়ে বড় জয় পেলেন ট্রাম্প

মঙ্গলবার ০৫ মার্চ ২০২৪




সদরপুরে রাতের আঁধারে পদ্মাপাড়ের মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মামুনুর রশীদ, ফরিদপুর

Image

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের ছলেনামা গ্রামের পদ্মা নদীর তীরে চলছে ফসলি জমির মাটি কাটার ধুম। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিন-রাত ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করছে একটি মহল। এতে দিন দিন কমে যাচ্ছে কৃষিজমি। এক্সকাভেটর দিয়ে এমনভাবে মাটি কাটা হচ্ছে, একটু বৃষ্টি হলেই পাশের জমি ভেঙে পড়বে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাশের জমির মালিকও। সেই সঙ্গে ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ। এতে বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের কবলে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে স্থানীয় প্রায় ৫০টি পরিবার।

সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার আকটের চর এলাকার নতুন ছলেনামা গ্রামের পদ্মার পাড় থেকে রাতের আঁধারে এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে ৪০-৫০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়েছে প্রভাবশালীরা।

ভাটা মালিকরা কৃষকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে নদী পাড়ের মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছেন। এতে বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়বে ছলেনামা গ্রামসহ শত শত একর ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা।

কৃষিবিদদের মতে, জমির উপরিভাগের চার থেকে ছয় ইঞ্চি (টপ সয়েল) গভীরের মাটিতেই মূল পুষ্টিগুণ থাকে। মূলত মাটির এই স্তরে ফসল উৎপাদিত হয়।

মাটির এই স্তর কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়। এজন্য অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায় না। তাছাড়া কৃষিজমি ওপরের এ টপ সয়েল হারিয়ে ফেললে তা স্বাভাবিক হতে প্রায় ১০-১২ বছর লাগে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেখানে উপস্থিত একাধিক কৃষক জানান, অবৈধভাবে মাটি ও বালু কাটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলেই বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পদ্মার পাড় থেকে রাতের আঁধারে প্রতিনিয়ত মাটি কাটে তারা। রতভর চলে তাদের কর্মযজ্ঞ। এভাবে চলতে থাকলে বর্ষায় আমাদের ভিটে-মাটি হারিয়ে রাস্তায় নামতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জমির মালিক জানান, নদ-নদীর চরের নতুন মাটিতে শস্য খুব ভালো ফলে। জমিতে বাদাম, ভুট্টা, কলাইয়ের চাষ করা হয়। তবে পাশের জমির মালিক মাটি কেটে বিক্রি করছে। মাটি টানার জন্য ব্যবহৃত গাড়ি চলাচলের কারণে তার জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া ধুলো ও রাতভর গাড়ির শব্দের কারণে তাদের বসবাস করা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে সদরপুরের পদ্মাপাড়ের বিভিন্ন এলাকা নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বসতভিটা হারিয়েছেন কয়েক শ পরিবার। আর এখন শুষ্ক মৌসুমে পদ্মাপাড়ের মানুষের নতুন আতঙ্ক মাটি ব্যবসায়ীরা। পদ্মার ভাঙন ও মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য থেকে বাঁচতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) ২০১৩ অনুযায়ী কৃষিজমির মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করা নিষিদ্ধ। এসব কাজে জড়িত ব্যক্তিদের দুই লাখ টাকার জরিমানা ও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ আইন প্রয়োগ করবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোরাদ আলী বলেন, আমরা নিয়মিত মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। পদ্মার পাড় থেকে রাতের আঁধারে মাটি কাটার ঘটনা সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। পদ্মার চর দুর্গম এলাকা হওয়ায় ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে অভিযানের পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছি।


আরও খবর



এপ্রিলে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিনোদন ডেস্ক

Image

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে আলোচনা ও উন্মাদনা। এরই মধ্যে নতুন-পুরোনো অনেক তারকাই নির্বাচনের প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন।

এদিকে চূড়ান্ত হয়েছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের নতুন তারিখ। আগামী ৪ এপ্রিল (শুক্রবার) এফডিসিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পী সমিতির নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ডের সদস্য সামসুল আলম।

গত ১ ফেব্রুয়ারি শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সভা হয়েছে। সেখানেই চূড়ান্ত হয়েছে ২০২৪-২৫ সালে দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। এ নির্বাচনে কারা অংশ নিচ্ছেন এখনো জানা যায়নি।

অনেক আগেই অভিনেতা-প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজল চমক রেখে প্যানেল প্রস্তুত করে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া ভেতরে ভেতরে আরও অনেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি সেরেছেন। শিগগির প্যানেল ঘোষণা হবে বলে জানা গেছে।


আরও খবর



ডিসিদের আগে নিজের ঘর দুর্নীতিমুক্ত করতে বললেন দুদক চেয়ারম্যান

প্রকাশিত:সোমবার ০৪ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ মার্চ ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নিজের ঘর দুর্নীতিমুক্ত করে তারপর অন্যদের দুর্নীতির খোঁজখবর রাখতে বলেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ।

সোমবার (৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে দুদকের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সামনে এ কথা তুলে ধরেন দুদক চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, আমি জেলা প্রশাসকদের বলেছি, আপনি নিজে দুর্নীতিমুক্ত কি না, আপনার অফিস দুর্নীতি মুক্ত কি না, আগে নিজের কাছে প্রশ্ন করুন। তাদের বলেছি, যদি আপনার অফিস দুর্নীতিমুক্ত না হয়, নিজের অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত করুন। জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে আপনাদের অধীনে যেসব অফিস আছে সেগুলো দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা করেন। নিজের ঘর দুর্নীতি মুক্ত করুন, তারপর অন্যান্য দুর্নীতির খোঁজখবর রাখুন।

জেলা প্রশাসকদের সরকারের প্রতিনিধি উল্লেখ করে মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ বলেন, তারা ৩০-৩৫টা কমিটির প্রধান। জেলার সমস্ত কার্যক্রম সম্পর্কে তারা অবহিত থাকেন। এজন্য অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্যগুলো তাদের কাছে আগে আসে। জেলা প্রশাসকদের আমরা এই বিষয়ে সচেতন থাকতে বলেছি। তাদের বলেছি, কোথায় দুর্নীতি-অনিয়ম হচ্ছে এইগুলো আপনাদের কাছে আগে আসে। কীভাবে সব তথ্য আসতে পারে সেই ম্যাকানিজম তৈরি করে, তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। যেগুলো দুদকে পাঠানো দরকার ওইগুলো পাঠিয়ে দেবেন। কোন কারণে যদি সরাসরি পাঠাতে সমস্যা হয় তাহলে প্রতি ১৫ দিন পর পর একটা গোপন প্রতিবেদন দেন মন্ত্রিপরিষদে। সেখানে দিলে আমরাও জেনে যাব।

প্রতিকার ও প্রতিরোধ দুদকের প্রধান দুই কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনুসন্ধান তদন্ত করে মামলার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করি, এটা প্রতিকার। জেলা প্রশাসকের সাহায্য ছাড়া প্রতিরোধ আমরা সুচারুভাবে করতে পারি না। দুর্নীতি যেন না হয় সেজন্য আমাদের সাহায্য করতে তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। জেলা ও বিভাগীয় অফিসে তারা যেন সার্বিক সহায়তা করেন। জেলা পর্যায়ে আমাদের লোকবল যথেষ্ট নয়, এজন্য প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে তাদের সহায়তা চেয়েছি।


আরও খবর