আজঃ বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে সফলতা পেয়েছে মেহেরপুরের চাষীরা

প্রকাশিত:শনিবার ০২ ডিসেম্বর 2০২3 | হালনাগাদ:শনিবার ০২ ডিসেম্বর 2০২3 | অনলাইন সংস্করণ
আব্দুল আলিম, মেহেরপুর

Image

দেশে পেঁয়াজ সংকটকালিন সময়ে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে সফলতা পেয়েছে মেহেরপুর জেলার চাষীরা। অল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়াই গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে চাষীরা। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বারি-৫ জাতের নতুন উদ্ভাবিত এ জাতের পেঁয়াজ সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে পেঁয়াজের ঘাটতি দূর করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক লাভবান হবেন এ জেলার চাষীরা।

গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আশার আলো দেখাচ্ছে এ জেলার চাষীদেরকে। জেলায় কৃষি বিভাগ থেকে প্রায় ১৭০০ জন কৃষককে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের জন্য সরকারিভাবে বিনামূল্যে বীজসহ নানা উপকরণ বিতরণ করেন। ইতিমধ্যে চাষীরা বীজতলা শেষে পেঁয়াজ রোপন করেছে। বর্তমানে পেঁয়াজের গুটি নেওয়া শুরু হয়েছে। মাসখানেকের মধ্যে চাষীরা পেঁয়াজ উত্তোলন করে বাজারে বিক্রি করতে পারবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় ২৩০হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন বারি-৫ জাতের পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। চলতি বছর জেলায় ৬৯০০টন পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ১২২ কোটি টাকা।

তবে কৃষকরা বলছে, পেঁয়াজের চারা রোপনের তিন মাসের মধ্যে পেঁয়াজ বাজারজাত করা যায়। গ্রীষ্মকালীন বারি-৫ জাতের পেঁয়াজে প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ১২০ থেকে ১৩০ মন পেঁয়াজ উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সকল খরচ বাদ দিয়ে দেড় লাখ টাকা লাভ থাকবেন বলেও জানান তারা।

মেহেরপুর সদর উপজেলার পেঁয়াজ চাষী জানান, গতবার পরীক্ষামূলক ভাবে এক বিঘা জমিতে বারি-৫ চাষ করেছিলাম। তাতে আমার ১০০ মন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছিল। এবার আমি তিনবিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি দাম ভালো থাকলে অনেক লাভবান হবো।

একই উপজেলার আরেক চাষী বলেন, এই পেঁয়াজ চাষটা অসময়ের চাষ আমাদের গ্রামে গতবার অনেকেই পেঁয়াজ চাষ করেছিলো তারা ভালো লাভবান হয়েছে। তাই এবার আমি এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। চাষ থেকে শুরু করে সমস্ত খরচ বিঘাতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। আশা করি এবছরে আমিও ভালো লাভবান হব।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শামসুল আলম জানান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে চাষীদের সার্বিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তিনটি ধাপে জেলায় ১৭০০ চাষীদের মাঝে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। আশা করি প্রতি হেক্টর জমিতে ২৫ থেকে ৩০ টন ফলন পাব। জেলা চাহিদা মিটিয়েও বাইরের জেলার চাহিদা মেটাতে সম্ভব হবে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণে আশার আলো হয়ে এসেছে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে নানা মুখে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার এমনটাই মনে করে কৃষকরা।


আরও খবর



চোরাই পথে আসা কোনো মোবাইল ফোন চলবে না: পলক

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

অনিবন্ধিত, অবৈধ বা চোরাই পথে আসা কোনো মোবাইল ফোন চলবে না বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

পলক বলেন, নিবন্ধিত বৈধ মোবাইল ফোন ছাড়া বাংলাদেশের নেটওয়ার্কে অন্য কোনো অনিবন্ধিত, অবৈধ, চোরাই পথে আসা কোনো মোবাইল ফোন কেউ যেন ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য বিটিআরসি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ মোবাইল ফোন কেউ যেন ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য অল্প সময়ের মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইক্যুপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (আইএমইআই) আরও কার্যকর করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনিবন্ধিত ফোন বন্ধ হলে স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার ক্ষেত্রে এই সিস্টেমটা অনেক বেশি কার্যকর হবে।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আমাদের যে স্থানীয় শিল্প আছে সেখানেও বিটিআরসির একটা বড় ভূমিকা আছে। আজকে ১৭টি মোবাইল ফোন অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট বাংলাদেশে হয়েছে। এখানে যাতে আরও বিনিয়োগ হয়, যেজন্য আমাদের ৫০ হাজারের মতো ছেলে-মেয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ছে। ২০০৮ সালে ইন্টারনেটের গ্রাহক ৩৬ লাখ থাকলেও বর্তমানে ১৩ কোটি। ইন্টারনেট ঘনত্ব ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ আর বর্তমানে তা ৭৪ শতাংশ। ওই সময়ে প্রতি জিবি ইন্টারনেটের দাম ২৭ হাজার টাকা হলেও বর্তমানে ৪০ টাকায় নামিয়ে এনেছেন শেখ হাসিনা।


আরও খবর
দেশে ৩০ শতাংশ খাদ্য অপচয় হয়: কৃষিমন্ত্রী

বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




শিশুদের মানসিক চাপ কমাতে কী করবেন

প্রকাশিত:সোমবার ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জীবন ধারা ডেস্ক

Image

অনেকেই ভাবেন, শিশুদের আবার  মানসিক সমস্যা কী? কিন্তু অনেকেরই হয়তো জানা নেই, বড়দের মতো ছোটদেরও হতে পারে নানা ধরনের মানসিক সমস্যা। হঠাৎ করেই যদি দেখেন আপনার সন্তান খুব অমনোযোগী হয়ে উঠেছে, স্কুলের কাজ সময় মতো শেষ করতে পারছে না, খেলাধুলাতেও মন নেই তাহলে বুঝতে হবে তার কোনো মানসিক সমস্যা হচ্ছে। হতে পারে পড়াশোনা বা খেলাধুলোয় আরও ভাল করার চাপে সে মনোসংযোগ হারিয়ে ফেলছে। শিশুরও মাঝেমধ্যে বলে মন ভালো নেই। তাদের আচরণেও বদল আসে। কিন্তু বড়রা অনেকসময়েই দুষ্টুমি ভেবে তা এড়িয়ে যান। ফলে পরবর্তী সময়ে গিয়ে নানারকম মানসিক সমস্যা বেড়ে যায়। 

মনোবিদরা বলছেন, আগে ডিপ্রেশন, মেন্টাল স্ট্রেস এইসব ভারী শব্দগুলোর সঙ্গে মানুষ অতটা পরিচিত ছিল না। কিন্তু ইদানীংকালে শিশুদের মধ্যে মানসিক অবসাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কী কী কারণে মনের চাপ বাড়ছে শিশুদের?

১. এখনকার সময়ে প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে গেছে, স্কুলে ও বাড়িতে সমানতালেই চাপ বাড়ছে শিশুদের। এর ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানসিক চাপ।

২. আগে শিশুরা অনেক বেশি খেলাধূলা করত, কিন্তু এখন স্কুলের বাইরে একস্ট্রাকারিকুলার অ্যাক্টিভিটি এতটাই বেশি করতে হয় যে বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা, খেলাধূলার সময় পায় না। ফলে শিশুদের মধ্যেও একাকীত্ব বাড়ছে।

৩. শিশুরা এখন অনেক বেশি ডিজিটাল মাধ্যমে অভ্যস্ত। সারাদিন ল্যাপটপ, মোবাইলে মুখ গুঁজে থাকছে। এর ফলে কম বয়স থেকেই এমন অনেক বিষয় জেনে যাচ্ছে যা শিশুদের জানার কথাই নয়।

৪. শিশুদের খাদ্যাভ্যাসেও বদল আসছে। যখন তখন খাওয়া, অপুষ্টিকর খাবার খাওয়ার ঝোঁকে ওজন বাড়ছে তাদের। যার ফলে তাদের শরীরের পুষ্টির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক বিকাশেও ঘাটতি হচ্ছে।

গবেষণা বলছে, পাঁচ থেকে বারো বছরের শিশুদের মানসিক সমস্যা আগের চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। এই বয়সের বাচ্চাদের মধ্যে ওসিডি, ডিপ্রেশন, প্যানিক অ্যাটাক, বাইপোলার ডিজ়অর্ডারের সমস্যা দেখা দিতে পারে নানা কারণে। স্কুলে হয়তো হেনস্থার শিকার হচ্ছে, বাড়ির পরিবেশ সুস্থ নয়, মা-বাবার মধ্যে সমস্যা, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া ইত্যাদি। তবে মানসিক সমস্যার পিছনে সব সময়ে যে সুনির্দিষ্ট কারণ থাকবে, এমনটা না-ও হতে পারে। বাড়ি, স্কুলে কোথাও কোনও সমস্যা নেই, তা-ও শিশুর মনখারাপ, এমনটাও হতে পারে।

মানসিকভাবে শিশুদের ভালো রাখার দায়িত্ব অভিভাবকদেরই নিতে হবে। মানসিকতা, সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে উৎসাহ এবং মানসিক চাপ কাটাতে সন্তানকে সাহায্য করতে হবে। মা-বাবাকে সন্তানের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। তার সঙ্গে খেলাধুলো করুন, ছবি আঁকুন। সাধারণত ছোটরা এই কাজগুলোর মধ্য দিয়েই নিজের মনের ভাব ফুটিয়ে তোলে। কোনও নেতিবাচক মন্তব্য, খারাপ কথা, অশালীন অঙ্গভঙ্গি শিশুদের সামনে না করাই ভালো। প্রতিদিন অন্তত এক পাতা করে গল্পের বই পড়ার একটা অভ্যাস শিশুদের মধ্যে তৈরি করান। মোবাইল গেম, ইলেকট্রনিক গ্যাজেট সরিয়ে ছবি আঁকতে দিন। প্রতিদিন একটা করে নতুন অভিজ্ঞতা লিখতে বলুন। এতে যেমন ওদের মানসিক বিকাশ হবে, তেমনি মেধাও বাড়বে।


আরও খবর
বিষাক্ত মাশরুম চেনার উপায়

মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24




এক কাতলের দাম ৫২ হাজার টাকা

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
শাকিল মোল্লা, রাজবাড়ী

Image

পদ্মার হরিরামপুর অংশে ২৬ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি কাতল ধরা পড়ছে। শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলে বলরাম হালদারের জালে মাছটি ধরা পড়ে।

পরে মাছটি বিক্রি করতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটে নিলে শাকিল সোহান মৎস্য আড়তের মালিক মো. শাজাহান মিয়া সম্রাট দুই হাজার টাকা কেজি দরে ৫২ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন।

মাছ ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান মিয়া সম্রাট বলেন, সকালে সরাসরি জেলের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা কেজি দরে মাছটি কিনে মোবাইলে যোগাযোগ করে ২ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে কুমারখালি হেলথকেয়ার কোম্পানির মালিকের বিক্রি করি। নদীর পানি কমায় মাঝে মাঝে বিশাল আকৃতির মাছ ধরা পড়ছে।

নিউজ ট্যাগ: কাতলা রাজবাড়ী

আরও খবর



আনসারের জাতীয় সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে পৌঁছেছেন। সেখানে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ৪৪তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষ্যে কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সালাম গ্রহণ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে তিনি সকাল ১০টায় একাডেমিতে আগমন করেন এবং পরে অভিবাদন গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আমিনুল হক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম উদ্দিন, আনসার ও ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট মো. নূরুল হাসান ফরিদী, বাহিনীর উপ-মহাপরিচালক।

প্রতিবছর ১২ ফেব্রুয়ারি আনসার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমিতে জাতীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ উপলক্ষ্যে আনসার ভিডিপি একাডেমিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।


আরও খবর



মসিক মেয়র হিসেবে ইকরামুল হক টিটুকে দেখতে চায় নগরবাসী

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

Image

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) নির্বাচন আগামী ৯ মার্চ। এই তারিখ ঘোষণার পর থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যেই প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। শহরে বিভিন্ন স্থানে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনসহ অনেকেই গণসংযোগ চলছে। আসন্ন এই নির্বাচনে নগরের উন্নয়নে আবারও মেয়র হওয়ার সুযোগ চেয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু।

২০১৮ সালে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র হয়েছিলেন মো. ইকরামুল হক টিটু। তবে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে তাকে।

ইকরামুল হক টিটু পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন মিলে টানা ১৫ বছর ধরে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। এক্ষেত্রে নগরের উন্নয়নের পাশাপাশি সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে সখ্য, বিনয়ী মনোভাব, সবার ডাকে ছুটে যাওয়া, বিপদে পাশে থাকা- এসব নানা গুণাবলীর কারণে মেয়র টিটুর রয়েছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা। আর আলোচনায় থাকা অন্য প্রার্থীরা এবারই প্রথম নামছেন ভোটের মাঠে।

জনবল সংকট, অপ্রতুল রাজস্ব এবং মোট আয়তনের ৭০ ভাগ উন্নয়নে পশ্চাতপদ এলাকার নিয়ে যাত্রা শুরু, করোনার এবং রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমকে সন্তোজনক লক্ষ্য অর্জনে একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা বলেই মনে করছে নগরবাসী। তরুণ ও অভিজ্ঞ মেয়র টিটুর আন্তরিকতা, জনসংশ্লিষ্টতা এবং নেতৃত্বকে এর কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মেয়র তার দায়িত্ব নেওয়ার পরই সিটির সড়ক ড্রেনের উন্নয়নে ১ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব প্রেরণ করেন যা এখন সিটির উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ চলছে। এতে তৈরি হচ্ছে ১১৭ কিলোমিটার বিসি রোড, ২৩৯ কিলোমিটার আরসিসি রোড, ১.৬১ কিলোমিটার সিসি রোড, ২৩৮ কিলোমিটার ড্রেন ১১.৩৭ কিলোমিটার পাইপ ড্রেন।

এছাড়াও তৈরি করা হচ্ছে কালভার্টসহ অন্যান্য অবকাঠামো। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশন অন্যন্য প্রকল্প থেকে ৯২ কিলোমিটার নতুন রাস্তা এবং ৪৫ কিলোমিটার ড্রেনের কাজ সম্পন্ন করেছে। শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যারও উন্নতি ঘটিয়েছে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন। একসময় যখন একটু বৃষ্টিতেই শহরে পানি জমে যেত সেখানে আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপ ড্রেনের মাধ্যমে ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক শহরকে যুক্ত করার ফলে শহরের জলাবদ্ধতার অনেকাংশে নিরসন হয়েছে। মিন্টু কলেজ থেকে বিপিন পার্ক স্টেশন রোড থেকে থানাঘাট পর্যন্ত আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপ ড্রেন নির্মাণ, কাশবন আবাসিক এলাকার ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক নির্মাণ, নাটককঘর লেন থেকে ডিবি রোড হয়ে সেহড়াখাল পর্যন্ত আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপড্রেন ইত্যাদি নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়া বর্তমানে চলমান শহরের ভেতরে নতুন বাজার রেল ক্রসিং থেকে ব্যাটবল চত্বর পর্যন্ত আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপ ড্রেনের কাজ একটি ভালো উদ্যোগ বলে মনে করছে নগরবাসী। এতে করে শহরের খালগুলো থেকে পানি বের হওয়াটা আরও সহজতর হবে, যা সামগ্রিক জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাবে। এছাড়া গত বছর জুলাই থেকে সিটি কর্পোরেশনে উদ্যোগে প্রায় ১৫ কিলোমিটার খালের দখল উচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে। ময়মনসিংহ শহরকে একসময় যারা আবর্জনার শহর হিসেবে দেখেছেন তাদের দৃষ্টিতে ময়মনসিংহের পরিবর্তনটা ধরা পড়বে। বিলুপ্ত পৌরসভার জনবল নিয়েও প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মে.টন বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা করছে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন। চলছে রাত্রীকালীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

এছাড়া, বাসা-বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহে ক্লিনসিটি নামক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করে বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রিজম ফাউন্ডেশন লি. এর সহযোগিতায় নির্মাণ করা হচ্ছে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। এছাড়াও, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্পটিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শহর আলোকিতকরণেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখাতে সক্ষম হয়েছে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রায় ১৭১ কিলোমিটার সড়কে পোলসহ আধুনিক এলইডি বাতি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

গত কয়েকমাসে এসব সড়কবাতির উদ্বোধন করেছেন মেয়র। নগর উন্নয়নে আরও অধিক অগ্রগতি সম্ভব ছিলো বলে মনে করেন সিটি কর্পোরেশন মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু। তিনি জানান, করোনার অভিঘাত এবং রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টি না হলে নগর উন্নয়নে আরও কাজ করা সম্ভব হত।

করোনা পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু ঝুঁকি নিয়ে যেভাবে করোনা মোকাবেলা, মানুষকে নিরাপদে রাখা এবং মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে যে কাজ করেছেন তা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

এছাড়া ২০২২ সালে স্থাপন করা হয়েছে একটি নগর মাতৃসদন এবং তিনটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। এসব কেন্দ্র থেকে মা, শিশু সহ সাধারণ জনগণ কম খরচ বা বিনা মূ্ল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন। মশক নিধনে হটস্পট চিহ্নিতকরণ এবং নিয়মিত ক্রাশ প্রোগ্রামের ফলে সিটিতে এখনও স্থানীয়ভাবে এডিস মশার কামড়ে আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, ভিটামিন এ প্ল্যাস ক্যাম্পেইন, ইপিআই কার্যক্রম, কৃমি নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদিতেও মসিকের রয়েছে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সফলতা।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে মসিকের প্রচেষ্টাও ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১১৯২ জনকে বিউটি পার্লার, কম্পিউটার, ড্রাইভিং, মোবাইল সার্ভিসিং ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ, ২৫৭৬ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বৃত্তি, ১৪৭৬ জনকে পুষ্টি সহায়তা, ৩১২ জন কিশোরীকে স্বাস্থ্য-পুষ্টি পরামর্শ ও পুষ্টি উপকরণ প্রদান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নলকূপ, রোড লাইট, ড্রেন, টয়লেট, সেপটিক ট্যাংক ইত্যাদি নির্মাণের মাধ্যমে সহযোগিতা প্রদান করেছে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন।

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু শম্ভুগঞ্জ ব্রিজের কাছে স্থাপন করেছেন জয়বাংলা চত্বর। চত্বরটি মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর স্মরণে এক অনন্য স্থাপত্যে পরিণত হয়েছে। এছাড়া, টাউনহলে স্থাপন করেছেন বঙ্গবন্ধু গ্যালারি। এখানেও প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী বঙ্গবন্ধু দুর্লভ ছবি, ডকুমেন্টারি, বানী ইত্যাদি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা আর নগরের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে মহাপরিকল্পনা তৈরি করে উন্নয়নের চেষ্টা করেছি। সিটির উন্নয়নে ১৫৭৫ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৩০০ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যানজট নিরসন, সড়ক প্রশস্তকরণ, বর্জ্য ব্যস্থাপনা, বাস ট্রাক স্ট্যান্ড নির্মাণ, শিশু পার্ক নির্মাণ ইত্যাদি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরকে আধুনিক এবং জনবান্ধব করে তুলতে নগরবাসী আবারও আমাকে সুযোগ দেবে বলে আমি মনে করি।


আরও খবর